আলোচ্য বইটিতে তিনটি স্ট্যান্ড-অ্যালোন উপন্যাসিকা আছে। তারা হল~ ১. যেখানে খুনের ভয়: দারুণ ঝড়বৃষ্টির রাতে চৌধুরী ভবনের মধ্যে খুন হল দীপক। মোটিভের অভাব ছিল না। কিন্তু খুনি কে? আর খুনের যতটুকু দেখা যাচ্ছে, তার বাইরেও কি থেকে যাচ্ছে অদেখা কোনো কথা আর গল্প? ২. অভিমন্যু হত্যারহস্য: বন্ধ ঘরের মধ্যে আবিষ্কৃত হল অভিনেতা অভিমন্যু জয়সওয়ালের মৃতদেহ। খুন হল কীভাবে? করলই বা কে? ৩. মৃত্যুদানব: সিদ্দিক সাহেব পৃথ্বীরাজ সাহাকে এমন একটি কোল্ড কেসের কথা বললেন, যা সর্বার্থেই অস্বাভাবিক। সেই ঘটনাগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যিটার নাগাল কি আজও পাওয়া সম্ভব?
শুধুই খুনখারাপি নয়; এই তিনটি উপন্যাসিকার মধ্যেই রয়েছে অপরাধের উৎস চিহ্নিত করে তার মনস্তাত্ত্বিক দিকটি তুলে ধরা। লেখক তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় লেখনীর দক্ষতা ও সহমর্মিতা দিয়ে এই কাজটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে নিছক রহস্যভেদ ছাপিয়ে বইটা হয়ে উঠেছে একেবারে অন্যরকম— সতেজ অথচ রক্তলাল। রহস্যানুরাগী হলে এই বই আপনাকে পড়তেই হবে।
৩৬০ টাকা দিয়ে কিনে যখন মোটামুটি গোদাই সাইজের বইয়ের জায়গায় লিকলিকে পেপারব্যাক বইটা দেখলাম, তখন মনেমনে একটু হতাশই হয়েছিলাম। কিন্তু গুডরিডস রেটিং ভালো তাই আশাহত হইনি খুব একটা। তিনটা রহস্য নিয়ে বই, অল্প করে একটু লিখি ওদের সম্পর্কে।
যেখানে খুনের ভয়ঃ বইয়ের নামভূমিকায় থাকা এই রহস্যটা আমার বিশেষ ভালো লাগেনি। তার কারন বইয়ের কাহিনী বেশ পুরনো আমলের, আর তারচেয়েও বেশি সেই প্রাগৈতিহাসিক কালের নাটক/সিনেমার মতো চরিত্রদের সংলাপের মধ্যে দিয়ে ব্যাকস্টোরি বলা হয়েছে। কিছু কাহিনী সংলাপে আর কিছু কাহিনী বর্ণনায় বললে বোধহয় আরো ভালো লাগতো। প্রাচীনতার দোষে দুষ্ট থাকার কারনে এক তারা।
অভিমন্যু হত্যারহস্যঃ কিছুদিন আগেও যদি লুসি ফলির দ্য গেস্ট লিস্ট না পড়তাম, এই রহস্যটা হয়তো অসাধারণ লাগতো। কিন্তু 'অভিমন্যু হত্যারহস্য' এবং দ্য গেস্ট লিস্ট এতটাই এক রকম যে এটাকে মৌলিক না বলে দ্য গেস্ট লিস্ট থেকে অনুপ্রাণিত বললেই ভালো হবে। শুধু খুনি আর লকড রুম মার্ডারের ব্যাপারটা ছাড়া দু'টি কাহিনীতে ৯৯% মিল। বিশ্বাস না হলে দুটি কাহিনীই পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো। মৌলিকতার অভাবের কারনে এটিকেও এক তারা দিলাম।
মৃত্যুদানবঃ এই সংকলনের সেরা নভেলা বলবো এটাকেই। কাহিনী শুরুরদিকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'স্বামী' উপন্যাসের মতো লাগলেও লেখক এই কাহিনীতে নিজের প্রতিভা উজাড় করে দিয়েছেন। যার কারনে কিছুটা কিছুটা রহস্য, কিছুটা ভয় সব মিলিয়ে এই গল্পটা দারুন ছিল। আশা করি লেখক অনিরুদ্ধ সাউ পুরোদস্তুর প্যারানরমাল কাহিনী নিয়ে একটা বই লিখে আমাদের ঋদ্ধ করবেন। এই রহস্যটা দেড় তারা ডিজার্ভ করে।
তিনটি গল্পের এই বইটি সামগ্রিক ভাবে ভাল লেগেছে। সবথেকে ভাল লেগেছে দ্বিতীয় গল্পটি - অভিমন্যু হত্যারহস্য। গল্পগুলোর গতি বেশ ভাল। গল্প শেষের চমক গুলোর মধ্যে নতুনত্ব আছে। পুলিশি তদন্তের ডিটেলিং ভাল লাগল।