প্রতিমা-শিল্প কলকাতার অন্যতম নাগরিক লোকশিল্প। আড়াইশো বছরের পুরনো আমাদের দুর্গাপুজো। অন্যান্য পালাপার্বণের পুজো হয়তো আরও প্রাচীন। আজও এই শিল্পে জড়িয়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের অনেকে প্রতিমাশিল্পী ও কারিগর; অন্যরা কেউ খড় আনেন, কেউ মাটি তোলেন, কেউ বা সরবরাহ করেন প্রতিমার অস্ত্র, বস্ত্র, গয়না, ডাকের সাজ ও মাথার চুল। কাঁচামাল ও উপকরণ নির্মাণের বাজারটি কলকাতার বাইরেও ছড়ানো। মণ্ডপের আলোকসজ্জা ও জাঁকজমকের আড়ালে কয়েকজন নামী শিল্পী ছাড়া সবার মুখই হারিয়ে যায়। কেমন এই মানুষরা? কীভাবে এঁদের জীবন কাটে? কী চোখে এঁরা নিজেদের কাজকে দেখেন? এঁদের ভবিষ্যৎই বা কী? আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর ঋণ ও খরচের চাপে জর্জরিত এই পেশায় এঁদের উত্তরসূরিরা কি টিকে থাকবেন? নানা সামাজিক পরিবর্তন ও আন্দোলন কীভাবে বদলেছে প্রতিমা-নির্মাণের ইতিহাস? বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ প্রতিমা-শিল্পের সামগ্রিকতাকে ধরার চেষ্টায় এই প্রথম বই। প্রান্তিক জনজীবনের এক অনুভূতিমুখর চালচিত্রও। কবি ও গল্পকারের চোখে দেখা খুব কাছের পৃথিবীর এক অন্তরঙ্গ উন্মোচন।
অনিতা অগ্নিহোত্রীর জন্ম কলকাতায়, ১৯৫৬-এর সেপ্টেম্বরে।শিক্ষা: প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর উপাধি পেয়েছেন ইংল্যান্ড থেকে।১৯৮০ থেকে ভারতীয় প্রশাসনিক সেবার সদস্য। ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘স্থানান্তর’ প্রকাশিত হবার পর থেকে ছোটগল্প রচনায় নিয়মিত আত্মপ্রকাশ। লেখিকার কবিতার বই: চন্দন গাছ, বৃষ্টি আসবে, সাঁজোয়া বাহিনী যায়। ছোটদের জন্য লেখা গল্প এবং উপন্যাস: আকিম ও দ্বীপের মানুষ, তিতিরের বন্ধুরা, আকিম নিরুদ্দেশ।গল্পগ্রন্থ: তরণী। দুটি উপন্যাস: মহুলডিহার দিন ও যারা ভালো বেসেছিল।‘তরণী’ গল্পগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন সোমেন চন্দ স্মারক পুরস্কার (২০০১)।
সুললিত গদ্যে লিখিত জানা-অজানা বিচিত্র তথ্যের সমাহার। সবচেয়ে বড় বিষয়: বইটি লেখার জন্য লেখিকা রীতিমতো ফিল্ড -সার্ভে করেছেন, নিকট থেকে অনুভব করেছেন প্রতিমাশিল্পীদের জীবন। এই বিষয়ে যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।