Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমি আবু বকর

Rate this book
ভয়াবহ এক অভিযোগ তুলে নির্যাতন করা হয়েছিল তাকে। বের করে দেওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে। বাঁচার তাগিদে সে একসময় যোগ দেয় নির্যাতকদের দলে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। জেলখানায় প্রিয় বন্ধুর পরিণতি জেনে একসময় মুখোমুখি হয় নতুন জিজ্ঞাসার। ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে তুমি কীভাবে করো স্বাধীনতাবিরোধীদের সংগঠন?’ ‘স্যার, আমি করি না। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে যে শাস্তি দেন মাথা পেতে নেব।’ প্রক্টর স্যার হুংকার দিয়ে ওঠেন।‘কী প্রমাণ চাও তুমি? তোমার ফোন পরীক্ষা করেছে ছেলেরা। অবশ্যই তুমি স্বাধীনতাবিরোধীদের লোক।’ আমি চিত্কার করে উঠি, ‘এসব সত্যি না, স্যার।’ ‘তুমি আমাকে চ্যালেঞ্জ করো! আবার তোমার এত বড় সাহস, তুমি ফোন করো আমাকে!’ ‘স্যার!’ আমি কেঁদে ফেলি এবার। ‘তাহলে কার কাছে যাব, স্যার?’ তিনি তিক্ত কণ্ঠে পাকিস্তানের নাম বলেন, সেখানে চলে যেতে বলেন। পাকিস্তানের সাথে আমার কী সম্পর্ক, কেন সেখানে যাব, কিছুই বুঝতে পারি না। বিস্মিত হয়ে বলি, ‘কই যাব, স্যার!’ ‘পাকিস্তান! পেয়ারা পাকিস্তান!’ নাটুকে ভঙ্গিতে এটা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। আমি আবু বকর এই সময়ের বিব্রতকর কাহিনি।

136 pages, Hardcover

First published January 1, 2024

Loading...
Loading...

About the author

আসিফ নজরুল

28 books27 followers
আসিফ নজরুল একজন ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন। আন্তর্জাতিক আইনে পিএইচডি করেন লন্ডন থেকে। এরপর জার্মানি ও ইংল্যান্ডে কিছুদিন কাজ করেছেন পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে। সাংবাদিক হিসেবে একসময় খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বহুল পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর কয়েক বছর ধরে আবার সৃজনশীল লেখালেখি করছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশের অধিক।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (10%)
4 stars
32 (30%)
3 stars
43 (40%)
2 stars
10 (9%)
1 star
9 (8%)
Displaying 1 - 28 of 28 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,756 reviews514 followers
November 5, 2024
ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিয়ে লেখা উপন্যাস। বলে না দিলেও বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলের দোসর ছাত্ররা ছাত্রলীগের সদস্য। এই উপন্যাসের যে ছাঁচ, তাতে গল্প কেমন হবে তা অল্প বুদ্ধি খরচ করেই ফ্ল্যাপ পড়ে বুঝে নেওয়া যায়। আওয়ামী শাসনামলেই বইটা প্রকাশিত হয়েছে, নিঃসন্দেহে দুঃসাহসী প্রয়াস। সমস্যা হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা যা জানি,লেখকের জানার পরিধি ততোটুকুই। কোনো গভীর সত্য উন্মোচিত হয় না। নির্দিষ্ট ছাঁচেই পুরো গল্প এগিয়ে চলে। পার্শ্বগল্প হিসেবে বোনের কাহিনি একঘেয়ে ও বিরক্তিকর। সাবলীল লেখা, একটানে পড়ে ফেলা যায়।
Profile Image for নাহিদ  ধ্রুব .
147 reviews27 followers
October 30, 2024
আসিফ নজরুলের গদ্য যতটা না সরল, তার অধিক তরল। ফলে, পেজ টার্নার হিসেবে বিবেচনা করলেও পড়তে পড়তে একটা সময় পর খুবই ক্লিশে মনে হয়। গদ্যের অবয়ব উপেক্ষা করে সামনে এগুলে দেখা দেয় আরেক সমস্যা.. গল্প অতি চেনা.. যেন পত্রিকা কিংবা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কোন ঘটনার বিবরণ.. যদিও বিষয়বস্তু বোল্ড তবুও লেখকের বক্তব্য কিছুতেই কোন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না , তাঁর তাড়াহুড়োর জন্য.. যেন গল্পে ইতি টানতে পারলেই লেখক এক দীর্ঘ শীত নিদ্রায় যাবেন!

২.৫ / ৫
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
223 reviews43 followers
February 3, 2024
আসিফ নজরুলের গদ্যের তারল্য বেশি, পড়তে আরাম। ছাত্র রাজনীতির যে বিষয়ের তিনি অবতারণা করতে চেয়েছেন তা নিঃসন্দেহে আলোচনায় আসার যোগ্য। আগে আলোচনায় আসত না, সম্প্রতি কয়েকটা ঘটনার কারণে আলোচনায় এসেছে। নইলে তিনি লিখতেন কিনা আমার সন্দেহ আছে।  নামকরণের সাথে উপন্যাসের মাহাত্ম্য এর ঠিক ঠাক মিল খুঁজে পেলাম না। বই পড়ার আগে হালকা পাতলা শুনছিলাম, খলিফা হযরত আবু বকর রা. কে নিয়ে এই বইয়ের কাহিনী। মোটেও সেরকম কিছু না।

বইয়ের শেষ দিকে তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। আসিফ নজরুলের লেখার ভক্তরা পড়তে পারেন।  
Profile Image for Zubayer Ahmed.
98 reviews4 followers
November 10, 2024
বর্তমান সময়ের আলোচিত মুখ আসিফ নজরুল এই উপন্যাসে সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্র সংগঠনটির বিষয়ে যেভাবে লিখেছেন, এবং তা ফ্যাসিজম চলাকালীনই; তা নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ ছিলো।

আসিফ নজরুলের সাবলীল গদ্য একনাগাড়ে পড়ে যাওয়ার মত। কিন্তু কাহিনীতে যেসব ঘটনা উঠে এসেছে সেগুলোর অধিকাংশই কমন ঘটনা। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্ররা এসব অহরহ দেখে ও জানে। ডিপ কোনো ইনফরমেশন বা স্ট্র্যাটেজি তুলে ধরেননি লেখক। আবু বকর এ উপন্যাসের সাহসী ও কর্মঠ চরিত্র। এবং কিছুটা তো দ্বিচারিও। একসময় তার প্রায় বন্ধ চোখ আবারও খুলে যায়, যেতে বাধ্য হয়। কারণ আবু বকর নিতান্ত সাধারণ যুবকই ছিল। আলাদা হয়ে ওঠার রেসে সে নেমেও পুরোপুরি হয়ে উঠতে পারেনি বা চায়ই নাই হয়ত। স্ববিরোধী আবু বকর মনুষ্যত্বের পরিচয় ধরে রেখেছিল শেষ পর্যন্ত।
Profile Image for Nurul Huda.
194 reviews4 followers
May 5, 2025
আওয়ামী রেজিমে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার অনেক নিউজ আমরা পড়েছি।
এই উপন্যাসটিও এমন ই একটি কাহিনী নিয়ে।

কাহিনী সংক্ষেপ :

ছেলেটির নাম আবু বকর। ছাত্রলীগের (লেখকের ইঙ্গিত অনুসারে ছাত্রলীগ ই) ছেলেরা তাকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। তারপর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে আসার সাহস পাচ্ছিল না, অভাবের কারণে মেসেও থাকতে পারছিল না। বাধ্য হয়েই বন্ধু নাহিদের সাথে যোগাযোগ করে। নাহিদ একটি হলের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। নাহিদের আশ্রয়ে আবু বকর আবার হলে উঠে। তারপর থেকে তার লাইফস্টাইলেও পরিবর্তন আসে।
সেও নেতা হয় । এমনকি মজলুম থেকে জালিম হয়ে উঠে । একই কায়দায় ছাত্রদের শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয়। প্রকাশ্যে মারামারির নেতৃত্ব দেয়।

আওয়ামী রেজিমের আমলে এই বইটি প্রকাশিত হয়। যার জন্য আসিফ নজরুলের প্রশংসা করতে হয়। লেখনি তেমন ভালো লাগেনি। তবে সহজবোধ্য।
.
বই : আমি আবু বকর
লেখক : আসিফ নজরুল
প্রথমা প্রকাশন
জানুয়ারি ২০২৪
মূল্য ৩৫০৳
পৃষ্ঠা ১৩৪
০৫/০৫/২০২৫
Profile Image for Jobayer Rahman.
51 reviews24 followers
April 17, 2024
আসিফ নজরুলের কোনো উপন্যাস আমি আগে পড়িনি। উনার যেই লেখা দুটো আগে পড়েছি তাতে বোঝা গেছে উনার লেখার ধরণটা বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করার মতোন! আপনি এক বসাতেই শেষ করে উঠতে পারবেন। আমি উনার লেখার প্রতি এক প্রকারের আগ্রহ বোধ করছিলাম সে থেকেই এবারের মেলায় আমি যে বইগুলো নিয়ে হাইপড ছিলাম তার মধ্যে এটি ছিলো একদম শুরুর দিকে! এই বই নিয়ে আমার আগ্রহ জন্মের আরেক কারণ হলো এর বিষয় বস্তু। আমি সচারাচর এমন ছাত্ররাজনীতি'র বিষয় এর উপর উপন্যাস খুব একটা দেখিনি (তবে এই বিষয়ের উপর অনেক ভালো ভালো বই থাকতে পারে আমার জানানেই!)
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু বকর স্বাধীনতা বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে বেদম পিটুনির শিকার হয়। নির্যাতিত হয় তারই সহপাঠী এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে আবু বকর পরবর্তীতে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে তাকে নির্যাতন করা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনে যোগ দেয়। যে অন্যায় তার সাথে ঘটেছিল বলে একসময় তার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এমনকি জীবন হুমকির মুখে পড়েছিল সেই একই সংগঠনে আবু বকর যোগদান করে।
উপর মহলের নির্দেশে নিরীহ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও স্বাধীনতা বিরোধী ছাত্রসংঠনের সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশে দেওয়া, সরকার বিরোধী ছাত্র সংগঠনের উপর হামলা করে নিজ দলের উপর মহলের কাছে নিজের আনুগত্য তুলে ধরা, আয় নেই তবুও বাইক নিয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করা, পকেটে পিস্তল নিয়ে ঘুরাঘুরি করা হয়ে উঠে তার নিত্যকর্ম। এভাবে ছাত্ররাজনীতির কলুষতার কবলে পড়ে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে, মা-বাবার প্রত্যাশা পূরণে মফস্বল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা আবু বকরের কাছে পড়ালেখা বাদে উপরের সকল কর্মকাণ্ডই মুখ্য হয়ে উঠে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিদ্যমান দুটি প্রধান সমস্যা ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি। আমি আবু বকর উপন্যাসে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ, লেজুড়বৃত্তি, প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নতজানু আনুগত্য, প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং ভিসি কার্যালয় ঘিরে গড়ে তোলা রাজনৈতিক বলয় দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেউলিয়ত্ব প্রকাশ করে। এসব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা সমান আচরণ পান না। রাজনৈতিক দলের শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের জিম্মি করে রাখতে পছন্দ করেন। অনেকটা ক্রিস্টোফার মার্লো রচিত ডক্টর ���স্টাস নাটকের সেই বিষয়বস্তুর মতো। যেখানে সর্ববিদ্যায় পারদর্শী।ফস্টাস ক্ষমতা পাওয়ার লোভে শয়তানের প্রতিনিধির হাতে নিজের আত্মা বিক্রি করে দেন চুক্তিতে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আচরণে অসাম্যের প্রমাণ পাই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু বকর নির্যাতিত হওয়ার পর তার হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের আচরণে। তাদের কাছে সকল শিক্ষার্থী সমান, তবে ক্ষমটতাসীন দলের শিক্ষার্থীরা আরেকটু বেশি সমান! অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদ-পদবী প্রাপ্তির লোভে নিজেদের বিবেক বিকিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হন ক্ষমতাসীন দলের হাতে। 'আমি আবু আবু বকর' বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান গুরুতর ও ভয়াবহ অসুখের দিকে আমাদের নজর খুলে দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আবাসিক হলগুলোতে হলো ছাত্র নির্যাতন। উপন্যাসের কথক আবু বকর, তার বন্ধু নাহিদসহ অন্যান্যরা অস্তিত্ব রক্ষার দৌড়ে আপাত দৃষ্টিতে সফল হলেও মিনহাজ নামের একজন ছাত্রকে জীবন দিতে হয় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে এসে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো গদির রক্ষার ঢাল হিসেবে শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রেণি বিভাজন তৈরি হয়। সাধারণ, অসাধারণ এবং বিরোধীয় দলের সমর্থক শিক্ষার্থী এই তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে তারা। ছাত্ররাজনীতির বর্তমান চিত্র লেখক তুলে ধরেছেন ছাত্রনেতা নাহিদের বয়ানে। নাহিদের কাছে রাজনীতি মানে হলো, 'জীবনটাই এমন, বুঝেছ? মার দেবে না হলে মার খাবে। এটাই পলিটিক্স।" এতো কিছুর পরও বলবো লেখক তার লেখনী দিয়ে আমাকে আগের মতোন তার লেখায় জাপটে ধরতে পারেননি! এই বইটা কখনোই রেকমেন্ডেড বই হিসেবে থাকবে না! তবে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কোনো ছোটখাটো উপন্যাস পড়তে চাইলে হাতে নিয়ে দেখতে পারেন!
Profile Image for Siam.
43 reviews
March 9, 2025
বইটা আওয়ামী আমলে পড়া হয় নাই। গত ছয়মাসের আবহে আওয়ামী আমলের কথা প্রায় ভুলে যাচ্ছিলাম। অন্তত ক্যাম্পাসের আলাপ। নিজের কথা বলি, একবার চবিতে লাইব্রেরির সিঁড়িতে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের গ্রুপফটো তোলা দেখতেছিলাম। এদের একেকটা চেহারা ছিলো বিভৎস রকমের। মেজাজ খারাপ। ভার্সিটির এই হাল অনেকদিন ধরে মন খারাপ করাইছিলো।
বইটা সেই সময়ের একটা রিড দিলো, যেহেতু আগে পড়ি নাই। বীভৎস আমলের কথা শুনতে পাচ্ছিলাম, আর মনে দুঃখ সবাই ভুলে গেলো বোধহয়।

লেখকের টোন একগুঁয়ে স্মৃতিকথা টাইপ। সাবলীল কিন্তু চরিত্র ডিপ না। সবচেয়ে বড় কথা, শিবিরের জন্য সামাজিক সিমপ্যাথি সবসময় ছিলো তিনি সেইটারে ট্যাবু হিসেবে দেখাইলেন, বকর থেকে মানুষজন দূরে সরে যাচ্ছে। বোনের চরিত্র নিয়ে দুটো পার্ট লেখার সাহস তিনি করতেই পারতেন।
Profile Image for Parvez Alam.
321 reviews12 followers
March 19, 2024
বইটা অনেক আশা করে কেনা ছিলো ২টা কারনে, একটা ছিলো আসিফ নজরুলের লেখা আগে পড়া হয় নাই আর দ্বিতীয় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্যাতন নিয়ে লেখা এর জন্য। কেউ যদি কোন জানা জিনিস নিয়ে খেলে তার অনেক সাবধান থাকতে হয় লেখার সময় যেনো পাঠিকের ধৈর্য্য বিচ্যুতি না হয় বা পড়তে পড়তে এক না চলে আসে। বইয়ের কাহিনীটা আমাদের জানা, এমন অনেক কাহিনী আমারা পেপার পত্রিকারতে পড়েছি দেখেছি কিন্তু আমার কাছে মনে হয়ছে লেখক সেই ভাবে মজা দিয়ে লিখতে পারে নাই আমার মাঝে মাঝে ধৈর্য্য বিচ্যুতি হয়েছে, মনে হয়ছে শুধু পেজ বাড়ানোর জন্য লেখা, থ্রিল পাইনি বইয়ে। কিছু কিছু আবার খাপ ছাড়া লেগেছে এর মাঝে যদি বলি একটা "আবু বকর মাইর খেয়ে হাসপাতালে, তার সাথে তার মোবাইল নাই এর জন্য নার্সের থেকে মোবাইল নিয়ে তার বন্ধু মিনহাজ কে ফোন দেয়। সেই বন্ধু ফোল রিসিভ করেই বলে কি বন্ধু কেমন আছো?" অপরিচিত একটা নাম্বার সে কি ভাবে বুঝলো এইটা আবুবকরের নাম্বার। যাইহোক সবার সব কিছু ভালো লাগবে তেমন কোন কথা নাই। পড়ে দেখতে পারেন কেমন লাগে, আপনার কাছে ভালো লাগতেও পারে।
Profile Image for Sharmin Sultana  Shamoly.
90 reviews26 followers
Read
July 26, 2025
হাসিনার সময়ে পড়লে হয়তো ভালো হতো। এখন ম্যাড়মেড়ে লাগলো৷
Profile Image for Imtiaz Muhammad.
95 reviews
July 27, 2025
গল্পের ন্যারেটর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার নাম আমরা প্রচ্ছদে দেখলেও বইয়ের কোথায় দেখবো না আর। একদম শেষে গিয়ে দেখবো তার নাম আবু বকর।
মফস্বল শহরের মেধাবী ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় ৩৭ তম স্থান অধিকারী ছেলেটা একদিন বেদম মার খেয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে৷ তার কি দোষ সে জানে না। শুধু একটি ট্যাগ লেগে যায়৷ শিবির সন্দেহে মাইর খাওয়া আবু বকর বেচে থাকে৷ লড়তে থাকে৷ সবার সাথে নিজের সাথেও। নিজের সাথে এই লড়াইয়ে একদিন হেরে যায়। মাইর খাওয়া ছেলেটাও একদিন দানবে পরিণত হয়৷ এখন সেও ছাত্রদের মেরে বেড়ায়৷ নিজের উপর থেকে ট্যাগটা সরাতে হবে৷ হলে সিট পেতে হবে৷ পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হবে৷ ক্ষমতাসীনদের সাথে চলতে চলতে একদিন সে হাপিয়ে উঠে৷ সবকিছুই পায় কিন্তু একদিন আটকে যায় বিবেকে৷ এভাবেই কি এই চক্র চলতে থাকবে? শিবিরসন্দেহে ছাত্রদেরকে মারা, ক্ষমতার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিরপরাধ ছাত্রদেরকে মারা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি করা তার ভালো লাগে না৷ সে তার মফস্বলের ভালো ছেলেটি হয়ে থাকতে চায়৷ যে ছেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার খবর পেয়ে আনন্দিত পিতা খবরের কাগজ খুলে বসেছিলেন তার ছেলের ছবিটা এসেছে কিনা। ছেলের খবর পত্রিকায় কয়দিন পর এসেছিল--- শিবির সন্দেহে মাইর খেয়ে হাসপাতালে পড়ে থাকার খবর৷

আবু বকর অনেক কিছু হারায়৷ তার কলেজ জীবনের ভালো লাগার মেয়েটিকে। মিথিলা--- যাকে অংক করাতে গিয়ে চুপিসারে চুমু খেয়েছিল একদিন।
হারায় বন্ধু মিনহাজকে। জঙ্গী সন্দেহে যে মারা যায় রিমান্ডে মাইর খেয়ে৷
বিনিময়ে পেয়েছিল একটি অনিয়ন্ত্রিত অস্বাভাবিক জীবন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জীবন হওয়ার কথা ছিলো আরো সাজানো৷ সে জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলে ক্ষমতাসীন ক্যাডাররা৷ সন্দেহে মাইর দেয়াই যাদের একমাত্র কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই দ্বাদশ শ্রেণীতে বইটি পড়ে ফেললাম৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হলে হয়তো চোখের সম্মুখে দেখবো এইসব ছাত্ররাজনীতির অন্ধকার দিকগুলো।
Profile Image for The BIG Zero.
73 reviews
April 17, 2024
3.5

কেন জানি নিজের সাথেও খানিকটা মিল পেলাম।


প্রথমা'র উচিত ফণ্টের সাইজ, কভার পেজের সুন্দর পরিবেশন। বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশ করতে গিয়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছে তারা। অন্য প্রকাশনী খুব সুন্দর কাজ করে এমন উদাহরণে তাদের সেলসওম্যান তর্কে জড়িয়েছে, যেটা হাস্যকর।
Profile Image for Rehnuma.
466 reviews23 followers
Read
April 2, 2024
❛মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পাবলিকে টিকার যু দ্ধে জয়ী হওয়ার পর যখন ভাগ্য গণরুম নামক বিভীষিকায় পতিত হয় তখন বলতে হয়,

ইতা আমি কিতার মধ্যে সময় দিলাম!❜

কা ম লা র মতো খেটে লেখাপড়া শেষে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনেকেই সাত আসমানে উঠে যায়। এরপর সেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের রা জ নী তি নামক পেষণ যন্ত্রের নিচে পড়লে সাত আসমান কখন যে দো য খে র অনুভূতি দেয় বুঝতেও পারে না কেউ।

গরীব ঘরের মেধাবী ছেলে আবু বকর প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে ভর্তি হয়েছে। কারো সাতে পাঁচে নেই, শুধু লেখাপড়ায় গুঁজে থাকা নিরীহ ছেলেটার এমন কী দোষ ছিল যে গণরুমে নিয়ে তাকে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সুযোগ না দিয়েই অকথ্য নি র্যা ত ন করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলো?
বকর নিজেও জানে না। খালি শুনছে তাকে নাকি শি বি র সন্দেহে এরকম বেধড়ক পে টা নো হয়েছে। কিন্তু আদতে সে তো এমন নয়। শান্ত জীবন একটা ঘটনায় বদলে যায় তার। ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত, থাকার জায়গার অভাব আর ভয় মিলেমিশে দূরহ অবস্থায় পতিত হয় সে।
কিন্তু জীবন তো এভাবে চলবে না। টিকে থাকতে সেও একসময় ক্যাম্পাসের ক্ষ ম তা সী ন সংগঠনের দলে নাম লেখায়। এককালে মা র খাওয়া বকর একই কারণে অন্য ছাত্রদের পে টা য়। পে টা নো র উপহারস্বরূপ পায় দলের উপ-দপ্তরের নেতার পদও।
মোটরসাইকেল, কোমরে পি স্ত ল, পকেটে টাকা নিয়ে ঘুরা বকরের জীবনে মিথিলা, এষা, নিম্মির মতো নারী ছিল। এদের কাউকে সে ভালোবাসতো কিনা সেটা মহাকাল জানে। সময়ের সাথে এদের কেউ কেউ জীবনে এসেছে গেছে।
রাজনীতি কিংবা এর নামে অপব্যবহারকেই এখন মূল হিসেবে দেখা হয় সেটা যে দলই হোক না কেন। ক্ষমতাই মূল এখানে। বকরও অন্ধের মতো সে পথেই ছুটছিল। ছোটায় বাঁধা পড়লো তার বন্ধু মিনহাজের ঘটনা শুনে। একই ঘটনায় দুজন নি র্যা তি ত হয়েছিল। বকর উঠে এসেছে কিন্তু পিছলে গেছে মিনহাজ।
সুন্দর কোমল স্বভাবের মিনহাজের কী অপরাধ ছিল? পাঞ্জাবি, দাড়ি, বসে পানি পান আর ধীরে খাওয়া নাকি সময়মতো মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়াই তাকে একটা নির্দিষ্ট সংগঠনের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যৌক্তিক? যৌক্তিকতার ধার ধারে না। এমন কত মিনহাজ প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে এসে হারিয়ে যায়। আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে এরা ভর্তি হয় আর গণরুমে কিংবা হলের কোনো নির্জন কোণে এদের শেষ পরিণতি হয়।
অন্যায় হয়, তাতে সঙ্গ দেয় কর্তৃপক্ষই। বিচারের নামে প্রহসন, লোক দেখানো আচার করেই শেষ। দাপট টিকিয়ে রাখতে কত কী ঘটে যাকে ❛শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থ❜ হিসেবে নাম দেয়া হয়।
বকরও এমন এক চক্রে পড়ে। মাঝখানে মাসরুর ভাই কিংবা মিনহাজের মতো বন্ধুর কথা তার বিবেককে জাগ্রত করে। কিন্তু যেখানে সিস্টেমেই পচন ধরা সেখানে এক দুইজনের কথা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
বকর, বকরের মতো হাজারো শিক্ষার্থী এই পচনের মধ্যে বাস করে, সামনেও করবে।


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝আমি আবু বকর❞ আসিফ নজরুলের লেখা অতি সাহসিক এক উপন্যাস। টক শোতে দেখে চেনা এই ব্যক্তি সম্পর্কে ধারনা আছে বলেই জানি এমন লেখা এমন সময়ে লেখার গাটস উনারই আছে। লেখকের লেখার ধরন বা গল্প বলার ধরন যেমনই হোক না কেন তার লেখাগুলোয় সমাজ, সিস্টেমের জং ধরা দিকগুলো পূর্ণিমার চাঁদের মতো আলো পায়।
এই উপন্যাসের সাহিত্য মান কী, কতটুক সেটা আমার মনে হয় বিবেচ্য না। পরীক্ষা বয়কট করে দাবি আদায়, শাহবাগী, আল্লাহ্ উইল আন্ডারস্ট্যান্ড, বটবৃক্ষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই সময়ে লেখক যে বিষয়কে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখেছেন তা একদম খাপে খাপ মিলে গেছে। নির্দিষ্ট একটা দল আর বিরোধী দলকে নন্দ ঘোষের মতো দোষারোপ করার যে সংস্কৃতি বা বলা ভালো রাজনীতি লেখক সেই বিষয়টা এত নিদারুণভাবে তুলে এনেছেন জা প্রশংসার যোগ্য।
আবু বকর চরিত্রের জবানীতে পুরো উপন্যাস এগিয়েছে। তার জবানীতেই নাহিদ, মিনহাজ, মাসুরুর, আব্বাস, রাফি চরিত্রগুলো জীবন পেয়েছে। মেলে ধরেছে তাদের বৈশিষ্ট্য। সাধারণ জীবনে আসা ঝড় থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিভিন্ন অধ্যায়ে তাল মিলিয়ে লিখেছেন। কঠিন এই বিষয়ের মাঝে বাস্তবতার প্রলেপ হিসেবে একটু ফ ষ্টি ন ষ্টি রও আশ্রয় নিয়েছেন লেখক। নিজেকে নোংরা ভাবে বিলিয়ে দেয়ার মাঝে যে স্মার্টনেসে এ যুগের নারী-পুরুষ আক্রান্ত তার একটা চিত্র উপন্যাসে এসেছে। উপন্যাসের দুর্বল দিক হলেও গল্পের খাতিরে প্রয়োজনীয়।
গণরুম, ছাত্র রাজনীতির নামে যে ভয়াবহতা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে হয় তার লোমহর্ষক বর্ণনা লেখক দিয়েছেন সেটা প্রশংসা করার যোগ্য না এই বর্ণনায় দুঃখবোধ করা দরকার সেটা বাছাই করা অসাধ্য। লেখক নিজেও তথাকথিত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং শিক্ষক হওয়ায় ভেতরের কলকব্জার খবর ভালোই জানেন। জানেন বলেই নিখুঁত এবং জীবন্ত বর্ণনা করেছেন।
এই উপন্যাসের ভাষা একেবারে গদ্য রচনার মতো না। অন্তত আমার তাই মনে হয়েছে। কোথাও একটু ভাবাবেগ বা বলা যায় ছন্দের আকারে লিখেছেন (সঠিক শব্দটা মনে করতে পারছি না!)। সরল তরল ভাষার সাথে কোথাও বর্ণনা কঠিন লেগেছে আবার একটু বিরক্তও লেগেছে। শেষটা তাড়াহুড়ো লেগেছে। যদিও এমন পটভূমির উপন্যাসের শেষে সবাই হ্যাপিলি এভার আফটার হবে এমনটা আশা করা বাতুলতা। তবুও কিছুটা খামতি ছিল,অপূর্ণতা ছিল।
গল্পটা সত্যের কাগজে মোড়ানো, যেখানে গুরুভাগই ছিল বিস্বাদের উপস্থিতি। বিস্বাদের মাত্রা মনে হয় ছাড়িয়ে গেছিল মিনহাজের ঘটনায়। এরকম বাস্তব চরিত্রের নাম হয়তো এখনো আমাদের মনে আছে।
বর্তমানের সাথে তুলনায় এই উপন্যাস মনে করি সকলের পড়া উচিত।


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

প্রথমা প্রকাশনীকে আমি চৌধুরী সাহেব জাতীয় প্রকাশনী হিসেবেই জানতাম। কিন্তু তাদের টাকার এত অভাব কেন বুঝলাম না। সুন্দর প্রচ্ছদের বইটার উপরে যাকে আমরা জ্যাকেট নামে চিনি তাকে টিস্যু কভার হিসেবে উৎপাদন করার কারণ কী আমার জানা নাই। এত পাতলা কাগজ শেষবার আমি ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার উত্তরপত্রে পেয়েছিলাম।
পেইজগুলো ও সাইজ জিরো ফিগারের। এটা প্রথমার বই বিশ্বাস করতে আমার এখনো কষ্ট হচ্ছে।

❛ভাবতে কেমন লাগে না, হাজারো স্বপ্ন নিয়ে পড়তে এসে কেউ কেউ মিছে অপবাদে হারিয়ে যায় মহাকালের অতলে। আবার কেউ শিকারি হয়ে ওঠে। কেউ দুঃখিনী মাতার কষ্ট দূর করবে এই আশায় এসে মায়ের আজীবনের হাহাকারের কারণ হয়ে দাড়ি টানে।
কী অদ্ভুত!❜
Profile Image for Rifat Ridwan.
80 reviews7 followers
March 13, 2024
৩.৫/৫

আজ সকালে পড়লাম 'আমি আবু বকর'। আর ঠিক দুপুরেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের 'প্রোডাক্টিভ রমাদ্বান' শীর্ষক মজলিসে ক্ষমতাসীন দলের কতগুলো জানোয়ার নৃশংস হামলা চালায়। এর ফলে গুরুতর আহত হয় আইন বিভাগের ৩-৪ জন শিক্ষার্থী। কারো থেতলে যায় মুখ, কারো ছিলে যায় হাত কিবা পা, ছিঁড়ে ফেলা হয় গায়ের পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট, কয়েকজনের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় স্মার্টফোন। সকালবেলা যে কাহিনি কালো হরফের বইয়ে পড়লাম বিকাল হতে না হতেই সেই কাহিনির বাস্তব রূপ দেখতে পেলাম স্বচক্ষে। সকালবেলা যে কাহিনি কালো হরফের বইয়ে পড়লাম বিকাল হতে না হতেই সেই কাহিনির বাস্তব রূপ দেখতে পেলাম স্বচক্ষে। ব্যাপারটা বেজায় অদ্ভুত কিন্তু খুবই সাধারণ।

আসিফ নজরুল স্যার 'আমি আবু বকর' উপন্যাসটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন হতভাগা শিক্ষার্থীর কাহিনি ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে পঁচতে থাকা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। ঠিক এজন্যই তিনি বইটি উৎসর্গ করেছেন গণরুমের ছাত্রদের। বইটিতে আবু বকর চরিত্রের আড়ালে এমন একজন শিক্ষার্থীর কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে যে শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট না থাকা সত্ত্বেও এ অপরাধে ছাত্রলীগের মানুষরূপী পোষা কুকুরের দলের কাছে যুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়। পর্যায়ক্রমে নিজের পিঠ বাঁচাতে সে নিজেই পরিণত হয় ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মীতে। সময়ের পালাবদলে একদিন তার খুবই কাছের একজন বন্ধু অমানুষিক নির্যাতনের কারণে মারা যায় জেলে; যাকে কিনা ছাত্রলীগের কতিপয় জানোয়ার জঙ্গি বলে তুলে দিয়েছিলো পুলিশের হাতে। ঠিক এ ঘটনার পর আবু বকরের চিন্তা-চেতনায় আমূল পরিবর্তন হয়, ভীরুতা কাটিয়ে সে পরিণত হয় একজন বিদ্রোহী সত্তায়। শ্যালকের রেইনকোট পরার কারণে ঠিক যেভাবে সাহসী হয়ে উঠেছিলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদা।

বর্ণনাজনিত ত্রুটির কারণে উপন্যাসটির কিছু কিছু জায়গায় মনোযোগ ধরে রাখা আমার জন্য একটু কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। উপন্যাসটির কোথাও কোথাও এমন কিছু শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে যা না করলেই বরং ভালো হতো বলে মনে হয়েছিলো আমার। তাছাড়া, কখনো সখনো মনে হয়েছে যে লেখক উপন্যাসের কলেবর বাড়ানোর জন্যই শুধু শুধু উপন্যাসটি দীর্ঘায়িত করেছেন। তিনি চাইলেই এগুলোর বদলে গণরুমের শিক্ষার্থীদের আরো নানাবিধ দুর্দশার কথা অনায়াসেই তুলে ধরতে পারতেন। অধিকন্তু, উপন্যাসের সমাপ্তিটা 'ডেড এন্ড'-এর মতো মনে হয়েছে আমার। লেখক চাইলেই সমাপ্তিটা আরো সুন্দর করতে পারতেন।

সর্বোপরি, সাহিত্যকেন্দ্রিক সমালোচনাকে আলোচনার বাহিরে রাখলে 'আমি আবু বকর' উপন্যাসটিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর দুর্বিষহ জীবনের কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে।
Profile Image for Md.Shafiul Farabi.
14 reviews1 follower
July 25, 2025
আওয়ামী দু:শাসনের একটা দলিল এটাকে বলাই যায়।ক্যাম্পাসে ছাত্র লীগের দৌরাত্বের শতভাগ প্রতিচ্ছবি।বইটির কোথাও বলা হয়নি এটা ছাত্রলীগ ও শিবির এর রাজনীতি নিয়ে লেখা কিন্তু বোঝা যায়।বইটি হাসিনা দেশ থেকে পালানোর কয়েকমাস আগে পড়েছিলাম সেই পরিস্থিতির সাথে পুর্ন রিলেট করে পড়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমান আইন উপদেষ্টা ও তৎকালীন অধ্যাপক আসিফ নজরুলের লেখা আমার পড়া প্রথম বই এটি,অনেক সুন্দর করে লিখেছেন, ফুটিয়ে তুলেছেন চরম বাস্তবতা। আওয়ামী লীগ আর ছাত্রলীগের ১৫ বছরের দু:শাসনের ইতিহাস যারা দেখেছে কেউই ভুলবে না।
Profile Image for Abdul Ahad.
65 reviews
April 22, 2024
সাদামাটা রচনা। এক বসায় শেষ করা যাবে। প্রেক্ষাপট - বিশ্ববিদ্যালয়ের কলুষিত ছাত্র রাজনীতি। পুরো গল্পটা উত্তম পুরুষে বর্ণিত কিন্তু কোথাও কথকের নাম নেই, একদম শেষে নাম বলা হয়েছে। আরো কয়েকটা বিষয় বেশ অস্পষ্ট রেখেছেন লেখক। যেমন কথক এর বাড়ি ঢাকার পাশে ছোট্ট একটি শহরে, এই কথাটা অনেকবার বলা হলেও শহরের নাম বলা হয়নি, যেটি পাঠককে বেশ ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছে। তেমনি কথক কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ে সে বিষয়ে পাঠকের বেশি কৌতূহল জাগ্রত হয়েছে।
পুরো বইটির মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে (হয়তো কষ্ট) মিনহাজের মৃত্যুর বর্ণনাটা।
এটাই আমার পরা আসিফ নজরুলের প্রথম বই।
Profile Image for Nasim Bin Jasim.
116 reviews4 followers
July 26, 2024
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে যারা থেকেছেন তারা খুব সহজেই এই বই এর কাহিনী সহজেই বুঝতে পারবেন । এছাড়া রাজনীতিতে যূক্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্য যেমন দূরুত্ব বাড়ে সেই সাথে পড়িবর্তন হয় মনমানসিকতার । একজন মেধাবী ছাত্রের তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কাহিনী এখানে আছে । খুবই সুখ পাঠ্য বই এটি ।চলমান ছাত্রআন্দোলনের মধ্যে এই বইটি পরে ফেলেছি ।
আসিফ নজরুল স্যার একজন গুণী লেখক ।
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books82 followers
August 17, 2024
বিশ্ববিদ্যালয়ে হলকেন্দ্রিক রাজনীতি কীভাবে চলে, সে সম্পর্কে ধারণাটা মোটামুটি থাকবার কারণে বইটা পড়তে বেশি ভালো লেগেছে।
কিছু কিছু বিষয় অপ্রাসঙ্গিক। এগুলো আনবার কোনো দরকার ছিলো না। বইটার ভার কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এই অপ্রাসঙ্গিক ব্যাপারগুলো।

শোষিত থেকে ধীরে ধীরে শাসক হয়ে ওঠবার একটা গল্প আমি আবু বকর- এটা বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবে না।
Profile Image for Mila Hossain.
75 reviews2 followers
December 9, 2024
না কখনো public uni তে পড়ার ইচ্ছা ছিলো, না কখনো public এ পড়ার result ছিলো। বইটা পড়ার পর আবারও মনে হয়েছে এই মনোভাবটা আমার ভুল ছিল না। বইটা এক নাগাড়ে পড়ে ফেললাম। আসিফ নজরুলের পড়া এটাই আমার প্রথম বই। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে সাহস লাগে, সেই সাহস তার আছে। আহামরি কোনো গল্প না, তবুও বাস্তব সম্মত ।
Profile Image for Raita Romisha.
11 reviews1 follower
January 23, 2026
লেখক দুঃসাহস দেখিয়েছেন বটে। যে সময়ের লেখা, সে সময় এত সাহস কারো ছিল না। গল্প অতি চেনা, কি হবে কি হচ্ছে বোঝা মোটেও কঠিন ছিল না। সে ক্ষেত্রে আমি বলব আহামরি ছিল না। গল্প আমাকে বইয়ের পাতায় আটকে রাখেনি। তবে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে অবশ্যই।
Profile Image for Tamim Foysal.
21 reviews
February 16, 2024
প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অন্ধকার দিক নিয়ে লেখা
Profile Image for Nakib Hasan.
56 reviews1 follower
February 24, 2024
সাহিত্যমূল্য বিচারে হয়তো লেখাটা হাজার বছর টিকে থাকার মতো কিছু নয়, তবে বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে এটা লেটার মার্কস পেতেই পারে...
Profile Image for rarereads_ Nuary.
100 reviews
February 29, 2024
. এ বই পরার পর ছাত্র রাজনিতির অনেক না বলা না জানা বাস্তব সত্য জানতে পারলাম।
Profile Image for TAWFICK.
9 reviews2 followers
Read
March 15, 2024
সাহিত্যের মান বিচারে আহামরি কিছু না, কিন্তু একটা সময়কে ধারণ করেছে বইটা। সে হিসেবে দলিল হয়ে থাকবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Tanzila.
24 reviews35 followers
July 27, 2024
খুবই সময়োপযোগী একটা উপন্যাস। আফসোস হচ্ছে কেন আরও আগে শেষ করিনি এবইটি। আসিফ নজরুলের লেখা খুব ঝরঝরে, এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটা বই।
Profile Image for Mishuk Rahman.
89 reviews2 followers
August 14, 2024
সম্পুর্ন বাস্তব ঘটনাকে নাম পরিবর্তন করে ক্যারেক্টর গুলো লেখা।
Displaying 1 - 28 of 28 reviews