Jump to ratings and reviews
Rate this book

রক্তের জবা

Rate this book
কতদিন ধরে মাহেন্দ্রনাথ শবসাধনা করে! আঙুলে গুনে হিসেব রাখা সম্ভব না।

১৮৮২ সালের এক রাত... একটি মৃতদেহ। উলঙ্গ। মৃতদেহটি একজন নারীর। বয়স বেশি না, উনিশ-কুড়ির কাছাকাছি হবে। মাথায় চুলের ভাঁজে সিঁথিতে লেপটে আছে সিঁদুর।
মৃতদেহটিকে চিত করে শুইয়ে রাখা হয়েছে, দেহের ওপর সিদ্ধাসনে বসে আছে তান্ত্রিক মাহেন্দ্রনাথ। বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে তার দরকার পড়ে একটি লাশ। সেটি হিন্দু না কি মুসলিম, যুবক না যুবতী, বয়সে কাঁচা কি পৌঢ় তা জানার দরকার পড়ে না এই মানুষটার। তার দরকার শুধুই একটি মৃতদেহ।

মৃতদেহ ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকা হয়েছে। বৃত্তের মাঝখানে আগুন জ্বলছে নিভু নিভু হয়ে। মাহেন্দ্রনাথের ডান হাতে রক্তজবা, বাঁ হাতে ছাই। নিচু স্বরে সে মন্ত্র পড়ছে, আর মাঝে মধ্যে সামনের পাত্রে রাখা ঘিয়ে চুবিয়ে নিচ্ছে জবা ফুল; এরপর অগ্নিকুণ্ঠে করছে ছাই নিক্ষেপ। তখন সঙ্গে সঙ্গেই চন্দনের গন্ধে চারদিকটা মোহিত হয়ে উঠছে, কিন্তু পরক্ষণেই গন্ধটা নেই হয়ে যাচ্ছে... স্থায়ী হচ্ছে না কোনোভাবেই।

208 pages, Hardcover

First published February 1, 2024

Loading...
Loading...

About the author

A Bengali Storyteller!

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
13 (20%)
4 stars
29 (46%)
3 stars
14 (22%)
2 stars
3 (4%)
1 star
3 (4%)
Displaying 1 - 19 of 19 reviews
Profile Image for Dystopian.
526 reviews298 followers
October 25, 2024
গল্প টা আহামরি না। সাধারন একটা রিভেঞ্জ প্লট, সাথে কিছু সাসপেন্স, রাইট এমাউন্ট মিস্ট্রি, আর দুই কালের একটা সংযোগ।
তবে লেখনী এত সাবলিল, আর সুন্দর যার কারনে পড়তে খুবই ভালো লেগেছে৷ বিশেষ করে নতুন লেখকদের কাছে এমন মেদহীন, সাবলিল মোটামুটি ধরনের এক্সিকিউশন পাইলে আমার স্যাটিসফিকশন লেভেল কমপ্লিট হয়ে যায়।

লেখকের জন্য শুভ কামনা। এর পর বকুলফুল ট্রিলোজি পড়ব( যে কালে সময় পাই আরকি)।
Profile Image for Sazid Shahriar.
59 reviews2 followers
July 12, 2024
ম্যালাদিন পর একটা বইয়ের সংস্পর্শে আসা হইলো। গুড টু রিড বই, মাস্ট রিড এমন কিছুই না। বাট কাহিনির ফ্লো চমৎকার আর এন্ডিংটা পুরাই মাস্টারক্লাস!
৪/৫
Profile Image for Parvez Alam.
333 reviews15 followers
February 22, 2024
রেটিং: ৩.৫/৫
রক্তের জবা বইটা মনোয়ারুল ইসলামের লেখা এই আধিভৌতিক/হরর থ্রিলার উপন্যাস। এই লেখকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উনি প্রতি বছর ২টা বই লেখন যার মাঝে একটা থাকে থ্রিলার আরেকটা থাকে আধিভৌতিক/হরর। এই বইয়ের কাহিনী শুরু হয় ১৮৮২ সালে আর শেষ হয় ২০২৩ সালে। শুরু থেকেই বইয়ের কাহিনীর দুইটি সময় কালে চলেছে একটা ১৮৮২ আর ২০২৩, স্থান ছিলো কয়কটা এর মাঝে গ্রাম আর ঢাকা আর সেই ব্রিটিশ সময়ের জমিদারি সময়। গল্পের চরিত্রগুলোও ভাগ ভাগ করে আগানো বিমলা দেবী ও উদিত চন্দ্র, আরতি বালা ও মধু, আনিসুর রহমান, তাঁর স্ত্রী এবং মারইয়াম আর আমাদের হিরো মাহেন্দ্রনাথ। শুরু থেকেই টেকেছে গল্পটা, পড়া শেষ করে ভেবেছিলাম এই বই ৪ দেওয়ার মত ৫ এ কিন্তু শেষটা আমার কাছে মনে হয়েছে লেখক দ্রুত শেষ করে দিয়েছেন। মনে হয়েছে হুট করে শেষ হয়ে গেলো যেভাবে গল্পটার জাল গোটানো হচ্ছিলো আমি ভেবেছিলাম শেষেটা ভালো ক্লাইম্যাক্স পাবো থ্রিলার যেহেতু কিছু ফাইটিং পাবো মাহেন্দ্রনাথ আর আজমের মাঝে। এইখানে একটু হাতাস হয়েছি এ ছাড়া এইবারের মেলাতে আধিভৌতিক/হরর থ্রিলার ঘরনার বই যারা পছন্দ করেন তারা পড়তে পারেন সুন্দর বই। বইয়ের কাভার, বাঁধাই অনেক সুন্দর :D বানান ভুল তেমন চোখে পরে নাই দুইটা ছাড়া উদিত চন্দ্র হয়ে গেছে উচিত চন্দ্র - ৪৪ আর বজলু মাঝি হয়ে গেছে বজল মাঝি - ১০০।
হ্যাপি রিডিং
Profile Image for Sakib A. Jami.
392 reviews53 followers
March 15, 2024
নিয়তি বলে একটি বিষয় থাকে। সেই নিয়তির অমোঘ টানে মানুষের এই ছুটে চলা। চাইলেই নিয়তির আকর্ষণ অগ্রাহ্য করা যায় না। যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, ভাগ্যে যা লেখা আছে তা হবেই। কোনকিছুতেই সেসব বদলে দেওয়া যায় না। হয়তো কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু একসময় না একসময় নিয়তির শেষ পরিণতির দিকে জীবন ধাবমান হয়। ঘটনাক্রম হয়তো ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়, কিন্তু শেষ সময়ের গল্প যেন আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। যার সূচনা হয়েছে আঠারোশ’ বিরাশি সালে।

মানুষ খুবই অদ্ভুত প্রাণী। তার মনের মধ্যে কী চলে সে জানে না। ছোট্ট ছেলে মহেন্দ্রনাথের স্বাভাবিক জীবনে এক সাধুবাবার আগমন। যে জানান দেয়, মহেন্দ্রনাথের জীবন শুরু হয়েছে অন্য কাজের জন্য। এই চেনা পরিবেশে না, অচেনা কোনো সত্তায় মহেন্দ্রনাথ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। মা তারার আশীর্বাদ আছে তার সাথে। সেদিন থেকে মহেন্দ্রনাথের বদলে যাওয়া শুরু।

মানুষ অমরত্ব পাওয়ার নেশায় সবকিছু করতে পারে। নিজেকে শক্তিমান দেখানোর আশায় চলে সাধনা। শব সাধনার আর কিছু সময় বাকি। এরপরই মহেন্দ্রনাথ হয়ে উঠবে অমর। থাকবে অপার ক্ষমতা। যেই ক্ষমতার কাছে কেউই টিকতে পারবে না। আজকেও চলছে সেই সাধনা। পরিত্যক্ত এক মন্দিরে নগ্ম এক নারীর লাশের সামনে তন্ত্র সাধনা চলমান। কিন্তু সবদিন যে সমান যায় না। গভীর রাতের সেই অন্ধকার দুইজন জেলের সামনে উন্মুক্ত করে দেয় মহেন্দ্রনাথকে। তারা জেনে যায় মহেন্দ্রনাথের গোপন অভিসন্ধি। কিন্তু গোপন এই সাধনার খবর জানতে দেওয়া যাবে না। এখনো পুরোপুরি সাধনা শেষ হয়নি। আর কয়েকটা দিন। এতদিনের প্রচেষ্টা বিফলে যাওয়া যাবে না। তাই কঠোর হতে হবে মহেন্দ্রনাথকে। হতে হবে ভয়ংকর, হিংস্র। তাতেও কি শেষ রক্ষা হবে?

রায়কমল জমিদারবাড়ি। উদিত চন্দ্রের জমিদারিতে প্রজারা শান্তিতে জীবনযাপন করে। উদিত চন্দ্র মনে করে, প্রজাদের শান্তিতে রাখতে পারলে নিজেও সুখে থাকতে পারবেন। কিন্তু তার মনে সুখ নেই। এত বছর হয়ে গেল, এখনো নিঃসন্তান সে। স্ত্রী বিমলা দেবীর ঔরসে সন্তান তো আসে, কিন্তু মৃত হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। একাধিকবার এমন হয়েছে। এবারও কি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে? কে জানে! তবে রায়কমল শান্তিতে নেই। ন্যায় বিচারের জন্য খ্যাত উদিত চন্দ্র সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে একটি ভুল করেছেন। যার খেসারত দিতে হচ্ছে প্রজাদের। একে একে বিভৎস কিছু লাশের দেখা মিলছে। উদিত চন্দ্র বুঝতে পারছে সময় ঘনিয়ে আসছে। হিসেবের খাতায় নিজের নাম উঠে গিয়েছে। সন্তানের মুখ দেখে যেতে পারবে তো সে? না-কি ভয়ংকর কোনো পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে!

অতীত পেরিয়ে বর্তমানে ফেরা যাক। মধুর কাজ জুতো সেলাই করা। দিন আনে দিন খায়। কষ্ট করে রোজগার করলেও সংসারে লেগে থাকে অভাব-অনটন। এ নিয়ে স্ত্রী আরতি বালার অভিযোগের শেষ নেই। থাকার মধ্যে একটি জিনিসই আছে, পরিবারের ভিটেমাটি। যেখানে এক তেতুঁল গাছ শতবছর ধরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। পূর্বপুরুষের কঠোর নিষেধ, এই তেতুঁল গাছ তুলে ফেলা যাবে না। কিন্তু লোভের কাছে হার মানে পরপুরুষের নিষেধ। আরতি বালা মনে করে এই গাছটির নিচে রয়েছে শতবছরের পুরনো গুপ্তধন। যা বদলে দিতে পারে তাদের ভাগ্য। সত্যিই কি তাই? কয়েক যুগ আগে এই গাছটির নিচে কী লুকিয়ে রাখা হয়েছিল? আজ এতগুলো বছর পর কী উন্মোচিত হবে? সত্যিই কি গুপ্তধন পাওয়া যাবে, যা বদলে দিবে তাদের ভাগ্য। না-কি আবার প্রমাণিত হবে— লোভে পাপ পাপে মৃত্যু?

অপলা মায়ের সাথে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। টিউশনি করে সংসার খরচ চালায়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বাবা। মাকে নিয়ে এই সংসার তাই চালানো কষ্ট হয়। অপলা শুনেছে, বাবার পূর্বপুরুষ জমিদার ছিলেন। কিন্তু এই জমিদারির শেষ কেন, জানে না অপলা। জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও এখন বাস্তবতার সাথে সখ্যতা তার। কয়েকদিন ধরে অপলা বুঝতে পারছে, মা কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। হুট করে দরজায় নক করার শব্দ শুনে, কিন্তু কাউকে দেখা যায় না। আবার বলে অপলার একজন বোন আছে, কিন্তু অপলা জানে সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তাহলে? মা কি ভুল বলে? কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত? না-কি কল্পনায় নিজের আরেকটা মেয়েকে স্থান দিয়েছে মা! সত্যিই কি চপলা নামে কোনো বোন আছে অপলার?

মারইয়াম কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। হুট করে বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তুই তুকারি করে। জিনে আছর করা মেয়ের মতো ফ্যাসফ্যাসে হয়ে ওঠে কণ্ঠ। কয়েকদিন পর মেয়েটার বিয়ে। এমন হলে তো বিয়ে টেকানো মুশকিল। এসব কথা বাতাসের আগে দ্রুত ছড়ায়। ছেলেপক্ষ জানতে পেরে বিয়ে ভেঙে দেয়। নিরুপায় বাবা জিন তাড়াতে হুজুরের স্মরণাপন্ন হয়। কিন্তু সেখানে জানা যায় অনেক পুরনো গল্প, যা এতদিন মিথ্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। উন্মোচিত হওয়া সত্য মেনে নেওয়া সবসময় কঠিন। মারইয়াম যেমন মানতে পারে না, তার বাবা-মাও পারে না। কিন্তু এখন মারইয়াম সত্যতা জানে। জানে একজনকে বাঁচাতে হবে। শতবছরের পুরনো শত্রু আবারও ফিরে এসেছে প্রতিশোধের নেশায়। কিছুতেই তাকে সফল হতে দেওয়া যাবে না।

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

“রক্তের জবা” অতিপ্রাকৃত ঘরানার উপন্যাস। গল্পের শুরুটা আগ্রহ জাগানিয়া। তন্ত্র সাধনা দিয়ে লেখক যে রহস্যের আবহ তৈরি করতে পেরেছিলেন, তার রেশ ছিল পুরো বই জুড়ে। বেশ ভালোভাবেই লেখক রহস্যের বীজ বপন করেছিলেন। লেখক মনোয়ারুল ইসলামের সূচনা হয়েছিল, অতিপ্রাকৃত ঘরানার উপন্যাস দিয়েই। শুরুর দিকের সেই আবহ যেন খেই হারিয়েছিল লেখকের লেখায়। পুনরায় সেই স্বাদ যেন আবার পেলাম।

গল্পের শুরুটা অনেক অনেক বছর আগের। প্রায় দেড়শ বছর আগের সময়ের সাথে বর্তমান সময়ের মেলবন্ধন লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে করেছেন। যেহেতু অতিপ্রাকৃত ঘরানার বই, সেহেতু ভয়ের এক ধরনের আবহের সাথে পরিচয় ঘটবে স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, এই ভয়ের সেই আবহ অনেক লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পারেন না। এক্ষেত্রে লেখক মনোয়ারুল ইসলাম সফল, ভয়ের রেশ বেশ ভালোভাবেই ছিল। কিছু কিছু মুহূর্তে গা ছমছমে বিষয় ছিল। গভীর রাতে পড়তে গেলে হয়তো মেরুদন্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে আসাও অস্বাভাবিক নয়।

বিভৎসতার এক অনন্য নিদর্শন বইটি। ভয়ংকর সব খুনের ঘটনা বই জুড়ে রয়েছে। গা শিউরে উঠতে হয়। তবে লেখকের বর্ণনায় বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দারুণভাবে গল্পের গতিপথ সাজিয়েছেন লেখক। বর্তমান আর অতীতের মধ্যে এক ধরনের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। তবে প্রথম অধ্যায়ে লেখক সময়কাল উল্লেখ করলেও বাকি অধ্যায়গুলোতে করেননি। আমার মনে হয়েছে প্রতিটি অধ্যায়ে সময়কাল উল্লেখ করলে বেশ ভালো হতো। প্রথমদিকে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল কোনটা অতীত আর কোনটা বর্তমান বুঝতে গিয়ে। পরে অবশ্য মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম। যেহেতু দুই সময়ের গল্প এখানে বলা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আরো স্পষ্টভাবে বলা যেত।

লেখকের বর্ণনা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে বর্ণনা করেন। খুব সহজেই বইয়ের সাথে এক ধরনের সংযোগ স্থাপিত হয়। যা খুব দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। “রক্তের জবা” বইটির শুরু থেকেই আকর্ষণীয়। কী হবে, কীভাবে হবে— জানার আগ্রহ লেখক তৈরি করতে পেরেছেন। লেখকের লেখনশৈলীতে কাঠিন্য বলে কিছু নেই। তবে কিছুক্ষেত্রে মনে হয়েছে আরেকটু ভালো হতে পারত। যেমন, একই অনুভূতি ব্যবহার করতে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি ছিল। একটা বিষয় বলা যায়, অবাক হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে লেখক একাধিকবার ‘এমন হয়!’ শব্দের ব্যবহার করেছেন। লেখক যে কারণে এমন শব্দচয়ন করেছেন, তা হয়তো সঠিক। কিন্তু একাধিকবার পড়তে গিয়ে আমার কিছুটা বিরক্ত লেগেছে।

টুকরো টুকরো একাধিক মানুষের গল্প লেখক বলেছেন। শেষে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। অতীত আর বর্তমানের এই মেলবন্ধন মনে ধরেছে। গল্পটা মিলিত প্রতিশোধের। ধাপে ধাপে গল্প সাজিয়ে শেষের দিকে এসে মূল কাহিনি উন্মুক্ত হয়। আমার মনে হয়েছে লেখক তাড়াহুড়ো করে সমাপ্তি এঁকেছেন। আরেকটু সময় দেওয়া যেত। হুট করে এভাবে শেষ হয়ে যাওয়া বেশ আক্ষেপের জন্ম দেয়। এর দারুণভাবে সবকিছুর পর এমন সাদামাটা সমাপ্তি ঠিক পছন্দ হলো না। যদিও লেখক ইচ্ছে করেই হয়তো এমনভাবে শেষ করেছেন। কিছু ঘটনা বলতে হয় না, পাঠককে বুঝে নেওয়ার মতো সুযোগ দিতে হয়।

শেষে অবশ্য একটা প্রশ্ন করা-ই যায়, এখানেই কি শেষ? না-কি আবার কোনো রহস্য সামনে এসে ধরা দিবে। লেখক যেভাবে উন্মুক্ত সমাপ্তি রেখেছেন, সিক্যুয়াল আসা সম্ভব। কেননা এত সহজভাবে শেষ হওয়া যে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

▪️চরিত্রায়ন :

উপন্যাসটির সবচেয়ে দুর্দান্ত যে বিষয় লেগেছে, সেটা হচ্ছে চরিত্র গঠন। প্রতিটি চরিত্র খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা। সেটা হোক জমিদার বা তার স্ত্রী, কিংবা মহেন্দ্রনাথের মতো তান্ত্রিক। ছোটখাটো চরিত্রগুলোও লেখক বেশ যত্ন নিয়ে তৈরি করেছেন।

অতীতের পাশাপাশি বর্তমানের চরিত্র যেমন মধু, আরতি বালা, অপলা, মারইয়াম চরিত্রগুলোও গল্পের ক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা পালন করেছে। সামান্য সময়ের জন্য আবির্ভাব হওয়া কিছু চরিত্রও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গল্পের প্রয়োজন মিটিয়েছে।

চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে লেখক খেই হারাননি। যে চরিত্র যেভাবে দরকার, সেভাবেই উঠে এসেছে। তাদের অনুভূতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। ভীতিকর পরিস্থিতিকে চরিত্রের মাধ্যমে আরও ভীতিকর করে তোলার যে প্রয়াস লেখক করেছেন, তাকে সাধুবাদ দিতেই হয়।

▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :

বানানের ক্ষেত্রে খুব একটা ভুল না দেখলেও, গল্পের মাঝে বেশ কিছু ইংরেজি শব্দের ব্যবহার কেন জানি ভালো লাগে না। যে শব্দের প্রচলিত বাংলা শব্দ আছে, তা কেন ইংরেজিতেই বলতে হবে? সংলাপের ক্ষেত্রে ঠিক আছে, কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে না করাই উত্তম বলে মনে করি।

এছাড়া কি/কী এর ভুল ব্যবহার অধিক হারে লক্ষণীয়। কী সঠিকভাবে ব্যবহার হলেও কি এর পরিবর্তে কী এর ব্যবহার প্রায় সবখানেই ছিল। ফলে অর্থ বিভ্রাটের সুযোগ থাকে, বুঝতে অসুবিধা হয়। আরেকটা বিষয়, কিছু বানান বইতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যেমন তেজকে ত্যাজ লেখা ছিল। আমি জানি না বানানটি সঠিক কি না। তবে পড়তে অস্বস্তি লাগছিল।

সংলাপের ক্ষেত্রে ভাষার প্রয়োগে কিছুটা ভুল লক্ষ্য করেছি। শুদ্ধ-অশুদ্ধের দোষ ছিল। যার শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা উচিত, সে অশুদ্ধ ভাষায় বলছে আবার উল্টোটাও ঘটেছে। একই মানুষ আবার শুদ্ধ-অশুদ্ধ দুই ভাষায় কথা বলছে। একবার আপনি বলছে, আবার তুমি বলছে। সম্পাদনা ভালো হলে এগুলো হয়তো ঠিক করে নেওয়া যেত।

বাঁধাই দারুন। প্রচ্ছদটা শুরুর দিকে পছন্দ না হলেও ছাপাতে দারুণ এসেছে। একই সাথে গল্পের নিবেদন যেন প্রচ্ছদে ফুটে উঠেছে।

▪️পরিশেষে, সময় তার আপন গতিতে চলতে থাকে। কিন্তু কোনো এক সময়, কোনো একজনের জন্য সময় থেমে যায়। তার অপেক্ষা চলে। একদিন সঠিক সময় আসবে, সুযোগ পাবে নিজেকে জানান দেওয়ার। সেদিন সকল কিছুর জবাব দিবে, জানান দিবে সে ফিরে আসছে! সেদিন কেউ নিস্তার পাবে না… কেউ না!

▪️বই : রক্তের জবা
▪️লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২৪
▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০৮
▪️মুদ্রিত মূল্য : ৫২০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
363 reviews35 followers
July 27, 2024
র ক্তের সাথে মিশে কী র ক্তজবা হয়? নাহলে এত লাল কেন এর রঙ? টকটকে লাল রঙের র ক্তজবা অবশ্য দেখতে দূর থেকে বেশ ভালোই লাগে। সৃষ্টার অপরূপ সৌন্দর্য। কিন্তু যে জবা র ক্তে ডুবে আরো লাল হয়ে ওঠে সেই জবা বোধহয় র ক্তের জবা। র ক্তজবার বৈশিষ্ট্য থাকে না তাঁর মধ্যে। সেখানে থাকে প্রতিহিংসার ছোঁয়া, কিংবা প্রতিশোধ। রক্ষা করা কী যাবে শেষ পর্যন্ত?


অতীতের গল্পটা সেই ১৮৮২ সালের। রায়কমল গ্ৰামের একপাশের জঙ্গলের মন্দিরে শবসাধনা করতো তান্ত্রিক মহেন্দ্রনাথ। সেই কোন ছোটবেলায় এক সাধু এক প্রকার জোর করেই তাঁকে নিয়ে আসে এই শবসাধনার কাজে। সে নাকি জন্মেছেই এই কাজের জন্য। এখনও এই শেষ বয়সে এসে বৃদ্ধ মহেন্দ্রনাথ দিগম্বর নারীর মৃতদেহের উপর বসে নিজেও দিগম্বর হয়ে করে চলেছে কঠিন সাধনা। আর কিছু ধাপ বাকি তারপরেই দেখা মিলবে কাল ভৈরবের। মহেন্দ্রনাথ পাবে অসীম ক্ষমতা। যা তাঁকে করবে ক্ষমতাবান।


এদিকে বর্তমান সময়ের গল্পে শিক্ষক আনিসুর রহমানের মনটা কু গাইছে। স্ত্রী আয়েশা প্রসববেদনায় কাতর তাঁকে আসতে হয়েছে স্কুলে। অবশ্য কিছুক্ষণ পরেই ছুটে গেলেন বাড়ি। আয়েশার অবস্থা ভালো না।‌ রক্তে ভেসে যাচ্ছে কোমরের নিচ থেকে। বাচ্চাটা মারা গেল হাসপাতালে নিতে নিতে। আয়েশা কোনোমতে বেঁচে গেছেন। কিন্তু সন্তান হারানোর বেদনায় স্বামী স্ত্রী দুজনেই কাতর।


আয়েশা পাগলপ্রায়। আনিসুর রহমান কীভাবে সামলাবেন স্ত্রীকে! রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন দুজনে একসাথে। হঠাৎ মাঝরাতে কান্নার শব্দ শুনে আনিসুর রহমান সাহস করে বাইরে এসে দেখেন বাসার সামনে গাছের নিচে এক নবজাতক। এত রাতে এখানে বাচ্চা রেখে গেল কে? ওদিকে আয়েশা পাগলপ্রায় অবস্থা, তাই সাতপাঁচ না ভেবে তাড়াতাড়ি বাচ্চাটা কোলে দৌড়ে ঘরে এসে তুলে দিলেন আয়েশার কোলে। গ্ৰাম ছাড়লেন রাতের মধ্যে। এবং আয়েশাও আর কোনদিন মা হতে পারেনি।


মধু হচ্ছে গাঁয়ের মুচি। লোকের জুতা সেলাই করে পেট চলে নিজের এবং স্ত্রী আরতি বালার। আরতি সবসময় স্বামীর সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে। এত অভাব তাঁর ভালো লাগে না। ঘরের সামনে প্রকান্ড এক তেঁতুলগাছ। মধুর পূর্বপুরুষের কেউ ওই গাছ কখনো কাটেনি। মধু বরং তাঁর মাকে দেখেছে গাছের সামনে মিষ্টি রেখে আসতে। মধুকে তিনি বলে গেছেন গাছটা না কাটতে। কিন্তু অভাবের সংসারে আরতি বালার নজর ওই গাছের দিকে। নিশ্চয়ই ওই গাছের নিচে সোনাদানা আছে। নাহলে কাটতে নিষেধ কেন করে গেছে মধুর পূর্বপুরুষেরা!


রায়সুন্দরী রানী বিধবা মানুষ। এক মেয়ে অপলাকে নিয়ে তাঁর সংসার। স্বামী আকাশ চন্দ্র অপঘাতে মারা গেছেন। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। রায় সুন্দরীর বিশ্বাস কেউ ঠেলে ফেলেছে। আত্মহত্যা করার কোনো কারণ ছিলো না স্বামীর। অপলা টিউশনি করে আর ব্যাংকের কিছু জমানো টাকার ইন্টারেস্ট দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। বিধবা রায়সুন্দরী জানতেন স্বামীর পূর্বপুরুষেরা জমিদার ছিলো। রায়কমল নামক গ্ৰামে তাঁদের জমিদারী ছিলো। স্বামী আকাশ চন্দ্র সেই জমিদারী বংশের উত্তরাধিকার সূত্রে সপ্তম পুরুষ। কিন্তু স্বামী ছিলো এই বংশের শেষ বংশধর হতদরিদ্র চাকুরীজীবি। বারবার স্বামীর চোখে অদ্ভুত ভয় দেখেছেন তিনি। স্বামী বলতেন পূর্বপুরুষেরা পাপ করেছিল, পাপের ফল ভোগ করতে হবে। কিন্তু কীসের পাপ? স্বামী না বলেই যে হঠাৎ করেই চলে গেলেন!


আবার সেই ১৮৮২ সালের অতীতের গল্পের কথায় ফিরি। রায়কমলের তৎকালীন সময়ে জমিদার ছিলেন উদিত চন্দ্র নারায়ন। স্ত্রী বিমলা দেবী পেটে সন্তান রাখতে পারেন না। পর পর চারটি সন্তান মারা গেছে। জমিদার পড়েছেন ভাবনায়। তাঁর কিছু হলে জমিদারী কে দেখবে! বিমলা দেবী নিজেও বিমর্ষ। মা হতে তো সব মেয়েই চায়। পূজো অর্চনা যে যা বলেছে সব করেছেন কিন্তু লাভ হচ্ছে না।


                    ~যখন‌ আসে দুঃসময় ~


তান্ত্রিক মহেন্দ্রনাথের তন্ত্রসাধনা দেখে ফেলায় সে দুজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এবং এই খুনের ঘটনায় খুঁজতে খুঁজতে জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনী মহেন্দ্রনাথকে খুঁজে পায় রক্তমাখা খাঁড়া হাতে মন্দিরের কুঠুরিতে। মহেন্দ্রনাথকে আটক করে সহজে অবশ্য নেয়া যায়নি। পাঁচজন লাঠিয়ালদের লোককে তিনি খাঁড়া দিয়ে খুন করেন। পরে বহু লোক অতিকষ্টে শেকল দিয়ে বেঁধে তাঁকে নিয়ে যায় জমিদারের বাড়িতে।


জমিদার সব শুনে আদেশ দেন মৃত্যুই এই খুনির একমাত্র শাস্তি। শুনে মহেন্দ্রনাথ জমিদারকে হুমকি দেয় তাঁকে মেরে ফেললে বিপদ হবে। ধ্বংস হয়ে যাবে এই রায়কমল গ্ৰাম। শেষমেষ কী ঘটতে চলেছে মহেন্দ্রনাথ কিংবা রায়কমল গ্ৰামের ভাগ্যে?


ওদিকে আনিসুর রহমান এবং আয়েশা দম্পতি চিন্তায় মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে। মেয়েটা ওর মায়ের সাথে অহেতুক খারাপ ব্যবহার করছে। কিন্তু লক্ষী মেয়ে মরিয়ম তো এমন ছিলো না!


রায়সুন্দরী রানী ইদানিং দরজায় টোকার শব্দ পান। একা একা থাকতে কেমন অস্বস্তি বোধ হয়। বারবার তাঁর মনে হয় তিনি দুটো মেয়ের জন্ম দিয়েছেন। আরেকজনকে কেউ চুরি করে নিয়েছিল সেদিন হাসপাতালে। অপলা ভাবছে অন্য বিষয়, সেটা আবার কী?


মধু বউ আরতির জোরাজুরিতে গাছ কেটে ফেলার চিন্তা ভাবনা করছে। আচ্ছা গাছটা কেটে ফেললে কোনো বিপদ হবে না তো?


অনেকগুলো প্রশ্নের জট পাকিয়ে বিষয় আরো জটিল হয়ে গেছে কিন্তু রক্তের জবা ফুল উত্তর দেবে রক্তের ধারা বইয়ে। কার রক্ত? কোথায় বইবে রক্তধারা, উত্তর এখনো বাকি আছে জানার আরো।


                    ~পাঠ প্রতিক্রিয়া ~


আরো একজন লেখকের নতুন পাঠক হলাম আমি। এবং শুরুতেই বলে রাখি এই লেখক কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন জনরায় লিখেছেন। এবং আমি বেশ আলোচনা শুনেছি ওনার বইগুলো নিয়ে। বিশেষ করে "বকুল ফুল ট্রিলজি"। তবে আমার ভাগ্যে ওনার লেখা বইগুলো থেকে পড়া শুরু হয়েছে "রক্তের জবা" দিয়ে। এবং এই লেখক হরর জনরায় কিন্তু দারুণ কাজ করবেন যদি উনি এভাবে লিখে যেতে পারেন।


অনেকদিন পরে হরর কিংবা অতিপ্রাকৃত জনরায় খুব আগ্ৰহ নিয়ে একটা বই শেষ করলাম। কারণ আজকাল সত্যি বলতে অতিপ্রাকৃত গল্পে আমি পুরনো স্বাদ পাই না। তবে "রক্তের জবা" বেশ স্বস্তি দিলো আমাকে। একটা অতিপ্রাকৃত গল্পকার হিসেবে লেখক এই বইয়ে অনেকাংশে সফল।


আগেই সফল কেন বললাম লেখককে এবার আমার দৃষ্টি থেকে ব্যাখা করি। প্রথমেই বেশ দ্রুতগতির সাবলীল লেখনী। এবং গল্পের প্লট খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার। পারফেক্টলি তিনি গল্পের ধারাটা টেনে গেছেন।


দ্বিতীয় যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হলো এই বইয়ে চরিত্রের আধিক্য প্রচুর। একের পর এক চরিত্র এবং প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে ঘটনা চলছে। অতীত এবং বর্তমান। লেখক চরিত্রগুলোকে দারুন ভাবে ব্যালেন্স করে শেষটায় একটা চমৎকার টুইস্ট এনে দাঁড় করিয়েছেন। চরিত্রগুলো আমার কাছে একদম জগাখিচুড়ি মনে হয়নি। বরং লেখক অতীত বর্তমান যেভাবে গল্পে পাশাপাশি নিয়ে এগিয়েছেন আমার ভালো লেগেছে।


শেষের দিকে অবশ্য মনে হয়েছে তাড়াহুড়ো করে গল্পের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন কিন্তু পরে হাসবেন্ড বললো এই বইয়ের সিরিজ হবে। আসলেই কিন্তু গল্পটা যেন শেষ হয়েও শেষ হলো না। অনেক কিছু জানতে চাই আরও। কিছু কিছু জায়গায় ছাপার ভুল ছিল অনেক। বানান ভুল চোখে পড়েনি। এই বইয়ে সামান্য কিছু ১৮+ বিষয় আছে তাই অবশ্যই বইটি অতিপ্রাকৃত হলেও একদম ছোট বাচ্চাদের পড়তে দেয়া উচিত হবে না। বইটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। এ বিষয়ে লেখক ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।


অন্যধারার বাঁধাই আগের বইগুলোতে আঁটসাঁট লাগলেও এই বইটা মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যে পড়া গেছে। প্রচ্ছদের লাল রক্তজবা এবং তান্ত্রিক আমার কাছে যৌক্তিক লেগেছে। গল্পের বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে।


পরিশেষে লেখক মনোয়ার ভাইকে বলবো আপনি ভবিষ্যতেও হরর জনরা নিয়ে এভাবেই কাজ করুন। ভূতের গল্প বা অতিপ্রাকৃত গল্প সবাই জমিয়ে বলতে পারে না। আপনারটা ভালোই লাগলো। শুভকামনা।


🌺 বইয়ের নাম: "রক্তের জবা"

🌺 লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম 

🌺প্রকাশনী: অন্যধারা 

🌺 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫
Profile Image for Nusrat Jahan Nafisa.
38 reviews
February 27, 2024
গল্পটা শুরু থেকে যেভাবে জমে উঠেছিল তাতে আশা করেছিলাম ৪ কিংবা ৫ তারা পেয়ে যাবে অনায়াসে ৷ কিন্তু এত সুন্দর করে সবটা গুছিয়ে শেষ পর্যন্ত নিয়ে এসে হুট করে মনে হল, লেখক দুই পাতায় গল্পটা শেষ করে দিলেন ৷ একবার তো ভেবেছিলাম আমি কি পেজ স্কিপ করে চলে গেলাম? যেই ক্লাইম্যাক্সের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম সেরকম কিছু না পেয়ে দুঃখ হল ৷ তবে খুব ঝরঝরে ভাবে লিখে গেছেন তার আগ পর্যন্ত, বইটা হাত থেকে নামানোর সময় পাই নি ৷

কিছু ছোটখাট প্রিন্টিং মিসটেক ছাড়া সব ভালই ছিল ৷ প্রচ্ছদটাও দারুন মানানসই ৷ তবে গোটা বইয়ে 'কি' এর কোন ব্যবহার নেই, সব জায়গায়ই ওটা 'কী' হয়ে গেছে, এই ব্যাপারটা খানিকটা চোখে লেগেছে পড়তে গিয়ে ৷

আর শেষ করার পর একটা প্রশ্ন মনে থেকেই যায়, এত সহজে কি মাহেন্দ্রণাথকে আসলেও থামানো গেল? তাহলে আগে কেন সম্ভব হয় নি? নাকি মাহেন্দ্রণাথের আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে? সবমিলিয়ে ভাল লেগেছে বইটা ৷

রেটিং: ৩.৫/৫
Profile Image for Pranto Podder Niloy.
23 reviews
April 10, 2024
4.5 তারা যদিও। গল্পের পুরোটা জুড়ে এত বিস্তার করে শেষ দুইপাতায় ঝড়ের বেগে শেষ হওয়াটা যেন মানতে পারলাম না।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
463 reviews27 followers
March 20, 2024
মনোয়ারুল ইসলামের সাথে পরিচয় আমার উনার অতিপ্রাকৃত উপন্যাস দিয়ে। বকুলফুল ট্রিলজি পড়ার পরই উনার সহজ বর্ণনা আর দারুণ শব্দচয়নের ভক্ত হয়ে যাই। সে জন্য এই মেলায় প্রকাশ পাওয়া 'রক্তের জবা' বইটি সংগ্রহ করি।

বইটার শুরুই হয় তান্ত্রিক মাহেন্দ্রনাথের সাধনা নিয়ে। প্রথম থেকেই লেখক ভয়ের আবহ ফুটিয়ে তুলে পাঠককে ধরে ফেলেন। আস্তে আস্তে পরিচিয় পায় রায়সুন্দরী, অপলা, আনিসুর রহমান, আয়েশা বেগম, মারইয়াম, মধু ও আরতি বালা,জমিদার উদিত চন্দ্রের মত শক্তিশালী চরিত্র। বইটা দুইটা টাইমলাইনে চলছিল। প্রথমটা দেড়শ বছর আগের ও দ্বিতীয়টা বর্তমান সময়ের।

বীভৎসতার চরম উদাহরণ হয়তো এই বইটা। গা গুলিয়ে উঠা সব সিকোয়েন্স এ অনেক পাঠককে অস্বস্তিতে ফেলে দিবে।

বইয়ের প্রতিটা চরিত্র দারুণ ভাবে ফুটে উঠেছে। সকল চরিত্র নিজ নিজ জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাথে ছোট ছোট যে চরিত্রের আগমন ঘটে সেগুলোও উপভোগ্য ছিল। আমার কাছে জমিদার উদিত চন্দ্রের চরিত্র বেশ ভালো লেগেছে।

প্রথমে বিচ্ছিন্ন কয়েকজন মানুষের গল্প বলেছেন। শেষের দিকে এসে সুন্দর ভাবে একই সূত্রে মিলিয়ে এনেছেন লেখক। সমাপ্তিটা নিয়ে একটু আক্ষেপ থেকেই গেল। এতো দারুণ ভাবে বিল্ড আপ দিয়ে শেষের দিকে সাদামাটা সমাপ্তিটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। হয়তো পাঠকদেরও কল্পনায় নিতে চাচ্ছেন লেখক। সমাপ্তিটা আরো বর্ণনায় তুলে ধরলে দারুণ হতো।

যারা আধিভৌতিক ও তন্ত্র সাধক নিয়ে গল্প পড়তে চান তাদের ভালো লাগবে বইটা কিন্তু সাবধান বইটা খুবই ডিস্টার্বিং এলিমেন্ট দিয়েও ভরা। যে নিতে পারবে এগুলো তার জন্য শুভকামনা।

লেখকের দারুণ শব্দচয়নে আরো এই জনরায় লেখা চাই।

রক্তের জবা
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
জনরা: হরর
প্রকাশনী:অন্যধারা
পৃষ্ঠা:২০৮
Profile Image for Masfia Karim.
42 reviews1 follower
January 25, 2025
মূলত কাহিনীটা একজন তান্ত্রিকের প্রতিশোধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা। রিভেঞ্জ থ্রিলার হিসেবে আমি বলব বেশ লেগেছে। লেখনী খুব সোজা সাপটা হওয়ায় দ্রুত পড়া গেল। একাধিক দৃশ্যপট এবং অনেক অনেক চরিত্র কাহিনীটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করেছিল।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
538 reviews228 followers
March 21, 2024
একটা স্টার কেনো দিলাম না বলি। ঘটনা ১৮৮২ আর ২০২৩ এর মাঝে চলতে থাকে। কিন্তু এটা বুঝা যায় চরিত্রগুলো দিয়ে। আর জানা না থাকলে মাঝেমাঝেই গুলিয়ে যাচ্ছিলো।
Profile Image for Rehnuma.
509 reviews24 followers
Read
April 22, 2024
❛পাপ বাপকেও ছাড়ে না।❜

পাপ, অভিশাপ, কর্মফল এগুলো এড়ানো যায় না। ঝাড়ফুঁক, তুকতাকেও এই নিয়তির অমোঘ ফলকে টপকে আসা দায়।
এমনই এক কর্মফল বা ভুলের মাশুল দিচ্ছে রায়কমলবাসী। জমিদার উদিত চন্দ্রের জমিদারিতে কোনো দুঃখ নেই। জমিদার নামটা শুনলেই কেমন র ক্তচোষা, নি র্যাতনকারী বা খাজনার পসরা ওয়ালা কেউ ভেসে ওঠে বেশিরভাগ। তবে উদিত জমিদার একেবারেই উল্টো। প্রজাদের মঙ্গল কামনাই যার একমাত্র ধ্যান। কোমল হৃদয়ের অধিকারী জমিদার কখনো কারো সাথে অন্যায় করেননি। তবুও উপরওয়ালা কেন যেন তার উপর নাখোশ। স্ত্রী বিমলা দেবীর গর্ভে আসছে না বংশের প্রদীপ। আসলেও ভূমিষ্ঠ হচ্ছে একতাল মাংসের দলা হিসেবে। এদিকে গ্রামবাসী সহ জমিদার ভয়ে তটস্থ। অভিশাপ কি ফলে যাবে? নির্বংশ হবে জমিদার? জমিদারি বিলীন হয়ে যাবে? নির্বিচারে ভয়ানকভাবে খু ন হচ্ছে গ্রামবাসী। অভিশাপ রুখে দেয়ার কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।

ছোট্ট মাহেন্দ্রনাথের ললাটের লিখন ছিল ভিন্ন। সেই কোন আমলের কথা। এক সাধু এসে নিয়ে যেতে চাইলেন তাকে। মা তারার আশীর্বাদ আছে নাকি তার। সে বিশেষ কেউ হবে। এরপর থেকেই কেমন বদলে যায় সে। একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর কেটে যায় কতগুলো যুগ। ছোট্ট মাহেন্দ্রনাথ এখন চুল দাড়িওয়ালা, কপালে লাল টিকা, গলায় র ক্তজবার মালা দিয়ে ঘুরে। শব সাধনা করে।
সালটা ১৮৮২। পরিত্যক্ত মা তারার মন্দিরে শব সাধনা করছিল। আর কিছু ধাপের পরেই সিদ্ধিপ্রাপ্ত হবে মাহেন্দ্র। পৌঁছে যাবে অমরত্বে, পাবে অপার ক্ষমতা। নীরবে ম ড়ার উপর সাধনা চলতে থাকে। কিন্তু মা তারার ইচ্ছে মনে হয় ভিন্ন ছিল। নীরব সাধনার এই দৃশ্য দেখে ফেলে দুজন। পরিস্থিতি সামলে উঠতে গিয়েই তাদের নৃশংসভাবে হ ত্যা করে সে। ধরা পরে যায় জমিদারের কাছে। এরপর? সাধনালাভ হয়েছিল?

অতীত পেরিয়ে বর্তমানের কাটায় চলছে সময়। সে সময়ে বিলীন হয়ে যাওয়া জমিদারের প্রায় শেষ বংশধর আকাশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী রায়সুন্দরী রানীর কন্যা অপলাকে নিয়ে জীবন কাটছে। আকাশ চন্দ্র সবসময় আতঙ্কে থাকতেন। বলতেন অভিশাপ এড়ানো যাবে না। কিন্তু কিসের এত ভয় রায়সুন্দরী বোঝেন না। ভয়কে সত্যি করে দিয়েই কিনা একদিন আকাশ চাপা পড়লেন ট্রেনের নিচে। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো দেহ। কেউ ধাক্কা দিয়েছিল না নিজেকেই নিজে শেষ করলেন - এ এক রহস্য।
জমিদারের বংশ হলেও এরপর রায়সুন্দরী আর অপলাকে জীবনযু দ্ধে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। মা মেয়ের সংসার অপলা প্রায় একাই টানছে। তবুও চলে যাচ্ছে তাদের। তবে ইদানিং মায়ের কী জানি হয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান। অদ্ভুত সব কথা বলেন। রায়সুন্দরীর সবসময় মনে হতো তিনি জমজ বাচ্চা প্রসব করেছিলেন। অপলা ছাড়াও তার আরেক মেয়ে হয়েছিল। যার নাম চপলা হতে পারত। অপলা এসব শুনে ভাবে মায়ের বুঝি মানসিক সমস্যা। ডাক্তার দেখানো দরকার। তবে নিজের সাথে যে অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে তার ব্যাখ্যা কী করে দেবে সে?

জুতো সেলাই করে দিন আনে দিন খায় মধু। স্ত্রী আরতি বালাকে নিয়ে সংসার। পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ভিটে ছাড়া আছে এক তেঁতুল গাছ। আর তাকে নিয়ে ইতিহাস। বলা যায় নিষেধাজ্ঞা। গাছটা কাটা মানা। কিন্তু মানুষ নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতিই সবথেকে বেশি আগ্রহ পায়। তাদেরও আগ্রহ নিশ্চই গাছের নিচে হীরামতি কিছু আছে। বারণ আর মানা যাবে না। লোভের পারদ বেড়ে গেছে। তবে এর পরিণাম কী হবে?

অত্যধিক রূপবতী মেয়ে মারইয়াম। বাবা-মায়ের আদরের সন্তান। বিয়ের কথা চলছিল। কিন্তু হুট করেই লক্ষ্মীমন্ত মেয়েটার কী জানি হলো। হুটহাট মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তুই তোকারি করে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কোমল চরিত্রের মারইয়ামের সাথে এটা যায় না। বাবা মায়ের চিন্তায় কপালে ভাঁজ। মারইয়াম মনেই রাখতে পারে না এসব সে কখন করে। কিন্তু বুঝে কিছু একটা ঠিক নেই। বুঝতে বুঝতে সে টের পায় তার মাথায় গভীর এক দায়িত্ব আছে। তাকে বাঁচাতে হবে। কেন সে কারণ জানা নেই।

দেড়শো বছর পুরানা শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অভিশাপ আবার তার কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এর থেকে ফেরানো যাবে না। ধ্বংস অনিবার্য।



পাঠ প্রতিক্রিয়া:


❝র ক্তের জবা❞ মনোয়ারুল ইসলামের আধিভৌতিক অতিপ্রাকৃত ঘরনার বই। তান্ত্রিক, শব সাধনা এসব থাকলেও তন্ত্র মন্ত্র নিয়ে বেশি কপচাকপচি ছিল না। লেখকের অতিপ্রাকৃত ঘরনার লেখাগুলো বেশ ভালো হয়। শুরুই করেছিলাম লেখকের অতিপ্রাকৃত বই দিয়ে। তবে প্রথম বইয়ের যে মুগ্ধতা ছিল একই ঘরনার পরের বইগুলো যেন সেই মুগ্ধতা দিতে পারছিল না। একটা আফসোস ছিল। তবে এই বই সেই নাই নাই আফসোসটা কমিয়ে দিয়েছে বলতে হবে।
বইয়ের শুরু যেমন ভয়ানক এক পরিবেশ দিয়ে শুরু হয়েছিল সেই ভয়াবহতা বিরাজ করেছে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই। তান্ত্রিক আর এরসাথে জড়িত পরিবেশের বর্ণনা লেখক দিয়েছেন দক্ষভাবে। বেশ ভালো লেগেছে।

দুটো সময়ের গল্প সমান্তরালভাবে বলে গেছেন লেখক। একটার মাঝে দিয়েই আরেকটা ঘটনার বা সময়ের প্রবেশ হয়েছে। অতিপ্রাকৃত পরিবেশের আবহ তৈরি ছিল দারুণ। ভয় ধরা অনুভূতি কাজ করেছে। বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনাও ছিল যথেষ্ঠ শিরশিরে অনুভূতি জাগানো। অতিপ্রাকৃত কায়দায় খু নগুলোর বিস্তারিত পড়তে গিয়ে বেশ চাপ পড়েছে। বলা যায় নিষ্ঠুর কায়দায় মে রেছেন তাদের।
অতীত আর বর্তমানের যোগ শেষে গিয়ে হয়েছে। অনেকগুলো অজানা প্রশ্নের জবাব মিলেছে। কিছু আবার জানা অজানার হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। কিছু পাঠক বুঝে নিবে, আবার কিছু বুঝে নেয়া যাবে না। অপেক্ষা করতে হতে পারে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেখক যথেষ্ঠ সুন্দরভাবে প্রতিটা সময়, চরিত্র এবং ঘটনার বর্ণনা করেছেন। তবে শেষে গিয়ে কী জানি হলো! মানতে পারলাম না। শেষটা আলোর বেগে না শেষ করে কিছুটা বাড়ানো যেত। ঝলমলে আকাশে যেমন মাঝেমধ্যে হুট করেই ঝড় এসে পড়ে ঠিক তেমনভাবে সমাপ্তি টেনে দিলেন। এমনটা না করলেও হতো। এ ধরনের সমাপ্তিতে অনেক কিছু নিজে ভাবতে হয় আর চিন্তা করতে হয় পরের কোনো কিস্তি আসবে কি? না আসলে যে তৃপ্তি মিলবে না। তবে কি পাপের ঘড়া পূর্ণ হতে আরো বাকি?
অভিশাপ কি তবে আবার কাল ছাপিয়ে ফিরবে?

কিছু প্রশ্ন রয়ে যাবে। মারইয়ামের একদম জন্ম থেকেই থাকা সেই জিনিসটা কী করে তার মধ্যে এলো?
জিন আসর করলে কি হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ করে করে? আমার জানা নেই।
মা তারা কে? পার্বতীর তান্ত্রিক রূপ না অন্য কোনো দেবী?


চরিত্র:

এই বইটির সবথেকে সুন্দর দিক বলতে হবে চরিত্র। ঘটনার খাতিরে, প্রয়োজনে যে কয়টা চরিত্র এসেছে লেখক তাদের সবাইকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সময় দিয়ে চরিত্রগুলো সাজিয়েছেন। অপলা, মারইয়াম, আরতি বালা, রায়সুন্দরী, আয়েশা, আনিসুর, আকাশ, মধু প্রতিটা চরিত্র বেশ দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরেছে।
অতীতে উদিত, বিমলা, বজলু, শিরু, অমল এমনকি শিবানী চরিত্রগুলো ছিল যার যার স্থানে যথার্থ। আর আমাদের তান্ত্রিক মাহেন্দ্রনাথ তো আছেই।
যুগে যুগে কালে কালে.......


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

বইয়ের প্রচ্ছদ আমার মোটামুটি লেগেছে। তবে গল্পের সাথে অবশ্যই মানানসই। অন্যধারার বইয়ের বাঁধাই বেশ উন্নতমানের সন্দেহ নেই।
বইতে বানান ভুলের পরিমাণ তেমন না থাকলেও সম্পাদনার অভাবে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সম্বোধনের ক্ষেত্রে উলটাপালটা লাগছিল মাঝেমাঝে। আবার ভাষার ব্যবহারেও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছিল কোনো কারণ ছাড়াই। যারা শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে পড়ে এসছি সে জিনের আসর ছাড়াও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা শুরু করেছিল। এদিকগুলো একটু নজর দেয়া যেত।


নিয়তি তো এড়ানো যায় না। অল্প সময়ের জন্য ঠেকিয়ে রাখা গেলেও মুক্তি কি মেলে? কারণ তার শেষ কথাই তো ছিল, কাউরে ছাড়মু না!
Profile Image for Mesratul Jannat.
37 reviews3 followers
December 22, 2024
#বই_রিভিউ
#রক্তের_জবা
লেখক- Monowarul Islam
প্রকাশনী- Anyadhara অন্যধারা
মুদ্রিত মূল্য- ৫২০
পৃষ্ঠা- ২০৮
জনরা- অতিপ্রাকৃত ও ভৌতিক
রিভিউয়ার: জান্নাত

#ফ্ল্যাপ-
কতদিন ধরে মাহেন্দ্রনাথ শবসাধনা করে! আঙুলে গুনে হিসেব রাখা সম্ভব না। ১৮৮২ সালের এক রাত... একটি মৃতদেহ। উলঙ্গ। মৃতদেহটি একজন নারীর। বয়স বেশি না, উনিশ-কুড়ির কাছাকাছি হবে। মাথায় চুলের ভাঁজে সিঁথিতে লেপটে আছে সিঁদুর।
মৃতদেহটিকে চিত করে শুইয়ে রাখা হয়েছে, দেহের ওপর সিদ্ধাসনে বসে আছে তান্ত্রিক মাহেন্দ্রনাথ। বছরের বিশেষ বিশেষ দিনে তার দরকার পড়ে একটি লাশ। সেটি হিন্দু না কি মুসলিম, যুবক না যুবতী, বয়সে কাঁচা কি পৌঢ় তা জানার দরকার পড়ে না এই মানুষটার। তার দরকার শুধুই একটি মৃতদেহ।
মৃতদেহ ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকা হয়েছে। বৃত্তের মাঝখানে আগুন জ্বলছে নিভু নিভু হয়ে। মাহেন্দ্রনাথের ডান হাতে রক্তজবা, বাঁ হাতে ছাই। নিচু স্বরে সে মন্ত্র পড়ছে, আর মাঝে মধ্যে সামনের পাত্রে রাখা ঘিয়ে চুবিয়ে নিচ্ছে জবা ফুল; এরপর অগ্নিকুণ্ঠে করছে ছাই নিক্ষেপ। তখন সঙ্গে সঙ্গেই চন্দনের গন্ধে চারদিকটা মোহিত হয়ে উঠছে, কিন্তু পরক্ষণেই গন্ধটা নেই হয়ে যাচ্ছে... স্থায়ী হচ্ছে না কোনোভাবেই।

#কাহিনি_সংক্ষেপ:
সময়টা ১৮৮২। সেই সময়ে এক ৮০/৯০ বছরের রহস্যময় পুরুষ সাধনা করতো। শবসাধনা। মরা কে চিৎ করে শুইয়ে তার উপর সিদ্ধাসনে বসে ধ্যান করতো। প্রচীন বন্ধ হয়ে যাওয়া এক তারা মন্দিরে সেই পুরুষ লোকালয় থেকে আড়ালে সাধনা করে চলেছেন। সেই রহসময় পুরুষের নাম "মাহেন্দ্রনাথ"। একদিন তিনি সাধনা করার সময় অযাচিত এক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাগ্য রচনা করেন। তারপর___
অন্যদিকে বর্তমানে আরো ২ পরিবার জড়িয়ে আছেন এই রহস্যময় পুরুষের সাথে। রায়সুন্দরী রানীর মেয়ে অপলা, এবং আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী আয়েশা এবং কন্যা মারইয়াম। কি সম্পর্ক তাদের এই রহস্যময় মানব মাহেন্দ্রনাথের।
এই গল্পটা সাধনা, হত্যা, প্রতিশোধের। মাহেন্দ্রনাথের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতেই জমিদার বংশে নেমে আসে অমানিশার ঘোর কালো অন্ধকার। পূর্বপুরুষের পাপের শাস্তি পেতে থাকে পরবর্তী প্রজন্ম। তারপর? তারপর একদিন আসে মাহেন্দ্রনাথের মাহেন্দ্রক্ষণ। সে পায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। জাগে তার দীর্ঘবছরের পুরোনো প্রতিশোধের নেশা। এই নেশায় মত্ত হয়ে নৃশংস ভাবে প্রাণ যায় আরো অনেক নিরপরাধ মানুষের।
মাহেন্দ্রনাথের সাধনার বিষয়বস্তু, প্রক্রিয়া, রায়সুন্দরী, অপলা, আনিসুর আয়েশা দম্পতির কন্যা মারইয়াম সহ আরো চরিত্র, এবং তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা জানতে হলে পড়তে হবে মনোয়ারুল ইসলাম এর এই দারুণ বই "রক্তের জবা"।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া:
বইটার রক্তের জবা নামকরণ স্বার্থক। অতীত এবং বর্তমানের দারুণ কম্বিনেশনে তৈরি এই বই পাঠক হৃদয় কেড়ে নেবার মতোই। বইটায় রক্ত, নৃশংসতা, ভয়, সামাজিকতা এবং প্রতিশোধ দারুণ উপভোগ্য। লেখক ঠিকই বলেছেন বইটা লিখতে লেখক হেরে গেছেন গল্পের কাহিনীর কাছে গল্পের চরিত্রের কাছে।

বইটার সবথেকে বেশি হৃদয় নাড়ানো অংশ ছিলো একজন মায়ের তার কন্যাকে বলির উদ্দেশ্য যত্ন করে সাজানো। মাতৃস্নেহে মায়ের নাড়ি ছেঁড়া মানিক কে বলির উদ্দেশ্য মা নিজেই করিয়েছে শুদ্ধি স্নান। সারা শরীরে চন্দন মাখিয়ে, কপালে চন্দনের টিকা আর গলায় রক্তজবার মালা ঝুলিয়ে মা নিজেই নিজের সন্তানকে সাজিয়েছেন বলি হিসেবে।

#রেটিং: ৪/৫ ⭐⭐⭐⭐
1 review
January 4, 2026
বই : রক্তের জবা
​লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম
জনরা: হরর/অতিপ্রাকৃত


দেড়শ বছর আগের অতীত এবং বর্তমান দুই সময়ের সমান্তরাল স্রোতে বয়ে চলা এক গা ছমছমে গল্প 'রক্তের জবা'। ১৮৮২ সালের তান্ত্রিক মহেন্দ্রনাথের বীভৎস শবসাধনা, কাল ভৈরবের আশীর্বাদ পাওয়ার নেশা আর জমিদার বংশের এক অভিশপ্ত পরিণতির গল্প এটি। সেই ইতিহাসের রেশ এসে পড়ে বর্তমানের আনিসুর রহমান, সন্তানহারা আয়েশা, মুচি মধু কিংবা জমিদার বংশের শেষ উত্তরাধিকার অপলাদের জীবনে। টুকরো টুকরো রহস্যের সুতো যখন এক বিন্দুতে মেলে, তখন বেরিয়ে আসে এক চরম প্রতিশোধ আর রক্তক্ষয়ী সত্য।

.

​বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি। লেখক খুব সহজ ভাষায় এক অদ্ভুত রহস্যের জাল বুনেছেন। অতিপ্রাকৃত গল্পের ক্ষেত্রে যে গা ছমছমে পরিবেশ প্রয়োজন, তা তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে অতীত এবং বর্তমানের মেলবন্ধনটি ছিল বেশ সূক্ষ্ম। হরর জনরা হিসেবে ভয়ের পরিবেশ তৈরিতে লেখক সফল।
প্রতিটি চরিত্রের আলাদা প্রেক্ষাপট থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ার বিষয়টিও বেশ সন্তোষজনক।
​বইটির প্রচ্ছদ গল্পের মেজাজের সাথে একদম মানানসই।

.

বইটির একটি বড় আক্ষেপের জায়গা হলো এর সমাপ্তি। শুরু থেকে যে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, শেষ দিকে এসে মনে হয়েছে লেখক কিছুটা তাড়াহুড়ো করে গল্প শেষ করেছেন। ক্লাইম্যাক্সটি আরও কিছুটা বিস্তারিত হতে পারত। এছাড়া কিছু ছোটখাটো মুদ্রণ ত্রুটি এবং কিছু শব্দের বারবার ব্যবহার কখনও কখনও পড়ার গতিতে সামান্য ব্যাঘাত ঘটায়।

পরিশেষে, এটি এমন একটা বই যা হাতে নিলে শেষ না করে নামিয়ে রাখা কঠিন। মহেন্দ্রনাথকে কি আসলেই থামানো সম্ভব হয়েছে, নাকি আবারো ফিরে আসবে—এমন এক রহস্যময় প্রশ্ন মনে রেখেই পাঠককে বইটা শেষ করতে হয়।
.
​রেটিং: ৩.৫/৫
Profile Image for Suvradeep Mandal.
25 reviews2 followers
December 30, 2024
বইটার মধ্যে সেরকম নতুনত্ব কিছু নেই অনেকটা পুরোনো দিনের অলৌকিক জনারের বইয়ের মত, তবে এখনকার দিনের জঘন্য তন্ত্র রিলেটেড বইয়ের মত না বলে পড়া যায়। দুটো আলাদা টাইমলাইন নিয়ে গল্প শুরু হয়েছে যা শেষে গিয়ে একসাথে মিশে গেছে। খুব আস্তে আস্তে গল্প এগোচ্ছে বলে একটু একঘেঁয়ে লাগলেও পরে সেটা জমে যাবে। কিন্তু ক্লাইম্যাক্সটা জাস্ট 2 লাইনে শেষ হয়েছে, টুইস্ট থাকলেও মনে হচ্ছে লেখককে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বই শেষ করতে বলেছে, ওটা নাহলে বইটা One time read হলেও খারাপ লাগেনি।
রেটিং - 3.5/5

বিষয়বস্তু - 1882 আর 2023 এই দুই বছরের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গল্প শুরু হয়েছে। অতীতের ঘটে যাওয়া এক ঘটনার বর্তমানের ওপর প্রভাব (গড়পড়তা প্রতিশোধের গল্প) নিয়ে পুরো গল্পটা তৈরি হয়েছে। তান্ত্রিক মাহেন্দ্রনাথকে খুনের অভিযোগে বহু বছর আগে নির্মমভাবে শাস্তি দেয় জমিদার উদিত নারায়ণ। মরার আগে তান্ত্রিক বলে যায় যে সে কাউকে ছাড়বে না, জমিদারের বংশ শেষ করে তবে থামবে। এই ঘটনার সাথে 2023 সালে ঘটে চলা কিছু অলৌকিক ঘটনার যোগসূত্র তৈরি হয় ও শেষে হঠাৎ করেই সব কিছুর নিষ্পত্তি হয় যায়।
মজার ঘটনা হল বই শেষ হওয়ার 1 পাতা আগে পর্যন্ত বোঝা যাবে না যে বইটা শেষ হয়ে যাবে। হয়তো বইয়ের দ্বিতীয় পর্ব আসবে তার জন্যই এরকম জোর করে গল্প শেষ করা হয়েছে, ওটুকু না থাকলে বইটাকে ঠিকঠাক বই বলা চলে।
2 reviews
April 15, 2024
তারানাথ তান্ত্রিক থেকে এভাবে নগ্ন টুকলিটা না করলে ভালো হতো। ব্রাহ্মণ পরিবারের খাওয়াদাওয়া, আচার; এসব নিয়ে ফাকফোকর আছে। আর "মা তারা" পার্বতীর তান্ত্রিক রূপ। দশ মহাবিদ্যার একজন। এ সবের কোনো ধারনা না। প্রাথমিক পর্যায়ের খোঁজ করলেই বার হয়ে আসে। এসবের ব্যাপারে কোনো গবেষণা বা অন্বেষণের আলামত নেই।

আর এক বোনের কাছে যে জ্বিন আছে, তারো উৎপত্তি নিয়ে একটা কথা বলা নেই। অনেক হতাশ হয়েছি।
Profile Image for Yakub Shahed.
5 reviews
April 14, 2024
লেখকের প্রোফাইলে টিজার দেখে আমি খুব আশাবাদী হয়েছিলাম। পড়ার পর পেলাম একটা গড়পড়তার থেকেও নিম্ন কিছু। তন্ত্রমন্ত্র নিয়েও কিছু নেই। গল্প শেষ হয়নি। চর্বিত-চর্বণ হিসেবে আছে যমজ নিয়ে কিছু প্যাচাল। এই বই পড়ে মানুষ কিভাবে এত রেটিং দিয়েছে আমি জানি না।
Profile Image for Jihad.
5 reviews
March 4, 2024
মনের মতো একটা বই পড়লাম। এত সুন্দর চরিত্রায়ন করেছেন লেখক যে প্রতিটা চরিত্র সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে উপন্যাসে। বইটা আরো বড় হলে ভালো হতো।
Profile Image for Ayihat Muzu.
7 reviews
June 13, 2026
রক্তের জবা
লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম

আমি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম। লেখকের লেখা আগে কখনো পড়িনি। অতিপ্রাকৃত জনরার কিছু লেখা আগে পড়েছি অন্য লেখকদের। তবে রক্তের জবার মতো ধীরগতির মনে হয়নি। লেখক সুন্দরভাবে বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। চারটি ঘটনা, অতীত ও বর্তমান মিলিয়ে লেখা হয়েছে। অতীত ও বর্তমানের সংমিশ্রণে লেখক কিছুটা গুলিয়ে ফেলেছেন। একটি পর্ব পড়ার পর আরেকটি পর্বের জন্য যে আগ্রহ তৈরি হয়, এই বইয়ের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তবে যারা এই জনরার লেখা পছন্দ করেন, তাদের ভালো লাগবে। লেখক অবশ্যই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
পড়তে চাইলে পড়তে পারেন।
সময় থাকলে বিস্তারিত রিভিউ লিখতাম। লেখকের লেখার অনেক সুনাম শুনেছিলাম। সেই আগ্রহ থেকেই মূলত বইটা কিনেছিলাম।

রেটিং: ২.৫/৫
০৭/০৬/২৬
Displaying 1 - 19 of 19 reviews