হটাত দুপুরে টুপুর মানে ঐন্দ্রিলাদের বাসাতে এক চিনেম্যান নিয়ে কুশল হাজির । তার অনুরোধ তার বো মানে চাচা ঝাও ঝিয়েন এর গাড়িচাপা পড়াতা নিছক এক্সিডেন্ট নয়, পেছনে কিছু আছে। ঐদিকে প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায় মানে মিতিন মাসি জাল উইলের কেসে ফেসে আছেন, তো মিস ওয়াটসন টুপুর নেমে পড়ল তদন্তে । মারা যাবারদিন চিনা অধ্যাপক একটা ওয়ালহ্যাঙ্গিং কিনে ফিরছিলেন, যার ঐতিহাসিক মুল্য এক ক্তহাতে চীনে ইতিহাস বদলে দিবে । হালি পানি পাচ্ছে না টুপুর, নাক গলালেন মিতিন মাসী, জানা গেল ওটা ছিল চৈনিকদের তৈরি পৃথিবীর প্রথম ম্যাপ যেটা একেছিলেম মো-ই-টাং। ময়নাতদন্তে সালিক বাচ্চা পাড়ল, ওটা এক্সিডেন্ট নয়, খুন !
মিতিন মাসী কি ঐতিহাসিক ম্যাপটি খুজে বের করতে পারবেন? কে ছিল নিরীহ চৈনিক অধ্যাপক ঝাও ঝিয়েনের খুনী?
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
মিতিন মাসী গল্পের যে জিনিসটা ভালো লাগে সেটা হল, ক্লু জিনিসটা পাঠক কিছু ক্ষেত্রে ধারনা করলেও লাস্টলি দেখা যায় সেটা আরেকটা জিনিস। এই গল্পের ক্ষেত্রে সেই রহস্যময় বস্তুটা সত্যিই সারপ্রাইজিং যখন পাঠক পড়বেন, অবাক হবেন।
গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা ওরফে মিতিন মাসীর সাগরেদ টুপুর এখন নিজের বাড়িতে আছে। যদিও বেশির ভাগ সময় মাসীর লেজে লেজে থাকে। তো সেই টুপুরের পাড়াতো বন্ধু কুশল। একদিন এক চীনা ছেলে কে নিয়ে টুপুরের দরজায় হাজির! ঝাও লিয়াং নামে এই শ্রীমানের কাকা ঝাও ঝিয়েন অস্বাভাবিক ভাবে মারা গেছেন। মিতিন মাসী ব্যাস্ত থাকায় ইন্টারোগেশনের ভার পড়লো ঐন্দ্রিলা তথা টুপুরের উপর, সাথে সাথেয় চলবলনে ভারিক্কিভাব এনে লিয়াং কে প্রশ্ন শুরু করল সে! জানল ঝাও পরিবারের তথ্য।
চীনেম্যান দের পদবী নামের আগে থাকে! ঝাও ফ্যামিলির ঝিয়েন সাহেব বেশ পুরনো স্কুলে হিস্ট্রি পড়াতেন,। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি নাকি কিউরিশপে কিছু একটা জিনিস দেখেছিলেন। সেই জিনিস্টা কি সেটা আসলে কেউ জানেও না! খুন হবার দিন উনি স্কুল থেকে বেশ আগে বের হয়ে যান, আর সেদিন বিকেলেই খুন, কিউরি শপে কি তিনি গিয়েছলেন? কিউরি শপের সেই জিনিস কি অভিশপ্ত ? নাকি বহুমূল্যবান কিছু? সেই জিনিস আসলেও অদ্ভুত কিছু। গল্পে হ্যারি পটার এর কিছু উল্লেখ আছে, রহস্যময় বস্তুটা এমন জিনিস যেরকম কিছু একটা পটার সাহেবের ছিল!
🟥প্রাসঙ্গিক কথাঃ চীনের মিং রাজবংশের আমলে তৈরী চীনের প্রাচীরের নাম শুনেনি এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। এই মিং রাজবংশ প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পর এক বিখ্যাত অভিযাত্রীর জন্ম হয়, নাম মা-সান-পাও। ইতিহাসে তাঁকে আমরা চিনি অ্যাডমিরাল জেং নামে। হঠাৎ করেই রাজা ইয়ং-লো একদিন তাঁকে হুকুম দেন__🔶"তোমাকে আর যুদ্ধটুদ্ধ করতে হবে না,তুমি চিনের প্রতিনিধি হয়ে দেশে দেশে ঘোরো, আর পারলে নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বার করো।"🔶রাজার হুকুমে ১৪০৫ সালে অ্যাডমিরাল জেং বেরিয়ে পড়েন নৌঅভিযানে। ১৪২১ সালে পৌঁছে গেলেন আমেরিকায়, কলম্বাস তখনো জন্মগ্রহণই করেননি। গভীর সমুদ্রের বুকে প্রকান্ড নৌকার পাটাতনে দাঁড়িয়ে আছেন জেং আর তার পাশে বসে মিং ডাইনেস্টির বিখ্যাত শিল্পী মো-ই-টং আঁকলেন পৃথিবীর প্রথম অথেন্টিক মানচিত্র। সমুদ্র অভিযান শেষে জেং যখন দেশে ফিরলেন, কুপরামর্শে প্ররোচিত হয়ে নতুন রাজা হুংশি নৌযাত্রার সব কাগজ,নথিপত্র জ্বালিয়ে দিলেন। কিন্তু মো ছিলেন ধুরন্ধর, বিপদের গন্ধ পেয়ে আগে ভাগে সরিয়ে ফেলেছিলেন ম্যাপটা।কালের বিবর্তনে ম্যাপটি এসে পড়লো ভারতের দক্ষিণ পরগনার বজবজে এক নামকরা বাঙালি ডাক্তারের কাছে। কিন্তু মো কি জানতেন প্রায় ৬০০ বছর পর এই ম্যাপের জন্য প্রাণ দিতে হবে এক গবেষককে? 🔰তথ্যসূত্র: ঝাও ঝিয়েন হত্যা রহস্য। 🟥কাহিনি সংক্ষেপঃ টেরিবাজারের চিনা স্কুলে ইতিহাস পড়াতেন ঝাও ঝিয়েন। মেধাবী ছাত্র হওয়ায় সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে গ্রাজুয়েশন করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিস্ট্রিতে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে এম এ পাশ করেন। অনেক ভাল চাকুরির সুযোগ থাকলেও স্কুলের টানে সেখানেই থেকে যান। স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি চিনা সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ ছিল। ইউরোপিয়ানরা চিনাদের সম্পর্কে যে অসম্পূর্ন ও আংশিক ভুল ইতিহাস লিখেছে সেটার জন্য গবেষণা করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একদিন বেকবাগান মোড়ের কিউরিও শপে একটি ওয়ালহ্যাঙ্গিং দেখেন। কয়েকবার চেষ্টা করেও কিউরিও শপের মালিক স্বপনবাবু পারিবারিক স্মৃতির টানে কাপড়ের টুকরাটি বেচতে চাইলেন না। তবে শেষ পর্যন্ত টাকার নেশায় হ্যাঙ্গিংটা বেচে দেন ঝিয়েনের কাছে। দুপুরবেলা হ্যাঙ্গিংটা কিনে সেদিনই সন্ধ্যায় গাড়ি চাপা পড়ে মারা যান ঝিয়েন। ঝিয়েন অত্যন্ত সাবধানী ও অজাতশত্রু মানুষ হওয়ায় তার ভাইপোর সন্দেহ জাগে। সামান্য একটা ওয়ালহ্যাঙ্গিং কেনার জন্য নিতান্তই নিরীহ একটা মানুষকে দুনিয়া থেকেই সরে যেতে হল? কী এমন বিশেষত্ব থাকতে পারে এক ফালি কাপড়ের টুকরায়, যাতে কিনা ইতিহাস বদলে যাবে? 🟥লেখিকা পরিচিতিঃ লেখিকা খুব রক্ষণশীল বনেদি পরিবারের মেয়ে ছিলেন। জ্যাঠামশাই (বাবার বড় ভাই) করুণা ভট্টাচার্য ছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের বিখ্যাত ফুটবলার এবং ডাকসাইটে কর্মকর্তা। মাত্র সতেরো বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করলে,মেয়ের দুঃসাহস দেখে বাবা বাড়ি থেকে এক প্রকার বের করে দেন। আর্থিক সংকটে সংসার জীবন শুরু হলো দারিদ্রের সাথে লড়াই করে।আর একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল তাঁর। বিয়ের পর থেকেই কিছু বান্ধবীর সাথে গিয়ে প্রত্যেক দিন শ্মশানে বসে থাকতেন। জীবন মৃত্যুকে দেখতেন কাছ থেকে। উঁচু পোস্টের সিভিল সার্ভিস চাকরি পেয়েও ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীতে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। 🟥পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ★লেখিকার গল্প বলার ধরন বেশ আলাদা। সাদামাটা ভাবে লেখা কাহিনি হলেও তাতে সূক্ষ্ম হিউমার মিশ্রিত ছিল। একাই একশো গোয়েন্দা চরিত্র বানানোর কোনো চেষ্টা করেননি যেটা অবশ্যই প্রশংসা করার মত। গোয়েন্দাদের বুদ্ধিদীপ্ত ইমেজ ফুটিয়ে তুলেছেন প্রজ্ঞাপারমিতা (মিতিন মাসি) নামের একটি মেয়ে চরিত্রের মাধ্যমে। মিতিন মাসি পড়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে এটা কিশোর পাঠকদের জন্য লেখা হয়েছে। জটিল রহস্য ও প্রথাগত তদন্তের মিশেল এখানে খুঁজে পাবেন না। বুদ্ধি আর যুক্তিতর্কের খেলায় উঠে আসবে দেশবিদেশের নানান জায়গা, জাতি, ধর্ম ও সমাজের আলোকে রচিত রহস্য কাহিনি। ★"ঝাও ঝিয়েন হত্যারহস্য" উপন্যাসের শুরু ঝাও ঝিয়েনের অপমৃত্যুর ঘটনা দিয়ে। ঝিয়েনের ভাইপো লিয়াংয়ের খটকা লাগায় সে তার বন্ধু কুশলকে বলে। পরবর্তীতে কুশলের মাধ্যমে তার পাড়ার বন্ধু টুপুরের কাছে আসে মিতিন মাসির সাহায্য নিতে। উপন্যাসের প্রথম এক-তৃতীয়াংশে টুপুর কুশলকে নিয়ে একাই গোয়েন্দাগিরি চালিয়ে যায়। ★উপন্যাসের পরবর্তী দুই তৃতীয়াংশের পুরোটা জুড়ে ছিল মিতিন মাসির নেতৃত্বে পর্যায়ক্রমে করা তদন্তের বর্ণনা, সরেজমিনে গিয়ে জিজ্ঞাবাদ ও ফ্যাক্টসগুলা যোগ বিয়োগ করে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা। ★পাঁচ জন সাসপেক্টের ভিতর সবচেয়ে শক্ত জেরার মুখোমুখি হন স্বপনবাবু এবং সবচেয়ে কম তরুণবাবু। তরুণবাবুর সাথে কথোপকথনের অংশটুকু লেখিকা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। সেটা কারোর কাছে কাহিনির দূর্বলতা মনে হতে পারে, আবার রহস্যের জাল বিস্তারের জন্যও হতে পারে। ★পুরো উপন্যাসে ময়নাতদন্তের রি��োর্ট ও মোবাইল কলের লোকেশন ট্র্যাকিং ছাড়া বাকি সবটুকুই টুপুর,কুশলসহ পরিবারের কয়েকজনের আলোচনা ও মিতিন মাসির বুদ্ধির চাল, যুক্তিতর্কে অপরাধীকে ফাঁদে ফেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ★ রহস্য উপন্যাসের প্লট নির্বাচন সহজ হলেও কাহিনির বিস্তার ও যুক্তিসঙ্গত পরিনতি দেয়া এতটা সহজ নয়।"ঝাও ঝিয়েন হত্যা রহস্য" উপন্যাসের প্লট দারুণ। হলুদ পুরানো এক টুকরো কাপড়ের জন্য পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে যেতে পারে। কিন্তু ঘটনা প্রবাহের সাথে সাথে রহস্যের জট খুলেছে সরলরৈখিকভাবে। ছোটখাট কোনো টুইস্টতো ছিলই না, সামান্যতম সাসপেন্সের দেখাও মিলেনি। সাসপেক্টদের সাথে দেখা করার সময় যেগুলা তৈরী করা যেতো খুব সহজেই। পুরো উপন্যাসটা শুধু ঝরঝরে লেখনশৈলীর জন্য উৎরে গেছে। 🟥সম্পাদনাঃ লেখিকা অর্থোডক্স বনেদী পরিবারের মেয়ে হওয়ায় তাঁর লেখায় খাস উত্তর কলকাতার কিছু শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।যেমন:ডেঁপোমি,ল্যাংবোট,ফ্যাচাং ইত্যাদি। এমন শব্দের জন্য এপার বাংলার মানুষজন বেশ মজা পাবে। পুরো উপন্যাসে বানান ভুল খুঁজতে গিয়ে কানা হবার দশা। ওপার বাংলার বইয়ের কি অসাধারণ সম্পাদনা হয় সেটার আরেকটা নমুনা বইটি। 🟥উপসংহারঃ গোয়েন্দা কাহিনির সৌন্দর্য তার রহস্যে। কাহিনির ঘনঘটা যত তীব্র হবে, ততই রহস্যভেদের মজা বাড়বে। রহস্যের জাল বোনা আর ধীরে ধীরে সেই জাল কাটিম সুতার মত আসতে ধীরে ছেড়ে গোয়েন্দা কাহিনিগুলোর বাঁকবদল আমাদের চমকে দেয়। এমন কাহিনি ফাঁদার জন্য লেখিকা বিস্তর পড়াশোনা করে গল্প লিখেছেন এটা বলতেই হবে। তবে "ঝাও ঝিয়েন হত্যা রহস্য" পড়ে মজা পাবেন যদি চিন সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে। আর নাহলে এত সুন্দর প্লটের এক্সিকিউশন বেশ দূর্বল লেগেছে আমার কাছে। গল্পের সবচেয়ে স্মার্ট চরিত্র তরুণবাবুর স্বরে বললে,🔶 "ফালতু স্টোরি শোনার আমার সময় নেই। যত্তসব আষাঢ়ে কল্পনা!" 🔶
মিতিনমাসি সিরিজ ভালো লাগার একটাই মূল কারণ। প্রিয় লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য মিতিন'কে সৃষ্টিছাড়া বীরাঙ্গনা রুপে গড়ে তোলেননি। মহিলা গোয়েন্দা সৃষ্টির ভিত্তিমূল কিন্তু এখানে উগ্র ফেমিনিজম নয় কিংবা পুরুষদেরকে হ্যাঠা করাও নয় (পার্থকে পেটুক বাতেলাবাজ দেখালেও, অবনীকে তেমনই ইতিহাসের প্রাজ্ঞ হিসেবেই দেখানো হয়, অর্থাৎ জেন্ডার স্পেসিফিক bias নেই, একেকটি চরিত্র একেকরকমের)। কোনদিন কোন সমস্যায় পড়ে মিতিনমাসির কাছে যেতে কখনও দ্বিধাবোধ হবে না যে চরিত্রটির কোনরকমের চারিত্রিক bias রয়েছে। মিতিন সবারই প্রিয় মাসি। তবে এখনকার সময়ে লেখা হলে মনে হয় মিতিনের একটা স্মল লেন্থ হেয়ারকাট, পার্সে ইন্ডিমিন্টের প্যাকেট, সংসার আমার জন্য নয় অ্যাটিটিউড এবং পুরুষ ইজ মাই জুতোর বুরুশ গোছের কথাবার্তা - এসবই পাওয়া যেত।
মিতিনের এই কাহিনি কলকাতার চিনে কমিউনিটিকে নিয়ে। এক চিনা স্কলারের মৃত্যু এবং ঐতিহাসিক এক আর্টিফ্যাক্ট লোপাট - এই নিয়েই গল্প। সবটাই লোকাল এরিয়ায়। ভ্রমণ নেই তাই ভ্রমণ বিচিত্রা হয়ে ওঠেনি এই কাহিনি। বরং এই কাহিনিতে চিনাদের নিয়ে যে ইনফো দেওয়া হয়েছে তা পড়ে নলেজ বাড়ল, বিরক্ত হলাম না।
সবচেয়ে বড় অবাক করার কথা অত বছর আগেও মোমো কলকাতার বুকে বিকোত! আমার ধারণা ছিল মোমোর সার্বজনীফিকেশন গত বছর দশেকের মধ্যেই হয়েছিল।
বাংলা সাহিত্যে পুরুষ গোয়েন্দা চরিত্রের আধিপত্য থাকলেও সেই তুলনায় নারী গোয়েন্দা চরিত্রের সংখ্যা অতি নগন্য। সাহিত্যিক প্রভাবতী দেবী সরস্বতীর সৃষ্ট কৃষ্ণা প্রথম নারী গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে ধরা হয়। তবে কৃষ্ণাকে নিয়ে কোন বই না পড়া হলেও বাংলার আরেক নারী গোয়েন্দা চরিত্র মিতিন মাসিকে নিয়ে লেখা উপন্যাসগুলো পড়া হয়েছে। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা মিতিন মাসি সিরিজের গোয়েন্দা গল্পগুলোতে মারপ্যাঁচ খুব বেশী না থাকলেও অতিশয় সুখ পাঠ্য।
ঝাও ঝিয়েনের মৃত্যু কি নেহাতই দুর্ঘটনা? নাকি খুণ এক ম্যাপ এর জন্যে যা কিনা বদলে দিতে পারে সম্পূর্ণ ইতিহাস? সেই রহস্যই উন্মোচিত হয়েছে সুচিত্রা ভট্টাচার্য এর মিতিন মাসি সিরিজের এই কিশোর কাহিনী তে।
পড়াশোনার চাপে পাগলামি করতে করতে এসব বই গিলতে ভাল্লাগে। চিনেম্যানদের সম্পর্কে দারুণ এক গল্প। উঠে এসেছে কয়েকশো বছরের পুরনো ইতিহাস। আমেরিকা কে আবিষ্কার করেছিল?
হটাত দুপুরে টুপুর মানে ঐন্দ্রিলাদের বাসাতে এক চিনেম্যান নিয়ে কুশল হাজির । তার অনুরোধ তার বো মানে চাচা ঝাও ঝিয়েন এর গাড়িচাপা পড়াতা নিছক এক্সিডেন্ট নয়, পেছনে কিছু আছে । ঐদিকে প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায় মানে মিতিন মাসি জাল উইলের কেসে ফেসে আছেন, তো মিস ওয়াটসন টুপুর নেমে পড়ল তদন্তে । মারা যাবারদিন চিনা অধ্যাপক একটা ওয়ালহ্যাঙ্গিং কিনে ফিরছিলেন, যার ঐতিহাসিক মুল্য এক ক্তহাতে চীনে ইতিহাস বদলে দিবে । হালি পানি পাচ্ছে না টুপুর, নাক গলালেন মিতিন মাসী, জানা গেল ওটা ছিল চৈনিকদের তৈরি পৃথিবীর প্রথম ম্যাপ যেটা একেছিলেম মো-ই-টাং। ময়নাতদন্তে সালিক বাচ্চা পাড়ল, ওটা এক্সিডেন্ট নয়, খুন ! মিতিন মাসী কি ঐতিহাসিক ম্যাপটি খুজে বের করতে পারবেন? কে ছিল নিরীহ চৈনিক অধ্যাপক ঝাও ঝিয়েনের খুনী?