Tarashankar Bandyopadhyay (Bangla: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) was born at his ancestral home at Labhpur village in Birbhum district, Bengal Province, British India (now West Bengal, India). He wrote 65 novels, 53 story-books, 12 plays, 4 essay-books, 4 autobiographies and 2 travel stories. For his novel Arogyaniketan, he received the Rabindra Puraskar in 1955 and the Sahitya Akademi Award in 1956. In 1966, he received the Jnanpith Award for his novel গণদেবতা. He was honoured with the Padma Shri in 1962 and the Padma Bhushan in 1969.
Tarasankar is one of those writers of the third decades of the twentieth centuries who broke the poetic tradition in novels but took to writing prose with the world around them adding romance to human relationship breaking the indifference of the so called conservative people of the society who dare to call a spade a spade. Tarasankar’s novels, so to say, do not look back to the realism in rejection, but accepted it in a new way allowing the reader to breathe the truth of human relationship restricted so far by the conservative and hypocrisy of the then society.
He learned to see the world from various angles. He seldom rose above the matter soil and his Birbhum exists only in time and place. He had never been a worshipper of eternity. Tarasankar’s chief contribution to Bengal literature is that he dared writing unbiased. He wrote what he believed. He wrote what he observed.
His novels are rich in material and potentials. He preferred sensation to thought. He was ceaselessly productive and his novels are long, seemed unending and characters belonged to the various classes of people from zaminder down to pauper. Tarasankar experimented in his novels with the relationships, even so called illegal, of either sexes. He proved that sexual relation between man and women sometimes dominate to such an extent that it can take an upperhand over the prevailing laws and instructions of society. His novel ‘Radha’ can be set for an example in this context.
His historical novel ‘Ganna Begum’ is an attempt worth mentioning for its traditional values. Tarasankar ventured into all walks of Bengali life and it’s experience with the happenings of socio-political milieu. Tarasankar will be remembered for his potential to work with the vast panorama of life where life is observed with care and the judgment is offered to the reader. and long ones, then any other author. He is a region novelist, his country being the same Birbhum. He mainly flourished during the war years, having produced in that period a large number of novels and short stories.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'চৈতালী-ঘূর্ণি'। লেখকের বিখ্যাত উপন্যাসগুলো পড়ার পর এটা হাতে নিলে লেখার মধ্যে একটা পার্থক্য উপলব্ধি হয়।
গোষ্ঠ দামিনী দম্পতির এক সন্তান নিয়ে সংসার। পাঁচ বছরের ছেলেটা সারাবছরই জ্বর পড়ে থাকে। টানাটানির সংসারে চিকিৎসা করাবার সামর্থ্য নেই। ধার-দেনা করে আর কয়দিন চলা যায়! কাবুলিওয়ালা জিনিস বিক্রি করেছিল বাকিতে। সেই টাকা নিতে আসলে গোষ্ঠ ঘরের মধ্যে লুকায়। দামিনী মিথ্যা বলে যে কর্তা বাড়ি নেই। তখন কাবুলিওয়ালা রসিকতা করে দামিনীকেই নিয়ে যেতে চায়। চোখে জল আসে দামিনীর। দারিদ্রতা তাদের কোথায় নামিয়ে এনেছে!
গোষ্ঠর প্রতিবেশী সুবল। আট বছর বয়সে যখন দামিনী এই বাড়িতে বউ হয়ে আসে, তখন সুবলও দামিনীর বয়সী ছিল। তাই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ছোট থেকেই সুবল দামিনীকে 'বউ' সম্বোধন করে আসছে। গ্রামান্তরে ঘুরে বিভিন্ন গাছের ফল ফলাদি সুবল এনে দামিনীকে দিত। ধীরে ধীরে উভয়েরই বয়স বাড়তে থাকলো এবং দূরত্বও সমানুপাতিক হারে বাড়লো। কিন্তু দামিনীর প্রতি সুবলের স্নেহ মমতা কিংবা প্রেম কোনোটারই ভাটা পড়লো না। তাই যখন টাকার অভাবে দামিনীর ছেলের চিকিৎসা হয়না কিংবা জমিদারের চাপরাসি খাজনার টাকা নিতে আসে তখন সুবল এগিয়ে এসে টাকা পরিশোধ করতে চায়। তবে প্রবল আত্মসম্মানবোধের কারণে দামিনী সুবলের এই দানকে গ্রহণ করতে পারে না। তার কাছে শুধু মনে হয় এই টাকা দিয়ে দামিনীকে সুবল কিনে নিতে চায়!
গোষ্ঠ ও দামিনী যখন শহরে এসে থিতু হয় তখন অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয় গোষ্ঠ। কারখানার ইউনিয়ন ও মালিক শ্রেণির মধ্যে দ্বন্দ্ব অনেক দিন ধরেই। সেই দ্বন্দ্বে ফুলকি হিসেবে কাজ করে নতুন করে সভা সমিতি। শ্রমিকদের দাবি, তারা ন্যায্য অধিকার পায় না। অন্যদিকে মালিক পক্ষ সবসময় তাদের দমিয়ে রাখতে চায়। পৃথিবী জুড়েই এই বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা খুব ভালো লেগেছে এমন নয়। তবে প্রথম উপন্যাস হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার। হ্যাপি রিডিং।
"চৈতালী ঘূর্ণি" তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস, ১৯২৯ সালে এটি প্রকাশিত হয়। বিষয়বস্তু আর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের বিচারে এটি বেশ তারাশঙ্করীয় গল্প। লেখনশৈলী আর বর্ণনার পার্থক্য বোঝা যায় তাঁর অন্যান্য বা শেষ দিকের লেখাগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, তবে সেই তুলনা ছাড়াই এটি বেশ অনবদ্য একটি উপন্যাস। চরিত্র বিন্যাসে তাঁর স্বাক্ষর প্রকটভাবে লক্ষণীয়, মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াবলির উপস্থিতি পাঠকে করেছে আরও উপভোগ্য। ব্যাপ্তি আরেকটু বর্ধিত হলেও মন্দ হতো না।
চৈতালী ঘুর্ণি দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষদের নিয়ে লেখা উপন্যাস। দেশ-ভাগের গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে যখন ভারতবর্ষের হাটে-ঘাটে-মাঠে, সে সময়কার আঁচ, মানুষের অবিরাম দুর্দশা আর আসলে দেশে স্বাধীনতা এলো কী এলোনা, এর সরাসরি কোন প্রভাব ও গুরুত্ব যে দেশের অতি সাধারণ, হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে তেমন নেই-চৈতালী ঘূর্ণি হয়তো সে গল্পও।
আখ্যানভাগ মূলত দুটি পর্বে বর্ণিত হয়েছে। প্রথম অংশে গ্রামের এক হতদরিদ্র দম্পতি গোষ্ঠ ও দামিনী, দামিনীর শৈশবের খেলার সাথী সুবল, গোষ্ঠ'র বোন সাতু এদের নিয়ে। এককালে অবস্থাপন্ন গেরস্থ গোষ্ঠ'র বর্তমান আর্থিক অনটনের পাশাপাশি মানব-মানবীর সম্পর্কের যে সাইকোলজিকাল ব্রেকডাউন, সেটির খুব মর্মস্পর্শি অথচ সূক্ষ্য চিত্রণ দেখে অবাক হতে হয়। পাশাপাশি আছে দামিনীর প্রতি নিশ্চুপ মুখরতায় ডুবে থাকা সুবলের বিচিত্র প্রেম, সে একলা নিঃসঙ্গ বাউল-ফকির সুতরাং অর্থের অভাব তার নেই, তার একমাত্র অভাব দামিনী। সুবলের প্রেমে নিঃসীম ঘৃণা ও আগ্রহ আর স্বামীর প্রতি সৎ ও অসীম ভালবাসা নিয়ে দামিনীর এ মস্তাত্বিক টানা-পোড়েন পাঠককে বারংবার ক্ষত-বিক্ষত করে।
জীবনের টানে এক ঝড়ের রাতে সব ফেলে শহরে চলে আসা গোষ্ঠ, দামিনী আর সুবল'কে নিয়েই শুরু হয় উপন্যাসের চুড়ান্ত পর্ব। এখানে এসে জীবিকার তাগিদে এরা ভিড়ে যায় কলের শ্রমিকদের সাথে। দিন-মজুরদের শ্রেণী সংগ্রামের সূচনা, তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কিংবা অমানবিক পরিশ্রমের পাশাপাশি তাদের হল্লাময় জীবনের জীবন্ত চিত্র এ পর্বে দেখা যায়। আর আসলে কী হঠাৎ শুরু হওয়া সংগ্রামে সফলতা আসে? নাকি চৈত্রে বিষণ্ণ ধুধু বালোয়াড়ি মাঠে যে ক্ষণস্থায়ি ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়, তা বাস্তবেও কঠিন বৈশাখী ঝড়ের আলামত হিসেবে ঝনঝন আওয়াজ তোলে?
দৃশ্য কিংবা চরিত্র, দুটো অংকনেই তারাশঙ্করের ম্যাজিকাল কলমে মুগ্ধতা জেগেছে উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে। যদিও প্রথম পর্বে গল্পটি কোথাও কোথাও ধীরগতির মনে হয়েছে, কখনও মনে হয়েছে এই হয়তো কেমন একই বস্তু ঘুরছে বনবন; কিন্তু দ্বিতীয় পর্ব যেমন হঠাৎ হাজির হয়, পাঠক চিরকালের জন্যই যেন মিশে যায় এ আখ্যানে, গল্প লাভ করে দূর্দান্ত গতী তখন মনে হয় জীবন তো এমনি, স্লো মোশন আর ফার্স্ট মোশনের সমন্বয়। নতুন কোন গল্প তার প্রথম উপন্যাসে লেখক বলেননি, নতুন যা ছিল তার চিন্তার গভীরতা, গল্প বলবার ঢং আর নিজস্ব দার্শনিক সব উপলব্ধি। কিছু লাইন তুলে দেয়ার লোভ সামলানো গেলনা। 'বাঁচলে দেবতার পূজা দেয়; না বাঁচলে বলে, পাথর, পাথর, দেবতা-ফেবতা সব মিছে কথা।' 'ভগবানকে ওরা মানে কী মানেনা, তা আজ এক অমিমাংসিত সমস্যা।' 'এখন অভাবের মাঝে কেবল অতীতের প্রাচুর্য্যের স্মৃতিই একমাত্র সম্বল' 'মনের গতী মানুষের বাঁকা, প্রীতি ও পিরিতের মাঝে ভেদ করা বড় কঠিন।' 'চৈতালীর ক্ষীণ ঘূর্ণি অগ্রদূত কাল-বৈশাখীর।'
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের প্রথম উপন্যাস 'চৈতালী ঘূর্ণি'। বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ জনপদের শোষিত মানুষের আখ্যান 'চৈতালী ঘূর্ণি'।কলকারখানার মজুরের মার খাওয়ার উপকথা 'চৈতালী ঘূর্ণি'। খেটে খাওয়া চাষার ভূমি হারিয়ে মজুর বনবার চিরায়ত গল্প 'চৈতালী ঘূর্ণি'।
খরায় গোষ্ঠের ক্ষেতে ফসল হয় না। স্ত্রী দামিনী আর অসুস্থ সন্তানের ভরণপোষণের বোঝা বওয়া দরিদ্র গোষ্টের কাছে বড্ড কঠিন হয়ে উঠছে।
জমিদারের খাজনা দেওয়ার পয়সা নেই। অসুখে ছেলের চিকিৎসার সামর্থ্য নেই। মহাজনের ধার শোধাবার ক্ষমতা নেই। শুধু নেই আর নেই। আছে জমিদারের পেয়াদার হুমকি, খাজনা বাকি থাকলে বৌ-কে কাছারি ঘরে তুলে নেওয়ার শাঁসানি। কৃষকের সম্বল জমি দখলে নিতে ওত পেতে আছে মহাজন।
ছেলেটা বিনা চিকিৎসায় মরল। জমি দখলে নিতে এলে মহাজনের সাথে বিবাদ করল গোষ্ঠ। জরিমানা গুণতে হবে। জমিদারের খোট্টা পেয়াদার মাথায় বাড়ি মেরে শহরবাসী হলো নিঃস্ব গোষ্ঠ। দামিনী আর দামিনীর টানে সুবলও এল শহরে।
শোষণের শহর-গ্রাম নেই। গাঁয়ে রক্ত শুষে খেত মজাজন, জমিদার। এখানে কলের শ্রমিক গোষ্ঠের রক্ত জল করা পয়সায় ভাগ বসায় ধনীরা। কারখানার বড়বাবুরা চাবকে সবক শেখ���ন দরিদ্র গোষ্টকে। সেও নিত্য পাঠ নেয় শোষিত হওয়ার, নিপীড়িত হয়ে মুখ বুঝে স্রেফ নিজের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার।
দামিনী চরিত্রটি এদেশের নারীসমাজের চিরন্তন মূর্তি। তারা নির্যাতিত হয় ঘরে-বাইরে। লালসার দৃষ্টি থেকে বাঁচতে সংগ্রাম করে নিরন্তর। বেশি তো চায় না সে, শুধু দু'বেলা দু'মুঠো ভাত আর পরবার শাড়ি চায় সে। আর হাসিমুখের কথা শুনতে পেলে দারিদ্র্যের এই নিষ্ঠুর যাতনাতেও সুখ খুঁজে পায় দামিনীরা।
মনে হচ্ছিল না, কোনো ঔপন্যাসিকের প্রথম লেখা পড়ছি। যথেষ্ট ম্যাচিউর। ভাষাগত বাধুঁনির কথা আর বলতে।
বয়লারের গোঙানি, আর ইন্ঞ্জিনের শব্দরাজ্যে চাপা পড়ে মজুরদের আর্ত চিৎকার। কলের অনতিদূরে সার দিয়ে ওঠা অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে কিছু ঘর, অর্থশালীদের ডাস্টবিন। মহাজনের অত্যাচারে নিত্য শ্বাসরোধ হয় ঘরে আটকে পড়া মানুষগুলোর, দম ফুরিয়ে আসে একদিন। পিঠ ঠেকে দেওয়ালে, মনে পড়ে সব খুইয়েও ধরে মহাজনের হাত থেকে পালাতে দেশ ছেড়েছে তারা একদিন। তবু কোথাও নিষ্কৃতি মেলেনা, পথ অবরোধ করে বিত্তবানেরা, তাদের লোলুপ দৃষ্টি সর্বত্র বিদ্যমান, লকলকে জিহ্বা গ্রাস করে শেষ সম্বলটুকুও। আর ঠিক তখনই চৈতালী ঘূর্ণি পাক দিয়ে ওঠে, লঘু মেঘ বাষ্পের ন্যায়,ঘূর্ণির ডাকে পূন্ঞ্জীভূত হয় বাষ্প, জন্ম নেয় কৃষ্ণবর্ণা বজ্রমেঘ। ঝিলিক দিয়ে ওঠে ফুঁসতে থাকা মেঘরাজি। হুমকি দেয় সব ভাসিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তবু কালবৈশাখী অগ্রদূত।
সমাজে শ্রেণীবৈষম্য সর্বদা বিদ্যমান। সেই লড়াইকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাস। গল্পের গভীরতা নিঃসন্দেহে আরো একবার মনে করিয়ে দেয় আমাদের শ্রেণীসমতা রক্ষার নিষ্ফল প্রচেষ্টার কথা, যুগ বদলায়, আমরা অপেক্ষা করি চৈতালী ঘূর্ণির অথবা হয়ত কালবৈশাখীর।
শিল্প-কল কারখানার বিকাশে ভারতীয় উপমহাদেশে যে নতুন পরিবর্তনের ছোয়া আসে, সেই পরিবর্তনকে ধরে গড়ে উঠে নতুন সমাজ ব্যবস্থা, শ্রেনিবৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপড়েন গল্প। এই বৈষম্যেকে পুজি করে আজকের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর সফলতা। তবে সুউচ্চ দালানকোঠার ভীড়ে, কালো আগ্রাসী যন্ত্রের আড়ালে, অর্থের তীব্র হাহাকার ঢাকা পরে মজুরের দাম, রক্ত, ঘাম। এই পৃথিবীতে সবার অধিকার আছে, শুধু নাই গরীব, মূর্খ শ্রমিকের।
গোষ্ঠ আর দামিনীর জীবন সংগ্রাম ,সাংসারিক দোটানা নিয়ে অতি সাধারণ এক কাহিনী ।সেখানে সুবলের মতো এক অসাধারণ চরিত্রের উপস্থিতি । গ্রাম্য জীবন থেকে শহুরে জীবনে পদার্পণের পর দুই সময়ের তুল্যমূল্য আলোচনা।শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে নারীর সম্ভ্রম রক্ষা, সব মিলিয়ে এক সম্পূর্ণ উপন্যাস । মেহনতি মানুষের জীবনের দিনলিপির এক জীবন্ত দলিল।