Jump to ratings and reviews
Rate this book

দেয়ালে তাদের ছায়া তবু

Rate this book
কেউ কেউ এই পৃথিবীতে জাত গল্পবলিয়ে হয়ে জন্মায়। আর কেউ কেউ হয় আশরাফ জাহেদী। আর যাই হোক, তাকে জাত গল্পবলিয়ে বলার উপায় নেই। একটা ছোটখাটো লেখা দাঁড় করতেও অকল্পনীয় সংগ্রাম করতে হয় তাকে। ধীর পায়ে এক পা এগোলে পেছাতে হয় দেড় পা। কিন্তু সেই জাহেদীর সামনেই হঠাৎ বাস্তব হয়ে ধরা দিতে থাকল গল্পের একেকটা চরিত্র। ঘটতে থাকল একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। এগুলো কি তার ভ্রম নাকি সত্যি অলৌকিক কিছু ঘটছে তার সাথে?
মনোবিদ ও শিক্ষক শহীদুল জহির শেলির কাছে যুক্তিই সবকিছু। নাহ, তিনি মিসির আলি নন। তবে যুক্তি দিয়েই হয়তো খণ্ডন করতে হবে কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা। যুক্তি নামক ‘ফ্র্যাঙ্কেস্টাইনকে’ গুরুত্ব দিতে গিয়ে ফেল মেরে বসবেন না তো প্রফেসর শেলি?
প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর ম্যাকবেথ চিরজীবনই ছুটে বেড়িয়েছে অলৌকিকতার পেছনে। বনঘেঁষা এক প্রত্যন্ত গ্রামে কি এমন ঘটেছিল তার সাথে? এবার অলৌকিকের পিছে ছুটতে গিয়ে ম্যাকবেথ এমন কিছুর মুখোমুখি হবে না তো যা তাকে বানিয়ে দেবে শেক্সপিয়রীয় ট্র্যাজেডির নায়ক?
হরর, ফ্যান্টাসি, সাইকোলজি, ডার্ক হিউমার, মিথলজি, এক চিমটি জাদুবাস্তবতা ও উদ্ভট, ব্যাখাহীন কিছু চরিত্র নিয়েই গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস। সম্ভবত এই বইয়ের চরিত্রগুলোর মত মানুষদের জন্যই জীবনানন্দ দাশ লিখে গিয়েছেন,
‘মানুষেরা ঢের যুগ কাটিয়ে দিয়েছে পৃথিবীতে,
দেয়ালে তাদের ছায়া তবু
ক্ষতি, মৃত্যু, ভয়
বিহ্বলতা ব’লে মনে হয়।
এসব শূন্যতা ছাড়া কোনোদিকে আজ
কিছু নেই সময়ের তীরে।

120 pages, Hardcover

First published February 16, 2024

2 people are currently reading
93 people want to read

About the author

Ishraque Aornob

29 books404 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (11%)
4 stars
36 (51%)
3 stars
17 (24%)
2 stars
7 (10%)
1 star
2 (2%)
Displaying 1 - 27 of 27 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews436 followers
March 10, 2025
৩.৫/৫

২০২৫ এর প্রথম বই। ইশরাক অর্ণবের মৌলিক লেখা প্রথমবার পড়ে ভালো লেগেছে বেশ। ছোট উপন্যাসে অনেক চরিত্র, অনেক ঘটনা, অনেক বাঁকবদল। লেখক দক্ষভাবেই, বেশ চমক ও নতুনত্ব দেখিয়ে, গল্পের উপসংহার টেনেছেন। শেষ অংশটা দারুণ। ব্যক্তিগতভাবে, লেখকের গদ্যে আরেকটু মাধুর্য বা আত্মপ্রত্যয় প্রত্যাশা করবো ভবিষ্যতে। তার পরের মৌলিক গল্পগ্রন্থের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছি এখন।
Profile Image for সালমান হক.
Author 67 books1,975 followers
February 18, 2024
এখন অবধি মৌলিক ও অনুবাদ মিলিয়ে নিঃসন্দেহে ইশরাক অর্ণবের শ্রেষ্ঠ কাজ। রহস্য/থ্রিলার/মার্ডার-মিস্ট্রি তো কম পড়া হলো না, কিন্তু এই বইটা নিজ গুণে জায়গা করে নিল মনের দেয়ালে৷

প্রথমে কেবলই হরর মনে হলেও, একসময় একে একে যোগ হয় হত্যারহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং সব শেষে ফ্যান্টাসি৷ গল্পের মাঝে মাঝে আমরা ক্যামিও দিয়ে যেতে দেখি বিখ্যাত এবং কুখ্যাত কিছু চরিত্রদের৷ গল্পের প্রয়োজনে আগত গারো মিথের অংশটুকু ভালো লেগেছে সবচেয়ে বেশি।

বই ছোট, কোথাও ঝুলে পড়ার সুযোগটুকু দেয়নি অর্ণব। এরকম আরো বই আশা করছি ওর কাছ থেকে৷
Profile Image for Rakib Hasan.
461 reviews79 followers
March 23, 2024
ইশরাক অর্ণবের দ্বিতীয় মৌলিক 'দেয়ালে তাদের ছায়া তবু'। প্রথম বইয়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিনত। অনুবাদক হিসেবে বর্তমান সময়ের অনুবাদকদের মধ্যে যাদের বই নির্দ্বিধায় পড়া যায় তাদের মধ্যে ইশরাক অর্ণব অন্যতম। অনুবাদের পাশাপাশি এই বইটাও বেশ ভালো লেগেছে। একাধিক জনরার মিশেলে বইটি, শুরুতে হরর ভেবে পড়া বাদ দিবো কিনা ভাবতে ভাবতে হত্যা রহস্যে চলে আসার পর একটানা পড়ে যাই। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মিথ নিয়ে অংশটুকু বেশি ভালো লেগেছে। ছোট পরিসরে লেখা বইটা একটানা শেষ করার মত। আমার কাছে সব মিলিয়ে বইটা বেশ ভালো লেগেছে। লেখকের নিজেকে নিয়েও ছোট্ট চরিত্র ছিল বইটিতে। যাইহোক ঘটনা যেভাবে শেষ হয়েছে বইটার পরের পার্ট আসলেও মন্দ হবেনা। অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Anjan Das.
417 reviews17 followers
March 24, 2025
প্রথম মার্ডার মিস্ট্রি।এরপর গা ছমছমে হরর ভাব,এরপর সবশেষে এক চিমটে ফ্যান্টাসি।একের ভিতর সব।সবচেয়ে ভালো লাগল একের ভিতর।সব দিতে গিয়ে জগাখিচুরি বানিয়ে দেন নি লেখক।আস্তে আস্তে সব সুতো জোড়া লাগিয়েছে।"মৃত্যুকল্প" বইয়ের জাভেদ হোসেন সহ অসংখ্য ছোট ছোট চরিত্রের আগমণ ঘটায় ছোট কলেবরের বইটি পড়তে আরো মজা পেয়েছি।
"ম্যাকবেথ" এই চরিত্র টিকে নিয়ে আরো গল্প আশা করছি লেখকের থেকে।পছন্দের একটা ক্যারেক্টর হয়ে গেল।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,107 reviews1,084 followers
May 7, 2024
অনুবাদকদের কথা যদি বলি তাহলে ইশরাক অর্ণব আমার অন্যতম পছন্দের একজন। কিন্তু এবার বইমেলায় তার অনুবাদ (মাইকেল কনেলির এঞ্জেলস ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলাম) না কিনতে পারলেও মৌলিকটা ঠিকই বোগলদাবা করে ফেলছি। তার প্রথম মৌলিক বই 'মৃত্যুকল্প' সংগ্রহে থাকলেও পড়া হয়নি। তাই মৌলিকে কেমন মুন্সিয়ানা দেখাবে সেটার অপেক্ষায়ই ছিলাম। তো কেমন লাগলো বইটি? সংক্ষেপে বলে ফেলি।

প্রথম থেকেই লেখক হালকা চালে চালিয়ে গেছেন। মনে হবে খুব টিপিক্যাল একটা লেখা। গল্পে অভিনবত্ব খুঁজে পাবেন না। গল্পের পরিবেশ তৈরি কিংবা আবহতেও খানিকটা ঘাটতি আছে। তা সত্ত্বেও বইটা বেশ আরামসে পড়ে ফেলতে পেরেছি। ক্যামিও নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া একটু ভিন্ন। কখনোই ভালো লাগে না। পুরো গল্পের সবচেয়ে টার্নিং অংশ শেষ দুটো অধ্যায়। অল্টারনেটিভ যে থিওরিটা শহীদুল জহির উপস্থাপন করেছেন সেটা গল্পের অতৃপ্তি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিয়েছে।

মোটের উপর লেখকের নিরীক্ষামুলক এই লেখাটি আমার মন্দ লাগেনি। লেখকের থেকে চাইবো আরো কিছু। সে পর্যন্ত শুভকামনা।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
July 12, 2025
সমাপ্তিটা দারুণ লেগেছে। ম্যাকবেথ এক রহস্যময় চরিত্র। সামনে ওর আরো যাত্রা দেখতে চাই।
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews63 followers
October 24, 2024
এককথায়, চমৎকার। অনুবাদক ইশরাক অর্ণবের বই অনেক পড়া হলেও লেখক হিসাবে তার মৌলিক বই এটাই প্রথম পড়া। প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিতে মোড়া একটা কাহিনীকে টানতে টানতে কোথায় নিয়ে গেলেন, বই শেষ না করা পর্যন্ত বুঝতেই পারলাম না।

ব্যক্তিগতভাবে, বেশ চমৎকার লেগেছে। লেখকের মৌলিকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
Profile Image for Aadrita.
277 reviews228 followers
February 24, 2024
উঠতি লেখক আশরাফ জাহেদী। একা এক বাসায় থাকেন আর সাহিত্যচর্চা করেন। গড়বড় বাঁধে যখন রাতবিরাতে অস্বাভাবিক গোলমেলে জিনিসপাতি দেখে মানসিক ভারসাম্য হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌছে যান। অতিপ্রাকৃত যেসব দৃশ্যের সম্মুখীন তাকে হতে হয় সেগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজতে চলে যান মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ শহীদুল জহিরের কাছে। ঘটনাক্রমে দৃশ্যপটে আগমন ঘটে অকাল্টিস্ট ম্যাকবেথেরও। সাইকোলজি নাকি অতিপ্রাকৃতবাদ? কোন পথে আগালে সমাধান পাবে জাহেদী সেই নিয়েই মোটামুটি কাহিনী৷

মোটাদাগে থ্রিলার আখ্যা দিলে আর শুরুটা হরর মনে হলেও পরবর্তীতে কখনো বইটা ছিলো সাইকোলজিক্যাল, কখনো মিথলজি নিয়ে, কখনো সুপারন্যাচারাল, আর কখনো একদম পিওর ক্রাইম ফিকশন। চমৎকার জনরা ব্লেন্ডিং!

গল্পটা শুধু জাহেদীর একার না। গল্পটা ম্যাকবেথের, প্রফেসর শহীদুল জহিরের, সিলেটে বনের গহীনে দেবতার অভিশাপে পড়া গারো গ্রামের। লেখনী সুখপাঠ্য, একটানে পড়ে যাওয়ার মতো। ছোট পরিসরের বইতে এতো এলিমেন্ট, কিন্তু কখনো খাপছাড়া লাগেনি। জাহেদীর যাত্রা দিয়ে শুরু হয়ে গল্প ডালপালা মেলে অনেকদিকে গেলেও শেষমেশ একটা পরিপূর্ণ উপন্যাসে রূপ নিয়েছে। সাথে কিছু মজাদার উপকরণ ছিলো। যেমন এক পর্যায়ে বইতে উপস্থিত হয়েছেন লেখক নিজেই, প্রফেসরের ধমক খেয়ে অবশ্য দ্রুতই কেটে পড়তে হয়েছে তাকে। অন্য সময়ে উকি দিয়ে গেছেন হ্যারি ড্রেসডেন, অ্যালিস্টার ক্রলিসহ আরো অনেকে।

সব মিলিয়ে এক বসায় পড়ে ফেলার মতো সুখপাঠ্য বই।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
February 18, 2024
উফ! নিজের বইয়ে পাঁচ তারকা দিয়ে ফেললাম। গল্পের প্লট বেশ কয়েকদিন মাথার মধ্যে ভূতের মত বিরক্ত করেছে, অবশেষে সেটা দুই মলাটে আবদ্ধ করতে পেরেছি। শেষমেশ সেটা কিসে রূপ নিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত পাঠকদের।
Profile Image for Amanna Nawshin.
191 reviews57 followers
February 28, 2024
কিছু মানুষ আছে না, যারা একটা থ্রিলার মিস্ট্রি বই পড়ার পর বলে যে খুনী কে তা আমি আগেই বুঝে গিয়েছিলাম। আমার ধারণা, তারা কিঞ্চিৎ মিথ্যা কথা বলে। আমার থিওরি বলি, একটা রহস্য গল্পের বইতে যেসব চরিত্রের আনাগোনা তাদের মধ্যেই খুনী লুকিয়ে আছে। এটা তো সবাই জানে। একজন একজন করে সন্দেহের তীর সবার দিকেই যায়। সাক্ষ্য প্রমাণ না পেয়েই একজনকে ধারণা করার পর যদি শেষমেষ সেই হয় অপরাধী তখনই পাঠক এহেন মন্তব্য করে বসেন। কিন্তু আসলেই কি দরকার আছে রহস্য ব্যবচ্ছেদ করবার? আমার মতে, লেখকের গড়ে তোলা রহস্য লেখককেই উন্মোচন করতে দেওয়া উচিত। আমি পাঠক, আমি শুধুই পড়ব। অনেকেরই ভিন্ন মত থাকতে পারে সেই দিকে আর যাচ্ছি না। 

'দেয়ালে তাদের ছায়া তবু' কে একটা জন্রাতে ফেলা যাচ্ছে না। কয়েকটা জন্রা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। প্রথমে একে অতিপ্রাকৃত মনে হলেও পরে প্যারানরমাল অথবা প্যারাসাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার ভাবছিলাম। আদতে এটা অতিপ্রাকৃত ঘটনার আড়ালে থাকা একটা রহস্য গল্প অথবা থ্রিলার। শেষদিকে কিছুটা ফ্যান্টাসিও ঢুকে পড়েছে গল্পে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সবগুলো জন্রা আমার পছন্দের জায়গা। তাই সিনোপসিস পড়েই বুঝেছিলাম যে এই বই আমার পড়তেই হবে। 

আশরাফ জাহেদী একজন লেখক, খুব ভালো কিছু লিখে না। ইদানীং তার একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। কী লিখে সেটা মনে রাখতে পারে না। পড়লে মনে হয় তার গল্প না, অন্য কেউ লিখেছে। স্বভাবতই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হয় সে। এক নির্জন গলির নির্জন পুরোনো একটা বাসায় জাহেদীর বসবাস। একে তো  তার এই সমস্যা তার উপর সে বাসার ছাদে, ঘরের ভেতর অতিপ্রাকৃত কোনোকিছুর উপস্থিতি টের পাচ্ছে। সেইসব ঘটনার কথা সাইকিয়াট্রিস্টকে জানালে সে তাকে কিছুদিনের জন্য লেখা বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু সাইকিয়াট্রিস্টের সমাধান জাহেদীর পছন্দ হয়না। সুতরাং, দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় অকাল্টিস্ট ম্যাকবেথ (শেকসপীয়ারের ম্যাকবেথ না, এমনি একজন ম্যাকবেথ)। গল্প শুরু হয় উত্তম পুরুষে। ম্যাকবেথ জাহেদীর কেসটা হাতে নেয়। কেসটার বিভিন্ন দিক বিচার করতে গিয়ে স্মৃতিচারণ করতে শুরু করে গারোদের নিয়ে ঘটে যাওয়া এক বীভিষিকাময় ঘটনা। তবে এইসব ঘটনা আমার কাছে শুনে লাভ নেই। জাহেদীর কেসটা ঠিক কীভাবে শেষ হলো তা জানতে এই বইটা পড়তে হবে। 

এটা অর্ণবের লেখা দ্বিতীয় মৌলিক গল্প। এখনকার সময়ের সেরা অনুবাদকদের মধ্যে অর্ণব অন্যতম। বেশ কিছু অনুবাদ বই আসার পরেও আমি লেখকের এই বইটাই প্রথম পড়লাম। খুব এক্সপেক্টেশান নিয়ে শুরু করিনি। তবে যেটুকু এক্সপেক্ট করা উচিত ছিল অর্ণব তার থেকেও ভালো লিখেছে। প্লট টা অন্যরকম। বই এর সাইজটা ছোট হওয়ায় কাহিনী কোথাও স্লো হয়ে যায়নি। ডিটেইলস যেখানে যতটুকু দরকার ছিল ঠিক ততটুকুই হয়েছে। লেখা খুবই ঝরঝরে। কথোপকথনের মাঝে হিউমার থাকায় বেশ উপভোগ করেছি গল্পটা। একটা ছোট্ট ফোরশ্যাডো আছে বইতে। আর শেষের টুইস্ট টা খুবই আনএক্সপেক্টেড। প্রথম প্যারাতে যা বলছিলাম, এই বই এর শেষ টুইস্টটা পড়তে গিয়েই অনেক পাঠক বুঝে যাবে আসল ঘটনা। তারপর বলবে আমরা তো আগেই জানতাম। জানলেও সমস্যা নেই। সবাইকে জনানোর জন্যই এই বই লেখা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে লেখকের হাত ধরে এমন আরও অনেক ভালো ভালো বই আসবে। 
Profile Image for musarboijatra  .
287 reviews361 followers
March 16, 2024
লেখকের মাথায় কিছু আইডিয়া থাকে, একটা রহস্যের উপক্রমণ আর তার সমাধান ভাবেন লেখক নিজে থেকে, তারপর পাঠককে পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি অব্দি নিয়ে যান। আমার কাছে এ আর বি কতটা অভিনব তা মুখ্য না, বরং যাওয়ার প্রসেস-টা মুখ্য। গল্প ওটাই। সমাপ্তি কতটা চমকপ্রদ হলো, কতটা ট্যুইস্ট ঘটলো, তা কোনো ভালোলাগা দেয় না, যদি না গল্পের মাঝে পয়েন্ট এ থেকে বি-তে যাবার যাত্রাটা সুলিখিত হয়।

হরর প্রেক্ষাপটে শুরু, সাইকোলজিকাল থ্রিলারে রূপান্তর এবং মার্ডার মিস্ট্রিতে পরিণতি। ফ্যান্টাসি-ও জুড়ে ছিল গল্পের এখানে-ওখানে। গল্পে তদন্ত অথবা রহস্য নিয়ে এলে, কেন জানি না, অনেক লেখকই সেই তদন্ত পদ্ধতির মাঝে দিয়ে পাঠককে নিতে চান না, অথবা পারেন না। গল্পের শেষদিকে কোনো এক চরিত্র গড়গড় করে রহস্যভেদ বলে যায়। আর পাঠক হিসেবে তা রিসিভ করা ছাড়া কোনো পাওনা থাকে না। একই বস্তু সেইশি ইয়োকোমিজু'র The Honjin Murders-এ দেখেছি, জাহিদ হোসেনের 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দিব'-তে দেখেছি, ইশরাক অর্ণবের 'দেয়ালে তাদের ছায়া তবু'-ও তাই করেছে। তাও, দুই থেকে তিনবার, মূল পরিণতি-তে এইভাবে রহস্যভেদ শোনান হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে রহস্যোপন্যাসের এমন ধরণের গল্পবলা ভালো লাগে না।

ইশরাক অর্ণব যতদিন ধরে লেখালেখি করে যাচ্ছেন, সে তুলনায় তাঁর আবহ নির্মাণ এখনো দুর্বল। হরর আবহে গারো গ্রামে একটা গল্প বলা হয়েছে, আশরাফ জাহেদী'র বাড়িতে মূল চরিত্রের একটা দৃশ্য দেখানো হয়েছে, শেষটায়ও একটা দেখার মতো দৃশ্য ছিল। গারো গ্রামের গল্পটা-ই তলনামূলক ভাল ছিল, তবে সবগুলো দৃশ্যেই যত্নের অভাব বোধ হয়েছে।

অনুবাদ এবং মৌলিক মিলে ইশরাক অর্ণব একজন পরিচিত কন্টেম্পরারি বা সমসাময়িক লেখক। ওনার সাম্প্রতিক কাজের মাঝে অতীন্দ্রিয় সংকলনে 'চিত্রকর্ম' গল্পটাতে যেটুকু সম্ভাবনা দেছেছিলাম, তা কেটে গেছে 'সফরনামা অথবা মাঝে মাঝে তব' গল্পের ব্যর্থতায়। একজন সমসাময়িক লেখক হিসেবে অবশ্যই তাঁর সুযোগ আছে তাঁর সময়কার এবং আগের লেখকদের/সম্পাদকদের কাছ থেকে কনস্ট্রাক্টিভ ক্রিটিসিজম পেয়ে উন্নতি করার। ওটাই আশা করবো। আর যা হোক, "অর্ণব ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ।"

সংযোজন : প্রথম এডিশন মুদ্রণ প্রমাদে ভরা।
Profile Image for Arnab Kabir.
38 reviews1 follower
March 11, 2024
অনুবাদক হিসেবে ইশরাক অর্ণবের সাথে পরিচয় থাকলেও তার মৌলিক লেখার সাথে এই প্রথম পরিচিত হলাম। পরিচয়পর্ব মন্দ হল না। মাত্র ১২০ পৃষ্ঠার ছোট্ট পরিসরে বলা গল্পে লেখক পুরো ছক্কা মেরেছেন। যদিও ছোট্ট পরিসর শুধু নামেই বলা। কারণ গতরে ছোট হলেও গল্পটা আসলে একাধিক জনরার মিশেলে লেখা। হরর দিয়ে শুরু হয়ে সেখানে একে একে ঢোকে রহস্য, হত্যা, মিথ আর ফ্যান্টাসি। জনরার এই মিশ্রণও হয়েছে চমৎকার।

ঝরঝরে লেখা, চরিত্রগুলোর কথোপকথনের হিউমারের উপস্থিতি, কাহিনীর আকর্ষণীয় বিবরণ - এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি গল্প ঝুলে যাচ্ছে। বইয়ের প্রধান চরিত্রগুলো তাদের গতিবিধি আর চিন্তাধারা বেশ ভালো লেগেছে। ম্যাকবেথ ও প্রফেসর শেলি আরেকবার ফিরলে মন্দ লাগবে না। যদিও গল্প যেভাবে শেষ হয়েছে, তাতে তাদের ফেরার প্রকট সম্ভাবনা রয়েই যায়।

ব্যক্তিগত কারণে বইটা পড়তে লম্বা সময় নিয়েছি। কিন্তু এই বই আসলে এক বসায় শেষ করার মতো। তাতে উপভোগ্যতা হয়ত আরও বেড়ে যাবে। 'দেয়ালে তাদের ছায়া তবু' রেকোমেন্ডেড।
Profile Image for Paromita Ghosh.
33 reviews23 followers
February 25, 2024
পৃথিবীতে কি অতিপ্রাকৃত কোনকিছুর বিদ্যমানতা আছে নাকি সবই যুক্তির খেলা? আধার আর আলোর এই লুকোচুরি খেলাকে আমরা বলতে পারি বাঘ বন্দি খেলা। এই খেলার মাঝে হঠাৎ কি এসে দাড়ালো আলোকে পেছন করে আর দেয়ালে পড়লো এক অদ্ভুত ছায়া!

উঠতি লেখক আশরাফ জাহেদী প্রখ্যাত সাইকোলজিস্ট শহীদুল জহির শেলীর শরণাপন্ন হলেন। কারন, তিনি এমন কিছু বিষয় কিছুদিন যাবৎ প্রত্যক্ষ করছেন যার কোন অস্তিত্ব বিজ্ঞানে নেই।শেলী তাকে বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে এইসবই তার ভ্রম।তিনি তার লেখার জগতে এত বেশি ঢুকে পড়েছেন যে এখন তা শুধুই মস্তিষ্কে চাপের সৃষ্টি করছে।তাই তার পরামর্শ ছিল কিছুদিন এইসব থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজেকে চাপ মুক্ত আর উৎফুল্ল রাখা।সেই অনুযায়ী নির্দেশনা মেনে চলার পরেও যখন কাজ হলো না অগত্যা তাকে ধর্ণা দিতে হলো বিখ্যাত অকালিস্ট ম্যাকবেথের কাছে।অলৌকিক বিষয় নিয়ে গবেষনা করাই তার কাজ। তার সাথে আছে তার সহকারী জামাল।

এখন আসা যাক সেই হন্টেড হাউজের আলোচনায় অর্থাৎ জাহেদী সাহেবের বাড়িতে। তার এই বসবাসরত বাড়িটির একটি ইতিহাস আছে। এই বাড়িটি মোট তিনবার হাত বদল হয়ে অবশেষে জাহেদী সাহেবের কাছে এসেছে। প্রথম মালিকের নাম ছিল মেঘনাদ চৌধুরী এবং সেই সময় সেই বাড়ির এক ভাড়াটিয়া দম্পতির মধ্যে স্ত্রীটিকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পরই শুরু হয় হাতবদল। এরপর উঠে আসে আরো তিনজন নারী পতিতা ভিক্টিমের কথা।তাদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকরে ও ছুড়ি চালিয়ে।

অভিযান চলাকালীন সময়েই হঠাৎ আত্মহত্যা করে জাহেদী সাহেব এবং রেখে যান নিজের স্বীকারোক্তি।

কোন বিষয়ে তিনি দিয়ে গেলেন এই দীর্ঘ স্বীকারোক্তি? তিনি কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন?মোট চারটি খুনের রহস্যের সমাধান হয়েছিল কি? আর যুক্তিশীল ব্যক্তিত্ব প্রফেসর শেলী কি এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেন যার হিসেব সে আজো মেলাতে পারেন নি এবং সেই ঘটনাটি তার কাছে কেনো স্বপ্নের মতই অবাস্তব? অনেক অজানা প্রশ্ন লুকিয়ে আছে দেয়ালের পেছনে।

রম্য,যুক্তি,ভয় - এই তিনের সমাহার ছিল 'দেয়ালে তাদের ছায়া তবু'। উপন্যাস জুড়ে ছিল মজার কিছু বিষয়। চরিত্রের জন্য বাছাইকৃত নামগুলো দেখেই হয়তো বোঝা হয়ে গেছে অনেকটাই। এই উপন্যাসটিকে অশুভ কিছুর উপাখ্যানও বলা যেতে পারে। শুরু হয়েছিল ঘৃন্য হত্যা আর শেষ হয়েছে ভেল্কিবাজি দিয়ে।এখানে উপস্থিতি আছে শয়তানের,ব্ল্যাক ম্যাজিকের।
সব মিলিয়ে লেখকের দ্বিতীয় মৌলিক উপন্যাস অবশ্যই সার্থক। মৃত্যুকল্পের পর এটি বেশ ভিন্নধর্মী এক যাত্রা ছিল।
Profile Image for Nadia.
115 reviews
February 25, 2024
বইমেলায় অন্য বই নেওয়ার সময় ও দ্বিধায় ছিলাম, এই বইটা নিব কিনা? সাদা মোচড়ানো কাগজের উপর চকচকে glossy black font টার জন্য নিয়েই নিলাম বইটি। 😅

"Don't Judge a book by it's cover" ব্যাপারটি এবারও খাটে নি। এর আগে "মৃত্যুকল্প" পড়ার জন্য হাতে নিলেও বেশি দূর আগাতে পারি নি। তাই এই বইটি নিয়েও অনিশ্চিত ছিলাম।

কিন্তু গল্পটি আশাহত করে নি। আর গল্পের মাঝে খাপছাড়া ভাবে আরোকটা গল্পের ঢুকে যাওয়াটা আমার কাছে interesting ই লেগেছিল। কিন্তু ওই গল্পটাই যে একটি unreliable narrator এর ভূমিকা পালন করবে সেটা বুঝে উঠতে পারি নি। 😍

আমার কাছে সবচেয়ে মজার লেগেছে একটা বিষয়, মেঘনাধ চৌধুরী নামটি। সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়ের "সেই সময়" বলি বা স্কুল পাঠ্য আমার বাংলা বই এ পড়া - মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনে সাথে মিলিয়ে মেঘনাদবধ কাব্য অনুযায়ী নাম করণটা এবং ঘটনা প্রবাহটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। 🥰

মৃত্যকল্প থেকে দেয়ালে তাদের ছায়া তবু, অনেক বড় একটা improvement লেগেছে আমার কাছে।
যদি ও দেয়ালে তাদের ছায়া নামের সাথে গল্পের তেমন একটা সংযুক্তি পেলাম না, কিন্তু এক বসায় এই গল্পটা শেষ করতে এক ফোঁটাও বিরক্ত লাগে নি।
It's a 4.5 start for me.
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
527 reviews197 followers
March 18, 2024
নানা ব্যস্ততার কারণে বইটা শেষ করতে দেরী হলো। এটা কিন্তু লেখার টানের দোষ না। আমার মাথাতে এসব দিনে পুরোটা সময়টা এইটার প্লটগুলো(হ্যাঁ, আমি প্লটগুলো বলবো, কেননা কয়েকটি গল্প পেয়ে গেছি) ঘুরছিলো। অবশ্য যেমন হরর ভেবেছিলাম, তেমন মোটেও ছিলোনা। তবে বই পড়ে ছাদের ট্যাংকের দিকে যেতে পারছিনা। এটারও একটা কারণ আছে,আমার নানী। আগে আমাদের পুরোনো বাড়ি থাকতে নানী একটা গল্প শোনাতো। আমাদের দক্ষিণ দিকে নাকি এক কালো, কাপড় না পরা খারাপ বাচ্চা জিনিস ঘুরে বেড়ায়। নানীর এই গল্পের সাথে,ছাদের একটা গল্প মিলে যায়। এই দুই মিলে আমার ওদিকে যাওয়া বন্ধ। এবার ভেবে দেখুন, পাতার শব্দ কতটুকুন প্রভাব ফেললে প্রিয় জায়গার একটা দিকে তাকানো চলে না।

বইয়ে আরেকটা জিনিস মজার লেগেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চেনা এখনকার বই জগতে যুক্ত অনেক মানুষ উঠে এসেছে। আবার আমাদের অনেক বিখ্যাত চরিত্র -লেখকের কথা এসেছে। এমনকি লেখক নিজেই এসেছেন শব্দের ভীড়ে।
Profile Image for Masudur Tipu.
128 reviews2 followers
March 10, 2025
দিনে বইটি পড়া শুরু করে দেখি হরর জনরা! ভয় নিয়ে রাতে পড়ে উপভোগ করার জন্য বইখানা রেখে দেই। রাতে লাইট অফ করে মোবাইল আলোতে হরর অংশ টুকু পড়ি, যদিও এই জনরা আমার কম্ফোর্ট জোন না। এজন্য এড়িয়ে চলি। অর্ধেক বই পড়ার পর জনরা পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়, প্যারানরমাল থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শুরু হয়ে যায়। এই জনরা ব্লেন্ডিং টা এক কথায় অসাধারণ। দেশীয় মৌলিক বইয়ে যা ভিন্নমাত্রা যোগ করে। লেখনশৈলী অসাধারন হওয়ার কারণে বইটি শেষ না করে রাখা যায়নি।
গারো উপজাতিদের কাহিনী নিয়ে একটি সাবপ্লট আছে। শুরুটা গ্রামীণ একটা হরর ভাইব দিলেও, উপসংহারে একটুখানি খেই হারিয়েছেন হারিয়ে ফেলে। ওই কয়েক পেজ বাদে পুরোপুরি উপভোগ করেছি ক্রাইম থ্রিলার বইটি ❤️
অনুবাদক হিসেবে লেখক সেরা একজন যা সবার জানা! কিন্তু উনার মৌলিক বইয়ে যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তা এক কথায় অনবদ্য।
বইতে যদিও অনেক আগে থেকেই আমার ঘরে পরে ছিল। ডিসেম্বরে আমার জন্মদিনে কয়েকটি বই বউ গিফট করেছিলেন যার মধ্যে এই বইখানাও ছিল।
Profile Image for Bookreviewgirl_xo.
1,186 reviews101 followers
May 1, 2025
Rating: ৩.৭৫/৫

"মানুষ কৌতূহলের দাস। কৌতূহলবশত যেমন বিশ্ব জয়ের নজির আছে আবার এই জিনিসের প্রভাবেই ধরা খাওয়ার ইতিহাসও কম নেই।"


"স্বপ্ন একটা আজব জিনিস। কখন, কীভাবে, কোন রূপে ধরা দেবে ঠিক নাই। কিছু কিছু স্বপ্নের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে, আর কিছু কিছু স্বপ্ন হয় আগামাথা বিহীন। কোন দিক থেকে কীভাবে এসে হানা দেয় বোঝা মুশকিল। সুন্দর স্বপ্ন হলে তাও ঠিক আছে, কিন্তু দুঃস্বপ্ন হলে? বলাই বাহুল্য, একটু হলেও মনের ওপর প্রভাব পড়ে। মনের মধ্যে কু ডাকে।"
March 13, 2024
দেয়ালে তাদের ছায়া তবু
ইশরাক অর্ণব

এবারের ব‌ইমেলা থেকে ২৪ এর পড়া প্রথম ব‌ই এটা । ব‌ইটার ব্যাপারে খুব বেশি কিছু জানতাম না , শিরোনাম আর প্রচ্ছদ -‌ দুটোই বেশ ভালো লেগেছে আমার , পেছনে লেখা সিনোপসিস দেখে প্যারানরমাল মিস্ট্রি থ্রিলার মনে হয়েছিলো ।‌ খুব বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে শুরু করিনি , লেখকের আগের কোন কাজ আমার পড়া হয়নি । রিভিউ না বলে আসলে পাঠ প্রতিক্রিয়া বলাই বেটার , মাইনর স্পয়লার এলার্ট ।

গল্পটা আমি সিনোপসিস পড়ে যেমন ভেবেছিলাম তেমন‌ না আসলে , গল্পের স্ট্রাকচারটাও একটু অদ্ভুত । আমরা প্রথমে আশরাফ জাহেদি আর শহীদুল জহির শেলীর দেখা পাই , তারপর পাই গল্পের প্রধান চরিত্র ম্যাকবেথের দেখা । ম্যাকবেথের একটা ছোট গল্প (প্রিকুয়েল - সাংসারেক) দেয়া আছে , গল্পের ভেতর গল্প থাকতেই পারে কিন্তু হঠাৎ করে বিদ্যমান গল্পের সাথে ডিরেক্টলি কানেক্টেড না এরকম একটা গল্প পড়ার সময় আমার মাথায় ঘুরছিল আগের গল্পের ���িহাদির সমস্যার কথা । আর গল্পটাও‌ প্রেডিক্টেবল ছিলো, ইন ফ্যাক্ট পুরো ব‌ইয়ের ফার্স্ট হাফ‌ ই‌ বেশ প্রেডিক্টেবল লেগেছে আমার । প্রথমে‌ শহীদুল জহির শেলীর চরিত্র কিছুটা থাকলেও শেষের আগে তাকে আর তেমন সিগনিফিকেন্ট ভাবে পাইনা‌, প্রথমে‌ গল্পটা ছিল আশরাফ জাহেদির , তারপর গল্পটা‌ হাইজ্যাক করে নেয় ম্যাকবেথ । কিন্তু আমি শেলি ক্যারেক্টার টা আরো‌ বেশি আশা‌ করেছিলাম , একদম শেষে শেলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে অবশ্য ।

জাহেদীর রহস্যের সমাধান করতে নামে ম্যাকবেথ , আর অ্যাপারেন্টলি সমাধান করেও ফেলে কিন্তু এরপরেই হলো‌ টুইস্টটা । একদম ক্লাইম্যাক্সে যেয়ে একটা বড় রিভিল পাই যা আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো কে‌ অন্য আলোয় নিয়ে আসে । আমার কাছে মনে হয়েছে ক্লাইম্যাক্স‌ এর‌ টুইস্টটা গল্পটাকে এলিভেট করেছে । শেষটার জন্য‌ই ব‌ইটা মনে থাকবে , কারণ কিছু প্রশ্ন থেকে গেছে ।
এক্সপেক্টেশন সাবভার্ট করতে পেরেছেন লেখক , সিনোপসিস পড়লে হয়তো মনে হতে পারে মিসির আলি টাইপ স্টোরি অথবা টিপিকাল প্যারানরমাল মিস্ট্রি কিন্তু এসবের বদলে একটু নতুন স্বাদ নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন , যদিও পারফেক্ট হয়নি , একটু খাপছাড়া লেগেছে কিন্তু তারপরও মিক্স জনরায় চেষ্টার‌‌ জন্য প্রশংসা করবো‌ লেখকের ।

ব‌ইটাতে অনেক অনেক বানান ভুল আছে যা ব‌ইটা পড়ার সময় আমার বিরক্তিকর লেগেছে , প্রথম সংস্করণে অল্প কিছু ভুল এড়িয়ে যাওয়া যায় কিন্তু এখানে সেটা অনেক অনেক বেশি ছিল , আশা করি পরবর্তী তে এ ব্যাপারটা ঠিক করা হবে ।

ব‌ইটায় অনেক অনেক রেফারেন্স আছে , নাজিম উদ্দিন এর রবীন্দ্রনাথ থেকে জাহিদ হোসেনের নৈঋত , মুরাকামি থেকে মিসির আলী , ফেলুদা ইত্যাদি ইত্যাদি ক্লাসিক ও‌ কন্টেম্পোরারি বিভিন্ন লেখক ও ব‌ইয়ের হঠাৎ ছোট রেফারেন্স খারাপ লাগেনি তেমন ।

আরেকটা ব্যপার হলো, গল্পটা প্রথমে আমরা থার্ড পারসনে দেখি ন্যারেট হতে , এরপর যখন ম্যাকবেথের সাথে আমরা পরিচিত হ‌ই তখনো গল্প থার্ড-পারসন ন্যারেশনেই‌ ছিলো‌ কিন্তু হুট করে ম্যাকবেথের ফার্স্ট পারসন মনোলগে এ শিফট হয় , এর কিছু পরে আবার থার্ড পারসনে ট্রানজিশন হয় । এই ব্যাপার টা ভালো লাগেনি আমার । জানিনা লেখক‌ ইচ্ছাকৃত ভাবে ম্যাকবেথ কে আনরিলায়েবল ন্যারেটর প্রমান করতে এমন করেছেন নাকি নিতান্তই ভুল ।

গল্পের মাঝে একটা জায়গায় লেখক নিজেই উপস্থিত হন শহীদুল জহির শেলীর কাছে, তার গল্প নিয়ে ব‌ই লেখবার জন্য কিন্তু শেলী তাকে ঝাড়ি দিয়ে ভাগিয়ে দেন‌ এবং মিসির আলির গল্পের মতন গল্প ফাদতে নিষেধ করেন , এই ব্যাপারটা মজার ছিল, হয়তো লেখক এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে এই ব‌ই‌য়ে তিনি অন্য পথেই হেঁটেছেন ।

একটানা পড়ে শেষ করা যায় এমন একটা ব‌ই , ওভারল খারাপ না আবার খুব ভালোও না , মাঝামাঝি।

৩.৫/৫
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books227 followers
February 28, 2024
আসল রেটিং -৩.৫

সল্প পরিসরে বেশ ভালো লাগল। বইয়ে বেশ অনেকগুলো ট্রিবিউট আছে। নিয়মিত রিডাররা খুব সহজেই ধরতে পারবে। গল্প মেদহীন ছিল। ক্যারেক্টার বিল্ডাপ ভালো ছিল৷ লেখায় নতুনত্ব ছিল৷ হিউমার ছিল। টুইস্ট ভালো ছিল।
এই স্টাইলের লেখার সাথে পরিচিতি ছিল না। তাই ভালো লেগেছে। অল্পের মধ্যে বেশ ছিমছাম গল্প।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Snow.
2 reviews
April 27, 2025
it was such a good read man. but i wish it had more of ashraf jahedi. i wanted to know why he had all those illusion while he was walkin on the street. the prof shelly was op ngl. n if we talk abt macbeth oh the plot twist man. time flew when i was readin this book. superb !!!
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books80 followers
April 29, 2024
বইটার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিলো সিনোপসিস পড়ে। জনরাটা পছন্দের। তার ওপর লেখক আশ্বাস দিয়েছিলেন বইতে পাঠকেরা অনেক কিছু এক প্যাকেজে পাবে।
হ্যাঁ, পাঠকেরা তা পেয়েছে। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। এক এক করে বলছি।
বইটার প্লাস পয়েন্ট এর প্লট এবং ক্লাইম্যাক্স। প্লটটা বেশ ভালো। মাথা ঘোরানো না হলেও বেশ চমকে দেবার মতো একটা টুইস্ট আছে। লেখক খুব সম্ভবত শহীদুল জহিরের লেখার মাধ্যমে খুব প্রভাবিত। বইটার শেষাংশটুকু মন দিয়ে পড়লে তা বোঝা যায়। আর প্রোটাগনিস্টের নামই যখন শহীদুল জহির, সেটা তো বলাই বাহুল্য।

বইটার নেগেটিভ দিক হচ্ছে এর লেখনশৈলী এবং দৃশ্যায়ন। লেখনশৈলী খুব একটা ভালো লাগেনি। কোনো জায়গায় বর্ণনা খুব ফ্ল্যাট, আবার কোনো জায়গায় কিছুটা আশার আলো দেখায়। বইটায় আরেকটু সময় দিলে বেশ ভালো একটা রান্না হতে পারতো। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সে গিয়ে কাক নিয়ে একটা দৃশ্য সাজানো আছে। বেশ ইউনিক, তবে উপযুক্ত বর্ণনাশৈলীর অভাবে হতাশ করেছে।

গারোদের আচিক ভাষাকে কেন্দ্র করে নিয়ে যে সিকোয়েন্সটা ছিলো, সেটা বেশ প্রশংসনীয়। গল্পের এই অংশটুকু যদিও কাহিনীতে কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে ফিলার হিসেবে খারাপ না। ম্যাকবেথের চরিত্রটাকে একটা ভিত্তি দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে খুব সম্ভবত। তবে এখানেও বর্ণনা প্রকাশ দুর্বল লেগেছে। দৃশ্যপট সিনেমার রিলের মতো একের পর এক বদলে যেতে থাকে শুধু। পাঠক হিসেবে চোখে লেগে থাকার মতো কিছু পাইনি। গারোদের সম্পর্কে ওয়ারি মোড়ক যেন একগাদা তথ্য উগড়ে দিয়েছে স্রেফ বিশাল বিশাল ডায়লগের মাধ্যমে।
ক্যামিও, রেফারেন্স, এস্টার এগ ভুরি ভুরি। একটা সময় হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য লেখককে আনা হয়েছে। কয়েকজনকে নিয়ে মকও করা হয়েছে (যদি আমি খুব ভুল না করে থাকি!)। লেখক নিজেকেও মক করেছেন বইয়ের একটা অংশে। তবে ডার্ক হিউমার বা হিউমার যেটাই থাকুক না কেন, ভালো লাগেনি। কমেডির জায়গাটা আমার কাছে বেশ ফ্ল্যাট লেগেছে।

দুটো কথা বলে প্রতিক্রিয়া শেষ করছি।
১) গল্পের একটা জায়গায় দেখা যায় অধ্যাপক শহীদুল জহির তার এক ছাত্র হাসিবকে ব্যবহার করেন তদন্তের কাজে। সেখানকার কিছু কথোপকথন একটু ডিস্টার্বিং লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের একজন ছাত্র তার শিক্ষকের সাথে "স্যার, মালটাকে কি গাড়িতে তুলে আপনার কাছে আনবো?" "কোন ম্যাডামের ওপর চোখ রাখতে হবে?"- টাইপ ভাষায় কথা বলবে কিনা, তা আমার জানা নেই আসলে।
২) শহীদুল জহির গল্পের এক পর্যায়ে ম্যাকবেথকে তার পেশেন্ট আশরাফ জাহেদীর সাথে সম্পর্ক বন্ধুস্থানীয় হিসেবে উল্লেখ করে। তবে গোটা উপন্যাসে তাদের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্কের স্থাপন দেখতে পাইনি। সেটা আমার পড়বার ভুলও হতে পারে।

যাই হোক। শহীদুল জহির শেলী আর ম্যাকবেথ হয়তো সামনে আবার আসবে। তাদের দ্বৈরথ যেন জমজমাট হয়, তার অপেক্ষায় থাকলাম।

বাই দ্য ওয়ে, পুরো বইতে বানান, টাইপোর শ্রাদ্ধ করা হয়েছে। নিজেও এই ইন্ডাস্ট্রিতে আছি, তাই আর কিছু বলার নেই।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews160 followers
March 22, 2024
জমাট বৃষ্টির রাতে ছমছমে বইয়ের যেমন একটা কদর আছে, তেমন এই সময় যেকোনো বই জমে যাওয়ার একটা প্রিভিলেজও থাকে। ঠান্ডা ঠান্ডা এমন আবহাওয়ায় খিচুরিটা খুব জমে। জনরা হিসেবে বইটা একরকমের খিচুরিই বলা চলে। প্রথম প্রথম হরর আর সুপারন্যাচারাল একটা আবহ পেয়েছি, পৃষ্ঠা উল্টেছে দ্রুত।

লেখক ও অনুবাদক ইশরাক অর্ণবের মৌলিক লেখার সাথে ��রিচয় ঘটলো এই প্রথম। অনুবাদ পড়েছি এর আগে বেশ কিছু। গল্পটা লেখা হয়েছে একজন প্রায় ব্যর্থ লেখকের সাথে ঘটে যাওয়া অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটনাবলির উপর ভিত্তি করে। মানসিকভাবে ভগ্ন সেই লেখক ভেঙে যেতে যেতে একবার ছুটেছেন সাইকোলজির প্রফেসরের কাছে, আরেকবার ছুটেছেন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটরের কাছে। এখন একই গল্পে বিজ্ঞান কি বলে আর ভূতবিদ্যা কি বলে তা নিয়ে একটা দন্দ হবার কথা না? সেটাই ধরে রেখেছে গল্পে।

আমি পড়তে পড়তে ধারণা করছিলাম গল্পটা আমাদের ড্রেসডেন ফাইলসের মতো একটা ক্যারেক্টার এনে দিতে চলেছে বাংলাভাষায়। যেখানে একজন অকাল্টিস্ট প্যারানরমাল বিষয়াশয় সমাধা করতে ছুটে বেড়াবে নানা প্রান্তে। তারানাথ ছিলেন একজন তান্ত্রিক, আর মিসির আলী, আহমদ করিম হলেন সাইকোলজির লোক-ওনাদের গল্প প্যারাসাইকোলজি নিয়ে। কুটি কবিরাজ কোন দলে পড়েন ঠিক বলতে পারবোনা। একজন অকাল্টিস্ট পেলে মন্দ হতোনা। তবে লেখকের বোধহয় ওরকম চিন্তা ছিলোনা। উনি শাক্যজিৎ এর শেষ মৃত পাখির মতো একটা স্টোরি উইদিন আ স্টোরি উপহার দিতে চেয়েছেন। শুধু এখানে গল্পের শেষে গিয়ে সম্পর্ক বদলে গেছে একটি পলকে!

পড়তে ভালো লেগেছে আসলে। বাধ যা সেঁধেছে তা লেখনি আর বিন্যাস। লেখক পাঠক হিসেবেও একজন দারুণ পরিচিত মুখ। সেকারণে মৌলিকে লেখা আরও পরিণত হবে আশা করেছিলাম। নিরস বর্ণণাভঙ্গি আর দূর্বল সংলাপ চোখে লেগেছে কিছুটা বলা বাহুল্য। বানানপ্রমাদও ছিল অনেক। এই বইয়ের ঠিক আগেই হাজার চুরাশির মা এবং জবরখাকির মতো বই পড়েছি। ওই বইগুলোতে সংলাপ আর বাক্যগঠনের একটা চমৎকার অনুকরণীয় ধারা দেখতে পেয়েছিলাম। হতে পারে একারণেই এমনটা চোখে লেগেছে বেশি। লেখকের ক্যামিওটা মজা লেগেছে। এমন ক্যামিও সামনের কাজগুলোতেও হোক।

যাহোক, গারো মিথ আর ওই অঞ্চলের গল্পটা যখন থেকে শুরু হয় তখন থেকে গল্প জমেছিল। শেষে গিয়ে বইটাকে দুটো জনরায় ঝুলিয়ে দিয়ে কাক দেখিয়ে না দিলেও বোধহয় জমতো। বিন্যাসেও নতুনত্ব ছিলোনা একদমই, একইরকম গৎবাঁধা। মাঝে মধ্যে ভাবি এ কারণেই কি আমার বাংলা থ্রিলার থেকে আগ্রহ উঠে যাচ্ছে? কে জানে।
তবে মানতে হবে, টুইস্ট খেয়ে গেছি! পুরো গল্প একরকম পড়ে শেষে গিয়ে কিক সিনেমার মতো টুইস্ট খেয়ে গেলে মুখ দিয়ে একটা কথাই বেরিয়ে যায়-
ম্যায় মউত কো ছুঁ-কে টাক সে ওয়াপাস আ সাকতা হু!

৩.৫★
Profile Image for Sakibul Hassan.
8 reviews15 followers
February 24, 2024
গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে? স্বাভাবিকভাবেই অপর পক্ষের বলে যাওয়া গল্পকে সত্যি বলে ধরে নিতেই আমরা পছন্দ করি।
কিন্তু যখন বুঝতে পারেন অপরপক্ষের বলে যাওয়া গল্পগুলো শুনতে শুনতে সেই গল্পের অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছেন আপনি নিজেই, তখন কি করবেন?
এরকম কিছু জাত গল্পবলিয়ে স্বভাবের মানুষদের নিয়েই লেখা এই অতিপ্রাকৃত উপন্যাসটি। তবে আমার মনে হয়েছে বইটা নির্দিষ্ট একটা জনরা তে ফেলা উচিত হবেনা। বইটা পড়তে গিয়ে প্রথমে ভেবেছিলাম হরর, মাঝামাঝিতে এসে দেখলাম মার্ডার মিস্ট্রি, তবে উপসংহার টেনেছেন সাইকোলজি ও কিঞ্চিৎ ফ্যান্টাসি দিয়ে।
Profile Image for Wasif Noor .
25 reviews19 followers
March 13, 2024
এই বই মেলাতে বের হওয়া আমার পছন্দের মৌলিক এটাই। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, একটু হরর, একটু ম্যাজিক রিয়েলিজম - সব মিলিয়ে খুবই উপভোগ করেছি বইটা!
Highly recommended!
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
March 28, 2024
শেষটা দ্রুত হয়ে গেলো।
ভালো লাগছে বইটা পড়ে।
Profile Image for Arup Ghosh.
6 reviews
Read
July 28, 2024
ভালো বই... তবে কাহিনীর গাঁথুনি আরেকটু ভালো হতে পারত... শেষটা আরেকটু গোছালো হলে আরও ভালো লাগতো...
Profile Image for Jobayer Rahman.
51 reviews21 followers
March 31, 2024
এক্সপেকটেশন একটু বেশি ছিলো যার জন্য পিছলা খাইয়া পড়সি! লেখকের লেখার ধরণ একদম হাল্কা যার জন্য গল্পের মধ্যে কোনো এট্রাক্টিভ ব্যাপার নাই আর প্রতিটা টুইস্ট ধরা যাচ্ছিলো ইজিলি। ') লেখক ১০৮ পেইজের বই এ নানান বিষয় আনতে চাইসে কিন্তু লেখন শৈলী এর জন্য কোনোটাই তেমন ভালো জমে নাই!
Displaying 1 - 27 of 27 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.