Collection of Occult Stories and Novels by Avik Sarkar
"ভুল করছেন ঠাকুরমশাই। ঘর মানে তো শুধু একটা কাঁচামাটির আস্তানা নয়, ঘর মানে ভালোবাসা। মানুষ তো শুধু চারটে দেওয়াল আর একটা ছাদ ভালোবাসে না, নিজের একটুকরো সংসার, নিজের শখের বাগান, বারান্দার কোণের রোদ, পোষা কুকুর বিড়াল, নিজের মত করে একটুখানি বাঁচা, এই সবটুকু ভালোবাসে। আর সেই ভালোবাসা যদি কোনও কারণে উৎখাত হয়ে যায়, তাহলে তার ওই কান্নাজড়ানো মায়াটুকু লেগে থেকে যায় তার সঙ্গে। সে জিনিস বড় ভয়ঙ্কর জিনিস। অন্ধকারের প্রতিষেধক আলো, ঘৃণার প্রতিষেধক ভালোবাসা। কিন্তু আলোর প্রতিষেধক কি ঠাকুরমশাই? ভালোবাসার অভিশাপ আটকায় কীসে?"
সূচি – তেলিয়াভোলা প্রেতযক্ষ কাউরীবুড়ির মন্দির হাড়িকাঠ
অভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন, উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা প্রাচীন শহর হাওড়ার অলিগলিতে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, মা স্কুল শিক্ষিকা। রয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাসা বেঁধেছেন হায়দ্রাবাদ, পাটনা, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরে। শখের বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। লেখালেখির শুরু আন্তর্জালে ও বিভিন্ন ব্লগে। প্রকাশিত বইগুলো হল মার্কেট ভিজিট, তিতিরপাখি ও প্রিন্সেস (সহলেখক অনুষ্টুপ শেঠ), এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ, চক্রসম্বরের পুঁথি, ইত্যাদি। বিবাহিত। কন্যা সন্তানের পিতা। ভালোবাসেন ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল, ইয়ারবন্ধু এবং ইতিহাস।
ভবতারণ চাটুজ্জের চার চারটি উপাখ্যান দিয়ে সাজানো 'প্রেতযক্ষ ও অন্যান্য'। গল্পবলিয়ে চরিত্র বাংলা সাহিত্যে কিন্তু কম নেই। বিভূতিভূষণের তারানাথ আর সত্যজিৎের তারিণী খুড়ো তন্মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয়। 'ভবতারণ' ও ধীরে ধীরে সেই প্রিয়র কাতারেই পড়ে গেছে। কিশোর ভারতী, নবপত্রিকা সহ বেশ কটি শারদীয়াতে এখন ভবতারণকে প্রায়ই দেখা যায়।
বইটির প্রথম গল্প - তেলিয়াভোলা শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৪৩০ এ প্রকাশিত হয়েছিল। ঠিক তার আগের বছর প্রকাশিত 'ডাইনিবুড়ি' পড়েই স্থীর বিশ্বাস ছিল ১৪৩০ এও আসবে ভবতারণ। এবং বলা বাহুল্য কিশোর পাঠক উপযোগী এই 'তেলিয়াভোলা' গল্পটি আমাকে বিষ্মিত করেছিল।
দ্বিতীয় গল্প - প্রেতযক্ষ সবচেয়ে প্রিয় এবং আমার মতে এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ লেখা এইটা। শারদীয়া নবপত্রিকা ১৪৩০ এ প্রকাশিত। পড়তে গিয়ে অদ্ভুত এক দুঃখবোধ আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিল।
তৃতীয় লেখা - কাউরীবুড়ির মন্দির পুরোনো লেখা। উপন্যাস হিসেবে পড়েছিলাম। ভবতারণকে সম্ভবত এখান থেকেই পেয়েছি আমি। ভয়াল রসের আরেকটি মাস্টারপিস এইটা।
চতুর্থ ও শেষ লেখা - হাড়িকাঠ তন্ত্র আর সাথে গোয়েন্দা গোয়েন্দা একটা পরিবেশ গল্পটাতে অন্যরকম এক স্বাদ এনে দিয়েছে। এই গল্পটিও বেশ পুরাতন। এই সময় শারদীয়া ১৪২৮ এই গল্পটি 'ওই মাঠটাই কেউ যেও না' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে বাকি তিনটির চেয়ে এটা খানিকটা দুর্বল লেখা।
তো পাঠক, বইটির সবগুলো লেখায় আমার পূর্বে পড়া ছিল। দ্বিতীয়বার পড়তে গিয়ে ভবতারণকে আরেকটু ভালোবেসে ফেলেছি এই আরকি। আপনারা পড়ে দেখতে পারেন। ভালো লাগবে অবশ্যই।
বাংলায় 'তান্ত্রিক হরর' নামক ধারাটির পুনরুত্থানের জন্য সবচেয়ে বেশি করে নন্দিত (এবং এই ধারায় কিম্ভূতকিমাকার লেখালেখি পড়ে ক্ষিপ্ত পাঠকদের দ্বারা নিন্দিত) মানুষটি হলেন অভীক সরকার। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ-কে নিয়ে একটি কাহিনি লেখার সময়ই তিনি ভবতারণ চাটুজ্জে নামক এক গল্প-বলিয়ে রসিক মানুষকে আমাদের সামনে পেশ করেছিলেন। সেই চরিত্রটির মুখে বলা মোট চারটি কাহিনি আছে এই বইয়ে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, লেখাগুলো ভবতারণের নিজের বলা ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়নি। সাজালে তাদের পর্যায় হয় এইরকম~ ১) তেলিয়াভোলা: শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য রচিত এই কাহিনিটির চলন প্রত্যাশিত হলেও এতে প্রকৃতির যে ভয়ংকর সুন্দর রূপের বর্ণনা আছে, তার জন্যই এটিকে মনে রেখে দিতে হয়। আর গল্পের শেষটা! লেখার গুণে মনে হয়, যেন আমি নিজেই অনুভব করছি মায়ের সেই বিশাল, ইন্দ্রিয়াতীত রূপকে— যা দুষ্টের দমন করে, আবার শিষ্টের পালনও করে। ২) প্রেতযক্ষ: এটি এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ লেখা। শুধু তাই নয়; আমার মতে, অলৌকিক বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিককালে বাংলায় যত লেখালেখি হয়েছে, তাদের মধ্যে এটিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বলা চলে। লেখাটি এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে শুধু একটি উপাদানের জন্য— মায়া! এই গল্প পড়তে গিয়ে নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে উঠেছে বারবার। সত্যি-সত্যিই মনে হয়েছে, এনট্রপির অমোঘ নিয়মে সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে বিশৃঙ্খলার গভীরে হারিয়ে যাওয়ার আগে আমাদের এই ক্ষণকালের জীবন, সময়ের সমুদ্রে বিন্দুবৎ এই সুখ-দুঃখ দিয়ে সাজানো অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে ভালোবাসা নামক ওই অদ্ভুত জাদুটির জন্যই। ৩) কাউরীবুড়ির মন্দির: ভয়ালরসের কাহিনিও যে কতখানি জটিল, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং রিপুতাড়িত হতে পারে, তা এই উপন্যাসটি পড়লে বোঝা যায়। পটভূমি-নির্মাণ, চরিত্রচিত্রণ, সর্বোপরি মানবমনের অন্ধকারতম বিন্দুদের জুড়ে ভয়ের এক অভাবনীয় মূর্তি গড়া— এ-সবের জন্য এর আগেই এই কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য রচিত উপন্যাসটি স্বতন্ত্রভাবে পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। এখন, 'ভবতারণ' প্যাকেজের অঙ্গ হিসেবে সেটিকে পড়ে আবারও শিহরিত হলাম। ৪) হাড়িকাঠ: অলৌকিক কাহিনির মোড়কে মনস্তাত্ত্বিক রহস্য-কাহিনি হিসেবে নির্মিত এই লেখাটি বইয়ের দুর্বলতম আখ্যান। তবে হ্যাঁ, লেখার গুণে তার মধ্যেও বেশ কিছু অংশ মনে থেকে যায় স্থায়ীভাবে। বইটির মুদ্রণ শুদ্ধ, লে-আউটও আরামদায়ক। তবে গল্পগুলোর সঙ্গে অলংকরণ থাকলে আরও ভালো হত। গদ্যশিল্পী অভীক সরকার এভাবেই ভয়ালরসে জারিত লেখার মধ্য দিয়ে মাতৃবন্দনা করে চলুন। আমরাও তাঁর লেখা পড়ে অনুভব করে চলি, ভালোবাসাই হল সবচেয়ে বড়ো জাদু, সবচেয়ে শক্তিশালী তন্ত্র। অলমিতি।
It's an occult thriller collection, consisting of 3 long stories and a novel, has been written by Indian author Avik Sarkar in the Bengali language.
All the stories in this collection revolve around the Hindu tantra. It would be remiss of me if I don't mention that contrary to what popular horror shows portray, tantra is NOT black magic. Tantra involves arcane rituals but it much more than. It is an ancient spiritual practice found in both Hinduism and Buddhism.
My favorite story in this book is the novel which has also been published in English as Shrine of the Raven. This story is strictly for adults. The other stories are also good and quite fast paced. The book is easy to read and you won't realize how time will fly by. I am not revealing more as it try my best to avoid spoilers in my review.
People who enjoy occult thrillers written in the Bengali language have probably already read it. I would recommend it to people who enjoy reading such books. If themes such as arcane rituals and sacrifice do not interest you or disturb you, then this book is definitely not for you.
এটি লেখকের আগমবাগীশ সিরিজের দ্বিতীয় বই। সবকটি গল্পই পূর্ব প্রকাশিত, তার মধ্যে কাউরিবুড়ির মন্দির আলাদা বই হিসেবে আগে প্রকাশিত হলেও বর্তমানে একই সাথে রয়েছে। কাউরিবুড়ির মন্দির গল্পটি বাদ দিলে বাকি গল্পগুলি ঠিকঠাক লেগেছে, খুব ভালো বা খারাপ না। হাড়িকাঠ গল্পটির সবার মধ্যে একটু অন্যরকম। সময়কাল হিসেবে দেখলে প্রেতযক্ষ প্রথম গল্প যেখানে ভবতারণবাবুর সাথে আগমবাগীশের আলাপ হয়। হাড়িকাঠ গল্পটি ঠিক কাউরিবুড়ির মন্দির গল্পের পরবর্তী ঘটনা। সবমিলিয়ে বইটি মোটামুটি ঠিকঠাক লেগেছে।
কাউরিবুড়ির মন্দির আগেই পড়া ছিলো, তা বাদে বাকি তিনটি পড়লাম। তেলিয়াভোলা কিশোরের জন্য, আর প্রেতযক্ষ এবং হাঁড়িকাঠ বড়দের জন্য লেখা। প্রথমটি মন্দ নয়, দ্বিতীয়টি ভালো করে জমতে না জমতেই শেষ হয়ে গেলো, আর হাঁড়িকাঠ গল্পের পরিণতি মনে হলো জোর করে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে - পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হতে পারতো এটা।
মোটের ওপর মন্দ নয়, তবে এই ঘরানায় 'এবং ইনকুইজিশন' এখনও অবধি লেখকের সেরা সৃষ্টি।
Kauribarir Mandir was top notch,This story also keeps the readers on the edge of their seats, by peeling off the layers of mystery one by one.বইটি যখন একবার পড়া শুরু কবেন মনে হবে হারিয়ে গেছেন এক আলাদা জগতে ভয়ের একটা ছাপ দেখা দিবে এর পর কি হবে এর পর কি হবে. Author's knowledge on folk-lore, mythology and ancient way of life, along with his imagination creates a perfect ensemble of a supernatural thriller. Haarikath was very good Rest were good A great book