What do you think?


Bhangankal
Bhangankal
145 pages, Hardcover
Published January 1, 1996
About the author
Suchitra Bhattacharya
164 books254 followersHer writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
October 8, 2021
৩.৫/৫
আমাদের লোভের,ভাঙনের,মুখ ও মুখোশের পার্থক্য নিয়ে লেখা সুচিত্রার আরেকটি চমৎকার উপন্যাস।বইটা পড়ে আরেকটা বিষয় বুঝলাম-মেলোড্রামার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করতে হয় সেটা সুচিত্রার চেয়ে ভালো জানেন খুব কম কথাসাহিত্যিক।
আমাদের লোভের,ভাঙনের,মুখ ও মুখোশের পার্থক্য নিয়ে লেখা সুচিত্রার আরেকটি চমৎকার উপন্যাস।বইটা পড়ে আরেকটা বিষয় বুঝলাম-মেলোড্রামার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করতে হয় সেটা সুচিত্রার চেয়ে ভালো জানেন খুব কম কথাসাহিত্যিক।
June 6, 2016
আমার লারনেড সিনিওর আমাকে টাকা দেখিয়ে একদিন বলেছিলেন, এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের থেকেও বড় ঈশ্বর হলো টাকা। সবার ধর্ম বিশ্বাস আলাদা আলাদা হলেও এই একটা জায়গায় এসে সবার চাওয়া পাওয়া এক। এর কাছে সবাই মাথা নোয়ায়।
ভাঙনকাল বইটা দেখিয়ে দেয় যখন থেকে মানুষ টাকার পিছে ছোটা শুরু করে তখন থেকে তার ভাঙন শুরু হয়। সবকিছু ভেঙে যায়। আদর্শ, মূল্যবোধ মায় সংসার পর্যন্ত। জেনেশুনে চোখ বন্ধ করে রাখাটা আজকাল ফ্যাশন। ওটা না করলে টাকা কামাই হয়না। তবে হয়তো কেউ কেউ চোখটা খোলা রেখেই বাঁচতে চায়। তখন আর ঘর টেকেনা।দুটো মানুষের আদর্শ আলাদা হলে সমঝোতা করে আর কতদিন থাকা যায়। ভাঙনকাল এর প্রতিটা পরতে পরতে মন, শরীর , ঘরের ইট খসে পরে। টাকা সুখ দেয়, আবার কেড়েও নেয়।
আহা! সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখাগুলো এতো বাস্তব কেন? মাঝে মাঝে হৃদয়ের অলিন্দে গিয়ে খোঁচা মারে। ভেঙে যাচ্ছে, সব ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছে। সুচিত্রা দেবী চোখে আঙ্গুল দিয়ে আবার দেখিয়ে দিলেন সমাজটা!
ভাঙনকাল বইটা দেখিয়ে দেয় যখন থেকে মানুষ টাকার পিছে ছোটা শুরু করে তখন থেকে তার ভাঙন শুরু হয়। সবকিছু ভেঙে যায়। আদর্শ, মূল্যবোধ মায় সংসার পর্যন্ত। জেনেশুনে চোখ বন্ধ করে রাখাটা আজকাল ফ্যাশন। ওটা না করলে টাকা কামাই হয়না। তবে হয়তো কেউ কেউ চোখটা খোলা রেখেই বাঁচতে চায়। তখন আর ঘর টেকেনা।দুটো মানুষের আদর্শ আলাদা হলে সমঝোতা করে আর কতদিন থাকা যায়। ভাঙনকাল এর প্রতিটা পরতে পরতে মন, শরীর , ঘরের ইট খসে পরে। টাকা সুখ দেয়, আবার কেড়েও নেয়।
আহা! সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখাগুলো এতো বাস্তব কেন? মাঝে মাঝে হৃদয়ের অলিন্দে গিয়ে খোঁচা মারে। ভেঙে যাচ্ছে, সব ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছে। সুচিত্রা দেবী চোখে আঙ্গুল দিয়ে আবার দেখিয়ে দিলেন সমাজটা!
July 11, 2024
খরগোশ শিকারির ধাওয়া খেয়ে যখন নিজেকে লুকোতে ব্যস্ত হয়ে এদিক সেদিক ছুটোছুটি করেও ,নিজেকে আড়াল করার সঠিক জায়গা খুঁজে পায় না,তখন সে একটা ঝোপের মধ্যে মুখটা ঢুকিয়ে রাখে,আর ভাবে সে যখন শিকারী কে দেখতে পাচ্ছে না,শিকারীও তাকে দেখছে না! কি সরল সমাধান!
মানুষ নিত্য দিন হাজার টা অপরাধ করে,তারপর চুপচাপ সাধু সেজে ঘুরে বেড়ায়। যেন কিচ্ছুটি হয়নি। কেউ বুঝতে পারবে না তার অপরাধ। সত্য নিষ্ঠুর কসাই । কথায় বলে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আমার পাপ, আমাকে শুষে খাবেই,যেখানেই লুকোই আর যতই সম্পদের পাহাড়ে নিজেকে ঢেকে রাখি,কেউ বাঁচাতে পারবে না।
পাপ সব সময় পাপ,সে আপনি ঘুষ খান কিংবা আরেক জনের সম্পদ লুট করেন।
চন্দন আর অনুরাধা। সাত্যকি আর লাজবন্তী। দুই যুগল কে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় "ভাঙনকাল" উপন্যাসের গল্প। চন্দন সরকারি চাকুরে। আর সংসারের কর্ত্রী অনুরাধা। চন্দন ঘুষের টাকায় ধীরে ধীরে ফুলে ফেঁপে উঠছে। তাতে দারুণ সায় অনুরাধার। সে একে একে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে,একটু একটু করে বাড়াতে শুরু করে চড়ুইভাতি সংসার। একবারও মনে প্রশ্ন আসে না, ওদের এই টাকা কিসে আসে,কেমনে আসে,কোন পথে আসে। টাকা আসছে এটাই বড় ব্যাপার চন্দন-অনুরাধার।
বিপত্তি টা বাঁধল, বছরের শেষ দিন। মাত্রাতিরিক্ত ফুর্তি করতে গিয়ে, ফেঁসে যায় চন্দন। নিজের অর্থবলের কারণে বেঁচে ফিরে,নিজের স্ত্রী, পুত্র আর মা কে ও বুঝিয়ে ফেলে, নিজের কুকীর্তি গোপন করে যায়। আপদ টা হলো "সত্য"। সে চলে নিজের নিজের ঢঙে। এমনিতে চুপচাপ,সাত চড়ে রা কাড়ে না। যে দিন ফাটবে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে যাবে। চন্দনের সত্যি ও গোপন থাকলো না। ১৮ বছরের সাংসারিক বিশ্বাস,একদিনে বাঘ এসে খেয়ে গেল....
এবার আসি সাত্যকি আর লাজবন্তী'র গল্পে। নাহ্! সেটা না হয় বই পড়েই জেনে নিবেন।
" কাছের মানুষ " সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে আমার আত্মার কাছে এনে দিলো। বড্ড ভালো লিখতেন মানুষটা। সহজ সরল ভাষা,ছল ছাতুরি নেই লেখায়,অথচ প্রাণের বারতা টা ঠিক বলে দেন। ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা পড়লে আমার মনে হয়,আমি নরম, সদ্য বানানো কোন সন্দেশ খাচ্ছি। এত মোলায়েম, এত সুন্দর আর স্বচ্ছ। প্রত্যকটা লেখা মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। বড় ভালো লাগে। আরো কত কত লেখা পড়া বাকি উনার। ভাবতেই ভালো লাগছে আমার জন্য আরো কত্তো গুলো আনন্দ মলাট বন্দী হয়ে অপেক্ষা করছে...
মানুষ নিত্য দিন হাজার টা অপরাধ করে,তারপর চুপচাপ সাধু সেজে ঘুরে বেড়ায়। যেন কিচ্ছুটি হয়নি। কেউ বুঝতে পারবে না তার অপরাধ। সত্য নিষ্ঠুর কসাই । কথায় বলে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আমার পাপ, আমাকে শুষে খাবেই,যেখানেই লুকোই আর যতই সম্পদের পাহাড়ে নিজেকে ঢেকে রাখি,কেউ বাঁচাতে পারবে না।
পাপ সব সময় পাপ,সে আপনি ঘুষ খান কিংবা আরেক জনের সম্পদ লুট করেন।
চন্দন আর অনুরাধা। সাত্যকি আর লাজবন্তী। দুই যুগল কে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় "ভাঙনকাল" উপন্যাসের গল্প। চন্দন সরকারি চাকুরে। আর সংসারের কর্ত্রী অনুরাধা। চন্দন ঘুষের টাকায় ধীরে ধীরে ফুলে ফেঁপে উঠছে। তাতে দারুণ সায় অনুরাধার। সে একে একে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে,একটু একটু করে বাড়াতে শুরু করে চড়ুইভাতি সংসার। একবারও মনে প্রশ্ন আসে না, ওদের এই টাকা কিসে আসে,কেমনে আসে,কোন পথে আসে। টাকা আসছে এটাই বড় ব্যাপার চন্দন-অনুরাধার।
বিপত্তি টা বাঁধল, বছরের শেষ দিন। মাত্রাতিরিক্ত ফুর্তি করতে গিয়ে, ফেঁসে যায় চন্দন। নিজের অর্থবলের কারণে বেঁচে ফিরে,নিজের স্ত্রী, পুত্র আর মা কে ও বুঝিয়ে ফেলে, নিজের কুকীর্তি গোপন করে যায়। আপদ টা হলো "সত্য"। সে চলে নিজের নিজের ঢঙে। এমনিতে চুপচাপ,সাত চড়ে রা কাড়ে না। যে দিন ফাটবে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে যাবে। চন্দনের সত্যি ও গোপন থাকলো না। ১৮ বছরের সাংসারিক বিশ্বাস,একদিনে বাঘ এসে খেয়ে গেল....
এবার আসি সাত্যকি আর লাজবন্তী'র গল্পে। নাহ্! সেটা না হয় বই পড়েই জেনে নিবেন।
" কাছের মানুষ " সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে আমার আত্মার কাছে এনে দিলো। বড্ড ভালো লিখতেন মানুষটা। সহজ সরল ভাষা,ছল ছাতুরি নেই লেখায়,অথচ প্রাণের বারতা টা ঠিক বলে দেন। ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা পড়লে আমার মনে হয়,আমি নরম, সদ্য বানানো কোন সন্দেশ খাচ্ছি। এত মোলায়েম, এত সুন্দর আর স্বচ্ছ। প্রত্যকটা লেখা মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। বড় ভালো লাগে। আরো কত কত লেখা পড়া বাকি উনার। ভাবতেই ভালো লাগছে আমার জন্য আরো কত্তো গুলো আনন্দ মলাট বন্দী হয়ে অপেক্ষা করছে...
July 25, 2022
সব পাওয়ার এই বেশে
তবু যেন কিছু নাই,
অলীক সুখের ছদ্মবেশে
সব জ্বলেপুড়ে যায় হায়।
রেটিং:💥⭐🌟
২৫/০৭/২২
তবু যেন কিছু নাই,
অলীক সুখের ছদ্মবেশে
সব জ্বলেপুড়ে যায় হায়।
রেটিং:💥⭐🌟
২৫/০৭/২২
July 5, 2022
চুরি বাটপারি করে আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে অনেক উপরে উঠা যায় কখনো কখনো। কিছু মানুষের চোখে লোভ আর হিংসা মেশানো শ্রদ্ধাটাও উপভোগ করা যায় বেশ। আবার কিছু মানুষের চোখে একদম নিচে নেমে যেতে হয়। আর এই মানুষগুলো যদি হয় একান্ত আপনজন? এই কষ্টটা, কিছুটা বিবেক থাকলে, ভেতরটা একেবারে কুড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলে।।
March 25, 2021
"রাগের তীব্রতা অনন্তকাল একই রকম থাকে না ; ক্রমশ তরল হয়ে ক্ষোভে পরিণত হয় । তারপরে আসে অভিমান । এক অন্তহীন অভিমান থকথকে মিউকাসের মতাে হৃদয়ে ছেয়ে যায় । এবং অবশেষে এক দুঃখ খরস্রোতা পাহাড়ি নদী হয়ে বুক চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয় । তখন কি আর চোখের সামনে অক্ষরের অস্তিত্ব থাকে ?" - ভাঙনকাল, সুচিত্রা ভট্টাচার্য
আমাকে যদি হুট করে কেউ জিজ্ঞাসা করেন, আমার প্রিয় লেখক কে, যেই নামটা নিঃসন্দেহে আমার মুখে প্রথমেই আসবে তিনি হলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য । এতো জীবন আমি কারো লেখায় কেন জানি পাইনা ৷ উনার বইগুলো পড়বার সময় মনে হয় নিজের ঘরের লেখাই পড়ছি বোধহয়, বা পাশের বাড়ির কথা, চারপাশের মানুষের কথা ৷ মানুষটি তার সাক্ষাৎকারে সবসময় বলতেন যে কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি লেখেন ৷ আর তাই বুঝি, তার লেখায় জীবন ফুটে ওঠে প্রচন্ড সাবলীলতায় !
"ভাঙনকাল" মূলত ফ্যামিলি ড্রামা । অনুরাধা ও চন্দনের দাম্পত্যজীবন এবং তাদের পারিবারিক ঘটনাবলী । নিতান্তই চারপাশে ঘটে যাওয়া সাংসারিক এবং কর্মজীবনের গল্প । অথচ কি গভীর জীবনদর্শন এবং মতাদর্শের ছাপ ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সংলাপে । হৃদয়ের একান্ত গোপন ব্যথা, অন্তর্দাহ, দ্বন্দ্ব দ্বিধা, সুচতুর অভিনয়শিল্পীর মতোন ভালো থাকার এবং ভালোমানুষীর মুখোশ পড়ে থাকার চেষ্টা - কি নেই !
গল্পে অনুরাধা এক উচ্চাকাঙ্খী গৃহিণী, যার জীবন জুড়ে শুধুই ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিন্তা ৷ সরকারি কর্মকর্তা চন্দনের সাথে ভরা সংসারে সুখেই কাটছিল তার দিনরাত্রি । আরেকদিকে লাজু সাত্যকির দাম্পত্য শীতল, কোন ব্যক্তিগত বৈরীতা নয় - বরং মতাদর্শের অমিলের জন্য । মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সৌভিকের জীবন যখন মা-বাবা'র সাথে আনন্দ উদ্বেগের মিশেলে কেটে যাচ্ছিল, সেই কিশোর হৃদয় অকস্মাৎ বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো । সে জানলো পৃথিবীর পঙ্কিলতা, জানলো সম্পর্কের জটিলতা ; এক মূহুর্তে সাজানো গোছানো জীবন থমকে গেল রাগে, দুঃখে, কষ্টে, চোখের জলে ভেসে গেল সব । মূলত গল্পের কাহিনি ওদেরকে ঘিরে আবর্তিত হলেও আছে কৃষ্ণার কথা, রুদ্রের কথা ; আছে কর্মক্ষেত্র আর পারিবারিক জীবনের রাজনীতি, আছে উপরে ওঠার তীব্র বাসনায় কি করে প্রাচুর্যময় জীবনকেও ভোগ করতে না পারা মানুষ । আছে জীবনের সরলতা, ভালোবাসা, প্রেম এবং আরো অনেক কিছু ।
বইটির সাথে ব্যক্তিগত ভাবে অনেক কিছুই রিলেট করতে পারি বলে আমার খুব পছন্দের একটা বই । হৃদয়ের আগুন নেভে না, তবু জীবনস্রোত বয়ে যায় । ভাঙাগড়ার এই আখ্যান "ভাঙনকাল" এর কিছু পছন্দের উক্তি দিয়ে আজকের রিভিউ শেষ করছি !
"নৈঃশব্দের মধ্যেই হয়তো আরো গভীর অসুখ লুকিয়ে থাকে ।"
"- লোকটা শুনেছি খুব অনেষ্ট ।
- কতো টাকার অনেষ্ট ? দু'হাজার নাকি দু'লাখ ?"
"মানুষ সব সহ্য করতে পারে, কিন্ত প্রিয়জনদের ঘৃণা নিয়ে বাঁচা যে কি দুঃসহ !"
বই - ভাঙনকাল
লেখক - সুচিত্রা ভট্টাচার্য
প্রকাশনী - আনন্দ প্রকাশনী
আমাকে যদি হুট করে কেউ জিজ্ঞাসা করেন, আমার প্রিয় লেখক কে, যেই নামটা নিঃসন্দেহে আমার মুখে প্রথমেই আসবে তিনি হলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য । এতো জীবন আমি কারো লেখায় কেন জানি পাইনা ৷ উনার বইগুলো পড়বার সময় মনে হয় নিজের ঘরের লেখাই পড়ছি বোধহয়, বা পাশের বাড়ির কথা, চারপাশের মানুষের কথা ৷ মানুষটি তার সাক্ষাৎকারে সবসময় বলতেন যে কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি লেখেন ৷ আর তাই বুঝি, তার লেখায় জীবন ফুটে ওঠে প্রচন্ড সাবলীলতায় !
"ভাঙনকাল" মূলত ফ্যামিলি ড্রামা । অনুরাধা ও চন্দনের দাম্পত্যজীবন এবং তাদের পারিবারিক ঘটনাবলী । নিতান্তই চারপাশে ঘটে যাওয়া সাংসারিক এবং কর্মজীবনের গল্প । অথচ কি গভীর জীবনদর্শন এবং মতাদর্শের ছাপ ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সংলাপে । হৃদয়ের একান্ত গোপন ব্যথা, অন্তর্দাহ, দ্বন্দ্ব দ্বিধা, সুচতুর অভিনয়শিল্পীর মতোন ভালো থাকার এবং ভালোমানুষীর মুখোশ পড়ে থাকার চেষ্টা - কি নেই !
গল্পে অনুরাধা এক উচ্চাকাঙ্খী গৃহিণী, যার জীবন জুড়ে শুধুই ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিন্তা ৷ সরকারি কর্মকর্তা চন্দনের সাথে ভরা সংসারে সুখেই কাটছিল তার দিনরাত্রি । আরেকদিকে লাজু সাত্যকির দাম্পত্য শীতল, কোন ব্যক্তিগত বৈরীতা নয় - বরং মতাদর্শের অমিলের জন্য । মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সৌভিকের জীবন যখন মা-বাবা'র সাথে আনন্দ উদ্বেগের মিশেলে কেটে যাচ্ছিল, সেই কিশোর হৃদয় অকস্মাৎ বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো । সে জানলো পৃথিবীর পঙ্কিলতা, জানলো সম্পর্কের জটিলতা ; এক মূহুর্তে সাজানো গোছানো জীবন থমকে গেল রাগে, দুঃখে, কষ্টে, চোখের জলে ভেসে গেল সব । মূলত গল্পের কাহিনি ওদেরকে ঘিরে আবর্তিত হলেও আছে কৃষ্ণার কথা, রুদ্রের কথা ; আছে কর্মক্ষেত্র আর পারিবারিক জীবনের রাজনীতি, আছে উপরে ওঠার তীব্র বাসনায় কি করে প্রাচুর্যময় জীবনকেও ভোগ করতে না পারা মানুষ । আছে জীবনের সরলতা, ভালোবাসা, প্রেম এবং আরো অনেক কিছু ।
বইটির সাথে ব্যক্তিগত ভাবে অনেক কিছুই রিলেট করতে পারি বলে আমার খুব পছন্দের একটা বই । হৃদয়ের আগুন নেভে না, তবু জীবনস্রোত বয়ে যায় । ভাঙাগড়ার এই আখ্যান "ভাঙনকাল" এর কিছু পছন্দের উক্তি দিয়ে আজকের রিভিউ শেষ করছি !
"নৈঃশব্দের মধ্যেই হয়তো আরো গভীর অসুখ লুকিয়ে থাকে ।"
"- লোকটা শুনেছি খুব অনেষ্ট ।
- কতো টাকার অনেষ্ট ? দু'হাজার নাকি দু'লাখ ?"
"মানুষ সব সহ্য করতে পারে, কিন্ত প্রিয়জনদের ঘৃণা নিয়ে বাঁচা যে কি দুঃসহ !"
বই - ভাঙনকাল
লেখক - সুচিত্রা ভট্টাচার্য
প্রকাশনী - আনন্দ প্রকাশনী
September 9, 2020
অর্থ বড় বিষম বস্তু। তাকে না যায় ছাড়া, না যায় আঁকড়ে ধরে বাঁচা।
আদর্শবান স্কুল শিক্ষক অদ্রিনাথ রায়চৌধুরীর পুত্র চন্দন সরকারি আধিকারিক, অফিসে তার প্রতিপত্তি যথেষ্ট, স্ত্রী পুত্র এবং মা'কে নিয়ে এলাহি চালে চলে তার সংসার। কিন্তু বর্ষশেষের রাতে নারীঘটিত ব্যাপারে জড়িত থাকার জন্য গ্রেফতার হতে হয় চন্দনকে। সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোকিছুই যখন তাকে বাকি পাঁচটা অপরাধীর সাথে একসারিতে দাঁড় করানো থেকে রুখতে পারে না তখন বহু আগে শুরু হওয়া চারিত্রিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করে তার মানসিক এবং পারিবারিক শান্তিকেও।
অন্যদিকে চন্দনের বোন লাজবন্তী বাবার অমতে বিয়ে করে আদর্শবাদী যুবক সাত্যকিকে। কিন্তু দিন বদলানোর সাথে সাথে বদলাতে থাকে সাত্যকি, বদলায় তার আদর্শ এবং ফলস্বরূপ বদলে যেতে থাকে সাত্যকি আর লাজুর সম্পর্কের সমীকরণ।
সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের লেখা ভালো লাগার কারণ যা, অনেক সময় ভালো না লাগার কারণও সেই একই হয় দেখেছি। বাস্তব। কঠিন রুক্ষ বাস্তবের প্রতিফলন তাঁর প্রতিটি লেখায়, প্রতি পৃষ্ঠায়। এ গল্পও তার ব্যতিক্রম নয়। কিছু জায়গায় ধাক্কা লাগে বেশ। যেসব অন্যায় যাপনকে স্বাভাবিকত্বের মোড়কে ঢেকে প্রতিনিয়ত বহন করে নিয়ে চলেছি সেসবই চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় 'ভাঙনকাল', হয়তো বা অনেকক্ষেত্রে নিজেকেই দাঁড় করায় আয়নার মুখোমুখি।
আদর্শবান স্কুল শিক্ষক অদ্রিনাথ রায়চৌধুরীর পুত্র চন্দন সরকারি আধিকারিক, অফিসে তার প্রতিপত্তি যথেষ্ট, স্ত্রী পুত্র এবং মা'কে নিয়ে এলাহি চালে চলে তার সংসার। কিন্তু বর্ষশেষের রাতে নারীঘটিত ব্যাপারে জড়িত থাকার জন্য গ্রেফতার হতে হয় চন্দনকে। সামাজিক প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোকিছুই যখন তাকে বাকি পাঁচটা অপরাধীর সাথে একসারিতে দাঁড় করানো থেকে রুখতে পারে না তখন বহু আগে শুরু হওয়া চারিত্রিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করে তার মানসিক এবং পারিবারিক শান্তিকেও।
অন্যদিকে চন্দনের বোন লাজবন্তী বাবার অমতে বিয়ে করে আদর্শবাদী যুবক সাত্যকিকে। কিন্তু দিন বদলানোর সাথে সাথে বদলাতে থাকে সাত্যকি, বদলায় তার আদর্শ এবং ফলস্বরূপ বদলে যেতে থাকে সাত্যকি আর লাজুর সম্পর্কের সমীকরণ।
সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের লেখা ভালো লাগার কারণ যা, অনেক সময় ভালো না লাগার কারণও সেই একই হয় দেখেছি। বাস্তব। কঠিন রুক্ষ বাস্তবের প্রতিফলন তাঁর প্রতিটি লেখায়, প্রতি পৃষ্ঠায়। এ গল্পও তার ব্যতিক্রম নয়। কিছু জায়গায় ধাক্কা লাগে বেশ। যেসব অন্যায় যাপনকে স্বাভাবিকত্বের মোড়কে ঢেকে প্রতিনিয়ত বহন করে নিয়ে চলেছি সেসবই চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় 'ভাঙনকাল', হয়তো বা অনেকক্ষেত্রে নিজেকেই দাঁড় করায় আয়নার মুখোমুখি।
July 23, 2021
সরকারি চাকুরে চন্দন রায়চৌধুরী, স্কুল শিক্ষকের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও বাবার আদর্শ কখনোই তাকে ছুঁতে পারেনি। উৎকোচের পয়সায় ভরে উঠেছে ঘর। স্ত্রী অনুরাধার এ নিয়ে অহংকারের শেষ নেই। অবিরাম কাঁচা টাকায় হাত ভরে ওঠায় স্বামীর পাপকে কখনোই তার পাপ বলে মনে হয়নি। সে নিজের স্বপ্নপূরণে ব্যস্ত। তার উঁচু অট্টালিকা চাই, দামি দামি শাড়ি, গয়না চাই। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে তার আরো বড় স্বপ্ন। কিন্তু সব স্বপ্নই কি আর চাইলেই পূরণ হয়? বিশেষ করে স্বপ্নপূরণের রাস্তার ভীত যদি নড়বড়ে হয় !
৩১শে ডিসেম্বরের রাতে চন্দন এক মহিলার ফ্ল্যাটে ধরা পড়ে আপত্তিজনক অবস্থায়। তাতে তার দুরাত্তির হাজত বাস হয়। পরিবারের কাছে প্রথমে সত্যি গোপন করলেও স্ত্রী, ছেলে, মা, বোন সবার কাছে এক এক করে প্রকাশ পায় সব কিছু।
তারপর কি হয়? জানতে গেলে অবশ্যই পড়তে হবে " ভাঙনকাল " । পরিবারের একটা মানুষের পাপের জন্য পুরো পরিবারের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। ভুক্তভোগী হতে হয় প্রতিটি মানুষকে।
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কলমে উঠে এসেছে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ভুল পথে যাওয়ার করুন পরিণতি।
৩১শে ডিসেম্বরের রাতে চন্দন এক মহিলার ফ্ল্যাটে ধরা পড়ে আপত্তিজনক অবস্থায়। তাতে তার দুরাত্তির হাজত বাস হয়। পরিবারের কাছে প্রথমে সত্যি গোপন করলেও স্ত্রী, ছেলে, মা, বোন সবার কাছে এক এক করে প্রকাশ পায় সব কিছু।
তারপর কি হয়? জানতে গেলে অবশ্যই পড়তে হবে " ভাঙনকাল " । পরিবারের একটা মানুষের পাপের জন্য পুরো পরিবারের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। ভুক্তভোগী হতে হয় প্রতিটি মানুষকে।
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কলমে উঠে এসেছে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ভুল পথে যাওয়ার করুন পরিণতি।
March 14, 2025
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ভাঙনকাল একটি তীব্র সমাজচেতনামূলক উপন্যাস, যেখানে মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের টানাপোড়েন, মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং সম্পর্কের জটিলতা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটি এক যুগান্তকারী সময়ের ছবি তুলে ধরে—যেখানে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও বদলে যাচ্ছে, সম্পর্কের সংজ্ঞা ভেঙে নতুন রূপ নিচ্ছে।
March 8, 2020
Good to read
September 20, 2021
Timeless…
Displaying 1 - 12 of 12 reviews













