Jump to ratings and reviews
Rate this book

মিথ্যের আড়ালে

Rate this book
দুই বোনের গল্প। যারা একজন আরেকজনকে ভালোবাসে, আবার ঘৃণাও করে আবার ভয়ও পায়। একজন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শারীরিকভাবে বন্দি। কিন্তু তার চেতনা জাগ্রত। এই অবস্থায় সে পুরানো দিনের কথা ভাবছে, পুরানো প্রেমিক, স্বামী, বোন, অফিসের রাজনীতি এসব নিয়ে ভাবছে। আর ভাবছে তার এই দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী কে? সে কি এই কোমা থেকে জেগে উঠবে? নাকি এখানেই তিলে তিলে মরবে? জীবনটা কি সবসময়ই তাকে নিয়ে খেলবে নাকি সে নিজেই বদলে দেবে খেলার গতি? মিথ্যের আড়ালে কী মিথ্যে আছে? নাকি আছে কোন সত্যি?

174 pages, Unknown Binding

First published February 1, 2024

2 people are currently reading
51 people want to read

About the author

Shariful Hasan

42 books1,007 followers
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.

Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.

Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.

Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
10 (22%)
4 stars
22 (48%)
3 stars
11 (24%)
2 stars
2 (4%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Wasee.
Author 56 books789 followers
March 5, 2024
"মিথ্যের আড়ালে" একটা রহস্য উপন্যাস, আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাইলে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। মূল গল্প অ্যালিস ফিনির বিখ্যাত বই "সামটাইমস আই লাই" অবলম্বনে দেশী ধাঁচে, দেশীয় চরিত্রের সমন্বয়ে। পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি কিংবা প্রেক্ষাপটের সাথে আমাদের যথেষ্ট ভিন্নতা থাকা সত্বেও রুপান্তরের গুণে একবারও মনে হয়নি বিদেশি কোন বইয়ের এডাপটেশন পড়ছি।

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে বইটা অসাধারণ। শুধুমাত্র টুইস্টের ওপর ভিত্তি করে গল্প সাজাতে গেলে অনেকক্ষেত্রে এক্সিকিউশন গোলমেলে হয়ে যায়। তবে এই বইয়ের সবচেয়ে দুর্দান্ত ব্যাপারটাই এই "টুইস্ট"। আগাগোড়া উপভোগ্য।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
527 reviews197 followers
February 21, 2024
সকালে উঠে ৫.৫০ থেকে ৮ টা ভেতরে শেষ করা বই। এতো ইন্টারেস্টিং একটা প্লট।যদিও এটা মৌলিক নয়। আসল উপন্যাসের নাম "সামটাইমস আই লাই"- এলিস ফিনি। একেই দেশীয় ছাঁচে ফেলেছেন। যদিও লিখে না দিলে এ ব্যাপারখানা ধরার উপায় ছিলোনা আমার।

গল্পে যাওয়া যাক। গল্প কীভাবে এগুচ্ছে, কেন, কী এসবের উত্তর খোঁজার জন্য হলেও হাত থেকে রাখতে পারবে না। এমন জটিল প্যাচে পড়বে যে শেষ অব্দি না আসা পর্যন্ত ভালো লাগবেনা। আবার সুক্ষ্মভাবে গা শিরশির ভাবটা ডুকিয়ে দেয়া হয়েছে। চমৎকার একটা পাঠ্য।
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews12 followers
February 25, 2024
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, বইটা অসাধারণ। বইয়ের সবচেয়ে দুর্দান্ত ব্যাপারটাই এই "টুইস্ট"। Sometimes I Lie বইয়ের বাঙলা রূপান্তর বইটা। লেখক হয়ত কিছু কারনে লেখা কমায় দিয়েছে আর সেটা পড়ার সময় বুঝতে পারতেছুলাম কিছু কিছু কম আছে। তাঁর পরেও শরিফুল ভাই যে ভাবে লিখেছেন সেটাও অনেক অসাধারণ হয়েছে কিন্তু মনে হয়েছে ১০০% অনুবাদ হইলে আরো বেশি উপভোগ্য হইত।
Profile Image for Mou.
88 reviews1 follower
October 17, 2024
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মানেই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা পাঠকের মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলবে । এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। পড়তে পড়তে নিজের মধ্যে একটা ধারণার জন্ম নিতে না নিতেই প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। শেষের দিকে হঠাৎ করেই অনেক টুইস্ট সামনে চলে আসে।
বিদেশি বই থেকে দেশীয় প্রেক্ষাপটে আনলেও একবারও মনে হয়নি আমি কোন রূপান্তর পড়ছি ভিন্ন কোন প্রেক্ষাপটের বইয়ের। এতই সাবলীল ছিল শরীফুল হাসানের রূপান্তরের কাজ টা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রেখেছে বইটা। পড়ার সময় টা উপভোগ করেছি। চমৎকার প্রচ্ছদের সাথে নালন্দার প্রোডাকশন ও বেশ ভালো।
তবে ভালো লাগেনি সব টুইস্ট হুট করে শেষে গিয়ে খোলাসা করাটা। কাহিনী যেভাবে আগাচ্ছিলো তার সাথে কিছুটা অসামঞ্জস্য লেগেছে এই ব্যাপার টা। যদিও বই পড়ার আনন্দ এতে কমেনি।
সব মিলিয়ে, যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরা পছন্দ করেন তাদের বেশ ভালো একটা সময় কাটবে এই বইটার সাথে।

পার্সোনাল রেটিং : 3️⃣.8️⃣/5️⃣
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
283 reviews21 followers
July 25, 2024
গল্পটা কীভাবে বলবো? গল্পটা কী জটিল কোনো মনস্তাত্ত্বিক গল্প নাকি সাদামাটা দুই বোনের ভালোবাসার সম্পর্কের গল্প? আমি যখন বইটি পড়তে শুরু করলাম আমার কাছে গল্পটা আর দশটা সাধারণ সম্পর্কের গল্প মনে হয়েছিল। তবুও কোথাও একটা কিন্তু আছে জানেন!

শায়লা হাসপাতালে কোমায় আছে। শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ। গুরুতর ভাবে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে হাসপাতালে এসেছে। এবং এখন আছে কোমায়। সবাই ভাবছে শায়লা একদমই অচেতন। শুধু প্রানটা টিকে আছে। মানে সে মরেনি। কিন্তু শায়লা কোমায় থাকলেও তাঁর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা তখনও ছিল। সে নড়াচড়া করতে পারছে না, চোখ খুলতে পারছে না তবুও সে সবাইকে অনুভব করতে পারছে আশেপাশে।

শায়লার কার্যক্ষম মস্তিষ্ক ভাবতে শুরু করেছে অনেক কিছুই। অতীত, বর্তমানে হাসপাতালের অবস্থা, কিছুদিন আগের ঘটনা। কিন্তু শায়লার মনে পড়ছে না এই মারাত্মক দূর্ঘটনায় সে আহত হলো কীভাবে? তাঁর স্পষ্ট মনে আছে সে গাড়ি চালাচ্ছিলো না। তাহলে সে রাতে তাঁর পাশে কে ছিলো? উফফ! বিকট যন্ত্রণায় শায়লা কুঁকড়ে গেল। না! না! তাঁর কিচ্ছু মনে আসছে না।

শায়লার একটা সংসার ছিল, একজন স্বামী ছিল ইকবাল নামের। শায়লার এসব মনে আছে। শায়লা কাজ করতো টিভি চ্যানেলে এবং ইকবাল লেখক। তাঁদের জীবনটা বর্তমানে একঘেয়েমি ছিল একটা বাচ্চার অভাবে। তাঁরা দুজনে অবশ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। শায়লার অফিসের বস শবনম বেগম অবশ্য তাঁকে পছন্দ করতো না। শায়লার তাতে কী, সে নিজেও তাঁকে পছন্দ করতো না। আরেকজন ছিলো শায়লার জীবনে সে হলো তানিয়া!

তানিয়া শায়লার বোন। সবসময় শায়লাকে সব কিছু থেকে আগলে রাখে। বোনকে খুব ভালোবাসে তানিয়া। বোনের কাছাকাছি এক বাসায় থাকে। বাসাটা পৈতৃক। তানিয়াকে বাবা মা মারা যাবার সময় দিয়ে গেছে। তানিয়ার বর সজীব এবং দুই জমজ সন্তানের মা সে। বোনের এক্সিডেন্টের কথা শুনেই হাসপাতালে ছুটে এসেছে। বোনকে এই অবস্থায় দেখে অনুশোচনায় দগ্ধ হচ্ছে। কিন্তু কেনো? ইকবাল অবশ্য স্বান্তনা দিচ্ছে তানিয়াকে। আর শায়লা এদের কথাবার্তা সবটাই শুনতে পাচ্ছে। শুধু তাঁর ক্ষমতা নেই প্রতি উত্তরের।

শামীম শায়লার প্রাক্তন। মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় শায়লার সাথে ছাড়াছাড়ি হয় তাঁর। শামীম শায়লাকে পাগলের মতো ভালোবাসতো। তাই এত বছর পরও বোধহয় শায়লাকে ঠিক খুঁজে বের করে ফেলেছে কীভাবে যেন। শায়লা অবশ্য অতীতের স্মৃতিগুলো সামনে আনতে চায় না। ইকবাল এখন তাঁর জীবনের বড় সত্য। শায়লা যে হাসপাতালে কোমায় আছে, শামীম সেখানে চাকরি করে! ফিসফিস করে শায়লাকে সতর্ক করলো কিছু থেকে! কিন্তু কী সেটা? শামীম কী চায় এত বছর পরে?

পুলিশ সবকিছুর জন্য ইকবালকে দায়ী করছে। তানিয়া শায়লার বিছানার পাশে বসে সব বললো শায়লাকে। শায়লা প্রাণপণ চেষ্টা করছে যেন জেগে ওঠার। তাহলেই জানা যাবে সত্যিটা। কিন্তু শায়লা কোমা থেকে জাগলে ইকবাল তানিয়া খুশি হবে তো আদৌ? শায়লা যা যা সন্দেহ করেছে সবটাই কী শুধু ভুল ধারণা?

একজন কোমায় থাকা মানুষ, কিছু জটিল সম্পর্ক, দুই মেরুর দুই বোন, যারা একে অপরকে ভালবাসে আবার ভয়ও পায়। রহস্যময় রাত, যা খুলে দেবে কিছু চরম সত্য। একটা যন্ত্রনাময় ছেলেবেলা। সব মিলিয়ে এই গল্প আপনার মন নিয়ে খেলবে। আপনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। মিথ্যের আড়ালে সত্য জানতে আপনি মরিয়া হয়ে উঠবেন।

শরীফুল হাসানের লেখার সাথে অভিজ্ঞতা প্রথম বই রেড পয়জন পড়ার সাথে সাথেই শেষ করলাম লেখকের আরেকটি দারুন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার "মিথ্যের আড়ালে"। যদিও বইটি বিদেশি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে লেখা তবুও বিশ্বাস করুন লেখক দেশীয় ছাঁচে বিদেশি উপন্যাসের গল্পটা বেশ সুন্দর করে বলেছেন। লেখকের লেখনী আবারো ভালো লাগলো।

আমি বইটিতে এমন আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিলাম দুই রাত উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখেছি ঘুমের মধ্যে। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সবসময় পাঠকের মস্তিষ্ককে আলোড়িত করে এবং আসলেই এই বই ���েটা করতে পেরেছে আমার সাথে।

বইটা পড়ছিলাম আর বারবার হাসবেন্ডের সাথে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম বইয়ের। শেষের টুইস্ট বাপরে বাপ এ���ন হবে ভাবতে পারিনি একদমই। যেন সব হিসাব নিকাশ এলোমেলো করে দিলো। হাসবেন্ড মিটিমিটি হাসছে বলে আগেই বলেছিলাম এই বই এমনই হবে।

বিদেশি উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে তবুও লেখক ভালো চেষ্টা করেছেন দেশীয় ছাঁচে ফেলে গল্প বলতে। তবুও আসলে বিদেশি প্রেক্ষাপট তো, আমাদের দেশে কেমন মানাতো বলা মুশকিল। কিছু জায়গায় ওই বিদেশি বিদেশিই লাগছিলো। তবে বেশ উপভোগ করেছি এইটুকু বলতে পারি।

ভাবছি লেখকের কোন বইটা এরপর পড়া যায়। লেখকের গল্প বলার ধরন কিন্তু বেশ সাবলীল। যেকোনো জনরায় মানিয়ে যায়।

🎀বইয়ের নাম: "মিথ্যের আড়ালে"
🎀লেখক: শরীফুল হাসান
🎀প্রকাশনী: নালন্দা
🎀 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews23 followers
Read
April 6, 2024
❛একই সাথে কাউকে খুব বেশি ভালোবাসা আর খুব বেশি ঘৃণা যায়?❜

গাড়ি দু র্ঘটনায় কমায় চলে গেছে শায়লা আহমেদ। শারীরিকভাবে বন্দী হলেও জাগ্রত আছে চেতনা। কীভাবে এই অবস্থায় আসলো মনে করতে পারছে না সে। তবে ধীরে ধীরে তার নিজের নাম, অতীত, কিছুদিন আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা একে একে স্মৃতিতে ভেসে উঠছে। ছেলেবেলা, অতীত, পুরোনো প্রেম, বর্তমান স্বামী, বোন। উপলব্ধি করতে পারছে আশপাশের অবস্থা। কে কী বলছে, কী করছে সে শুনতে পারছে, কিছুটা আঁচও করতে পারছে।
শায়লারা দুই বোন। একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তানিয়া স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ আছে। শালার জীবনও চলছিল। চাকরির কিছু সমস্যা আর ভালোবাসার মানুষের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়ন এইতো জীবন চলছিল। মাঝে দিয়ে ছন্দপতন হলো কোমায় এসে। কিন্তু কীভাবে এই দু র্ঘটনা ঘটলো? নিছকই দুর্ঘটনা কি না সেটাও প্রশ্ন। তবে উত্তর দেয়ার অবস্থায় শায়লা নেই।
রহস্যের ব্যাপার শায়লার শরীরে জ খমের চিহ্ন। স্বাভাবিকভাবেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ স্বামীর উপর। নিজের স্ত্রীকে কি তিনি তবে মে রে ফেলতে চেয়েছিলেন?
হাসপাতালে নিয়মিত তানিয়া, ইকবাল আসছে। দেখছে। তাদের মধ্যকার সম্পর্কও অদ্ভুত। কোমায় থাকা শায়লা কেন চাইছে না তানিয়া ইকবাল একত্রে কথা বলুক? সুসম্পর্কের দুই বোনের মাঝে কি কোনো মিথ্যের আড়াল আছে? আদতে দেখতে যা সুন্দর তার আসল মুখ কি কুৎসিত হতে পারে?
শায়লা সুন্দর স্বাভাবিক একটা জীবন চায়। যে জীবনে স্বামীর ভালোবাসা থাকবে। চিন্তা থাকবে না। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ থাকবে না। সবকিছু ঠিক করতে হলে আগে তাকে জেগে উঠতে হবে। সে কি জেগে উঠবে?
২৫ শে ডিসেম্বর রাতে গাড়িতে শায়লা কার সাথে ছিল? অনেকগুলো রহস্য। কিন্তু সমাধানের সুতা গুলো কোনো অদৃশ্য বলয়ে ঘুরছে যেন।


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

ইংরেজি ভাষার সাহিত্যিক এলিস ফিনির ❛সামটাইমস আই লাই❜ উপন্যাসের দেশীয় সংস্করণ ❝মিথ্যের আড়ালে❞। বিদেশী উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত হলেও লেখক শরীফুল হাসানের দক্ষ লিখনশৈলীতে খুব একটা বোঝা যায়নি যে উপন্যাসটা মৌলিক নয়।

কোমায় থাকা এক রোগীর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উপন্যাসের কাহিনি এগোয়। শুরুতে মনে হবে কখন রহস্য সমাধান হবে। শায়লা কীভাবে গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়লো? থ্রিলারের একটা সুন্দর স্বাদ পাওয়া যাবে। সাথে নিত্য দিনের সংসারের টানাপোড়ন, অফিসে বসের রোষানল আর তার থেকে মুক্তির অভিনব উপায় খুঁজতে ম রি য়া শায়লার জীবনের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। বর্তমান, অতীত আর বর্তমানের কিছু আগে অর্থ্যাৎ দুর্ঘটনার কিছুদিন আগের ঘটনাগুলো এই তিনভাগে উপন্যাস গতি পায়।
বিদেশী গল্পের ছায়া থাকলেও পড়তে বেশ ভালো লাগছিল। আমরা কোনো ব্যক্তির সামনে যে আচরণ করি আর মনে যা রাখি তার তফাৎ কেমন হতে পারে উপন্যাসের একটা দিক এ বিষয়ে আলোকপাত করে।
আপাতদৃষ্টিতে যার সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক তার সাথে গভীরতা ঠিক কতটুক এটাও উপন্যাসের আলোচ্য। এইটুক পর্যন্ত সত্যি মিথ্যের দেয়ালে একে আনকোড়া রহস্য উপন্যাস হিসেবে আখ্যা দিলেই হবে।
কিন্তু হুট করেই উপন্যাস এমন ইউটার্ন নিবে যে ব্রেক কষতে বাধ্য হতে হবে। কোমায় থাকা একজন রোগীর চেতনায় স্মৃতিচারণ, দু র্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ জানার রহস্য আচমকাই বদলে যাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে। নিজের সাইকোলজিও এই খেলার অংশ হবে। এতক্ষণ যা হচ্ছিল সেটার সত্য মিথ্যা বা বাস্তবতা বের করতে নির্দিষ্ট একটা প্যারা আমাকে দুইবার পড়তে হয়েছে। এই টুইস্টকে শিক্ষিত পাঠকের ভাষায় কী বলে জানিনা। তবে আমার নির্দিষ্ট পয়েন্টে গিয়ে অনুভূতি ছিল এমন,
❛আমি একেবারে আআআ কইরা উঠলাম।❜

এরপর অনেকটাই অনুমেয়। তবে শেষদিকে ঠান্ডা মাথায় যে কাজগুলো হলো সেগুলো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের জন্য একদম ঠিকঠাক। দ্রুত অনেকগুলো ঘটনা ঘটে যায়।
তবে শেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, শায়লা কি জেগে উঠেছিল? আশপাশে সমীহ করার মানুষগুলোর মাঝেই কোনো ঘাপলা নেই তো?

যেহেতু উপন্যাসটা মনস্তত্ত্ব নিয়ে আবর্তিত হয়েছে সেহেতু কিছু ঘটনার সমীচীন ব্যাখ্যা কিংবা পুলিশ প্রসিডিওরাল ব্যাপারগুলোর গভীরতা এখানে মুখ্য নয়। না হয়, সব ঘটনা, আলাদা অনেকগুলো মানুষের মধ্যে মিডল টার্মের মতো একজন কমন যাচ্ছে এখানে সন্দেহ আসতেই পারতো।
তবুও শেষটা আপনাকে ভাবাবে।
লেখা বেশ ঝরঝরে বিধায় পড়তে একদিনও লাগেনি। লেখকের লেখার মাঝে নিজেকে সেট করে ফেলা সোজা।


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

নালন্দা প্রকাশনীর প্রোডাকশন আমার সবসময়েই পছন্দ। তবে তাদের সম্পাদনাও সবসময়ের মতোই দুর্বল। এই বইতেও সম্পাদনার ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
মোস্তাফিজ কারিগরের প্রচ্ছদ সবসময়েই সুন্দর।

উপন্যাসে লেখক বেশ কিছু সুন্দর উক্তির ব্যবহার করেছে। এরমধ্যে এটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে,
❛আরেকজনের চোখে নিজেকে দেখার অভিজ্ঞতা আসলে অন্যরকম। সত্য কীভাবে আরেকজনের দৃষ্টিতে রূপ বদলায় এটা সেই ডায়েরি পড়েই বুঝেছিলাম।❜
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books227 followers
March 6, 2024
চমৎকার একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। মেদহীন ঝরঝরে লিখনী। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাঠকে আকৃষ্ট করে রাখে। শেষের টুইস্টগুলো দারুণ ছিল।
এডাপ্টেশন চমৎকার হয়েছে। বইটা এডাপ্টেশন কিন্তু তাতে এই বইয়ে ছোট করে দেখার কোন কারণ নাই। খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে এনেছেন লেখক। মাঝে মধ্যে এরকম চমৎকার এডাপ্টেশন হলে মন্দ হয় না। পড়ে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Arnab Kabir.
38 reviews1 follower
August 25, 2024
বেশ উপভোগ্য। অ্যালিস ফিনির লেখা সামটাইমস আই লাই এর এক্সিউশান বেশ জটিল। কারণ মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের সাথে টুইস্টগুলো খুব দ্রুত চলে আসে। সেগুলোকে বেশ ভালোভাবে সামলে নিতে হয়। সেই বইয়ের এমন ঝরঝরে অ্যাডাপ্টেশন আসলেই প্রশংসা করার মতো।
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.