উপমহাদেশে যতগুলো অতিপ্রাকৃত সত্তার সন্ধান পাওয়া যায়, যক্ষ তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন সত্তাগুলোর একটি। যক্ষ নিয়ে রচিত হয়েছে নানা লোকগাঁথা, ভৌতিক উপাখ্যান ও ছোটগল্প। ধারণা করা হয় যক্ষ হল মানব ও দেবতার মধ্যবর্তী এক সৃষ্টি, যারা মূলত ধনসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এইজন্য প্রাচীন লোকগাঁথা ঘাটলে যক্ষপূজার কাহিনী হরহামেশাই পাওয়া যায়। যক্ষের ধারণা আমাদের লোকবিশ্বাসে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আছে, যার প্রমাণ পাওয়া যায় বাগধারার দিকে তাকালেই। "যক্ষের ধন" বলতে আমরা কৃপণ লোকের আগলে রাখা অঢেল ধনসম্পদের কথা বুঝে থাকি।
তবে যক্ষ নিয়ে প্রচলিত গ্রামীণ লোকগাঁথা কিংবা রচিত ছোটগল্প-উপাখ্যানের কাহিনীগুলো যেন ঘুরে ফিরে একইরকম। এই প্রথম আধুনিকতার মোড়কে যক্ষকে নিয়ে ভিন্নধর্মী লেখা উপহার পেল একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্য। তবে দুটি খন্ড নিয়ে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া কমপ্লিটলি দুইরকমের।
প্রথম খন্ডটা আমার কাছে ঘুরেফিরে সেই পুরোনো কাহিনীর প্রতিচ্ছবি বলেই মনে হচ্ছিল, গল্প দাঁড়া করানোর ভঙ্গিটাও কেমন সেকেলে। তবে প্রথম খন্ডে লেখক যা পারেননি, তা যেন পুষিয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় খন্ডে। দুর্দান্ত প্লট সাজিয়েছেন, গল্প জমিয়ে তুলতে তাড়াহুড়া করেননি কোনো। দ্বিতীয় খন্ড পড়ে মনে হচ্ছিল- যক্ষের মূল কনসেপ্টকে ঠিক রেখে আধুনিকতার মোড়কে যক্ষের যেন পুনর্জন্ম হল।
হরর-রোমাঞ্চ গল্প যারা পছন্দ করেন, তারা পড়ে দেখতেই পারেন!