What do you think?


কখনো আমার মাকে
আমাদের ছোটমার কথা মনে হয়। বড়মার কথা মনে হয়। লাভলির কথা ভেবে আমরা উদাস হই। ছোটলুর কথা ভেবে আপনমনে হাসি। আর বাবার কথা ভেবে আমরা মন খারাপ করি। একটা-দুটো কথার পর আমরা তাই কথা বন্ধ রাখি। ওদের মা কখনো গান করেননি কেন? মাকে ওদের মনে পড়ে না। শুধু চরাচর ভেঙে যখন জ্যোত্স্না নামে, তখন মায়ের শাড়ির আঁচলের গন্ধ পায় ওরা। টিনে ছাওয়া বাংলো ধরনের বাড়ি, বাড়ির সামনে বাগান, কাঁটামেহেদির বেড়া, কামিনী ফুলের পাগল-করা গন্ধ—এ-ই ছিল সত্তরের দশকের মফস্সল শহরগুলো। তেমনই এক শহরে দুই মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল চার ভাইবোন। চোরকাঁটাভরা মাঠে খেলা, বৃষ্টিতে তুমুল ভেজা শৈশব। টিউবওয়েলের নিচে গোসল, কয়লা দিয়ে দাঁত-মাজার শৈশব। কিন্তু ওদের মুক্তিযোদ্ধা বাবা সরকারি চাকরি হারান অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করার অপরাধে। কারাগারে যেতে হয় বাবাকে। বড় ভাই বাবুল সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন নিজের ভবিষ্যত্ বিসর্জন দিয়ে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়াবহ সংবাদ দেন ছোটমা, হাসপাতালে শেষ শয্যায়। জানিয়ে যান, কেন মা কখনো গান করেননি। কে তাঁর কণ্ঠ থেকে গান নিংড়ে বের করে নিয়েছিল!
200 pages, Hardcover
First published February 1, 2024
About the author
Anisul Hoque
313 books174 followersAnisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
Also: আনিসুল হক
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
Also: আনিসুল হক
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 14 of 14 reviews
March 1, 2024
"তারাগঞ্জে ফাল্গুন মাসের রাত অসহ্য রকমের সুন্দর। নির্মেঘ আকাশে চাঁদের কুসুম ফেটে যায়, জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, উছলে পড়ে আলো। চাঁদের বিপরীতে শিমুলগাছের ফুল, ন্যাড়া ডালপালা কালি-কলমে আঁকা স্কেচ বলে মনে হয়। নিচের বাগান থেকে আসে হাসনাহেনার গন্ধ। দূরে কোনো এক নাইটগার্ড বাঁশের বাঁশি নিয়ে বসেছে, চাঁদের আলোর বিষের সঙ্গে বাঁশির সুরের বিষ ধরণিকে বিষাক্ত, উন্মাতাল, পাগলপ্রায় করে ফেলতে চাইছে যেন..."
শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে নেয়া 'কখনো আমার মাকে' নামের এই উপন্যাসের শুরুটা এমনই চমৎকার। আমি যখন পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে বসেছি, ততদিনে এই বইয়ের দশম মুদ্রণ বেরিয়ে গেছে। অভিজ্ঞ, অগ্রজ লেখক জোর গলায় দাবী করে ফেলেছেন, 'বাংলাদেশে আসলে তেমন কোন লেখক নেই'। ফেব্রুয়ারি জুড়ে অসংখ্যবার অগণিত তারকার হাতে বইটা দেখা গেছে, দেশের প্রথমসারির পত্রিকায় বিজ্ঞাপিত হয়েছে বেশ কয়েকবার। বহুবার করে বলা হয়ে গেছে শৈশবের নস্টালজিয়ায় মোড়ানো মায়ের স্মৃতিচারণার গল্প 'কখনো আমার মাকে।' ঝলমলে প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দেয়ার সময় লেখক হাসিমুখে বলেছেন: "আমরা যারা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতাম, পিঁপড়া খেয়ে সাঁতার শিখতাম, সাইকেলের সিটে ডান বগল রেখে রডের নিচ দিয়ে পা ঢুকিয়ে সাইকেল চালাতাম, স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে স্কুল যেতাম, আমরা যারা হাঁসকে সন্ধ্যায় ডাকতাম তই তই তই, আমরা যাঁরা রান্নাঘরে পিঁড়িতে বসে টিনের থালায় ভাত খেয়েছি, ঢাকায় এসে টিউশনি করেছি—তাদের গল্প 'কখনো আমার মাকে'।
এই মায়ার বশেই বইটা হাতে নেয়া। কয়েক পাতা উল্টোতেই আবার চোখে পড়ে :
"ফুলপুর পাইলট হাইস্কুলের মাঠটাকে আমরা ভাবতাম তেপান্তরের মাঠ। মাঠের দুপাশে কাঠের গোলপোস্ট ছিল, বোধ হয় শালকাঠের, শুকিয়ে লোহার আকার পেয়েছিল; সেই ইস্পাতকঠিন গোলপোস্টের গায়েও শেওলা জমে থাকত সবুজ হয়ে। আমাদের শৈশব ছিল বৃষ্টিভেজা, পুরো ধরিত্রী ছিল উর্বরা; বীজ লাগাতে হতো না, চারদিকে গজিয়ে উঠত গাছ; গাছগাছড়ার সবুজে ঢাকা ছিল চারপাশ; রাস্তার দুধার, খালের ভেতর-বাহির; ভবনের গায়ে গাছ, বট-পাকুড়; টিনের চালে, গুদামঘরের দেয়ালে শেওলা, ফার্ন, ঢেঁকিশাক। আমাদের পুকুরগুলো, পগারগুলো সবুজে ঢেকে থাকত; কখনো কচুরিপানায়, কলমিলতায়, শাপলার পাতায়, শালুকের বিস্তারে; কখনো নাম না জানা এক ধরনের সবুজ ভাসমান পাতায়; শেওলার স্তর পানিকে ঢেকে রাখত নিবিড়ভাবে, সবুজ গালিচার মতো; এমনভাবে থাকত যে কেউ সবুজ মাঠ ভেবে সেই পগারে বা গাড়ায় পা রেখে ডুবে যেতে পারত; তা অবশ্য কখনো ঘটতে দেখিনি। পুকুর-ডোবা আর রাস্তার দুধারের গর্ত ঢেকে থাকত, ছেয়ে থাকত কচুরিপানা কিংবা ঢোলকলমির বেগুনি ফুলে, হেলেঞ্চা- হোগলা-কলমিলতা-বিষকাটালির ঝাড়ে..."
আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। গল্পের জগতে ডুবে যাই। টিনে ছাওয়া বাংলো ধরনের বাড়ি, বাড়ির সামনে বাগান, কাঁটামেহেদির বেড়া, কামিনী ফুলের পাগল-করা গন্ধ—এ-ই ছিল সত্তরের দশকের মফস্বল শহরগুলো। তেমনই এক শহরে দুই মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল চার ভাইবোন। বিশুদ্ধ স্মৃতিচারণ। গল্পের কথক বয়সে সবচেয়ে ছোট; সাত বছর, ক্লাস টু'র ছাত্র। বাকি দুই ভাইয়ের একজন ক্লাস ফাইভ আর একজন ক্লাস ফোরে পড়ে। হারানো দিনের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে প্রশ্ন জাগে, ওদের ছোটমা এত কাঠখোট্টা কেন? সন্তানদের প্রতি এত আবেগ, এত আদর পুষে রেখেও কেন তিনি এতো বেশি শৃঙখলার বেড়াজালে বাঁধতে চান? কখনো কেন মাকে গান গাইতে দেখা যায় না?
চোরকাঁটাভরা মাঠে খেলা, বৃষ্টিতে তুমুল ভেজা শৈশব। টিউবওয়েলের নিচে গোসল, কয়লা দিয়ে দাঁত-মাজার শৈশব। বিভিন্ন পরীক্ষায় আরাধ্য সাফল্য ছিনিয়ে আনে ভাইবোনগুলো। গল্প এগোয় নদীর শান্ত স্রোতের মতো, হঠাৎ একদিন বেজে ওঠে ভাঙনের সুর। ওদের মুক্তিযোদ্ধা বাবা সরকারি চাকরি হারান অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করার অপরাধে। কারাগারে যেতে হয় বাবাকে। বড় ভাই বাবুল সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন নিজের ভবিষ্যত্ বিসর্জন দিয়ে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়াবহ সংবাদ দেন ছোটমা, হাসপাতালে শেষ শয্যায়। জানিয়ে যান, কেন মা কখনো গান করেননি। কে তাঁর কণ্ঠ থেকে গান নিংড়ে বের করে নিয়েছিল!
এত প্রশংসার পরেও বইটা নিয়ে আমার আপত্তি তবে কোথায়? আপত্তি হচ্ছে, মাকে নিয়ে লেখা একটা পরিবারের স্মৃতিচারণায় অনর্থক শরীরবৃত্তীয় আলাপ, যৌনতার আভাস। সাত বছরের বালক যখন পাশের বাড়ির মালতীদির উপুড় হয়ে থাকা শরীরে জামার বড় গলার ভেতর দিয়ে বুকের খানিকটা দেখে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তৎক্ষণাৎ ছাদে উঠে "নরম আতার অস্তিত্ব টিপে টিপে পরখ করে, দাঁত না থাকা সত্বেও চুষে চুষে ভেতরের নরম সাদা ঘন দ্রবণ মুখে নিয়ে শীতল হয়" - এহেন বর্ণণা নি:সন্দেহে অস্বস্তি জাগায়। রান্নাঘরে মামি যখন আদর করে জড়িয়ে ধরে তখন "নাকেমুখে বুকের ওম লাগায় সাত বছরের বালক যৌন অস্বস্তিতে ভোগে এবং রাতের বেলা তার ব্লাউজের বোতাম খুলে স্তন্যদান করার স্বপ্নদৃশ্য দেখে"- সেটাও যথেষ্ট অপ্রাসঙ্গিক এবং কুরূচিপূর্ণ। মুসলমানির পর সেই বালকের "অন্ধকার ঘরে মালতীদির আদরের চুমু পেয়ে ঘরজোড়া ঘামের গন্ধে শিহরণ জাগা" কে অবাস্তব নোংরামি বলে মনে হয়। একইভাবে অপ্রয়োজনীয় মনে হয় তহশিলদার সাহেবের শালার "লুঙ্গি তুলে নুনু নাড়া, অবিচল ভঙ্গিতে নুনু ধরে হ্যান্ডেলিং করা", কিংবা আয়নালের "বুকে মেয়েদের মতো ফোলা ফোলা বোঁটা হচ্ছে বলে গালিয়ে দেয়ার" প্রস্তাব উত্থাপন।
ফিকশনে অশ্লীলতা কিংবা যৌনতার ব্যবহার নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। প্রাসঙ্গিক কিংবা অপ্রাসঙ্গিকভাবে তার অবতারণা ঘটতেই পারে। কিন্তু যে গল্পটা পরিবারের, যে গল্পটা মায়ের, এমনকি যে গল্পের পরিণতিতে স্বল্প পরিসরে অবতারণা ঘটে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের- সে গল্পে উপরের লাইনগুলো যথেষ্ট নোংরাভাবে চোখে ধরা দেয়।
'কখনো আমার মাকে' হয়তো আনিসুল হকের সেরা উপন্যাসগুলোর একটা হতে পারত, দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো সাহিত্যকর্ম হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারতো তারই ক্লাসিক "মা" উপন্যাসের সাথে। অথচ অগ্রজ, বিখ্যাত লেখক হয়ে সদম্ভে "বাংলাদেশে তেমন কোন লেখক নেই" দাবী করে, তার ওপর এই বস্তু লিখে তিনি আমাকে হতভম্ব করে দিলেন। আরও হতভম্ব করলেন ফেসবুক পোস্টের কোন এক কমেন্টে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাস্যকর জবাব দিয়ে: "আমি আমার বেড়ে ওঠার সময় বিছানা ভেজানোর কথা কাউকে বলতে পারিনি। অসহায় লাগত। এখন এগুলো স্কুলপাঠ্য। ছেলেমেয়েরা জানুক, এটা কোনো সমস্যা নয়।" অথচ এই বইটা অনেকেই নিজের মাকে উপহার দিচ্ছে, আবেগতাড়িত হয়ে হাতে তুলে দিচ্ছে পড়ার জন্য। আমি নিজেই অন্তত বিশজনকে দেখেছি। এই প্রসঙ্গে লেখক কী জবাব দেবেন, আমার জানা নেই!
আমি শুধু একটা কথাই জানি, কখনো মায়ের গল্পকে এভাবে অপমান করা উচিত নয়।
শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে নেয়া 'কখনো আমার মাকে' নামের এই উপন্যাসের শুরুটা এমনই চমৎকার। আমি যখন পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে বসেছি, ততদিনে এই বইয়ের দশম মুদ্রণ বেরিয়ে গেছে। অভিজ্ঞ, অগ্রজ লেখক জোর গলায় দাবী করে ফেলেছেন, 'বাংলাদেশে আসলে তেমন কোন লেখক নেই'। ফেব্রুয়ারি জুড়ে অসংখ্যবার অগণিত তারকার হাতে বইটা দেখা গেছে, দেশের প্রথমসারির পত্রিকায় বিজ্ঞাপিত হয়েছে বেশ কয়েকবার। বহুবার করে বলা হয়ে গেছে শৈশবের নস্টালজিয়ায় মোড়ানো মায়ের স্মৃতিচারণার গল্প 'কখনো আমার মাকে।' ঝলমলে প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দেয়ার সময় লেখক হাসিমুখে বলেছেন: "আমরা যারা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতাম, পিঁপড়া খেয়ে সাঁতার শিখতাম, সাইকেলের সিটে ডান বগল রেখে রডের নিচ দিয়ে পা ঢুকিয়ে সাইকেল চালাতাম, স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে স্কুল যেতাম, আমরা যারা হাঁসকে সন্ধ্যায় ডাকতাম তই তই তই, আমরা যাঁরা রান্নাঘরে পিঁড়িতে বসে টিনের থালায় ভাত খেয়েছি, ঢাকায় এসে টিউশনি করেছি—তাদের গল্প 'কখনো আমার মাকে'।
এই মায়ার বশেই বইটা হাতে নেয়া। কয়েক পাতা উল্টোতেই আবার চোখে পড়ে :
"ফুলপুর পাইলট হাইস্কুলের মাঠটাকে আমরা ভাবতাম তেপান্তরের মাঠ। মাঠের দুপাশে কাঠের গোলপোস্ট ছিল, বোধ হয় শালকাঠের, শুকিয়ে লোহার আকার পেয়েছিল; সেই ইস্পাতকঠিন গোলপোস্টের গায়েও শেওলা জমে থাকত সবুজ হয়ে। আমাদের শৈশব ছিল বৃষ্টিভেজা, পুরো ধরিত্রী ছিল উর্বরা; বীজ লাগাতে হতো না, চারদিকে গজিয়ে উঠত গাছ; গাছগাছড়ার সবুজে ঢাকা ছিল চারপাশ; রাস্তার দুধার, খালের ভেতর-বাহির; ভবনের গায়ে গাছ, বট-পাকুড়; টিনের চালে, গুদামঘরের দেয়ালে শেওলা, ফার্ন, ঢেঁকিশাক। আমাদের পুকুরগুলো, পগারগুলো সবুজে ঢেকে থাকত; কখনো কচুরিপানায়, কলমিলতায়, শাপলার পাতায়, শালুকের বিস্তারে; কখনো নাম না জানা এক ধরনের সবুজ ভাসমান পাতায়; শেওলার স্তর পানিকে ঢেকে রাখত নিবিড়ভাবে, সবুজ গালিচার মতো; এমনভাবে থাকত যে কেউ সবুজ মাঠ ভেবে সেই পগারে বা গাড়ায় পা রেখে ডুবে যেতে পারত; তা অবশ্য কখনো ঘটতে দেখিনি। পুকুর-ডোবা আর রাস্তার দুধারের গর্ত ঢেকে থাকত, ছেয়ে থাকত কচুরিপানা কিংবা ঢোলকলমির বেগুনি ফুলে, হেলেঞ্চা- হোগলা-কলমিলতা-বিষকাটালির ঝাড়ে..."
আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। গল্পের জগতে ডুবে যাই। টিনে ছাওয়া বাংলো ধরনের বাড়ি, বাড়ির সামনে বাগান, কাঁটামেহেদির বেড়া, কামিনী ফুলের পাগল-করা গন্ধ—এ-ই ছিল সত্তরের দশকের মফস্বল শহরগুলো। তেমনই এক শহরে দুই মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল চার ভাইবোন। বিশুদ্ধ স্মৃতিচারণ। গল্পের কথক বয়সে সবচেয়ে ছোট; সাত বছর, ক্লাস টু'র ছাত্র। বাকি দুই ভাইয়ের একজন ক্লাস ফাইভ আর একজন ক্লাস ফোরে পড়ে। হারানো দিনের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে প্রশ্ন জাগে, ওদের ছোটমা এত কাঠখোট্টা কেন? সন্তানদের প্রতি এত আবেগ, এত আদর পুষে রেখেও কেন তিনি এতো বেশি শৃঙখলার বেড়াজালে বাঁধতে চান? কখনো কেন মাকে গান গাইতে দেখা যায় না?
চোরকাঁটাভরা মাঠে খেলা, বৃষ্টিতে তুমুল ভেজা শৈশব। টিউবওয়েলের নিচে গোসল, কয়লা দিয়ে দাঁত-মাজার শৈশব। বিভিন্ন পরীক্ষায় আরাধ্য সাফল্য ছিনিয়ে আনে ভাইবোনগুলো। গল্প এগোয় নদীর শান্ত স্রোতের মতো, হঠাৎ একদিন বেজে ওঠে ভাঙনের সুর। ওদের মুক্তিযোদ্ধা বাবা সরকারি চাকরি হারান অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করার অপরাধে। কারাগারে যেতে হয় বাবাকে। বড় ভাই বাবুল সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন নিজের ভবিষ্যত্ বিসর্জন দিয়ে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়াবহ সংবাদ দেন ছোটমা, হাসপাতালে শেষ শয্যায়। জানিয়ে যান, কেন মা কখনো গান করেননি। কে তাঁর কণ্ঠ থেকে গান নিংড়ে বের করে নিয়েছিল!
এত প্রশংসার পরেও বইটা নিয়ে আমার আপত্তি তবে কোথায়? আপত্তি হচ্ছে, মাকে নিয়ে লেখা একটা পরিবারের স্মৃতিচারণায় অনর্থক শরীরবৃত্তীয় আলাপ, যৌনতার আভাস। সাত বছরের বালক যখন পাশের বাড়ির মালতীদির উপুড় হয়ে থাকা শরীরে জামার বড় গলার ভেতর দিয়ে বুকের খানিকটা দেখে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তৎক্ষণাৎ ছাদে উঠে "নরম আতার অস্তিত্ব টিপে টিপে পরখ করে, দাঁত না থাকা সত্বেও চুষে চুষে ভেতরের নরম সাদা ঘন দ্রবণ মুখে নিয়ে শীতল হয়" - এহেন বর্ণণা নি:সন্দেহে অস্বস্তি জাগায়। রান্নাঘরে মামি যখন আদর করে জড়িয়ে ধরে তখন "নাকেমুখে বুকের ওম লাগায় সাত বছরের বালক যৌন অস্বস্তিতে ভোগে এবং রাতের বেলা তার ব্লাউজের বোতাম খুলে স্তন্যদান করার স্বপ্নদৃশ্য দেখে"- সেটাও যথেষ্ট অপ্রাসঙ্গিক এবং কুরূচিপূর্ণ। মুসলমানির পর সেই বালকের "অন্ধকার ঘরে মালতীদির আদরের চুমু পেয়ে ঘরজোড়া ঘামের গন্ধে শিহরণ জাগা" কে অবাস্তব নোংরামি বলে মনে হয়। একইভাবে অপ্রয়োজনীয় মনে হয় তহশিলদার সাহেবের শালার "লুঙ্গি তুলে নুনু নাড়া, অবিচল ভঙ্গিতে নুনু ধরে হ্যান্ডেলিং করা", কিংবা আয়নালের "বুকে মেয়েদের মতো ফোলা ফোলা বোঁটা হচ্ছে বলে গালিয়ে দেয়ার" প্রস্তাব উত্থাপন।
ফিকশনে অশ্লীলতা কিংবা যৌনতার ব্যবহার নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। প্রাসঙ্গিক কিংবা অপ্রাসঙ্গিকভাবে তার অবতারণা ঘটতেই পারে। কিন্তু যে গল্পটা পরিবারের, যে গল্পটা মায়ের, এমনকি যে গল্পের পরিণতিতে স্বল্প পরিসরে অবতারণা ঘটে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের- সে গল্পে উপরের লাইনগুলো যথেষ্ট নোংরাভাবে চোখে ধরা দেয়।
'কখনো আমার মাকে' হয়তো আনিসুল হকের সেরা উপন্যাসগুলোর একটা হতে পারত, দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো সাহিত্যকর্ম হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারতো তারই ক্লাসিক "মা" উপন্যাসের সাথে। অথচ অগ্রজ, বিখ্যাত লেখক হয়ে সদম্ভে "বাংলাদেশে তেমন কোন লেখক নেই" দাবী করে, তার ওপর এই বস্তু লিখে তিনি আমাকে হতভম্ব করে দিলেন। আরও হতভম্ব করলেন ফেসবুক পোস্টের কোন এক কমেন্টে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাস্যকর জবাব দিয়ে: "আমি আমার বেড়ে ওঠার সময় বিছানা ভেজানোর কথা কাউকে বলতে পারিনি। অসহায় লাগত। এখন এগুলো স্কুলপাঠ্য। ছেলেমেয়েরা জানুক, এটা কোনো সমস্যা নয়।" অথচ এই বইটা অনেকেই নিজের মাকে উপহার দিচ্ছে, আবেগতাড়িত হয়ে হাতে তুলে দিচ্ছে পড়ার জন্য। আমি নিজেই অন্তত বিশজনকে দেখেছি। এই প্রসঙ্গে লেখক কী জবাব দেবেন, আমার জানা নেই!
আমি শুধু একটা কথাই জানি, কখনো মায়ের গল্পকে এভাবে অপমান করা উচিত নয়।
March 16, 2024
আনিসুল হক এককালে আমার খুব পছন্দের লেখক ছিলেন। তার কিছু লেখা এখনো আমার বেশ প্রিয়। যেমন - ফাঁদ, অন্ধকারের একশ বছর, আমার একটা দুঃখ আছে, বৃষ্টিবন্ধু, মা ইত্যাদি। ধীরে ধীরে তার লেখার অধঃপতন হয়েছে। কিন্তু পুরনো অভ্যাসের বশে এখনো তার নতুন বই হঠাৎ হঠাৎ পড়তে যাই এবং ধরা খাই।
এ বইয়ের শুরুতে কিছু সুন্দর বর্ণনা আছে।যেমন "আমাদের শৈশব ছিল বৃষ্টিভেজা, পুরো ধরিত্রী ছিল উর্বরা; বীজ লাগাতে হতো না, চারদিকে গজিয়ে উঠত গাছ; গাছগাছড়ার সবুজে ঢাকা ছিল চারপাশ; রাস্তার দুধার,খালের ভেতর-বাহির; ভবনের গায়ে গাছ, বট-পাকুড়; টিনের চালে, গুদামঘরের দেয়ালে শেওলা, ফার্ন, ঢেঁকিশাক। আমাদের পুকুরগুলো আর পগারগুলো সবুজে ঢেকে থাকত; কখনো কচুরিপানায়, কলমিলতায়, শাপলার পাতায়, শালুকের বিস্তারে; কখনো নাম না জানা এক ধরনের সবুজ ভাসমান পাতায়; শেওলার স্তর পানিকে ঢেকে রাখত নিবিড়ভাবে, সবুজ গালিচার মতো;.."
এরপরই ছন্দপতন। বেড়ে ওঠার সময়কার নিষিদ্ধ যৌনানুভূতি'র স্থূল বহিঃপ্রকাশ পীড়াদায়ক( তাও নাকি ৭ বছরের শিশুর!) এই বহিঃপ্রকাশের মধ্যে একটুও কি মাধুর্য থাকতে পারতো না? নায়কের শিশুকাল থেকে কিশোরকাল - এই প্রকাশটা স্থূলই রয়ে গেছে। যেমন এক জায়গায় আছে -
"রাতের বেলা নাসিমাকে স্বপ্ন দেখি। নাসিমা আর আমি স্টোররুমে। আমরা স্টোররুমে কাঁঠাল রেখেছি। সেটা পেকেছে কি না, খুঁজতে গেছি। নাসিমা বলে, 'কাঁঠাল নরম। টিপে দেখেন। কাঁঠাল টিপি।'
তারপর সে তার বুকে আমার হাত চেপে ধরে বলে, 'আমার বুকটা নরম না শক্ত!'
আমার লুঙ্গি ভিজে যায়।"
কাহিনিতে অনেক বেদনাদায়ক ঘটনা আছে, খারাপ অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প আছে কিন্তু সবকিছুতে অতিনাটকীয়তাই চোখে পড়লো। চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পাওয়া গেলো না। কাহিনির স্বাভাবিক বিস্তার নয়, জোর করে পাঠকের সহানুভূতি আদায়ের জন্যই যেন বিয়োগান্তক ঘটনাগুলো ঘটছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টাও জোরপূর্বক প্রবিষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা খুবই হতাশাজনক। আফসোস হচ্ছে, "কখনো আমার মাকে" র মধ্যে ধ্রুপদী উপন্যাস হওয়ার অনেক সম্ভাবনা লুক্কায়িত ছিলো। মেনে নিতেই হবে,লেখক তার অনুভূতি আর বোধ সঠিক ভাষায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আর পারঙ্গম নন।
এ বইয়ের শুরুতে কিছু সুন্দর বর্ণনা আছে।যেমন "আমাদের শৈশব ছিল বৃষ্টিভেজা, পুরো ধরিত্রী ছিল উর্বরা; বীজ লাগাতে হতো না, চারদিকে গজিয়ে উঠত গাছ; গাছগাছড়ার সবুজে ঢাকা ছিল চারপাশ; রাস্তার দুধার,খালের ভেতর-বাহির; ভবনের গায়ে গাছ, বট-পাকুড়; টিনের চালে, গুদামঘরের দেয়ালে শেওলা, ফার্ন, ঢেঁকিশাক। আমাদের পুকুরগুলো আর পগারগুলো সবুজে ঢেকে থাকত; কখনো কচুরিপানায়, কলমিলতায়, শাপলার পাতায়, শালুকের বিস্তারে; কখনো নাম না জানা এক ধরনের সবুজ ভাসমান পাতায়; শেওলার স্তর পানিকে ঢেকে রাখত নিবিড়ভাবে, সবুজ গালিচার মতো;.."
এরপরই ছন্দপতন। বেড়ে ওঠার সময়কার নিষিদ্ধ যৌনানুভূতি'র স্থূল বহিঃপ্রকাশ পীড়াদায়ক( তাও নাকি ৭ বছরের শিশুর!) এই বহিঃপ্রকাশের মধ্যে একটুও কি মাধুর্য থাকতে পারতো না? নায়কের শিশুকাল থেকে কিশোরকাল - এই প্রকাশটা স্থূলই রয়ে গেছে। যেমন এক জায়গায় আছে -
"রাতের বেলা নাসিমাকে স্বপ্ন দেখি। নাসিমা আর আমি স্টোররুমে। আমরা স্টোররুমে কাঁঠাল রেখেছি। সেটা পেকেছে কি না, খুঁজতে গেছি। নাসিমা বলে, 'কাঁঠাল নরম। টিপে দেখেন। কাঁঠাল টিপি।'
তারপর সে তার বুকে আমার হাত চেপে ধরে বলে, 'আমার বুকটা নরম না শক্ত!'
আমার লুঙ্গি ভিজে যায়।"
কাহিনিতে অনেক বেদনাদায়ক ঘটনা আছে, খারাপ অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প আছে কিন্তু সবকিছুতে অতিনাটকীয়তাই চোখে পড়লো। চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পাওয়া গেলো না। কাহিনির স্বাভাবিক বিস্তার নয়, জোর করে পাঠকের সহানুভূতি আদায়ের জন্যই যেন বিয়োগান্তক ঘটনাগুলো ঘটছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের অধ্যায়টাও জোরপূর্বক প্রবিষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা খুবই হতাশাজনক। আফসোস হচ্ছে, "কখনো আমার মাকে" র মধ্যে ধ্রুপদী উপন্যাস হওয়ার অনেক সম্ভাবনা লুক্কায়িত ছিলো। মেনে নিতেই হবে,লেখক তার অনুভূতি আর বোধ সঠিক ভাষায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে আর পারঙ্গম নন।
November 11, 2024
আবেগের রসে খুব করে চুবিয়ে, মাঝেমধ্যে খামোকা যৌন সুড়সুড়ি দিয়ে, অতিশয় দুর্বল গদ্যে লিখিত চর্বিতচর্বণ কাহিনির অপন্যাসটি গাঁটের পয়সা খরচ করে পড়তে হয়নি, এটাই বড় সান্ত্বনা!
February 23, 2024
মনে দাগ কেটে গেছে।
March 23, 2024
❝আমাদের শৈশব ছিল বৃষ্টিভেজা, পুরো ধরিত্রী ছিল উর্বরা; বীজ লাগাতে হতো না, চারদিকে গজিয়ে উঠত গাছ; গাছগাছড়ার সবুজে ঢাকা ছিল চারপাশ; রাস্তার দুধার, খালের ভেতর-বাহির; ভবনের গায়ে গাছ, বট-পাকুড়; টিনের চালে, গুদামঘরের দেয়ালে শেওলা, ফার্ন, ঢেঁকিশাক। আমাদের পুকুরগুলো, পগারগুলো সবুজে ঢেকে থাকত; কখনো কচুরিপানায়, কলমিলতায়, শাপলার পাতায়, শালুকের বিস্তারে; কখনো নাম না জানা এক ধরনের সবুজ ভাসমান পাতায়; শেওলার স্তর পানিকে ঢেকে রাখত নিবিড়ভাবে, সবুজ গালিচার মতো; এমনভাবে থাকত যে কেউ সবুজ মাঠ ভেবে সেই পগারে বা গাড়ায় পা রেখে ডুবে যেতে পারত; তা অবশ্য কখনো ঘটতে দেখিনি। পুকুর-ডোবা আর রাস্তার দুধারের গর্ত ঢেকে থাকত, ছেয়ে থাকত কচুরিপানা কিংবা ঢোলকলমির বেগুনি ফুলে, হেলেঞ্চা- হোগলা-কলমিলতা-বিষকাটালির ঝাড়ে।❞
-----------------------------------------------------------------------------------------------------

“First Day at School” প্যারাগ্রাফ কমবেশি আমাদের সবারই লিখতে হয়েছে ছাত্রজীবনে; শিক্ষা জীবনের প্রথম দিন, একটা বিশেষ দিনই বটে। ছোটবেলায় প্রথম স্কুলে যাওয়া কিংবা নিজের প্রথম উপার্জনের টাকায় বাবা-মা কে কিছু কিনে দেওয়া কিংবা প্রথম সন্তানের অনুভূতি; এক অন্যরকম অনুভূতি! এরকম জীবনের “প্রথম” যেকোনো কিছুই বিশেষ স্মৃতি হয়ে সবসময় বেঁচে থাকে আমাদের সাথে।
.
তেমনি জীবনে পড়া প্রথম উপন্যাসও আমার কাছে খুব বিশেষ। আমার পড়া প্রথম উপন্যাস ছিল আনিসুল হকের “মা”; সেই ক্লাস ফাইভে থাকতে পড়েছিলাম। এরপরে আরো দুইবার পড়া হয়েছে। প্রতিবার পড়ার পরেই সেই আগের মতোই অনুভূতি কাজ করেছে। “মা” এর প্রতি এই ভালো লাগা থেকেই লেখকের বইমেলা ২০২৪ এ প্রকাশিত “কখনো আমার মাকে” বইটা হাতে তুলে নেই।
.
গল্পটা সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশের মফস্বল শহর ফুলপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের। বাবা সার্কেল অফিসার রফিকুর রহমান এবং দুই মায়ের সংসারে বড় হচ্ছিল বাবলু, ডাবলু, মাবলু এবং লাভলি। বড়মা নিঃসন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে রফিকুর রহমান ওদের চারজনের গর্ভধারিণী মা অর্থাৎ ওদের ছোটমাকে বিয়ে করেন। নিজের উদর জাত সন্তান না হলেও বাবলু, ডাবলু, মাবলু ও লাভলি কে বড়মা নিজের সন্তানদের মতোই আগলে রাখতেন। ছোটমা শেফালির কঠোর শাসনের হাত থেকেও ওদের রক্ষা করতেন তিনি।
.
ফুলপুরে ওরা থাকতো ফুলপুর পাইলট স্কুলের পাশে সার্কেল অফিসারের চুন-সুরকির বাংলো কাম অফিসের দোতলায়। দুই মায়ের সংসারে চার ভাইবোনের জীবন হেসেখেলে পার হতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন ওদের বাবা রফিকুর রহমানকে, এলাকার একজন প্রভাবশালী লোক ও সরকারি দলের নেতা কে অন্যায়ভাবে একটা জমি লিখে দিতে না চাওয়ায় মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়; সাময়িক বরখাস্ত করা হয় চাকরি থেকেও। অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করায় বিনা অপরাধের এই শাস্তি মেনে নিতে পারেননি তিনি।
.
এরপর একের পর এক ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ওদের জীবনে নেম আসে বিপর্যয়। প্রথমেই নেমে যেতে হলো সার্কেল অফিসারের বাড়ি কাম অফিস থেকে; দুই মা সহ ওরা গিয়ে ওঠে ভাড়া বাড়িতে। ওদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার ডিম হয়ে গেলো অর্ধেক, রাতে ভাতের বদলে রুটি খেতে শুরু করলো। শুরু হয় জীবন সংগ্রাম...
.
এভাবে গল্প কথক মো. শহিদুর রহমান বা মাবলু পুরো বই জুড়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন; গল্প শুরু হয় তখন কথকের বয়স মাত্র সাত। টিনে ছাওয়া বাড়ি, বাগানের চারদিকে কাটামেন্দির বেড়া, শালকাঠের গোলপোস্ট, কচুরিপানা, কলমিলতা সহ শেওলায় ছেয়ে থাকা পুকুর, বিকেল থেকে সলতে পাকানো; সন্ধ্যা হলেই কেরোসিনের গন্ধ, দূর থেকে ভেসে আসা শেয়ালের ডাক “হুক্কা হুয়া, হুক্কা হুয়া” - আমাদের গ্রামীণ পরিবেশের চিত্র।
.
গল্পে উঠে এসেছে কোনো এক গোপন গাছের শিকড় ব্যবহার করে দাঁতের পোকা ঝাড়তে বুড়ির কাছে যাওয়া, চোরকাঁটার ঘন আস্তরের মধ্যে শাঁকচুন্নির উপস্থিতির ভয়ের মতো বিভিন্ন গ্রামীণ কুসংস্কার; আবার পিঁপড়া খেতে খেতে সাঁতার শেখা, বর্ষার দিনে পুকুরের পানি বাইরে চলে এলে লুঙ্গি বেঁধে, গামছা পেতে ছেঁকে ছেঁকে উপরে উঠে আসা মাছ ধরা, গাছ তলায় পড়ে থাকা মাটিমাখা, খোসা পচে কালো হয়ে যাওয়া আমের আঁটি দিয়ে আম আঁটির ভেঁপু বানানো, কানশিকার সাদা ফুল ছিড়ে বোটাছাড়া করে চুষে চুষে মধু খাওয়া, সকালবেলা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজা, সাইকেলের সিটে ডান বগল রেখে, বাম পা মাটিতে রেখে, ডান পা রডের ফাঁকে ঢুকিয়ে হাফপ্যাডেল সাইকেল চালানো, পড়তে গিয়ে অমনোযোগী হয়ে পড়লে কিংবা ভুল করলে পিঠে হাত পাখার ডাঁটির বাড়ি খাওয়ার মতো প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শে কাটানো গ্রামীণ শৈশবের চিত্রায়ণ।
.
এভাবে মাবলুর স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আনিসুল হক তৎকালীন মফস্বল শহরের চিরাচরিত দৃশ্য তুলে ধরেছেন দারুণ ভাবে। প্রকৃতি ঘেষা এমন সরল-সাবলীল বর্ণনা, গ্রামীণ অকৃত্রিম শৈশব, পারিবারিক খুনসুটি শুধু মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। প্রতিবছর নিয়ম করে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ায়, চাচাতো, খালাতো, মামাতো সব ভাই-বোনদের সাথে প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়িয়ে, খেলাধুলা করে বেড়ে ওঠায় এগুলোর অনেক কিছু আমিও পেয়েছি। বইটা পড়তে গিয়ে আমার স্মৃতিপটে সেসব ভেসে উঠেছিল; আহ, কী নস্টালজিয়া!
.
ভালোলাগা, মুগ্ধতার পাশাপাশি অপছন্দের উপাদানও ছিল বইয়ে, আর তা হলো অপ্রয়োজনীয় যৌনতা, ফ্যান্টাসি; যা প্রচন্ড বিরক্তিকর লেগেছে। বর্তমানে লেখালেখিতে যৌনতা যেন একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে; যুগের সাথে তাল মেলাতে আনিসুল হকও এই ট্রেন্ড ফলো করেছেন কিনা কে জানে! না হয় মামি জড়িয়ে ধরলে, 'নাকেমুখে বুকের ওম লাগলে সাত বছরের মাবলুর যৌন অস্বস্তি লাগবে' কেন? আবার, মালতীদি উপুড় হয়ে থাকায় জামার বড় গলার ভেতর দিয়ে বুকের আংশিক অংশ দেখেই ছাদে গিয়ে মাবলুর 'নরম আতা টিপে টিপে খাওয়া, মুখের মধ্যে আতার নরম সাদা দ্রবণের শীতল উপস্থিতি', মুসলমানির পরে অন্ধকার রুমে 'মালতীদির ঘামের গন্ধে মাবলুর শিহরণ', তহশিলদার সাহেবের শালার 'লুঙ্গি তুলে নুনু নাড়া, অবিচল ভঙ্গিতে নুনু ধরে হ্যান্ডেলিং করা', কাজের ছেলে আবুল কালামের 'নুনু থেকে টপাটপ পানি পড়া' - ইত্যাদি বর্ণনা “কখনো আমার মাকে” এর মতো বইয়ে যথেষ্ট অপ্রাসঙ্গিক এবং চোখে লাগার মতো।
.
এরকম বিষয়বস্তুর একটা বইয়ে এমন সুড়সুড়ি মূলক বর্ণনা অপ্রয়োজনীয় যা বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। না, সাহিত্যে যৌনতার বিপক্ষে আমি না। গল্পের, গল্পের চরিত্রদের প্রয়োজনে গল্পে যৌনতা আসতেই পারে। তবে প্রাসঙ্গিক তো হতে হবে? সতিনের সংসারে ঝগড়াঝাটি হয় না এমন খুব কমই দেখা যায়, কিন্তু এই গল্পে তো ব্যতিক্রম। দুইমায়ের সংসারে এতোগুলো ভাইবোন বেশ ভালো আছে, বরং এখানে গর্ভধারিণীর থেকে সৎ মা আদর করেন বেশি ছেলে-মেয়েদেরকে। এখানে সতিনদের ঝগড়াঝাটি নেই কেন? কারণ এই গল্পের, চরিত্রদের প্রেক্ষাপট অন্যরকম। সব জায়গায় সব কিছু খাপে খাপ, ময়নার বাপ হয় না।
.
লেখক আনিসুল হকের লেখনশৈলী শুরুর দিকে মুগ্ধ করেছে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক বর্ণনাগুলো। শেষের দিকে গিয়ে কিছু অংশ খাপছাড়া মনে হয়েছে, বইমেলার তাড়াহুড়োর কারণে হয়তো। এছাড়া বইয়ে দুই জায়গায় নামের অদলবদল দেখলেও কোনো বানান ভুল চোখে পড়েনি।
.
মায়েদের গল্প, শৈশবের গল্প, নৈতিকতার গল্প, জীবনের ছন্দপতনের পর পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের মতো এতো সুন্দর একটা বইয়ে অপ্রয়োজনীয় যৌনতার অংশকে গল্পে অনুপ্রবেশকারী বলেই মনে হয়েছে। বইয়ের শেষে যে ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সেটাকেও অপমান করা হয়েছে। “মা” বইয়ের মতো “কখনো আমার মাকে” বইয়েরও অনেক সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু হতাশাজনকভাবে সে সকল সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
.
◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ২.৫/৫
.
◑ বই পরিচিতি:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
➠ বই: কখনো আমার মাকে
➠ লেখক: আনিসুল হক
➠ জনরা: সামাজিক উপন্যাস
➠ প্রকাশনী: প্রথমা প্রকাশন
➠ প্রচ্ছদশিল্পী: সব্যসাচী হাজরা
➠ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২০০
➠ মুদ্রিত মূল্য: ৪৮০ টাকা
February 25, 2024
বইটার কিছু কিছু জায়গা খুব সুন্দর। বইটার ভাবনাও সুন্দর। কিন্তু আনিসুল হকের তাড়াহুড়ো কিংবা গদ্যের স্টাইলের কারণে একটি ক্লাসিকে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একটা মাঝারি মানের উপন্যাস হিসেবে থেকে যাবে। আফসোস এখানেই।
July 14, 2024
নাম থেকে মনে হবে কাহিনীটা শুধুই মাকে ঘিরে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা বলেই জানতাম বইটা। তবে সে অংশ উঠে এসেছে খুবই অল্প পৃষ্ঠা জুড়ে। আর বাকি অংশের সবটাই গল্পকথকের ছেলেবেলা থেকে বার্ধক্যের একটা কাহিনী। আপনার কাছে মনে হবে, বয়সের ক্রম ধরে কেউ ডিটেইল টু ডিটেইল তার জীবনকাহিনী বলে যাচ্ছে। যার কাছে জীবনকাহিনী ভালো লাগার তার হয়তো ভালো লাগবে; আবার যার অল্পতেই একঘেয়েমি, তার হয়তো ভালো লাগবে না।
আমার কাছে যেটুকু ভালো লেগেছে, তা হলো গ্রামীণ পরিবেশ, শৈশব-কৈশোরের যতো স্মৃতি, মায়ের আদর-শাসন। অনেকটাই নস্টালজিক বিষয়। আবার যেটা ভালো লাগেনি সেটা হলো, মাকে নিয়ে একটা টুইস্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যার জন্য বাড়ানো হয়েছে পৃষ্ঠা সংখ্যা। বিষয়টা প্রয়োজনীয় ছিলো না। আর টুইস্ট কী সেটাও পাঠক হিসেবে ধরে ফেলি, যা অতো বেশি ওয়ার্ক করেনি। বার্ধক্যের সময় গল্পকথকের ফ্যান্টাসির (যৌনটা) বিষয়টা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যেতো।
আমার কাছে যেটুকু ভালো লেগেছে, তা হলো গ্রামীণ পরিবেশ, শৈশব-কৈশোরের যতো স্মৃতি, মায়ের আদর-শাসন। অনেকটাই নস্টালজিক বিষয়। আবার যেটা ভালো লাগেনি সেটা হলো, মাকে নিয়ে একটা টুইস্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যার জন্য বাড়ানো হয়েছে পৃষ্ঠা সংখ্যা। বিষয়টা প্রয়োজনীয় ছিলো না। আর টুইস্ট কী সেটাও পাঠক হিসেবে ধরে ফেলি, যা অতো বেশি ওয়ার্ক করেনি। বার্ধক্যের সময় গল্পকথকের ফ্যান্টাসির (যৌনটা) বিষয়টা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যেতো।
March 27, 2024
এই বইটি নিঃসন্দেহে একটি সেরা বই হতে পারতো কিন্তু তা হওয়ার পথে অনেকগুলো বিষয় বাধা হয়ে দাড়ালো। এই প্রথম লেখক 'আনিসুল হকের' কোন বই পড়ছি এবং কিছুটা হতাশ হয়েছি।যেহেতু উপন্যাসটি মাকে নিয়ে তাই অবশ্যই মাকে নিয়ে বিভিন্ন মিষ্টি মধুর আখ্যান শোনাবেন লেখক মহোদয়। ফুলপুরের একটি পরিবারকে ঘিরে উপন্যাস তার ডালপালা মেলেছে। শুরু থেকেই বেশ সুন্দর এগোচ্ছিলো গল্প।কিন্তু আমার এক জায়গায় এসে মনে হলো লেখক অযথা কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা এই উপন্যাসের সাথে যায় না। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে তিনি আরো সুন্দর লিখনশৈলীর ও ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ননা করতে পারতেন। গল্পের শেষে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া এক মর্মস্পর্শী বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যার আভাস শুরুতেই ই দেয়া হয়েছিল।দেখানো হয়েছে পরিবারের ছায়া প্রদায়ী সদস্যদের একে একে মৃত্যু।এই সুন্দর উপন্যাসটি মর্মস্পর্শী হয়ে উঠতে গিয়েও পারে নি অগোছালো হওয়ার জন্য।
November 17, 2024
বইটা মন খারাপ করলো শেষে এসে! বইটা পড়তে পড়তে বার বারই এমন মনে হয়েছে যেন স্মৃতি চারণ টা আমার। আমার ছোটবেলার সাথে কোন মিল অবশ্য নেই তবুও মনে হচ্ছিল আমিও সেই ফুলপুরের পরিবারের কেউ। সেই পড়ালেখার সন্ধ্যাগুলো, পাখার লাঠির বাড়ি, ভাই বোনের খুনসুটি…. মনে হয়েছে ওদের গল্পে আমিও আছি কোথাও, না থাকলেও এই বড় হয়ে যাওয়ার যে অপরাধ বোধটা, মা বাবার দিকে তাকালে অসহায় বোধটা, সেটা সমানে সমানে আছে । “বড় হতে চাই না, তবু বড় হয়ে যাই” …..
July 17, 2026
মন খারাপ হয়ে গেল বইটা পড়ে। আনিসুল হকের লেখা সেরা বই ‘মা’ ও কখনো আমার মাকে।
March 6, 2024
দীর্ঘকাল পর আনিসুল হকের একটা বই পড়লাম। বইয়ের নাম 'কখনো আমার মাকে'। ভদ্রলোক বইটা ভালো লিখতে না পারলেও এর প্রচারটা দারুণ করতে পেরেছেন। দুইশ পৃষ্ঠার বই। ৬০-৭০ পৃষ্ঠা পড়ার পরেও আপনি বুঝতে পারবেন না বইতে কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কী দরকার ছিল হওয়ার। বইয়ের নাম 'কখনো আমার মাকে' না দিয়ে 'আমার হারানো শৈশবের দিনলিপি' দিলে নামকরণ যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত হতো কিন্তু কেউ কিনতো না- ওই যে বললাম, প্রচারণা অসাধারণ হয়েছে।
ভূমিকায় লেখক লিখেছেন "এই কাহিনি প্রথম আলো ঈদসংখ্যা ২০২৩-এ শেফালি আমার মা নামে বেরিয়েছিল অতি সংক্ষেপে। পুরো কাহিনি এখানে থাকলো।" আমার ধারণা পুরো কাহিনি এখানেও নেই। এরপর এই বইয়ের আরেকটা এডিশন বের হবে যেখানে পুরো কাহিনিরও বিস্তারিত ভার্সন থাকবে।
বইয়ের প্রথম একশ দেড়শ পৃষ্ঠা খুব ধীরে ধীরে কথকের দৈনন্দিন দিনলিপির বর্ণনা। বইয়ের নাম কিংবা প্রোমোশন দেখে বইটা যা নিয়ে হতে পারে বলে ধারণা হয় তার কিছুই এতখানি অংশজুড়ে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায় না। এরপর খুব সম্ভবত বইমেলা চলে আসছিল। লেখা শেষ করার তাড়া ছিল। শুরু হলো লম্ফঝম্প। কথকের স্কুল জীবন পার করতে বইয়ের অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে যায়। অথচ ১৬৬ পৃষ্ঠায় বিএসসিতে ভর্তি হয়ে ১৬৭ তে শেষও হয়ে যায়। আবার ১৬৯ পৃষ্ঠায় গিয়ে এক লাইনে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পরের লাইনে পছন্দের অ্যাডমিন ক্যাডার পেয়ে যান।
বুয়েট মেডিক্যালে না পড়ে বিএসসিতে ভর্তি হওয়ার ছোট একটা ব্যাখ্যা বইতে দেয়া হয়েছে। সেটা লজিক্যালও। কিন্তু যেটা উদ্ভট লেগেছে সেটা হচ্ছে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্রের বিএসসি পড়তে একটা কলেজে ভর্তি হওয়া এবং তারচেয়েও অদ্ভুত হচ্ছে বুয়েটের অ্যাডমিশন টেস্টের জন্য তার কাছে কোচিং করা।
বইটা পড়তে শুরু করার পর মনে হবে শৈশবের দিনগুলি স্বাধীনতার আগের সময়কার। কিন্তু হুট করে এইসব দিনরাত্রি, ম্যাকগাইভারের রেফারেন্স চিন্তার টাইমলাইনে বড় একটা ধাক্কা দেবে। যদিও উপন্যাসের শেষটা লেখক বেশ ভালোভাবেই লিখেছেন। তবু দিনশেষে এটা আনিসুল হকের আরেকটা below average বই হিসেবেই থেকে যাবে।
ভূমিকায় লেখক লিখেছেন "এই কাহিনি প্রথম আলো ঈদসংখ্যা ২০২৩-এ শেফালি আমার মা নামে বেরিয়েছিল অতি সংক্ষেপে। পুরো কাহিনি এখানে থাকলো।" আমার ধারণা পুরো কাহিনি এখানেও নেই। এরপর এই বইয়ের আরেকটা এডিশন বের হবে যেখানে পুরো কাহিনিরও বিস্তারিত ভার্সন থাকবে।
বইয়ের প্রথম একশ দেড়শ পৃষ্ঠা খুব ধীরে ধীরে কথকের দৈনন্দিন দিনলিপির বর্ণনা। বইয়ের নাম কিংবা প্রোমোশন দেখে বইটা যা নিয়ে হতে পারে বলে ধারণা হয় তার কিছুই এতখানি অংশজুড়ে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায় না। এরপর খুব সম্ভবত বইমেলা চলে আসছিল। লেখা শেষ করার তাড়া ছিল। শুরু হলো লম্ফঝম্প। কথকের স্কুল জীবন পার করতে বইয়ের অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে যায়। অথচ ১৬৬ পৃষ্ঠায় বিএসসিতে ভর্তি হয়ে ১৬৭ তে শেষও হয়ে যায়। আবার ১৬৯ পৃষ্ঠায় গিয়ে এক লাইনে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পরের লাইনে পছন্দের অ্যাডমিন ক্যাডার পেয়ে যান।
বুয়েট মেডিক্যালে না পড়ে বিএসসিতে ভর্তি হওয়ার ছোট একটা ব্যাখ্যা বইতে দেয়া হয়েছে। সেটা লজিক্যালও। কিন্তু যেটা উদ্ভট লেগেছে সেটা হচ্ছে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্রের বিএসসি পড়তে একটা কলেজে ভর্তি হওয়া এবং তারচেয়েও অদ্ভুত হচ্ছে বুয়েটের অ্যাডমিশন টেস্টের জন্য তার কাছে কোচিং করা।
বইটা পড়তে শুরু করার পর মনে হবে শৈশবের দিনগুলি স্বাধীনতার আগের সময়কার। কিন্তু হুট করে এইসব দিনরাত্রি, ম্যাকগাইভারের রেফারেন্স চিন্তার টাইমলাইনে বড় একটা ধাক্কা দেবে। যদিও উপন্যাসের শেষটা লেখক বেশ ভালোভাবেই লিখেছেন। তবু দিনশেষে এটা আনিসুল হকের আরেকটা below average বই হিসেবেই থেকে যাবে।
February 18, 2024
নিজের ছোটবেলাকেই যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম। খুব মায়া মায়া একটা বই।
এরকম সেনসিটিভ টপিকের একটি বইয়ে যৌন সুড়সুড়িমূলক বিষয়গুলোর অবতারনা না করলেও পারতেন লেখক। বালক বয়সে এরকম ফ্যান্টাসী সবার হয় এটা সত্য তবে এই বিষয়গুলো এই বইয়ের সাথে যায় না। এইগুলো বাদ দিলে বইটা একটা ভীষণ ভালোলাগার বই হয়ে থাকতে পারতো।
এরকম সেনসিটিভ টপিকের একটি বইয়ে যৌন সুড়সুড়িমূলক বিষয়গুলোর অবতারনা না করলেও পারতেন লেখক। বালক বয়সে এরকম ফ্যান্টাসী সবার হয় এটা সত্য তবে এই বিষয়গুলো এই বইয়ের সাথে যায় না। এইগুলো বাদ দিলে বইটা একটা ভীষণ ভালোলাগার বই হয়ে থাকতে পারতো।
March 4, 2024
আশায় গুড়া বালি।
Displaying 1 - 14 of 14 reviews















