সমস্ত স্মৃতি হারিয়ে "ছায়ানীড়" অনাথাশ্রমে আশ্রয় হলো ছোট্ট শিশু শায়ানের। কিন্তু দুঃস্বপ্ন পিছু ছাড়লো না তার। যে পানিকে যমের মতো ভয় করে, সে পানিই কেনো ঘুম এবং জাগরণে ফিরে ফিরে আসে তার কাছে? কিন্তু শুধু দুঃস্বপ্ন নয়, ছায়ানীড় আক্রান্ত হলো এক অশুভ শক্তির ভয়াল আক্রমণে। এক আদিম শক্তি কেড়ে নিতে শুরু করলো তাজা প্রাণ, যে শক্তির সূচনা অনেক বছর আগের এক শেওলা ধরা পুরনো বাড়িতে। যথারীতি এই অলৌকিক ঘটনাগুলোর তদন্ত করতে এগিয়ে এলো অকাল্ট ডিটেকটিভ আতশ। এ জন্য তাকে মুখোমুখি হতে হবে দুই আদিম প্রকৃতি আত্মার। যক্ষ এবং রাক্ষস।
বরাবরই হরর জনরা ভালো লাগার অন্য একটা জায়গা জুড়ে থাকে।যক্ষের প্রথম খন্ড পড়ে যতখানি হতাশ হয়েছিলাম, দ্বিতীয় খন্ড তার সবটুকু পুষিয়ে দিয়েছে! সুন্দর!🌸
উপমহাদেশে যতগুলো অতিপ্রাকৃত সত্তার সন্ধান পাওয়া যায়, যক্ষ তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন সত্তাগুলোর একটি। যক্ষ নিয়ে রচিত হয়েছে নানা লোকগাঁথা, ভৌতিক উপাখ্যান ও ছোটগল্প। ধারণা করা হয় যক্ষ হল মানব ও দেবতার মধ্যবর্তী এক সৃষ্টি, যারা মূলত ধনসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এইজন্য প্রাচীন লোকগাঁথা ঘাটলে যক্ষপূজার কাহিনী হরহামেশাই পাওয়া যায়। যক্ষের ধারণা আমাদের লোকবিশ্বাসে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আছে, যার প্রমাণ পাওয়া যায় বাগধারার দিকে তাকালেই। "যক্ষের ধন" বলতে আমরা কৃপণ লোকের আগলে রাখা অঢেল ধনসম্পদের কথা বুঝে থাকি।
তবে যক্ষ নিয়ে প্রচলিত গ্রামীণ লোকগাঁথা কিংবা রচিত ছোটগল্প-উপাখ্যানের কাহিনীগুলো যেন ঘুরে ফিরে একইরকম। এই প্রথম আধুনিকতার মোড়কে যক্ষকে নিয়ে ভিন্নধর্মী লেখা উপহার পেল একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্য। তবে দুটি খন্ড নিয়ে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া কমপ্লিটলি দুইরকমের।
প্রথম খন্ডটা আমার কাছে ঘুরেফিরে সেই পুরোনো কাহিনীর প্রতিচ্ছবি বলেই মনে হচ্ছিল, গল্প দাঁড়া করানোর ভঙ্গিটাও কেমন সেকেলে। তবে প্রথম খন্ডে লেখক যা পারেননি, তা যেন পুষিয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় খন্ডে। দুর্দান্ত প্লট সাজিয়েছেন, গল্প জমিয়ে তুলতে তাড়াহুড়া করেননি কোনো। দ্বিতীয় খন্ড পড়ে মনে হচ্ছিল- যক্ষের মূল কনসেপ্টকে ঠিক রেখে আধুনিকতার মোড়কে যক্ষের যেন পুনর্জন্ম হল।
হরর-রোমাঞ্চ গল্প যারা পছন্দ করেন, তারা পড়ে দেখতেই পারেন!