RATER TRAINER SANGI (A Collection of Stories for the Young) by Abhijnan Roychowdhury
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – চন্দন বসু
রাতের ট্রেনের সঙ্গী লোকটার ডান হাতটা ছোটো চাণক্য ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট ও কি আমি? নতুন মানুষ জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট অরিজিতের একটি দিন পৃথিবী ছাড়ার দিন ফিরে এল অনুপম দূরত্ব অচেনা জল চুরি বন্ধ জানলা আমরা নেই খুঁজে পাওয়া
ভ্যাকসিনের সেকেন্ড ডোজ নিতে এসেছিলাম। এসে দেখি টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হতে আরো ঘন্টা দেড়েক বাকি। এখন পরীক্ষার জন্য ম্যালাদিন নতুন বই পড়া হয় না এই ভেবে যে একটা বই শেষ না করে তো উঠবো না। তাই ছোট সাইজের কোনো বই পড়ার মতন আছে কিনা ঘাঁটতে ঘাঁটতে এই বইটা পেয়ে যাই।
ইনস্টাগ্রামে মুসা ভাইয়ার রিভিউ দেখেই বইটা নামিয়ে ফেলেছিলাম। ছোট ছোট ১৬টা গল্প, একদম এক বসায় শেষ করার মতন। সাই-ফাই আর হরর- দুই জনরার গল্পই এখানে পাবেন। হরর বলতে গা ছমছম করবে এমন কিছু না, তবে মেদহীন ঝরঝরে লেখা। হররের চাইতে বোধহয় সাই-ফাই গল্পগুলো পড়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীর কথা ভেবে ভয় পেতে পারেন :V পানির অভাবে একজন দিনে দুই বোতলের বেশি পানি পাবেন না, চোর আবার সেই পানি চুরি করতে আসবে; বইয়ের মরে যাওয়া চরিত্র জীবিত হয়ে ফিরে আসা; এক লেখকের ভক্ত হওয়ায় তার ৫০ হাজার ক্লোন তৈরি- এমনই সব পাঁচ মিশালী গল্প পাবেন এই বইয়ে৷
কিশোর সাহিত্যের পাঠক, সমালোচক, এবং অনুরাগী-মাত্রেই অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর নাম এবং লেখার সঙ্গে পরিচিত| বাংলা ভাষায় ইয়ং এডাল্ট জঁর-এর আলাদা করে অস্তিত্ত্ব না থাকলেও অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও স্মার্ট এবং দুনিয়াদার ছেলেমেয়েদের জন্যে কল্পবিজ্ঞান, রহস্য-রোমাঞ্চ, এবং ভৌতিক গল্প যাঁরা নিষ্ঠাভরে লিখে চলেছেন তাঁদের মধ্যে লেখক অন্যতম| তাঁর এক ঝাঁক লেখাকে দু’ মলাটের মধ্যে বন্দি করে এই সুমুদ্রিত সংকলনে পাওয়া গেল বলে শিশু সাহিত্য সংসদের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গল্পগুলোর কথায় আসি, তবে এই ‘বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ’-টিও দিয়ে রাখি যে নাম শুনে ভূতের গল্পের বই বলে মনে হলেও এতে ভূতের পাশাপাশি কল্পবিজ্ঞান, তথা বিজ্ঞান-আধারিত বেশ কিছু গল্প আছে| যেসব গল্প এই সংকলনে স্থান পেয়েছে তারা হল: -
১. রাতের ট্রেনের সঙ্গী: হ্যাঁ, নাম শুনে যা মনে হয় এটি তাই, অর্থাৎ একটি ভূতের গল্প| কিন্তু তার মধ্যেই লেখক নিজস্ব পদ্ধতিতে মিশিয়ে দিয়েছেন জীবনের কিছু মর্মান্তিক সত্যি, আর ম্যাজিক| ২. লোকটার ডান হাতটা ছোটো: অদ্ভূত রসের এই গল্পটি এক কথায় দুর্দান্ত, কিন্তু লেখক নাম-হিসেবে একটা গোটা বাক্য কেন যে ব্যবহার করতে গেলেন....| ৩. চাণক্য: হয়তো প্রেডিক্টেবল, হয়তো বিজ্ঞানের তুলনায় কল্পনার প্রাধান্য বেশি, কিন্তু এই গল্পে ছড়িয়ে আছে দেশপ্রেমের এক অনুপম সুবাস, যা গল্পটাকে এক সম্পূর্ণ আলাদা মাত্রা দেয়| ৪. ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট: টম গডউইনের লেখা “দ্য কোল্ড ইকুয়েশনস”-কে কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি মর্মস্পর্শী গল্পগুলোর অন্যতম বলে ধরা হয়| বিশ্বাস করুন, এই গল্পটা সেটাকে টেক্কা মারবেই, এমনকি রিচার্ড ম্যাথেসন-এর বেশ কিছু গল্পকেও এটা পেছনে ফেলে দেবে বলে আমার ধারণা| ৫. ও কি আমি?: নিছক ভূতের গল্প নয়, এ এক বিশুদ্ধ অদ্ভূত রসের গল্পও বটে, যেমনটি পড়ার সুযোগ আমরা পাইই না| ৬. নতুন মানুষ: কল্পবিজ্ঞান আর মানবিকতা মিশে গেছে এই বুকের মাঝে চিনচিনে ব্যথার জন্ম দেওয়া গল্পে| বিজ্ঞানের আরাধনায় মানুষ যে শুধু পায় না, অনেক কিছু হারায়ও বটে, তার একটি স্ন্যাপশট হল এই গল্পটি| ৭. জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট: লেখকের সৃষ্টি এবং আমাদের সবার প্রিয় বিদুষী, সাহসী, প্রবলভাবে অ্যাডভেঞ্চারাস নায়িকা অনিলিখার বয়ানে লেখা এই গল্পটি দুর্ধর্ষভাবে শুরু হয়েও কেমন যেন হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেল| আর একটু অ্যাকশন-প্যাকড ক্লাইম্যাক্স হলে কী ক্ষতি হত? ৮. অরিজিতের একটি দিন: অনীশ দেবের লেখা অন্যতম সেরা শ্বাসরোধী থ্রিলার “সন্দেহের এক কণা”-কে মনে করিয়ে দেওয়া এ এক কল্পবিজ্ঞান কাহিনি, তবে বিয়োগান্ত না হয়ে এর শেষটা হয়েছে লেখকের নিজস্ব মন-ভালো-করা স্টাইলে| ৯. পৃথিবী ছাড়ার দিন: এও এক সত্যজিৎ রায়ের “অনুকূল” ঘরানার কল্পবিজ্ঞান কাহিনি, তবে এর শেষটা আরও মিষ্টি| ১০. ফিরে এল অনুপম: মানবিকতার অপরূপ স্বাদে ভরা এমন এক-আধটা গল্পের জন্যে অনেক মাইল হাঁটা যায়| ১১. দূরত্ব: কল্পবিজ্ঞানের মোড়কে চিরন্তন এই গল্পটার একটাই বিশেষণ হয়: দারুণ! এমন গল্প পড়ার পর এই আকালেও গল্প নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়| ১২. অচেনা: শুধু কল্পবিজ্ঞান বা ভূত নয়, হাসির নিটোল গল্প লেখায় যে লেখক কতোটা দক্ষ তার প্রমাণ পাওয়া যায় এই গল্পটায়| গল্পটা পড়ার পর শুধু এটাই বলতে ইচ্ছে করে: “আরও লিখুন”! ১৩. জল চুরি: কল্পবিজ্ঞান না বলে একে অতি সংক্ষিপ্ত, হালকা, ও মজাদার উপাখ্যান বললেই ঠিক হবে| ১৪. বন্ধ জানলা: ভূতের গল্প নয়, এ এক বুকের ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস নিংড়ে আনা গল্প| লেখকের মাপা কলম-কে সেলাম জানাতেই হয় এই গল্প পড়ে| ১৫. আমরা নেই: কল্পবিজ্ঞান আর মানবিকতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এই ছোট্ট কিন্তু রুদ্ধশ্বাস গল্পে| অবশ্যপাঠ্য| ১৬. খুঁজে পাওয়া: কল্পবিজ্ঞানের পোশাক পড়া এই মানবিক গল্পটি নিয়ে আমি কোন কথা বলতে অপারগ, কারণ গলার কাছটা এখনও কেমন যেন বুঁজে আছে| এমন বিশুদ্ধ মনুষ্যত্বের কাহিনি এই সময়ে খুব কমই পড়তে পাই আমরা|
তাহলে শেষ বিচারে কী দাঁড়াল? লেখকের তরফে কোনও “মুখবন্ধ” এবং গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশ সংক্রান্ত কোন তথ্য না থাকলেও, এবং চন্দন বসুর অলঙ্করণ বেশ মোটা দাগের হলেও, শুধুমাত্র গল্পের দাপটেই পাঁচে-পাঁচ ছাড়া এই বইটিকে কিচ্ছু দেওয়া যাচ্ছে না| পড়ে ফেলুন শিগগির!
বাতিঘরে হঠাৎ আবিষ্কৃত এই ছোটগল্পের বইটা যে এত ভালো লেগে যাবে, বুঝিনি। মোট ষোল্পটা গল্প। কয়েকটা অতিপ্রাকৃত ঘরানার এবং বাকিগুলো সাইফাই। কোন গল্পেই জড়তা নেই, একটানা পড়ে যাওয়া যায়। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে অরিজিতের এক দিন, আমরা নেই এবং লোকটার ডান হাতটা ছোট।
Excellent short stories collection. Writer has a good vision about what he wants to present, and writing is mostly good. Topic are often unique. But, the characters here are rather lonely. That's the constant vibe throughout the stories. Maybe that's the future indeed! Who knows?
A must read for short story lovers, sci-fi fans will enjoy this. But, there are a few supernatural stories as well.
ষোলটা নির্ভেজাল সহজ গল্প। অধিকাংশের পটভূমি ভবিষ্যতে, যদ্দিনে সৌরজগতে উপনিবেশ পেতেছে পৃথিবীর মানুষ, পাশাপাডি ফ্ল্যাটের লোকের দেখা হপচ্ছে দশ বছরে একবার, জেনেটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে পছন্দমতো পারফেক্ট সন্তান তৈরী করে নিচ্ছে মানুষ। প্লটগুলো শুনতে মনে হবে গভীর ভাবসম্পন্ন গল্প তৈরী করা যাবে ওসব থেকে, কিন্তু লেখক তা করেননি, গল্পগুলো রেখেছেন অনেক কল্পনানির্ভর, শিশুতোষ। হরর আবহের গল্পও আছে দু-চারটা। তাও আহামরি ভয়ের না, তার সাথে অল্প একটু জীবনবোধও এনেছেন। বেশ উপভোগ্য ছিল এই বইটা। প্রতিদিন রাতে একটা করে গল্প পড়ে ঘুমুতে যেতাম, আর মুড পাল্টাতেও হাতে তুলে নিতাম। মজার ব্যাপার হলো, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ চমকপ্রদ আইডিয়া দেখিয়েছেন লেখক, ভবিষ্যতের পৃথিবীর সাইফাই এলিমেন্ট হিসেবে। ওগুলো পড়ে চমৎকৃত হবার যেমন ব্যাপার ছিল, তেমনই শিশুতোষ সারল্যও একটা চিকেন স্যুপ সুলভ অভিজ্ঞতা দিয়েছিল।
নিজে পড়ুন। বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পড়ুন বা পড়তে দিন। গভীরে দেখতে চাইলেও দেখার মতো বিষয় আছে। আমি সে চেষ্টা করিনি।
ছোট গল্পের বই। সাই-ফাই, মিস্ট্রি, হরর সব মিলিয়ে ১৬টা ছোট ছোট গল্প। হরর বলতে যে গা ছমছম করা ভয় পাওয়ার মতো তা নয় তবে সুন্দর। সাইন্স ফিকশনগুলো পড়ার পর থেকে ভাবছি না জানি অদূর ভবিষ্যতটা এমনই যান্ত্রিক আর অসুন্দর হয়ে যাবে কিনা! প্রতিটা গল্পই সুন্দর। তবে আমার সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে লোকটার ডান হাতটা ছোট, চাণক্য, জাঁ রোনোর ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট, আমরা নেই, জলচুরি, অরিজিতের একদিন এই গল্পগুলো।
“There's always room for a story that can transport people to another place.” ― J.K. Rowling
ঠিক এমনটাই মনে হল অভিজ্ঞান রায়চৌধুরির 'রাতের ট্রেনের সঙ্গী' গল্প সংকলন পড়ে। লেখক ভূয়োদর্শী। বহু/অনেক দেখেছেন, বিশ্ব জুড়ে ঘুরে বেড়াবার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে ফিকশনের দুরন্ত ঘোড়ায় সওয়ার করে ছুটিয়েছেন গাড়ি। আসুন, তাঁর সঙ্গী হই।
বইয়ের গল্প সংখ্যা ১৬। * রাতের ট্রেনের সঙ্গী * লোকটার ডান হাতটা ছোটো * চাণক্য * ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট * ও কি আমি? * নতুন মানুষ * জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট * অরিজিতের একটি দিন * পৃথিবী ছাড়ার দিন * ফিরে এল অনুপম * দূরত্ব * অচেনা * জল চুরি * বন্ধ জানলা * আমরা নেই * খুঁজে পাওয়া
'রাতের ট্রেনের সঙ্গী'... শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটা হরর গল্প। অন্তত আমার তা-ই মনে হয়েছিল এবং বাস্তবেও হরর। ইতালির ফুটবলাররা ইতালিকে যত বিখ্যাত বানিয়েছে ততটাই কুখ্যাত ইতালি তার চোর-ছিনতাইবাজদের জন্য, নায়ক মেট্রো রেলে চোরের পাল্লায় পড়বে কিনা সেই ভয়েই অস্থির। দেখা পায় এক বৃদ্ধের। সে কি চোরেদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে নায়ককে? নাকি গল্প নেবে অন্য বাঁক? দুর্দান্ত একটা গল্প। ওপেনিং করার জন্য একেবারে পারফেক্ট!
ক্রিকেটে ওপেন করতে দুজন তো লাগেই। সচিন থাকলে সেহবাগকেও লাগবে। যোগ্য সঙ্গত দিতে তিনিও হাজির। 'লোকটার ডান হাতটা ছোটো', গল্পতা তুখোড়! সত্যজিৎ ঘরানার গল্প। এতোটুকু মেদ না রেখে ভয়ের আবহাওয়া তৈরিতে কোন কার্পণ্য লেখক মশাই করেননি। সুন্দরবনের এক গ্রাম থেকে এক বিখ্যাত চিত্রকর একটি ছবি কিনে আনেন। নিজের প্রদর্শনীতেঁ রেখে চালাতে চেষ্টা করেন নিজের নামেই, আর তার দিয়েছিলেন কিছু চেঞ্জিং টাচ। কিন্তু আদৌ ছবিতে সেসব পরিবর্তন কি ফল এনেছিল? বা আনলে ঠিক কী ফল এনেছিল? আমি জানতাম না হরর গল্প লেখকের কলমে এত ভালো খেলা করে। মহারাজা, তোমারে সেলাম...সেলাম, সেলাম, সেলাম।
চাণক্য --- বিশুদ্ধ কল্পবিজ্ঞান। আর লেখকের নিজস্ব মানবতা ও মানবিকতার পাঞ্চড ক্যাপসুল। একদম ঠিকঠাক ভাবে পেশ করেছেন। মাঝে মানুষ মানবতার কথা ভুলে যায়, নিজের বানানো নিয়ম ভুলে যায়, কিন্তু যদি কোনও রোবটের মস্তিস্কের মধ্যে সেসব টুকে দেওয়া থাকে, সে-ও কি ভুলে যাবে? সে তখন সে কথা পালন করবে নাকি রোবোটিক্সের ল-ই বদলে দেবে? এক কথায় অনবদ্য।
'ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট'। এই গল্পের কথা আগে শুনেছিলাম, এবার পড়লাম। শুনেছিলাম মানবিকতা দিয়ে এমন কল্পবিজ্ঞান লেখা বড়োই কঠিন। বাস্তবে আমিও মেনে নিলাম, পড়ার পর এটাই মনে হয়েছে। কিন্তু পড়তে গিয়ে কিছু (একটি লেখায় এবং ইলাসট্রেশনে বড় গলদ) ডিফেক্ট আমার চোখে ধরা পড়েছে। সেসব বলা রিভিউতে ঠিক নয়, স্পয়লার হয়ে যাবে।
'ও কি আমি?' একটি হরর গল্প। একটি বাচ্চা ছেলে একটি ঘরে হারিয়ে যাবে। অতি সাধারণ গল্প। এর আগে বা পরে কিছু দুর্দান্ত গল্পের ভিড়ে ম্লান মনে হয়েছে।
'নতুন মানুষ' পড়তে পড়তে 'জুমানজি' সিনেমাটা মনে পড়ছিল। না মোটেও লেখক সেখান থেকে টুকে দেননি, কিন্তু একটা খেলার কথা আছে সেখানে এটাই মনে করিয়ে দিল। বুঝতে পারিনি একটা সিরিয়াস সায়েন্স ফিকশন পড়ে চলেছি। ক্লোনিং নিয়ে আদ্যন্ত সাসপেন্স ভরা গল্প। খেলাধূলার প্রতি লেখকের একটা বাড়তি টান আছে। এই গল্পেও তার ছাপ উনি রেখেছেন।
'জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট', মুন্সিয়ানার প্রকাশ করেছেন লেখক। গল্পের নামে বোঝাই যাচ্ছে ঠিক কোন ঘটনাকে ঘিরে গল্প গড়ে উঠছে। টুইস্ট আসবে শেষ লাইনে। তাই নখ কাটুন আর গল্পটা পড়ুন, নিজে পড়ুন।
'অরিজিতের একটি দিন'। আহ! কী পড়লাম। জন্ম জন্মান্তরেও ভুলব না। শুধু এই গল্পটা পড়ার জন্যেই বইটা কিনে ফেলা যায়। মুগ্ধ! আগামী পৃথিবীতে এমন এক কার্ড আসতে চলেছে যেটা ছাড়া আপনার কোনও অস্তিত্ব নেই। নেই মানে নেই। কারণ আপনার ঠিকুজি - কুলুজি সব ওতেই আছে। আর সেটা গেল হারিয়ে। কী ঘটবে? বিপর্যয়? হাজারিকা সাহেব গেয়েছিলেন, 'মানুষ, মানুষের জন্য...' সেই বেদবাক্য কি কাজে দেবে? হারিয়ে যাওয়া কার্ড না পেলেও কি আপনার প্রেয়সী আপনাকে চিনতে পারবে না? তাহলে তো সবাই যন্ত্র হয়ে যাবে। নাকি অন্য কিছু...!
'পৃথিবী ছাড়ার দিন' হল ১০০% সায়েন্স ফিকশন। আজ আমরা বুড়ো বাপ-মায়েদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাই, পরে তাদের পাথাবেন মঙ্গল গ্রহে। কারণ এত বেড়ে যাবে মানবায়ু যে এ ধরায় কুলান হবে না। এক মর্মভেদী গল্প। অনন্তকে ছুঁয়ে দেখা। অসাধারণ ভাবনা।
'ফিরে এল অনুপম'-এই গল্পটা আমার চিন্তাভাবনাকে বেশ ঝাঁকিয়ে দিয়ে গেছে। আমার আন্দাজ ছিল না যে ছেলে-বুড়ো সকলে মিলে পড়তে পারবে এমন সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার লেখা যায়। গল্পটা নিয়ে কিছু বলতে গেলে সাসপেন্স নষ্ট হয়ে যাবে। টাইট লিপড। নাউ রিড।
'দূরত্ব', 'জল চুরি' দুটি গল্পই সুপার সায়েন্স ফিকশন। তবে মূল প্লটের মধ্যে রিডানডেন্সি রয়েছে বলে মনে হয়। তবে দুটি গল্পই নীতি শিক্ষার ক্ষেত্রে মাপকাঠি বলে ধরা চলে।
'অচেনা'কেও আমি সায়েন্স ফিকশন বলে ধরে নিচ্ছিলাম, কিন্তু আল্টিমেট টুইস্ট এটাকে বদলে দিয়ে গেল। হাসির গল্প। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।
'বন্ধ জানলা' ভূতের গল্প। কিন্তু আমার মতে গড়পড়তা। লেখকের প্লট নির্বাচন আমার মনে সাড়া জাগায়নি।
'আমরা নেই', আবার সায়েন্স ফিকশন। লেখকের প্রিয় ক্ষেত্র এবং তুলে ছক্কা! বাপি বাড়ি যা, যা না।
'খুঁজে পাওয়া' সায়েন্স ফিকশনই বটে। এক বাবার আকুতি তার হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পাবার জন্য। তিনি কি পাবেন? গল্পে এল টুইস্ট, দেন এনাদার ওয়ান। বই শেষ করার জন্য একেবারে সঠিক চয়ন। ধোনির হেলিকপ্টার শট মেরে বিশ্বকাপ আনার মত।
যে কম দামে শিশু সাহিত্য সংসদ এত সুন্দর প্রোডাকশন করেছে তা অবশ্যই কাবিল - এ - তারিফ! কিন্তু প্রচ্ছদ এবং ইলাস্ট্রেশন নিয়ে আমার অভিযোগ গুরুতর হল।
'রাতের ট্রেনের সঙ্গী' বইটা একেবারে মুগ্ধ হয়ে পড়লাম অভিজ্ঞান দা। ষোলোটা গল্পের প্রত্যেকটার মধ্যেই একটা নিজস্বতা আছে।আর শুধু কি তাই ? এ বলে আমায় দেখ...তো ও বলে আমায় দেখ....আমি দেখে গেলাম আর অবাক হয়ে গেলাম..... কল্পবিজ্ঞানের গল্প পড়ে যে কারো মন কেমন করতে পারে, সেটাও আপনার লেখা পড়েই বুঝেছি। ' ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট', ' পৃথিবী ছাড়ার দিন', ' খুঁজে পাওয়া' , ' দূরত্ব', ' নতুন মানুষ'...এই গল্পগুলো কল্পবিজ্ঞানের হলেও হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়। বিজ্ঞানের অতিরিক্ত উন্নতিও যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা ভাবলে সত্যিই খুব চিন্তা হয়। 'বন্ধ জানলা' আর ' ও কি আমি ?' পড়ে বেশ গা ছমছমে অনুভূতি হয়েছে, স্বীকার না করে পারলামনা। ' রাতের ট্রেনের সঙ্গী',' লোকটার ডান হাতটা ছোটো', ' চাণক্য', ' আমরা নেই'...এই গল্পগুলিও এক অদ্ভুত রহস্যময় আনন্দ দিয়েছে। ' জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্ল্যান্ট' পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক একটা গল্প। এটা পড়ার আনন্দই আলাদা। ' ফিরে এল অনুপম' এর প্লট টা একদম নতুন ধরণের । দারুণ চমকে দিয়েছে। এবার ভাবছি...আপনার ছোটগল্পের সংকলন গুলো সব একে একে কিনব আর পড়ব। এতদিন উপন্যাসগুলোই পড়েছি। ছোটগল্প গুলো ও যে কী দারুণ আকর্ষণীয় , তা বেশ বুঝে গেছি। খুব ভালো থাকুন দাদা আর এরকমই সুন্দর সুন্দর গল্প আমাদের উপহার দিতে থাকুন।
পড়ার জন্য থ্রিলার-হরর-মিস্ট্রি জনরার বই খুঁজতে খুঁজতে এই বইয়ের সন্ধান পেলাম। ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচের ছোট গল্পের সংকলন এই বইটি। এতে দেশী-বিদেশী ধাঁচের সাথে আছে কয়েকটি সাই-ফাই/কল্পবিজ্ঞান জনরার রোমাঞ্চকর গল্প। গল্পগুলো বেশ ভালো। লেখক ভিন্ন ভিন্ন জনরার গল্প এতো সুন্দরভাবে স্বকীয়তা বজায় রেখে উপস্থাপন করেছেন যে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমার পছন্দের গল্প ছিল এগুলো-১। লোকটার ডান হাতটা ছোটো২। চাণক্য৩। অরিজিতের একটি দিন৪। জল চুরি৫। জাঁ রেনোর ব্রেন ট্রান্সপ্ল্যান্ট‘অরিজিতের একটি দিন’ গল্পটি বিশেষ করে ভাবিয়েছে আমাকে আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক কিরকম আধুনিক হবে তা নিয়ে। হয়তো আসলেই তখন লোকাল বাসের লোকাল প্লেন ধরে মানুষ কলকাতা থেকে ইউরোপ যাবে অফিস করতে! হতেই পারে! বেশ ইন্টারেস্টিং বই ছিল। এ ধরণের বই আসলে খুব একটা চোখে পরে না। দুই একটা যা-ই পড়েছি, উপভোগ করেছি। লেখক ভালো লেখেন। তাঁর জন্য শুভকামনা।
সবই সাই-ফাই, কিছুটা হরর ঘরানার লেখা। প্রত্যেকটা গল্প সত্যি ভালো। বিশেষ করে sci-fi লেখাগুলোর পরিণতি আগে থেকে ধরা সম্ভব নয়।
টানটান লেখা, কোথাও অতি লেখনী নেই। লেখকের লেখার সাথে প্রথমবার ভালো করে পরিচিত হলাম। এর আগে ১-২ টো লেখা পড়েছি, মোটামুটি লেগেছিলো। কিন্তু এই গল্প সংকলনটা আগের ভালোলাগা কেও ছাপিয়ে গেছে। সমসাময়িক লেখকদের ছোটগল্প সংকলনে এই বইটা আমার কাছে সবচেয়ে এগিয়ে।
এর মধ্যে ম্যানুফ্যাক্টরিং ডিফেক্ট, ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট, অরিজিতের একটা দিন, পৃথ্বী ছাড়ার দিন, জল চুরি, খুঁজে পাওয়া গল্প গুলো কল্প বিজ্ঞানের হলেও ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা করতে বাধ্য করায়।
Dan Brown এর একটা লেখায় আছে "Everything is possible, the impossible just takes longer"
"রাতের ট্রেনের সঙ্গী" বইটিতে মোট ষোলটি গল্প আছে। প্রত্যেকটি গল্পই তার নিজস্বতার গুণে স্বতন্ত্র জায়গা অধিকার করে নিয়েছে। এখানে ভিন্ন স্বাদের (হরর,সাইন্স ফিকশন...যদিও বেশির ভাগই সাইন্স ফিকশন,তবে বিভিন্ন রকমের) গল্প আছে তাই একঘেয়ামির কোনো কারণ নাই।
এখানের মধ্যে সবথেকে আমার যেগুলো ভালো লেগেছে, সেগুলো হলো - রাতের ট্রেনের সঙ্গী(horror), লোকটার ডান হাতটা ছোটো(horror),চাণক্য (কল্পবিজ্ঞান), ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট(কল্পবিজ্ঞান), পৃথিবী ছাড়ার দিন (সাইন্স ফিকশন)।
এবার আসি যেগুলো আমার সেরকম ভালো লাগেনি। যেমন - "দূরত্ব"(সাইন্স ফিকশন) গল্পটা, এটা যে কি ছিল কিছুই বুঝতে পারলাম না ; "নতুন মানুষ" কল্পবিজ্ঞানের গল্প হলে ঠিক মজা পেলাম না ; " জল চুরি"(সাইন্স ফিকশন) গল্পটি নিতান্তই সাধারণ মনে হলেও হয়ত ভবিষ্যতে আমাদেরও এরকমই দশা হবে যে পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে।