রহস্য, রোমাঞ্চ আর অ্যাডভেঞ্চারে ভরা অয়ন-জিমির চারটি কাহিনি। পড়া শেষে নিজের অজান্তেই পাঠক বলে উঠবেন, ‘থ্রি চিয়ার্স ফর অয়ন-জিমি!’
নিরীহ একটা পাখিকে কে যে বিষ খাওয়াল! কেনই বা খাওয়াল? গ্রিজলি হিলে কি সত্যি সত্যি দানব-ভালুক বিচরণ করে? এখানে-ওখানে ছড়িয়ে আছে ওগুলো কার পায়ের ছাপ? মিউজিয়াম থেকে কে সরাল পাবলো পিকাসোর মহামূল্যবান পেইন্টিং? জায়ান্টস রিজের বরফ-দানব কি সত্যিই তার কয়েক হাজার বছরের ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছে? কেনই বা এমন তাণ্ডব বাধিয়েছে ওটা? মাথাঘোরানো প্রশ্ন, দমবন্ধ উত্তেজনা আর দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চারে ভরা এমনই চারটি রহস্যের সমাধানে নেমেছে অয়ন-জিমি। তাদের বুদ্ধিমত্তা, সাহস ও কর্মনৈপুণ্যের পরিচয় এ গল্পগুলো।
মোটের ওপর চলনসই, কমবেশি গতানুগতিক চারটি অয়ন-জিমি রহস্য-অ্যাডভেঞ্চার গল্প। সোজাসরল রহস্য, প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই কে কালপ্রিট বা কেন ঘটছে অনুমান করা সহজ, ঘটনাক্রমেও তেমন কোনো অভাবিত প্যাঁচ নেই।
চারটের মধ্যে 'পিকাসোর পেইন্টিং' গল্পতে শেষের দিকে কিঞ্চিৎ অভিনবত্ব আছে, কে বা কেন'র চেয়ে কীভাবে ঘটলো আর কীভাবে ধরা পড়ল তার উত্তরটা উপভোগ্য ছিল। 'কনডরের ডানা' ও 'মৌচোর' গল্প দুটির বুনো পরিবেশ-আবহ ভালই ছিল, রহস্যে তেমন জোর না থাকলেও সেটার জন্য পড়তে খারাপ লাগেনি। তবে শেষ গল্প 'বরফ বিভীষিকা' একেবারে যাচ্ছেতাই লেগেছে। একে তো প্লটটাই রিপিটেটিভ (যেন অয়ন-জিমির দূর্বলতম উপন্যাস 'কিংবদন্তী'র শর্টার ভার্সন পড়লাম) তার ওপর মনে হয়েছে অতিরিক্ত চাপিয়ে আগের তিনটার মতো পারিপার্শ্বিকতায় পরিবেশের আবহে ঠিকঠাক সেট হয়ে ডেভেলপড হবার সুযোগ দেয়ার আগেই হুড়মুড় করে একের পর এক চরিত্রের আবির্ভাব-ঘটনা ঘটা শুরু, বলতে না বলতেই রহস্য সমাধানও শেষ। কেন বা কে করছে বুঝতেও প্রায় কিছুই বেগ পেতে হয় না।
যাইহোক, শুধু রহস্য সমাধানের জন্যে কি আর এই বুড়োবয়সে অয়ন-জিমি পড়ি? ঝকঝকে চরিত্রায়ণ, তীক্ষ্ণধী বাক্যালাপ, সহজাত হাস্যরস, টানটান উপস্থাপনে চারটা গল্পই বরাবরের মতো একটানে একবসায় পড়ে ফেলা যায়, ইসমাইল আরমানের লেখনি চিরচারিত সুখপাঠ্য ও আরামদায়ক। অয়ন-জিমি গোয়েন্দাজুটিও সবসময়ের মতো যেকোন অ্যাডভেঞ্চারে সদাপ্রস্তুত, অদম্য, পাঠকপ্রিয়। ব্যাস, তা-ই সই।
সাবাস অয়ন! সাবাস জিমি!! -র পরে অয়ন জিমির আরেকটা ছোটগল্প সংকলন। প্রতিটাই কিশোর আলোতে প্রকাশিত আলাদাভাবে, দুটো আগেই পড়া হয়েছিলো।
কনডরের ডানা অয়নের চাচা মেহেদী হাসান ক্যারেকটারটা আমাকে ভেবেই লেখা, এই কথা আমি ভুলি কী করে! স্বাভাবিকভাবেই এটার প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ব থাকবেই। আমার চোখে এই বইয়ের সেরা গল্প তাই এটাই, আপনারা যে যা-ই বলুন মশাই।
এরপর সবচেয়ে ভালো লাগার গল্প পিকাসোর পেইন্টিং। মৌচোর আর বরফ বিভীষিকার রহস্য তেমন জমাট নয়, তবুও অয়ন জিমিকে ভালোবাসায় পড়তে খারাপ লাগে নি। প্লট যেমনই হোক লেখকের চমৎকার লেখনি, আর অয়ন জিমি রিয়ার চমৎকার চরিত্রায়নের জন্য সবই উৎরে যায়।