কবি মির্জা গালিবের জীবন এ উপন্যাসের উপজীব্য। উর্দু-ফারসি উৎস থেকে লেখা। অন্য কথায় কবিতার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের দিকে অভিযাত্রা বলা যায় এ বইকে। কবির হাত ধরে উপমহাদেশের ইতিহাসের এক ক্রান্তিপর্বের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় ঘটাবে এ উপন্যাস।
জাভেদ হুসেনের জন্ম ১লা আগস্ট ১৯৭৬, কুমিল্লায়। সোভিয়েত পরবর্তীত সক্রিয় মার্কসীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। মার্ক্সের লেখা এবং মার্ক্সীয় দর্শন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে। এছাড়াও তিনি একজন গালিব গবেষক। উর্দু-ফার্সি সাহিত্য বিষয়ে রয়েছে তাঁর বিস্তৃত জানাশোনা। মূল উর্দু ও ফার্সি থেকে অনূদিত বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
কবি মির্জা গালিবের কবিতা ও দর্শন এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। বইয়ের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে আছে কত পঙক্তিমালা, কী যে একেকটার মহিমা, কী দারুণ সব ভাবার্থ _ চিন্তার খোরাক তো দেয়ই, জীবন সম্পর্কেও ভাবাতে শেখায়। আমি ভাবি। ভাবতে ভাবতেই গল্পকথক রাজপুত তরুণ বেণীমাধো সিংয়ের সাথে সিপাহী বিদ্রোহ পরবর্তী দিল্লি থেকে একবার ঘুরে আসি। ঘুরেফিরে দিল্লি থেকে ফিরে এলেও ফেরা হয় না বল্লি মাঁরায় গলিতে, মির্জা সাহেবের বাড়ি থেকে।
কী অসাধারণ উপন্যাস! কী অসাধারণ জাভেদ হুসেনের লেখনী। সাম্প্রতিক সময়ে আমার পড়া অন্যতম সেরা বই!
অভিনব উপায়ে এক উপলব্ধি, কিছু শায়রির ব্যবচ্ছেদ, কিছু ইতিহাসের সাক্ষাৎ আর দিল্লির সেই সময়টার কালো অক্ষরে বিনির্মাণের প্রয়াস। ভুলেই গিয়েছিলাম যখন পড়তে নিই তখন ভেবেছিলাম শুধুই জীবনী উপন্যাস যাকে নিয়ে লেখকের খুব পড়াশোনা এবং গভীরতর অনুরাগ। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে নিঃস সম্বলহীন এক রাজপুত তরুণ রুসওয়া, যার আজন্ম লালিত বাসনা মির্জা গালিবের সঙ্গে দেখা করা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে সে কানপুর থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তখন দিল্লি। গালিবে সঙ্গে তার দেখা হয়। সেই কালবেলায় রুসওয়ার চোখে দেখা তখনকার দিল্লি, যমুনা , চাঁদনিচক, জামে মসজিদের বাজার আর সাবেকি দিল্লির সঙ্গে আজকের পাঠকের পরিচয় ঘটাবে এ বই।
গালিব বলছেন সে অনেক দূরের এক নক্ষত্র। তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য আর উচ্ছলতার সঙ্গে অদ্ভুত এক উদাসীনতার ছবিও ফুটে উঠেছে এ উপন্যাসে। সঙ্গে আছে গালিবসহ অনেক কবির মনমুগ্ধকর বেশ কিছু শায়রি।