১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ এবং ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সৃষ্টি—এ অঞ্চলের ইতিহাসের মোড় ফেরানো তিনটি ঘটনা, যা আমাদের পরবর্তী ইতিহাসকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এ বইয়ে উঠে এসেছে সেই কালপর্বের আখ্যান।
জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।
দেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নিয়েই মহিউদ্দিন আহমদের তিনটি অনবদ্য বই রয়েছে। রাজনীতির কাঠখোট্টা ইতিহাসকে সহজপাঠ্যভাবে উপস্থাপনে উনার জুড়ি মেলা ভার, লেখনশৈলীতে থ্রিলারের রেশও বিদ্যমান! বেশ ক'বছর আগে সেই বইগুলো পড়ে শেষ করি! আওয়ামী লীগের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কাজেই আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস খুঁজতে আওয়ামী লীগের ইতিহাসে বারবার ফিরে যেতে হবে।
মহিউদ্দিন আহমদের আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব নিয়ে লেখা বইটি পড়ে শেষ করার পরে এর আগের ইতিহাসগুলোও জানার আগ্রহ জন্মেছিল। মানে দেশভাগ, ব্রিটিশ ভারত, পলাশী বা মোঘল আমল! কেমন ছিল আমাদের আগের ইতিহাস? সেই আগ্রহ থেকে বেশ কিছু বই ঘাটাঘাটি করা শুরু করেছিলাম।
মোটামুটি গত তিন বছর ধরেই সবচেয়ে বেশিবার পড়া হয়েছে রাজনৈতিক ইতিহাস জনরার বইগুলো। এর মধ্যে দেশভাগ, ব্রিটিশ ভারত টপিকের বইগুলোই বেশি নাড়াচাড়া করা হয়েছে। বিভিন্ন বই পড়ে পড়ে ঐ সময়কার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্মীয় সমাজ, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা, সামগ্রিক রাজনীতি অনেকাংশেই বুঝতে পেরেছি। দেশভাগ নিয়ে আমার পড়া ভালো একটা বই ছিলো যশোবন্ত সিং-এর লেখা জিন্না : ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা বইটা। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পড়া এই প্লাবনভূমির মহাকাব্য।
সহজভাবে বললে এই মহাকাব্যটি সাজানো হয়েছে ১৭৫৭, ১৮৫৭ এবং ১৯৪৭-কে ঘিরে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ইতিহাসের পালাবদল। বইয়ের সূচনা সেখান থেকে। সিরাজউদ্দৌলার পতন কেন অবশ্যম্ভাবী ছিল তা বেশ কটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো যায়। বাঙালীর সিরাজপ্রীতী অত্যধিক। গল্পে, নাটকে, সিনেমায় সিরাজকে মহানায়ক হিসেবে দেখানো হয়। তা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নের উত্তরও লেখক খুঁজেছেন।
উনিশ শতকের ইতিহাসে ভারতীয় অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্রোহ ছিল বোধহয় সিপাহীবিদ্রোহ! বন্দুকের টোঁটার চর্বিযুক্ত অংশটি দাঁত দিয়ে কামড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে এত বিশাল এক বিদ্রোহ ঘটে গেল! ব্রিটিশদের তখন ধর্ম নিয়ে টানাটানির ইচ্ছে আদৌ ছিল না, আর চর্বিটা নাকি কোনো পবিত্র বা অপবিত্র প্রাণীরও ছিল না যাতে ধর্ম নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তবুও না বুঝেই ভারতীয় সিপাহিরা সম্মিলিতভাবে এত বড় একটা সফল বিদ্রোহ করে বসলো যাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সিংহাসনের ভিত অব্দি নড়ে উঠল! ধর্মের পাশাপাশি ভারতীয়রা যদি নিজেদের স্বাধীনতার ব্যাপারেও সোচ্চার হত তাহলে স্বাধীনতা বহু আগেই চলে আসতো!
সিপাহীবিদ্রোহের ফল হিসেবে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশরাজ সরাসরি ভারতীয় উপমহাদেশের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে যার রেশ বয়ে বেড়াতে হয় ১৯৪৭ অব্দি। সাতচল্লিশের দেশভাগ নিয়ে রাজনীতি কম হয়নি! মানুষ এখনো এটার পক্ষে বা বিপক্ষে নানান যুক্তি উপস্থাপন করে। দেশভাগ কি অবশ্যম্ভাবী ছিল? নাকি কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভূখণ্ড ভাগাভাগি অবশ্যম্ভাবী করে তুলে? সীমান্তবর্তী কোটি মানুষের অনিশ্চিত ভাগ্য কোন দিকে যাবে তা কি আদৌ দেশভাগ নির্ধারণ করে দিতে পারতো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক জটিল। সিপাহিবিদ্রোহের পরে যে উদ্দেশ্যে কংগ্রেস তৈরী হয়েছি তা পূরণে অনেকাংশেই সে ব্যর্থ। কংগ্রেসকে ভাবা হয়েছিল সর্বভারতীয়দের প্রতিনিধিত্বকারী। কিন্তু কাজেকর্মে তারা সেটার প্রতিফলন দেখাতে পারেনি। তাই ভারতীয় মুসলিম সমাজ নিজস্বতা বজায় রাখার জন্য নতুন দেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করে, এবং এর ফলশ্রুতিতেই পাকিস্তানের জন্ম।
রাজনৈতিক ইতিহাসের বেলায় কোনটা আসলে ঠিক ছিল আর কোনটা ভুল তা সাদা চোখে বলা কঠিন। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়ার জন্য ইতিহাস জেনে রাখা উচিত। এবং অনেকগুলো পারস্পেক্টিভ থেকেই ইতিহাস পড়া উচিত। মহিউদ্দিন আহমদের বইতে তিনি বেশ কিছু পারস্পেক্টিভ থেকে আলোচনা করেন। এই ব্যাপারটা ভালো লাগে। আর তিনি একটা টাইমলাইন মেইনটেইন করে লিখেছেন বইটি, যার ফলে আগের বা পরের ঘটনাগুলো বুঝতে অসুবিধা হয় না। সব মিলিয়ে ইতিহাসের প্রথম পাঠ জানার জন্য আদর্শ বই বলা চলে!
এই বইটির ক্ষেত্রে আমার দ্বিতীয় প্রিয় বিষয় হলো বইটার নাম। "প্লাবনভূমির মহাকাব্য", নামটার আকর্ষণেই বইটা সম্পর্কে খোজ নিয়েছিলাম। বেশ একটা কাব্যিক ভাব আছে নামটাতেই।
বইটার প্রথম প্রিয় বিষয় হলো, লিখনশৈলী। সুখপাঠ্যতা। মহিউদ্দিন আহমদের বইগুলোত বিষয়ে অভিযোগ আছে যে "কাঠখোট্টা পরিবেশন।" যদিও লেখকের প্রথম বই পড়লাম, তবে আমার কাছে কাঠখোট্টা মনে হয়নি একদম।
Like every other writing from the author, অনেক information. Information আর information. লেখক try করেন most authentic information supply করতে with all the references as well.
কিন্তু এইটাই বই এর limitation. লেখক চাইলেই একটু ইতিহাস কে entertaing করতে পারেন, কিন্তু উনি যেভাবে Present করলেন information গুলি, মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল আমি History এর textbook পড়েছি just.