What do you think?


হাতকড়া
হুট করে উবে যাওয়া সম্প্রীতির আবির্ভাবও ঘটেছে হুট করেই!
সম্প্রীতির ফোনকলের বদৌলতে এক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির কেসে জড়িয়ে পড়েছেন শাহীনুর রায়হান। ওদিকে কামরাঙ্গীরচরের এক খুনের মামলার কেস লড়ছে জাস্টিস ল্য ফার্মের অ্যাসিস্টেন্ট লয়্যার নিপুণ। অতিসাধারণ দুটো কেসের অন্তরালে লুকিয়ে আছে কিছু নির্মম সত্য। শাহীনুর রায়হান ও নিপুণের হাত ধরে সেই সত্যের খোলাসা হবে কি না সেটাই এক বিরাট প্রশ্ন!
কাঠগড়ার মতো হাতকড়ায়ও উঠে এসেছে আদালত কক্ষের সমস্ত জঞ্জাল, সেই সাথে উঠে এসেছে নগরীর পঙ্কিল দিকের একাংশ। অপরাধের জগত আর সেই জগতের টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের দগ্ধ জীবন বিচরণ করতে চাইলে আপনাকে ঘুরে আসতে হবে হাতকড়ার শহরে।
সম্প্রীতির ফোনকলের বদৌলতে এক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির কেসে জড়িয়ে পড়েছেন শাহীনুর রায়হান। ওদিকে কামরাঙ্গীরচরের এক খুনের মামলার কেস লড়ছে জাস্টিস ল্য ফার্মের অ্যাসিস্টেন্ট লয়্যার নিপুণ। অতিসাধারণ দুটো কেসের অন্তরালে লুকিয়ে আছে কিছু নির্মম সত্য। শাহীনুর রায়হান ও নিপুণের হাত ধরে সেই সত্যের খোলাসা হবে কি না সেটাই এক বিরাট প্রশ্ন!
কাঠগড়ার মতো হাতকড়ায়ও উঠে এসেছে আদালত কক্ষের সমস্ত জঞ্জাল, সেই সাথে উঠে এসেছে নগরীর পঙ্কিল দিকের একাংশ। অপরাধের জগত আর সেই জগতের টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের দগ্ধ জীবন বিচরণ করতে চাইলে আপনাকে ঘুরে আসতে হবে হাতকড়ার শহরে।
- GenresThriller
144 pages, Hardcover
Published January 29, 2023
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
March 11, 2024
"বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৯১ ধারা মোতাবেক পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি ছিনাইয়া নিলে বা হস্তান্তরে বাধ্য করলে তাকে ডাকাতি বলে।"
এই তথ্য সঙ্গত কারণেই আমার জানার কথা নয়। মোটামুটি পড়াশোনা বা ঘাটাঘাটি না করে বই লিখে ফেলতে চাইলে লেখকেরও জানার বা জানানোর কথা নয়। যেহেতু গল্পের ভিত্তিপ্রস্তর সাজাতে গিয়ে এই দণ্ডবিধির প্রয়োগসহ উল্লেখ পাওয়া যায়, সেই সূত্রেই অনুমেয়: মনগড়া নয়, লেখার কাজটা খেটেখুটেই করেন সামসুল ইসলাম রুমি।
'হাতকড়া' একটা কোর্টরুম ড্রামা, লিগ্যাল থ্রিলার। কাঠগড়া নামে এই বইয়ের একটা প্রিকুয়েল ছিল, যেখানে একটা প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই শেষ করা হয়েছিল গল্প। হাতকড়ার শুরুটা ঠিক সেখান থেকেই। একটা ফোনকলের জের ধরে এক স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির কেসে জড়িয়ে পড়ে আইনজীবী শাহীনুর রায়হান। একই সাথে আরেকটা খুনের মামলায় নিযুক্ত হন জাস্টিস ল্য ফার্মের এসিস্টেন্ট লয়্যার নিপুণ। আলাদা দুটো কেস হিসেবে এগোলেও এক পর্যায়ে ছেঁড়া সুতো জোড়া লেগে যায়। তবুও পরিণতিতে একটা বড়সড় ধাক্কা টের পাওয়া যায়। উন্মোচিত হয় দগদগে ঘায়ের মতো নির্মম সত্য, নিত্যদিন দেখেও উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আমরা যা ভুলে যেতে চাই কিংবা অস্বীকার করি নিজের কাছেই।
আদালত কক্ষের জঞ্জাল আর নগরীর পঙ্কিল দিক নিয়ে ফিকশন লিখতে গিয়ে তরুণ লেখক বাস্তব জগতের যে অরাজকতার দিকে আঙুল তাক করে, সিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে- তাতে বিস্মিত হতে হয়। গল্পের ভাষা, চরিত্রায়ণ, পরিণতিতে যে যত্নের ছাপ মেলে; সত্য বলার দায়ে যাদের মুখ চেপে ধরা হয় তাদের পক্ষে কথা বলার যে আকুলতা দেখা যায়- প্রতিবাদের সেই সোচ্চার ভাষাকে সাধুবাদ জানাই।
সিরিজের দ্বিতীয় বইটা যথেষ্ট পরিণত: গল্প নির্মাণ এবং লিখনশৈলী- দু'দিক থেকেই। হাতকড়ার পরের বইয়ে পাঠকের প্রত্যাশা এবং লেখকের দায়ভার- অনেক বেশি বেড়ে গেলো নি:সন্দেহে।
এই তথ্য সঙ্গত কারণেই আমার জানার কথা নয়। মোটামুটি পড়াশোনা বা ঘাটাঘাটি না করে বই লিখে ফেলতে চাইলে লেখকেরও জানার বা জানানোর কথা নয়। যেহেতু গল্পের ভিত্তিপ্রস্তর সাজাতে গিয়ে এই দণ্ডবিধির প্রয়োগসহ উল্লেখ পাওয়া যায়, সেই সূত্রেই অনুমেয়: মনগড়া নয়, লেখার কাজটা খেটেখুটেই করেন সামসুল ইসলাম রুমি।
'হাতকড়া' একটা কোর্টরুম ড্রামা, লিগ্যাল থ্রিলার। কাঠগড়া নামে এই বইয়ের একটা প্রিকুয়েল ছিল, যেখানে একটা প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই শেষ করা হয়েছিল গল্প। হাতকড়ার শুরুটা ঠিক সেখান থেকেই। একটা ফোনকলের জের ধরে এক স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির কেসে জড়িয়ে পড়ে আইনজীবী শাহীনুর রায়হান। একই সাথে আরেকটা খুনের মামলায় নিযুক্ত হন জাস্টিস ল্য ফার্মের এসিস্টেন্ট লয়্যার নিপুণ। আলাদা দুটো কেস হিসেবে এগোলেও এক পর্যায়ে ছেঁড়া সুতো জোড়া লেগে যায়। তবুও পরিণতিতে একটা বড়সড় ধাক্কা টের পাওয়া যায়। উন্মোচিত হয় দগদগে ঘায়ের মতো নির্মম সত্য, নিত্যদিন দেখেও উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আমরা যা ভুলে যেতে চাই কিংবা অস্বীকার করি নিজের কাছেই।
আদালত কক্ষের জঞ্জাল আর নগরীর পঙ্কিল দিক নিয়ে ফিকশন লিখতে গিয়ে তরুণ লেখক বাস্তব জগতের যে অরাজকতার দিকে আঙুল তাক করে, সিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে- তাতে বিস্মিত হতে হয়। গল্পের ভাষা, চরিত্রায়ণ, পরিণতিতে যে যত্নের ছাপ মেলে; সত্য বলার দায়ে যাদের মুখ চেপে ধরা হয় তাদের পক্ষে কথা বলার যে আকুলতা দেখা যায়- প্রতিবাদের সেই সোচ্চার ভাষাকে সাধুবাদ জানাই।
সিরিজের দ্বিতীয় বইটা যথেষ্ট পরিণত: গল্প নির্মাণ এবং লিখনশৈলী- দু'দিক থেকেই। হাতকড়ার পরের বইয়ে পাঠকের প্রত্যাশা এবং লেখকের দায়ভার- অনেক বেশি বেড়ে গেলো নি:সন্দেহে।
February 20, 2024
যদি হুট করে চলে যাওয়া কেউ হুট করেই আবার চলে আসে, আর সাথে নিয়ে আসে রহস্যময় কিছু? তেমন ভাবেই শুরু এই গল্পটা। শাহীনুর রায়হানের কাছে শেষমেশ হারিয়ে যাওয়া পরিচিত কেউ উঁকি মারে। তাকে ঠেলে দেয় আরেকটা রহস্যের দিকে। সেই রহস্য উদঘাটনে তাকেই কেনো বেছে নেয়া হয়েছে জানেনা সে। তবে তাকে জিততেই হবে, আবারও।
পূর্বের বইটা একটা গল্পকে কেন্দ্র করে হলেও, এই গল্পে রয়েছে দুটো প্যারালাল ঘটনা। কারণ, এইবার আমাদের 'কাঠগড়া'র অন্যতম প্রিয় চরিত্র নিপুনও নেমেছে মাঠে, আরেক রহস্য উন্মোচন করে জিতে যেতে। তাই গল্পটা শুরু থেকেই বেশ ভালো রকমের পেসে ছিলো। লেখনীর কারণেই হয়তো, প্যারালাল ভাবে চলতে থাকা দুটো গল্পকে গুলিয়ে ফেলতে হয়নি। সিকুয়েল বা কোনো সিরিজের স্ট্যান্ড এলোনের ক্ষেত্রে যে ভয়টা পাঠকদের সবচেয়ে বেশি হয়, সেটা হচ্ছে লেখক দ্বিতীয় বইতে ক্যারেক্টারগুলোকে আগেরবারের মতো জীবন্ত রাখতে পারবেন কিনা, গল্পের প্রতি জাস্টিফাই করতে পারবেন কিনা, ক্যারেক্টারগুলোকে জাস্টিফাইড করতে পারবেন কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব না করতে পারলেই একটা সিরিজ ফেইল করে। লেখকের পূর্বের বইটা বেশ ভালো লাগলেও, এই বইটা শুরু করার আগে একপ্রকার তেমন ভয়েই ছিলাম আমি। তবে সত্যি বলতে আমার ধারণা এবং আমার ভয়কে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছেন লেখকই। পূর্বের গল্পটাকে লেখনী দ্বারা ছাপিয়ে গিয়েছেন ঠিকই, তার পাশাপাশি নিজেকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন পূর্বের তুলনায়! তাই সে নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবীদার।
অতিরিক্ত বর্ণনা ছিলোনা একদমই বইটাতে। আমার মনে হয়, যেখানে যতটুকু দরকার ছিলো ততটুকুই লেখা হয়েছে। অযথা বুলি আওড়াননি তিনি। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড ছিলো সবকিছু। খুবই সাধারণ ভঙ্গিমায় গল্প বলে গিয়েছেন তিনি। সাধারণ বললে অনেকেই ভাবতে পারেন, সাদামাটা। তবে, মূলত এই সাধারণ বলতে বোঝানো হচ্ছে বর্ণনাভঙ্গি এবং শব্দচয়ন। সাধারণভাবে গল্পটা লেখার কারণে, যেকোনো পাঠক খুব সহজেই পড়ে ফেলতে পারবেন গল্পটি। খুব বেশি অসুবিধা কারো হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস। আর এই লেখনীর কারণে গল্পটা চাইলেই একনাগাড়ে পড়ে শেষ করে ফেলা যাবে।
যারা আইন, কোর্ট ইত্যাদি ব্যাপারে খুব বেশি কিছু জানেন না, তাদের জন্যেও গল্পটা ধরতে খুব বেশি অসুবিধা হবেনা। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড হওয়ার পরেও যথেস্ট দারুনভাবে তিনি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আপনাকে বলে দিবেন গল্পে। জানা বা অজানা কারোই সেগুলো 'জমবে না' এমন হবেনা।
লেখা, বর্ণনা, আইন, ইত্যাদি নিয়ে তো অনেক কিছুই বললাম, এবার বলা যাক গল্পটার ফিনিশিং নিয়ে। শেষে এসে এতো কিছু হবে গল্পটায় সেটা ধারণা করতে পারিনি প্রথম দিকে। শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় এসে লেখক গল্পটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন পুরোপুরি, এটা সত্যিই আশা করিনি। ভেবেছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই জয়ের মধ্য দিয়ে কিংবা হেরে গিয়ে শেষ হবে গল্পটা। তবে সেখানেই দারুন ফাঁদ পেতেছেন লেখক। সাধারণ দেখতে হওয়া জিনিসগুলো যে আসলেও সাধারণ কিছু নয়, সেটার মোক্ষম ব্যবহার তিনি দেখিয়েছেন তার ফিনিশিং-এ। এবং সবচেয়ে বড় আফসোসের ব্যাপার, শেষে এসে আরও একগাদা প্রশ্নের জটলা পাকিয়ে দিয়ে লেখক সমাপ্তি টেনেছেন গল্পের। যেই প্রশ্নগুলো বইটা রাখার পরেও মনে বারবার খোঁচা দিচ্ছে। তবে এই আফসোস পাঠকের মনে রেখে দিয়ে এভাবে গল্পটা শেষ করার জন্য এক স্টার কম দেওয়া যায় কিনা জানিনা। তবে আক্রোশ অবশ্যই থাকবে লেখকের উপর এবং সাথে থাকবে তার পরবর্তী রহস্য উন্মোচনের উপাখ্যান পড়ার অপেক্ষা।
সর্বশেষে বলতেই হয়, লেখক দারুনভাবে জাস্টিফাইড করতে পেরেছেন এই সিরিজটাকে, এই গল্পটাকে এবং ছাড়িয়ে গিয়েছেন নিজের লেখনী। যদিও সেটা না হলেই অবাকই হতাম। বহুবারই শাহীনুর রায়হানের চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা অবাক করেছে, দারুন অনুভূতি দিয়েছে, তবে লেখক সেগুলোকে উপভোগ করার জন্য যথেস্ট সময় দেননি। অনুভূতি যখন ঠিক সর্বোচ্চ উচ্চতায় যাচ্ছে, তখনই তিনি আবার নামিয়ে এনেছেন নিচে। এরকম পাষবিক কারণেও এক স্টার কম দেয়া যায় কিনা জানিনা। তবে, এই অনুভূতির উপর-নিচই হয়তো গল্পটাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। লেখক চেষ্টা করেছেন যথেষ্ট। পূর্বের তুলনায় অবশ্যই আরও দারুন প্রচেষ্টা, এবং আমার মতে তিনি সফল আরেকবার। যারা কোর্টরুম থ্রিলার বা আদালতে হওয়া ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে চরিত্র কিংবা গল্প কিংবা রহস্য উন্মোচন ইত্যাদি পড়তে পছন্দ করেন, তাদের 'কাঠগড়া' এবং 'হাতকড়া' দুটোই পড়ে ফেলা উচিত। কারণ, এই জনরায় বর্তমানে ইনিই একমাত্র লেখক যিনি কাজ করছেন। এবং দুটো বই পড়ার পরে আমার মনে হচ্ছে, তার প্রচেষ্টা সফল। আশা করছি, এই বইয়ের শেষে এসে চাতক পাখির মতো যে জটলাগুলোর উত্তর খুঁজেছি, সেগুলোর উত্তর এবং রহস্য উন্মোচন লেখক খুব তাড়াতাড়িই করবেন।
বইঃ হাতকড়া
লেখকঃ সামসুল ইসলাম রুমি
প্রচ্ছদঃ তানিয়া সুলতানা, জাওয়াদ উল আলম
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৬০
পূর্বের বইটা একটা গল্পকে কেন্দ্র করে হলেও, এই গল্পে রয়েছে দুটো প্যারালাল ঘটনা। কারণ, এইবার আমাদের 'কাঠগড়া'র অন্যতম প্রিয় চরিত্র নিপুনও নেমেছে মাঠে, আরেক রহস্য উন্মোচন করে জিতে যেতে। তাই গল্পটা শুরু থেকেই বেশ ভালো রকমের পেসে ছিলো। লেখনীর কারণেই হয়তো, প্যারালাল ভাবে চলতে থাকা দুটো গল্পকে গুলিয়ে ফেলতে হয়নি। সিকুয়েল বা কোনো সিরিজের স্ট্যান্ড এলোনের ক্ষেত্রে যে ভয়টা পাঠকদের সবচেয়ে বেশি হয়, সেটা হচ্ছে লেখক দ্বিতীয় বইতে ক্যারেক্টারগুলোকে আগেরবারের মতো জীবন্ত রাখতে পারবেন কিনা, গল্পের প্রতি জাস্টিফাই করতে পারবেন কিনা, ক্যারেক্টারগুলোকে জাস্টিফাইড করতে পারবেন কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব না করতে পারলেই একটা সিরিজ ফেইল করে। লেখকের পূর্বের বইটা বেশ ভালো লাগলেও, এই বইটা শুরু করার আগে একপ্রকার তেমন ভয়েই ছিলাম আমি। তবে সত্যি বলতে আমার ধারণা এবং আমার ভয়কে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছেন লেখকই। পূর্বের গল্পটাকে লেখনী দ্বারা ছাপিয়ে গিয়েছেন ঠিকই, তার পাশাপাশি নিজেকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন পূর্বের তুলনায়! তাই সে নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবীদার।
অতিরিক্ত বর্ণনা ছিলোনা একদমই বইটাতে। আমার মনে হয়, যেখানে যতটুকু দরকার ছিলো ততটুকুই লেখা হয়েছে। অযথা বুলি আওড়াননি তিনি। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড ছিলো সবকিছু। খুবই সাধারণ ভঙ্গিমায় গল্প বলে গিয়েছেন তিনি। সাধারণ বললে অনেকেই ভাবতে পারেন, সাদামাটা। তবে, মূলত এই সাধারণ বলতে বোঝানো হচ্ছে বর্ণনাভঙ্গি এবং শব্দচয়ন। সাধারণভাবে গল্পটা লেখার কারণে, যেকোনো পাঠক খুব সহজেই পড়ে ফেলতে পারবেন গল্পটি। খুব বেশি অসুবিধা কারো হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস। আর এই লেখনীর কারণে গল্পটা চাইলেই একনাগাড়ে পড়ে শেষ করে ফেলা যাবে।
যারা আইন, কোর্ট ইত্যাদি ব্যাপারে খুব বেশি কিছু জানেন না, তাদের জন্যেও গল্পটা ধরতে খুব বেশি অসুবিধা হবেনা। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড হওয়ার পরেও যথেস্ট দারুনভাবে তিনি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আপনাকে বলে দিবেন গল্পে। জানা বা অজানা কারোই সেগুলো 'জমবে না' এমন হবেনা।
লেখা, বর্ণনা, আইন, ইত্যাদি নিয়ে তো অনেক কিছুই বললাম, এবার বলা যাক গল্পটার ফিনিশিং নিয়ে। শেষে এসে এতো কিছু হবে গল্পটায় সেটা ধারণা করতে পারিনি প্রথম দিকে। শেষ কয়েক পৃষ্ঠায় এসে লেখক গল্পটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন পুরোপুরি, এটা সত্যিই আশা করিনি। ভেবেছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই জয়ের মধ্য দিয়ে কিংবা হেরে গিয়ে শেষ হবে গল্পটা। তবে সেখানেই দারুন ফাঁদ পেতেছেন লেখক। সাধারণ দেখতে হওয়া জিনিসগুলো যে আসলেও সাধারণ কিছু নয়, সেটার মোক্ষম ব্যবহার তিনি দেখিয়েছেন তার ফিনিশিং-এ। এবং সবচেয়ে বড় আফসোসের ব্যাপার, শেষে এসে আরও একগাদা প্রশ্নের জটলা পাকিয়ে দিয়ে লেখক সমাপ্তি টেনেছেন গল্পের। যেই প্রশ্নগুলো বইটা রাখার পরেও মনে বারবার খোঁচা দিচ্ছে। তবে এই আফসোস পাঠকের মনে রেখে দিয়ে এভাবে গল্পটা শেষ করার জন্য এক স্টার কম দেওয়া যায় কিনা জানিনা। তবে আক্রোশ অবশ্যই থাকবে লেখকের উপর এবং সাথে থাকবে তার পরবর্তী রহস্য উন্মোচনের উপাখ্যান পড়ার অপেক্ষা।
সর্বশেষে বলতেই হয়, লেখক দারুনভাবে জাস্টিফাইড করতে পেরেছেন এই সিরিজটাকে, এই গল্পটাকে এবং ছাড়িয়ে গিয়েছেন নিজের লেখনী। যদিও সেটা না হলেই অবাকই হতাম। বহুবারই শাহীনুর রায়হানের চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা অবাক করেছে, দারুন অনুভূতি দিয়েছে, তবে লেখক সেগুলোকে উপভোগ করার জন্য যথেস্ট সময় দেননি। অনুভূতি যখন ঠিক সর্বোচ্চ উচ্চতায় যাচ্ছে, তখনই তিনি আবার নামিয়ে এনেছেন নিচে। এরকম পাষবিক কারণেও এক স্টার কম দেয়া যায় কিনা জানিনা। তবে, এই অনুভূতির উপর-নিচই হয়তো গল্পটাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। লেখক চেষ্টা করেছেন যথেষ্ট। পূর্বের তুলনায় অবশ্যই আরও দারুন প্রচেষ্টা, এবং আমার মতে তিনি সফল আরেকবার। যারা কোর্টরুম থ্রিলার বা আদালতে হওয়া ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে চরিত্র কিংবা গল্প কিংবা রহস্য উন্মোচন ইত্যাদি পড়তে পছন্দ করেন, তাদের 'কাঠগড়া' এবং 'হাতকড়া' দুটোই পড়ে ফেলা উচিত। কারণ, এই জনরায় বর্তমানে ইনিই একমাত্র লেখক যিনি কাজ করছেন। এবং দুটো বই পড়ার পরে আমার মনে হচ্ছে, তার প্রচেষ্টা সফল। আশা করছি, এই বইয়ের শেষে এসে চাতক পাখির মতো যে জটলাগুলোর উত্তর খুঁজেছি, সেগুলোর উত্তর এবং রহস্য উন্মোচন লেখক খুব তাড়াতাড়িই করবেন।
বইঃ হাতকড়া
লেখকঃ সামসুল ইসলাম রুমি
প্রচ্ছদঃ তানিয়া সুলতানা, জাওয়াদ উল আলম
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৬০
October 17, 2024
#Book_Insights 44
বহুদিন পর সম্প্রীতির কল পেয়েছে ব্যারিস্টার শাহীনুর রায়হান। সে সূত্রেই হাতে এসেছে স্বর্ণ ডাকাতির একটা কেস। ডাকাতির কারণে পথে বসতে বসেছে এক পরিবার। এদিকে রাজধানীর এক বালুর মাঠে পাওয়া গেছে এক লাশ। লাশের গায়ে নেই কোনো আঘাতের চিহ্ন। পরিবারের ইচ্ছেতে ময়নাতদন্ত হয়নি মৃত ব্যক্তির। এক ব্যাগের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয়েছে শিমুলকে। শিমুলকে নিরপরাধ প্রমাণের এ কেসটা লড়ছে শাহীনুর রায়হানের সহকারী নিপুণ।
ব্যারিস্টার শাহীনুর রায়হান সিরিজের দ্বিতীয় বই 'হাতকড়া'।
পড়তে গিয়ে, এমনকি রিভিউ লিখতে গিয়েও স্বাভাবিকভাবেই সিরিজের প্রথম বই 'কাঠগড়ার' সাথে একটা তুলনা এসে পড়ছিলো। একটু বিস্তারিত বলি।
কাঠগড়া ছিলো আমার পড়া লেখকের প্রথম বই, যার প্রকাশকাল ছিলো ২০২৩ সালের বইমেলা। বছরখানেক ব্যবধানে লেখকের লেখনশৈলির বেশ উন্নতি হয়েছে। যদিও 'কাঠগড়ায়' লেখার ধরন নিয়ে তেমন অভিযোগ ছিলো না আমার। তবে গল্প বলার ভঙ্গি ত্রুটিপূর্ণ লেগেছিলো বেশ; উন্নতি হয়েছে সেখানেও। তবে 'হাতকড়া' নিয়ে একেবারে যে অভিযোগ নেই সেটাও বলবো না।
গল্পকে টার্ন করাতে কিছুটা হোঁচট খাওয়া হয়েছে বলা যায়। মূল টুইস্ট দেয়ার সময় অতোটা হিট করেনি। লেখক ডাকাতি ও হত্যার বিষয়টাকে এতোটাই তুলে ধরেছেন, যে টুইস্ট এর জন্য আলাদা করে হিন্ট রাখেননি। ব্যপারটা এমন হয়েছে যে, কেসটা সলভের পর শাহীনুর রায়হানের মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে আর তারপরের দৃশ্যেই আমরা সে প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই এবং সেটাই টুইস্ট। অথচ বিষয়টা হওয়ার কথা ছিলো সাসপেন্স যুক্ত। তবে পার্থক্য আছে। আগের কেসটা ছিলো শুধুমাত্র আগুন লাগার কারণ নিয়ে, সেখান থেকে কেসটা আর নড়েনি। এক্ষেত্রে কিন্তু কেসের উত্থান পতন ভালোই হয়েছে। বিষয়টা আমি লেখকের লেখনশৈলির উন্নতি হিসেবেই দেখছি।
কোথায় থামতে হবে সেই ব্যাপারে শাহীনুর রায়হানের কোনো ধারণা নেই।
কথাটা সত্যি। তবে কাঠগড়া আর হাতকড়ার মাঝে এর ফারাক স্পষ্ট। কাঠগড়ায় শাহীনুর রায়হানের অহমিকা প্রবন মনোভাব যা ছিলো, সেটা এখানে ততোটা দেখা যায়নি। বরং আগের তুলনায় তার চতুরতার ও বিচক্ষণতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটা সিরিজের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট হিসেবে এটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। একই কথা সহকারী নিপুণের ক্ষেত্রেও বলবো। এ চরিত্রটাকেও আগের তুলনায় অনেকটা স্বাবলম্বী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
• ব্যক্তিগত মতামত:
প্যারালাল ভাবে দুটো ভিন্ন কেস চলছে। পাঠককে অবশ্যই দুটো গল্পে সমানভাবে মনযোগ দিতে হবে। আবার লেখকেরও কাজ হবে দুটো গল্পে টান টান উত্তেজনা ধরে রাখা, যাতে করে একটা কেসের বিবরণ পড়ার সময় আরেকটা কেসের কথা পাঠক ভুলে না যায়। এক্ষেত্রে ভুলে যাওয়ার বিষয়টি তো ঘটেনি, কিন্তু দৃশ্যপট অন্য কেসে শিফট হওয়ার সময় পাঠক যে আগের দৃশ্য নিয়ে কৌতূহলী হবে সেরকম 'হুক' রাখাও হয়নি। আবার অধ্যায়গুলোও ছোট ছোট হয়ে গেছে। বিশেষ করে মাঝ পর্যায়ে, একটা করে প্রমাণ আর তার রায় দিয়েই অধ্যায় শেষ হচ্ছে। 'বিচার ব্যবস্থা তো নয় যেন কচ্ছপ!' লেখক এ বিষয়টা দাঁড় করাতে চেয়েছেন, বিষয়টা বুঝেছি। কিন্তু পাঠক একঘেয়ে অনুভব করবে কিনা, সেটাও তো বুঝতে হবে।
যতটুক জানি, সিরিজের তৃতীয় বই নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে। যেহেতু এক বছরের ব্যবধানে লেখক এতোটা উন্নতি করতে পেরেছেন, আশা করি বাকি ত্রুটিগুলোও কাটিয়ে তুলতে পারবেন।
• ব্যক্তিগত রেটিং: ৬.৫/১০
• বই: হাতকড়া
• লেখক: সামসুল ইসলাম রুমি
• ধরণ: কোর্টরুম ড্রামা, লিগ্যাল থ্রিলার
• প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
• প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৪
• প্রচ্ছদ: তানিয়া সুলতানা ও জাওয়াদ
• পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
• মুদ্রিত মূল্য: ২৬০ টাকা
~ ইয়াসির আল সাইফ
বহুদিন পর সম্প্রীতির কল পেয়েছে ব্যারিস্টার শাহীনুর রায়হান। সে সূত্রেই হাতে এসেছে স্বর্ণ ডাকাতির একটা কেস। ডাকাতির কারণে পথে বসতে বসেছে এক পরিবার। এদিকে রাজধানীর এক বালুর মাঠে পাওয়া গেছে এক লাশ। লাশের গায়ে নেই কোনো আঘাতের চিহ্ন। পরিবারের ইচ্ছেতে ময়নাতদন্ত হয়নি মৃত ব্যক্তির। এক ব্যাগের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয়েছে শিমুলকে। শিমুলকে নিরপরাধ প্রমাণের এ কেসটা লড়ছে শাহীনুর রায়হানের সহকারী নিপুণ।
ব্যারিস্টার শাহীনুর রায়হান সিরিজের দ্বিতীয় বই 'হাতকড়া'।
পড়তে গিয়ে, এমনকি রিভিউ লিখতে গিয়েও স্বাভাবিকভাবেই সিরিজের প্রথম বই 'কাঠগড়ার' সাথে একটা তুলনা এসে পড়ছিলো। একটু বিস্তারিত বলি।
কাঠগড়া ছিলো আমার পড়া লেখকের প্রথম বই, যার প্রকাশকাল ছিলো ২০২৩ সালের বইমেলা। বছরখানেক ব্যবধানে লেখকের লেখনশৈলির বেশ উন্নতি হয়েছে। যদিও 'কাঠগড়ায়' লেখার ধরন নিয়ে তেমন অভিযোগ ছিলো না আমার। তবে গল্প বলার ভঙ্গি ত্রুটিপূর্ণ লেগেছিলো বেশ; উন্নতি হয়েছে সেখানেও। তবে 'হাতকড়া' নিয়ে একেবারে যে অভিযোগ নেই সেটাও বলবো না।
গল্পকে টার্ন করাতে কিছুটা হোঁচট খাওয়া হয়েছে বলা যায়। মূল টুইস্ট দেয়ার সময় অতোটা হিট করেনি। লেখক ডাকাতি ও হত্যার বিষয়টাকে এতোটাই তুলে ধরেছেন, যে টুইস্ট এর জন্য আলাদা করে হিন্ট রাখেননি। ব্যপারটা এমন হয়েছে যে, কেসটা সলভের পর শাহীনুর রায়হানের মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে আর তারপরের দৃশ্যেই আমরা সে প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই এবং সেটাই টুইস্ট। অথচ বিষয়টা হওয়ার কথা ছিলো সাসপেন্স যুক্ত। তবে পার্থক্য আছে। আগের কেসটা ছিলো শুধুমাত্র আগুন লাগার কারণ নিয়ে, সেখান থেকে কেসটা আর নড়েনি। এক্ষেত্রে কিন্তু কেসের উত্থান পতন ভালোই হয়েছে। বিষয়টা আমি লেখকের লেখনশৈলির উন্নতি হিসেবেই দেখছি।
কোথায় থামতে হবে সেই ব্যাপারে শাহীনুর রায়হানের কোনো ধারণা নেই।
কথাটা সত্যি। তবে কাঠগড়া আর হাতকড়ার মাঝে এর ফারাক স্পষ্ট। কাঠগড়ায় শাহীনুর রায়হানের অহমিকা প্রবন মনোভাব যা ছিলো, সেটা এখানে ততোটা দেখা যায়নি। বরং আগের তুলনায় তার চতুরতার ও বিচক্ষণতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটা সিরিজের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট হিসেবে এটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। একই কথা সহকারী নিপুণের ক্ষেত্রেও বলবো। এ চরিত্রটাকেও আগের তুলনায় অনেকটা স্বাবলম্বী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
• ব্যক্তিগত মতামত:
প্যারালাল ভাবে দুটো ভিন্ন কেস চলছে। পাঠককে অবশ্যই দুটো গল্পে সমানভাবে মনযোগ দিতে হবে। আবার লেখকেরও কাজ হবে দুটো গল্পে টান টান উত্তেজনা ধরে রাখা, যাতে করে একটা কেসের বিবরণ পড়ার সময় আরেকটা কেসের কথা পাঠক ভুলে না যায়। এক্ষেত্রে ভুলে যাওয়ার বিষয়টি তো ঘটেনি, কিন্তু দৃশ্যপট অন্য কেসে শিফট হওয়ার সময় পাঠক যে আগের দৃশ্য নিয়ে কৌতূহলী হবে সেরকম 'হুক' রাখাও হয়নি। আবার অধ্যায়গুলোও ছোট ছোট হয়ে গেছে। বিশেষ করে মাঝ পর্যায়ে, একটা করে প্রমাণ আর তার রায় দিয়েই অধ্যায় শেষ হচ্ছে। 'বিচার ব্যবস্থা তো নয় যেন কচ্ছপ!' লেখক এ বিষয়টা দাঁড় করাতে চেয়েছেন, বিষয়টা বুঝেছি। কিন্তু পাঠক একঘেয়ে অনুভব করবে কিনা, সেটাও তো বুঝতে হবে।
যতটুক জানি, সিরিজের তৃতীয় বই নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে। যেহেতু এক বছরের ব্যবধানে লেখক এতোটা উন্নতি করতে পেরেছেন, আশা করি বাকি ত্রুটিগুলোও কাটিয়ে তুলতে পারবেন।
• ব্যক্তিগত রেটিং: ৬.৫/১০
• বই: হাতকড়া
• লেখক: সামসুল ইসলাম রুমি
• ধরণ: কোর্টরুম ড্রামা, লিগ্যাল থ্রিলার
• প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
• প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৪
• প্রচ্ছদ: তানিয়া সুলতানা ও জাওয়াদ
• পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪
• মুদ্রিত মূল্য: ২৬০ টাকা
~ ইয়াসির আল সাইফ
Displaying 1 - 3 of 3 reviews




