ওসি হিমাদ্রীর সামনে এসে পড়ল নতুন এক কেস। এবার শহরের অস্বাভাবিক কিছু জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের লাশ। নিউজে জানা যায় সেই মেয়েদের ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। যেহেতু এদেশে ধর্ষণ একটি নিত্যদিনের ঘটনা, তাই যদি কেস গুলো শুধুমাত্র ধর্ষণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত তবে ভালই হতো। কিন্তু এই কেসের প্রতিটি লাশের ফরেনসিক রিপোর্টে পাওয়া যায় অস্বাভাবিক কিছু তথ্য । প্রতিটা লাশের পেট থেকে তুলে ফেলা হয়েছে মাংস। মানুষের মাংস না ডোনেট করা যায়, না রিপ্লেস করা যায়। তাহলে কেন নিরপরাধ মেয়েগুলোর সাথে এরকম ভয়াবহ নৃশংসতা? ভিকটিমদের লাশের পেটের মাংসগুলো দিয়ে কি করছে খুনি? কে বা করছে এসব খুন? এইসব রহস্যের জট খুলতে গিয়ে তাকে এমন এক সত্যের মুখোমুখি হতে হয় যা তার পুরো জীবনটাই নড়বড়ে করে দেয়।
বই : রাত্রিহরন লেখক: মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন পৃষ্ঠা:১১০ মুদ্রিত মুল্য :২৮০
♣️একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কেসের তদন্তে গিয়ে পুলিশ আবিষ্কার করে একটি মেয়ের কবর। কবরে শায়িত মেয়েটির পেটের মাংস তুলে নেয়া হয়েছে।। ঘটতে থাকে একের পর এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ধর্ষণ অতঃপর সেইম প্যাটার্নে খুন। খুনি কেন টার্গেট করছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এই স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের? কেইবা ধর্ষনের পরে তুলে নেয়া হচ্ছে তাদের পেটের মাংস? চট্টগ্রাম পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সার্জারি স্পেশালিস্ট এর মতে খুনের পর ধর্ষণ করা হয়েছে মেয়েদেরকে। শরীরে রয়েছে বিষক্রিয়ার প্রভাব। কে এই সাইকোপ্যাথ কিলার? তাকে ধরতে মাঠে নামে ওসি হিমাদ্রি এবং এসআই মহিউদ্দিন। কিন্তু শেষমেষ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং খুনিকে ধরতে তাদের দ্বারস্থ হতে হয় প্রফেশনাল সিরিয়াল কিলার কাস্তিগোর। অপরাধীদের দন্ড দেয়াই তার কাজ। তারা কি পারবে খুনি পর্যন্ত পৌছাতে???এই রহস্যের সমাধান করতে? ♣️পাঠপ্রতিক্রিয়া: গুড রিডস এ বইটির রেটিং দেখলাম ২। কেনার পর রেটিংটা চোখে পড়ে।কিছুটা আশাহত হয়েছিলাম বটে কিন্তু পড়ার পর অতটা আশাহত হইনি। দুর্দান্ত কোন থ্রিলার এটাকে বলা যায় না ঠিক কিন্তু কাহিনীর বিষয়বস্তু সমসাময়িক একটা নোংরা দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে এবং এর নেতিবাচক দিকটা ফুটিয়ে তুলেছে। মিডিয়া জগতের কালো অধ্যায়টা ও কিছুটা বোঝানোর চেষ্টা করেছে। লেখায় খুব বেশি ডিটেইলিং ছিল না। হয়তো আরোকটু ডিটেইস রাখা যেত লেখনীতে। কাস্তিগো চরিত্রটির অপরাধীর শাস্তি দেয়ার কৌশল টা ভালো লেগেছে। এটি কাস্তিগো সিরিজের ২য় বই। ১ম বই দন্ডভেদ না পড়ায় কিছু জায়গা বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছে।দন্ডভেদের কিছু বিষয় রিলেটেড বইটির সাথে। দন্ডভেদ পড়ার পরে এই বইটি পরলে ব্যাপার গুলো আরো ক্লিয়ার হবে। কাস্তিগো সিরিজের ৩য় বই আসার বিষয়ে এই বইটির শেষ থেকে ধারনা পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগত রেটিং :৩.৫/৫
আলিপুরে একের পর এক নারকীয় ঘটনা ঘটে চলেছে। 'দন্ডভেদ'এ কাস্তিগো কেইস সারার পর ওসি হিমাদ্রি দের এখন বিস্বস্ত সহকারী মহিউদ্দিনকে সাথে নিয়ে আবার ছুটার পালা।
একের পর এক নবম / দশম শ্রেণীতে পড়া মেয়ের উপর পৃথিবীর মাটিতেই দোজখ নেমে আসছে। তদন্তে নেমে একটা সময়ে হিমাদ্রির সাহায্য নিতে হতে পারে কাস্তিগোর।
ভিজিল্যান্টি কাস্তিগো অনেকটা পানিশার টাইপ। অপরাধীর কোন ক্ষমা নাই কাস্তিগোর হাত থেকে। আবার 'দন্ডভেদ'এ হিমাদ্রির কোন ভুলে যাওয়া অতীতের দিকে ইশারা করেছিলেন এই ভিজিল্যান্টি।
এয়ারপোর্ট নভেলা স্টাইলে দ্রুতগতির অর্থাৎ এক বসায় পড়ে শেষ করার বই রচনা করতে চেয়েছেন মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন। দন্ডভেদের তুলনায় দন্ডভেদের দ্বিতীয় কিস্তিতে নিজের লেখালেখির উপর কন্ট্রোল পেয়ে যাওয়ার পথে হাঁটছেন এখন লেখক।
তরুণ লেখক থ্রিলারের সমান্তরালে সমাজ-রাষ্ট্রে ঘটে চলা ধ*র্ষণের মতো নারকীয় অপরাধকে সেক্যুলার লিবারেল এবং ধর্মিয় রক্ষণশীলেরা সচরাচর কী ভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং তাদের দৃষ্টিতে প্রতিকার কী তা নিয়ে যেসব পপুলার আলাপ হয় সেসব তুলে ধরেছেন।
বইটির প্লট ইন্ট্যারেস্টিং। সমসাময়িকতার উপর কিছুটা আলোকপাত করতে চেয়েছেন লেখক। 'দন্ডভেদ'এর তুলনায় ভালো লিখেছেন। থ্রিলারে এক ধরণের ধাঁধা তৈরি করতে হয় যা চ্যালেঞ্জিং। তবে শুধুমাত্র এসব ধাঁধার সমাধান, টুইস্ট, ক্লিফহ্যাঙ্গার নিয়ে এগুলে ঐ যে "বাংলাদেশের থ্রিলারের সাহিত্য না হয়ে ওঠা" অভিযোগটি অনেকাংশে সত্য প্রমাণিত হয়ে যায়। লেখকের ফিলসফি উত্তম গদ্যভাষার মাধ্যমে পাঠকের চিন্তার জগতে ঝড় তুলতে পারলে এদেশে থ্রিলারের সাহিত্য হয়ে ওঠা হয়।
মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন 'রাত্রিহরণ'এর মাধ্যমে নিজস্ব দর্শন ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। তবে গদ্যভাষার উৎকর্ষতা বৃদ্ধির দিকে তাঁর আরো পরিশ্রম করা দরকার, যদি লেখক হিসেবে অনেকদুর যেতে চান তিনি। বেশ কিছু জায়গায় তিনি ফিলার সেনটেন্স ব্যবহার করেছেন। পাঠকের কাছে ক্লিয়ার ম্যাসেজ যাওয়ার পর ঐ বিষয়ে বাহুল্য বর্জন না করলে যা হয় তা হলো পরিমাণের বেশি নখ কেটে ফেললে যেরকম অস্বস্তি লাগে ঠিক সেরকম। তবে লেখকের সহজাত প্রতিভা যথারীতি উঁকি দিয়ে গেছে এ গ্রন্থে।
'রাত্রিহরণ'এ লেখক তাঁর ডিটেইলিং এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় সুযোগ মিস করে ফেলেছেন। ডিটেইলিং জাহিদ দিতে পারেন নি এরকম নয়, তবে এ ক্ষেত্রে তিনি ধারাবাহিকতার পরিচয় দেন নি। ভিজিল্যান্টি কাস্তিগোকে কম একশন দিয়ে বেশি ডিটেক্টিভের ভূমিকায় পাঠিয়ে দেওয়াটা লেখকের নিজস্ব বিবেচনা।
শেষের দিকে খানিকটা তাড়াহুড়ো এবং খাপছাড়া লেগেছে। তবে একই সাথে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কাস্তিগো সিরিজের তৃতীয় কিস্তির। আমার ক্রিটিকগুলো আশা করছি লেখক স্পোর্টিংলি নিবেন। আরো আশা করছি লেখক তৃতীয় পর্বে নিজের লেখনির উপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। কারণ আমি মনে করি দু'য়েকটি বই পড়ে কোন লেখককে খারিজ করে দেওয়াটা সঠিক নয়।
লেখকের প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
বই রিভিউ
নাম : রাত্রিহরণ লেখক : মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২৪ প্রকাশক : অনুজ প্রকাশন শব্দবিন্যাস : আজান কম্পিউটার্স প্রচ্ছদ : সাদিতউজজামান জনরা : থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন-এর কাস্তিগো সিরিজের দ্বিতীয় বই রাত্রিহরণ। লেখকের এই সিরিজের প্রথম বই আমার পড়া হয়নি। কিন্তু দুটো বই-ই স্ট্যান্ড অ্যালন। তো এই দ্বিতীয় বই অর্থাৎ রাত্রিহরণ হচ্ছে সিরিয়াল কি*লিং নিয়ে লেখা।
এই বইয়ে অনেক বর্তমান সময়ে চলা অনেক সামাজিক ইস্যু নিয়ে লেখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইশা ও ফাতেমা খুনের বিচার নিয়ে গোটা দেশ সরব। খু*নের প্যাটার্ন দেখে এটা বলা যায়, এটা কোনো সিরিয়াল কি*লারের কাজ। তো এই তদন্তের ভার দেওয়া হয় ওসি হিমাদ্রিকে। কিন্তু মাঝপথে হিমাদ্রি কেসটা সামলাতে হিমশিম খেলে তাকে কাস্তিগোর শরণাপন্ন হতে হয়। এরপর দুজন মিলে তদন্ত করতে গিয়ে তারা এমন কিছু ক্লু পায়, যেটা হিমাদ্রির অতীত জীবনের সাথে জড়িত। এই ছিল মোটামুটি ঘটনাপ্রবাহ।
লেখক যে থিমটা নিয়ে কাজ করেছেন এবং লেখার মাধ্যমে বর্তমান সমাজব্যবস্থার যে খারাপ দিক তুলে ধরেছেন সেটা প্রশংসনীয়। গল্পের প্লট ভালো ছিল। কিন্তু আমার কাছে যেটা সমস্যা মনে হয়েছে সেটি হচ্ছে স্টোরিটেলিং। স্টোরিটেলিং একটু বেশিই ফাস্ট এবং সাথে একটু দুর্বল লেগেছে। তাছাড়া কিছু কিছু দৃশ্যপট এমন ছিল যেন বলিউডের কোনো একশন মুভি চলছিল। লাস্ট দিকে এসেও কিছু দৃশ্য সিনেম্যাটিক লেগেছে। তো এদিক দিয়ে যদি আরেকটু দক্ষতা আনতে পারেন, তাহলে তিনি বেশ দূরে যাবেন বলে আশা করা যায়। বইয়ের শেষ অংশ পড়ে সহজেই বুঝা যায়,এই সিরিজের তৃতীয় বই আসবে। আশা করি লেখক সেখানে তার দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠবে।