যিনি গোলা ছোড়েন, তিনি হলেন গোলন্দাজ। কিন্তু আন্দাজকেও ছাপিয়ে যাওয়ার লেভেলের গুল যিনি ছোড়েন, তাঁকে কি গুলন্দাজও বলা যায় আদৌ?
নাহ্, চাণক্য চাকলাদারের জন্য কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়। তিনি একেবারেই একমেবাদ্বিতীয়ম।
এহেন মানুষ (এই নশ্বর দু'পেয়ে পরিচয়ে তাঁকে আটকাতে হচ্ছে বলে বড়োই লজ্জিত হচ্ছি)-টির যাবতীয় কীর্তিকাহিনি এতদিনে সুমুদ্রিত, অতীব সু-সম্পাদিত হয়ে দু'মলাটের মধ্যে বন্দি হল। গতকাল থেকে সেটাই পড়লাম। আকাশ থেকে পড়লাম, পড়েই চললাম— এমন বললেও অত্যুক্তি হয় না।
কেন? বলছি। আগে লিখি, এই বইয়ে ঠিক কী-কী আছে।
বইয়ের শুরুতে তাপস কুমার দাস একটি অসাধারণ ভূমিকায় এই লেখাগুলোর তথা তাদের স্রষ্টার মনোজগতের পটভূমিটি বর্ণনা করেছেন। এরপর এসেছে~
(ক) উপন্যাস:
১. চাণক্য চাকলাদারের বিচিত্র কীর্তিকথা;
২. আবার চাণক্য চাকলাদার;
৩. দ্বিতীয় কুম্ভকর্ণ;
৪. তুহিন-তমাল শ্বেত-প্রহেলিকা।
(খ) গল্প:
১) চাণক্য চাকলাদার আর প্রহেলিকা;
২) দু-বোতল চাটনি;
৩) চাণক্য চাকলাদার ও মমি;
৪) ভুতোকাশি সিরাপ;
৫) ভূতেরা বিজ্ঞান চায় না;
৬) চাণক্য চাকলাদার ও বনমানুষের পা;
৭) শৈত্য নামক দৈত্য;
৮) আরব্য আতঙ্ক;
৯) তেজস্ক্রিয় মণিক;
১০) ভয়ংকর ভুডু;
১১) জীবন্ত পাথর;
১২) ভার্গব বসুর হারানো মাথা;
১৩) পাইনবনের প্রহেলিকা;
১৪) মেডুসার মুন্ডু;
১৫) রসাতল রহস্য;
১৬) বেড়াল মমি;
১৭) গুলবাজ চাণক্য ও বইমেলা;
১৮) পুষ্পকের পরিণতি;
১৯) ভূত গ্রহ;
২০) লঙ্কাকাণ্ড।
শেষে পরিশিষ্ট অংশে স্থান পেয়েছে প্রথম প্রকাশের সঙ্গে থাকা অলংকরণ এবং অদ্রীশের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন পৃষ্ঠার প্রতিলিপি। এছাড়া প্রতিটি গল্পের সঙ্গেই থেকে প্রথম প্রকাশ-বিষয়ক তথ্য।
বইটা পড়ে বুঝলাম, চাণক্য চাকলাদার আসলে অদ্রীশের কল্পনাশক্তির একটি মূর্ত রূপ।
কখনও তিনি জেমস বন্ড বা চাক নরিসকেও লজ্জায় ফেলে দেওয়া সুপারস্পাই, কখনও তিনি নানা জিনিসের বিক্রেতা ও শখের গোয়েন্দা, কখনও তিনি বৈজ্ঞানিক অভিযানে যুক্ত থেকে ভয়াল-ভয়ংকর নানা অভিজ্ঞতার শিকার। পাঁচটি মহাদেশেই গেছেন চাণক্য— কখনও একা, কখনও প্রফেসর নাট বল্টু চক্রর সঙ্গে, কখনও অতীতে, কখনও সমকালে। তাঁর সঙ্গে মোলাকাত হয়েছে ভিনগ্রহী, ভূত, অন্য ডাইমেনশনের প্রাণী, বন্ডের ভিলেইনদেরও একেবারে তুশ্চু করে দেওয়া মানুষ ইত্যাদি নানা ধরনের জীব বা অপজীবেদের। কিন্তু কিছুতেই তাঁর কিছু হয়নি। তিনি দুর্মর, দুর্ধর্ষ, অপরাজেয়।
চাণক্যের মাধ্যমে কখনও অদ্রীশ রোয়াল্ড ডালকে বঙ্গীকৃত করেছেন, কখনও বা সেই সৌভাগ্য হয়েছে লাভক্র্যাফটের বা বারোজের। মহাবিশ্বের অন্য কোণ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ঘুরে একেবারে বইমেলায় পৌঁছেছি আমরা এই বীরের হাত, মাথা এবং অহিফেন ও চুরুট সেবনের প্রভাবে কাহিল অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধরে।
এই চরিত্রের তথা এই বই নিয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই; বলার ক্ষমতা নেই বলাই ভালো।
পড়ুন, তবে সঙ্গে অন্য কিছু সেবন করবেন না। নইলে দ্রব্যগুণের আধিক্যে অফিসে বসে হ্যাংওভার অনিবার্য— আমার যেমনটি হয়েছে।