‘জীবনের জাগরণ’ সিরিজ অত্যন্ত সমাদৃত, পাঠকপ্রিয় একটা সিরিজ। আমাদের নৈমিত্তিক ভুল আর ভ্রান্তিগুলোর তালিকা তৈরি করে, গল্প, আড্ডা আর স্মৃতিচারণ করতে করতে এই সিরিজের মাধ্যমে খুঁজে আনা হয় সেই ভুল আর ভ্রান্তির সমাধান। যাপিত জীবনে জড়িয়ে থাকা সাধারণ ঘটনা, আপাতদৃষ্টিতে যেগুলোকে সামান্য আর ক্ষুদ্র বলে মনে হয়, সেগুলো থেকেও বের করে আনা হয় চিন্তার রসদ। ‘বেলা ফুরাবার আগে’, ‘এবার ভিন্ন কিছু হোক’ বই দুটো ছিলো এই সিরিজের প্রথম দুই কিস্তি। এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি হিশেবে, পাঠকদের কাছে দ্রুতই হাজির হচ্ছি ‘হায়াতের দিন ফুরোলে’ বইটিকে নিয়ে, ইন শা আল্লাহ। হায়াতের দিন ফুরিয়ে গেলে নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ। সেই অবধারিত, অনিবার্য ক্ষণটা চলে আসার আগে, আমরা আরেকবার জীবনের পেছনে তাকাতে পারি। নতুনভাবে করতে পারি অনেক হিশেব-নিকেষ। সেই হিশেব-নিকেষের ঘটনায়, ‘হায়াতের দিন ফুরোলে’ বইটা আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে, ইন শা আল্লাহ।
আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোকবর্তিকা - লেখক আরিফ আজাদকে বর্ণনা করতে গিয়ে একথাই বলেছেন ডঃ শামসুল আরেফিন। গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছে, “তিনি বিশ্বাস নিয়ে লেখেন, অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণবিচুর্ণ করেন।” আরিফ আজাদ এর বই মানেই একুশে বইমেলায় বেস্ট সেলার, এতটাই জনপ্রিয় এ লেখক। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে সবচেয়ে আলোড়ন তোলা লেখকদের একজন আরিফ আজাদ।
১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া এ লেখক মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম জিলা স্কুলে। একটি সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার প্রথম বই ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশ পায়। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিদ বিভিন্ন কথোপকথনের মধ্যে তার নাস্তিক বন্ধুর অবিশ্বাসকে বিজ্ঞানসম্মত নানা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে খণ্ডন করে। আর এসব কথোপকথনের মধ্য দিয়েই বইটিতে অবিশ্বাসীদের অনেক যুক্তি খণ্ডন করেছেন লেখক। বইটি প্রকাশের পরপরই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এটি ইংরেজি ও অসমীয়া ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ - ২’ প্রকাশিত হয়ে এবং এটিও বেস্টসেলারে পরিণত হয়। সাজিদ সিরিজ ছাড়াও আরিফ আজাদ এর বই সমগ্রতে আছে ‘আরজ আলী সমীপে’ এবং ‘সত্যকথন’ (সহলেখক) এর মতো তুমুল জনপ্রিয় বই।
6/5⭐ Remaining chapters: চ্যাপ্টার ৯ : হৃদয়ের রোগ চ্যাপ্টার ১০ : তাহাদের আয়নাতে আমাদের মুখ চ্যাপ্টার ১১ : চাঁদের জীবন চ্যাপ্টার ১২ : বিত্তের ব্যবচ্ছেদ চ্যাপ্টার ১৩ : যে স্বপ্ন জীবনের চেয়েও বড় চ্যাপ্টার ১৪ : বাড়তি দুটো সেজদাহ চ্যাপ্টার ১৫:শুভাকাঙ্ক্ষী অথবা শুভঙ্করের ফাঁকি চ্যাপ্টার ১৬ : একই মৃত্যু, ভিন্ন রেখা পাতে চ্যাপ্টার ১৭ : চোখ ঘুম ঘুম রাত্রি নিঝুম নিঝুম নিরালায়।
🟣💜Arif Azad is now my favourite author for Islamic books. His writing style is really simple clear and addicting. This other has an ability to catch the attention of a reader by using a lot of real life examples and the story of prophets and the sabas ( may the blessing and peace upon them). I did not rush to read this and took notes from every chapter. Looking forward to reading more from this author.
This entire review has been hidden because of spoilers.
পছন্দের লাইন - "জীবন আসলে গুলিস্তান থেকে চিটাগাং রোড যাওয়ার রাস্তাটুকু। শ্বেই সময়টুকুতে ভালো ব্যাপারে যেমন ঘটতে পারে, খারাপ ব্যাপারও ঘটতে পারে ততোধিক। এসবকে সামলে নিয়ে বাঁচতে হোয় একটা জীবন"
বইটি ‘জীবনের জাগরণ’ সিরিজের তৃতীয় কিস্তি। 'বেলা ফুরাবার আগে' বই দিয়ে এই সিরিজের যাত্রা শুরু হয়,যেই বই আমার জীবন পরিবর্তন করেছে,আমার হিদায়াতের উসিলা।আলহামদুলিল্লাহ।
মৃত্যু অতি সন্নিকটে।যেকোনো সময় নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ। হায়াত ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তাই আমাদের পরকালের প্রস্তুতি নিতে হবে,দুনিয়ার জীবন থেকেই কুড়িয়ে নিতে হবে পরকালের জীবনের রসদ।এই বইটি আপনাকে প্রত্যাবর্তনের পথ দেখাবে,রবের সাথে আপনার সম্পর্ক মজবুত করবে,দুনিয়াকে ভিন্ন চোখে,ভিন্ন আয়নায় দেখার একটি মাধ্যম হতে পারে এই বইটি।
বইয়ে মোট ১৭ টি অনুচ্ছেদ আছে। কুরআন-হাদীসের আলোকে প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘটনা থেকে শিক্ষনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। আমার কিছু প্রিয় অনুচ্ছেদ -
*জীবনের পাঁচ সুতো: নবিজির দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ-পাঁচ অবস্থায় উপনীত হওয়ার পূর্বে পাঁচ অবস্থাকে গুরুত্ব দাও-বার্ধক্যের আগে তারুণ্যকে,অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে,দরিদ্রতার পূর্বে সচ্ছলতাকে,ব্যস্ততার পূর্বে অবসরকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে।
*হায়াতের দিন ফুরোলে: সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করা। হায়াত ফুরিয়ে আসার আগে জীবনের যা কিছু ভুল,যা কিছু অনিয়ম আর বিশৃঙ্খল তা ঠিক করে নেয়া। কারণ মৃত্যু যখন হাজির হবে,মানুষ আরেকবার ফিরে পেতে চাইবে তার জীবন, কিছু সৎ কাজ করে আসার জন্য। আফসোস তখন এই ইচ্ছার কোন মূল্য থাকবে না।
*যে স্বপ্ন জীবনের চেয়ে বড় : আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করা। আল্লাহর জন্য, তাঁর দ্বীনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করা। তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিয়মিত আমল-ইবাদত করা।
*বাড়তি দুটো সিজদাহ: ফরজ সালাতের পাশাপাশি সুন্নত আর নফল সালাত আদায়ে গুরুত্ব দেয়া।
*চোখ ঘুম ঘুম রাত্রি নিঝুম নিঝুম নিরালায় : তাহাজ্জুদ সালাতের গুরুত্ব, মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
" হায়াতের দিন ফুরোলে " বই এ থাকা আমার প্রিয় কিছু উক্তি :-
" প্রতিটা সম্পর্ক এবং কাজ দিনশেষে সময় দেওয়া না-দেওয়ার ওপর টিকে থাকে। যে সম্পর্কে যত বেশি সময় দেওয়া হয়, সেই সম্পর্ক তত মজবুত। "
" জ্ঞান হলো আলো আর সেই আলোকের সন্ধান লাভ তাদের জন্য সহজ করে দেওয়া হয় যারা তাদের রাতগুলোকে জাগ্রত করে। "
" একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজনের জীবনের সময়গুলো ঠিকই কাটে বটে, কিন্তু সেই জীবনটাকে কতটা 'জীবন' বলা যাবে তা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। "
নবিজি বলেছেন, "আল্লাহ এবং কিয়ামাত দিবসে যে বিশ্বাস করে-সে যেন ভালো কথা বলে, নয়তো চুপ থাকে।”
নবিজিকে বলা হলো, 'হে আল্লাহর রাসূল, কার ইসলাম সবচেয়ে উত্তম?' প্রতি-উত্তরে নবিজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "যার মুখ এবং হাত হতে অপর মুসলিম নিরাপদ।”
" যে লোক নিজে সম্মানিত নয়, সে কোনোদিন অন্যকে সম্মান দিতে পারবে না। কারণ অন্যকে দেওয়ার জন্য তো তার মাঝে সেটা মজুদ থাকতে হবে। তার মাঝে যদি সম্মান না-ই থাকে তাহলে অন্যদের কীভাবে সে সম্মান দেবে? "
" খাওয়া-দা খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং বাচ্চা উৎপাদনই যদি জীবনের উদ্দেশ্য হতো, তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দরকার ছিল না আলাদাভাবে মানুষ সৃষ্টি করার। "
Why do I feel that Allah Ta'ala published these books for me through him? 😅 I really needed this book at this moment of my life. 🥰
It's better written than "কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ" but I do miss the Dua he used to teach us on every one of his books which I used to recite as Tasbih for the whole year.
হায়াতের দিন ফুরোলে এই রিমাইন্ডারগুলো পেলে অনেক লেট হয়ে যেত। তাই, হায়াতের দিন বাকি থাকতেই জেনে উপকৃত হলাম। এবার এগুলো মনে রেখে সেই শিক্ষা অনুযায়ী চলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। 💝