অর্থনীতিবিদ্যা কোনো সমরূপ জ্ঞানশাস্ত্র নয়। এর মধ্যে আছে বহুধারা—চিন্তাদর্শন ও রাজনীতির বৈচিত্র্য, ভিন্নতা ও সংঘাত। অর্থশাস্ত্রের ইতিহাস তাই একই সঙ্গে দর্শন ও রাজনীতিরও বিষয়। অর্থশাস্ত্রের ইতিহাস নিয়ে বাংলায় মানসম্পন্ন বই দুর্লভ, আর বাংলাদেশে প্রাপ্ত ইংরেজি ভাষার বইগুলোরও আছে নানা সীমাবদ্ধতা। এই পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বর্তমান বইয়ে প্রাচীন ভারত, চীন, আরবসহ প্রাচ্যের অর্থশাস্ত্রবিষয়ক চিন্তার পর্যালোচনা করেছেন। এরপর বিশ্লেষণ করেছেন পাশ্চাত্যে পুঁজিবাদের বিকাশের মধ্যে একে একে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন ধারা। এর মধ্যে রয়েছে ক্ল্যাসিক্যাল, মার্ক্সীয়, নয়া ক্ল্যাসিক্যাল আর কেইনসীয় অর্থশাস্ত্র এবং এগুলোর সম্প্রসারণ, পরিমার্জন ও সমালোচনা। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমিও। সাবলীল ভাষা আর স্বচ্ছ চিন্তার প্রামাণিক, কিন্তু স্বাদু পাঠের এই বই অর্থশাস্ত্র নিয়ে আগ্রহী পাঠক এবং শিক্ষার্থী সবার জন্য অবশ্যপাঠ্য। অর্থশাস্ত্র বিষয়ে সুলভ বইগুলোর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে চেয়ে লেখা এ বই। অর্থশাস্ত্রের ইতিহাস এখানে এসেছে দর্শন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে। কৌটিল্য ও ইবনে খালদুন থেকে একেবারে সমকালীন নারীবাদী অর্থনীতি পর্যন্ত এর বিস্তার। বিশদ, গভীর ও সুপাঠ্য এই আলোচনা পাঠকের জন্য খুলে দেবে জ্ঞানের নতুন জানালা ।
পুরো নাম আনু মুহাম্মদ আনিসুর রহমান হলেও আনু মুহাম্মদ নামেই অধিক পরিচিত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। ঢাকায় লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮২ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য বিরোধী তত্ত্বচর্চা ও লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ যে কোন প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব। বাংলাদেশে মার্কসীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি সবচেয়ে পরিচিত লেখক।
অর্থনীতির একটা হিস্ট্রিকাল জার্নি তো আছেই। এটা পড়সিলাম অনেক আগে, '২৪ সালে। বাট গুডরিড্সে অনেক দেরিতে যুক্ত হওয়ার কারণে রিভিউ এখন দিচ্ছি আরকি।
আনু মুহাম্মদ স্যারের পলিটিকাল এক্টিভিটি সম্পর্কে সমালোচণা তো আছেই, তবে সবার তো আসলে পলিটিকাল এক্টিভিটির ব্যাপারে খেয়াল থাকাটা উচিত। সেক্ষেত্রে হয়তো ইন্টালেকচুয়ালদের এক্টিভিটিতে ভুলগুলি সহজে মেনে নেয়া যায় না অথবা এক্সপেকটেশানটা দুই চামচ বেশি থাকে।
যাইহোক, আনু স্যারের লেখাপত্রের ব্যাপারে তো মোটামুটি সবাইই জানেন। এই বইটা অবশ্য অন্যান্যগুলির চাইতে বেটার মানে, বয়স হতে হতেও সেরিব্রাল অ্যামিলিয়রেশানের ব্যাপারটা বেশ ভালোই চোখে পড়ে। এই বইটা পড়ে মোটামুটি ম্যালথাসকে কয়েকদিন গালি দিতে মন চাইবে কোনো কারণ ছাড়া, স্মিথকে তবুও আপনি মাফ করে দিতে পারবেন। ম্যালথাসকে পারবেন না। তাছাড়া কেইন্সিয় ধারা, রিকার্ডো, মার্ক্সের নতুন যাত্রা সব মিলিয়ে এই বইটা জোস। আমি ফুল্লি সেটিসফায়েড।