‘তুই বড় হইয়া মানুষ হইছ্ বাপজান।’ মানুষ কী হতে পেরেছে পলাশ? সে ডায়েরিটা খুলে বসে চোখের সামনে, পাতা উলটায়। কত কত নাম এখানে। গত বিশ বছরের জমানো সম্পদ! আজ এখানে লিপিবদ্ধ হবে আরেকটি নাম। কিন্তু, নামটা এখন মনে আসছে না কেন? কিছুক্ষণ মাথা চাপড়ায় পলাশ। ইদানীং মানুষের নাম মনে থাকে না ওর। ডাক্তার দেখাতে হবে। মানসিক ডাক্তার। পলাশের মনে হয় একদিন সে সবকিছু ভুলে যাবে। ভুলে যাবে নিজের নাম, পরিচয়। মায়ের চেহারা, বাপজানের চেহারা। সব ভুলে গেলে একটা মানুষ কীভাবে বাঁচে!
টিভি চালু। পলাশ বসে আছে টিভির সামনে। একটা নিউজ স্ক্রল হচ্ছে বারবার, ‘আবারও হেয়ার কালেক্টর! এবার অজ্ঞাতনামা নারীর খ-িত লাশ পাওয়া গেছে মধুবাগ জামে মসজিদের সামনে।’ এই নিউজটা সকাল থেকেই চলছে সব চ্যানেলে। টিভিটা বন্ধ করে মুচকি হাসল পলাশ, তারপর স্মৃতিতে ডুব দিল আবার... লইস্কার বিল থেকে বাপজানের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘বাপজান, কও তো মানুষের সবচেয়ে সুন্দর জিনিস কী?’ ছেলের এই আচমকা প্রশ্নে দ্বিধায় ভোগে সহজ-সরল রহমত মিয়া। দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলে, ‘কইতে পারি না বাজান।’ পলাশ তখন হেসে দিয়ে বলেছিল, ‘চুল বাপজান। চুল।’
❛স্ট্রেটনার দিয়ে চুল সোজা করে ফেলেন রমণীরা। কোঁকড়া চুল দেখলেই ঘ্যা চাং!❜
এমনিতে শহরে পণ্যের দাম বেশি, চু রি, ছি নতাই, আর নিয়ম না মেনে বানানো বহুতল ভবনে দুর্ঘটনা ছাড়া তেমন কিছু ঘটে না। ঘটলেও তদন্তের খাতিরে সব গোপন রাখা হয়। কিন্তু যখনই লেখক একটা আলাদা ঘরনায় লিখতে বসেন তখনই সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সুন্দর সুন্দর মাইয়া গুলা নিখোঁজ হইতে থাকে। আর ফিরে আসে লা শ হয়ে। তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে ফিকশনাল জগতে। রাজধানীর মধুবাগ এবং আশেপাশের এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরী তরুণী। খোঁজ মিলছে পঁচা গলা দুর্গন্ধযুক্ত আট টুকরার লা শ হিসেবে। সাথে মুন্ডিত মাথা। যত্ন করে চুল গুলো কেটে নেয়া হয়েছে। দুটো এমন দেহ মিলার পর বৈশিষ্ট্য যাচাই করে দেখা গেলো নি হ ত দুইজনের সাদৃশ্য মেঘের মতোন কোঁকড়া চুলে। মানে ঘাতক এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের নারীদের টার্গেট করে মে রে দিচ্ছে অতি ভয়া নকভাবে। বলাই বাহুল্য খু নি মশাই রাখছেন না কোনো চিহ্ন। তাই তদন্তকারী অফিসার মোর্তজা বশির এবং তার ঊর্ধ্বতন ফকির সাহেবের মাথায় হাত। স্মার্ট এই খু নি যে একজন ক্রমিক খু নি সেটা খু নের ধরন দেখে নিশ্চিত করা গেছে। সম্ভাব্য সন্দেহভাজন খুঁজে পেতে ম রি য়া মোর্তজা। এদিকে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পিবিআইয়ের কাছে কেস চলে যাবার হুমকি। এদিকে ফকির চাঁন আবার খু নির গাল ভরা এক নাম দিয়েছেন ❛হেয়ার কালেক্টর❜!
❛Papa kehte hain bara nam karega Beta hamara aisa kam karega❜
এমনই ইচ্ছে ছিল রহমতের তার ছেলে পলাশকে নিয়ে। উকিল, ব্যারিস্টার হতে না পারলেও পলাশ স্কুল মাস্টার হয়েছে। নিজের ইচ্ছা ছিল গণিতের মাস্টার হবে। তবে বাংলায় মাস্টারি করেও মন্দ যাচ্ছে না দিন। প্রতিটা মানুষের মাঝেই একটা গ্রে সাইড থাকে। কিছু বিকৃত রুচি বা ইচ্ছা। সেটা কখনো সহনশীল আবার কখনো কুৎসিত। পলাশ মাহবুবেরও এমন এক বাজে দিক আছে। যেটা সে চরিতার্থ করে ছাত্রীদের নাম্বার কমিয়ে দিয়ে। পলাশের কুৎসিত দিকের চেহারাটা কতটা খা রাপ? বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী সে মানুষ হতে পেরেছে কি?
পরপর চারজন তরুণী নিখোঁজ হয়ে গেলেও মূল হ ন্তারক অধরা রয়ে যায়। এদিকে উপরমহল, মিডিয়ার চাপ তো আছেই। কোনো পক্ষই চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না। কিন্তু খু নি শিরায় শিরায় চলছে। এবার কেসে যুক্ত হয়েছে পিবিআই অফিসার দুর্জয় শাকিল ও তার বস আসিফ আলী। কেসে হাত না দিতেই সাহায্যকারী অফিসার মোর্তজার বিপদ। কিসের কাজে ব্যস্ত থেকে নিজের হবু স্ত্রীকে বিপদে ঠেলে দিবে বুঝতে পারেনি সে। চারজন হারিয়ে যাওয়া তরুণীর মাঝে মোর্তজার হবু স্ত্রীও একজন। দুর্ভাগ্যক্রমে সেও মেঘের মতো কোঁকড়া চুলের অধিকারিণী। সর্বনাশ হওয়ার আগেই কি খুঁজে পাবে তাকে? শাকিল তার দল এবং মোর্তজা প্রাণপণ চেষ্টা করছে। হাতে রসদ কম নিয়ে চৌকস খু নির সাথে পেরে উঠবে কি না কে জানে!
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝ধূসর চরিত্র❞ সিকি জনরার থ্রিলার উপন্যাস। লেখকের একই ধারায় লেখা তৃতীয় বই এটি। তিনটার সাথে হিসেব করলে আমার এখন মনে হচ্ছে প্রথম বইটার আদ্যোপান্ত বেশি সবল ছিল। সিরিয়ালে তৃতীয় থাকবে এই বইটি। প্লট, রহস্য বাদ দিয়ে যদি লেখার ধরন, বর্ণনা ধরন আর গতি হিসেব করি তবে লেখকের লেখার পরিপক্কতা এই বইতে বেশ ভালো। ২৫৬ পৃষ্ঠার বই আমি দুপুর বেলা ধরে রাতের মধ্যে শেষ করে ফেলেছি। বর্ণনার গতি অনেক বেশি ছিল বিধায় flash এর গতিতে পড়ে ফেলছি। সিকি ধাঁচের বইতে যেরকম ব্যাপারস্যাপার থাকে এই বইও সেভাবেই শুরু হয়েছে, এগিয়েছে। তবে আগের বইগুলোর হিসেবে একই ধারা লেগেছে। শুরুতে একরকম ভাবেই রহস্য এগিয়েছে। তবে পরে দিয়ে লেখার গতি পাল্টে গেছে। বর্ণনায় বেশ ভালো ভাবে ঢুকে গিয়েছিলাম। পুলিশি তদন্ত, টেকনিক্যাল কাজকর্ম থেকে শুরু করে চৌকস ব্যক্তি তথা পুলিশেরও যেসব ভুল হয় সব মিলিয়ে উপন্যাস এগিয়েছে দারুণভাবে। এখানে অ্যান্টাগনিস্ট সামনে না এসেই তার ক্যালমা ভালো করে দেখিয়েছেন। এদিকে তদন্তকারী পুলিশ থেকে পিবিআই অফিসার সবাইকে ঘোল খাইয়েছেন। রহস্যের যে সুতো একটু করে ছেড়েছেন সেটা ভালোই প্যাঁচ তৈরি করেছে। লেখকের বর্ণনার ধরন আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে এই উপন্যাসে ব্যবহৃত বা উল্লেখিত স্থানগুলোতে আমার যাওয়া আসা হয়েছে। এমনকি বেশ রাত করেও আমি ওই জায়গাগুলো দিয়ে ভ্রমণ করেছি একা, কখনো দিনে কখনো রাতে। তাই পড়ার সময় স্বাভাবিকভাবেই গা ছমছমে একটা অনুভুতি খেলেছে। পরিচিত পরিবেশে খু ন খারাবির ঘটনা গুলো পড়ার সময় আগের বইয়ের মতোই আমি কল্পনা করতে পেরেছি। এজন্য পড়ার সময়ের অনুভূতি অবশ্যই একটু ভিন্ন ছিল। উপন্যাসের শুরু থেকে আমার কাছে মাঝের দিক এবং শেষের আগ পর্যন্ত বেশ ভালো লেগেছে। বর্ণনা, চরিত্রের আগমন তাদের বৈশিষ্ট্য, বৈচিত্র্য এবং তাদের মধ্যকার গ্রে সাইডের যে ধারনা দিয়েছেন উপভোগ্য ছিল। তবে উপন্যাসের শেষ লিখতে গিয়ে লেখকদের কী জানি হয়। দ্রুত শেষ করে দেন না লিখতে ইচ্ছা করেনা জানি না। এই উপন্যাসেও শেষটা খুব দ্রুত হয়ে গেছে। এত তেলপানি খরচ করে যার নাগাল পাওয়া যাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাকে একটু মঞ্চ করে দিলে ভালো হতো। ২৫৬ পৃষ্ঠার বইতে শুধু লা শ, বর্ণনা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ পড়ার পর শেষে মাত্র এইটুকু অংশে অ্যান্টাগনিস্ট নিয়ে কাজ আমার মনঃপুত হয়নি। তাকে আরো একটু জায়গা দেয়া যেত। অথবা মনে হয়েছে পর্দার আড়ালে কিংবা কোনোভাবে তার কোনো কাজের বর্ণনা দেয়া যেত। ধূসর চরিত্র হয়ে ওঠার পেছনে যে কারণ সেটা পোক্ত না অ-পোক্ত সে আলোচনায় যাচ্ছি না। কারণ মানুষের মন বড়ো অদ্ভুত। কখন কী করে ফেলে জানে না কেউ। সেক্ষেত্রে তুচ্ছ ঘটনাও মনের কুৎসিত দিককে বের করে আনতে পারে।
বরাবরের মতোই এখানেও আমার কিছু অসামঞ্জস্য চোখে পড়েছে। আবার আমার কাছে যুতসই লাগে নি আরকি। যেমন,
(এনে স্পয়লার আছে মনে হয়। চোখ বুজিয়া রাখেন)
** ছেনু মিয়ার ব্যাপারটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ** এখানেও লেখক এক জায়গায় কু কু র মে রে ফেলার বর্ণনা দিয়েছেন। এটা এই উপন্যাসে অযৌক্তিক না হলেও আগের দুটোর সাথে তুলনা করলে একটা ব্যাপার লক্ষণীয়। আগের দুটো বইতেও রহস্যজনক কারণে লেখক কু কু র মে রে ফেলছিলেন। লেখকের কী আমার মতো কু কু র ভাল্লাগেনা তাই? ** পলাশের ব্যাপারে আমার কিছু কনফিউসন আছে। পলাশের ছোটকালের বর্ণনার সাথে তার বয়সকালে কিছু স্মৃতিচারণ মিল ছিল না। তার ভাইয়ের ব্যাপারটাও একই। এক জায়গায় বলা ছিল পলাশের ভাই হারিয়ে গেছে কোনোভাবে। আবার এক জায়গায় বলা তার ভাইও তাকে পাত্তা দিত না। পলাশের শৈশবের সাথে বর্তমানের স্মৃতিচারণ গুলো মিল পাইনি। ** পলাশের ঘটনার সাথে আমার কাছে Ratsasan সিনেমার একটা চরিত্রের বেশ মিল লেগেছে। ** সব ব্যাটাই কেন রাগলে বউ পে টাবে?
এসব বিষয় বাদে উপন্যাস উপভোগ্য। বিশেষ করে রুবিনার ঘটনার বর্ণনা আমি বেশ উত্তেজনা নিয়ে পড়েছি। শেষটা আরেকটু দীর্ঘ বা আরেকটু বর্ণনামূলক হতে পারতো। এতে পড়ার অভিজ্ঞতা ভালো হতো আরো। তবে মজা লাগছে কুদ্দুস মিয়া মাঝে দিয়া ৪০০০ টাকা ধরা খাইলো! (খিকখিক)
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
অন্যধারার বইয়ের বাইন্ডিং প্রোডাকশন ভালো। তবে বানান ভুলের মাত্রা একটু বেশি। আর প্রচ্ছদটা আমার কেন জানি ভালো লাগেনি তেমন।
লেখকের কাছে আকুল আবেদন, সব বইতে মাইয়া মে রে ফেলার ধান্দা বাদ দেন। একজন তুখোড় নারী সিকি আনেন। যে সুন্দর ব্যাটা অথবা ব দ চরিত্রের ব্যাটাদের তেহারির মাংসের মতো পিস পিস করে কেটে নালায় ভাসায় দিবে। অতিপ্রাকৃত বইতেও মাইয়া মানুষ মে রে দেন। সিকি বইতে অবধারিতভাবে নার���দের খা লা স করে দেন। ইতনি ভেডভাও কিউ?
❛আচ্ছা আপনার চরিত্রের ধূসর দিক কোনটা একটু ভেবে দেখেন তো!❜
আমরা মৃত্যুর আগে কি বুঝিতে চাই আর? জানি না কি আহা, সব রাঙা কামনার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে ধূসর মৃত্যুর মুখ;-একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিল-সোনা ছিল যাহা।
এই শহরে নিরাপত্তা বলতে কিছুই যেন নেই। আর যদি তা-ই হতো তাহলে এভাবে হুটহাট কেউ হারিয়ে যেত না। বিশেষ করে তরুণী, যুবতীদের হারিয়ে যাওয়া খুবই বাজে ইঙ্গিত করে। ওরা হারিয়ে যায়। আবার ফিরে আসে। কিন্তু কথা বলার মতো অবস্থা থাকে না। আট খন্ডে বিভক্ত হয়ে বস্তাবন্দী লাশে পরিণত হয়, তখন ভয়ের পাল্লাটা ভারী হয়। তোলপাড় শুরু হয় পুলিশ প্রশাসনে। একে একে দুইবার এক ধারায় দুটি লাশ পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, বিভৎস লাশ দুটির মাথায় চুল নেই। একদম নিখুঁতভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে কি শহরে এমন কোনো সাইকোপ্যাথের আবির্ভাব হয়েছে, যার শখ নারীদের চুল সংগ্রহ করা? তাও আবার কোকড়া ছিল?
ছোটবেলায় মানুষ যে অবস্থায় থাকুক না কেন, দুচোখে অনেক বড়ো স্বপ্ন থাকে। কৃষক পরিবারে জন্ম নিলেও পলাশকে নিয়ে তার বাবার অনেক স্বপ্ন। ছেলে বড়ো হয়ে উকিল ব্যারিস্টার হবে। শাপলা বিলে শাপলা তুলতে থাকা ছোট্ট পলাশ বড়ো হয়ে উকিল হতে না পারলেও এখন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের শিক্ষক ছাত্রীদের নম্বর প্রদানে নয়-ছয় করে। এই সমাজে প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো দিক দিয়ে সাইকোপ্যাথ। কারোটা প্রকাশ পায়, কেউ বা আড়ালে থাকে। কারোটা স্বাভাবিক মনে হয়, কেউ আবার হয় বিকৃত রুচির ভয়ংকর কেউ! পলাশ মাহবুব তেমনই একজন মানুষ। এই গল্পে তার ভূমিকা কী?
দু দুটি বস্তাবন্দী লাশ টলিয়ে দিয়েছে রমনা থানাকে। ওসি ফকির চানের নেতৃত্বে মোর্তজা ও রাসেল ছুটে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক। কোনো সূত্র খুঁজে পেলেই হামলে পড়ছে। কিন্তু দিন শেষে কানাগলি ছাড়া কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। তারপরও চেষ্টা যে করতে হয়। কিন্তু এত চেষ্টার পর জানা যায়, নিজেদের এই কেস হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন হতাশা ঘিরে ধরে। এই কেসে যুক্ত হয়েছে পিবিআই। আসিফ আলী ও দুর্জয় শাকিল আবারও কথিত সিরিয়াল কিলার ধরতে মরিয়া। তাদের সাহায্য করছে মোর্তজা। কেননা সেও এই চক্রে বন্দী হয়ে পড়েছে। নিজের বাগদত্তার সাথে প্রথম দেখার পর আর দেখা হয়নি। রীতিমতো উধাও হয়ে গিয়েছে। যেই শহরে নিখোঁজ তরুণীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই শহরে কোনোকিছু না জানিয়ে নীরব হয়ে যাওয়া চাপা আশঙ্কার জন্ম দেয়। ভয়ের বীজ বপন হচ্ছে।
মোর্তজা কি তার বাগদত্তাকে খুঁজে পাবে? ক্লুলেস এই রহস্যের সমাধান কোথায়? রমনা থানার সাথে পিবিআই কি পারবে শেষ পর্যন্ত যেতে? কেন এই নির্মমতা? এমন সাইকোপ্যাথ মানুষ হয়?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
লেখক মনোয়ারুল ইসলামের আরও একটি সিরিয়াল কিলিং উপজীব্য রোমাঞ্চকর এক থ্রিলার “ধূসর চরিত্র”। এই রোমাঞ্চিত গল্প কেমন লাগল, বলার আগে একটা বিষয় বলতে হয়— লেখকের অন্যান্য সিরিয়াল কিলিং বইয়ের তুলনায় এই বইটিকে একটু দুর্বল মনে হলো।
কারণ একই ধারার সূচনা। সেই বস্তি, বস্তির পাশে বস্তাবন্দী লাশ, কোনো এক দিন মজুরকে দিয়ে শুরু— একই শুরুর কারণে কিছুটা আবেদন কমে গিয়েছিল প্রথমে। যদিও এরপর দৌড়ঝাঁপ, ছুটাছুটি, রহস্য সমাধানে ব্যস্ততা ছিল মন মতো। তদন্ত প্রক্রিয়ায় বেশ পরিণতি লেখনশৈলী পেয়েছি। এই জায়গায় লেখকের উন্নতি লক্ষণীয়। সূত্র ছড়িয়ে দেওয়া, সেই সূত্র অনুযায়ী তর্ক বিতর্ক আলোচনা ছিল একদম যথাযথ। লেখকের লেখা সবসময় পছন্দের। কোন বাহুল্য থাকে না। গতিশীল লেখার পাশাপাশি গল্পের গতিশীলতা ছিল বেশ। ফলে কোনো ধরনের বাঁধা সৃষ্টি হয়নি।
লেখকের লেখায় একটা বিষয় ভালো লাগে, তিনি সবগুলো চরিত্র নিয়ে কাজ করেন। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ছোটো বড়ো সব চরিত্র প্রাধান্য পায়। এতে করে প্রতিটি চরিত্র ও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়। এছাড়া লেখক সবসময় চেষ্টা করেন চরিত্রগুলোকে রহস্যের আবরণে রাখতে। এর ভালো বা খারাপ দুই বিষয়ই আছে। ভালো দিক হচ্ছে, চরিত্রগুলো নিয়ে পাঠকের মনে এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে। কে অপরাধী আর কে নির্দোষ বোঝে ওঠা যায় না। অন্যদিকে আমার কাছে যে বিষয় খারাপ মনে হয়, বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় গল্প উঠে আসে। যার হয়তো মূল বিষয়ের সাথে সংযোগ থাকে না। গল্পে রহস্য রাখতে হয়তো বিষয়গুলোর আবির্ভাব হয়।
শুরুটা বাদ দিলে বইয়ের মাঝের অংশ পুরোটা ভালো লেগেছে। যদিও শেষটা মনঃপুত হয়নি। এতগুলো খুনের যে কারণ বর্ণনা করেছেন আমার কাছে শক্তপোক্ত লাগেনি। সাধারণ একটা কারণে এমন হওয়া সম্ভব? হয়তো সাধারণ কোনো বিষয় মানুষের মনে এমন প্রভাব ফেলে, এমন কিছু হলেও হতে পারে। অবশ্য রেহনুমা নামের কারো কারণে পাগল হওয়া খুব বেশি সম্ভব।
আরেকটা বিষয় চোখে লেগেছে, বর্তমান সময়ের সাথে পলাশের ছোটবেলার সময় আকাশ পাতাল তফাৎ। তারপরও সেই সময় একটি গ্রাম্য অঞ্চলে এমন খুন কীভাবে ঘটতে পারে বুঝতে পারিনি। এছাড়াও শেষের দিকে তাড়াহুড়ো ছিল। আরেকটু সময় নিয়ে শেষ করা যেত। সেই দিক দিয়েও একটু হতাশ হয়েছে। যে মেয়েদের এমন পরিণতি হয়েছে, তাদের কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে ব্যাখ্যা করা হয়নি। আরেকটা কাজ লেখক করতে পারতেন। গণমাধ্যমের দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারতেন, তাতে আরো একটু আকর্ষণ বেড়ে যেত হয়তো
▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :
কিছু ছাপার ভুল, বানান ভুল ছিল বইতে। দুয়েক জায়গায় যে সম্পাদনা করা হয়নি বোঝা গিয়েছে। একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম, কিছু শব্দের ভুল বানান ছিল বইতে। ঔদ্ধত্যকে উদ্যত লেখা ছিল। এমন আরও কিছু শব্দ দেখেছি, এখন মনে নেই।
প্রচ্ছদ কেন যেন পছন্দ হয়নি। লেখকের অন্যান্য বইয়ের প্রচ্ছদ আরও ভালো হয়। বাঁধাই ভালো ছিল। অন্যধারার বইয়ে এই নিয়ে অভিযোগ নেই।
▪️পরিশেষে, স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায় অস্বাভাবিকতার বৃত্তে। হয়তো সামান্য কোনো ঘটনায় কিংবা বৃহৎ কোনো কিছুতে। এভাবেই শুরু হয়, শেষটাও! নিঃশেষ হয়ে হারিয়ে যাওয়া কাউকে কেউ খুঁজে না। খুঁজলেও কি পাওয়া যায়?
▪️বই : ধূসর চরিত্র ▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম ▪️প্রকাশনী : নালন্দা ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৫৫ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৫৬০ টাকা ▪️ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৮/৫
দুর্জয় শাকিল কি লেখকের একটা চরিত্র হয়ে উঠবে নাকি? লেখকের এই জিনিসটা আমার ভালো লাগে। আমাদের আইনরক্ষাবাহিনির গর্ব করাদ মতোন কিছু থাকলে সেটা আমরা,সাধারণ মানুষরা খুব কমই দেখি।আমরা আইনের মানুষদের ভয়ে এড়িয়ে চলে।বাঘে ছুঁলে আটারো ঘা,আর পুলিশ ছুঁলে ছত্রিশ ঘা, এই নীতিতে বিশ্বাসী আমরা। আবার আদ্যিকাল থেকে চলে আসা এক চিত্র,"ইউনিফর্ম পরে হাসফাস করা" একজন মানুষ আমাদের চোখে ভাসে পুলিশ বললে। লেখকের থ্রিলারে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বর্ণনাগুলো সে ধারণা পালটে দেয়। হয়তো দেশে সত্যি এমন আছে।
বইয়ে ফিরে আসি।আমি লেখকের থ্রিলারের আগেও প্রশংসা করেছি৷ বলেছিও যে এরপর থেকে থ্রিলার বেরুলেই কিনে ফেলবো। এবারের বইমেলার কাহিনী এটাই। দেখেই অর্ডার করে ফেলেছিলাম। তবে এবার একটু যেনো ফিকে হয়ে গেলো বইটা। এটা হতে পারে আগের গুলোর ��াথে কী যেনো মিলে যাচ্ছিলো। এই যে বস্তি না নির্জন জায়গা থেকে শুরু, এটা লেখকের লেখাতে আগেও পেয়েছি। অবশ্য সেটা যে কাহিনীতে কী হলো সেটা জানতে চাওয়ার আগ্রহ কমিয়েছে তা না। নয়তো ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে শেষ করে ফেলতাম না।
খুব ভালোমতোনই এগুচ্ছিলো। সাসপেন্স, চরিত্রগুলো সব নিয়ে লেখক পাহাড়ের চূড়ায় তুললেন, তবে শেষটা যেনো পানসে করে ফেললেন।
বি.দ্র.: কোকড়ানো চুলের নারীরা পড়ার সময় সাবধান! নানী-দাদীরা বলতো, এমন চুলে জ্বিন বাসা বাঁধে। কিন্তু গল্পে অন্যকিছুই বাসা বেঁধেছে। রাগ না ভালোবাসা সে পড়ে জেনে নেবেন।
১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ডের হোয়াইট চ্যাপেল নামক স্থান এবং তার আশেপাশের এলাকায় আবির্ভাব ঘটেছিল ভয়ানক এক পি শা চে র। ভিক্টিম হিসেবে সে বেছে নিত এমন নারীদের যারা হারিয়ে গেলে কেউ তেমন খোঁজ করবেনা। এজন্যে বস্তির অধিবাসী, হোয়াইট চ্যাপেলে আশ্রিতা কোন ইমিগ্র্যান্ট কিংবা প্রস্টিট্যুটরাই ছিল তার টার্গেট। তৎকালীন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বাঘা বাঘা গোয়েন্দাদেরও রাতের ঘুম রীতিমত কেড়ে নিয়েছিল তার নৃ শং স তা। পুলিশের কাছে লেখা এক উড়ো চিঠি থেকে তার একটি নাম পাওয়া যায়, যেটি পাবলিকের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় হয়, জ্যাক দ্য রিপার। এরপর থেকে জ্যাক দ্য রিপার নামটি মূর্তিমান আতঙ্কের রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র লন্ডনজুড়ে। সেই খু নী কে কখনোই ধরা যায়নি, সে পরিণত হয়েছে কিংবদন্তিতে। তার নাম ব্যবহার করে রচিত হয়েছে অজস্র ফিকশন, মেটাফিকশন, নন-ফিকশন।
বইপাড়ার সুপরিচিত, ভার্সেটাইল লেখক মনোয়ারুল ইসলাম সাহেব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, তাঁর নিজস্ব সাহিত্যিক ক্যানভাসে যেন জীবিত করে তুলেছেন জ্যাক দ্য রিপারের মতই না র কী য় এক সত্ত্বাকে। ইন্সপেক্টর দুর্জয় শাকিলের তৃতীয় কিস্তি ধূসর চরিত্র বইতে আবারও তিনি পাঠকদের সুচারুরূপে বন্দি করেছেন আরেকটি দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কি লিং কেসের ফাঁদে।
কাহিনী সংক্ষেপ
আবারও ঢাকার এক বস্তির কাছাকাছি মিলল বস্তাবন্দি লা শ। গতবারের হেড কালেক্টর খু নী র চেয়েও বেশি হিং স্র তা করা হয়েছে এবারের ভিক্টিমদের ওপর। রহস্যের সুরাহা করতে নামলেন মধুবাগ থানার ওসি ফকির চাঁন, এসআই মোর্তজা বশির এবং আরও কয়েকজন। কী থেকে কী হচ্ছে বোঝার আগেই খু নী র পা শ বি ক তা ভালোভাবেই টের পেল মধুবাগ থানার পুলিশ ফোর্স এবং সিআইডি। ঘটতে লাগল একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অবশেষে মঞ্চে উপস্থিত হল বহুল পরিচিত কিছু মুখ। সেই সাথে প্রকট হল চিরচেনা সেই প্রশ্ন, তাহলে কী মানুষের ভদ্রোচিত চেহারার নিচে সত্যিই লুকিয়ে আছে অত্যন্ত বিকট, ভীতিপ্রদ কোন সত্ত্বা? সময় সুযোগ পেলেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বারবার? কীভাবে এর সুরাহা করবে পুলিশ? জনমনে কী শান্তি আসবে আদৌ?
পাঠপ্রতিক্রিয়া
সুপরিচিত চরিত্রদের প্রতি পাঠকদের প্রায়ই একটা সফট কর্নার কাজ করে। তারা যখন পর্দায় আবির্ভূত হয়, পাঠক তখন যারপরনাই উচ্ছ্বসিত হয়। বেগ-বাস্টার্ড সিরিজের প্রতিটি ভক্ত প্রচন্ড উত্তেজনা অনুভব করে যখন বাস্টার্ডের কার্যকলাপ শুরু হয়। মনোয়ারুল ইসলাম সাহেব এজন্যে তাঁর বইতে ফ্যান ফেভ্রিট চরিত্রগুলোকে কিছুসময় পর্দার আড়ালে রাখেন। রহস্য, ক্রাইসিস এগুলো ডেভেলপ করেন। এরপর এমন একটা সিনারিও তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যেখানে প্রধান চরিত্রকে সামনে আসতে হবেই। মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সে দুর্জয় শাকিলের এন্ট্রি ছিল কিছুটা আকস্মিক, কিন্তু চমকপ্রদ। তবে এবারের ইন্সটলমেন্টে দুর্জয় শাকিলের এন্ট্রিটা আরও জমকালো হয়েছে। ওভারড্রামাটিক কিছু না, কিন্তু ইনভেস্টিগেটর হিসেবে পর্দায় এসেই দুর্জয় শাকিল যেরকম জাঁকিয়ে বসেছে, ক্যারেক্টার গ্রোথ হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে সেটা। পাশাপাশি, ব্যক্তি হিসেবে আরও ম্যাচ্যুর হয়েছে পিবিআইয়ের তরুণ এসআই। এবারের গল্পে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত তাকে একাই নিতে দেখা গেছে। এই ডেভেলপমেন্ট প্রশংসনীয় বটে।
দুর্জয় শাকিল সিরিজের প্রথম বই অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন থেকেই লেখক একটা বিষয়ের প্রতি স্পষ্ট ফোকাস করেছেন, তা হল মনস্তত্ব। ক্রাইম যে ঘটাচ্ছে, সেই ক্রাইম যারা তদন্ত করছে এবং যারা ওই ক্রাইমের সম্ভাব্য শিকার; সবার মনস্তত্ব রীতিমত প্যারালালি রেখে পাঠকদের কাছে পেশ করে গেছেন লেখক। এবারের গল্পে লেখক আরেকটি বহুল পরিচিত এলিমেন্ট যুক্ত করে তাঁর মনস্তাত্বিক জার্নিটাকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছেন। সেটা হল ব্যাকস্টোরি। যদিও শেষভাগে এসে কাহিনী কিছুটা সরলরৈখিক হয়ে পড়েছিল, তাতে অবশ্য এক্সাইটমেন্ট ফিকে হয়নি এক চিলতেও। এককথায় বললে, দুর্জয় শাকিলের তৃতীয় কিস্তি ধূসর চরিত্র থ্রিলার হিসেবে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ।
পার্সোনাল রেটিং ৪/৫
বি:দ্র: গল্পের একস্থানে লেখক খুব সুন্দরভাবে তাঁর পরের বই শিউলি ফুলের ভাত এর একটা ছোট্ট ইস্টার এগ দিয়েছেন।
বই : ধূসর চরিত্র লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম জনরা : থ্রিলার প্রকাশনী : অন্যধারা
এক তরুনীর আট টুকরার খন্ডিত দেহ খুঁজে পাওয়া থেকে উপন্যাসের শুরু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো মুন্ডিত মস্তক, লা//শের মাথা থেকে কেটে নেয়া হয়েছে সমস্ত চুল। কোনো ফিংগার প্রিন্ট নেই, কোনো চিহ্ন রাখেনি খু//নী। চলতে থাকে তদন্ত। একের পর এক সাসপেক্ট খুঁজে বের করা হয়, আরো ঘোলাটে হতে থাকে কেস। অন্যদিকে শহর থেকে হারিয়ে যেতে থাকে তরুনীরা। লা//শ পাওয়া যেতে থাকে একই রকমভাবে। সিরিয়াল কিলিং হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে পুলিশ। কিন্তু এই স্মার্ট খু//নীকে খুঁজে পাওয়া যেন আরও জটিল হতে থাকে দিনদিন। মেঘের মত কোঁকড়া চুলের মেয়েদেরকেই টার্গেট করে খু//নী। কেন করে? এর প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পাতা ওল্টাতে হবে "ধূসর চরিত্র" বইয়ের। মনোয়ারুল ইসলামের লেখা বরাবরই ভাল। একেকটা চরিত্র খুব সুন্দর করে দাঁড় করান তিনি। স্থানের বর্ণনা, ঘটনা প্রবাহ এত সুন্দর করে সাজান যেন সব চোখের সামনে ঘটতে থাকে৷ সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো লেখক দ্বিধায় রাখতে পছন্দ করেন। মনে হয় তিনি নিজেও পাঠকের সাথে চোর পুলিশ খেলায় মত্ত্ব। বেশি কিছু বলব না, স্পয়লার হয়ে যেতে পারে। তবে গল্পে কিছু টুইস্ট আছে। ভালো লাগবে। একটানা পড়ে শেষ করার মতন বই। পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মত বই। ফ্ল্যাশব্যাকে পলাশের ছেলেবেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল৷ ওই অংশটুকু আমার সবচেয়ে পছন্দের। এছাড়া গল্পে অন্তর্নিহিত ছিল একটা ব্যাপার, তা হলো ভালোবাসার মানুষদেরকে অবহেলা করলে তারা হারিয়ে যায়। কারণ মানুষ বেঁচেই থাকে ভালোবাসার জন্য। প্রিয় মানুষের অবহেলা সেটা ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, মানুষকে আর বাঁচতে দেয় না। মানুষ হারিয়ে গেলেই শুধু তার মূল্য বোঝা যায়। লেখক ধূসর চরিত্র বইয়ে অনেকগুলো সামাজিক সমস্যা এবং মানুষের অমানবিক দিক তুলে ধরেছেন। যা তার লেখায় বরাবরই থাকে। একেক জায়গা পড়ে খেয়াল করি চোখে পানি, কোথাও আবার ফিক করে হেসে ফেলেছি। কখনো কখনো ঘেন্নায় মুখ কুচকে গেছে। কখনো শিউড়ে উঠেছে গা। কখনো কখনো মনে মনে প্রার্থণা করেছি এবারের খু//নটা না হোক। বস্তার মুখ খুললে যেন হারিয়ে যাওয়া মেয়েটার লা//শ না হয়। অথচ ল��//শই তো। কোনো না কোনো মেয়েরই তো লা//শ। তবু যাদের পরিচয় জানি, যাদের জীবনের গল্প জানি তাদের জন্যই মায়া বেশি কাজ করে। অদ্ভুত তাই না? এই উপন্যাসের শেষটায় খুব তাড়াহুড়া করা হয়েছে মনে হলো। খু//নীর চরিত্রটাকে আরও বিশ্লেষণ করা যেত। মোটিভের ব্যখ্যাটা আরেকটু জোড়ালো করা হলে ভালো লাগতো। খু//নীর বলা শেষ বাক্যটা ভালো লেগেছে আমার। "নেহাত খু//ন করতে করতে বোরিং লাগছে বলে, হঠাৎ করেই আনন্দ পাচ্ছিনা।" সত্যিই আমরা অনেক ইন্টারেস্টিং কাজেও হঠাৎ আর আনন্দ খুঁজে পাই না।
বইয়ের প্রচ্ছদটা ভিষণ সুন্দর। বাইন্ডিং সহ সবই দারুন৷
রেটিং : ৪/৫ (পুরো পাঁচ দিতাম যদি শেষটা আরো বিস্তারিত হতো, হিহি)
ভালোবাসার অবহেলা মানুষকে শে//ষ করে দেয়। কেউ কেউ হয়ে যায় অপরাধী, কেউ কেউ হয়ে যায় ভিক্টিম। কেউ কেউ আবার এই মহাবিশ্বের সমস্ত আয়োজন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। হায়রে ভালোবাসা!
#কাহিনী_সংক্ষেপ: কয়েকদিন হবে ধূসর চরিত্র বইটা শেষ করেছি। কিন্তু অলসতার জন্য লিখতে মন চাচ্ছিলো না। একটা সাইকোপ্যাথ এর গল্প নিয়ে লেখা বইটা। একজন বললে ভুলই হয়। দুইজন সাইকোপ্যাথ এর গল্প এটা।
বইটা শুরু হয় ছেনু মিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবন ধরন বলতে বলতে। এর পর ছেনু মিয়ার হাত ধরেই সামনে আসে একটা বিভৎস খুনির। অন্য সবার থেকে তার খুনের ধরণ টা ভিন্ন। দেখে মনে হয় ভিকটিমের প্রতি তার ছিলো প্রচন্ড আক্রোশ। সেই আক্রোশেই যেনো সেই ধূসর চরিত্রের ক্রমিক খু নি ভিকটিম কে মেরে লাশকে ৮ টুকরায় ভাগ করে ফেলে। কেটে নেয় মাথার চুল। যৌনিদেশ করে ফেলে ছিন্ন ভিন্ন। খুনি কিন্তু সবাইকেই টার্গেট করে না। তার খুনের টার্গেট থাকে বিশেষ কিছু মেয়েরা। যাদের (......) বই পড়ে জেনে নিবেন😏 এই সিরিয়াল কিলার কে খুঁজতে অন্য একজন সিরিয়াল (...) এর মুখোশ উন্মোচন হয়। এই অন্য একজন সিরিয়াল (...) কে সাসপেক্ট হিসেবে ভাবার বেশ কিছু কারণ আছে। লেখক শুরু থেকেই অতীতের কিছু ঘটনা মিশিয়ে চিন্তা ভাবনা একজনের দিকেই সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। খু নের ধরণ এবং সেই ব্যক্তির অতীত, পছন্দ এবং কর্মকান্ড তাকেই বারবার সেই খু নি ভেবে নিতে বাধ্য করে। কিন্তু আমি শুরু থেকেই বুঝতেছিলাম মার্ডারাস অন্য কেও, না হয় এভাবে ওপেন সিক্রেট রাখতো না সেই ধূসর চরিত্রের খুনিকে। শেষটায় এমন একজন সামনে আসে যিনি শুরু থেকে শেষ অবধি ঘাপটি মেরে বসে ছিলো গল্পের আড়ালে।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: সাসপেন্স এ ভরপুর এই বই। রহস্য আর গোলকধাঁধা পুরো বইটা জুড়েই। সবার সামনে থেকেও যেনো নেই সেই ভোজবাজির মানুষটা। প্রত্যেকটা চরিত্রকে লেখক সমান ভাবে উপস্থাপন করেছেন। সবাই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। আর দুর্জয় শাকিলকে মনে হয় লেখক তার বিশেষ চরিত্র বানিয়ে নিচ্ছে। বইটার শুরুটা সাধারণভাবেই অন্য বইগুলোর মতোই শুরু হয়েছে। কিন্তু সময়ের ফেরে, ঘটনার জটিলতায়, বিভিন্ন চরিত্রের আগমনে বইটার একদম মাঝে থেকেই , পুলিশি কার্যক্রমে, দৌঁড়ঝাপে যেনো আমিই জড়িয়ে গেছি। কিন্তু! যাকে নিয়ে এতো কাঠ-খড় পোড়ানো হলো তাকে শেষটায় পর্যাপ্ত স্ক্রিন দেয়া হয় নি। কোন তাড়ায় যেনো দুম করে শেষ করে দিলো।
'ধূসর চরিত্র' এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রচ্ছদ ও ব্যাক কভারের লেখা দেখে ভেবেছিলাম দুর্দান্ত এক থ্রিলার হবে। কিন্তু আরো কিছু বইমেলার বইয়ের মতো এটাও হতাশ করলো।
অন্য সব বইতে যেমন খুন বা খুন হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র করে গল্প শুরু হয় এখানে তেমনটা হয়নি। গল্প খুনকে কেন্দ্র করে আশেপাশের মানুষের আচার আচরণ ও কীভাবে তারা খুনের সাথে জড়িত তা দিয়েই এগোতে থাকে। এই ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করেছি। কাহিনী শুরু হয় ছেনু নামের এক চাওয়ালাকে দিয়ে। সাধারণ চা বিক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও এক বিভৎস খুনের সাথে ফেঁসে যায়। এরপর একের পর এক ভয়ানক খুন হতে থাকে। প্রতিটা নারীর লাশকে আট টুকরো করা হয়, যৌন ক্ষতবিক্ষত, চেহারা বিকৃত করা। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রত্যেকটা লাশের মাথা কামানো। বেছে বেছে টার্গেট করা হয়েছে শুধু কোঁকড়া চুলের মেয়েদের। এভাবেই জন্ম হয় সিরিয়াল কিলার হেয়ার কালেক্টর ওরফে ধূসর চরিত্র। ছেনু খেটে খাওয়া দিনমজুর তবে ওর মাথায় সমস্যা। আচমকাই যেন ভয়ংকর কিছু করে ফেলে। তাহলে ছেনুই কি আসল খুনি?
খুনের সাথে এতপ্রেত ভাবে জড়িয়ে আছে একাধিক চরিত্র। এত চরিত্র থাকার ভালো দিক হচ্ছে খুনের প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পরেছে তা বোঝা যায়। কিন্তু প্রত্যেক চরিত্রের কাহিনী এক সুতোয় গাঁথা থেকেও নেই। কেমন যেন ছাড়া ছাড়া গল্প। বইয়ে সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো পুলিশের ইনভেস্টিগেশন। খুব ডিটেইলে পুলিশ ও ফরেনসিক বিভাগের কার্যক্রম বলা হয়েছে। সাধারণত এই ব্যাপারগুলো এত ডিটেইলে লেখা হয় না। পড়ে বোঝা যাচ্ছিল লেখক অনেক রিসার্চ করেই ইনভেস্টিগেশনের অংশগুলো লিখেছেন।
************* স্পয়লার এলার্ট। কিছু মাইনর স্পয়লার দেওয়া আছে। *******************
কিন্তু খুনিকে নিয়ে তেমন কাজ করা হয়নি। গল্পের শুরু থেকেই এমন একজন এন্টাগনিস্টের ব্যাগ্ৰাউন্ড এক্সপ্লোর করা হয়েছে যে আসল খুনি নয়। তাকে আসল খুনির চেয়েও বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আসল খুনির ব্যাপারে শুধু শেষের এক থেকে দুই পৃষ্ঠা বর্ণনা দেওয়া। আর সে নিজে থেকে ক্লু রেখে গিয়েছিল যেন পুলিশ তাকে ট্রেস করতে পারে। পুলিশ আর ক্রিমিনালের মধ্যে যে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় হওয়ার কথা তা হয়নি। শুধু ক্রিমিনাল একাই খেলেছে, পুলিশ শক্ত কোন অপনেন্টের ভূমিকা রাখতে পারে নাই। তাছাড়া খুনির মোটিভ অস্পষ্ট। কাহিনী অনুযায়ী খুনি অত্যন্ত চালাক, কোন প্রমাণ রেখে খুন করে না। কিন্তু আসল খুনির সাথে খুন করার পদ্ধতি ও খুনির আচরণ একেবারেই বেমানান। খুনগুলো যতটা ভয়ংকর ভাবে হয়েছে মোটিভ ততটা শক্তিশালী ভাবে লেখা হয়নি। খুনিকে নিয়ে কাজ করার অনেক স্কোপ ছিল। ইনভেস্টিগেশনের পাশাপাশি ক্রিমিনালের সাইকোলজি, বেড়ে ওঠা এগুলো দেখানো যেত। কিছু এমন চরিত্র ছিল যারা মূল গল্পে তেমন কোন প্রভাব রাখেনি। পলাশ, অফিসার মোর্তজা আর দুর্জয় শাকিল ছাড়া বাকি সবাইকে টুডাইমেনশনাল লেগেছে। তবে এন্টাগনিস্ট হিসেবে পলাশ মোটামোটি ভালো ছিল।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ধূসর চরিত্র! গল্প শেষ হওয়ার পর যখন মলাটটা দেখলাম তখন It was making sense! আমি জানি না কেনো মনেই করলাম না এইটা থ্রিলার হতে পারে।যখন প্রথম মৃত্যু দেখলাম খুবই অবাক হয়েছিলাম। লেখক খুব নিখুঁত ভাবে প্রত্যেকটা ক্রাইম স্পট লিখেছেন।কোনদিকে কোনো কমতি নজরে পড়ে না।পুলিশ অফিসার এর প্রত্যেকটা চরিত্রই যতেষ্ট সুন্দর করে লেখা।পুরো গল্প ঝুড়ে কোনো অহেতুক কথা ছিলো না। যেখানে কথা পারিবারিক শিক্ষার তা একজন বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষকে হাজার ভালো শিক্ষা দিলেও সে ঐ শিক্ষা কখনো গ্রহণ করতে পারবে না।রহমত যতেষ্ট পরিমাণ ভালো মানুষ হয়ে উঠার মতো শিক্ষা পলাশকে দিয়েছিলো কিন্তু সে তা নিতে পারেনি। সে তার আইডিয়াল বানিয়েছিলো তার মতোই একজন অসুস্ত মানসিকতার মানুষকে। পুরো গল্পে একটা টানটান সাসপেন্স অনুভব হয়! শেষ দিকে এসে বই রেখে কোনো কিছু করাই বড় দায়।কিন্তু হতাশার বিষয় হলো গল্পের এন্ডিং কেনো যেনো পুরো গল্পটার সাথে খপকাওয়াতে পারেনি।পুরো গল্পে যেমন সাসপেন্স থ্রিলার ছিলো তা যেনো শেষ এর এন্ডিং টার সাথে যায়নি। কিন্তু পুরো গল্পটা ছিলো WORTH READING!!
৩.৫ কোন লেখকের যখন ধুমাধুম হিট বই উপহার দেয় তখন পাঠকের আশা অনেক উপরে চলে যায় আর এইটা লেখকের জন্য অনেক বড় রিস্ক। অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন, মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স বই ২টা পড়ে আমারো এই আশা অনেক উপরে ছিলো কিন্তু এই ধূসর চরিত্র পড়ে একটু আশাহত হয়েছি। আর মানে এই না যে বইটা খারাপ বইটা অনেক সুন্দর থ্রিলার, মার্ডার মিস্ট্রি। কিন্তু শেষটা আমার কাছে আসলে একটু ধূসর লেগেছে আরো একটু জমজমাট আশা করেছিলাম। লেখকের কাছে আবদার থাকবে আগামীতে ভালো কিছু সামাজিক উপন্যাস যেনো লেখন।
ভালো খেল দেখাইছে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা আসিফ আলী আর দুর্জয় শাকিল। এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো বেশিই ডার্ক মনে হইছে। একটি উপভোগ্য থ্রিলার পড়লাম শেষ মৃত পাখির পর।