ভালোবাসা কি- তার উত্তর যুগে যুগে বহু মনীষী খুঁজে বেড়িয়েছেন। এর অর্থ অন্বেষণকারীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েন নি স্বয়ং গুরু রবিঠাকুর। শাব্দিক ভাবে এর অর্থ হলো প্রণয়, প্রীতি, প্রেম- এগুলো অভিধানেই পাওয়া যায়। ভালোবাসার আভিধানিক অর্থ যতটা সরল, এর পারিভাষিক অর্থ ততটাই জটিল। কি এমন আছে এই শব্দে, যার সঠিক পরিচয় খুঁজতে লেখকদের কলম থেকে গল্পমালা ঝরেছে অঝোর ধারায়? যার অর্থ খুঁজতে কবিদের রচনা করতে হলো অজস্র কবিতামালা?
“প্রণয়নামা”-তেও এমন এক সত্যান্বেষী চক্রে চরিত্রগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্জুন, সখিনা সকলেই যেন এই একটা সত্যই খুঁজেছে- "ভালোবাসা কারে কয়?"। গল্পের ভেতর রচিত হয়েছে আরও গল্প। সেগুলোর চরিত্রগুলোও যেনো একই প্রশ্নচক্রে ঘূর্ণায়মান। সবাই কি খুঁজে পাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর? ভালোবাসার পরিচয় কি পাবে অর্জুন, সখিনারা?
তানভির অনয় একজন একাডেমিক, আর্কাইভিস্ট, অ্যাক্টিভিস্ট এবং লেখক। ১১ই ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় জন্ম তাঁর। ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেইটভিল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি ভাষা ও অনুবাদ নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এ সম্পাদকীয় সহকারী হিসেবে দেড় বছর কর্মরত ছিলেন। তানভির অনয় ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে উইমেন, জেন্ডার, অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি স্টাডিস বিষয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছেন এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটায় ফেমিনিস্ট স্টাডিসে পিএচডি করছেন। লৈঙ্গিক বৈষম্যসহ আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও সমাধান নিয়ে তিনি লেখালেখি এবং কাজ করেন। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক প্রকাশনার সম্পাদনা করেছেন। কথাসাহিত্যের জগতে তাঁর আগ্রহ প্রবল, লিখেছেন বেশ কিছু ছোট গল্প।
প্রকাশিত বইসমূহ: পুণ্যাহ, দুরধ্যয়, কেতাদুরস্ত, মর্ত্যলোকচক্র, প্রণয়নামা।
Tanveer Anoy is an academic, archivist, activist, and writer, born in Dhaka on February 11. They hold an Honours degree in English Literature from East West University, Dhaka, and studied English Language and Translation at Fayetteville State University, USA.
They worked for one and a half years as an Editorial Assistant at the renowned publishing house University Press Limited (UPL). Tanveer Anoy later completed their Master’s in Women, Gender, and Sexuality Studies from Oregon State University and are currently pursuing a PhD in Feminist Studies at the University of Minnesota, USA.
Their work and writing focus on socio-economic issues and gender inequality, combining academic research with activism and storytelling. They have edited several publications and maintain a deep passion for fiction, having authored multiple short stories.
Published books: Punyah, Durdhyay, Ketadurasta, Martyalokchakra, and Pranayanama.
দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, বইটা পড়ে ভাল লাগেনি। লেখক চেষ্টা করেছেন প্রেম সম্পর্কে যে দ্বিধা থাকতে পারে মানুষের মধ্যে সেটি পোর্টে করতে, কিন্তু আমি নিজেই হয়তো অনেককিছু ধরতে পারিনি। প্লট, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে বলতে গেলে আমি কুলকিনারা পাইনি যে আসলে কি হচ্ছে৷ ঘটনা গুলো মনে হয়েছে প্রচন্ড ছাড়া ছাড়া। লেখকের আরো বই আমি পড়েছি। ভালও লেগেছে। আশা করি তার কাছ থেকে আমরা আরো ভাল লেখা পাবো৷ লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো।
ভালোবাসার ব্যাখ্যা আমরা বিভিন্নভাবে দিতে পারি। যুগ যুগ ধরে মানুষ ভালোবাসাকে নতুন করে আবিষ্কার করেছে। তবে, প্রাচীন যুগ থেকে প্রেমের কিছু বিষয়ের পরিবর্তন ঘটেনি। সেটা হতে পারে প্রেমিকার প্রত্যাখ্যান কিংবা কারো প্রথম অসম্পূর্ণ প্রেম। ‘প্রণয়নামা’ গল্পটা ঠিক এই বিষয়গুলোর সহজ সাবলীল বর্ণনা। গল্পটা শুধুমাত্র অর্জুন-সখিনার বললে ভুল হবে। অর্জুন আর সখিনার মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন বর্তমান ভালোবাসার চিত্র। গল্পের মধ্যে কিছু ছোট ছোট ভিন্ন গল্পের সৃষ্টি হলেও মূল গল্প বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। তবে, ছোট গল্প গুলোকে প্রাধান্য দিয়েও মূল চরিত্রগুলোকে আরো ফুটিয়ে তুললে গল্পটা আরো উপভোগ্য হতো।
জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় লিখতে পারার সুখ্যাতি লেখকের রয়েছে। বলতেই হবে, গল্পটা বেশ ঝরঝরে। প্রেমের উপন্যাস পড়তে ভালো লাগলে এক বসায় শেষ হয়ে যাবে।
লেখকের প্রথম প্রেমের উপন্যাস হিসেবে আমার ভালোই লেগেছে। প্রচ্ছদটাও ভীষণ সুন্দর। তবুও কিছু জায়গায় কী যেন নেই মনে হওয়াতে একটা তারা কেটে রাখলাম। অবশ্য, ভালোবাসা বিষয়টায় হয়তো এমন, তাই না? কিছুটা সুন্দর আর অনেকটাই জটিল।
বইয়ের নাম:প্রণয়নামা লেখক: Tanveer Anoy প্রকাশনি:অন্বেষা প্রকাশন প্রচ্ছদ:মিঠু আহমেদ
'এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম,প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়। এমনি মায়ার ছলনা।' লেখক তানভির অনয়ের কিছু কথায় লেখা চরণগুলো। যেখান থেকে তার পঞ্চম উপন্যাসের বিন্যাসের কথা অনুভব করা যায়।মূলত যেকোনো সাহিত্যে প্রেম মুখ্য বিষয়। তা-ও তা নরনারীর প্রেম।যা মানুষের আত্মার ভেতরের একটা অংশ। যদিও সাহিত্যের প্রথম দিকে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম প্রধান রূপে দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে পনেরো থেকে আঠারো শতকে পৌরাণিক কাহিনির পাশাপাশি লৌকিক মানবপ্রেম সাহিত্যের অংশ হয়ে উঠতে থাকে। লেখা হয় প্রণয়োপাখ্যান। যেখানে ধর্ম চেয়ে জীবনকে বড়ো করে দেখানো হয়েছে। লেখক তানভির অনয় তাই করেছেন।না পাওয়া প্রেম বা অসম্পূর্ণ প্রেম নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী বিস্তার করেছেন।'প্রণয়'যার অর্থ প্রেমানুরাগ।'নামা'যা অভ্যন্তর হতে বের হওয়া অনুভূতি। ঝরঝরে গদ্যে বর্ণনা করেছেন উপন্যাসের কাহিনি। ঢাকা কেন্দ্রিক প্রেম বললেও ভুল হবে না।প্রণয় কী?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে ঘটনা প্রবাহ এগুতো থাকে। যেখানে অর্জুন, সখিনা সকলেই একি প্রশ্নে চক্রাকারে ঘুরছে। কেউ আসলে বলতে পারেনি ভালোবাসা কী!রবীন্দ্রনাথ বলেছেন -ভালোবাসা কারে কয়?"সবাই কি তার কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা খুঁজে পায়।সত্যান্বেষী প্রণয়নামার চরিত্রগুলো তাই।ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনার সূত্রে লেখক তার উপন্যাসে 'জন ডানে'র পয়েম থেকে বলেছেন Love is divine. ভালোবাসা ঐশ্বরিক! চক্রাকারে ভালোবাসার কাছেই ফিরে আসে,কষ্ট পাবে জেনেও।ক্রিয়েটিভ রাইটিং শিখতে গিয়ে তাই তো অর্জুন প্রেমে পড়ে যায়। প্রেম ছাড়া মানবজীবন অসম্পূর্ণ।প্রেম সবসময়ই নতুন। ক্লাসিক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত। যদিও সব প্রেম সম্পূর্ণতা পায় না। অক্সিমোরন বা বিরোধাভাসের মতো পরস্পর বিরোধীও হয়।'মিখাইলোভ দস্তয়েভস্কি'র একমাত্র প্রেমের উপন্যাস 'হোয়াইট নাইট'নামক গীতল কাব্যনাট্যেও তাই দেখা যায়। লেখক নিজেই এই উপন্যাসটিকে সেই আদলেই সাজিয়েছেন।অসম্পূর্ণ রেখেছেন অর্জুনের প্রেমকে।একাকিত্ব এ-ও প্রেম।দস্তয়েভস্কি'র ছয়টা সেকশনে চারটি গ্রীষ্মের রাতে অসাধারণ বর্ণনা। লেখক তানভির অনয় অর্জুনকে দিয়ে পিটার্সবাগের হতাশ যুবকে আঁকতে চেয়েছেন।বলেছেন ব্যর্থ প্রণয়নামা।নভেলাইজেশনের কৌশলটা একরকম হলেও বর্ণনাটা আরও কিছুটা কাব্যিক হতে পারতো।যেহেতু নামকরণে প্রণয়নামা।গীতল কাব্য ধারায় সাজাতেই পারতেন।ছোট্ট কলেবরে সাজানো এই উপন্যাসে অনেক পুরনো লেখকদের আশ্রয় করে প্রণয় কী!প্রশ্নের উত্তর দাঁড় করাতে চেয়েছেন।যা বর্তমানেও খুঁজে থাকে সবাই.... বইটি পড়ে রুশ সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে পাঠক। যা বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা দিয়েছে। বইটি পড়ে দেখার আমন্ত্রণ।
লেখকের এটা প্রথম প্রেমের উপন্যাস। প্রথম প্রেমের উপন্যাস হিসেবে অনেক ভালো লিখেছেন। গল্প বুনেছেন সুন্দর করে।
ভালোবাসা বা প্রেম বা লেখকের ভাষ্য মতো প্রণয়ের গল্প আমরা বহুকাল ধরে পড়ে আসছি। সব প্রেমের গল্পের সূত্র একই। প্রথম প্রেম অপূর্ণ থেকে যায়। তাহলে এই উপন্যাস অভিন্ন কোথায়? কেন পড়বেন? কারণ লেখক খুব ঝরঝরে সাবলীল ভাষায় বর্তমান যুগের প্রেমের কাহিনী শুনিয়েছেন। এখনকার ঢাকারও ভালো একটা বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে তরুণ-তরুণিরা কিভাবে চিন্তা-ভাবনা করে সেটাও ফুটে উঠেছে। ভালো লেগেছে গল্পের ভিতরের ছোট গল্প গুলোও। আর বিভিন্ন বই ও সিনেমার রেফারেন্স গুলো। আমি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী বইয়ের রেফারেন্স গুলো চোখে পড়লে ভালোই লাগে। ছোট্ট বই এক বসাতেই সাবাড় করা যায়। আমার একটাই অভিযোগ এতো তাড়াতাড়ি কেনো গল্পটা ফুরিয়ে গেলো।
বি.দ্র. ছাপানোতে কিছু ভুল খুব চোখে লাগছিলো। সেটা আসলে প্রকাশনীর ভুল। এগুলো একটু ভালো করে দেখে সংশোধন করবে বলে আশা করছি।
Amazing cover, yet disappointing story. If it was a short story, the lack of depth and character/plot development could be understandable. However as a novel/novella it was not satisfying. The game Sakhina played (if she did) and why did she play it, and even Arjun’s father’s affair, everything seemed too detached and did not connect with the plot. I definitely loved all the intertextualities, from Donne to Bhanshali, and I was lowkey proud of myself for understanding the references. I really hope the author will present a better love story in the future. Wishing him the best!
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্পের শুরু হয় এক গল্প দিয়ে। প্রেম-ভালোবাসা থেকে সারাজীবন বিচ্ছিন্ন থাকা এক ব্যক্তির কিশোর জীবনের লেখা এক অগোছালো গল্প। ��র্জুন নামের এই ব্যক্তি পুরো সময় জুড়ে ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকাকালীন হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেয় লেখক হবার। সেই প্রচেষ্টার এক অংশ হিসেবে তার ঘাড়ে পরে প্রেম বিষয়ক এক লেখার চাপ এবং সে বুঝতে পারে তার এই বিষয়ে জ্ঞান, ধারণার প্রচন্ড অভাব।
সেই সাথেই এই চরিত্রের সদ্য পরিচয় হওয়া সখিনা বেগমের গল্পও চলে আসে এই প্রণয়নামায়। তাদের দুইজনের 'প্রণয়' নিয়ে চলতে থাকে নানান ধরণের আলোচনা ও পর্যবেক্ষণ। উঠে আসে প্রেম নিয়ে জেনারেল কমপ্লেক্স কিছু ধারণা।
সারা বই জুড়ে চরিত্রগুলোর মনে চলতে থাকে নানান প্রশ্ন-প্রণয় কী? কাকে বলে? কীভাবে হয়? হালকা একটা রীড হিসেবে বইটা ভালো। ৭৮ পৃষ্ঠার বইটা এক বসায় শেষ করে ফেলা যাবে নিশ্চিন্তে। লেখকের আগের দুই বই কেতাদুরস্ত এবং পূণ্যাহ আমি পড়েছি, ওনার কমফোর্ট জোন থেকে বেড়িয়ে এক নুতুন জনরায় হাত দেয়াটা বেশ সাহসী একটা ব্যাপার।
আমরা প্রশ্ন পছন্দ করি, প্রশ্নের উত্তর পছন্দ করি কিন্তু সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি প্রশ্ন থেকে তার উত্তরে পৌঁছাবার পথটুকু। সেই পথে জান্তে-অজান্তে আমরা অনেক সময়ই নিজেদের খুঁজে পাই। এই গোটা ব্যাপারটার একটা অভাব বোধ করি আমি লেখাটায়। উত্তর না পেলেও, ছোট-খাটো একটা জার্নি থাকলে জমে উঠতো। লেখকের উদ্দেশ্যে আমি বলবো, ওনার আরেকটু সময় নিয়ে প্লট বিল্ত-আপ, ক্যারেক্টার আর্ক এবং এই অতি পুরনো প্রশ্নের মানুষের উপর ইন-ডেপ্থ প্রভাব-কুপ্রভাব সম্বন্ধে আরও গভীর এক বর্ণনা দিলে ভালো হতো।
তবে অনেকদিন পর প্রণয় কী এইটা নিয়ে ভাবতে বসি। প্রণায়নামা ভাবতে বসায়।
লেখকের প্রায় সব গুলো বই ই আমার পড়া। উনি সবসময়ই চেষ্টা করেন নতুন কিছু নিয়ে লেখার। ওনার বাকি চারটা বই থেকে এই বইটা বেশ আলাদা,বেশ ছিমছাম। এক বসাতেই পড়ে ফেলা যায় এমন।
প্রণয়নামা বইয়ের নাম দেখে যে গদগদ প্রেমের কাহিনী হবে জিনিস না এমন না দেখে ভালো লাগলো। দুজন মানুষকে নিয়ে বইটা লেখা যারা হয়তো কেউই জানে না আসলেই প্রণয় বলতে কি বোঝায়।
শেষে লেখক বেশ সাসপেন্স দিয়েই বইটা শেষ করলো,আরেকটু জানালে খারাপ লাগতো না।
বিশ্বসভ্যতায় তথা বিশ্ব সাহিত্যে ফিকশনের স্থান বরাবরই পাকাপোক্ত। আর ফিকশনের বিষয়বস্তুর মধ্যে সবচেয়ে সুপ্রাচীন বিষয় হলো প্রেম। অনুভূতির সমাহার অনেক হলেও মানুষ প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেই প্রথম সাহিত্য রচনা শুরু। আজ অব্দি রচিত হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার প্রেমের কবিতা, উপন্যাস, আখ্যান ইত্যাদি। জীবন যেনো প্রেমের আরেক নাম। আরব থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে এশিয়া পৃথিবীর সব ভুখন্ডে প্রেমের ওপর রচিত হয়েছে হাজারও আখ্যান। তবুও যেনো এই বিষয়ের ওপর কাহিনীর শেষ হয় না, একেক কাহিনী অন্য সব কাহিনী থেকে ভিন্ন এবং অনন্য। জগতে কত ধরণের প্রেমের মোড়! এরই ধারাবাহিকতায় ভাষা এবং ভালোবাসার মাসে এই বইমেলায় সুলেখক তানভীর অনয়ের প্রথম প্রেমের উপন্যাস "প্রণয়নামা" প্রকাশ হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনি।
বইটির কাহিনী মূলত দুটি প্রধান চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। দুটি বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দু'জন নারী-পুরুষ হলো উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। লেখক খুব চমৎকার ভাবে দুজনের চারিত্রিক বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলেছেন। গল্পের মধ্যেই বর্ণিত হয়েছে আরো কিছু গল্প। নজরুলের বাঁধনহারায় যেমন একেক চিঠিতে একেক ধাঁচের সাহিত্যশৈলীর দেখা মেলে, বিষয়টা অনেকটা এরকম। প্রেম, বিরহ, কমেডি সব মিলিয়ে বইটি একটি সাহিত্যরসের প্যাকেজ বলা চলে। সাহিত্য অনুরাগী মাত্রই বইটি কারো ভালো লাগবে।
নেতিবাচক দিক বলতে, গল্পের বিস্তৃতি আরও ব্যাপক হলে লেখাটি আরও সুপাঠ্য হতো বলে আমার মনে হয়। তবে লেখার গঠন এবং কাহিনীর ধারাবাহিকতায় এটি খুবই হালকাই অনুভূত হয়। তবুও পাঠকের মন বলে কথা! আরও চাই, আরও চাই নামক ক্ষিধে তো থাকবেই। পরিশেষে, তানভীর অনয় সহ এই সিনেমা নাটক ইউটিউবের যুগেও যেই লেখকরা লেখনীর মতো মহান শিল্পের হাল ধরে রেখেছে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা। এরা বেঁচে আছে বলেই সাহিত্য বেঁচে আছে, এরা থাকলেই প্রেম বেঁচে থাকবে।
ভালোবাসার সংজ্ঞাকে আমার মতে একটা নির্দিষ্ট ছকে ফেলা যায় না বা উচিত না। একেকজনের কাছে একেক রূপে ধরা দিতে পারে হৃদয়ের আবেগ অনুভূতি। যে কারণে ব্যক্তি বিশেষে ভালোবাসার ধরন আর সংজ্ঞা দুই-ই আলাদা হতে পারে। সময় আর যুগেরও অনেক ভূমিকা থাকবে স্বাভাবিকভাবেই। আধুনিক সময়ে ভালোবাসার সংজ্ঞাও আধুনিক, অস্থির, অনেকটা যান্ত্রিকও বটে, ভালোবাসাকে একেকজন চাইবেও একেকভাবে। সে যাই হোক, রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, "সখী, ভালোবাসা কারে কয়?", তেমন এ যুগ বা আসছে সময়েও এমন প্রশ্ন আসবেই। আর আমরাও নানান ভাবে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো।
প্রণয়নামা তেও ভালোবাসা ঠিক কি, তা বোঝার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। লেখকের আগের বইগুলোর সাথে একেবারেই মিল নেই। সম্পূর্ণ নতুন প্রচেষ্টা ছিল। যেটাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। বেশ সাবলীল বর্ণনা। তবে মূল গল্প কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। মনে হচ্ছিল একটা কিছু গড়ে উঠতে উঠতে হারিয়ে গেলো। ছোট্ট বইটায় সম্পর্কের জটিলতার আঁচ ছিল। সেসবকে আরেকটু বৃহৎ পরিসরে বর্তমান আর এখনকার মানুষের মনস্তত্ত্ব বিবেচনা করে বর্ণনা করলে ভালো কিছু হতে পারতো।
বইটির প্রচ্ছদটা যতোটা সুন্দর, বইটির গল্প বিন্যাস ঠিক ততটাই পাল্লা দিয়ে খারাপ মনে হয়েছে আমার কাছে। কোন ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট নাই, কাহিনীর কোন ডেপথ নাই, যেন হুট করে চরিত্ররা আসছে আবার চলে যাচ্ছে। শুধু লেখার জন্য লিখে যাওয়া। এমনকি কনক্লুশনে প্রবাহমান ঘটনাগুলোর যে একটা মিনিমাম ব্যাখ্যা থাকা দরকার সেটাও ছিলো না। যাদেরকে নিয়ে গল্প, সখিনা এবং অর্জুন, এই দুই মূল চরিত্রের কেমিস্ট্রি হওয়ার মতো একটা জায়গা আমি খুঁজে পাইনি।
কেন সখিনা ছদ্মনামে অর্জুনের সাথে মিশলো, কেন ই বা পরে আর কোন যোগাযোগ করলো না, অর্জুনের বাবার পরকীয়ার ঘটনা, সেটার এন্ডিং, কোন কিছুই আসলে ছিলো না।
এত সুন্দর দেখতে একটা বইয়ের গল্প এত খারাপ হবে কেন!🙁
বইটির নাম প্রণয়নামা, আচ্ছা যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় প্রণয় মানে কি ? আপনি কি বলবেন? এই বইয়ের প্রথমে যে গল্পটি আছে । সেটা ধরতে গেলে এই প্রশ্নটি নিয়েই । গল্পটা শুরু হয় সমসমায়িক এক প্রেমিক প্��েমিকা কে নিয়ে । মেয়েটি একদিন তাঁর প্রেমিক কে প্রশ্ন করে আচ্ছা প্রণয় মানে কি ? যদিও এইখানে একটা গল্প নেই । আরো গল্প আছে ? হ্যাঁ আছে , গল্প আছে আরো বেশ কিছু মানুষের। এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটি হলো ছোট ছোট চরিত্রগুলো খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে লেখক। চরিত্রগুলোর গল্প ছোট হলে তা যেন সম্পূর্ণ মনে হয়েছে ।
- লেখকের কোন লেখা নিয়ে আমার বলা উচিত হবে আমি জানি না !! প্রত্যেক লেখা ই আমার মনের খুব কাছে গিয়ে বিচরণ করে এই বইটির শেষ ৩-৪ লাইনে গিয়ে আটকে গেছি আমি - সে যেন আমার অনুভূতির কথাই লেখা - 💛 এভাবেই এগিয়ে যান আপনি, অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা, উপহার এর জন্য অনেক ধন্যবাদ 🌼 আরো অনেক লেখা চাই এমন 🌸💖
প্রণয় কি? ছোট্ট এই উপন্যাসের ছোট্ট, কিন্তু বেশ কঠিন একটা প্রশ্ন। অনয়ের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে পাঠক হয়তঃ নিজেও এর উত্তর খোঁজা শুরু করবেন। অনয়ের এই বইয়ের প্রচ্ছদটা সুন্দর। লেখনিও বেশ ঝরঝরে সহজবোধ্য। পড়তে পড়তে এক অদ্ভুত ভালো লাগাও কাজ করে, নস্টালজিয়াও। যাইহোক, আমার ক্ষেত্রে অনয়ের প্রশ্নের উত্তরটা দিয়ে দিই,
Anoy ভাইয়া এতো দারুণ লিখেছে বইটা। এক বসায় বইটা গত রাতে শেষ করলাম। বইটা পড়তে গিয়ে প্রথমে যতোটা ভালো লেগেছিলো শেষটায় এসে থমকে গিয়েছিলাম। মন ভালো করা থেকে হো হো করে হেসে উঠা এবং ভীষণ মন খারাপ করে বইটা শেষ হলো আমার।
এক কথায় অনবদ্য একটা বই। বই পড়ে একদম প্রেমে পড়ে গেছি। বরাবরই তানভির অনয় আমার খুবই পছন্দের একজন লেখক। সব সময় অপেক্ষা করি তার নতুন বইয়ের জন্য। এরকম লেখা আরো পড়তে চাই। শুভকামনা লেখক এবং তার বইয়ের জন্য। 💜😊
প্রণয়, প্রেম, ভালোবাসা! অদ্ভুত সুন্দর তাইনা? কিন্ত এই প্রণয় এর অর্থ কি? কেউ কি জানত প্রণয়লীলায় প্রেমিক জীবন হারাবে কিংবা কত ঝড় ঝন্জাট কতকি! প্রণয় এর অর্থ অন্বেষন ই হয়ত হয়েছে প্রণয়নামায়!