আদর্শ গৃহবধূ রিমি। স্বামী তৌহিদ আর কন্যা অনিকে নিয়ে কষ্টের সংসার নিপুণহাতে চালিয়ে নিচ্ছে সে। কিন্তু হাসিমুখের আড়ালে আছে হতাশা, অসন্তুষ্টি। কৈশোরে ফরহাদ নামে এক যুবকের সাথে বাসা থেকে পালিয়েছিলো রিমি। সেই ফরহাদ ভাইকে সে এখনো মনে মনে কামনা করে। স্কুলমাস্টার তৌহিদের আর্থিক দৈন্য তাকে পীড়া দেয়। আরো কষ্ট দেয় তৌহিদের চারিত্রিক দূর্বলতা, গা বাঁচানোর স্বভাব। ধীরে ধীরে রিমির মনে মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। প্রথম প্রেমের নিষিদ্ধ আবেগ আর বর্তমান সংসারের নীরস দিনযাপন তাকে করে তুলে বিক্ষুব্ধ....
অবশেষে রিমি ও তৌহিদ পাড়ি জমায় কক্সবাজারে। সমুদ্রের কাছে। সমুদ্র নাকি সবাইকে পাল্টে দেয়। রিমিও কি পাল্টে যাবে? বাইরের হাসিখুশি আদল ছিঁড়ে কি উগরে দিবে তার ভেতরে জমে থাকা সব হতাশা, আকাঙ্খা, ক্ষোভ?
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
হেমিংয়ে দ্বারা যে হুমায়ুন বেশ প্রভাবিত হয়েছিলেন এই বই তার আরেকটা উদাহরণ। অনেকের কাছেই এই বইটি ভালো লাগেনি দেখলাম। পাঠকের ইচ্ছেপূরণ হয়নি বলেই হয়তোবা। উপন্যাসে যা উল্লেখ আছে তার থেকে আরো গভীর গল্প তিনি বলেছেন। হুমায়ুনের ক্রাফ্টিং ভাস্কর্যসুলভ উক্ত বইতে। হুমায়ুন পুনর্পাঠ অনেক কিছু শেখাচ্ছে।
সমুদ্র নিয়ে ফ্যাসিনেশন মন্দ কিছু নয়। তবে বাঙালির আবেগ, ফ্যাসিনেশন, সাহস এসবের সবই একটু বেশিই অন্য লেভেলের। তাই দশ নম্বর বিপদ সংকেত দেয়া সত্ত্বেও সমুদ্রের প্রলয়ঙ্করী রূপ দেখতে বাঙালি কক্সবাজার ছোটে ¬_¬" সেখানে রিমির চার নম্বর বিপদ সংকেতেও সমুদ্র পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা কোনো ব্যাপারের মধ্যে পড়ে না। কয়েকদিন আগে সমুদ্র বিলাস পড়েছি। কাহিনী আহামরি কিছু নয়, খানিকটা অগোছালোও বলা চলে।
অতি রূপবতী রিমির বিয়ে হয় সাধারণ ভাবাবেগহীন স্কুল মাস্টার তৌহিদের সাথে। এদের বৈবাহিক জীবনও চলে অতি সাধারণ ভাবে- চুপচাপ থাকা তৌহিদ, বৈবাহিক জীবন নিয়ে মনের ভিতরে ক্ষোভ পুষে রাখা রিমি, রিমির সাথে তার শাশুড়ীর ঝগড়া আর রিমি তৌহিদের মেয়ে অনি... শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তৌহিদ ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার সমস্যাটিকে মন সম্বন্ধীয় বলে তাকে পরিবারসমেত হাওয়া বদল করতে বলে। বোঝাই যাচ্ছে এরা যাবে সমুদ্রের হাওয়া খেতে।
সেখানে দেখা যায় রোকেয়া-জামাল দম্পতিকে। খোলা চোখে সুখী মনে হলেও কোথাও যেন একটা অসুখের ছোঁয়া, জামাল সাহেবের মৃতা স্ত্রী আনুশকা এই মাঝ বয়সে এসেও বেঁচে থাকা রোকেয়ার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে পারেনি। কাজেই আপাতদৃষ্টিতে প্রাণখোলা রোকেয়ারও মাঝে এক না পাওয়া হাহাকার করে যায় সঙ্গোপনে...ক্ষণিকের জন্য উঁকি দিয়ে যান রিটায়ার্ড ডিস্ট্রিক্ট জাজ সিরাজুল ইসলাম যার মুখ হঠাৎ পানসে হয়ে যায় তৌহিদের প্রফেশন শুনে।
তেমন ভালো লাগেনি সমুদ্র বিলাস। তবে একটা দীর্ঘশ্বাস উপহার দিয়ে গেছে। রিমি-তৌহিদ মধ্যবিত্তের টানাপোড়নের মাঝেও একটা মিষ্টি রেশ ছড়াতে পারতো; রোকেয়া-জামালের ব্যাপারটাও অন্যরকম হতে পারতো, ওরা একসাথে হাত ধরে সমুদ্রে নেমে যেতে পারতো; রিটায়ার্ড ডিস্ট্রিক্ট জাজ সিরাজুল ইসলাম তৌহিদের প্রফেশন শুনে একগাল হাসি দিয়ে বলতে পারতো- মাস্টার মশাই নাকি! ছোট বেলায় আমাদের অংকের স্যার.....
কিন্তু বাস্তবজীবনেও আসলে এসবের কিছুই হয় না। তবে হতে পারতো!
“Life is 10% what happens to you and 90% how you react to it.”
একেক মানুষের ভালোবাসার একেক রূপ থাকে। খুব কাছের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় একটা চ্যালাঞ্জ হলো অপর পক্ষের সেই ভালোবাসার রূপগুলোকে চেনা। সবার ভালোবাসা রঙ্গিন হয়না, সবার ভালোবাসা সুগন্ধ ছড়ায় না, কারও কারও ভালোবাসা ছায়া দেয়, কারও কারও ভালোবাসা উষ্ণ দিনে শীতল পরশ দেয়, কেউ কেউ তার প্রিয় মানুষটাকে কষ্ট না দিয়ে ভালবাসতে চায়, কেউ কেউ তার প্রিয় মানুষটার পাশে থাকার অজুহাতে ভালোবাসা প্রকাশ করে। ভালোবাসার আরো কত কত রূপ আছে। এসকল রূপকে না জানলে অনেক ভালোবাসা অবহেলায় হাড়িয়ে যায়।
মানুষের জীবনে প্রথম প্রেম এক অনন্য স্মৃতি। প্রথম প্রেমের অনুভূতি মানুষ কখনো ভুলতে পারে না। তার জীবনে এর পর যতই প্রেম আসুক সব কিছুর মানদণ্ড হয় তার সেই প্রথম প্রেম। কিন্তু মানুষ যখন জীবনের একটা পর্যায়ে স্থির হয়, তখন শুধুমাত্র স্মৃতির অনুভূতিটুকু রেখে তার সেইসব স্মৃতি, মানদণ্ড সমুদ্রে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করতে হয়। তানা হলে আজীবন কষ্টের এক গোলকধাধায় পরে যেতে হয়। জীবনের সব প্রাপ্তিকে তুচ্ছ মনে হবে। শূন্যতায় ভরে উঠবে চারপাশ।
বইয়ের ভাল লাগা কিছু লাইন:
পৃথিবীর সব সুন্দর জিনিসের সামনে দাঁড়ালেই মন খারাপ হয়।
ব্যক্তিগত সংযোজন: সুন্দর জিনিসের সামনে দাঁড়ালে মনে একটা বিষন্নতা কাজ করে যে এই সুন্দর আমরা প্রতিদিন আমাদের জীবনে পাই না, এই সুন্দরের মাঝে অনন্তকাল আমরা থাকতে পারব না; এজন্যই হয়ত আমাদের মন খারাপ হয়।
সমুদ্র সবার মনে এক ধরনের ভয় এবং শ্রদ্ধার ভাব জাগিয়ে তোলে, শুধু শিশুদের মনে জাগায় ভালোবাসা। শিশুরা কখনো সমুদ্র ভয় পায় না।
"রিমি তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ লোকটাকে খুশি খুশি মনে হচ্ছে। বেশ খুশী। তৌহিদ বলল, ডাক্তার আমাকে কক্সবাজার যেতে বলল? রিমি আশ্বর্য হয়ে বলল, কই সে কথা ত বলনি। আরে দূর দূর বললেই যাওয়া যায় নাকি? কোন কারণ আছে বলেই নিশ্চয়ই বলেছে। কোন কারন নেই কথার কথা এমনি বলেছে। বিছানায় ঘুমোতে যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে তৌহিদ বলল, একবার অবশ্যই কক্সবাজার গেলে মন্দ হয় না। সমুদ্র কখনো দেখা হয়নি। তুমি দেখেছো রিমি? না। তোমার দেখতে ইচ্ছে করেনা? না। আমার খুব করে। কেন করে সে কারনটি একদিন তোমাকে বলবো। আজই বল। আজ থাক। ঘুম পাচ্ছে। আরেকদিন বলব।"
কিছু কথা বলবো বলবো বলেও কোনদিন বলা হয়ে উঠেনা। আজীবন মনের গভীরে পুষে রাখা থাকে সে কথাগুলো। মাঝে মাঝে বুকে চিনচিন ব্যাথা হয়। বেরিয়ে আসতে চায় সে কথাগুলো। তবুও বলা হয়না।
"আকাশ সমুদ্রে মাখামাখি হয়ে আছে। কোথায় সমুদ্রের শেষ, কোথায় আকাশের শুরু-- বোঝাই যায় না। মনে হয় আকাশসমুদ্রে মেশা।"
সমুদ্রসৈকত এক অদ্ভুত জায়গা। কেও হয়তো আনন্দে সমুদ্রের পানিতে ঝাপাঝাপি করছে আর কেও বালির উপরে বসে স্মৃতিচারণে চোখের পানি ঝরাচ্ছে। ধুয়ে নিচ্ছে দুঃখগুলো।
ভালোলাগা প্রিয় বইগুলোর একটি। চারবার পড়ার পরও এখনো ইচ্ছে করে আবার পড়ি। হয়তো এই ইচ্ছে থেকেই যাবে, কোনদিন শেষ হবেনা। শেষ না হওক। ভালোবাসা থেকে যাক অনন্তকাল।
তৌহিদ-রিমির ছোট্ট সংসার।সংসারে আছে তাদের ছোট্ট একটি মেয়ে অনি আর তৌহিদের মা।তৌহিদ নির্ভেজাল মানুষ,কারোর সাতেও নেই পাঁচেও নেই।রিমি হুমায়ূন আহমেদের সকল গল্পের নায়িকার মতোই রূপবতী।স্বভাবে চঞ্চল এবং উচ্চাভিলাষী।উপন���যাসের নামের স্বার্থকতা বজায় রাখার জন্য তারা তিনজন একদিন সমুদ্র দেখতে যায়।এই সমুদ্র বিলাস কি কোন পরিবর্তন নিয়ে আসবে তাদের জীবনে?
বইটা এককথায় বলতে গেলে অগোছালো একটা বই।গল্প যেখানে টান টান হওয়ার কথা সেখানে অযথা সাবপ্লটের উদ্ভব গল্পের গতিকে রুদ্ধ করেছে।কখনো কখনো সাবপ্লট ছাপিয়ে গিয়েছে মূলগল্পকে।যা বিরক্তির উদ্রেক করে।হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় বিষয় বৃষ্টি আনতে গিয়ে উনি বাংলা সন এবং ইংরেজি সনে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন বইতে।
বইয়ের চরিত্র সমালোচনা করা আমার পছন্দের বিষয় নয়।আমাদের আশেপাশে রিমি-তৌহিদের মতো দম্পতি চোখে পড়বে।এক্সপেকটেশন ম্যাচ না করলে সঙ্গী যতই ভালো হোক না কেন সম্পর্ক জমে উঠে না ঠিক।সমালোচনা তাই চরিত্রকে না করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব যার,সেই লেখকের করা যেতে পারে।
হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনে অসংখ্য উপন্যাস লিখেছেন।অধিকাংশ গল্পই হয়তো তার লেখনীর জোরে আর আবেগের জোশে উতরে যায়।কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে এক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদ ব্যর্থ হয়েছেন।
২০২৪ সালের শেষ পড়া বই। কয়েক বছর আগেও একবার পড়েছিলাম, এই বছর আবারও পড়লাম। মানুষজনের সমুদ্র ভ্রমণ দেখে আমারও অনেক ইচ্ছে হচ্ছিলো আমিও সমুদ্র দেখতে যাই। কিন্তু যেহেতু বাস্তবে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না তাই বইয়ের ভেতরেই ডুব দিয়েছিলাম!
এই বইটা প্রথমবার পড়ার পর থেকে আমার ইচ্ছা জেগেছিল কখনো সমুদ্রের কাছে গেলে এই বইটা সাথে করে নিয়ে যাব আর একখানা জম্পেশ ছবি তুলব! আর আমার পাশে থাকবে আমার প্রিয় একজন মানুষ! জানি না কবে আমার এই ইচ্ছেটা পূরণ হবে, কারণ সেই মানুষটার দেখা যে এখনো পেলাম না!
রিমির সংসার স্বামী মেয়ে আর শাশুড়িকে নিয়ে৷ পাতায় পাতায় উঠে এসেছে তার দৈনন্দিন জীবন আর লুকিয়ে থাকা অতীতের কথা। শেষটা যেন ছোট গল্পের মত, শেষ হয়েও শেষ হয়না।
মাস খানেক আগে ক্লাস শেষে সবাই মাঠে বসে সিংগাড়া খাচ্ছিলাম। আমি সায়মা, জয়া, ফাহিম, বুখারী, মিম আরো কয়েকজন ছিল। তো কথায় কথায় টপিক উঠল বিয়ে করা নিয়ে। আমাদের ক্লাসের মেয়েগুলার বিয়ে করা নিয়ে অনেক ইন্টারেস্ট। তারা বিয়ের পর কী কী করবে বা কি কি চায় তাই নিয়ে বকবক শুরু করল। আমি নিরব শ্রোতার মতন শুনে যাচ্ছিলাম। কথার এক পর্যায়ে ফাহিম আমার কাছে জানতে চাইল, বিয়ে করা নিয়ে আমার মনোভাব কেমন। তো ওদের সামনে সেদিন বেশ কিছু জ্ঞানের কথা বলছিলাম। যা একসময় বেশ কথা-কাটাকাটির স্টেজে চলে গেছিল। মানে কথা বলি না বলি, আর যদি বলে বসি তবে একটা না একটা কনট্রোভার্সি বানিয়ে বসি।
তো আমি বললাম, আজকাল বিয়ে করা হচ্ছে অনেকটা জুয়া খেলার মতন। জুয়া খেলা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভাগ্য নির্ভর। ভিতরে ট্রিকস আছে যদিও কিন্তু এখানে ভাগ্যই মেইন প্রোটাগনিস্ট। সেইরকমই, বিয়ে হচ্ছে জীবন নিয়ে জুয়া খেলার মতন। you never know what gonna happen with you in the future. ধরো তুমি এরেন্জ ম্যারেজ করলা, সম্পূর্ণ অচেনা একটা মানুষকে নিজের জীবনের একটা বৃহৎ অংশ দিয়ে দিলা আর এই মানুষটার সাথে তোমার মৃত্যুর আগ অবদি কাটাতে হবে। এখন বিয়ের কয়েকবছর পর যদি বুঝতে পারো, যে তোমাদের মধ্যে মন মানসিকতায় তেমন মিল নাই, তার আচার-আচরণ তোমার ভাল লাগছে না, আর তোমার আচারণ তার কাছে অসহ্য লাগছে, তখন সুখের সংসারে যে টক্সিসিটির জন্ম নিবে তা জীবন ঝালাপালা করে দিতে পারে। কিংবা ধর, তোমার বিবাহিত স্ত্রী, সে বিয়ের আগ অব্দি নর্মাল বিহেভ করল কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন যেতে না যেতে একদিন রাত্রে তোমায় ঢেকে তুলে বললো, দেখ আমার লাইফে একজন ছিল...আমি তাকে খুব ভালোবাসতাম, কিন্তু নসিবে সে জোটে নাই। কিন্তু আমি এখনো তাকে ভালোবাসি, আমার পক্ষে সে বাদে অন্য কাওকে ভালোবাসা সম্ভব না, কিংবা তার কোন ডার্ক পাস্ট সেয়ার করল। এখন ইট ডিপেন্ডস অন ইউ যে তুমি কতটা ধৈর্যশীল বা ম্যাচিয়োর বা ভাল গোবেচারা মানুষ তার উপর। তুমি কি সহজে সব মেনে নিবে?! নাকি মনের মাঝে হিংসা, ঘৃণার জন্ম দিবে। আবার যদি এমনটা হয়, যে তুমি তোমার পুরাটা জীবন খুব লয়েল থাকলে, কোন হারাম সম্পর্কে জড়ালে না, তোমার মনে আশা যে তোমার ভাগ্যে এমন মেয়ে আসবে যে ঠিক তোমার মতনই...তোমার বিয়ে হল কিন্তু একটা সময় গিয়ে রিয়েলাইজ করলা বা কোন ভাবে জানতে পারলা তোমার লাইফ পার্টনার আসলে তোমার ঠিক উল্টা.. তাহলে? কিভাবে সামলাবে নিজেকে?! কম্প্রোমাইজ?! আবার ধর তোমার বিবাহিত স্ত্রী সাথে তোমার বাবা মায়ের একটুও মিল হচ্ছে না। কেউ কাউকে পছন্দ করেনা (যদিও এটা বেশি লাভ ম্যারেজে হয়), তবে সেক্ষেত্রে কি করবে? কাকে নিজের ফার্স্ট প্রায়োরিটিতে বসাবে?
আর বর্তমান যে সময় চলছে, চারপাশে যদি একটু খেয়াল করে দেখ, কত কত মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, বিশ্বাসঘাতকতার সম্মুখীন হচ্ছে, আজকালকার মানুষের Moral degradation যেভাবে হচ্ছে, what if... তোমার লাইফ পার্টনার Extra-marital affair জড়িয়ে পড়ল! তখন?! কেঁদে কেটে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করা বাদে আর কী করার আছে?! এখন হয়ত বলবা যে হয়ত তোমার মাঝে কোন অপূর্ণতা ছিল যার জন্য সে অন্য কোথাও..ভাই যাদের ক্যারেক্টারে ঘাবলা থাকে, তারা এসবে মানে না।
এবাদে আরো বেশ কিছু জিনিস একনাগাড়ে বলে গেছিলাম। কথার মাঝে বুঝতেছিলাম বেশ কয়েকটার গা জ্বলতেছে শুনে, যার রেশ কথা শেষ হলেই পাওয়া শুরু করলাম। ওরা বলা শুরু করল, তার মানে তুই কি চাস মানুষ প্রতারিত হওয়া থেকে বাঁচতে বিয়েই না করুক?! তুই সমাজের নেগেটিভটাই বলছিস, অথচ কত কত মানুষ বিয়ে করে ভাল আছে তা তো বলছিস না। fair point, অনেকেই ভাল আছে! কিন্তু সেই সংখ্যাটা কেমন? মানুষ যে হারে প্রিটেন্ড করতে পারে, কারো ভিতরের অবস্থা বাইরে থেকে বোঝা অসম্ভব। সারাদিন অফিস করে, মুখে হাসি রেখে সবার সাথে কথা বলে, দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে যখন অশান্তি ফেস করতে হয়... উফ, এ যেন হাবিয়া, দুনিয়াতেই।
নাউ এখানে বিষয় হচ্ছে, Risk Hai To Ishq Hai. রিস্ক নাও, হয়ত হাতে সোনার খনি বেধে যেতে পারে। আবার জীবন বরবাদ ও হয়ে যেতে পারে।আফসোস জীবন একটাই, টেস্ট ম্যাচ খেলার কোন সিস্টেম এখানে নাই।
বিশাল এক আলোচনা করলাম, যা মূলত এই উপন্যাসের মেইন থিমের উপর বেসড করে আমার ব্যক্তিগত মতামত। এখানে দোষ আমি রিমি বা তৌহিদ কাওকে দিব না। দোষ হচ্ছে নিয়তির। তবে রিমি উপন্যাসের শেষে যেভাবে তৌহিদকে হিউমিলিয়েট করল, এই স্টেজটা পড়তে গিয়ে সাংঘাতিক প্যারা খেয়েছি। অস্বস্তিকর লাগছিল। রিমিকে ম্যানিপুলেটর মনে হচ্ছিল। নিজের কর্মফলকে সে Uno reverse দিয়ে তৌহিদের সামাজিক অবস্থানের সাথে যেভাবে তুলনা করা শুরু করল, It's disturbing to read.
যাইহোক, ফালতু একটা উপন্যাস লাগছে। স্টার না দেওয়া সম্ভব হলে সেটাই করতাম। দিনদিন হুমায়ূনের অতিরুপবতীদের অসহ্যকর কাজকারবার দেখে এমন অবস্থা হচ্ছে, হুমায়ূন পড়াই বন্ধ করে দিতে মন চায় মাঝেমধ্যে।
রিমি। আপাতদৃষ্টিতে চৌকস বুদ্ধিমান সংসারী এক গৃহবধূ। স্বামীকে ভালোবাসে, সন্তানের যত্ন নেয়, দুহাতে সংসার সামলায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটা তার ছদ্মবেশ। বইয়ের শেষদিকে এসে তার সেই ছদ্মবেশ খুলে পড়ে। ধীরে ধীরে রিমির ভেতরে চেপে রাখা হতাশা, লোভ, আশা, আকাঙ্খাগুলি প্রকাশ পায়। কী সেই হতাশা? কিংবা লোভ আশা আকাঙ্খা?
ক্লাস টেনে পড়া অবস্থায় রিমি পাশের বাসার ফরহাদ ভাইয়ের সাথে পালিয়েছিলো। গৌরীপুরে এক হোটেল থেকে তাদের দুজনকে উদ্ধার করা হয়। রিমি বিয়ের পর সেই স্মৃতি ভুলে স্বামী তৌহিদকে ভালোবাসার ভান ধরলেও তার মনের গহীনে সেই প্রথম প্রেম ফরহাদের জন্য ভালোবাসা জমা ছিল। ছিল নিষিদ্ধ আকর্ষণ। যেকারণে এত বছর পর ফরহাদ দেখা করতে আসলে রিমির স্নায়ু টানটান হয়ে উঠে, নিঃশ্বাস গাঢ় হয়। ফরহাদ আসবে বলে রিমি পছন্দমতো সাজে, হরেক পদ রাঁধে, অপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত। বাইরে ঔদাসিন্য দেখালেও পূর্ব প্রেমিকের প্রতি তার কামনা প্রকাশ পায় শেষে এসে -
"...ভুল করেছি বলছ কেন? এমনও তো হতে পারে ঐদিন যা করেছিলাম ঠিকই করেছিলাম৷ বল, হতে পারেনা?... তুমি আমার হাত ধরে সমুদ্রস্নানে নিয়ে যাওনি। তিনি হয়ত যেতেন। কাজেই তাঁর সাথে পালিয়ে গিয়ে ভুল করেছি আর তোমাকে বিয়ে করে শুদ্ধ কাজটা করা হয়েছে এমন বলছ কেন?"
সমুদ্রস্নানে হাত ধরার দোহাই দিয়ে এভাবেই রিমি মনের নিষিদ্ধ নোংরা সত্যটা প্রকাশ করে দেয়।
শুধু ফরহাদই নয়। রিমির মানসপটে একে একে জ্যন্ত হয়ে উঠে তাকে বিয়ে করতে আসা মেজর কিংবা বিদেশগামী ডাক্তার। স্কুলমাস্টার স্বামীর দূর্বল চরিত্র ও আর্থিক দৈন্যের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ পায় শেষদিকে এসে৷ বিয়ের পর থেকে যে সে তৌহিদের কাছে সুখ পায়নি বরং তার পূর্বতন যাচকরাই শ্রেষ্ঠ ছিলো তা স্পষ্ট করে দেয়। রিমির মতে,
"আমার যাবার জায়গা নেই কাজেই আমাকে থাকতে হবে তোমার সঙ্গে....তারপর একটা চাকরি খুঁজে তোমাকে ছেড়ে চলে যাব।"
বিপরীতে বইয়ের সবচেয়ে দূর্ভাগা চরিত্র লেগেছে তৌহিদকে।
সে প্রকৃতপক্ষেই চারিত্রিকভাবে দূর্বল। স্ত্রীর পাস্ট ছিলো জানার পরেও সে কথা তুলেনি। হয়তো মহৎ বলে অথবা ঝামেলা এড়াতে চায় বলে। সামান্য স্কুলমাস্টারি করে গুটিকয়েক টাকা পায়। বাড়ি গাড়ি নেই, দিনে এনে দিনে খায় মতন অবস্থা। তাই স্বাভাবিকভাবেই রিমির কাছে সে গলগ্রহ বিশেষ। মেজর, ডাক্তারদের লিস্টে এক নম্বরে থাকা রিমির ভাগ্যে শেষমেশ স্কুলমাস্টার বোকাসোকা তৌহিদই জুটে! ফলে রিমির সব হতাশা, বিরক্তি, সবটুকু ঝাল এসে পড়ে তৌহিদের ওপর!
এমনকি রিমির প্রথম প্রেমিক ফরহাদ ভাইকে নিয়ে সংসারে অশান্তি না করে এড়িয়ে যাওয়ার কারণেও দোষ পেতে হয় তৌহিদকেই! রিমির ভাষায় -
"ফরহাদ ভাইয়ের ব্যাপারটা জানার পরও তুমি যখন চুপ করে রইলে, কোনরকম কৌতূহল দেখালেনা তখন বুঝলাম আমার প্রতি তোমার কোনো আগ্রহ নেই।"
ফরহাদের প্রতি গোপন আকর্ষণ, মেজর ডাক্তারদের ছেড়ে গরিব স্কুলমাস্টারের ঘরে আসার হতাশা, স্বামীর দূর্বল চরিত্র আর নিরামিষ একঘেয়ে জীবন - সব শেষে এসে এক বিন্দুতে মিলে আর ধীর শান্ত দায়িত্বশীলা এক নারী থেকে রিমিকে পাল্টে দেয় হতাশ, উচ্চাকাঙ্খী, স্বার্থপর ও পরপুরুষাসক্ত মহিলায়।
সমুদ্র বিলাস বইটিতে এ দুজনের পাশাপাশি তৃতীয় প্রধান চরিত্র সমুদ্র। দুজনের কক্সবাজার যাত্রা ও অবস্থান নিয়েই বইটির কাহিনী।
এ সমুদ্র সবাইকে ক্ষুদ্র বানিয়ে দেয়। তুচ্ছ বানিয়ে দেয়। বইয়ের শুরুতে রিমি যেমন আকাশের মতো বড় ছিলো, শেষে সমুদ্রের কাছে এসে সেও যেনো ক্ষুদ্র, তুচ্ছ হয়ে গেছে। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সবকিছু উগড়ে এসেছে বাইরে। ক্ষুদ্র হয়ে গেছে তৌহিদও। স্ত্রীর তীক্ষ্ণ তিতা বাক্যবাণে সাধারণ স্কুলমাস্টার তৌহিদ যেনো আরো সাধারণ, আরো তুচ্ছ হয়ে গেছে...
হুমায়ূনের উপন্যাসে ভিলেন নারীচরিত্র কম। টিপিকাল নারীও কম। রিমি সে তুলনায় ব্যতিক্রম। সে নিজের নিষিদ্ধ প্রণয়, স্বার্থপরতা, লোভ থেকে বের হতে পারেনি। তার পক্ষে অতটা মহান হওয়া সম্ভবও নয়। কারণ ঐ যে - সে সাধারণ। তাই একজন সাধারণ নারীর সব মানসিক ত্রুটি তার মাঝে উপস্থিত। তাই সে দিনশেষে ভিলেন। সরাসরি নয়, প্রচ্ছন্নভাবে।
সমুদ্র বিলাস - রেটিং ৩.৫/৫। অবশ্য কারো কারো কাছে রিমির লজিকগুলো খাঁটি মনে হতে পারে। সেটা তাদের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, এবং সেক্ষেত্রেও স্বাগতম।
আমি যদি বইখানা লিখতাম তবে নাম হতো """অংক মাস্টারের আত্মতুষ্টি"" নব দম্পতির মধ্যে প্রথম পাহাড় দেখবে না সমুদ্র দেখবে তা নিয়ে বেশ লড়াই চলে!... এমন করে বললেই সমাধান হয়ে যায় তাই না!... বেশ রোমান্টিক ভাবও চলে আসে.....! " আমরা দুইজন হবো পাহাড়, ভাসবো একসাথে ভালোবাসার সাগরে। "" হিহিহিহি😁 আমার সমুদ্র দেখা হয় নি এখনও কিন্তু সমুদ্রের প্যাসিনেশন সারাজনমের বলা যায়। খুব চাই সমুদ্রের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে।
★★★ মধ্যবিত্ত অংক মাস্টারের সমুদ্র বিলাস। অংক মাস্টাররা সব সময় এমনই হাবাগোবা টাইপ হয়!.. বাস্তবে বোধহয় না। কিন্তু গল্পের অংক মাস্টার তৌহিদ সাহেব কিছুটা এমনই। সকালে উঠেন, স্কুলে যান ক্লাস করান, পরীক্ষার কাগজ কাটেন, বাসায় ফিরে টিউশন, তারপর রাতের খাবার, এক কাপ চা আর কখনোবা সিগারেটের ধোঁয়া নতুবা পান। এই ভাবে তার দিন যায়। বৌ কে অসম্ভব ভালোবাসেন লোকটা, বৌ ঝগড়া করলেই সেদিন রাতে শ্বাসকষ্টে নীল হয়ে যান। সুন্দরী স্ত্রী রিমি , চার বছরের মেয়ে অনি, বৃদ্ধ মা জোবেদা খানম আর কাজের ছেলে জিতু মিয়া এই নিয়ে তৌহিদ মাস্টারের সংসার। স্কুল মাস্টার তৌহিদকে নিয়ে তার স্ত্রী কিভাবে সমুদ্রে যান এবং সেখানে কি রহস্য পায় তারা তাই নিয়ে লেখা এই ৮০ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্র উপন্যাস..... নো স্পয়লার✅ গল্পটা সিম্পলি সুন্দর 🌼 কিছু ভালো লাগার উক্তি আছে..... ★ যখন কোন জিনিস কল্পনাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে যায় তখন মানুষ হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। মাথার ভিতর এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করে। ★সমুদ্র অসুন্দরকে সুন্দর করতে পারে। ★ পৃথিবীর সব সুন্দর জিনিসের সামনে দাঁড়ালেই মন খারাপ হয়। এটা মানুষের বেলাতেও সত্যি। -------★★★★★-------- রেটিংস -৩.৫ বই কথন - সমুদ্র বিলাস হুমায়ূন আহমেদ কাকলি প্রকাশনী ................ 📝সামিয়া
জীবন জীবনের মতো চালাতে হয়।একঘেয়েমি জীবনে অশান্তি, কলহ,দুশ্চিন্তা আসবেই।তাই জীবনকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে না রেখে জীবনে চাহিদার নিমিত্তে জীবনে চিত্তবিনোদন নিতে হয়।আর সে জন্যই ডাক্তার সাহেব তৌহিদ ও তার প্রয়িতমা স্ত্রী রিমিকে নিয়ে সমুদ্রে যাবার পরামর্শ দেয়। সমুদ্রের বিশালতায় দাড়িয়ে একটু নিশ্বাসে যেন বেঁচে থাকার আক্রোশ আরও বাড়িয়ে দেয়।রাতে ঘুমুতে যাবার আগে তৌহিদ রিমিকে বলে চলো সমুদ্রে যাই, আমার সমুদ্র দেখতে খুব ইচ্ছে করে।কিন্তু তাদের কাছে সমুদ্রে যাবার টাকা ছিল না। পরে অনেক কষ্টে টাকা ব্যবস্থা করে ফেলে।ঠিক করে তৌহিদ এবং তার মেয়ে আর স্ত্রী যাবে।আর এদিকে তার মা শেষ বয়সে সমুদ্র দেখার আশায় নতুন জুতা চাদর বড় ছেলেকে দিয়ে কিনিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিল।ক���ন্তু শেষ পর্যন্ত ওনার জীবনে আর সমুদ্র দেখা হয় না।এখানে তৌহিদের বৃদ্ধ মায়ের জন্য অনেক কষ্ট লাগে।রিমি আর ওনার মধ্যে ঝগড়াঝাটি সবসময়ই লেগে থাকত। সমুদ্র কাউকে সুখ দেয় আবার কাউকে দুঃখ। সমুদ্রের সামনে দাড়িয়ে জীবনভর বেঁচে থাকা আস্বাদ পাওয়া যাবে।তাই তো জীবনকে প্রাণবন্ত করতে আমাদের প্রয়োজন হুমায়ুন আহমেদের মতো সমুদ্র বিলাস করা।
এটা খুব সুন্দর একটা উপন্যাস। হ্যাপি রিডিং,,,,
This entire review has been hidden because of spoilers.
"সমুদ্র যেন এক অনন্ত আয়না — কখনো মন খারাপের সব ভার শুষে নেয়, আবার কখনোই সব পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনে মনটা আরও ভারাক্রান্ত করে তোলে। কেউ সমুদ্রের কাছে এসে পায় প্রশান্তি, কেউ আবার ফিরে যায় আরও একলা হয়ে।"
✅ তৌহিদের চরিত্রে আছে নির্লিপ্ত এক ধারা। দুনিয়ার কিছু নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা নেই, যা করে তা উলটো-পালটাই মনে হয়।
✅ রিনি এক প্রতিবাদী নারী। যা তার ভালো না লাগে, সেটা অকপটভাবে বলে ফেলে।
✅ অনি চটপটে স্বভাবের। সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে চলে, প্রাণবন্ত।
✅ ডাক্তার তৌহিদকে সমুদ্র দেখে আসতে বলেন। কারণ আল্লাহ প্রতিটি কিছুই কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রের বিশালতা অনেক কষ্ট শুষে নিতে পারে।
জোবেদা খাতুনের খুব ইচ্ছে সমুদ্র দেখা, তবে সব ইচ্ছে পূরণ হওয়া উচিত না—কিছু অপূর্ণতা থেকেই আসে পূর্ণতার অনুভব।
✅ গল্পে মোড় ঘোরানো বা চমক নেই। খুব সাধারণভাবে, গতানুগতিক ধারায় এগিয়েছে।
✅ “অবশ্যই পড়তেই হবে” এমন কিছু নয়। মনে দাগ কাটার মতো কিছু পাওয়া যাবে না। তবে পড়া যেতে পারে, যদি বিশেষ কিছু আশা না থাকে।
আমার ছোটবোন এর হোয়াটসঅ্যাপের বায়োতে একটা লাইন আছে অনেকদিন থেকেই,
'প্রচন্ড একটা ঢেউ এসে রিমির গায়ে আছড়ে পড়লো। এই ঢেউ রিমিকে তীরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। সে কী করবে, কে জানে?' আমি মূলত এই লাইন দেখেই বইটা নিয়ে জানার আগ্রহ পেয়েছিলাম । রিমিকে আর রিমির সাথে কি হবে এরপর এটুকু জানতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু সুযোগ হচ্ছিলো না কোনোভাবেই।
২৪ এর জানুয়ারিতে সে সুযোগ হলো। পড়লাম। জানলাম। খানিক বিষণ্নতা কাজ করেছিল হয়ত কিন্তু দ্বিতীয়বার ঘুরে দেখব সেরকম মনে হয়নি।
সমুদ্র বিলাস" পড়ে মনে হয়েছিল যেন একটা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষ করেছি। হুমায়ূন স্যারের গল্পগুলোতে যেভাবে জীবনের নানা রঙ তুলে আনা যায়, সেটা আবার দেখলাম। প্রেম, ভালোবাসা, হতাশা, আশা, সবই মিশে আছে গল্পের ভেতরে। আর তাঁর লেখার ধরন! একবার ধরে নিলে ছাড়তে ইচ্ছেই করে না। "সমুদ্র বিলাস" শুধু একটা গল্প নয়, এটা জীবনের একটা ছবি, যেটা মনে দীর্ঘদিন থাকবে
দশটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার যেমনটা হয় ঠিক তেমনই রিমি ও তৌহিদের সংসার। রিমির খুব ইচ্ছে ছিল সমুদ্র দেখতে যাওয়ার কিন্তু ছোট বাচ্চা, অসুস্থ শাশুড়ি, টানাটানির সংসারে কোনোদিন হয়ে উঠেনি। হঠাৎ করে রিমি সিদ্ধান্ত নেয় এবার সে সমুদ্র দেখতে যাবেই। তৌহিদ ও ছোট্ট অনির সাথে শুরু হয় তার প্রথম সমুদ্র দেখতে যাওয়ার যাত্রা। যাত্রাপথে হঠাৎ পুরানো দিনগুলো মনে পড়ে যাওয়া, নতুন চরিত্রদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হওয়া এইসব নিয়ে বইয়ের বাকি অংশ।
বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর অংশটুকু শেষের দিকে। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের যে জিনিসটা ভালো লাগে তা হলো সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলোর এমনভাবে বর্ণনা দেওয়া যা প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনে ঘটে থাকে। তবে এই বইটিতেও ঘুরে ফিরে স্বামী স্ত্রীর সেই টিপিক্যাল সম্পর্ক দেখানো হয়েছে যা বরাবরই একঘেয়েমি লাগে।
অন্যান্য বই থেকে এটি বিশেষ ভাবে ভালো লাগার কারণ এন্ডিং..মধ্যবিত্তের শখ পূরণ কিংবা বইয়ের বর্ণনায় উঠে আসা প্রকৃতি, ট্রেন জার্নি এবং সব শেষে "সমুদ্র " ❤️