রকমারির উইশ লিস্টে অনেকদিন ধরেই 'লাইনে আসুন' আর 'এসো নিজে করি' বই দুইটা উঁকিঝুঁকি মারছিলো। মংগাপীড়িত বিকাশ একাউন্ট নিয়া বারবার ঐ পেজটা রিফ্রেশ করা ছাড়া উপায় ছিল না। আব্বা যেদিন কিছু ট্যাকা দেয়, মুখ দিয়া আব্বার দীর্ঘহায়াত কামনা করছিলাম আর হাত দিয়া দৌড়ের উপরে বইদুটা অর্ডার দি। দুদিন পরে সুন্দরমত বই দুটা হাতে পাই। আহ কি যে সুখ!!
মহাসুখে জর্জরিত আমি বন্ধু স্বাধীনের বারবার বাঁধার পরেও এক বসায় দুটা বই শেষ করে ফেলি। এরপর মনে হতে থাকে আহ কি যে হারিয়ে ফেললাম, আমার ৩২৬ টাকা বুঝি শেষ। যাই হোক দিনশেষে পয়সা উশুল করার মত বই। অনেক হল বিহাইন্ড দ্যা গল্প, এবার আসি সিরিয়াস কথায়।
লেখকের নাম চরম উদাস। বাংলা ব্লগে যাদের আনাগোনা, তাদের কাছে খুব পরিচিত একটা নাম। আমার কাছে পরিচিত সুড়সুড়ি দেওয়ার গুরু হিসেবে। এই ভদ্র লোক এমন একটা পাবলিক, যে আপনাকে কাতুকুতু দিয়া নাচাবে, আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন, সে আরো বাড়িয়ে দিবে এর মাত্রা। লাইনে আসুন এমন একটা বই।
সাহিত্যের সোজা লাইন থেকে বেরিয়ে লেখক সবাইকে আহব্বান করেছেন লাইনে আসতে। ছোট্ট ছোট্ট গল্পে এই টইটুম্বুর এই বই পাঠককে হাসাতে হাসাতে জানান দিবে সমাজের নানা জরুরী ইস্যুর। পুরো লেখা জুড়ে লেখক তার সারকাজম লেভেলকে নিয়ে অন্য এক উচ্চতায়। রোজা রেখে পড়তে গিয়ে আমার অবস্থা কাহিল, ইফতারে দু গ্লাস বেশি পানি খেতে হয়েছিল।
"কোমল সাহিত্য মেশিন" নামক একটা গল্পে লেখক পরিচিত করান এমন একটা মেশিনের যেটার কাজ সব কঠিন লেখাকে সহজ করে ছাপিয়ে দেয়। যেসব লেখা অনুভূতিতে আঘাত করে, ঐ মেশিন সেগুলোকে ঠিক করে দেয়। তো একবার হুমায়ুন আহমদের লেখার পরিবর্তে আজাদের লেখা ইনপুট দিয়া দিলে মেশিন বিরাট শব্দ করে শুধু ধোঁয়া ছাড়তে থাকে।
তখন মেশিনম্যান মফিদুল বলেন, "স্যার... আমি হুমায়ুন স্যারের লেখাটা ইনপুট দিতে বলছি, গাড়লটা আহমেদের লেখা না দিয়ে আজাদের লেখা ইনপুটে দিছে। আমাদের মেশিন এইরকম হার্ডকোর লেখার জন্য এখনো রেডি না। আর মেশিনের কি দোষ, ওই লেখা পড়লে মানুষের পেছন দিয়াই ধুমা বাইর হয় আর মেশিন তো কোন ছার"
আরেকটা গল্পে সাংবাদিকদের জ্বালায় অতিষ্ট নেতা মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আছে। মরি মরি করেও মরছে না। এইদিকে প্যাকেজ রেডি। সবাই ভাবছে এই বুঝি গেল, কিন্তু না নেতা আর মরে না। তখন এক সাংবাদিক জিজ্ঞাস করে, "স্যার এবারো বেঁচে গেলেন?" তখন নেতা বলেন, "হরে সব সঙবাদিক মরার আগে মরবা না মনে হয়।"
তিক্ত কথা হলেও কাউকে আঘাত কর বলা যাবেনা, সুশীলিও ভাষা ছাড়া লেখা যাবে না। লেখক এসব সিস্টেম থেকে বের হয়ে অসাধারণ একটা সংকলন তৈরি করেছেন। তবে গায়ের চামড়া হালকা হলে, এই বই থেকে দূরে থাকুন।