পাঠক, ভ্রাম্যমাণ জাদুকর অ্যানিমার সাথে আরেকবার সাক্ষাৎ হয়ে যাক? গতবারের চেয়েও রহস্যময় এক কেসে জড়িয়েছে অ্যানিমা—না, বরং বলা উচিৎ তাকে জড়ানো হয়েছে। এই কেসের সাথে সম্পর্কিত অ্যানিমার অতীতের একজন মানুষ, যে হয়তো এখন মানুষের চেয়েও বেশি কিছু। আড়ালে থেকে তাকে সাহায্য করছে কোন অতিপ্রাকৃত শক্তি? এক প্রাচীন, মহামূল্যবান, এবং ঐন্দ্রজালিক সম্পদ তারা ছিনিয়ে নিতে চায়। এ সম্পদের ভয়ংকর ক্ষমতাকে কোন অশুভ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে? শত্রুর প্রবল আক্রমণ থেকে কি অ্যানিমা অন্য জাদুকরদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে? অ্যানিমার বন্ধু, পেশা এবং জীবন—সবকিছু এবার তীব্র ঝুঁকির মুখে। কীভাবে এই অসম্ভব পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফেরা সম্ভব? জাদুর জগতের আরও অনেক গভীরে প্রবেশ করছে অ্যানিমা। কী হবে এর পরিণতি?
অবশেষে অনেক অনেক দিন পর এলো অক্টারিনের দ্বিতীয় পার্ট। বইটাকে সরাসরি অক্টারিন প্রথম খন্ডের সিক্যুয়েল বলা যাবে না। আবার বলাও যেতে পারে। সামনের খন্ডে হয়তো বুঝা যাবে। অন্তত এই খন্ডে গল্পে যে টাইমলাইনে এগিয়েছে তাতে কোন সম্পর্ক নেই। টুকিটাকি ছাড়া। তো সব মিলিয়ে কেমন লাগল? আশা কি পূরণ হয়েছে আমার? আমার কথা যদি বলতে হয় তবে হয়েছে। কিন্তু যারা অক্টারিন প্রথন পর্ব পড়েছেন তারা দুইটা জিনিস মাথায় রাইখেন।
১. আপনার যদি তানজিম ভাইয়ের 'অবয়ব' এর পর থেকে লেখার স্টাইল ভালো না লাগে তবে একটু আস্তে আস্তে পড়তে হবে। প্রথমে যদি বুঝতে অসুবিধাও হয় খিচ খেয়ে থাকেন। কাহিনীতে ঢুকে গেলে সমস্যা হবে না। কাহিনী যথেষ্ট ফাস্ট ফরোয়ার্ড।
২. অক্টারিন এবং অক্টারিন-জগৎ সবুজের লেখার স্টাইলের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য। তাই পয়েন্ট ১ গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার ভালো লাগা না লাগা পয়েন্ট একের উপর কিঞ্চিৎ নির্ভর করবে। তাই হুট করে কয়েকটি পাতা পড়ে বইটা রেখে দিবেন না। এক্ষেত্রে পয়েন্ট ১ কাজে লাগান। জাদুর ব্যাবহার, জাদুযুদ্ধ দ্রুতই হুট করে নিবে আপনাকে।
বইয়ের কাহিনী খুব সিম্পল। কিন্তু চট করে হুক করে না। তার জন্য পাঠককে কিছুটা সময় নিতে হবে। এরপর আর থামাথামি নাই। আপনাকে একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে এই যা। আমার কাছে বেশ মজা লেগেছে। একশন,জাদুযুদ্ধ বেশ লাগল। বইয়ের ক্যারেক্টারগুলো সবাই সমান গুরুত্ব পায়নি। শাবাবের ব্যাকগ্রাউন্ড দরকার ছিল একটু ডিটেলসে। শোভনেরও। রুমির ক্যারেক্টার বেশ ইন্টারেসটিং লেগেছে। অ্যানিমা থেকে কিছু ক্ষেত্রেও। সামনে ওকে বড় রোলে দেখতে পারলে ভালো লাগবে। ও ম্যাজিকের ব্যবহার বেশ ইন্টারেসটিং। মোটাদাগে কাহিনী এখনো বুঝা যাচ্ছে না। পরের খন্ডে আরও ক্লিয়ার হবে আশা করা যায়। বইয়ের সবচেয়ে মজার দিক হচ্ছে কে সাদা আর কে কালো ক্যারেক্টার সেটা এখনো শিউর না৷ ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে গ্রে শেড আছে। মনে হচ্ছে অক্টারিন আরেকবার পড়তে হবে যদি এই খন্ডের কোন ক্লু পাই। ফিলোসফি এবং ক্যারেক্টারগুলো মনের একাকীত্ব নিয়ে বেশ সময় দিয়েছেন লেখক। অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগেনি। আসলে ফিলোসফি জিনিসটা ডিপেন্ড করে। আপনি হয়তো জীবনের একটা ফেজে আছেন, কিছু নিয়ে দোলাচালে আছেন। ফিলোসফি জিনিসটা ক্যাচ করে নিবে আপনার ব্রেইন। কিন্তু নাও নিতে পারে। এক জনের দর্শন আরেকজনের ভালো নাও লাগতে পারে। আমার কাছে যেমন ভালো লেগেছে। অ্যানিমাকে আমার কিছুটা ড্রেসডেন ক্যাটাগরির মনে হয়েছে। হ্যারি ড্রেসডেন যেমন দেখা যায় নিজেকে ছাপোষা জাদুকর মনে করে, আর তাবদ ভিলেনের কাছে মাইর খায়া বিনাশ হয় আর শেষ গিয়ে ছক্কা পিটায়। অ্যানিমা কি শেষ পর্যন্ত হ্যারি ড্রেসডেন হয়ে উঠতে পারবে? বইয়ের শেষে সেটা জানা যাবে। আপাতত পরের খন্ডের অপেক্ষায়। কাহিনী যেখানে শেষ হয়েছে নেক্সট পার্ট আসলেই বেশ ইন্টারেসটিং হবে।
শেষ করলাম অক্টারিন সিরিজের দ্বিতীয় বই অক্টারিন জগৎ: সবুজ। প্রথম বইটা যেখানে পজেশনাল মিস্ট্রি ছিল সেখান থেকে এই বইটার প্যাটার্ন একটু আলাদা। বইয়ে আবারও ফিরে এসেছে অ্যানিমা সাথে আরও কয়েকজন। রয়েছে আর্কনের একজন চরিত্রও। মূলত ঐ চরিত্রের অনুরোধেই দলবল নিয়ে একটা মিশনে যায় অ্যানিমা, সেটা নিয়েই জগৎ:সবুজ। এবারের বইটা পুরোপুরি আরবান ফ্যান্টাসি। জাদু, স্পেল, গোলকধাঁধা ও অ্যাকশনে পরিপূর্ণ। সেইসাথে বিভিন্ন দেশের মিথলজি ও জাদুর রেফারেন্স তো আছেই। এদেশের শাকচুন্নি ও ঘুঘু নিয়েও একটা অংশ রয়েছে যেটা পড়ে মজা পেয়েছি। কয়েকটা বিষয় রাতে পড়তে গিয়ে ভয় লেগেছে। বইটা দেখি অনেকেরই ভালো লাগছে না। যার একটা কারণ প্রথম বইটা পড়ার পর অনেকেই ভেবেছে এটাও ঐ ধরনেরই হবে, কিন্তু এই বইয়ে এসে বদলে গেছে কাহিনী ও লেখার প্যাটার্ন। এটাই হয়তো অনেকে মানতে পারছে না। আর এটা তাড়াহুড়ো করে পড়ার মত বই না। ধীরেসুস্থে পড়ার মত বই। লেখকের বিষয়ে একটা কথা না বললেই নয়। বর্তমান লেখকদের মধ্যে আমার সবথেকে পছন্দ তানজীম রহমানের দর্শন। এই বইয়েও সেটা ফুটে উঠেছে।
তানজীম ভাইয়ের লেখার স্টাইলে বদল এসেছে অনেকখানি। রহস্যের পরিমাণ বেড়েছে, আগের বইগুলোতে ঘটনা কোনদিকে যাচ্ছে সেটার একটা টাচ পাওয়া যেত মহাশূন্যতা বইটি থেকে দেখতেছি পাঠক পড়তে থাকে, বইয়ের পাতা এগোয় কিন্তু রহস্য যেখানে সেখানেই থাকে কূলকিনারা পাওয়া যায় না। সাথে থাকে অনেকখানি ফিলসফিকাল আলাপ। এবারের বইতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আগের অক্টারিন বইয়ের সাথে এই বইয়ের তুলনা করলে ধরা খাইতে হবে। তুলনা না করে পড়লে এটাও দারুন। তবে এই বই শেষ করে পাঠক মন তৃপ্ত হয় না কারন অক্টারিন জগতে কাহিনী অনেক বেশি ছড়ানো হয়েছে, পাঠককে বেশ একটা ধুয়াশায় রেখেই বই শেষ হয়েছে। এই বইতে খালি রহস্য রহস্য পরের বইতে এসবের উত্তর মিলবে আশা করি। পরের বইয়ের অপেক্ষায়....
অক্টারিন পড়ার সময় মনে হয়েছিল, এর গদ্যভাষা মধুর মতো— ভারী, মসৃণ, অথচ সহজ। চরিত্রগুলোকে ভারি ভালো লেগেছিল; এমনকি খল চরিত্রদেরও। ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং দেখে মোহিত হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমাদের নজরের আড়ালে চলতে থাকা এক বিশ্বযুদ্ধের ওপর থেকে যেন ক্ষণিকের জন্য পর্দা সরিয়ে নিয়েছেন লেখক। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলাম তাঁকে। জনে-জনে বলেছিলাম, কী দুর্দান্ত এক মহাকাব্য-সম গাথার অবতারণা করেছেন তিনি। আর অপেক্ষা করেছিলাম এই আখ্যানের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য। ভুল করেছিলাম। আমার বোঝা উচিত ছিল যে লেখক ইতোমধ্যে নিজের লেখা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে-করতে বড্ড বেশি দূরে, একেবারে আমার নাগালের বাইরে চলে গেছেন। আমার অনুমান করা উচিত ছিল, হয়তো সচেতনভাবেই এবার লেখক এমন একগুচ্ছ চরিত্রের মধ্যে আমাদের ফেলে দেবেন যাদের প্রত্যেকের, এমনকি প্রোটাগনিস্টেরও আচরণ দেখে অসহ্য মনে হবে৷ আমার আশঙ্কা করা উচিত ছিল যে এই কাহিনির কেন্দ্রে আসলে থাকবে একটাই সংকট, বা সংশয়~ বইটাকে এককোণে ছুড়ব, নাকি এমনিই ডাস্টবিনে ফেলে দেব?
অক্টারিন প্রথম বইটা যেরকম তৃপ্তি দিয়েছিলো অক্টারিন ২ তা দিতে পারেনি। তা সত্ত্বেও অক্টারিন ২ আমার মোটামুটি ভালো লেগেছে কারণ এটা একটা ইউনিভার্সের সূচনাদ্বার। সূচনা হিসেবে বইটা খারাপ না। এছাড়া আর্কনকে জড়িয়ে লেখক যে ইউনিভার্স তৈরী করতে যাচ্ছেন সেটা আমার ধারণা খুবই ভালো একটা জিনিস হবে তবে তার জন্য অন্তত ৩য় বইটার অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি সিরিজটা কন্টিনিউ করতে চান মানে এর পরের বইগুলোও পড়তে চান তাহলে এই বইটা পড়তে পারেন। তবে আশাহত হতে না চাইলে অবশ্যই '১ম বইটার মত ভালো লাগবে' টাইপ এক্সপেক্টেশন না রেখে বসতে হবে।
অজস্র ক্যারেক্টার আর বিবর্ধিত অতিরঞ্জিত বর্ণনায় বইটা বিরক্তির উদ্রেক ছাড়া কিছু করতে পারেনি।
বুঝলাম এর পর আরও দুটো বই বের হয়ে মূল গল্প শেষ হবে। তাই বলে একটা বইয়ে কোন ঠিকঠাক কাহিনীই থাকবে না?
বিরূপকথা পড়ার পর লেখকের এর পরের সব বইয়ে সেই লেখনোর প্রভাব দেখেছি৷ এটাও ব্যাতিক্রম নয়। আর্কন, অক্টারিনের দ্বিতীয় কিস্তি হলেও এই বইয়ের লেখনী সেগুলোর থেকে ভিন্ন।
মোদ্দাকথা অগোছালো লেখায় পুরো বইয়ের কোথাও এক চিলতে সময়ের জন্য আগ্রহ জাগায়নি মনে। জোর করে শেষ করা লেগেছে বইটা।
তবে এর পরের পার্ট বের হলে পড়বো। একটা খারাপ লেখা দিয়ে প্রভাবিত হতে চাচ্ছি না।
ফ্যান্টাসি জনরায় স্যান্ডারসনের অবদান তাঁর উপন্যাসগুলোর থেকেও বেশি তাঁর ম্যাজিক সিস্টেমের উপর দেওয়া লেকচারগুলো। ইউটিউবে আছে। যারা ফ্যান্টাসি লিখতে পছন্দ করেন, সে তথাকথিত ঘরানারই হোক কি একটু অন্যধরনের হোক, তাঁরা একবার ভিডিওগুলো দেখে নিতে পারেন। স্যান্ডারসনের কথাগুলোর সাথে অমত হতেই পারেন, কিন্তু কিছুটা যে লাভ হবে, তা হলফ করে বলতে পারি।
এটার কথা লিখছি, তার কারণ স্যান্ডারসনের মতে, ফ্যান্টাসি উপন্যাসে ম্যাজিকের ব্যবহার থাকলে সেটা সাধারণত দুই ধরণের সিস্টেমের মধ্যে পরে। হার্ড ম্যাজিক সিস্টেম আর সফট ম্যাজিক সিস্টেম। হার্ড সিস্টেমে জাদুর নিজস্ব নিয়মাবলি থাকে, সেই নিয়মাবলি আমাদের জগতের বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলির মত। হার্ড ম্যাজিক সিস্টেমের গল্পে এই নিয়মাবলির অন্যথা হয়ে থাকে না। উদাহরণ হিসাবে স্যান্ডারসনের Cosmere সিরিজ, অথবা Avatar The Last Airbender, অথবা Fullmetal Alchemist। অন্যদিকে সফট ম্যাজিক সিস্টেম অনেক বেশি নমনীয়। এই সিস্টেমে নিয়মাবলীর সামান্য আভাস থাকে, কিন্তু সেই নিয়মাবলীকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। উদাহরণ হিসাবে Earthsea, Lord of the Rings, অথবা ASoIaF। এই দুটো ম্যাজিক সিস্টেমের মাঝামাঝি অংশে পরে Harry Potter এর মত ম্যাজিক সিস্টেম, যার কোনও নাম এখনও নেই (অন্তত আমি জানি না)।
সে নমনীয় হোক কি অনমনীয়, যদি ম্যাজিকের ব্যবহার উপন্যাস বা গল্পের কেন্দ্রে থাকে, তাহলে যেটা করা উচিৎ, সেটাকে সামান্যতম রূপ দেওয়া (চক্ষুদানের মত), কিছুটা ব্যাখ্যা করা। Earthsea এর ম্যাজিক সিস্টেম সফট হলেও, তার পেছনে একটা কেন্দ্রীয় যুক্তি রয়েছে। নাম। পৃথিবীর যে কোনও জড় পদার্থ আর প্রাণীর নিজস্ব নাম রয়েছে। সেই নামের ভিত্তিতে প্লট এগোয়। প্রথম উপন্যাস, A Wizard of Earthsea তে এই নামের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে নিজেকে আবিস্কার করার মাধ্যম।
"অক্টারীন জগৎ: সবুজ" এর ম্যাজিকের ব্যবহার অনেকটাই ছন্নছাড়া, সেটাকে সফট ম্যাজিক সিস্টেমই বলবো। কিন্তু সেই বাধনহীন ম্যাজিকের প্রয়োগ উপন্যাস জুড়ে থাকলেও, মূল গল্পের সাথে তা বড্ড সম্পর্কহীন। এর ফলস্বরূপ যা হয়েছে তা হল, একই ধরণের সিকুয়েন্সের পুনরাবৃত্তি হয়েছে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।
সিকুয়েন্সের ধরণটা কতকটা এইরকম
১. অলৌকিক শক্তির আবির্ভাব (শাঁকচুন্নি, ডিমন, অথবা অবর্ণনীয়/অজ্ঞেয় কিছু)
২. সেটির মোকাবিলা করার জন্যে অ্যানিমা (গল্পের নায়িকা) একধরণের ম্যাজিকাল বস্তু/অস্ত্র ব্যবহার করবে।
৩. সেই বস্তু/অস্ত্রের পটভূমি নিয়ে এক পাতা গল্প থাকবে, যার সাথে মূল প্লটের সত্যিই সম্পর্ক নেই; তবে কয়েকটা গল্প বেশ কৌতুহল জাগায়।
৪. আগের সেই বস্তু/অস্ত্র অসফল হলে, গ্রাইন্ড এন্ড রিপিট।
এক দুইবার এইরকম হওয়ার পর ব্যাপারটা বড্ড একঘেয়ে হয়ে যায়। তার উপর উপন্যাসের প্লট তেমন অসাধারণ কিছু না। যার ফলে, আমার মতে, এই বইটি এর নিজেরই পূর্বভাগের মত তেমন দাঁড়াতে পারে নি। "অক্টারিন" আর যাই হোক, রোমাঞ্চকর ছিল। প্রতিটা পাতা ওল্টানোর আগে মনে হত, এর পর ঠিক কি হবে আমি সত্যি জানি না। এখানে যেন সেই দমবন্ধ করা ব্যাপারটা নেই। একটা ম্যাকগাফিন (এখানে আর্কনকে হত্যা করতে পারে এমন একটা ছুরি) নিয়ে চুরি-চুরি খেলা এতভাবে এতরকম জায়গায় পড়েছি, দেখেছি আর খেলেছি, যে "অক্টারিন জগৎ: সবুজ" এর দুর্বল চরিত্রাঙ্কন, ম্যাজিকের ছন্নছাড়া ব্যবহার ব্যাপারটাকে আরও ঘেটে দিয়েছে।
তানজীম রহমানের আসল সমস্যাটা হয়েছে অন্যখানে। এই উপন্যাসের লেখনী পড়েই বুঝতে পারছি, এই উপন্যাসটা লিখেছেন দুইটি মানুষ: "আর্কন" এবং "অক্টারিন"-এর জন্মদাতা- জনপ্রিয় রোমাঞ্চ-হরর লেখক তানজীম রহমান এবং "বিরূপকথা" আর "মহাশূন্যতায়" এর স্বপ্নালু সাহিত্যিক তানজীম রহমান। যার ফলে দ্বিমুখী ধারার দুটো লেখনী কেমন যুদ্ধ করে গেছে পাতার পর পাতায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই "বিরূপকথা" আর "মহাশূন্যতায়"-এর স্বপ্নালু ভাব এসে গিয়েছে, বিশেষ করে অতীতের ঘটনাবলী লেখার সময়। অ্যানিমা কিভাবে নানান আর্টিফ্যাক্ট পেয়েছে, সেগুলো বিবৃত হয়েছে ছোট ছোট গল্পের মত। গল্পগুলো আমার ভাল লেগেছে, এমনকি মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এই ধারায় তারানাথের মত একটা গল্প সংকলন বানালে ব্যাপারটা দারুণ জমে যেত। কিন্তু উপন্যাসে এই গল্পগুলোর উপস্থিতি মূল ঘটনার গতিকে কমিয়ে দিয়েছে। এখানে হয়তো সেই রহস্য রোমাঞ্চের লেখক তানজীম রহমানকে আরেকটু বেশি দরকার ছিল। প্লটের লাগামটা আরেকটু শক্ত করে ধরতে হত।
গল্পের সব চরিত্রই ফ্ল্যাট মনে হয়েছে, যেন কোনও আনিমে সিরিজের একেকটা আর্কেটাইপ এসে উপস্থিত হয়েছে। রুমি, শোভন আর পূর্ণা, কাউকেই আমার মনঃপুত মনে হয় নি। ভাসা ভাসা তাদের অবস্থান (এমনকি তাদের সংলাপও), উপন্যাসের শেষেও তাদের "জ্যান্ত" মনে হয় নি। বোধহয় মুমিনকে বড্ড মিস করেছি, তাই জন্যে। গল্পের অ্যান্টাগনিস্ট, সাহেবাকে অল্প ইন্টারেস্টিং লাগলেও তেমন ভয়ঙ্কর মনে হয় নি। ভয়েরও বড্ড অভাব এই বইয়ে।
উপন্যাস শেষ হয়েছে ক্লিফহ্যাঙ্গারে, ঠিক যেভাবে আজকালকার সিরিজগুলো শেষ হয়। সেটা নিয়ে আক্ষেপ হত না, যদি একটা পূর্ণাঙ্গ প্লট থাকতো উপন্যাস জুড়ে।
অ্যানিমাকে ফিরে আসতে হয়েছে। 'অক্টারিন' এর দ্বিতীয় পর্ব বলে কথা। উপন্যাসের প্রথম থেকে চাপা এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন লেখক।
অ্যানিমা এবার আবির্ভুত হয়েছেন জটিল এক রহস্য সমাধানে। জাদুর বিভিন্ন মন্ত্র ও প্রাচীন যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে বৃহৎ এক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে অল্পবয়সি, নিঃস্বার্থ এই ম্যাজিসিয়ানকে।
তানজীম রহমান আরবান ফ্যান্টাসি নিয়েই কাজ করেছেন আবার। জাদুর বিভিন্ন অতি পুরাতন ইতিহাস, সেই সবের থেকে ছেকে গুরুত্বপূর্ণ টুল ব্যবহার তাঁর লেখনিতে আনতে লেখকের পরিশ্রম প্রশংসার দাবি রাখে।
ভৌতিক আবহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে তানজীম বরাবরের মতই বাঙালি মানসে থাকা ভয়ের উপাদানসমূহ এক অস্বস্তি সৃষ্টি করা ডিটেইলিং ���র মাধ্যমে পরিবেশন করেন।
বিশেষ করে পঞ্চম অধ্যায়ে লেখক যে পরিমাণ চাপা, স্যাঁতস্যাঁতে ও উত্তুঙ্গ অস্বস্তির ডিটেইলিং করেছেন তা সহজে বিস্মৃত হওয়ার নয়।
তবে অনেকগুলো চরিত্রের আগমন, রহস্য একটু বেশি সৃষ্টি করতে যাওয়া, কিছু ক্ষেত্রে অতি সংলাপ সৃজনের প্রবণতা এ বইয়ের দুর্বল দিক মনে হয়েছে আমার। বইয়ের প্রচ্ছদ আমার পছন্দ হয়নি। এরকম ইন্টেন্স আখ্যানে কার্টুনিশ কাভার বেমানান লেগেছে।
একটি বিষয় পরিষ্কার। সেটি হল তানজীম পরবর্তি পর্বের জন্য ভূমি প্রস্তুতে ব্যস্ত ছিলেন পুরো বই জুড়ে। তবে প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থে রহস্যময়তা আরেকটু কম হলে বোধ হয় ভালো হত। হয়তো আগামী আখ্যানে অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য লেখকের এরূপ অ্যাপ্রোচ দেখতে পেয়েছি।
তানজীম রহমান একজন সুলেখক। একই বইয়ে হরর, থ্রিলার ও আরবান ফ্যান্টাসির মিশেলটা মাথায় চাপ তৈরি করার মত ডিটেইলিং এ লিখতে সক্ষম তিনি। দেখা মিলেছে কিছু ফিলসফির।
তাছাড়া 'অক্টারিন' এর বিশ্বের সাথে যোগসূত্র ঘটেছে লেখকের পূর্বে তৈরি করা আরেক দারুন উপন্যাসের বিষয়ের সাথে। যেখানে ৫ জন মানুষ এক ভয়াবহ বন্দিদশায় অতি ভয়ংকর এক 'জিনিস'এর সাথে প্রাণপণ লড়াইয়ে রত ছিলেন।
অক্টারিনের পরবর্তি সিক্যুয়েল মিস দেয়া যাবে না।
বই রিভিউ
নাম : অক্টারিন জগৎ : সবুজ লেখক : তানজীম রহমান প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রকাশক : বাতিঘর প্রকাশনী প্রচ্ছদ : আদিব রেজা রঙ্গন ধারা : আরবান ফ্যান্টাসি, হরর, থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
লেখকের লেখার ধাঁচ একটু বদলে গেছে। সেটা নিয়ে আমার আপত্তি নাই। তবে কলেবরে বড় একটা বইয়ের মধ্যে এত এত প্রশ্ন তৈরি হলো স্রেফ দ্বিতীয় বা তৃতীয় বইতে সমাপ্ত করার জন্য, এই ব্যাপারটা ভালো লাগলো না। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে... অনেক অনেক প্রশ্ন। বইয়ের প্রথম থেকেই ধুন্ধুমার অ্যাকশন। পড়তে খারাপ লাগেনি। তবে অ্যাকশনের হেতু কী, সেটা বেশিরভাগ জায়গাতেই হয় ভাসা ভাসা, নইলে একেবারেই নেই। যাকগে...
যেটা অক্টারিন সিরিজের সবথেকে আকর্ষণীয় দিক তা হলো এর বাংলাদেশী ভূত-প্রেতের গল্পের চরিত্রগুলোকে নিয়ে আসা। প্রথম অংশে শাঁকচুন্নির প্রতিরোধ চমৎকার শিঁড়দাঁড়া দিয়ে হীম অনুভূতির সৃষ্টিকারী। তারসাথে আধুনিক আ্যানিমার সকল দেশের জাদুটোনার সুন্দর মিশেল গল্পকে খুবই আগ্রহোদ্দীপক করে। তানজীম রহমানকে এ জন্যে ধন্যবাদ। গ্যারেজের ঘটনাপ্রবাহও একইভাবে আকর্ষণীয় ছিলো।
এই বইতে মুমিন চরিত্রটিকে মিস করলাম। তবে সামনের খণ্ডে আসবে বলেছে যেহেতু, আশা রাখছি। এই খণ্ডে প্রথমটির জ্বিন-আলোচনার মতো যেকোন শক্তি/পরাশক্তি নিয়ে অতিদীর্ঘ আলোচনা না থাকায় আরামদায়ক ছিলো, আলোচনা প্রচুর ছিলো তবে তা সহনীয় ও প্রয়োজনীয় পর্যায়ের। যেটা বরাবরের মতোই কিঞ্চিৎ বিরক্তকর তা হলো নামের বিভ্রাট, একবার এডিটরিয়াল রিভিউ দরকার যা মনে হয় বাংলাদেশে কোন প্রকাশনালয়ই ঠিক করে করে না।
তিন বছর আগে পড়া অক্টারিনের তেমন কিছুই মনে নাই। তাও এটা পড়তে তেমন সমস্যা হয় নাই। টানা একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে কিছুটা বোরিং লাগসে। শেষে অ্যানিমার বাসার ঘটনা পড়ার তো কোনো আগ্রহই ছিল না৷ আর সবাই এই যে এত অ্যানিমা অ্যানিমা করে, আমার কাছে মেয়েটাকে তেমন সচেতন মনে হইলো না। এত নর্মাল প্ল্যান করলো।
শেষে এত বড় ক্লিফহ্যাঙ্গার, তাও আবার দুইটা বই পর্যন্ত! বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। প্লট, লেখনী নিয়ে তেমন কিছু বলার নাই। তানজীম সাহেবের লেখার ধরন আমার খুব পছন্দের।
বাই দ্য ওয়ে, বেগম সাহেবার পরিচয়ের হিন্টস নাকি প্রথম অক্টারিনে দেয়া ছিল, সেটা কি কারও মনে আছে?!
অক্টারিন হুট করে লেখক বা ঐ বই সম্পর্কে কোন ধারণা ছাড়াই পড়েছিলাম আর মুগ্ধ হয়েছিলাম। পরবর্তীতে লেখকের আর্কন পড়েও ভাল লেগেছিল। অক্টারিনের সিকুয়াল বের হয়েছে শুনে যে আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসেছিলাম তা অনেকদিন কোন বাংলা বই এর ক্ষেত্রে হয়নাই। প্রথম বই এর মূল চরিত্রগুলোকে খুবি ইন্টারেস্টিং ভাবে উপস্থাপন করাই হয়তো এর মূল কারণ ছিল। এই বইটা সেই তুলনায় খুবই হতাশ করেছে। অক্টারিন জগৎ আসলে স্ট্যান্ড এলোন বই হয়ে উঠেনাই, পরবর্তী পর্ব বা পর্বগুলোর জন্য এখানে কাহিনী সাজানো হয়েছে মূলত। কিন্তু তাই বলে বেশ বড় কলেবরের একটা বই শুধু সেটাপের জন্যই ব্যবহার করা হবে, তাতে প্রায় কোন প্রশ্নেরই উত্তর মিলবেনা এটা একটু হতাশাজনক পাঠকের জন্য। আরও একটা জিনিস মনে হয়েছে, বইটি অতিমাত্রায় ভিসুয়াল। বই এর বিশাল অংশ ব্যয় করা হয়েছে একটা স্পেসিফিক জায়গায়, কয়েকটা ধাপে হওয়া জাদুকর/ পরাশক্তিদের মাঝে যুদ্ধ নিয়ে। এই এনকাউন্টারগুলো এতই বর্ণনাবহুল যে বলার কথা নয়। লেখক এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অনেক জানেন এবং পড়েছেন তা সুস্পষ্ট, কিন্তু যতটা ডিটেইলে বিষয়গুলো লিখেছেন, সেগুলো পাঠকের জন্য বোঝা বা মাথায় নেওয়া বেশ কঠিন। অন্তত আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। আরেকটা জিনিস কষ্ট দিয়েছে তা হলো নিম্নমানের সম্পাদনা, অনেক অনেক জায়গায় স্পেস বাদ গেছে। বই এর শিরোনামে জগৎ বানান, আর ব্যাক কাভারে 'জগত' বানান ও আলাদা, আবার এইখানে মূল চরিত্রের নামের বানান ও ভুল! - এইটুকু যত্নশীল সম্পাদনা তো আশা করাই যায় হয়ত।
যাহোক, এই বইটি যেমন-ই লেগে থাকুক, সিরিজের পরবর্তী বই এর অপেক্ষায় রইলাম।
অক্টারিন: সবুজ জগৎ Persnoal Rating: 3.5/5 শুরুতেই বলে রাখি অক্টারিন সিরিজের এই দ্বিতীয় বইটা আসলে তানজীম রহমানের আরও আগের বই আর্কনের সাথেও কানেক্টেড। অর্থাৎ, বিশাল একটা ইউনিভার্স তৈরি করতে যাচ্ছেন তানজীম রহমান। তো কাহিনীর শুরু হয় অক্টারিন প্রথম পার্টের প্রোটাগনিস্ট এনিমাকে দিয়ে; যেখানে এনিমা একটা বাসায় যায় শাকচুন্নী তাড়াতে। মানে কাহিনীর শুরুই হয় peak action moment দিয়ে। এবং সেই যে থ্রিল শুরু হলো, থ্রিলের পারদ সেই যে উপরে উঠলো, আর নামলোই না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এনিমা একের পর এক ট্র্যাপে পড়লো, সেখান থেকে উদ্ধার পেল, এমন করতে করতে কাহিনী শুরু হতে হতেই বইটা শেষ হয়ে গেল। তখন বোঝা গেল পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরের কাহিনী আসবে, তাই এই বইতে শুধু কাহিনীর পরিসরটা দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের বই আমি খুব একটা পছন্দ করি না যেখানে একটা বড় পরিসরের কাহিনী সেটাপের জন্য একটা বই স্বয়ংসম্পূর্ন হয়ে ওঠে না! বিষয়টা আমার কাছে একটু খারাপই লেগেছে। সেই সাথে, এই বইটা অনেক বেশী ভিজ্যুয়াল। অনেক তাগড়া সব একশন সিন বইতে ইনক্লড করা হয়েছে, যেটা বইয়ের জগতে স্বাভাবিকভাবে used to থাকা মানুষ না হলে কল্পনা করতে একটু কষ্ট হয়ে যাবে। যদিও এমনটা হওয়াতে আমার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু, কাহিনী অসমাপ্ত থাকার কারণে, এই একশন সিনগুলোতে কখন কিভাবে কি হয়েছিল তা আমি ভুলে যাব নতুন বই আসতে আসতে। আশা করি সামনের পর্বগুলোতে এক্সপেক্টেশন মিট করবেন লেখক। সবগুলো পর্ব বের হওয়ার পর একবারেই পড়বো। ধন্যবাদ।
📖 Book: অক্টারিন জগৎ: সবুজ / Octarine Jagat: Sabuj (অক্টারিন #২) / Octarine World: Green (If it ever gets an English translation 😅) ✍️ Author: তানজীম রহমান / Tanzim Rahman 🌐 Genre: Horror | Occult Thriller | Bangladeshi Gothic Fiction 📅 Published: February 2024 by বাতিঘর প্রকাশনী / Baatighar Prokashoni 🔥 My Rating: ⭐⭐ (2/5)
Ω One-Sentence Synopsis: In Octarine Jagat: Sabuj, Tanzim Rahman’s atmospheric sequel to the Octarine series, magician Anima becomes entangled in a supernatural heist for a deadly ancient artifact—tied to someone from her past who may no longer be entirely human.
💭 My Thoughts: Didn’t feel like writing anything. Wasn’t worth my time.
⁉️ QOTD: If you could wield an ancient, powerful magical artifact—what would be your first move, and why?
📌 Save this if you’re drawn to occult thrillers, magical mysteries rooted in Bangladeshi soil, or if you still believe folklore has the power to haunt.
🔔 Follow me for more bookish ramblings, reviews, and recommendations. 🔗 GOODREADS: Nazmus Sadat → goodreads.com/dsony7 📸 INSTAGRAM: @dSHADOWcatREADS
অক্টারিন আমার বেশ প্রিয় একটা বই। তাই বইমেলার শুরুতেই কিনে ফেলেছিলাম অক্টারিন জগৎ:সবুজ। এবারের বইমেলা থেকে কেনা প্রথম পড়া বইও এটি। লেখকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, অক্টারিন জগৎ:সবুজ আমার একদমই ভাল লাগেনি। ভাল না লাগার কারণ, যাদু, ম্যাজিশিয়ান, স্পেল এসব নিয়ে পড়তে আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। আসলে অক্টারিন প্রথম পর্বের মত জ্বিনদের কারবার আশা করেছিলাম। আর ভয়ানক মিস করে হুজুর মুমিনকে। অক্টারিন জগৎ:সবুজ-এ হুজুর মুমিন চরিত্রটি নেই। তবে শেষে গিয়ে আশা দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী পর্বে মুমিনের আগমন ঘটবে। সিদরাত, রুমী, শোভন, পূর্না, শাবাব, বেগম সাহেবা কোনও চরিত্রই মনে দাগ কাটতে পারেনি। আর বইয়ের মূল চরিত্র অ্যানিমা...অক্টারিনের মত ভয় পাওয়াতে পারেনি রোমাঞ্চও দিতে পারেনি। যাই হোক, এসব আমার একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত। অনেকেরই হয়ত ম্যাজিক, স্পেল, পরাশক্তি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়তে ভাল লাগবে।
অক্টারিন পড়া হয়েছে অনেকদিন আগে। এইবই পড়ার আগে সেইটা পড়ার ইচ্ছাও খুব একটা হয়নি। তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি, কারণ দুইটা বইয়ের মিল খুব একটা নেই। এই বইটায় প্যারানরমাল ব্যাপার-সাপার খুব একটা আসেনি, বরং এসেছে ফ্যান্টাসি।
অ্যানিমাকে কেমন অপরিচিত লাগে। খারাপ না, তবে কাহিনীর গতি অনেকটুকুই অন্যসব চরিত্রের হাতে চলে গেছে। প্রথম দিকে আশাবাদী হলেও এতোগুলো পৃষ্ঠার পর লাগছে যে তেমনকিছু জানিনি।
বড়প্রশ্ন হচ্ছে এই যে অর্ধেক (যেহেতু এখনো লাগে যে প্লট বেশিদূর যায়নি) একটা বই পড়লাম, এই কাহিনী মনে থাকতে থাকতে পরেরটা কী আসবে? সিরিজ বানানোর উদ্দেশ্যে শুধু শুধু আরেকটা বই বের করার ব্যাপারটা যখন চোখে পড়ে, আগ্রহ অনেকটা ওইখানে কমে যায় আমার।
পর্বতের চূড়ায় ঝুলে পড়ার দুঃখে রেটিং করলাম না থাক।
অক্টারিন যতটা ভালো লেগেছিলো এই বইটা ততটা ভালো লাগেনি। বেশ কিছু ব্যাপার দায়ী বলে মনে হলো: ১. বইয়ে প্রচুর মুদ্রণপ্রমাদ। পাশাপাশি দুটো শব্দ এক হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা চোখে খুব বাজে লেগেছে। ২. বইটা বোধহয় পরবর্তী বইগুলোর জন্য যথেষ্ট "কন্টেক্সট" তৈরি করতে গিয়ে একটু খাপছাড়া গতিতে এগিয়েছে। ৩. অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ভূমিকা ছাড়াই অনেক ঘটনার উৎপত্তি ঘটেছে, পড়তে গিয়ে অস্বস্তি সৃষ্টি করলো এই ঘটনাগুলো।
লেখক সম্ভবত এই বইকে ব্যবহার করেছেন পটেনশিয়াল সিকুয়েলের প্রোলগ হিসেবে, যার মাঝে আসল সাবস্ট্যান্স কমই মনে হয়েছে। প্রত্যেক দৃশ্যের বিশাল ডিটেইলিং না করলে বইয়ের কলেবর অর্ধেক হয়ে যেতো। আর্কন আর অক্টারিন এর লেখকের কাছ থেকে আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম।
সিকুয়্যেল থেকে যা আশা করছিলাম তার ধারের কাছেও যায় নি, বরং সবকিছু রহস্যময় করতে গিয়ে এত বেশি রহস্য হয়ে গেছে যে কোন গল্পই দাঁড়া করাতে পারেননি। অ্যাকশন সিনগুলা ভালো, অনেক দেশি বিদেশি মিথ স্পেল ভালো লেগেছে। কিন্তু গল্পের অভাবে জিনিসগুলো খাপছাড়া লেগেছে।
গল্পের শুরুটা অসাধারণ সুন্দর ছিল, এমনভাবে করা হয়েছে যেন মনেই হয়নি নতুন কোনো গল্পের শুরু হলো। অনেক বেশি পরিচিত পরিবেশের মাধ্যমে গল্পের মাঝে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে, মনে হচ্ছিল এক বসাতেই পুরোটা শেষ করে ফেলতে পারবো। ভূতের সিনেমাগুলোর মতোই প্রথম অধ্যায়ে হঠাৎ ভূতের আগমনে চমকাতে বাধ্য হয়েছি।
কিন্তু কোথায় গিয়ে যেন গল্পের খেই হারিয়ে ফেলি। হঠাৎ অনেক বেশি হতাশার মধ্যে ডুবে যাই। হতাশা কাটিয়ে উঠার আগেই গল্প শেষ হয়ে গেলো... একরাশ প্রশ্ন আর অতৃপ্তি নিয়ে শেষ করলাম "অক্টারিন জগৎ: সবুজ"
অক্টারিন (২০১৬) এর পাঠক হিসেবে বলতেই হয়, তানজীম ভাইয়ের কাছে যে আশা নিয়ে বইটা হাতে নিয়েছিলাম, উনি তা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন... "অক্টারিন জগৎ: নীল"এর অপেক্ষায় রইলাম। সেখানে হয়তো আমার এই হতাশার অবসান ঘটবে।