নকশালবাড়ি আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি হয়েছে এক উপধারা। সেই ধারার স্বাদ গ্রহণ করতে সুযোগ করে দিয়েছে পৃথিবীশ্রেষ্ঠ এক বিপ্লবীর দেশ, আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসাবে এই সাহিত্যধারা নিয়ে খ্যাতনামা উপন্যাস সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি ও বনবিহারী' উপহার দিয়েছেন একজন সমর্থক।
এই উপন্যাসে বিন্যাস, গঠন, চরিত্রের ব্যবহার প্রথাগত লেখনী থেকে বেশ আলাদা। প্রাণ ও বনবিহারী দুজন একই চরিত্র এবং দুজন বিপরীত চরিত্র। একজন সংশোধনবাদী কমিউনিজমে সাম্যবাদী মুখোশ পড়ে হয় বুর্জোয়া আরেকদন সশস্ত্র বিপ্লবের পথে হয় নিঃসঙ্গ, পরাজিত কিন্তু সন্তুষ্ট।
চারুচন্দ্র মজুমদার ছিলেন নকশাল বাড়ি আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ। কিন্তু সে কৃতত্ব উনি কখনো গ্রহণ করেননি। শ্রীকাকুলামের গড়ে তুলেছিলেন কৃষক শ্রমিক সমন্বিত ৩৫০ গ্রাম জুড়ে ভারতবর্ষের প্রথম সাম্যবাদী লাল মুক্তাঞ্চল। কালের যাত্রায় সে বিপ্লব আজ ন্যায় প্রতিন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায় প্রশ্নবিদ্ধ কিন্তু বুর্জোয়ার চামড়ায় সাম্যবাদের ভাঁড়ামোয় কলঙ্কিত নয়।
সেই বিপ্লবের পথে প্রাণ যোগ দেয় রবীন্দ্রনাথের ভাষায় হয়তো সেই মৃত্যুহীন প্রাণ নিয়েই। আর বনবিহারী সংশোধনবাদকে সিঁড়ি বানিয়ে অথচ সাম্যবাদকে পিষে মাড়িয়ে যাত্রা করে অর্থ ও ক্ষমতার এক চূড়া থেকে অন্য চূড়ায়। প্রতিভা প্রাণ ও বনবিহারীর মাঝে প্রাণকে ত্যাগ করে। সশস্ত্র বিপ্লব আর সংশোধনের মাঝে প্রতিভা নিশ্চয়তাকে গ্রহণ করে। কিন্তু যে নিশ্চয়তা বিষাক্ত সাপের গর্ভের নিষিক্ত হয়শ ছোবল সে একবারে না প্রতিনিয়ত মারে। মানুষের সে উপলব্ধি হতে বড্ড দেরি হয়ে যায়।
উপন্যাসটি বেশ ছোট। কিন্তু এর গভীরতা, এর সততা পৃষ্ঠাসংখ্যা থেকে অনেক দীর্ঘ। প্রতিটা চরিত্র নিয়ে আলাদা করে লেখা যায়। বিশ্লেষণ করা যায়। উপচরিত্রগুলোও নিজের অল্পস্থানে প্রচণ্ড সক্রিয়তা দেখিয়ে চলে যায়। নকশাল বাড়ি আন্দোলন সাহিত্য নিয়ে নাড়া দিয়ে গেল লেখাটা। ধন্যবাদ বিশেষ আর্জেন্টাইন সেই ভক্তকে যিনি আমাকে এই উপন্যাসটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর সাথে ছিল ভীষণ সুন্দর এই বুকমার্ক।