এই বইটা একটু ভিন্ন। কারণ এই বইয়ের লেখাগুলো ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নানা সময়ে লেখা। বইটির ভেতর আমার প্রায় সবগুলো সায়েন্স ফিকশন আছে। জনরা হিসেবে এদের ফ্যান্টাসিও বলা যায়। কারণ সবক্ষেত্রে যে সায়েন্স প্রাধান্য পেয়েছে এমন নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাশভারী প্রফেসরের হয়তো চাঁদিও গরম হয়ে যেতে পারে। যেমন ‘১৯৫২ – ইতিহাসের পূনর্লিখনী’ গল্পে যে জীরুৎ ওয়েভের কথা বলা হয়েছে – তার কোন ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। থাকার কথাও নয়। কিন্তু ঐ গল্পের মূল ব্যাপার বিজ্ঞানের কচকচানি না। তেমনটা সায়েন্স ফিকশনে থাকবে – এটি আমার ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ। হার্ড সায়েন্স ফিকশন লেখার বিষয় এলে কোন এক সায়েন্টিফিক জার্নালে সে আইডিয়া প্রকাশ করবো। গল্পের বইয়ের পাতায় কেন? এ বিষয়ে সবাই আমার সাথে একমত হবেন এমন মনে করি না। তবে সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবো না। দুই মলাটের মধ্যে কী আশা করতে পারেন আর কী পারেন না সে বিষয়ে পাঠককে সামান্য জানিয়ে রাখার দায়িত্বটি পালন করলাম। আশা করি ফ্যান্টাসি ও সায়েন্স ফিকশন পাঠকরা এই বই উপভোগ করবেন।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
অবৈজ্ঞানিক অখাদ্যকাহিনী! গল্পগুলোর কনসেপ্ট কমবেশী চলনসই বলা যায়, হার্ডকোর সায়েন্স নাই। কিন্তু সেটাপ থেকে ডেভেলপমেন্ট খুব-ই দূর্বল, গতিপথ এঙ্গেজিং না। হালকা হিউমারের ছোঁয়ায় ভোঁতা সব সংলাপ।
কেপির লেখা বরাবর আমার পছন্দের। তার চাচাঁছোলা ভাষা খানিকটা বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে কিন্তু যারা কেপি পড়ে অভ্যস্ত তারা ঐটাকেই বরং উপভোগ করে বেশি। ‘ডিসটোপিয়া’ পড়লে খানিকটা আঁচ করা যায় তার বই মোটেই বাচ্চা কাচ্চাদের জন্য না।
নামে ‘অবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী’ হলেও বইটিতে লেখক বিজ্ঞানের অপূর্ব কিছু সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছেন আমাদের জন্য। আর ভাবার জন্য রেখেছেন অসংখ্য উপাদান। ২৪৬ পৃষ্ঠার বইটির দুই মলাটের মধ্যে রয়েছে ৭ টি দুর্দান্ত কল্পকাহিনী। যার মধ্যে কয়েকটাকে ছোটখাট নভেলাও বলা যায়। ব্যাক্তিগতভাবে গল্পগুলোর জন্য আমার রেটিং -
বিজ্ঞানের কচকচানি গল্পগুলোতে একদমই নেই। ফ্রেশ ফ্যান্টাসির সাথে যৌনতা, বীভৎসতা, থ্রিল এগুলোই প্রত্যেকটা গল্পের অন্যতম উপাদান। তাই সবকিছু মিলেমিশে ভাবনার জগৎে হাটতে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন বইটি। অভিজ্ঞতাটা মন্দ হবে না।
মোট সাতটা গল্প আছে, অবশ্য দুয়েকটা আছে যেগুলোকে গল্প না বলে নভেলাই বলা যায়। গল্পগুলোর কোনোটা লেখা হয়েছে ২০১৪ সালে আবার কোনোটা ২৩ এ! তাই, লেখার প্যাটার্নের তারতম্য যথেষ্টই চোখে পড়ার মতো। প্রথম গল্পটা পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। সাই-ফাই গল্পেও মেটাফোরিক ভাবে বর্তমান সময়ের পাহাড়-সমতলের সিচুয়েশনটা বেশ ভালোভাবেই দেখাতে পেরেছে কেপি। পরের দুটো গল্প মোটামুটি ভালো লাগলেও, বাকি চারটা গল্প খুব একটা ভালো লাগেনি। বিশেষ করে, গল্পগুলোতে কেপির টোন খুঁজে পাইনি। যেই কেপির স্টোরিটেলিংয়ের কারণে চারশো প্লাস পৃষ্ঠার বই এক-দেড় দিনে শেষ করেছি, সেখানে এই বইয়ের গল্পগুলোতে কনসেনট্রেট করতে হয়েছে অনেকটা জোর করেই!
কেপির কাছে যে এক্সপেকটেশন সে হিসাবে এটা একদমই হতাশ করার মতো।