Sharadindu Bandyopadhyay (Bengali: শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়; 30 March 1899 – 22 September 1970) was a well-known literary figure of Bengal. He was also actively involved with Bengali cinema as well as Bollywood. His most famous creation is the fictional detective Byomkesh Bakshi. He wrote different forms of prose: novels, short stories, plays and screenplays. However, his forte was short stories and novels. He wrote historical fiction like Kaler Mandira, GourMollar (initially named as Mouri Nodir Teere), Tumi Sandhyar Megh, Tungabhadrar Teere (all novels), Chuya-Chandan, Maru O Sangha (later made into a Hindi film named Trishangni) and stories of the unnatural with the recurring character Baroda. Besides, he wrote many songs and poems.
Awards: 'Rabindra Puraskar' in 1967 for the novel 'Tungabhadrar Tirey'. 'Sarat Smriti Purashkar' in 1967 by Calcutta University.
এই উপন্যাসটি শরদিন্দুর বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যার ফলে যথেষ্ট বড় মনে হলো। এখানে ব্যোমকেশের সাথে পেলাম রাজা জানকীরাম সিংহের বংশধরদের চমৎকার ইতিহাস। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটি বর্ণনার সাথে সাথে প্রকৃতির নিবিড় বর্ণনা। কাহিনী, চরিত্র বিল্ড আপ, স্থানের বৈচিত্র্য সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।
অনেকদিন আগে পড়া শুরু করেছিলাম কিন্তু ২ পেজ পড়ে আর শেষ করা হয়নি।আজ একবসায় শেষ করে উঠলাম।কোন কথা হবে না,এক কথায় অসাধারণ ছিল।সাসপেন্স ছিল আর টানটান উত্তেজনা। সবচেয়ে ভালো লেগেছে স্বর্ণমুদ্রা সংরক্ষণের পদ্ধতি সত্যিই অসাধারণ। মণিলালের মত আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ আছে যারা ভোলাভালা সেজে থাকে কিন্তু এরা বিষাক্ত সাপ প্রকৃতির লোক। যারা বিষাক্ত ছোবল দেবার জন্য বসে থাকে। যারা ডিটেকটিভ পড়তে ভালোবাসেন তারা পড়েই ফেলেন,আশা করি উপভোগ করবেন।
চমৎকার উপভোগ্য। গোয়েন্দা ফ্লেভার থেকে উপন্যাসের ফ্লেভার বেশি ছিলো। ব্যোমকেশের বৈচিত্রই এখানে, মনে হয় ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়ছি, এর ফাকে এক টুকরো গোয়েন্দাগিরি হয়ে গেলো।
কাহিনীর বিস্তৃতি, কালের ব্যপ্তি, চরিত্রের সমারোহ, স্থানের বৈচিত্র্যে এই উপন্যাসটি ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের মধ্যে অনন্য।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা যারা পড়েছেন, এবং যারা না পড়েও খোঁজ রেখেছেন তারা জানেন তিনি শুধু 'ব্যোমকেশ সিরিজ'-এর রচয়িতা নন্, বরং আরও অনেক ঐতিহাসিক কাহিনীর রচয়িতা। এই উপন্যাসটি তাঁর সেই বহুমাত্রিক পরিচয়ের দুটির সমন্বয়। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে পরিপার্শ্বের খুঁটিনাটি বর্ণনার সাথে সাথে প্রকৃতির নিবিড় বর্ণনা। এটি অবশ্য তাঁর অন্য লেখাতেও লক্ষণীয়। এইসব কাহিনী যারা চিত্রায়ণ করেন তারা কাহিনীর পেছন পেছন দৌড়াতে দৌড়াতে প্রকৃতি আর পরিপার্শ্বের দিকে দৃষ্টি দিতে পারেন না। তাই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই না পড়ে শুধু 'সিনেমা' দেখলে তাঁকে কিছুই চেনা হবে না।
কয়েক বছর ধরে অডিও ও ভিডিও মিডিয়াগুলোতে ব্যোমকেশের হাতে গোনা কয়েকটা উপন্যাসের পাঠ, নাট্যায়ণ, চিত্রায়ণ, মঞ্চায়ণের যে হিড়িক পড়েছে তাতে এই উপন্যাসটি নেই। না থাকারই কথা। এই উপন্যাসটি চিত্রায়ণে ট্যাঁকের জোরের সাথে সাথে মগজের জোরও লাগবে। প্রথমটার যোগাড় বেনিয়াদের হাতে পায়ে ধরে করা গেলেও দ্বিতীয়টা তো আর এমনি এমনিতে হবে না তাই এটি আর 'সিনেমা' হয়নি।
এই উপন্যাসটি আরও বড় হতে পারতো। রাজা জানকীরাম সিংহের সূচনা ও উত্থান পর্ব, তার চতুর্থ ও পঞ্চম পুরুষ যথাক্রমে রাজারাম ও জয়রাম সিংহের জীবনের শেষ পর্যায় ও সিপাহী বিদ্রোহ, রামবিনোদ ও রামকিশোর সিংহের উত্থান পর্ব, বংশীধর সিংহের শিক্ষা পর্ব ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ড আরও বিস্তারিতভাবে আসতে পারতো। এতে গোটা উপন্যাসের আলোকে ব্যোমকেশের গুরুত্ব হয়তো হ্রাস পেতো, তবে তাতে ১৯৫২ সালে বাংলা সাহিত্য একটা পরিপূর্ণ ও বৃহদায়তনের রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস পেতো।
অফিস যেতে যেতে রেডিও মির্চি চ্যানেলে দুই দিনে শুনলাম। শুরুটা চমৎকার হলেও, শেষদিকে কেমন যেন একটু সাদামাটা মনে হল। অডিওবুকে আমার অনভ্যস্ততাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। অথবা ফেলুদা লেভেলের এক্সপেক্টেশন পূরণ না হওয়ার জন্যও হতে পারে। ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম হিসাবে এটা শুনলাম। আশা করি, পরের গুলো আরো ভাল লাগবে।
ভোরে শুনে শেষ করেছিলাম। বেশ ভালো লেগেছে। এটাই আমার সত্যান্বেষ ব্যোমকেশেরপ্রথম গল্প। অনেকদিন পড়ে ছিল, তাই ভাবলাম আজ শুনে শেষ করি। শেষের টুইস্টটা ভালো লেগেছে!
ব্যােমকেশ সিরিজের সেরা কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে 'দূর্গ রহস্য' অন্যতম। রহস্যে ভর্তি এই উপন্যাসের শেষটা কীরূপ হবে তা অন্যান্য গল্পের মতো আগে থেকে ধাচ করা যায় না, পাঠক এই টানটান উত্তেজনার গল্প আগ্রহভরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বইয়ের সাথে লেপ্টে থাকবে।যদিও লেখক এই গল্পে পাঠকদের আরও বেশি আকড়ে ধরার জন্যে গল্পটার ভুড়ি বাড়িয়েছেন।
বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁর বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিলেন রাজা জানকীরাম। সেই জানকীরামের দুর্গে বেড়াতে এসেছিলেন ইতিহাসের অধ্যাপক ঈশান মজুমদার। জানকীরামের উত্তরসূরি রামকিশোর সিংয়ের বিশেষ বন্ধু তিনি। দুর্গে বাস করার কিছুদিনের মধ্যেই সর্পাঘাতে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু সত্যিই কি সর্পাঘাতে মৃত্যু? অবশ্য অপঘাতে মৃত্যুর সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ওই দুর্গে এবং বিশেষ করে ওই পরিবারে। সেগুলি কি সবকটাই দুর্ভাগ্যজনক অপমৃত্যু নাকি সুপরিকল্পিত হত্যা? ঈশানবাবুর ডায়েরীতে পাওয়া ফারসি শব্দগুলো কিসের ইঙ্গিত?
শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লেখা অন্যতম সেরা ব্যোমকেশ কাহিনী 'দুর্গরহস্য'। ব্যোমকেশের গোয়েন্দা অভিযানগুলির পাশাপাশি ইতিহাস-নির্ভর কাহিনী রচনায় যে শরদিন্দু বিশেষ পারদর্শী ছিলেন তা বাঙালী পাঠকের কাছে অবিদিত নয়। 'দুর্গরহস্য'এ এই দুই ধারা কোথাও একটা মেলাতে পেরে অনবদ্য রহস্যের জাল বুনেছেন শরদিন্দু। গোয়েন্দা কাহিনীতে 'হু ডান ইট' অবশ্যই প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু তারপরেই পাঠক মুখিয়ে থাকেন 'হাউ' এর উপর অর্থাৎ মোডাস অপেরান্ডি। ব্যোমকেশের হাত ধরে শরদিন্দু আমাদের অদ্ভুত অদ্ভুত সমস্ত অপরাধের হাতিয়ারের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। 'পথের কাঁটা', 'সজারুর কাঁটা' এমনকী সেই অর্থে অপরাধ না থাকলেও 'মাকড়সার রস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স। 'দুর্গরহস্য' এর শেষেও হত্যার হাতিয়ার পাঠককে বিস্মিত করে।
বাংলা গোয়েন্দা চরিত্রের ভিড়ে ব্যোমকেশ যে বড় ব্যবধানে প্রথম স্থানে 'দুর্গরহস্য' সেটাই প্রমাণ করে।
কৈশোরে ও যৌবনের প্রাক্কালে গোয়েন্দা গল্প বুভুক্ষুর মত গিলতাম। এরপর রাশভারি সব উপন্যাস ও নন-ফিকশনের ভীড়ে ভুলেই যেতে বসেছিলাম নিরেট গোয়েন্দাগল্পের স্বাদটা কেমন। একসময় গোয়েন্দাগল্প পড়তে বসলে মনে হত, কোথায় যেন ফাঁক থেকে যাচ্ছে। গোয়েন্দাগল্পের সহজাত টানটান উত্তেজনা মনে ঠিক দাগ কাটছে না। ধরে নিয়েছিলাম গোয়েন্দাগল্পের উপর থেকে মন উঠে গেছে সম্ভবত। বয়সের দোষ এবং রাশভারি উপন্যাস ও নন-ফিকশনের চাপে পুরোদস্তুর গোয়েন্দা উপন্যাস এখন আর আমার পাঠক সত্তায় সাড়া জাগাতে পারে না।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ভুল ভাঙালেন, দুর্গরহস্যের মত উপন্যাস লিখে- যা কিনা গোগ্রাসে গিলে ফেলা যায়।
যতদূর মনে পড়ে, ব্যোমকেশের এই একটিমাত্র গল্প, যেখানে শরদিন্দুবাবুর চিরাচরিত ইতিহাসধর্মী লেখনীর ছায়া কিছুটা হলেও পড়ে। বাল্যকালের প্রিয় গল্প অনেকদিন পর পড়ে দিব্যি লাগলো। ভীষন সিনেমাটিক, এবং পরিত্যক্ত দুর্গের আনাচে কানাচে গথিক রসের উপস্থাপনা। ব্যোমকেশ বক্সী এখানে সত্যান্বেষী তো বটেই, সাথে একজন প্রতিক্ষমাণ পিতা। শেষ পাতে তার ঘটকালী, সোনায় সোহাগা।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ সিরিজের নতুন ছবি হিসেবে 'দুর্গরহস্য' আসবে বলে একটা খবর শুনেছিলাম। সেই দুস্বপ্ন সবার ওপরে স্বস্লেশে আছড়ে পড়বার আগে গল্পটা আরো একবার পড়ে ফেলুন। হলফ করে বলছি পস্তাবেন না। :'')
পূর্বের পড়া তিনটি গল্পের মধ্যে এটি ভালো ছিল। হয়তো একটু লেন্থি ছিল বলেই। উত্তরাধিকার ও প্রাচীন সম্পদের ছায়ায় দুর্গের ভেতরে লুকানো রহস্যের তন্তুগুলো গভীর অথচ মনোগ্রাহী আবহ সৃষ্টি করেছে।
সিপাহী বিদ্রোহের প্রাক্কালে অনেক জমিদারদের শেষ দেখা হয়ে গিয়েছিলাম কেউ কেউ টিকে ছিল হয়তো। কিন্তু সেখানেও ব্রিটিশদের আনাগোনা জমিদারদের যেন কাঠ পুতুল বানিয়ে দেয়। সময় এভাবেই কেটে যায়। ধীর লয়ে সূচনা হয় সিপাহী বিদ্রোহের। কোনো এক জমিদারের দুর্গে হামলা চলে। কিন্তু এত বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা সম্পদ এভাবে বেহাত হয়ে যাবে? মৃত্যুর ভয়ে পরিবারকে আগেই নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া। এরপর কাজ করে যাওয়া। কিন্তু সে সুযোগ কি পাওয়া যাবে? সিপাহীদের আক্রমণে প্রাণ যায় যায়! গোটা প্রাসাদ কিংবা দুর্গ তন্ন তন্ন করে খোঁজা! পাওয়া গিয়েছিল অঢেল ধনসম্পদ? না-কি কোনো এক গোপন কুঠুরিতে নিরাপদে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছে, কেউ এসে উদ্ধার করে তাকে! গুপ্তধন হিসেবে প্রকাশ্যে আসবে আবার। কীভাবে? সময় কি আসন্ন?
রামকিশোর ও রামবিনোদ দুই ভাই। রামবিনোদের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ না হলেও, রামকিশোর টিকে গিয়েছে অনেকদিন। ব্যাবসায় হাত পাকিয়ে পুরনো জমিদারি নিজের করে নিয়েছে। পুত্র কন্যাদের নিয়ে দিন কেমন কাটছে? ঠিক যেন ভালো মনে হয় না। পুরো পরিবার যেন কেমন হয়ে থাকে! বংশীধর বদমেজাজি, কলেজ জীবনে এক অঘটন ঘটিয়ে পড়াশোনা শিকেয় তুলেছে। মুরলীধর বিকলাঙ্গ, পড়াশোনার ধারেকাছে যায়নি। মেয়ে হরিপ্রিয়া হিংসাত্মক মনোভাব নিয়েই চলছে। ছোট মেয়ে তুলসী যেন বয়সের তুলনায় আরও নগন্য। সব মিলিয়ে এ এক অদ্ভুত পরিবার। যে পরিবারে হুট করেই ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা।
বংশীধরের স্ত্রীর মৃত্যু অস্বাভাবিক। খাদের মধ্যে পড়ে যাওয়া দুর্ঘটনা, না কেউ দায়ী কেউ জানে না। হরিপ্রিয়াও মারা গিয়েছে ঘুরতে গিয়ে। সাপের কামড়? হরিপ্রিয়ার স্বামী মণিলালকে নিজ সন্তানের মতো দেখেন শ্বশুর। ফলে মেয়ে মারা যাওয়ার পরও তাকে কাছ ছাড়া করতে নারাজ। কিন্তু স্ত্রীর ভাইয়েরা এই বিষয়ে খুব একটা খুশি হতে পারছে না।
এভাবেই পারিবারিক অশান্তিতে দিন পার হতে না হতেই আগমন ঈশানবাবুর। রামবিনোদের পুরনো বন্ধু ও বংশীধরের শিক্ষক থাকতে চায় তাদেরই দুর্গে। ইতিহাসের অধ্যাপক এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিল, যা তার জীবনের জন্য হুমকি। প্রাণটাও হারাতে হলো এভাবে। খুন না-কি দুর্ঘটনা? এখানেও সাপের এক রহস্য! কিন্তু দুর্গে সাপ আসবে কোথা থেকে? রহস্য সমাধানে তাই ডাক পরল ব্যোমকেশ বক্সীর।
ঈশানবাবুর মৃ ত্যুর রহস্য কোথায়? পুলিশ অফিসার তাই ডেকে পাঠালো পুরনো বন্ধু ব্যোমকেশকে। ব্যোমকেশর বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে দ্বিধা করেনি। অজিতকে নিয়ে ছুটে এসেছে এই বিরান অঞ্চলে। কত সহজে ব্যোমকেশ বক্সী এ রহস্যের সমাধান করতে পারবে? না-কি ঘোল খেয়ে যাবে শত্রুপক্ষের কাছে? গুপ্তধনের যে কথা আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে সত্যি কি খুঁজে পাওয়া যাবে, না-কি সবই মিথ, গালগপ্পো? এই রহস্যের বাইরে আস্তানা গাড়া সন্ন্যাসী যোগসূত্র কোথায়? সব রহস্যের সমাধান হবে কি?
ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের "দুর্গ রহস্য" অন্য যেকোনো উপন্যাসের চেয়ে সেরা। এখানে ইতিহাস আছে, গুজবের স্রোতে ভেসে যাওয়া আছে। সত্য, না মিথ্যে সে ভাবনা পরে। সবকিছু যে সত্য, তাও নয়! কিছু কল্পনার মিশেল দেওয়া হয়েছে ইতিহাসকে আশ্রয় করে।
গোয়েন্দা গল্প যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই যেন দুর্গ রহস্য। একটু একটু করে রহস্য দানা বাঁধে, সে সাথে উন্মোচন হয় নতুন ধাঁধা। বুদ্ধির খেলায় জিততে হলে শক্ত প্রতিপক্ষকে হারাতে হয়। শেষে বিজয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো লেগেছে। যদিও দুয়েকটা কাকতাল বিষয় ছিল। সেগুলো খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না।
সবচেয়ে ভালো লেগেছে প্রকৃতির বর্ণনা। আমিও যেন পাহাড়ে ঘেরা দুর্গের পরিবেশে হারিয়ে গিয়েছিলাম। রাতের আকাশে চাঁদের আনাগোনা, চারিপাশে গাছগাছালিতে যেন সবুজের আহ্বান। পুরো দৃশ্য যেন চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়ে উঠেছিল। যেতে না পারলেও এই চার দেয়ালে ঘেরা বদ্ধ পরিবেশে থেকেও সেখানে বিচরণ করছিলাম।
মানুষ নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, তার জ্বলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত এখানে দৃশ্যমান। লোভ মানুষকে ভয়াবহ করে তোলে। একটু একটু করে লোভের দিকে এগিয়ে যাওয়া মানুষটি যখন সব হাতের মুঠোয় পেয়েও কিছু ধরতে পরে নাজ হয়তো ভয়ংকর হিয়ে ওঠে! লাভ পাপ, আর পাপ মৃত্যু। শেষের টুইস্টও ছিল দারুণ। সব মিলিয়ে একদম পারফেক্ট এক রহস্য ও এর সমাধান।
গল্পটি অসাধারণভাবে দৃশ্যমান, যেন চোখের সামনে সিনেমার মত ভেসে ওঠে। পরিত্যক্ত দুর্গের রহস্যময় করিডোর, গথিক ঘরানা ও ছায়াচ্ছন্ন পরিবেশ গল্পকে ভিন্ন এক আবহ এনে দেয়। ব্যোমকেশ এখানে শুধু সত্যসন্ধানী নয় তিনি এক উদ্বিগ্ন পিতাও, যা চরিত্রটির নতুন এক দিক তুলে ধরে।
আর শেষে তাঁর ঘটকালির বিষয়টি যেন গল্পে এক মজার মোচড় এনে দেয় রহস্য আর মানবিক সংবেদনার এক চমৎকার মেলবন্ধন। 'দুর্গরহস্য' নিঃসন্দেহে একটি টানটান উত্তেজনাময় উপন্যাস, যেখানে রহস্য, প্রেম এবং সংকল্প এক সুস্বাদু অনুপাতে মিশে আছে। অপ্রত্যাশিত বাঁকগুলো গল্পটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।
বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁর বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিলেন রাজা জানকীরাম। সেই জানকীরামের দুর্গে বেড়াতে এসেছিলেন ইতিহাসের অধ্যাপক ঈশান মজুমদার। জানকীরামের উত্তরসূরি রামকিশোর সিংয়ের বিশেষ বন্ধু তিনি। দুর্গে বাস করার কিছুদিনের মধ্যেই সর্পাঘাতে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু সত্যিই কি সর্পাঘাতে মৃত্যু? অবশ্য অপঘাতে মৃত্যুর সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ওই দুর্গে এবং বিশেষ করে ওই পরিবারে। সেগুলি কি সবকটাই দুর্ভাগ্যজনক অপমৃত্যু নাকি সুপরিকল্পিত হত্যা? ঈশানবাবুর ডায়েরীতে পাওয়া ফারসি শব্দগুলো কিসের ইঙ্গিত?
রামকিশোরের পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে রহস্যজনকভাবে। পরবর্তীতে রামকিশোরের মেয়ে হরিপ্রিয়ারও মৃত্যু হলো সাপের কামড়ে। পাহাড়ের চুড়ায় রামকিশোরের পরিবারিক দুর্গ। এই দুর্গে সাপের কামড়ে মৃত্যু হলো রামকিশোরের বন্ধু অধ্যাপক ঈশানচন্দ্রের। ব্যোমকেশ এই এলাকায় এসেছিলো হাওয়া-বদল করতে। কিন্তু হাওয়া-বদল করতে এলে সত্যান্বেষণ বন্ধ রাখতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই!
আরেকটি দুর্দান্ত ব্যোমকেশ কাহিনি। একই সাথে দেব আর সৃজিত এর "দুর্গরহস্য" নিয়ে মারামারি দেখে ভাবলাম নিজেই পড়ে দেখি আছে কি এতে। এখন মুশকিল হলো পড়ার সময় নেই। এমন সময় দেবদূত হয়ে হাজির রেডিও মির্চি। ফলাফল আড়াই ঘন্টার অডিওবুক দুদিনে শেষ।
একে তো শরদিন্দু বাবুর চমৎকার লেখা সেই সাথে মীর, দ্বীপ প্রমুখের দুর্দান্ত পরিবেশন। ভীষণ ভালো লেগেছে।
কোন সাপের বিষে মানুষ এতো তাড়াতাড়ি মারা যায়? যেহেতু,উপমহাদেশের গল্প সেহেতু ধরতে হবে সে বিষ-টি হয়তো Neurotoxin নয়তোবা Hemotoxin। তবে,এ দুই-এরই একজন মানুষকে মিনিটের মধ্যে আত্মারাম খাচাছাড়া করার ক্ষমতা নেই।এতে কমপক্ষেও ১২ ঘন্টার দরকার। অবশ্য, যদি লেখক বা খলনায়ক সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে Tetrodotoxin আনিয়ে থাকেন,তখন কথাটা আলাদা!
শরবিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লেখার স্পেশালিটি এটা৷ মুল টুইস্ট টা আগেই জানা থাকলেও(আমি মিরচি তে শুনে ফেলেছিলাম) পড়ে মজা পাওয়া যায়৷ কারন একটা টুইস্টের ওপর গল্প নির্ভর থাকে না৷ এখানেও যথারীতি তিনটা বেশ ইউনিক টুইস্ট ছিল৷ সাঁওতাল পরগনার শহরের সাথে ইতিহাস,সাসপেন্স সবমিলিয়ে দুর্দান্ত৷