“মুদ্রণশিল্প” কী, প্রকাশনী না-কি পত্রিকা? সহজ জবাব- দুটোই। ‘মুদ্রণে শিল্পের সৌরভ’ স্লোগানকে সামনে রেখে পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার প্রয়াসে মুদ্রণশিল্প প্রকাশনী’র যাত্রা শুরু। সেইসাথে একই নামে সাহিত্যের ছোটকাগজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ।
বাজারে এত এত সাহিত্যের পত্রিকা থাকতে আবার নতুন করে পত্রিকা কেন? আমরা মনে করি, প্রতিটি নতুন উদ্যোগেই অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। আমরা নতুন, রয়েছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা আর একদল উদ্যমী পরিশ্রমী তরুণ কর্মী। ভিন্ন আইডিয়া, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যতিক্রম কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন পত্রিকা।
এখানে প্রকাশিত কোনো লেখা বা আঁকার জন্য টাকা নেওয়া হয়? একদমই না। প্রকাশিত লেখার লেখকদেরকে কোনো সম্মানী দেওয়া হয়? এখন পর্যন্ত সুযোগ হয়নি। তবে অদূর ভবিষ্যতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।
মুদ্রণশিল্প পত্রিকা মূলত কী নিয়ে? প্রকাশনা জগতের সাথে যা কিছু সম্পৃক্ত, তার সবকিছু নিয়েই এই পত্রিকা। আমাদের লক্ষ্য কী? সবাইকে নিয়ে একসাথে পথচলা। বাংলাদেশের প্রকাশনা সেক্টরটি একেবারেই ছোট। লেখক-লেখিকা, পাঠক-পাঠিকাদের পাশাপাশি প্রকাশক, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন ও অফলাইনের বুকশপ, স্যোশাল প্লাটফর্মে থাকা বই রিলেটেড কমিউনিটি, আর্টিস্ট, এডিটর, প্রুফরিডারসহ ছাপাখানার যেকোনো কর্মী; যারা বইয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তারা সকলেই আমাদের আপনজন। তাদের নিয়েই মুদ্রণশিল্প। আশা করি আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াসে আপনারা পাশে থাকবেন। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
জামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
ম্যাগাজিন আমার খুব কমই পড়া হয়। জামসেদুর রহমান সজীবের সম্পাদনায় প্রকাশিত মুদ্রনশিল্প ম্যাগাজিনটার ব্যাপারে আগ্রহ জন্মায় একই মলাটের মধ্যে অনেকগুলা গল্পের সমাহার এবং পছন্দের কিছু লেখকের লেখার উপস্থিতির কারণে।
ভালো লেগেছে নিয়াজ মেহেদীর গল্প আমাদের গেছে যে দিন, বাপ্পি খানের মীন, রাফাত শামসের গুটি, আহনাফ তাহমিদের নিয়ামতের একদিন, সজল চৌধুরীর দাম এবং সামসুদ্দোহা রিফাতের ইনভিজিবল ম্যান গল্পগুলো।
পুরাতন বই কেনা এবং অনলাইন বুকশপ নিয়ে লেখাদুটিও বেশ ভালো ছিলো। নতুন পাঠক যারা ঝামেলা ছাড়া এবং কম দামে বই কিনতে চান তাদের জন্য লেখাদুটি বেশ সহায়ক হবে।
ম্যাগাজিনের প্রোডাকশন এক কথায় অসাধারণ। সুন্দর প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী মিস্ত্রী।
শুভ কামনা মুদ্রনশিল্পের জন্য। আশা করি এই ষন্মাসিক ম্যাগাজিনটি তাদের প্রকাশনা অব্যাহত রাখবেন।
ম্যাগাজিন। এই শব্দটার সাথে বাঙ্গালিরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সময় নিয়ে ম্যাগাজিন,খেলার খবর নিয়ে ম্যাগাজিন,কিশোরদের জন্য ম্যাগাজিন, গল্পের ম্যাগাজিন,রাজনৈতিক ম্যাগাজিন, ছড়ার ম্যাগাজিন সহ অসংখ্য রকমের ম্যাগাজিন আছে আমাদের পরিচিত। উৎসবে যেমন বৈশাখ,ঈদ, পূজা কেন্দ্র করে বের হয় ম্যাগাজিন।অর্থাৎ বইয়ের থেকেও সবচেয়ে বেশি প্রসার লাভ করে ম্যাগাজিন। ম্যাগাজিন বের হবার অনেক ধরণের ফরমেট আছে। সাপ্তাহিক, মাসিক,ত্রৈমাসিক,ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক। তাই আমরা চাইলে প্রতি মাসেই বিভিন্ন ম্যাগাজিন পড়তে পারি।
রহস্যপত্রিকা। বাংলাদেশের জন্মের আগে থেকে চলে আসা এই ম্যাগাজিনের অসংখ্য পাঠক ছড়িয়ে আছে চারদিকে। বর্তমান সময়ের দারুণ সব লেখক, অনুবাদক এর হাতে খড়ি ছিলো রহস্যপত্রিকা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে ওপারেও সেটার প্রভাব ছিলো। আজও রহস্যপত্রিকাতে গল্প মনোনীত হলে একটা গর্ব হয় সবার।
ম্যাগাজিন পড়ে পাঠকরা বিভিন্ন ধরণের গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ, ভ্রমণ,বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে পারেন। তেমনি একটা ম্যাগাজিন সম্পর্কে আজ কিছু কথা বলব। মুদ্রণশিল্প থেকে প্রকাশিত হয়ে ষাণ্মাসিক ম্যাগাজিন 'মুদ্রণশিল্প'। জি লেখকদের গল্পকে মুদ্রিত করে শিল্পের সৌরভ ছড়িয়ে দেওয়া এই ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্য।
ম্যাগাজিনে আছে ডিস্টোপিয়ান, অতিপ্রাকৃত, মিথলজি, থ্রিলার,পলিটিকাল থ্রিলার,রম্য,কিশোর গল্প সহ ১৫ টি গল্প। আমাদের পাঠকপ্রিয় অনলাইন বুকশপ ও বইগ্রুপ কিভাবে এতোদূর পর্যন্ত এসেছে তা নিয়ে আছে সুন্দর ফিচার, আছে পুরাতন বইয়ের গন্ধ নিয়ে অবস্থিত পুরাতন বইয়ের দোকানের ঠিকানা। কবিতা, প্রবন্ধ, কমিক্স, খেলাধুলার সাথে আছে তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর জীবন ও বাঙ্গালির প্রিয় স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ কিছু লেখা। এক কথায় আপনার পছন্দের সবকিছুই আছে এই ম্যাগাজিনে।
এই অধমের একটা ছোট গল্প থাকলেও প্রথমত আমি একজন পাঠক। তাই পাঠক হিসেবেই বলব ম্যাগাজিনটা প্রথমেই দারুণ এক যাত্রা শুরু করলো। প্রতিটি কন্টেন্টের সাথে জুড়ে দেওয়া আছে দারুণ সব ইলাস্ট্রেশন যেগুলো ম্যাগাজিনটার সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। জনপ্রিয় সব লেখকের গল্প যেমন বাপ্পী খান,নিয়াজ মেহেদী, আহনাফ তাহমিদ, রুবেল কান্তি নাথ সহ অনেকের গল্প আছে এখানে।
সবগুলো গল্পই উপভোগ্য ছিলো কিন্তু নিয়ামতের একদিন,মীন,আমাদের গেছে যে দিন,পুঁথি পুরাণ,জিন্দালা*শ ও করোনার সাক্ষাৎকার, গল্প গুলো একটি বেশি পছন্দ হয়েছে। সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ করেছি ম্যাগাজিনটা।
প্রডাকশন ও শেষকথা : মুদ্রণশিল্পের দারুণ প্রডাকশন করেছে ম্যাগাজিনটার। পেপার ব্যাক না হয়ে হার্ডকভার দিলে যে কেউ এটাকে বইই মনে করবে। ক্রাউন সাইজের ও স্নিগ্ধ প্রচ্ছদের এই ম্যাগাজিনে আপনার যাত্রা ভালো হবে। যারা ম্যাগাজিন পড়েন তাদের জন্য উপভোগ্য একটা ম্যাগাজিন হবে বলে আমি আশা করি।
অন্য এক পত্রিকা। চিরাচরিত সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে তফাত বেশ। প্রোডাকশন কিংবা কন্টেন্ট সিলেকশন, উভয় ক্ষেত্রেই অন্যদের চেয়ে ভিন্ন কিছু পরিলক্ষিত হবে। চাইলে চেখে দেখতে পারেন।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি পরিবার থেকে একটা ধরা-বাঁধা নিয়ম করে দিলেও, পত্রিকা পড়ার শুরুটা হয়েছিল স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই। পত্রিকা পড়া নিয়ে আমার মা কখনোই আমাকে বকেনি। বরং আমি যখন নিজে থেকে উচ্চস্বরে পত্রিকার হেডলাইন কিংবা কয়েক লাইন পড়ে শোনাতাম, মা আমার রিডিং-টেস্ট নিয়ে নিতেন। আর কোনো শব্দ উচ্চারণে ভুল করলে মা সাথে সাথে শুধরে দিতেন।
আমার পত্রিকা পড়ার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ এবং Daily Observer এর মাধ্যমে। পরে বাবা প্রথম আলো, আজাদী এসব পত্রিকাও নিয়ে আসতেন। দুপুরে সবাই যখন ঘুমাতো, আমি বারান্দায় বসে পত্রিকার এপিঠ-ওপিঠ উলটে দেখতাম। যেই অংশ আমার ইন্টারেস্টিং বলে মনে হতো, সবার আগে সেটিই পড়ে ফেলতাম। আবার ম্যাগাজিন পড়তাম কিশোর আলো ও বিজ্ঞান চিন্তা।
ছোটবেলায় গল্পের বই পড়ার সুযোগ কিংবা কেনার টাকা ছিল না বলে ম্যাগাজিনে কিংবা পত্রিকায় থাকা গল্প, কবিতা, ধাঁধাঁ, ছোট গল্প, রাজনীতি, ইতিহাস, সামাজিক আলোচনা ইত্যাদি পড়েই কাটিয়ে দিতাম। সামাজিক ঘটনার সাথে প্রকাশিত ছবিগুলোর উপর মাঝে মাঝে ওভার-ড্র করে ম্যাগাজিন আর পত্রিকার মান ইজ্জত মাটিতে নামিয়ে আনতাম। একসময় পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিয়েছি, এরপর ম্যাগাজিন। তবে পড়ার অভ্যাস এখনো ছাড়িনি আমি। টাকা জমিয়ে বই কিনে পড়ার অভ্যাসটা রেখে দিয়েছি।
যেদিন ‘মুদ্রণশিল্প’ সাহিত্য পত্রিকা হাতে নিয়েছি, সেদিন সবার প্রথমেই আমার মনে পড়েছিল- একবার ‘কিশোর আলো’ পড়তে দিবে এই লোভ দেখিয়ে সেজো বোন আমাকে প্রতিদিনের তুলনায় পাটিগণিত এর দ্বিগুন অংক শেষ করিয়ে নিয়েছে। তখন বোধহয় কিছুটা নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম।
‘মুদ্রণশিল্প’ সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সংখ্যা যেদিন সংগ্রহ করেছি, পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং প্রোডাকশন দেখেই খানিকটা খুশি হয়ে গিয়েছিলাম। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, “Don’t judge a book by it’s cover"। এই লাইনটা আমি কখনোই বিশ্বাস করিনি। বরং বিশ্বাস করি, বইয়ের উপরটা দেখেই বইটা কিনি। মেলা কিংবা রকমারিতে ঘুরেফিরে কয়েকটা পাতা কিংবা লাইন পড়ার সুযোগ হয়। ঠিক যেমনটা আমার আপনার ফেসবুক বায়োতে দেওয়া থাকে। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভ্যাস, বাকিদের কথা জানি না। তাই আমার অভ্যাস থেকেই ‘মুদ্রণশিল্প’ সাহিত্য পত্রিকার প্রোডাকশন দেখার পর অনুভূতি হয়েছিল প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো।
পত্রিকা হাতে পাওয়ার পরপরই পড়ার ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও মিড এক্সাম থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এক্সাম শেষে সবার প্রথমে এই পত্রিকাটাই পড়া শুরু করি। শুরুতে খুঁজে খুঁজে নিজের চেনা-পরিচিত লেখক-লেখিকার লেখা পড়তে গিয়েও ভেতরের ইলাস্ট্রেশন দেখে আটকে যাই বারবার। যেই লেখাই সামনে পড়ে, ইলাস্ট্রেশনের প্রভাবে সেটিই পড়তে শুরু করি। এরপর সমস্ত খোঁজাখুঁজি বাদ দিয়ে শুরু থেকে পড়া শুরু করে দিলাম।
এই পত্রিকায় ছিল ডিসটোপিয়ান, অতিপ্রাকৃত, মিথলজি, হরর, থ্রিলার, সাইন্স ফিকশন, মাইক্রো ফিকশন, পলিটিক্যাল থ্রিলার, রম্যরচনা, ছোটগল্প, ছড়া, কবিতা, বিশেষ প্রবন্ধ, ফিচার, চলচ্চিত্র আলোচনা, বই আলোচনা, সাক্ষাৎকার, ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার, শিশু-কিশোর রচনা, অনুবাদ গল্প, ফটোগ্রাফি, জীবন ও জনপদ, তথ্য বিচিত্রা, কমিক্সসহ বই ও প্রকাশনা জগতের নানান আয়োজন। (এত কিছু একসাথে গুছিয়ে লেখার মেধা নেই আমার। যার ফলে এই অংশটুকু কপি করতে বাধ্য হলাম)
সর্বোপরি, পত্রিকা এবং ম্যাগাজিন পড়া হয় না বহু-বহু বছর। অথচ বই পড়ার অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ পড়ার পর মনে হলো, বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে ম্যাগাজিন কিংবা পত্রিকার স্থানান্তর ল্যাপটপ এবং মুঠোফোনের যুগে কাগজে ছাপানো ‘মুদ্রণশিল্প’ পড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য নস্টালজিক হওয়া আমার মতো মানুষের জন্য স্বাভাবিক। প্রতিটি লেখাই এত সুন্দর ছিল যে, আলাদা করে কোনোটির নাম নিতে চাইছি না। আমি এই পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যা পড়ার জন্য মুখিয়ে রইলাম। আপনারা যারা একমলাটে অনেককিছু পড়তে ভালোবাসেন, তারা এটি পড়ে দেখতে পারেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে এই আয়োজন আপনাদের ভালো লাগবে, সেটা জোর দিয়ে বলতে পারি।
ছোটবেলায় ম্যাগাজিন বলতে দেখতাম বিভিন্ন বিনোদন জগতের ম্যাগাজিন। সানন্দা ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে পাল্টে বিভিন্ন ছবি দেখতাম। আবার দেখেছিলাম উন্মাদ ম্যাগাজিন। সেখানে থাকতো কার্টুন, বিভিন্ন রম্য ধরনের রচনা। বড় হয়ে জানলাম এটি রম্য ম্যাগাজিন।
এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে তাঁদের ছেলের টেবিলে দেখলাম রঙিন একটা ম্যাগাজিন। আমি একটু পড়ুয়া স্বভাবের ছোটবেলা থেকেই। খুলে পড়তে শুরু করলাম। বাকিরা গল্পগুজব করছে, হৈচৈ করছে আমি হা করে ম্যাগাজিন পড়ছি। ছোটদের জন্য লেখা বিভিন্ন জিনিস। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, কমিক, হাতে আঁকা ছবি। নাম ছিল সম্ভবত কিশোর কন্ঠ। পাশে রাখা কিশোর আনন্দ ওইটাও পড়লাম।
বাসায় আসার পথে বায়না ধরলাম ওই ম্যাগাজিনটা নিবো। আম্মু আত্মীয়াকে বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর ছেলেকে রাজি করাতে পারলেন না। ওইগুলোর নাকি অনেক দাম। হা হা পরে এখন জানি কী দাম আর ছিল এগুলোর। যাই হোক মোটামুটি এটাই ছিল ম্যাগাজিন বলতে আমার কিছু টুকটাক চিন্তা আর অভিজ্ঞতা।
ম্যাগাজিন তো আমরা কমবেশি সবাই চিনি তো আমি একটা ম্যাগাজিন নিয়ে দেরি করে আমার কিছু কথা শেয়ার করি। মুদ্রণশিল্প থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ষাণ্মাসিক ম্যাগাজিন "মুদ্রণশিল্প"। প্রথম সংখ্যাটি আসলে এতদিন কেন পড়া হয়নি জানি না তবে সময় করে এবার পড়েই ফেললাম। মুদ্রিত অক্ষরে এখানে ছাপা হয়েছে সাহিত্যের বিভিন্ন কর্ম। আচ্ছা এইজন্যই কী ম্যাগাজিনের নাম "মুদ্রণশিল্প"? প্রকাশক অবশ্য ভালো বলতে পারবেন এর উত্তর।
ডিসটোপিয়ান, অতিপ্রাকৃত, মিথলজি, হরর, থ্রিলার, সাইন্স ফিকশন, মাইক্রো ফিকশন, পলিটিক্যাল থ্রিলার, রম্যরচনা, ছোটগল্প, ছড়া, কবিতা, বিশেষ প্রবন্ধ, ফিচার, চলচ্চিত্র আলোচনা, বই আলোচনা, সাক্ষাৎকার, ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার, শিশু-কিশোর রচনা, অনুবাদ গল্প, ফটোগ্রাফি, জীবন ও জনপদ, তথ্য বিচিত্রা, কমিক্স সহ নানান আয়োজন নিয়েই এই ম্যাগাজিন।
পৃষ্ঠাগুলো খুললেই দেখতে পাবেন প্রতিটি কন্টেন্টের সাথে জুড়ে দেওয়া আছে দারুণ সব ইলাস্ট্রেশন। আমার কাছে এই আইডিয়াটা দারুন লেগেছে। এগুলো যেন ম্যাগাজিনটার সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। জনপ্রিয় সব লেখকের লেখা আছে এখানে। আমার কাছে ভালো লেগেছে প্রতিটি লেখাই।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন বুকশপ ও বইগ্রুপ কিভাবে এতোদূর পর্যন্ত এসেছে তা নিয়ে আছে হাসান মিশুক ভাইয়ের সুন্দর ফিচার, আছে পুরাতন বইয়ের খোঁজখবর নিয়ে সৌমিক ভাইয়ের পুরাতন বইয়ের দোকানের ঠিকানা। কবিতা, প্রবন্ধ, কমিক্স, খেলাধুলার সাথে আছে অজানা তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর জীবন কথা। সজীব ভাইয়ার লেখা আজব প্রাণী বনরুই নিয়ে গল্প। বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন সব।
আমি মানে এই অধম এই ম্যাগাজিনে সুযোগ পেয়েছিলাম এত জ্ঞানী গুণী মানুষের ভীড়ে এটা আমার জন্য ছিল অনেক বড় পাওয়া। আলহামদুলিল্লাহ জীবনে প্রথম নিজের লেখা ছাপা অক্ষরে দেখার অনুভূতি ছিল অন্যরকম। আম্মুকে যখন দেখালাম নিজের লেখা আম্মুর হাসিমুখ দেখেই বুঝেছিলাম সে কতটা খুশি। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার হাসবেন্ডের লেখাও এখানে স্থান পেয়েছিল। একই সঙ্গে দুজনের লেখা ছাপা হয়েছিল এটা আরেকটা সুসংবাদ ছিল।
প্রথম সংখ্যাটির বাঁধাই থেকে শুরু করে ঝকঝকে প্রিন্ট এবং উপরের প্রচ্ছদটা এত দারুন হয়েছিল যে একটা অথেনটিক লুক প্রকাশ পাচ্ছিল যেন। মুদ্রণশিল্পের সবাইকে অভিনন্দন রইলো প্রথম সংখ্যার সফলতার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ দেয়ার জন্য।
সবশেষে একটা দারুন খবর বলি শীঘ্রই হয়তোবা ওনাদের দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হবে। ইতিমধ্যে লেখা জমা নেয়া হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে। আশা করছি এবারও নতুন কিছু চমক থাকবে দ্বিতীয় সংখ্যায়। "মুদ্রণশিল্প" তাঁদের প্রচেষ্টায় সাহিত্যের শৈল্পিকতার কাজ আবারো দারুন ফুটিয়ে তুলবেন।
সেই "হযবরল" দিয়ে শুরু। এরপর "কিশোর প্রতিভা", সবশেষে "আড়ম্বর"। দীর্ঘদিন বিরতির পর এবার "মুদ্রণশিল্প"। পত্রিকার নেশা কাটিয়ে ওঠা দায়। আমার জন্য আনন্দের বিষয় হলো প্রতিটি পত্রিকার সঙ্গেই থাকার সুযোগ হয়েছে। আগামীতেও থাকার ইচ্ছে রইল। শুভকামনা নিরন্তর।
একটা সময় ছিল যখন নিয়মিত 'কিশোর কণ্ঠ' আর 'ফুলকুড়ি' পত্রিকা হতো। মাঝে কিছুদিন 'কিশোর আলো' আর 'কিশোর বাংলা' পত্রিকাও ���ড়েছি। এরপর পড়াশোনার চাপে দীর্ঘদিন কোনো পত্রিকা পড়া হয়নি। বহুদিন পর বন্ধুদের সাজেশনে 'মুদ্রণশিল্প' নামের এই নতুন পত্রিকাটি পড়লাম। অনেক মজা পেয়েছি। প্রতিটা লেখাই উপভোগ্য ছিল। বিশেষ করে থ্রিলার গল্পগুলো। নতুন নতুন গল্প পড়ার জন্য হলেও পত্রিকাটি নিয়মিত পড়তে চাই। আশা করি পরবর্তী সংখ্যা আরও চমৎকার হবে।
বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকা আগেও পড়েছি, আগামীতেও পড়া হবে। কিন্তু যে মজা এই পত্রিকাটি পড়ে পেয়েছি তা কখনো আগে পাইনি। আগামীতেও এমনকিছু পাব কী না জানি না। এক মলাটে এতকিছু প্রত্যাশার বাহিরে ছিল। প্রত্যেকটা লেখাই গুণে-মানে অনন্য। সাইজটা বইয়ের মতই কিন্তু বই না। যারা পত্রিকাটি এনেছেন তাদের কাছে আবদার থাকবে পত্রিকাটি যেন নিয়মিত ছাপা হতে থাকে। এ ধরনের সাহিত্য পত্রিকা পড়ে ভালোলাগে।
প্রত্যেক সূচনার সাথে যুক্ত থাকার মতো ভালো কিছু আর হতেই পারে না। মুদ্রণশিল্পের প্রথম সংখ্যার মাঝেই নিজের নামটা দেখতে পারার আনন্দ একদম ভিন্নরকম। পত্রিকাটির বহুল প্রচার ও প্রসার কামনা করছি। আশা করি প্রতিবার যেন তাদের নতুন সংখ্যাটি আগের সংখ্যাকেও বহুগুণে ছাপিয়ে যায়। পত্রিকার সাথে সংযুক্ত সবার প্রতি শুভকামনা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইলো।