রসময়, গোকুল, জ্যোতিষ, আলোকনাথ আর নাতনির সঙ্গে বসে নিশিকান্তবাবু ভালুকনাচ দেখছিলেন। দেখতে দেখতে তিনি হাসতে শুরু করলেন এবং হাসির ধাক্কা সামলাতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা গেলেন। পরে নিশিকান্তবাবুর ছেলে দেবকান্তর সন্দেহ হল যে মৃত্যুটা হয়তো স্বাভাবিক নয়। তিনি সেক্রেটারি গোকুলকে পাঠিয়ে দিলেন গোয়েন্দাকে ডেকে আনতে। গোকুল তার বন্ধু সত্রাজিৎকে নিয়ে এল। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে নিশিকান্তবাবু যে কথাটা বলে উঠেছিলেন তার কি কোনো গুরুত্ব আছে নাকি নিছক কথার কথা? নব স্যাকরা প্রায়ই নিশিবাবুর কাছে আসত কেন? দরজা বন্ধ করে গোপনে কী আলোচনা করত? এদিকে আবার পূর্ণিমা আর অমাবস্যায় সাহেব মামার পাগলামিটা এতই বাড়ে যে তাকে ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াতে হয়? এর পেছনেও কি কোনো রহস্য আছে?
খামখেয়ালি স্বভাবের ধনী বৃদ্ধ নিশিকান্ত বন্ধু আর আত্মীয়দের সঙ্গে বসে ভালুকের নাচ দেখতে-দেখতে হাসির প্রবল বেগে হার্টফেল করে মারা গেলেন। ব্যাপারটা আপাতভাবে স্বাভাবিক বলে মনে হলেও মৃতের পুত্র ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে পারলেন না। তাঁরই উদ্যোগে, নানা দিক ঘুরে, এই মামলায় প্রবেশ করলেন শখের গোয়েন্দা সত্রাজিৎ। ক্রমে আবিষ্কৃত হল এক গভীর ষড়যন্ত্রের আসল চেহারা— যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের বহু রক্ত ও অশ্রু। তারপর কী হল? সত্রাজিৎ কি সত্যকে উন্মোচন করতে পারলেন? আজ থেকে চার দশকেরও বেশি আগে লেখা হয়েছিল এই রহস্য উপন্যাসটি। 'আমার কৈফিয়ত' অংশে লেখক জানিয়েছেন যে প্রকাশকের উপরোধে তিনি লেখাটির কিঞ্চিৎ আধুনিকীকরণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে চরিত্রচিত্রণে, বর্ণনার নৈপুণ্যে, সর্বোপরি রহস্যভেদের একেবারে ধ্রুপদী পদ্ধতি-প্রয়োগে এই লেখা রেট্রো-রহস্য হিসেবেও অত্যন্ত উপভোগ্য বলেই আমার মনে হয়েছে। বরং পড়তে গেলে বোঝা যায়, এতে মোবাইল ও অন্যান্য এ-কালের জিনিসের অনুপ্রবেশ শুধুই ছন্দপতন ঘটিয়েছে, কারণ গল্পটা এ-কালের হলে তার চরিত্রদের আচরণ ও গতিবিধি— সবই অন্যরকম হতে বাধ্য। কিন্তু আসল কথা হল, বইটা আমার দারুণ লেগেছে। তারই সঙ্গে ভালো লেগেছে প্রকাশকের এই বিশেষ উদ্যোগটি। তাঁদেরই চেষ্টার ফলে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া এমন একটি চমৎকার ঠাসবুনট রহস্য উপন্যাস দীর্ঘদিন পর পড়ার সুযোগ পেলাম আমরা— সে-ও শুদ্ধ মুদ্রণে ও চমৎকার অলংকরণের সঙ্গে। ভরসা রাখি যে এ-কালের পাঠকের আনুকূল্য পেয়ে লেখক সত্রাজিৎকে নিয়ে আরও লেখালেখি করতে উদ্যোগী হবেন। তাঁর উদ্দেশে প্রণাম এবং প্রকাশকের জন্য শুভকামনা রইল।
গল্পের প্রথম প্রকাশ ১৯৮৩, আনন্দবাজার পত্রিকায় গল্প আকারে।
তারপর ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত বইটি নব কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৪ এবছরের শুরুতেই, বুক ফার্মের হাত ধরে।উপন্যাসটি বেরিয়েছিল আজ থেকে ৪০ বছর আগে, সেটিকে খুব সুন্দর ভাবে বর্তমানে ফিরিয়ে এনেছে।
সামান্য কিছু যুগোপযোগী পরিবর্তন করেছেন সম্পাদক, তবে সম্পাদকে প্রশংসা করতে হবে ।
বেশ সুন্দর পুরোনো সময়ের এক রহস্য কাহিনী, যা রহস্যপ্রিয় পাঠক পাঠিকার মন্দ লাগার কথা নয়। হারিয়ে যাওয়া গোয়েন্দার গল্প।
গল্পের প্রথম প্রকাশ ১৯৮৩, আনন্দবাজার পত্রিকায়। নতুন ভাবে প্রকাশনা : বুকফার্ম,২০২৪। বইটি হাতে আসে ৪১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা,২০২৪ এ গিয়ে। প্রচ্ছদ অলঙ্করণ বিশেষ প্রশংসার দাবিদার। ব্যোমকেশ ,ফেলুদা যারা পড়েছেন বা পড়বেন বলে ভাবছেন তাদের বলে রাখি এই গল্পের গোয়েন্দা সত্রাজিৎ ও কিছু কম যান না। শুরু থেকেই লেখকের সহজ সরল অথচ নদীর স্রোতের মতো সুন্দর ভাষায় প্লট তৈরির দক্ষতা চোখে পড়বার মতো। আপাত দৃষ্টিতে গোয়েন্দা শীলমোহরপ্রাপ্ত না হলেও , দক্ষতা আর বিশ্লেষণে তার স্থান কিন্তু ঝকঝকে তকতকে গোয়েন্দাদের সাথে একই ছাদের তলায় হওয়ার মতোই। বন্দুক হাতে কালঘাম ছুটিয়ে অপরাধী ধাওয়া করার চেয়ে নিখুঁত deduction বা গোয়েন্দা সত্রাজিৎ এর নিজের কথায় ratiocination এ মননিবেশ গল্পের উৎকৃষ্টতা অনেকটাই বাড়িয়েছে। কিছু জায়গা ব্যোমকেশ-অজিতের সখ্যের কথা যেমন মনে করিয়ে দেয় তেমন মনে করায় ফেলুদার মতো কাজের তৎপরতা। সব মিলিয়ে যুক্তি-তক্ক-গপ্পে এ বইখানা এক কথায় যাকে বলে unputdownable.
বর্তমান সময়ে গাছের প্রতি একটা অদ্ভুত ভালোবাসা অনুভব করছি , তাই নিজের সাধ্যমত বাগান করা ও গাছ সম্পর্কিত সব কিছুই এখন ভালোলাগার বিষয়ের মধ্যে পড়ে,কিন্তু এটা অনেকটা পড়ে পাওয়া সুখের মত একটা আকস্মিক ঘটনাই বলা যায়,যেখানে নিজের সদ্য ডাল পালা বিস্মৃত সখের সাথে পুরনো সখের ক্রস রোড কানেকশান হয়ে যাবে তাও দৈবাৎ এভাবে এটা ভাবী নি।। পুরো গল্প জুড়ে বোটানির সুস্পষ্ট ডালপালা বিস্তৃত ছায়ায় পাঠক হিসেব একটা আলাদাই অনুভূতির সাক্ষী হলাম বলা যায়।।
🌠 বুখফার্ম থেকে প্রকাশিত লেখক প্রবোধ সিংহের ১৯৮৩ সালের প্রকাশিত রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস "হাসিতে রক্তের দাগ" বইটির পরিমার্জিত সংস্করণ এই বছর বই মেলা থেকে কিনে , মনে মনে ভেবেই রেখেছিলাম হয়তো পুরনো ধাঁচের একটা রহস্য গল্পের সাক্ষী থাকবো , ঠিক যেমন টা ভেবেছিলাম সেটাই হয়েছে , আবার বলতে হয় এরকম নস্টালজিক ধরনের রহস্য উপন্যাস কোথাও হয়তো ফেলে আসা দিনের সাথে বর্তমান সময়ের একটা সহাবস্থান ও করায়।। লেখক যদিও গল্পটিকে বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা বদলে নিয়েছেন ঠিকই তবে পাঠক হিসেব পুরনো ধাঁচের গল্প পড়ার যে মজা সেটা থেকে বঞ্চিত করেননি। 🌠 রসময় ,গোকুল , জ্যোতিষ, আলোকনাথ আর নাতনির সাথে বসে ভল্লুক নাচ দেখতে দেখতে হঠাৎ হাসতে হাসতে মারা গেলেন নিশিকান্ত বাবু, প্রথমে হার্টফেল ভাবা হলেও, তার ছেলের সন্দেহ হওয়ায় তিনি তার বাবার সেক্রেটারিকে বললেন কলকাতা থেকে যেন সে গোয়েন্দা ডেকে আনে।।
🌠🌠ভালো লেগেছে যে বিষয়গুলি -- প্রায় ৪০ বছর আগের গল্প হলেও লেখক চেষ্টা করেছেন বর্তমান সময়ের সাথে মিলিয়ে গল্পের মধ্যে আধুনিকতার একটা পরশ দেওয়ায় যাতে করে ,যারা কম বয়সি পাঠক তারা গল্পের স্বাদটা যেন নতুন সময়ের নিরিখেই পায়।।
বৈঠকি গোয়েন্দা বলতে যা বোঝায় ,এই গল্প অনেকটাই তাই, কোথাও গিয়ে হয়তো কচি ব্যোমকেশ 😉 বা কলেজ পাশ ফেলুদার একটা ছাপ রয়েছে তদন্তকারী গোয়েন্দার চরিত্রটিতে আর এটাই বেশ তৃপ্তি দায়ক।
একশত সাতষট্টি পাতার এই গল্পে রহস্য রোমাঞ্চ সাথে হৃদয় বিদারিত একটি করুন কাহিনীও রয়েছে যা পাঠক হিসেবে পড়ে ভালো লেগেছে , তার সাথে বলা যায় গল্পের কথনভঙ্গি খুব সুন্দর , গল্পের প্লট যেহুতু পুরনো ধরনের সেই দিক থেকে দেখলে হয়তো কাহিনীর ক্লাইম্যাক্স আসার আগেই পাঠক বুঝতে পারবে কে হত্যাকারী ।। তাও শেষের দিকে গোটা রহস্য সমাধান ও তার উন্মেচন প্রক্রিয়ার যে বর্ণনা রয়েছে তা সত্যি সুন্দর।।
গোয়েন্দা হিসেব সত্রাজিত এর চরিত্রটিকে বেশ লেগেছে , এবং সত্যি বলতে প্রাইভেট রহস্য সমাধনকারি হিসেব আদর্শ চরিত্র যার অঙ্ক, বাংলা , জ্যোতিষ , কেমিস্ট্রি , হোমিওপ্যাথি সবদিকেই যার দুর্বলতা রয়েছে। এরকম চরিত্রের প্রতি টান জন্মায় পাঠক হিসেবে ।।
পুরো গল্প জুড়ে প্রকৃতির প্রতি যে প্রেম লেখক তুলে ধরেছেন সেটা ব্যক্তিগত ভাবে আমার বেশ ভালো লাগছে ।।
( যাহাতে আদর করিয়া পুতিলে বীজ তাহা হইতেই জন্মাইল রক্ত বীজ হাসিতে হাসিতে যাইবার আগে হিসেব করিয়া পূর্ণ বিশ্বাস ঘাতকেরও শেষ আশা ছিল তাহাতেই দম্ভ চুর্ন)
পাঠক হিসেব বেশ ভালো অনুভূতি হলো বলা যায়।।
🌠খারাপ দিক বলতে গেলে বলতে হয় ,লেখক চরিত্র গুলির সাথে গল্পের উল্লেখ সময়ের ঠিক তাল মেলাতে পারেননি , পাঠক হিসেবে তাই বুঝতে অসুবিধে হয়েছে যে চরিত্র গুলোর বয়স ঠিক কিরকম।। তবে তার জন্যে মূল গল্পের স্বাদ নষ্ট হয়নি ।।
গল্পের বইটা হাতে নেওয়ার সময় কোন Expectation ছিলো না, কারণ লেখককে আগে চিনতাম না। Cover এর ছবি দেখেই বইটি select করি, কারণ বইএর Cover টা খুবই সুন্দর, artist এর প্রতি অনেক শ্রদ্ধা জানাই।
বইটা খুবই অল্প সময়ে শেষ করেছি, কারণ সত্যি বলতে বইটা হাতে নেওয়ার পর আর নামতে মন চাইছিল না।
প্রতিটা চরিত্রই খুব ভালো ভাবে রচিত। হাজার খোঁজা সত্ত্বেও কোন Plot Hole খুঁজে পাইনি। সত্রাজিতের চরিত্রটা খুবই প্রশংসনীয় লেগেছে, লেখকের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা জানাই এত সুন্দর রচনার জন্য।
সবচাইতে ভালো লাগলো climax টা, গল্প তার StoryLine টা যতটা সুন্দর, Climax টা পুরো পারফেক্ট।
এটাই বলে শেষ করবো যে, সত্রাজিতের অরো গল্প পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকব। প্রবোধ সিংহ স্যারের লেখা অরো পড়তে চাই।
রসময়, গোকুল, জ্যোতিষ, আলোকনাথ এবং নাতনি টুমকির সঙ্গে বসে নিশিকান্তবাবু ভালুকনাচ দেখছিলেন। দেখতে দেখতে তিনি হাসতে শুরু করলেন এবং সেই হাসির তীব্রতা সামলাতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ব্যাপারটি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও, নিশিকান্তবাবুর ছেলে দেবকান্ত বিষয়টিকে সহজে মেনে নিতে পারলেন না। নিজের সন্দেহের নিরসন করতে তিনি সেক্রেটারি গোকুলকে গোয়েন্দা ডাকার জন্য পাঠালেন। গোকুল তার বন্ধু সত্রাজিৎকে নিয়ে এল। এরপর গোয়েন্দা সত্রাজিৎ-এর অনুসন্ধান শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে এক প্রবল ষড়যন্ত্রের উন্মোচন ঘটায়।
চার দশকেরও বেশি সময় আগে রচিত এই রহস্য উপন্যাসটি পাঠক মহলে সমাদৃত হতে পারে মূলত তিনটি কারণে–
প্রথমত, এটির ধ্রুপদী রহস্য উপন্যাসের আবহ। মোবাইল ফোন এবং আধুনিক প্রযুক্তির আগমনে গল্পের সৌন্দর্য কিছুটা ক্ষুণ্ণ হলেও, এর রেট্রো মূল্য মোটেই কমেনি। উল্টে স্মৃতির গহীনে একটি সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।
দ্বিতীয়ত, লেখকের চরিত্র চিত্রায়ন এবং বর্ণনার নৈপুণ্য। লেখক শুধু রহস্য ও নাটকীয়তা নয়, বরং খুঁটিনাটি বর্ণনায় এক অনন্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রের বিশেষত্ব, আবেগ এবং আচরণ পাঠকদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। লেখকের ভাষা ও শৈলী গল্পের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা আজকের আধুনিক পৃথিবীতেও প্রযোজ্য।
তৃতীয়ত, শুভম ভট্টাচার্যের অলংকরণগুলো গল্পের ফ্লেভারকে চিত্তাকর্ষকভাবে তুলে ধরেছে।
বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এই অসাধারণ রহস্য উপন্যাসটি পুনঃপ্রকাশের জন্য বুক ফার্মকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আশাবাদী যে, এই প্রকাশনার মাধ্যমে সত্রাজিৎ আমাদের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হবেন।
প্রবোধ সিংহ বাবুর লেখা গল্পটি পড়ে আমার ভীষন ভালো লাগলো। তবে কিছু কারণে ৫টি তারা দিতে পারছি না। সেই কারণগুলি নিম্নরূপ –
১. মূল ত্রুটি: নিশিবাবু ১৯৪২ সালের কাছাকাছি সময় আসামের কামরূপ থেকে কলকাতায় চলে আসেন। তখন তিনি তার যৌবন কালে, অর্থাৎ এই ৩০ বছরের আশেপাশে। কাহিনীর বর্তমান সময়ে তার বয়স ছিল ৬৫। তাহলে ধরে নিচ্ছি গল্পের ঘটনাগুলির সময়কাল ১৯৭০-৮০ সালের মধ্যে।
গল্পের প্রথম সংস্করণটি এসেছিল ১৯৮৩ সালে, তাই সময়কাল ঠিকঠাকই ছিল। তবে লেখক তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান সংস্করণটি (২০২৩-২৪) আধুনিক পাঠকদের উপযোগী করার উদ্দেশ্যে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পুনর্মুদ্রণএ বর্ণিত হয়েছে যে কাহিনীর ঘটনাগুলি বর্তমান পাঠকের সমসাময়িক (কারণ, স্মার্টফোন, ইমেইল ইত্যাদির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উল্লেখ রয়েছে)।
আর এটা করতে গিয়েই এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যিনি এই পরিবর্তনগুলি করেছেন তিনি এই সময়ের প্রাসঙ্গিকতাটা খেয়াল করেন নি।
২. সত্রাজিৎ, গৌরাঙ্গ ও গোকুল একেঅপরকে সম্বোধন করেছে কখনও তুই দিয়ে, আবার কখনও তুমি দিয়ে। এটা একটা মুদ্রণের ত্রুটি।
৩. নিশিবাবু তার পুত্রবধূকে মাসের খরচের জন্য ৩০০ টাকা দিতেন, যেটা এখনকার দিনে কিছুই না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
অনেকদিন পর ক্লাসিক ঘরানার একটা ডিটেকটিভ উপন্যাস পড়লাম। হ্যাঁ গল্পের প্রাথমিক পটভূমি মজবুত, ভাষা সাবলীল—তবে রহস্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়াটা বেশ সাদামাটা, যা উপন্যাসটিকে নিখুঁত বলতে বাধা দেয়। তবুও, এখনকার ইনফোডাম্প-ভরা থ্রিলারের ভিড়ে প্রবোধ সিংহের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে একটু স্বস্তি দেয় (যদিও এই লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে)। এডগার অ্যালান পোর ছোঁয়ায় গড়া তরুণ গোয়েন্দা সত্রজিৎ সোমের চরিত্রগত দৃঢ়তা এবং তার যুক্তিবিচারের প্রক্রিয়া কিছু মুহূর্তকে বেশ উপভোগ্য করে তুলেছে। আর গল্পের শেষে 'Poetic justice' -এর মাধ্যমে অপরাধ, মানবিকতা ও বিবেকবোধকে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে যে দ্ব্যর্থক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। (যদিও এই রহস্যের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডকে অনেক পাঠক গোয়েন্দার আগেই ধরে ফেলবেন!)
সবশেষে এটাই বলা যায়, আমার মতো যার শৈশব কেটেছে ফেলুদার সাথে, বয়ঃসন্ধি কিরীটি আর ব্যোমকেশে, আর প্রাপ্তবয়সে শার্লক ও পোয়ারোর মতো চরিত্রদের সাথে বেড়ে উঠেছে, তাদের জন্য এই উপন্যাসটা হয়তো unputdownable নয়। তবে একবার পড়ে উপভোগ করার মতো এক রহস্য-রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতা দেবে, সন্দেহ নেই।
যারা ক্লাসিক গোয়েন্দা / রহস্য গল্প পছন্দ করেন তাদের জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড! আমি সাহিত্যলোক থেকে প্রকাশিত পুরনো সংস্করণটি পড়েছি, সদ্য কলেজ পাশ করা পেয়িং গেস্ট থাকা দুই যুবকের বন্ধুত্ব, মফঃস্বলের পরিবেশ বর্ণনা সুন্দর লাগলো! বর্তমান পুনর্মুদ্রণে ভাষা পরিবর্তন করে কেমন হয়েছে জানিনা, তবে আগেরটিই বেশী আলো লাগলো...