নিখোঁজ ডগলাসের বাসায় নরফোক কাউন্টি পুলিশ উদ্ধার করে চারটা মৃতদেহ। নৃশংসভাবে খুন হওয়া ডগলাস ও ওর স্ত্রী জনাকে তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করতে পারলেও, বাকি দুইটা মৃতদেহকে সনাক্ত করা গেল না। অল্পবয়সী একটা মেয়ে লাশের অটপ্সি করতে গিয়ে দুইটা করোনার হাউজে আরও চারটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মেয়েটার লাশের পাশেই পাওয়া গিয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীর ভ্যাটিকানের দামী একটা ক্রুশিফিক্স। ক্রুশিফিক্স পরিচয় উদ্ধার করার সময় বের হয়ে আসে ব্র্যাভেরিয়ার ফাদার থিওফিলাস রাইসিঞ্জারের এক্সরসিজমের গোপন কাহিনি এবং মেয়েটার ভয়ঙ্কর নির্মম ইতিহাস! অন্যদিকে সহকারী করোনার ইথান কালাহানের জ্ঞান ফিরে আসলে বের হয়ে আসে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করা টিমোথি ও জুডিথের মৃত্যুর কাহিনি। ডেভিলকে স্বেচ্ছায় আত্মা দান করা মেয়েটাকে ঘিরে ক্রমাগত নির্মম মৃত্যুর ঘটনা থামাতে ফাদার আলফানসো ভ্যাটিকানের নির্দেশে ক্যাথলিক এক্সরসিজম রিচ্যুয়ালের মাধ্যমে একে আবার কবরস্থ করতে চাইলেন। কিন্তু মেয়েটার দেহ দখল করে রাখা কুখ্যাত ডেমন অ্যাবেজেথিবু তার শিষ্যদের নিয়ে বাধা দেয় সেই কাজে। ফাদার আলফানসো নিরুপায় হয়ে এক্সরসিজম রিচ্যুয়ালের কাজ শেষ করার জন্য ক্যাথলিক চার্চের গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলের কাছে সাহায্য চাইলেন। ফাদার আলফান্সো কি শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা অতিক্রম করে লাশটাকে আবার কবরস্থ করতে পেরেছিলেন?
❝জাহান্নামের অশুভ পাপাত্মা, সদাময় মহান প্রভুকে ভয় পাও, দূর হয়ে যাও সকল অশুভ বৈরী শক্তি! মনে করে দেখো ডেভিডের হাত কীভাবে জুদার গোত্রের সেই সিংহকে জয় করেছে।❞
অশুভ পাপাত্মার কবলে বন্দী দেহ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বেঁধে রাখা হয়েছে সেই অশুভ শক্তিকে কিন্তু রুখতে পারা কি এতোই সহজ? ফাদার হলি ওয়াটার ছিটাচ্ছে সেই দেহে আর মন্ত্রপাঠ করে চলেছে। চারিদিকে লন্ডভন্ড করা হট্টগোল! "ওয়েস্টার্ন হরর" শুনলে কি মনের দৃশ্যপটে এমন কোনো দৃশ্য ফুটে ওঠে? ওয়েস্টার্ন হরর মুভি ও বইয়ে প্রায়ই এমন দৃশ্য দেখেই অভস্ত্য আমি। তবে অশুভ আত্মার ব্যকস্টোরিই জানতেই আমি মূলত মুখিয়ে থাকি।
ডগলাস ডোনাভানের বাসায় চারটি লাশ পেয়ে ভাবনায় পড়ে যায় নরফোক কাউন্টি পুলিশে। কিন্তু বাসার বেইজমেন্টে পাওয়া মেয়েটির লাশ দেখে কেমন জানি অশুভ মনে হয়! বাকি তিন লাশের পরিচয় পাওয়া গেলেও তন্নতন্ন করে খুঁজেও মেয়েটির কোনো রেকর্ড পায়নি তারা। করোনার টিমোথি মিস্টার ও মিসেস ডগলাসের অটপ্সি করে মৃত্যুর কারণ যা বলেন শুনে চমকে ওঠেন শেরিফ শেলডন ও ডিটেকটিভ রিচার্ড। কেউ যেন রক্ত শুষে নিয়েছে দেহ দুটো থেকে! কীভাবে সম্ভব? একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে! কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো প্রতিটা ঘটনাস্থলে মেয়েটির লাশ উপস্থিত! একটা লাশ কি কারো মৃত্যুর কারণ হতে পারে?
ওয়েস্টার্ন ধাঁচে দেশীয় লেখকদের লেখা হরর বইয়ের প্রতি আমার একধরনের আগ্রহ কাজ করে। অন্যদেশীয় কালচার লেখায় ফুটিয়ে তোলা এতোও তো সহজ নয় তাই না? আগেও মৌলিক ওয়েস্টার্ন হরর পড়া হয়েছে। তাই নতুন বছরে নতুন বইয়ের খবর জানার পর মুখিয়ে ছিলাম কবে পড়বো, অভিজ্ঞতা কেমন হবে। অবশেষে পড়া শেষ করে রিভিউ নিয়ে হাজির হলাম।
শুরুতে দেখানো হয়েছে ক্রাইমস্পট তারপর বিভিন্ন চরিত্রের আগমন। প্রথমে কাহিনী যথেষ্ট ধীরে এগিয়েছে। এইজন্য ব্রেক নিয়ে বাকি অংশ পড়েছি। ডেমন, ফলেনএঞ্জেল, এক্সরসিজমের থিওরি নিয়ে ভালো আলোচনা করা হয়েছে। যার রেফারেন্স লেখক শেষে যুক্ত করেছেন। প্লট ভালো হলেও উপস্থাপনা ও বর্ণনায় যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলেই মনে হয়েছে আমার। বিশেষ করে হরর এলিমেন্ট খুবই কম। অধিকাংশ টুইস্টই অনুমেয়। লাশগুলোর বর্ণনাও এতো অল্পই যে ভয় তো দূরের কথা অবস্থাও ঠিকঠাক কল্পনা করতে পারি নাই। তবে কিছু পয়েন্টের কথা না বলেই না:
১. পৃষ্ঠা ২২- অপরিচিত একজন ফিমেল পুলিশ অফিসারকে সাধারণ একজন ব্যক্তি "গর্দভ" বলে সম্বোধন করেছে! কোনো দেশের পুলিশের সম্মান এতোও কম মনে হয় না যে মুখের ওপর কেউ ইচ্ছে হলেই বলে দিবে।
২. ইথানের মতে তার বাবা নিজেকে উৎসর্গ করে ওকে বাঁচিয়েছে। ইথানের এমনটা ভাবার কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। মর্গে এমন কী দেখেছিল যে তার মনে হয়েছে যে টিমোথি নিজেকে উৎসর্গ করেছে? এখানে বডি হররের একটা স্কোপ ছিল যেটা লেখক আলোচনাতেই আনতে পারেননি। এই অংশটা বইয়ের সেরা অংশ হতে পারতো কিন্তু বর্ণনার ঘাটতির কারণে ঠিকমতো ফুটেই ওঠেনি।
৩. ভয়ানক আত্মার কবলে পড়েছে কিন্তু বেশ সহজেই লাশের কাছে ফাদার পৌঁছে গেল তার অতীতও দেখে ফেললো! শেরিফ শেলডনকে অতীতের ঘটনাগুলো এমন কাটাকাটাভাবে বলা হয়েছে যে অনেক হতাশ হয়েছি। অন্ততপক্ষে অতীতের আত্মা দেওয়ার কারণ, তারপরের কিছু ঘটনা (প্রতিশোধগুলো নিলো কীভাবে ও ধরাই বা পড়লো কী করে), এক্সরসিজম, দ্বিতীয় করোনারের মৃত্যুর ঘটনাগুলো ডিটেইলে দেখতে পাবো আশা করেছিলাম।
৪. সমাপ্তিতে আরও হরর এলিমেন্ট থাকলে জমতো ভালো। কিন্তু স্বয়ং ঈশ্বরের সৈনিক এসে যুদ্ধটা বেশিই ছোট ও সহজ করে দিয়েছে! এক্সরসিজমে অধিকাংশ সময়ই শুধু হলি ওয়াটার ও মন্ত্রজপ!
৫. "মহান আত্মা", "মহান প্রভু", " মহাপবিত্র" এমন শব্দগুলো এতোবার ব্যবহার করা হয়েছে যে অতিভক্তি বা সহজভাবে বলতে গেলে কেমন জানি মেকি মনে হয়। পজিটিভ এনার্জিকে এতো জোর করে পজিটিভ দেখানোটা বেখাপ্পা লেগেছে।
৬. চরিত্রগুলোর কিছু ডায়লগ পড়ে মনে হয়েছে অনুবাদ পড়ছি। ইংরেজি ও বাংলা শব্দের ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল।
ক্রাউন সাইজের কিউট পেপারব্যাক বইটার ওভারঅল প্রোডাকশন ভালোই হয়েছে। অল্পকিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে, যেমন: পড়েনন, ডেকেক। সবুজ রং আমার অনেক প্রিয়। বইটা দেখেই এইজন্য আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রচ্ছদে "এক্সরসিজম" বাদে বাকি লাইনগুলোর লেখা হালকা।
লেখক বইটি বিদেশী প্রেক্ষাপটে লিখেছেন। গল্পের মূল কাহিনী ডেভিল, ডেমন আর এক্সরসিজম নিয়ে। আগে যারা এই ধরনের বই পড়েছেন তাদের কাছে খুব চমকপ্রোদ না লাগার সম্ভাবনা বেশি। গল্পের এন্ডিং বেশ ফাস্ট তবে উপভোগ্য। সম্পাদনায় বেশ ঘাটতি রয়েছে কারণ বেশ বানান ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্রাউন সাইজের এই বইটি এক বসাতেই শেষ করে দেওয়া যায়।
লেখক বিদেশী পটভূমিতে গল্পটা তুলে ধরেছেন কিন্তু যা সবসময়ই পড়ে আসছি তাই এখানে আছেন। পুরাতন জিনিস নতুন প্যাকেটের মত। অবশ্য যারা হরর মাঝে সাঝে পড়েন তাদের ভালো লাগতে পারে।
"জাহান্নামের অশুভ পাপাত্মা, সদাময় মহান প্রভুকে ভয় পাও, দূর হয়ে যাও সকল অশুভ বৈরী শক্তি!"
যারা পাশ্চাত্যের হরর গল্প কিংবা মুভি দেখেছেন কিংবা পড়েছেন, তাঁদের কাছে এক্সরসিজম শব্দটা বেশ পরিচিত হওয়ার কথা৷ এই ক্যাটাগরিতে তো The Exorcist নামে তুমুল জনপ্রিয় একটা মুভিই আছে!
সহজ ভাষায়, Exorcism জিনিসটা হচ্ছে, ঝাড়ফুঁক, তন্ত্রমন্ত্র, নানা জিনিসপাতি, গাছের শেকড় ইত্যাদি দিয়ে ভূত বা ডেভিল তাড়ানোর পদ্ধতি। এটা বেশ সেকেলে হলেও এখনও বেশ প্রচলিত। বইটিও লেখা হয়েছে এরকমই একটা এক্সরসিজমের কাহিনী নিয়ে।
কাহিনী সংক্ষেপ (হালকা স্পয়লার): আমেরিকার ভার্জিনিয়ার নরফোক কাউন্টি পুলিশ অফিসে একটা কল আসে৷ প্যাট্রোল অফিসার মারিয়া স্যান্ডারসন চারটি মৃ*তদেহ উদ্ধার করেন। কাহিনীর শুরু এখান থেকেই।
নিখোঁজ সাদাসিধা, নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ ডগলাসের বাসায় তাঁকে ও তার স্ত্রীকে খু*ন করা হয়। সাথে পাওয়া যায় অজ্ঞাতনামা আরো দুজনের লা*শ। স্বাভাবিকভাবেই অটপ্সি করতে পাঠানো হয়৷ অটপ্সিতে বেরিয়ে আসে বেশ আজগুবি এক রেজাল্ট যেটা বাস্তবে সম্ভব হলেও খুবই অসম্ভাব্য একটা বিষয়, যেটা কাউকে বললে হয়তো মানুষ পাগলও ভাবতে পারে৷
তারপর ঐ অজ্ঞাতনামা দুজনের একজন, অল্পবয়সী মেয়ের অটপ্সি করতে গিয়ে বাঁধে বিপত্তি। বিপত্তি মানে পুরাই ভয়ংকর কান্ড৷ একের পর এক নানা রকমের অশুভ ঘটনা ঘটতে থাকে৷ আর হ্যাঁ, মেয়েটার লা*শের পাশে একটা ক্রুশিফিক্সও পাওয়া গেছিলো, সেটা নিয়ে প্যাট্রোল অফিসার মারিয়ার চাচা একজন ফাদারের রেফারেন্সে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ফাদারের (ফাদার আলফান্সো) কাছে গেলে জানা যায় তার পিছনের আরেক কাহিনি। এই মেয়েটাকে কবরস্থ করলে তবেই মিলবে মুক্তি। তারপর কী ঘটেছিলো কিংবা আমার বলা কাহিনী সংক্ষেপের মধ্যবর্তী সময়েও কী ঘটেছে এবং অবশেষে কী ফাদার আলফান্সো তাঁর কাজে সফল হয়েছিলেন জানা যাবে বইটি পড়লে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া : বইটিকে আমি তিনভাগে ভাগ করবো৷ প্রথম ভাগে ক্যারেক্টার ও ইভেন্ট বিল্ডআপে সময় নিয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে আস্তে আস্তে রহস্য খোলাসা করা হয়েছে আর তৃতীয়ভাগে যবনিকা টানা হয়েছে।
লেখার মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে স্বার্থক বলে মনে হয়েছে মধ্য বা মধ্যশেষের লেখা। বিশেষ করে হরর হিসেবে যে ভয় পাওয়ার কথা সেটা ফাদারকে নিয়ে ঐ হাউজে যাওয়ার সময় অনুভব করা গেছিলো। অন্যথায় থ্রিল বা হররে উপাদান কম বলে মনে হয়েছে। তবে, লেখক যে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন এটা স্পষ্ট। ফুটনোটগুলো ভালো ছিলো। অনেক ছোটখাটো তথ্য জানা গেছে। তাছাড়া, লেখক পুরোটাই মার্কিন আদলে লেখার চেষ্টা করেছেন। এটাতেও বেশ সফল।
তবে, মার্কিন সংস্কৃতি বা খ্রিষ্ট সংস্কৃতির উপস্থিতি আরেকটু বেশী হলে ভালো হতো। কিংবা ধরেন, কোনো খ্রিষ্টধর্মীয় রিচ্যুয়ালে বা মার্কিন কালচারের কোনো ঘটনায় হরর এলিমেন্ট রাখলে হয়তো ভালো হতো৷ লেখক কী রাখবেন, না রাখবেন এটা আমার বলা মানায় না। তবে, আমি ফিডব্যাক বা সাজেশন দিতে পারি, যেটা লেখক মানতে না চাইলেও সমস্যা নাই। তবে, আমার কাছে মনে হয়েছে এটা করলে হয়তো স্টোরির ডেপথ এবং হুকড করার পাওয়ার বাড়তো।
আর, ক্যারেক্টার ও ইভেন্ট বিল্ডআপের সময় ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যকার কেমিস্ট্রিগুলো আরেকটু ডেভেলপ করলে ভালো হতো। বিশেষ করে ইথান বা টিমোথির বিষয়টা৷ লেখক টিমোথির ক্ষেত্রে আবেগ আনার চেষ্টা করেছেন, এটা ভালো লেগেছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেটা ঘটনা ঘটার পর৷ ঘটনা ঘটার আগে কোনো মেমোরেবল মোমেন্ট ক্রিয়েট করলে টিমোথি, ইথান কিংবা জুডিথের মৃত্যুর সময় পাঠক ধাক্কা খেতো৷ দিনশেষে পাঠককে যে বই সবচেয়ে বেশী ধাক্কা দেয়, সে বইয়ের কথা মনে থাকে বেশী। (তাদের মৃত্যু ফ্ল্যাপেই আছে)
এসব বিষয় বাদ দিলে লেখক যথেষ্ট পরিশ্রম ও পড়াশোনা করেছেন যেজন্য সাধুবাদ প্রাপ্য। তাছাড়া, লেখার শেষে সোর্স ও রেফারেন্স যোগ করে দেওয়া হয়েছে, যে কেউ চাইলেই মিলিয়ে নিতে পারেন৷ এটা একটা ইতিবাচক দিক। তাছাড়া, লেখক যে পড়াশোনা করেছেন তার পক্ষেও সাক্ষ্য দেয় এটি।
বানান ও মুদ্রণ : বইটিতে বেশ কিছু বানান ভুল ও টাইপো চোখে পড়েছে। কম করে হলেও ১৫-২০ টা হবে হয়তো। যেমন, ৪২ পৃষ্ঠায় 'প্রমাণ' হয়ে গেছে 'প্রমাণন'! আমি রাতে শুয়ে শুয়ে পড়েছি, তাই নোট করা হয় নি। তবে, পরবর্তী মুদ্রণে প্রুফরিড আবার করালে আশা করি এগুলো শুধরে যাবে।
আর পেপারব্যাক মুদ্রণ, মুদ্রণ কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো। তাছাড়া, পেপারব্যাক বইয়ের একটা সুবিধা হলো শুয়ে শুয়ে আরামে পড়া যায়৷ পৃষ্ঠার কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভালো। বানান ঠিক করলে পড়ার অভিজ্ঞতা আরো উন্নত হতো।
যে কারণে বইটি পড়তে পারেন: আপনি যদি এক্সরসিজম নিয়ে বাংলায় বই পড়তে চান, কিংবা একইসাথে মার্কিন আদলে বাংলায় এক্সরসিজমের কোনো মৌলিক বই চেখে দেখতে চান, তাহলে 'দি এক্সরসিজম' বইটি পড়ে দেখতে পারেন৷ তাছাড়া, বই পড়ার সময় বেশ কিছু ছোটখাটো ইন্টারেস্টিং তথ্য পাবেন। প্লটটাও বেশ ইন্টারেস্টিং।
যবনিকা : বইয়ের প্লট, এক্সরসিজম টার্ম এবং লেখকের আগের একটা বই পড়ার অভিজ্ঞতা আমাকে এই বইটি পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে৷ লেখকের এখনও খুব বেশী বই বের হয়নি তবে লেখালেখির সাথে আছেন বেশ অনেকদিন ধরেই৷ লেখতে থাকলে লেখা আরো ভালো হবে বলেই আমার বিশ্বাস। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে বিষয়টা, সেটা হচ্ছে লেখক লেখার আগে প্রচুর পড়াশোনা করেন৷ এটা একজন লেখকের অনেক ভালো একটা গুণ। এই গুণ ও সাথে পরিশ্রম থাকলে লেখার কোয়ালিটি সবসময়ই বাড়তে বাধ্য৷ আশা করি, লেখক আগামীতে আরো দারুণ কিছু বই উপহার দিবেন। আমার বিশ্বাস, লেখকের সেই সামর্থ্য আছে।
ওয়েস্টার্ন ধাঁচে দেশীয় লেখকদের লেখা হরর বইয়ের প্রতি আমার একধরনের আগ্রহ কাজ করে। অন্যদেশীয় কালচার লেখায় ফুটিয়ে তোলা এতোও তো সহজ নয় তাই না? আগেও মৌলিক ওয়েস্টার্ন হরর পড়া হয়েছে। তাই নতুন বছরে নতুন বইয়ের খবর জানার পর মুখিয়ে ছিলাম কবে পড়বো, অভিজ্ঞতা কেমন হবে। অবশেষে পড়া শেষ করলাম