কুশীনগরের রাজকাননে ভগবান বুদ্ধের নম্বর শরীর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার আগেই প্রবল বর্ষণে নিভে গেল আগুন। কিছু অস্থি ছিল অর্ধদপ্ত, তার অধিকার নিয়ে রাজন্যবর্গের মধ্যে তুমুল সংঘাত সৃষ্টি হয়। অজাতশত্রু এসে শান্ত করেন সকলকে এবং কোনও অজানা স্থানে অস্থিসকল রেখে দেন। ভিক্ষু ক্ষেম শাস্তার ভস্ম সংগ্রহ করতে এসে পেলেন একটি বস্তু। ভগবান বুদ্ধের বাম চক্ষু দন্ত। সেটিই তাঁর ‘শেষ চিহ্ন’। এই চিহ্ন নিয়ে ভিক্ষু ক্ষেম রওনা হলেন কলিঙ্গ নগরীর দিকে।…আর তার সঙ্গেই শুরু হল এক আশ্চর্য পরিভ্রমণ।…
ইতিহাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করা ধর্মগ্রন্থ নয়, ‘শেষ চিহ্ন’ ইতিহাস আশ্রিত এক উপন্যাস, যা হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের কলমের মুনশিয়ানায় অসংখ্য ঘটনার ঘনঘটায় আলোড়িত এক রোমাঞ্চকর আখ্যান হয়ে উঠেছে।
বৌদ্ধ শাস্ত্র ও পালি সাহিত্য গবেষক ডঃ সুমন পাল ভিক্ষু উচ্ছ্বসিত, ‘উপন্যাসটির পরিকাঠামো ও ভাষা বিন্যাসের সরলতায় মুগ্ধ ও বিস্মিত হতে হয়..এই উপন্যাসটি সকল স্তরের পাঠক সমাজের কাছে আদরণীয় হয়ে উঠুক।
সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম ঐতিহাসিক অলৌকিক আখ্যান শেষ চিহ্ন।
1. তামিল লেখক কালকির পুনিয়ান সেলভাম এ প্রথম পড়েছিলাম শৈব এবং বৈষ্ণব দের মধ্যে ধর্ম সংঘাত , এই উপন্যাস এ মূল তিন ধর্ম অবলম্বন কারীদের মধ্যে সংঘাত বুদ্ধ-জৈন-সনাতন , গৌতম বুদ্ধর শেষ চিহ্ন কে কেন্দ্র করেই সংঘাত আর রাজনীতি।
2. অনেক চরিত্রদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কলিঙ্গ রাজ গুহাশিব আর জৈন সন্ন্যাসী শম্ভুকনাথ ,তাদের অন্ধকার থেকে আলো আর আলো থেকে অন্ধকার পথে যাত্রার এই উপন্যাস।
3. উপন্যাস পড়তে পড়তে যেমন রোমাঞ্চ ,থ্রিল অনুভব হয় তেমনি এক অমোঘ ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
ঐতিহাসিক উপন্যাস হলেও ভাষা বেশ সরল ,সকল স্তরের পাঠক পড়ে আনন্দ পাবে।
এই কাহিনী আসলে এক যাত্রাপথের কথা বলে।যা শুরু হয়েছিলো বুদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর দাঁত সংগ্রহর মধ্যে দিয়ে।এবং শেষ হল সুদূর সিংহলে গিয়ে।পুরোটাই এক অলৌকিক যাত্রা।অনেক অলৌকিক ঘটনা আছে।পুরো উপন্যাসটা খুব সুন্দর গতিময় ভাবে এগিয়েছে। শেষটাও খুব সুন্দর হয়েছে।যে ভাবে শত্রুকে মুক্তি পেতে সাহায্য করল সেটাও খুব সুন্দর ফুটে উঠেছে।প্রতিটি চরিত্র বেশ সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। কলিঙ্গ রাজ গুহিসাব, কন্যা হেমলতা আর দন্ত কুমারের চরিত্র বেশ উল্লেখ যোগ্য। তবে এটাকে ঐতিহাসিক উপন্যাস ভেবে পড়লে ভুল হবে।অনেক ঘটনারই ব্যাখ্যা হয় না।তাই অলৌকিক উপাখ্যান ভেবে পড়লে খুব ভালো লাগবে আমার রেটিং 5/5
It is a wonderful amalgamation of history and fiction. The story revolves around the journey of the last symbol of Gautam Buddha, taken from him when his soul left his mortal body. It talks about how the power of faith saves humanity. It is the dedication towards the lord that will show you the light through his last symbol. The story has many twists and mystery that will keep the reader glued to the book. One who loves history and a mystery, then this book is interestingly unputdownable.