মিশর মানেই ফারাও, মমি, পিরামিড, মাইথোলজি আর মহান সব স্থাপত্যের ইতিহাস। সত্যিই কি তাই? আসলে এই সমস্ত অত্যাশ্চর্য ইতিহাসের পেছনে ভিত্তি হিসেবে রয়েছে এক মজবুত সম্পর্ক, খাদ্য এবং খাদকের সম্পর্ক। তবে অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতার মতন মিশরীয়দের খাদ্যাভ্যাসের বিশদ বিবরণ তাদের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন?শুধু এটুকুই নয়, প্রশ্ন আরও আছে। মহান ফারাওরা কী খেয়ে বেঁচে থাকতেন? পিরামিডের নীচে কেন খুঁজে পাওয়া গেল গবাদি পশুর মমি? পিরামিড তৈরির সময় শ্রমিকদের রেশনিং সিস্টেম ঠিক কেমন ছিল? প্রাচীন দেব-দেবীর সঙ্গে উৎসর্গীকৃত খাদ্যসামগ্রীর কোন রহস্যময় সম্পর্ক ছিল?মিশরের বিভিন্ন আর্কিওলজিকাল সাইট ঘুরে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজব আমরা। ভেদ করব প্রাচীন মিশরে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একাধিক রহস্য…
বাংলায় মিশর নিয়ে নন-ফিকশন লেখার ক্ষেত্রে বিশ্বজিৎ সাহা ইতিমধ্যেই পাঠকের মনে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। নীলনদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু রহস্যময় অংশের পর এবার তাঁর আলোচ্য বিষয় হয়েছে প্রাচীন মিশরীয়দের খাদ্যাভ্যাস এবং সেই নিয়ে নানা ভাবনা ও তত্ত্ব। একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও তথ্যনিষ্ঠ ভূমিকার পর এতে একে-একে এসেছে~ ১. প্রথম প্রশ্ন; ২. সংগ্রহশালা; ৩. আদিপুরুষ; ৪. ব্যতিক্রমী অস্তিত্ব; ৫. রান্নাঘরের স্ট্রাকচার; ৬. প্রাচীন খাদ্যতালিকা; ৭. টেবিল ম্যানার্স; ৮. মৃত্যু, এক অনুষ্ঠান; ৯. খাদ্য এবং ইতিহাস; ১০. রুটিই ছিল রুটিন; ১১. ডেয়ার-ডেভিল-ডিম; ১২. ডেয়ারির ডায়েরি; ১৩. দেবভোগ্য মাংস; ১৪. রাজার শিকার - পোলট্রি; ১৫. মাছ - অশুভ স্পর্শ; ১৬. সবজির ফসিল; ১৭. শস্যের মধ্যে ঈশ্বর; ১৮. ফারাও-এর ভাগ্য-ফল; ১৯. মধুতেই মধুমেহ; ২০. ঈশ্বরের পানীয়, বিয়ার; ২১. খাদ্য এবং লিপির মেলবন্ধন; ২২. খাদ্যসামগ্রী সম্পর্কিত পরিচিত মিশরীয় শব্দ; ২৩. খাদ্য এবং পানীয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন মিশরীয় ভাষা; ২৪. এবং লিপি (হায়রোগ্লিফ); ২৫. প্রাচীন মিশরিয় রেসিপি। অত্যন্ত সহজ ও স্বাদু গদ্যে, প্রচুর অলংকরণের সাহায্যে, অথচ তথ্যনিষ্ঠ ভঙ্গিতে এই আলোচনার মাধ্যমে লেখক শুধু প্রাচীন মিশরীয়দের খাদ্যাখাদ্য নিয়েই কথা বলেননি। সেই সূত্রে এসেছে সেখানকার সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, পারলৌকিক ভাবনা নিয়ে বহু ছোটো-ছোটো গল্প। বিশেষ কিছু পদ ও পানীয় প্রস্তুতির প্রক্রিয়াও তিনি এই বইয়ে সন্নিবিষ্ট করেছেন, যাতে বইটি শুষ্কং-কাষ্ঠং না হয়ে বরং সরস হয়। ইতিহাসে, বিশেষত খাবারের ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে এই ছোট্ট কিন্তু চমৎকার বইটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না।
🏺⚰️বইয়ের নাম - পিরামিডের দেশে পোস্তদানা⚰️🏺 ✍️লেখক - বিশ্বজিৎ সাহা 🖨️প্রকাশক - অরণ্যমন প্রকাশনী 🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৭৬ 💰মূল্য - ২৫০₹
🍞🍯গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে গিয়েছিলাম গিয়ে দেখি মিশরের অনেকেই পোড়ামাটির জিনিসপত্র রয়েছে ওখানে দেখেতো ভীষণ ভালো লাগলো , এরপরই মনে হল বইমেলা থেকে একটি বই নিয়েছিলাম “পিরামিডের দেশে পোস্তদানা” আজ সকালেই বইটি পড়তে শুরু করলাম। শুরু করে আর থামতে ইচ্ছে করলো না। এতো information রয়েছে এই বইটির মধ্যে,আরো কতো কিছুই না জানলাম নতুন করে। ভূমিকা টা বেশ সুন্দর ছিলো, বইটি তে অনেক ছবি আছে যে গুলো পাঠকদের পড়ে বোঝার সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে! সদ্য শেষ করলাম সাহিত্যিক বিশ্বজাৎ সাহা এর লেখা “পিরামিডের দেশে পোস্তদানা” যদিও লেখকের মিশর নিয়ে লেখা এটাই প্রথম বই নয় , তবে আমি লেখকের লেখা এই প্রথম পড়ছি । এই বই পড়ার পর “মিশরের রহস্যময়ী রানীরা” বইটি পড়ার ইচ্ছে অনেক বেড়ে গেলো!লেখক অনেক রিসার্চ করে এই বই লিখেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ লেখক কে এতো সুন্দর একটা বই পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্য!🍯🍞
⚰️🏺এই বই সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে প্রাচীন মিশরকে জানতে হবে। আর তার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা হল লন্ডনের ‘দ্য পেট্রিএ মিউজিয়াম অফ ইজিপ্সিয়ান আর্কিওলজি'! মিশর মানেই ফারাও, মমি, পিরামিড, মাইথোলজি আর মহান সব স্থাপত্যের ইতিহাস। সত্যিই কি তাই? প্রাচীন মিশরে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একাধিক রহস্য... প্রাচীন সভ্যতার মতন মিশরীয়দের খাদ্যাভ্যাসের বিশদ বিবরণ তাদের ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন? প্রাচীন দেব-দেবীর সঙ্গে উৎসর্গীকৃত খাদ্যসামগ্রীর কোন রহস্যময় সম্পর্ক ছিল? মহান ফারাওরা কী খেয়ে বেঁচে থাকতেন? পিরামিডের নীচে কেন খুঁজে পাওয়া গেল গবাদি পশুর মমি? পিরামিড তৈরির সময় শ্রমিকদের রেশনিং সিস্টেম ঠিক কেমন ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইলে এই বইটি অবশ্যই পড়তে হবে!🏺⚰️