বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ওয়াহিদ সুজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কোভিডের সময়কার ভয়াবহতা, কিছুটা আত্মস্মৃতি, অসুখ নিয়ে ভোগান্তি, আক্ষেপ, অভিযোগ, হাসপাতালগুলোর অবস্থা- সব মিলিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ নথি। বইটায় সম্পাদনার অভাব সুস্পষ্ট, কিছু কিছু ব্যাপার শুরু করে শেষ না করা, কিছু টাইপো বা ভুল শব্দ রয়েছে মেডিকেল টার্ম হিসেবে। এসব অগ্রাহ্য করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে রোগীর পার্সপেকটিভ জানার/ বোঝার একটা চমৎকার ডকুমেন্ট।
অসুখ, সে এক অদ্ভুত জিনিস। আমরা সবাই অসুখ নিয়ে বাঁচি। কারো শরীরের অসুখ, কারো মনের। আজকের দিনে এসে মনের অসুখ নিয়ে খুব কথা হয়। কিন্তু শরীরের অসুখ যে মানুষকে কই নিয়ে যায় তা যারা ভোগ করেনি তারা জানে না। বলা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান পৌঁছে গেছে অনেক দূর। কিন্তু এই পোড়া দেশে একটা সাধারণ চিকিৎসা পেতেও রোগীকে কত কী সহ্য করতে হয় তা নিয়ে মাঝেমাঝে প্রতিবেদন হয় পত্রিকায়। তা পড়ে আমাদের মন খারাপ হয় কিন্তু ওর ভয়াবহতা বোঝা যায় না।
ওয়াহিদ সুজন 'অসুখের দিন' লিখেছেন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। একটা ব্যর্থ সার্জারি, চিকিৎসকের ভুল কিংবা অমনোযোগ আর এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্দশার শিকার তিনি। সেই কথাই লিখেছেন অসুখের দিনে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ রোগভোগ আর ব্যক্তিজীবনের কথা।
ওয়াহিদ সুজনের অসুখের দিন আমাদের নিয়ে যায় ব্যথার একটা অনু়ভূতিতে যা তিনি নিজে সহ্য করেছেন। সেই সঙ্গে তার নিজের উপলব্ধি আমাদের মধ্যেও একটা দুটো প্রশ্ন তৈরি করবে। সময়, মানুষ, পেশা, পরিজন ও সমাজকে নতুন করে একবার দেখার কথা মনে করায় অসুখের দিন।