Satyajit Ray (Bengali: সত্যজিৎ রায়) was an Indian filmmaker and author of Bengali fiction and regarded as one of the greatest auteurs of world cinema. Ray was born in the city of Calcutta into a Bengali family prominent in the world of arts and literature. Starting his career as a commercial artist, Ray was drawn into independent filmmaking after meeting French filmmaker Jean Renoir and watching Vittorio De Sica's Italian neorealist 1948 film, Bicycle Thieves.
Ray directed 36 films, including feature films, documentaries and shorts. He was also a fiction writer, publisher, illustrator, calligrapher, graphic designer and film critic. He authored several short stories and novels, primarily aimed at children and adolescents.
Ray's first film, Pather Panchali (1955), won eleven international prizes, including Best Human Documentary at the Cannes Film Festival. This film, Aparajito (1956) and Apur Sansar (1959) form The Apu Trilogy. Ray did the scripting, casting, scoring, and editing, and designed his own credit titles and publicity material. Ray received many major awards in his career, including 32 Indian National Film Awards, a number of awards at international film festivals and award ceremonies, and an Academy Award in 1992. The Government of India honoured him with the Bharat Ratna in 1992.
Early Life and Background: Ray's grandfather, Upendrakishore Ray Chowdhury was a writer, illustrator, philosopher, publisher, amateur astronomer and a leader of the Brahmo Samaj, a religious and social movement in nineteenth century Bengal. Sukumar Ray, Upendrakishore's son and father of Satyajit, was a pioneering Bengali author and poet of nonsense rhyme and children's literature, an illustrator and a critic. Ray was born to Sukumar and Suprabha Ray in Calcutta.
Ray completed his B.A. (Hons.) in Economics at Presidency College of the University of Calcutta, though his interest was always in Fine Arts. In 1940, he went to study in Santiniketan where Ray came to appreciate Oriental Art. In 1949, Ray married Bijoya Das and the couple had a son, Sandip ray, who is now a famous film director.
Literary Works: Ray created two of the most famous fictional characters ever in Bengali children's literature—Feluda, a sleuth in Holmesian tradition, and Professor Shonku, a genius scientist. Ray also wrote many short stories mostly centered on Macabre, Thriller and Paranormal which were published as collections of 12 stories. Ray wrote an autobiography about his childhood years, Jakhan Choto Chilam (1982). He also wrote essays on film, published as the collections: Our Films, Their Films (1976), Bishoy Chalachchitra (1976), and Ekei Bole Shooting (1979).
Awards, Honors and Recognitions: Ray received many awards, including 32 National Film Awards by the Government of India. At the Moscow Film Festival in 1979, he was awarded for the contribution to cinema. At the Berlin Film Festival, he was one of only three to win the Silver Bear for Best Director more than once and holds the record for the most Golden Bear nominations, with seven. At the Venice Film Festival, he won a Golden Lion for Aparajito(1956), and awarded the Golden Lion Honorary Award in 1982. In 1992 he was posthumously awarded the Akira Kurosawa Award for Lifetime Achievement in Directing at the San Francisco International Film Festival.
তারিণীখুড়ো গল্প বলেন। শ্রোতা পাঁচজন। চাকুরীর কল্যাণে ভদ্রলোক সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও হয়েছে বিচিত্ররকম। গল্পের স্টক খুড়োর অঢেল। বিচিত্র সেই গল্পগুলি। তারিণীখুড়োর মতে আর্টের খাতিরে যেটুকু কল্পনার আশ্রয় নিতে হয় সেটুকু ছাড়া আর নাকি সবই সত্যি।
অবশ্য এই আর্টের খাতিরে কল্পনার আশ্রয় নেবার কথাই বা কে স্বীকার করে। ঘনাদা করেননি, টেনিদাও করেননি। রহস্য, ভূত-প্রেত, হাস্যরস সবই আছে তারিণীখুড়োর গল্পে।
এই শীর্ণকায় বইটির আটখানি গল্প বাদেও তারিণীচরণ বাঁড়ুজ্যে 'গল্প ১০১'-এ আরো ছ-বার দেখা দিয়েছেন। ওনার সমস্ত গল্প কেন যে একত্রিত অবস্থায় আজ অবধি প্রকাশ পায় নি, সেটা আরেক রহস্য।
খুড়োর সমস্ত গল্পই আসলে অনেক কাল আগে পড়া, তবুও পরিচিত পরিধির মাঝখানে দাড়িয়ে, নরম স্মৃতির আলিঙ্গনে বছর শুরু করতে মন্দ লাগে না। আফসোস হয়, ইশ! যদি বাঙালির সেই অমোঘ সুপার হিউম্যান আরো কয়েকটি গল্প লিখে যেতেন খুড়োকে নিয়ে! যদি, এক্সপোর্ট কোয়ালিটি বিড়ি ও চিনি ছাড়া লিকার চা সহযোগে আরো কয়েকবার শুনতে পেতুম মানুষটির আশ্চর্য গল্পের স্টক!
বাংলা সাহিত্যে এমন সারল্য লোপ পেয়েছে বহুদিন। আজকের যুগে দাড়িয়ে এমন সুমিষ্ট আমেজ খুজে পাওয়া ভীষণ দুষ্কর। ইনফোথ্রিলারের অগ্রগতির ঠেলায় তারিণীখুড়োরা হয়তো আর কোনদিনই ফিরবে না। তা সে নাই ফিরুক, আফসোস নেই। কারণ আর যাই হোক, এমন সুন্দর চিরায়িত গপ্পোগুলো যে বাঙলাভাষী পাঠকের কাছে কালের আবর্তে রয়েই গেলো। এভাবে কি আর কেউ কোনোদিন গল্প বলবে? এগুলোর যে আর কোনো বিকল্প নাই!
বইটি পড়তে পড়তে মনে হল, আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে? শুধু লেখার আনন্দে কেউ একজন এমন করে লিখতে পারবেন? আমার তো মনে হয় না।
মোট ১৪টা গল্প। কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই,তাই প্রতিটার কাহিনী আলাদা করে বলার প্রয়োজনও নেই। বিচিত্র তার বিষয়বস্তু, বৈঠকী গড়ন,সবচেয়ে বড় কথা লেখাগুলিতে কোন তত্ত্ব নেই,উদ্দেশ্য নেই, কোন কিছু প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নেই, শুধু আছে সত্যজিৎ সুলভ শিল্প, নিখাদ কল্পনাশক্তির অনাবিল ঐশ্বর্য। ফ্রি ফ্লোয়িং রাইটিং বলতে যা বোঝায়, একদম তাই।
লেখার ফাকঁ দিয়ে লেখকে দেখার চেষ্টা করি। কত বিচিত্র বিষয়ে সত্যজিৎ আগ্রহী ছিলেন, কতশত বিষয় নিয়ে জানতেন, আর তার উপস্থিত কত গুণ ছিল, ভাবলে লোভ হয়। সত্যজিৎ নিজেও কি ভবঘুরে ছিলেন না? লেখক, পরিচালক, সংগীত পরিচালক, অঙ্কনশিল্পী, সত্যজিৎ ঠিক কোন প্রোফেশনের, বলুন তো?
আজকের দিনে ৩৩ বছর ধরে ৫৫ রকম চাকরি করা, সারা ভারতদর্শী, ভবঘুরে তারিণীখুড়ো আর আসেন না। বৈঠকে বসে রস, কল্পনা মিশ্রিত কোন গল্পে কখনো ভূত, কখনো গোলাগুলি, কখনো ম্যাজিক, ইতিহাস, আরো বারোরকম জিনিস মিশিয়ে দেন না।
কল্পনাশক্তিই আর্ট, আর সত্যজিৎ অন্তত বিষয়বৈচিত্র্যে বাঙালীর সেরা আর্টিস্টদের মধ্যে একজন।
জয়তু তারিণী বাড়ুজ্জে, জয়তু সত্যজিৎ!!
বি.দ্র: খুড়ো হিসাবে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাথে মির-দীপ, পুরো সেরা সেটিং সানডে সাসপেন্স এর!
শৈশব কৈশোর স্মৃতির পাতায় সত্যজিৎ মশাইয়ের সৃষ্ট আরো একটি সুন্দর নির্মল আনন্দের নাম,মজলিসি এই বৃদ্ধের বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার কিংবা বিচিত্র অভিজ্ঞতার এমন সচিত্র বর্ণাঢ্য বিবরন মন্ত্রমুগ্ধের মতো আচ্ছন্ন রেখেছে আবালবৃদ্ধবনিতা সর্ব শ্রেনীকে।
ভূত প্রেত দৈত্য দানব রনে বা বনে অথবা ক্রিকেটের রানে সদা সমুজ্জ্বল খুড়ো ;বুড়ো হবার পরেও যার জৌলুসের ঝিকিমিকি ঠিকরে পড়ে পঞ্চপান্ডব:পল্টু ন্যাপলা ভুলু চটপটি আর সুনন্দদের সমাবেশে।সে ভূতের গপ্পোই হোক বা ব্যাটের গুনী খুড়োর গল্পের কোনটা রূপে রঙে কথায় রঙিন আর কোনটা নিয্যস সত্য সে নিয়ে নিজেদের সুবিধামত সাজিয়ে নেবার থেকে শুনতে পারার মতো সুখকর কিছু হতেই পারে না।
বিনে পয়সায় পঁয়তাল্লিশ বছর ভূভারত ভ্রমনের বিচিত্র অ্যাখানের আস্থাভাজন অভিজ্ঞ কথকের কথকতা কর্ণকুহরের মধুরতা যেন র্যাপারে মোড়ানো এক আশ্চর্য উপহার;যার ঝাঁপি থেকে যত নেবো ততোই আরো নবজীবন সুধায় সিক্ত হবো।
ভাগ্যিস বঙ্গে জন্মেছিলাম,নইলে ধূমায়িত দুধ চিনি ছাড়া চায়ের তিতকুটে স্বাদের বদলে এমন সুমধুর সন্দেশের ছাঁচে গড়া এসব গল্পের ধাঁচ ধারনার বাইরেই থেকে যেত আমৃত্যু।
তারিণীখুড়োর মতো একটি ঘটনাবহুল বর্ণিল জীবন পেলে বেশ হতো! দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে বেড়াতাম কেবল কৌতূহল আর নতুন কিছু দেখতে চাওয়ার ইচ্ছের বশে।
চমৎকার একটি বই। গল্প পড়তে পড়তে বার বার মনে হচ্ছিলো আমি তারিণীখুড়োর গল্পের আসরে চলে গিয়েছি। এই বইটিতে সর্বমোট ৮ টি গল্প রয়েছে। এবং সবগুলো গল্পই অসাধারণ। সত্যজিৎ রায়ের গল্প সবসময়ই অসাধারণ হয়ে থাকে।💥✌️
সত্যজিৎ রায়ের অন্যতম সৃষ্টি তারিনীখুড়ো। বৃদ্ধ এক ভদ্রলোক, চরম চা খোর এবং গল্পবাজ এক লোক। বেনেটোলা থেকে বালিগঞ্জে আসেন শুধু গল্প শোনাতে। বিয়েথা না করা তারিনীখুড়ো সারাজীবন ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন চাকরী নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন এবং তার গল্পের থলি ভারী করেছেন। অত্যন্ত আকর্ষণীয় ঢংয়ে গল্প বলতে পারেন খুড়ো। আর বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় পূর্ণ তার জীবন। ছোট ছোট গল্পে তারিনীখুড়োর কীর্তিকলাপ মুলত কিশোরদের জন্য লেখা হলেও আমার মত বুড়োরাও পড়তে পারবে অনায়াসে।
হয়তোবা আমার সারাজীবনেও বাস্তবে তারিণীখুড়োর মতো গল্পবলিয়ে কোনো মানুষ খুঁজে পাবোনা যার জীবনের অভিজ্ঞতার স্টকে��� শেষ নেই! তাই বইয়ে পড়েই শান্তি! বিচিত্র মানুষ এই তাড়িণীখুড়ো,এক জীবনে বিশেষ কোথাও থিতু হওয়া নেই, একের পর এক চাকরি, নানান অভিজ্ঞতা, ভূত, আত্মা, অশরীরি, প্ল্যানচেট, ম্যাজিক, হাতসাফাই সহ অলৌকিকতার শেষ নেই। সেই সাথে সিনেমায় অভিনয় করা, ক্রিকেট খেলা, শিকার আর সাহসে খুড়োর জুড়ি মেলা ভার! ছোট ছোট গল্প, দুই একটা তেমন ভালো না লাগলেও, সময় কাটানোর জন্য বেশ চমকপ্রদ। অবাক লাগে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি দেখে, ফেলুদা, প্রফেসর শঙ্কু ছাড়াও তারিণীখুড়ো বাডুয্যের মতো চরিত্র!!
ফেলুদা বা শঙ্কুর মত তারিণীখুড়োও মানিকবাবুর সৃষ্ট আর এক বিচিত্র চরিত্র। তাঁকে নিয়ে গল্প ফেলুদা বা শঙ্কুর মত এত বেশি লেখা হয় নি, তবে যা লেখা হয়েছে তাও যথেষ্ট উপভোগ্য। গল্পগুলো প্রায় সবই ভৌতিক। এবং ভৌতিক গল্প হিসেবে প্রতিটা গল্পের কাহিনীতেই আছে অভিনবত্ব, আছে বৈচিত্র্য। গল্পগুলো সত্যজিৎ বলিয়েছেন তারিণীচরণ বাড়ুজ্যের মুখ দিয়ে, যিনি তাঁর সারাজীবন বহু জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, বহু রকম কাজ করেছেন, কিন্তু থিতু হন নি কোথাও। ফলে তাঁর স্টকে অসংখ্য গল্প থাকবে নিঃসন্দেহে। সেগুলোই এক এক করে উঠে এসেছে লেখকের দাপুটে কলমে।
সত্যজিৎ রায়ের লেখনী এতটাই অসাধারণ, মনে হয় সবকিছু চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ভয়ের দৃশ্যে গা ছমছম, বৃষ্টির দৃশ্যে নাকে সোঁদা গন্ধ সবই যেন অনুভব করা যায়। পড়ব পড়ব করেও বইটা পড়া হওয়া উঠেনি, কিন্তু শুরু করা মাত্রই এক অদ্ভুত মন্ত্রমুগ্ধের মত বইটা শেষ করে ফেললাম।
তারিণীখুড়োর মত এত আশ্চর্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক ভূ-ভারতে আর নেই। যদিও এই চরিত্রটি ঘনাদা বা টেনিদার মত গুল ঝাড়ে কিনা সেকথা ন্যাপলাও নিশ্চিত করে বলতে পারে না। আবার খুড়ো ভূত-বেদ-বেদান্ত থেকে শুরু করে আইনস্টাইন ফাইনস্টাইন সব বিশ্বাস করেন। বেশ আগ্রহোদ্দীপক গল্পগুলো।
তারিনীখুড়ো প্রমান করেছেন যে গল্প বলা টাও একটা আর্ট। আর ওনার এই আকর্ষণীয় ভাবে গল্প বলার নেশার জন্যেই তারিনীখুড়ো আমার কাছে একজন ইন্সপিরেশন। তারিনীখুড়ো সারাজীবন কাজের খাতিরে এবং ভ্রমনের খাতিরে সারা ভারতবর্ষ চষে বেরিয়েছেন। কারন একজায়গায় বেশিদিন তার মন টেকে না। আর এই কারনেই তার গল্পের স্টক নাকি অফুরন্ত। এখন বৃদ্ধ বয়ষে তার কাজ হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের তার অভিজ্ঞতা থেকে গল্প শোনানো। বৃদ্ধ হয়ে গেলেও তার বুড়োদের সঙ্গ মোটেই পছন্দ না। তাই তিনি গল্প শোনান বাচ্চাদের। তার ভাষ্যমতে গল্প জমানোর জন্য সামান্য কিছু কল্পনা ছাড়া নাকি বাকি সবটাই সত্য ঘটনা।
ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে তারিণীখুড়োর জীবনের বিভিন্ন মজার ঘটনা তুলে ধরার বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছি। ফেলুদা আর প্রোফেসর শঙ্কুর মত তারিণীখুড়োর চরিত্রটি ও সত্যজিতের আরেক অনবদ্য সৃষ্টি।
শীত আগমনী বৃষ্টিতে ভেজা বিকেলবেলা;অবশ্য আকাশ দেখে বোঝার কোনো অবকাশ নেই, যেন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।কোথাও বেরুবার জো নেই। রাজ্যের যত অলসতা যেন ভর করে এই সময়টাতে। ঠিক এই ধরণের মুহূর্তগুলোয় সত্যজিতের সরেস ভাষায় লেখা "তারিণীখুড়োর কীর্তিকলাপ" এর জুড়ি মেলা ভার। আর সেই সাথে যদি থাকে ধোয়া উঠা কফির কাপ,তবে তো কথাই নেই। কফির চুমুকে চুমুকে তারিণী খুড়োর আড্ডার ষষ্ঠ ব্যাক্তি হওয়া অতিমাত্রায় লোভনীয়।
তারিণীখুড়ো এক বিচিত্র চরিত্র,যিনি বিয়ে থা করেননি।ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা ভারতবর্ষ। আর সম্মুখীন হয়েছেন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার।সেসব বলতে প্রতি সপ্তাহে আসেন বাচ্চাদের কাছে।দারূন একটি বই।ছোটবেলার ফেভারিট 😊
'খেলোয়াড় তারিণীখুড়ো' ছাড়া বাকি সব গল্প গুলোই ভালো লেগেছে। হয়তো খেলার বিষয়টা আমার ভালো লাগেনা বলেই এই গল্পটি আমার ভালো লাগেনি, অন্যদের লাগতে পারে। 'নরিস সাহেবের বাংলো' গল্প টা আমার বেশ লেগেছে। আর একটা জিনিস বুঝলাম যে তারিণী খুড়োর দুধ চিনি ছাড়া চা খাওয়ার খুব নেশা ছিল। :)
ফেলুদার পর তারিণীখুড়োর গল্পগুলো পড়ে বেশি ভালো লেগেছে। তারিণীখুড়ো নিয়ে আরও গোটা ২০/৩০ টা গল্প লিখলে এটাও যে প্রফেসর শঙ্কুর মত জনপ্রিয় হয়ে যেত সন্দেহ নেই।
তারিণীখুড়ো সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের একটি অবিস্মরণীয় চরিত্র। তারিণীখুড়ো একজন চিরকুমার, মজলিশি বৃদ্ধ যিনি যিনি নিজের জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প বলতে ভালোবাসেন। তারিণীখুড়োর পুরো নাম তারিণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারিণীখুড়োর গল্পগুলির মধ্যে অতিপ্রাকৃত শক্তির স্পর্শ রয়েছে। ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু চরিত্রদুটি সৃষ্টির পর সত্যজিৎ তৈরী করেন এই চরিত্রটিকে এবং তারিণীখুড়োকে নিয়ে তিনি প্রায় পনেরোটি গল্প লিখেছেন। প্রত্যেকটি গল্পই অসাধারন।
পল্টু গল্পের কথক, যে একটি কিশোর ছেলে। তারিণীখুড়ো পল্টুর খুড়ো নয়, কিন্তু পল্টু তার শৈশব থেকেই তারিণীখুড়োকে ঘন ঘন তাদের বালিগঞ্জের বাড়িতে আসতে দেখেছে। ��ল্টুর জন্মের আগে তারিণীখুড়ো এবং তার পরিবার ঢাকাতে পল্টুর পরিবারের প্রতিবেশী ছিল। পল্টুর বাবা তাঁকে খুড়ো (কাকা) বলে ডাকতেন। তাই পল্টু এবং তার পাঁচজন বন্ধুও তাঁকে খুড়ো বলেই ডাকে। পল্টুর পাঁচজন বন্ধুর একজন ন্যাপলা একবার তাঁকে দাদু বলে ডাকায় তিনি তাকে তিরস্কার করে বলেছিলেন যে তাঁকে খুড়ো বলে ডাকতে কারণ তিনি অনেক যুবকের থেকেও অনেক বেশি ফিট।
তারিণীখুড়োর গল্পের শ্রোতা মূলতঃ পাঁচজন - পল্টু আর তার চার সঙ্গী ন্যাপলা, ভুলু, চটপটি আর সুনন্দ। তারিণীখুড়ো পল্টুদের বাড়িতে এলেই খবরটা পল্টুর বন্ধুদের কাছেও পৌঁছে যায় এবং তারা সবাই খুড়োর কাছ থেকে আশ্চর্যজনক গল্প শুনতে জড়ো হয়। তিনি পল্টুদের ভৃত্য লক্ষ্মণের বানিয়ে দেওয়া দুধ ছাড়া চা পান করতে করতে তাঁর আশ্চর্যজনক কাহিনীগুলি বর্ণনা করেন। এছাড়া তিনি ধূমপানও করে থাকেন।
গল্প বলাটাও একটা শিল্প। এই কথার সঠিক মর্মার্থ বুঝতে হলে পড়তে হবে তাড়িণীখুড়োর কীর্তিকলাপ। কল্পের কথক তাড়িনীখুড়োকে সবাই খুড়ো বলে ডাকে। তিনিই সব গল্প বলেন। প্রতিটি গল্প বিভিন্ন ধাঁচের। গল্প শুনতে আসে পাঁচ জন। তাঁদের মধ্যে ন্যাপলাই বেশি কথা বলেন। বাকীরা মোটামুটি সবাই শুনেই খুশি। ন্যাপলা খুড়োর গল্পের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করে। খুড়ো সারাজীবন ভারতবর্ষ চষে বেড়িয়েছেন। কোন চাকরী দেড় দুই বছরের বেশি করতে চান না তিনি। এক চাকরি বেশি দিন করলে কাজের প্রতি অনিচ্ছা চলে আসে। তারিণীখুড়ো কখনো সাংবাদিক, কখনো খেলোয়াড়। হয়েছেন অভিনেতা বা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভূতের। এই সিরিজের মোট ১৫টি গল্প লিখেছেন সত্যজিৎ রায়। বেশিরভাগ গল্পেই ভূত জড়িয়ে আছে। তবে সব ভূতই ভিন্ন চরিত্রের। একটির সাথে এরেকটির কোন মিল নেই। বইটি একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা দায়। বইয়ের একটি গল্প মহারাজা তাড়িণীখুড়ো। গল্পে ঘটনাচক্রে খুড়োর কয়েকদিনের জন্য রাজা হতে হয়। সেখানে ভূতের সাথেও দেখা করেন তিনি। বের করেন এক গূড় রহস্য। নরিস সাহেবের বাংলোবাড়ি গল্পেও আছে ভূতের সাথে যোগাযোগ। তবে আগের ভূতের সাথে এই ভূতের নেই কোন মিল। লৌখনের ডুয়েল গল্পে পাঠক পাবেন আরেকটি ভিন্ন ধাঁচের গল্প। সেই গল্পে কি ভূত আছে না নাই সেটা আরেকটি প্রশ্ন। গল্প বলিয়ে তাড়িনীখুড়ো গল্পে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশ কেন? সে কথা বললে আর গল্পটি পড়ার আগ্রহ থাকবে না। খেলোয়াড় তাড়িনীখুড়ো করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। কীভাবে সম্ভব? এখানেও কি ভূতের যোগসাযোগ আছে? এমনই মজার মজার ১৫ টি গল্প নিয়ে সত্যজিৎ রায় লিখেছেন তাড়িণীখুড়োর কীর্তিকলাপ।
প্রফেসর শঙ্কু ও ফেলুদার মতো অতোটা পরিচিত না হলেও তারিণীখুড়ো সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট আরেকটি অনবদ্য চরিত্র। আফসোসের বিষয় এটাই যে তাঁর এই একটা মাত্র বইয়েই তারিণীখুড়োর উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমনই বিচিত্র খুড়োর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, তেমনই সমৃদ্ধ তাঁর গল্পের ঝাঁপি। অবশ্য ন্যাপলা, ভুলু, চটপটি, সুনন্দ আর পল্টুরা মাঝেমধ্যে তাঁর গল্পের সত্যতা নিয়ে টিপ্পনী কাটলেও তাতে দমে যাবার মতো বান্দা তিনি নন। বরং রান্নায় নুন মশলা লাগিয়ে তাকে উপাদেয় করার মতোই গল্পে কিঞ্চিৎ রংচঙ মাখিয়ে উপভোগ্য করে তোলার কথা, ইংরেজিতে যাকে বলে embellishment- স্বীকার করেন তিনি অনায়াসেই। নেটিভ প্রিন্স আর মহারাজাদের সাথে ওঠাবসা, নরখাদক বাঘের পাশাপাশি অশরীরির মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর আধিভৌতিক অভিজ্ঞতা, সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের সঙ্গেই ইংরেজ সায়েবদের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো, ঐন্দ্রজালিক আর ম্যাজিশিয়ানের সাগরেদি, অমূল্য রত্ন ও গহনাগাটির লোভে দুর্ধর্ষ বোম্বেটে ডাকাতের হানার স্বাক্ষী হওয়া- তারিণীখুড়োর বর্ণিল জীবনের কতোটুকু সত্যি আর কতোটুকু মিথ্যে সে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায় তাঁর মতো গল্প বলিয়ে দ্বিতীয়টি মেলা ভার।
প্রায় বিশ বাইশ বছর আগে স্কুলজীবনে পড়া বইটি এতোদিন পরে আবার পড়ে আগের মতোই আনন্দ পেলাম। সেই সঙ্গে আফসোসও হলো, তারিণীখুড়োর কাণ্ডকীর্তি নিয়ে আরও দু'একটা বই লিখতে সত্যজিৎ বাবুর কি-ই বা এমন কষ্ট হতো!
তারিণীচরণ বাড়ুয্যে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট এক বিস্ময়কর চরিত্র। ফেলুদা, শঙ্কুর মতো জনপ্রিয়তা হয়তো প্রাপ্তি হয়নি তবুও সত্যজিত রায়ের সাহিত্য ভাণ্ডার তারিণীখুড়োকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। খুড়ো কখনো চাকরির খাতিরে আবার কখনো কখনো নিতান্ত ভ্রমণের কারনেই ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। নানারকম কাজ যেমন করেছেন তিনি, সেইরকম অনেক আশর্য ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। অবসরপ্রাপ্তির পর বেনিয়াতলার একটা ফ্ল্যাটে এখন থাকেন খুড়ো। আর প্রায়শই আসেন বালিগঞ্জের এক বাড়িতে পাঁচ খুদে সদ্যসকে তার সেই সকল অভিজ্ঞতার গল্প শোনাতে। সেই সকল গল্প উঠে এসেছে খুড়োর জীবনের নানান অভিজ্ঞতা থেকে। এইসব গল্পের ভাণ্ডার নিয়েই সৃষ্ট "তারিণীখুড়োর কীর্তিকলাপ."
P.S. গল্প বলা টা যে একটা আর্ট সেইটা তারিণীখুড়োর বুঝিয়ে দিয়েছেন। আক্ষেপ খালি একটা গল্পের সংখ্যা খুবই কম আরও কয়েকটা হলে মন্দ হতো না।
সময় পেলে Radio mirchi er Sunday suspense er তারিনিখুড়োর গল্প গুলো শুনে দেখতে পারেন। কথা দিচ্ছি ভালো লাগবে।
This a different flavor than what you find in Feluda and Shonku. Full of ghosts. Easy narrative, good for light reading. One of the best thing about this really thin book is, the stories are spread over many different places, spanning the huge India.
Someone can tell me that where I can find all the stories of tarini khuro bcz I had seen in rokomari that tarini khuror kirtikolap have only 8 stories . I know in golpo 101 have all the story of it. But I won't read it. So don't recommend me this
তারিণীখুড়োর কীর্তিকলাপ সত্যজিৎ রায় আনন্দ মম: 175/-
গত দুদিন বর্ষিণমুখরিত সন্ধ্যাবেলা জমজমাট ভাবে কাটলো এই বইটির সাথে। তারিণী খুড়োর এডভেঞ্চার আর গল্প বলার মহিমা অমেবাদ্বিতীয়ম। মাত্র আটটা গল্প পড়ে মন ভরলো না। বাকি গল্প ১০১ এ আছে।
বইটি ছোট ছোট কিছু গল্পে সাজানো, মাঝে মাঝে আবার ছবিও আছে। বেশ মজা পেয়েছি বইটি পড়ে। রহস্য, ভূত-প্রেত, হাস্যরস সবই আছে তারিণীখুড়োর গল্পে। হাত দেখার গল্পটি একটু ফালতু ছিল, এছাড়া বাকি সব গল্পই কম-বেশি ভালো লেগেছে। :)