Jump to ratings and reviews
Rate this book

বাইশ গজের মন্দির

Rate this book
ক্রিকেট দেখতে ভালোবাসেন? ভালোবাসেন ক্রিকেটের ইতিহাস জানতে? কবে কোন ক্রিকেটার কোন কীর্তি গড়েছিলেন, তা জেনে কি চমকিত হন?

তবে এই বইটি আপনার জন্য।

ব্যাটিং অর্ডার উল্টো করে নামালেন ব্র্যাডম্যান। কিন্তু কেন? ম্যাচটা তো প্রায় জিতেই গিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া, কীভাবে তাদের গ্রাস থেকে দলকে বাঁচালেন ব্রায়ান লারা? কোন প্রতিশোধের নেশায় ডুব দিয়েছিলেন চার্লি ম্যকলিওড? বাংলাদেশের মাটিতে কবর আছে একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের। কে তিনি? আর্থার কোনান ডয়েলই বা তার শার্লক হোমসকে ছেড়ে ক্রিকেট মাঠে কেন?

প্রায় দেড়শো বছর বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্ণিল চরিত্রের সংখ্যা যেমন কম নয়, তেমনি বিচিত্র ঘটনাও কম ঘটেনি। এই বইয়ে আধুনিক ক্রিকেটের শচীন, লারা যেমন আছেন, তেমনি আছেন বিংশ শতাব্দীর ব্র্যাডম্যান, এমনকি পিছিয়ে নেই উনবিংশ শতাব্দীর ভিক্টর ট্রাম্পারও। এদের সাথে সাথে এসেছেন সমসাময়িক সময়ের বিখ্যাত সব চরিত্রও। ডব্লিউ. জি. গ্রেস, জ্যাক হবসের মতো জ্বলজ্যান্ত মানুষরা তো আছেনই, এমনকি বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছেন শার্লক হোমসও!

পাঠক, আসুন কিছুক্ষণের জন্য ডুব দিই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায়, তাদের সাথে ঘুরে আসি ‘বাইশ গজের মন্দির’ থেকে।

144 pages

Published February 1, 2024

21 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (14%)
4 stars
9 (64%)
3 stars
3 (21%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books403 followers
May 1, 2024
আমি সবসময়ই একজন স্পোর্টস লাভার। ক্রিকেট তো হৃদয়ে বিশেষ একটা জায়গা দখল করেই আছে।
বাইশ গজের মন্দির বইটা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটা ট্রিট। ক্রিকেটের সোনালী অতীতের বিশেষ বিশেষ সব ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটা। ঘটনাগুলো পড়তে গিয়ে বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম অতীতের পাতায়। আর লেখকের লেখাও সাবলীল, সেইসাথে উপমার ব্যবহারও যথাযথ। ক্রিকেটের জানা অজানা ঘটনাগুলো পড়ার জন্য উঠিয়ে নিতে পারেন বইটা।
Profile Image for Injamamul  Haque  Joy.
100 reviews115 followers
March 6, 2024
ক্রিকেট থেকে অনুভূতি উঠে গেছে খুব সম্ভবত এক দেড় বছর হয়। আগের মত আর ইমোশনালও করতে পারে না, মাথা ঘামাতেও পারে না। এই তো দুই দিন আগে শ্রীলঙ্কার সাথে ৩ রানে হারলো, দুইটা বছর আগে এটা হলে মেবি ডিপ্রেশনে শুয়ে থাকতাম। কিন্তু এখন আর ক্রিকেট নিয়ে সেই গায়ে কাটা দেওয়া বা উৎফুল্লতা আসে না।

তবে ক্রিকেট নিয়ে এখন আর আগের মত সেরকম ফিল না আসলেও এই বইটা পড়তে গিয়ে কাঁটা দেওয়া বা সাসপেন্স সাসপেন্স ফিল আসছে। খুব সম্ভবত লেখকের গল্প না বলেও গল্প বলার ধরণটার জন্য হয়ত। বইটা ক্রিকেট নিয়ে, ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড এর বিভিন্ন থ্রিলিং গল্প নিয়ে। শচীন থেকে শুরু করে ম্যাকলিওড, বব ক্রিস্প, ব্র‍্যাডম্যান, ভিক্টর আরও অনেকের। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়্যারের প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট, অবিভক্ত ভারতের ক্রিকেট থেকে শুরু করে মডার্ন শচীন-ব্রায়ান লারা, ভিন্টেজ ট্রম্পার-ব্রাডম্যান— একে একে ২২-২২টা প্রবন্ধ লেখেছেন লেখক।

বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের গল্প, প্রত্যাবর্তন এর গল্প, সেরার সেরাদের গল্প, দানব-মানব ক্রিকেট মানুষদের গল্প দিয়ে সাজানো বইটা ওর্থ ইট। খুবই নতুন কিছু ফেস করেছি, আর পড়তে পড়তে ভেবেছি, এ-ও ক্রিকেট?
Profile Image for musarboijatra  .
283 reviews358 followers
April 16, 2024
দেশের খেলার দিন টিভি শোরুমের সামনে জটলা। দেশ জিতলে পাড়ায় মিছিল। এইসব দৃশ্যগুলো প্রযুক্তির বিবর্তনের সাথে কিছুটা ফিকে হয়ে এলেও, ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা বাংলাদেশে সবসময়েরই। ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে তাকালে বাংলাদেশের নাম অবশ্য অতোটাও মুখ্য হয়ে দেখা দিবে না। খেলার জন্ম থেকে একশ বছরই যেখানে শুধু টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছে, ওয়ানডে আর টি-২০ এলো এই সেদিন, সে ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি হয়তো কেবল পাঁড় ক্রিকেট ভক্তের কাজ। কিন্তু এর কোনো অধ্যায়, টুকিটাকি ঘটনা কি সাধারণ পাঠককেও আনন্দ দিতে পারে না?

ইমতিয়াজ আজাদ অনুবাদক পরিচয়ের বাইরে পা রাখলেন তাঁর বই 'বাইশ গজের মন্দির' দিয়ে। ক্রিকেটের ইতিহাসের ২২টি গল্প তিনি সাজিয়েছেন এই বইতে, যার বৈচিত্রে অংশ নিয়েছেন শার্লক হোমসের লেখক আর্থার কোনান ডয়েল, বাংলাদেশে সমাহিত এক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান, পরপর দুই ওভার বল করা ইতিহাসের একমাত্র বোলার, একই দিনে দুইবার অল-আউট হওয়া ক্রিকেট দল। গল্পগুলোর বেশিরভাগের সাথে জড়িয়ে আছে টেস্ট ক্রিকেট। তবে "বোরিং বলে" আমার মতো যারা টেস্ট খেলা-কে নাকচ করে দেন, গল্পগুলো তাদেরও উপভোগ্য হতে পারে, লেখকের গল্পকথনের গুণে।


ট্যাঙ্ক যুদ্ধের ওপর অন্যতম সেরা বই Brazen Chariots: A Tank Commander in Operation Crusader লিখেছিলেন সাউথ আফ্রিকান পেস বোলার বব ক্রিস্প। অবাক হলেন? হ্যাঁ, দিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান প্যানজার ডিভিশনের বিপক্ষে ট্যাঙ্ক লড়াইয়ে নেমেছিলেন এই খেলোয়াড়। একা এক ট্যাঙ্ক নিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন জার্মানদের হাফ-সেঞ্চুরির অধিক ট্যাঙ্ককে, এমন লড়াই করেছিলেন, বিপক্ষ ভেবেছিল পুরো সেনাদলের বিরুদ্ধে তারা লড়ছে! যুদ্ধে, মাথায় স্প্লিন্টার ঢুকে গেছিল তাঁর। যুদ্ধ শেষে তাঁকে মিলিটারি ক্রস পরিয়ে দেওয়ার সময় রাজা ষষ্ঠ জর্জ জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনি কি আর বোলিং করতে পারবেন?" ববের উত্তর ছিল, "কেন নয় স্যার? আঘাত তো মাথায় লেগেছে, পায়ে নয়!"

তেমনি খেলা থামিয়ে যুদ্ধে যাওয়া আরেক খেলোয়াড় ছিলেন অস্ট্রলিয়ার রস গ্রেগরি। জাপানি ক্যাম্পের ওপর বিমান হামলা করে বার্মা থেকে ফেরার পথে জাপানি বিমানের ধাওয়ার মুখে পড়েন। স্থান, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা। আকাশে বিমানের ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া দেখে এলাকার মানুষ কৌতুহলী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। কিছুক্ষণ পর জলদি সরে আসতে হয় তাদের, যখন দেখতে পান বিধ্বস্ত হয়ে ঝড়ে পড়ছে একটা বিমান। যেখানে গ্রেগরির বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, 'বগামারা চর' থেকে পালটে গিয়ে তার নামই হয়ে যায় 'জাহাজপড়া চর'। এই নাম স্থায়ী হয়ে যায় ময়মনসিং ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের দলিলেও।

ক্রিকেটার হিসেবে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল একেবারেই উল্লেখ্য ছিলেন না। একবার এক নামজাদা ব্যাটসম্যানের উইকেট নিয়ে, আনন্দে পুরো কবিতা-ই লিখে ফেলেছিলেন তিনি! "Once in my hay day of cricket, / One day I shall ever recall! / I capured that glorious wicket, / The greatest, the grandest of all." এমন ক্রীড়াবিদের কপালে লেখক হওয়া-ই ছিল!

কেমন হয় যদি ওপেনিংয়ে নামেন মুস্তাফিজ, আর তামিম ইকবাল ব্যাট করতে নামেন চার/পাঁচ নাম্বারে? বোকার মতো শোনাবে বৈকি। ভালো ব্যাটসম্যাদের পরে নামিয়ে বোলার দিয়ে ওপেনিং কে করায়? কিন্তু তেমন এক বাজি জিতেই ইতিহাস গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সবচে জনপ্রিয় ক্যাপ্টেন এবং ব্যাটসম্যান, স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ইনিংস খুলতে পাঠিয়েছিলেন দলের আট আর দশ নাম্বার ব্যাটসম্যানকে, যাতে উইকেট না পড়ে! দশ নম্বর, যিনি ব্যাটে ঠিকঠাক বল ছোঁয়াতেও পারতেন না, তার বিস্ময়ের জবাবে অধিনায়ক বলেছিলেন, "এই মাঠে উইকেট পড়া সম্ভব শুধু বলে ব্যাটে-বলে লাগাতে পারলেই... তোমার ক্ষেত্রে যে ভয় একদমই নেই!" আসলে সেদিন রান তোলার চেয়ে উইকেট বাঁচিয়ে সময়ক্ষেপণ করা-ই বেশি দরকারি ছিল। বৃষ্টির পর পিচ মরণফাঁদ হয়ে যেত সহজেই, কিন্তু তা সামাল দিতে ব্যাটিং অর্ডার উলটো করে দিয়ে নাম কামাননি আর কোনো অধিনায়ক!

বইটা পড়তে গিয়েই প্রথম জানলাম, টেস্ট ক্রিকেটে চাইলে একই দিনে দুইবার ব্যাট করা যায়। বৃষ্টিভেজা পিচ ব্যাটিং টিমের মরণফাঁদ হওয়ার কথা যে বলেছিলাম, তারই মোক্ষম উদাহরণ হয়েছিলেন অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি। বোলিং করতে নেমে আধা দিনে বিপক্ষদল সারে-কে অল-আউট করেছিল তাঁর দল মিডলসেক্স। নিজেরা এক বল খেলেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিলেন, তাতে করে একই দিনে আবার ব্যাটিঙে নামতে হয় সারে-কে। ফলাফল, আবারও অল-আউট। সারে'র মোটমাট রান হয়েছিল ১৩৮, যা তাড়া করতে ২৭ ওভারের মধ্যে ১৩৯ করতে হতো ব্রিয়ারলি'র দল মিডলসেক্স-কে। এবং এই ঝুঁকি নিয়ে জিতেছিলেনও। কিন্তু একদিনের মাঝে দুইবার প্রতিপক্ষকে অল-আউট করা, এ যেন বেশিই চমকপ্রদ!

'হাফ হাতা সোয়েটারে এভারেস্ট জেতা' জিম লেকার (এক ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যাকে কোনো বোলার টপকাতে হলে এক ম্যাচের সবগুলো উইকেট একা-ই তুলতে হবে সে বোলারকে), এক দিনে দুই হ্যাটট্রিক করা টমাস জেমস ম্যাথুজ, শচীন টেন্ডুলকারের শেষ ম্যাচে লিস্ট ধরে জীবনের সব উপকারী মানুষের নামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, এমন ধরণের গল্পগুলো পড়তে গিয়ে কখনো মনেই হয়নি যে ক্রিকেট আমার অনাগ্রহের বিষয়। গল্প-বলায় বেশ উৎরে গেছেন লেখক, বলতেই হয়।

এবং চমৎকার ব্যাপার হলো, লেখক এমন সব বিষয় আর ঘটনা নির���বাচন করেছেন, যেগুলো সবে মিলে ক্রিকেটের একটা ইমেজ গড়ে তুলেছে। কখনো ম্যাচের গল্প বলেছেন, কখনো খেলোয়াড়ের গল্প। এবং যখন যেটাকে ধরে গল্প বলেছেন, গল্পের ছোট পরিসরে সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পাঠকের সামনে। সেজন্যই ব্রায়ান লারা যখন দেশের জাত চেনাতে শেষ বল অব্দি খেলছেন, রুদ্ধশ্বাসে পড়েছি, গল্পে মজে গিয়ে। মাথায় রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ নিয়ে ব্যাট হাতে বার্ট সাটক্লিফের মারের পর মার দেওয়া দেখে হাততালি দিয়েছি।

খেলা নিয়ে লেখা আগে তেমন পড়া হয়নি। অন্তত নন-ফিকশন না। ক্রিকেট নিয়ে বাংলা ভাষায় অনেক বই-ই হয়েছে, তার মাঝে ইমতিয়াজ আজাদের বইটা হয়তো খুব একটা নতুন কিছু যোগ করবে না। তারপরও, কোনো ক্রিকেটপ্রেমী-কে উপহার দিতে হলে, অথবা নিজের ক্রিকেটপ্রেম অন্যকে যোগাতে হলে এই ২০২৪ সালে হাতের কাছে ভালো একটা অপশন হতে পারে 'বাইশ গজের মন্দির'।

বাইশ গজের মন্দির
লেখক : ইমতিয়াজ আজাদ
জঁর : নন-ফিকশন, ইতিহাস
প্রকাশক : সতীর্থ প্রকাশনা
প্রকাশকাল : বইমেলা ২০২৪
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৪৩
মুদ্রিত মুল্য : ৩০০ টাকা
Profile Image for Zabir Rafy.
312 reviews10 followers
May 18, 2024
° লোন ওয়ারিয়র ব্রায়ান চার্লস লারার অপরাজিত ১৫৩ রানের ইনিংস দেখলাম, যেখানে তার অল্প একটু সাহায্য নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন কোর্টনি ওয়ালশ!

° শচীন টেন্ডুলকারের বায়োপিক দেখলাম।

° সদ্যমৃতা বাগদত্তার শোক কাটিয়ে ব্যাট হাতে দুই পা টেনে টেনে মাঠে প্রবেশ করছেন বব ব্লেয়ার। গ্যালারিতে আবেগাপ্লুত দর্শক স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিচ্ছে তাকে, হাত তালি থামছেই না; এরকম একটা আবেগঘন সিনারিও দেখলাম।

এরম প্রায় ২২ টা ঘটনা চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করলাম যেন। বাইশ গজের মন্দিরের কারিগর ইমতিয়াজ আজাদ ভাইয়ের লেখা পড়লে এরকমই মনে হয় আমার। তার লেখার সাথে পরিচয় ঘটে ফেসবুকে। ঐতিহাসিক বা চমকপ্রদ কোনো ক্রিকেট ম্যাচের বর্ণনা এমনভাবে দিতেন, যেন তা চোখের সামনে দেখছি।

অমর একুশে বইমেলা ২৪ এ প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম মৌলিক 'বাইশ গজের মন্দির'। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মেলায় কয়েক পাতা পড়ে যদি 'ভিজুয়াল' ফিল পাই তবে বইটা কিনব।

°°
বাইশ গজের মন্দির বইটার নামকরণ দুটো দিক থেকেই সার্থক। ক্রিকেট তো বাইশ গজেরই সাধনা! আবার বইটায় প্রবন্ধ আছে বাইশটা। ঐতিহাসিক বাইশটা ম্যাচ/ক্রিকেটারের গল্প নিয়ে সাজানো ক্রাউন সাইজের একটা বই।

যেহেতু বইটায় প্রবন্ধ লেখা হয়েছে বাস্তব ঘটনা ও মানুষের উপর ভিত্তি করে, সুতরাং এখানে প্লট বিশ্লেষণ বা চরিত্রায়ন গোছের কোনো আলাপ আসবে না। যা হবে, বইটার লেখনি এবং উপস্থাপন নিয়ে।

°°°
শুরুতেই দেখলাম, দেখলাম, দেখলাম লিখে তিনটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছিলাম। বিষয়টার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছেই।

ধারাভাষ্যকারের ধারাবিবরণীর মতো ইমতিয়াজ আজাদ লেখায় সুকৌশলে ঢুকিয়ে দিয়েছেন পরিসংখ্যান। তাতে করে ম্যাচের আবহের মতো বোঝা গেছে ম্যাচের গুরুত্ব।

খেলা নিয়ে ইমতিয়াজ আজাদের লেখা যারা ফেসবুকে পড়েন তারা জানেন একদম কনক্রিট পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। ওভার বাই ওভার, রান বাই রান। সিরিজের এত তম ম্যাচের এত তম ওভারের এত বলে কভারে বলটা ঠেলেই দুই রানের জন্য দৌড়ালেন ডন ব্রাডম্যান!

বাইশ গজের মন্দির লেখার জন্য তিনি প্রচন্ড ঘাটাঘাটি করেছেন বোঝাই যায়। একেকটা রেকর্ড কে প্রথম করেছেন, এবং তারও অমুক করেছেন কিন্তু প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট হওয়ায় অমুকের নাম কেউ জানে না! ইতিহাসের গলি ঘুপচিত্র লুকিয়ে থাকা এরকম অসম্ভব সব পরিসংখ্যান তিনি বের করে এনেছেন। 'সমস্ত তথ্য ইন্টারনেটেই পাওয়া যায়' এই কথা তুলে তাকে স্টেপ ডাউন করার কিছু নাই। সব তথ্য হাতের সামনেই পাওয়া গেলে যে কেউ বই লিখতে পারতো।

বেশ কিছু প্রবন্ধে লেখক রহস্য উপন্যাসের মতো করে সাসপেন্স ক্রিয়েট করেছেন। ক্রিয়েট অনিশ্চয়তার খেলা। এই অনিশ্চয়তাকেই পুজি করে লেখক রহস্য ঘনিয়েছেন। যেন এক রানে পাচ উইকেট পড়ে ম্যাচ হারার মতো গোপন কোনো ঘটনা তিনি টুইস্টসহ উপস্থাপন করলেন।

তবে কয়েকটা লেখায় সম্ভবত তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিলেন তিনি। বিশেষ করে শেষের কয়েকটায়। জিম লেকারের ১৯ উইকেটের ঘটনা সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। সংক্ষিপ্ত বললাম কারণ এর আগের বেশ ক'টি প্রবন্ধে তিনি বোলার উইকেট শিকার বেশ ধারাবাহিকতার সাথে বর্ণনা করেছেন। লেকারের ১৯ উইকেটের আগ্রাসনে সেরকম একটা 'ভিজুয়াল' প্রেজেন্টেশন আশা করেছিলাম।

শুরুতে লেখায় 'তবে' 'আর' 'তার' 'কিন্তু' এই শব্দগুলোর বাহুল্য চোখে পড়ছিলো। তবে বই এগোবার সাথে সাথে এগুলোর পরিমিত ব্যবহার লক্ষ্য করেছি। প্রবন্ধ সংখ্যা যত এগিয়েছে লেখকের স্বতস্ফুর্ততা ততই বেড়েছে।

সব মিলিয়ে স্পাই থ্রিলারের অনুবাদক, বাইশ গজের মন্দিরের কারিগর ইমতিয়াজ আজাদের লেখনির উপরে আমি সন্তুষ্ট। পরবর্তীতে ফুটবল নিয়েও তার এরকম একটা বই চাই।

সতীর্থের প্রোডাকশন বরাবরের মতোই প্রশংসনীয়। তবে ফন্ট হয়ে গেছে ছোট। ক্রাউন সাউজের একটা বইয়ে ২৫+ প্যারাগ্রাফ চোখের জন্য অত্যাচার। সম্ভবত বইয়ের দামটা রিজনেবল রাখতে এই কৌশল। প্রকাশকের কাছে আহ্বান থাকবে পরের এডিশনে ফন্ট বাড়িয়ে দেয়ার।

রেটিং ৪.৫/৫

জাবির রাফি
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
227 reviews13 followers
October 18, 2025
বইটা আমার কাছে আছে বহুদিন ধরেই। ক্রিকেট আমার সবচাইতে পছন্দের খেলা হবার পরেও কেনো বইটা এতোদিন ধরিনি? কারণ বলতে গেলে বলবো, ভেবেছিলাম ক্রিকেটের প্রায় সব ঘটনায় তো জানাশোনা। ক্রিকেট দেখি তো অনেকদিন ধরেই। কিন্তু ইমতিয়াজ ভাই যে এভাবে চমকে দিবেন, তা কল্পনাতেও ভাবিনি।

বলছি, ইমতিয়াজ আজাদের লেখা 'বাইশ গজের মন্দির' বইয়ের কথা। বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই বইটা সত্যিই এক অনন্য উপহার৷ শুধু খেলার মাঠের স্কোর আর পরিসংখ্যান নয়, ইমতিয়াজ আজাদ বইয়ের মাধ্যমে দেখিয়েছেন ক্রিকেটের অন্তরালের গল্পগুলাও। যেখানে সবই পাবেন আপনি। আবেগ, আত্মত্যাগ, ইতিহাস আর মানুষের জয় পরাজয়। সব!

পাবেন স্যার ডন ব্র‍্যাডম্যানের ব্যাটিং অর্ডার উল্টো করে নামানোর গল্প। কিভাবে অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে দলকে বাঁচালেন লারা। শচীন টেন্ডুলকারের কীর্তি। পাবেন শাকুর রানার মতো আম্পায়ারও।

আমি সবচাইতে বেশি অবাক হয়েছি ভিক্টর ট্রাম্পার সম্পর্কে জানার পরে। কি দারূণ ক্রিকেটার! অথচ আমার বিশ্বাস আমার মতো অনেক ক্রিকেটপ্রেমীই তার সম্পর্কে খুব একটা জানেন না। বইটা পড়ে উনার সম্পর্কে আরো জানতে নেট ঘাটাঘাটি করার লোভ আর সামলাতে পারিনি। কেনো আলাদা করে উনার কথা বলছি? বইটা পড়লেই বুঝবেন।

সবমিলিয়ে বলবো, বই তো নয়। এ যেনো এক জীবনদর্শন। অনেককিছু জানলাম, অনেককিছু বুঝলাম। ক্রিকেট খেলাটা কি আর এমনি এমনিই আমাদের আবেগ? হৃদয়ে রয়েছে এর প্রতি এক অন্যরকম টান।

বইটা অবশ্যই পড়বেন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
Profile Image for Anjan Das.
415 reviews16 followers
March 19, 2024
বইয়ের নাম : বাইশ গজের মন্দির
লেখক : ইমতিয়াজ আজাদ
প্রকাশনী : সতীর্থ

২২১ বি বেকার স্ট্রীট এ বসবাসকারী এক গোয়েন্দার শ্রষ্ঠা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল যে ক্রিকেট খেলতেন তা জানেন?রানের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উইকেট ও আছে তাঁর।আর সেই কাহিনী খুব সুন্দরভাবে বিস্তারিত ভাবে বইয়ে বর্ণনা করা আছে।শুধু তাই নয়,হোমস কে নিয়ে যে কয়টি বই বের হয়েছে সেটাও জানতে পারবেন।

তারপর ১৯৬০ সালের সেই বিখ্যাত টাই টেস্টটার কথা মনে আছে??ফ্রাংক ওরেল ট্রফি খেলতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।এরপর সেই বিখ্যাত ম্যাচের লাস্ট ওভারের প্রতিটি বলের বর্ণনা লেখক এমনভাবে বর্ণনা করেছে যেন ৬৪ বছর পিছিয়ে লাইভ ই যেন টেস্ট টা দেখতে পাচ্ছি!অতি সুন্দর এবং এমন ঝরঝরে বর্ননা মুগ্ধ করার মত।

ক্রিকেটের ভক্ত অথচ স্যার ডন ব্র‍্যাডম্যানের কথা কে না জানে!অসংখ্য কীর্তি তাঁর আছে,হ্যাঁ সেই অবিশ্বাস্য ৯৯.৯৪ গড়ের কথা সবাই জানে কিন্তু এই বইয়ে তাঁর অধিনায়কত্বের এক অসাধারণ কাহিনী বর্ণনা করা আছে।স্টিকি পিচে ব্যাট করা থেকে বাঁচতে পুরা ব্যাটিং অর্ডার উলটে দেওয়ার সেই মাস্টারপিস ট্যাক্টিসের পুরা গল্প এই বইটিতে আছে।

ক্রিকেটের ভগবান খ্যাত শচীন টেন্ডুলকারের বিদায়বেলায় পিচে কড়জোড়ে প্রণাম করার বর্ণনার কথা সুনিপুণ ভাবে লিখা আছে বইয়ে।

আছে ব্রায়ান লারা নামের এক ক্যারিবীয় রাজপুত্রের বীরত্বগাথার কাহিনী,একজন বিশাল ক্রিকেটারের বিশাল কাহিনী,পাকিস্তানের সেই বিখাত ব্যাটার হানিফ মোহাম্মদের কাহিনীসহ এরকম ছোট ছোট কিন্তু চমকপ্রদ বাইশটা প্রবন্ধ নিয়ে সাজানো হয়েছে "বাইশ গজের মন্দির " বইটা।ঝরঝরে সোজা সরল ভাষায় পুরা বইটা লিখেছেন লেখক।এক বসায় একটানে শেষ করার মত,চুম্বকের মত পাতার পর পাতা উলটে পড়েছি।বইয়ে অযথা কোন ভারিক্কি বাক্যের ব্যবহার নেই,অপ্রয়োজনীয় কোন কঠিন শব্দের ব্যবহার করে লেখার মান খারাপ করে নি।সহজ,সরল প্রাঞ্জল ভাষায় একদম মাখনের মত বর্ণনা যাকে বলে।

ক্রিকেটের অনুরাগী হলে,ক্রিকেটের ভক্ত হলে,ক্রিকেট ইতিহাসের মনোযোগী ছাত্র হলে আপনার জন্য আদর্শ এক বই হচ্ছে "বাইশ গজের মন্দির "।

পার্সোনাল রেটিং -৪/৫
Profile Image for Bookreviewgirl_xo.
1,178 reviews99 followers
May 1, 2025
চার্লি ম্যাকলিওডের প্রতিশোধ: ৫/৫

জীবন নিয়ে খেলা: ৪.৫/৫

ব্র্যাডম্যান'স বেস্ট: ৫/৫

বাইশ গজের মন্দির: ৫/৫

ভিক্টর ট্রাম্পার: ৪.২৫/৫

সকল ব্যথা তুচ্ছ যখন: ৪.৫/৫

আগুন জ্বলে ফয়সালাবাদে: ৩.২৫/৫

রস গ্রেগরির কবর: ৩.৫/৫

একজন ব্রায়ান লারার বীরত্বগাথাঁ: ৫/৫

মাইক ব্রিয়ারলি'র জুয়া: ৪.৭৫/৫

'মাত্র' এক দিনের অমরত্ব: ৪.৫/৫

জোহানসবার্গ জমজমাট: ৫/৫

ফ্রেড টেটের টেস্ট: ৩.৫/৫

একজন 'বিশাল' ক্রিকেটারের গল্প: ৩/৫

আর্থার কোনান ডয়েল যখন ক্রিকেট মাঠে: ২.৫/৫

মেলবোর্ন মেমোরেবল: ৪/৫

লেসলি হিলটন: ২.৭৫/৫

সর্বকালের সেরা কামব্যাকের উপাখ্যান: ৪.৭৫/৫

স্কোর যখন '২৯৯': ৪.৫/৫

হানিফ মোহাম্মদের মনোযোগ: ৪.৭৫/৫

টেস্ট ইতিহাসের সেরা ম্যাচ: ৪.৭৫/৫

জিম লেকারের এভারেস্ট জয়: ৪/৫

I don't watch sports much often. However, cricket has always been one of my favorite sports since growing up. I started this book in honor of the 'ICC T20 World Cup 2024' match going on currently. This book made me feel so much more than I was expecting. I held my breath; I got excited; I felt happy; I felt sadness; I felt goosebumps. It felt like I was reliving every historical match, and every player's success and loss mentioned in the stories. It's needless to say, I enjoyed this book a lot.
Profile Image for Mou.
88 reviews1 follower
December 27, 2024
সত্যি বলতে আমি ক্রিকেট বুঝি না। ছোট বেলায় যাও বা একটু আধটু খেলা দেখতাম এখন সেটাও দেখিনা , খোঁজ ও রাখি না। এরপর ও ক্রিকেট নিয়ে এই নন - ফিকশন বইটা আমার খারাপ লাগেনি।
ক্রিকেটের ইতিহাসে খেলার মাঠের কিছু বিখ্যাত , কিছু অখ্যাত নানা ঘটনাবলী দিয়ে সাজানো বইটা আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে যে কোন মুহুর্তে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যেতে পারে। ক্রিকেট এর বিষয় কতটা কি মনে থাকবে জানিনা কিন্তু এই উপলব্ধি হয়তো আমাকে হতাশায় আশা জাগাবে।
Profile Image for Md. A. M. Tarif.
109 reviews2 followers
December 2, 2024
টাইপিং মিসটেক আছে,
এক জায়গাই ছবি আর ছবির শিরোনামের অদল-বদল আছে।
কিন্ত সব কিছুকে ছাপিয়ে লেখকের লেখনশৈলী এমন যে, কখনো মনে হয়েছে ধারাভাষ্য পড়ছি,
কখনো এমন মনে হয়েছে যে,আমি সরাসরি ম্যাচটা দেখছি।
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.