দেশের অন্যতম শিল্পপতি, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মহিব খান নিজ বাসভবনে স্ত্রী ও ছোট ছেলে-সহ হলেন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার। স¤পত্তির ভাগ নিতে হাজির তার সন্তানেরা; কিন্তু সে তো হবার নয়। মৃত্যুর আগে অদ্ভুত উইল করেছেন মহিব খান। গার্মেন্টসের শ্রমিকেরাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে নতুন মালিক। ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে কী না, তা যাচাই করবে গার্মেন্টসের ক্রেতাপক্ষ। থমথমে অবস্থা। ভাই-বোনদের মাঝে ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু। ভোটের আগেরদিন রাতে চুরি হলো ব্যালটপেপার। জালভোট নিয়ে জয়ী হতে চায় কোনো এক পক্ষ। কিন্তু সেখান থেকেও গায়েব হয়ে গেল ব্যালট। দিশা না পেয়ে রাতের অন্ধকারে ডাকা হলো ‘ওস্তাদ’ নামের এক কুখ্যাত চরিত্রকে। রাতের মধ্যে ব্যালট উদ্ধার না হলে যে বিপদ! সব সম্পত্তি চলে যাবে কর্মিদের দখলে।
রূদ্ধশ্বাসে পুরোটা শেষ করলাম Bappy Khan এর নতুন বই "ওস্তাদের মাইর আজ রাতে" — ছোট্ট সাইজের বইটা এমনভাবে মনোযোগ আটকে রাখবে যে ছাড়তেই মন চাইবে না। দুর্দান্ত ও দারুণ এক প্লট—
শুরুটা এমন— শূন্য থেকে শিখড়ে উঠা বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মহিব খান আচমকাই আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে যান। তবে মারা যাওয়ার আগে তার একান্ত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে এমন এক উইল করে যান যেটা দেখে তার সন্তানদের মাথায় হাত।
সম্পত্তির অধিকার পেতে মরিয়া মহিব খানের সন্তানেরা বারবার আইনী জটিলতায় আটকে যাচ্ছে, কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। সব জটিলতা কেটে গিয়ে যখন সম্পত্তি হাতের মুঠোয় তখন হাজির হয় আরেক জটিলতা। সবার মাথায় হাত।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মহিব খানের উত্তরাধিকাররা জয়ী হতে যে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল তা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের দেশের প্রহসনের নির্বাচনগুলোর কথা। প্রতিফলিত করেছে দেশের মানুষ সবাই আসলে শক্তের ভক্ত নরমের যম।
পড়তে পড়তে ভাববেন ওস্তাদ কে? মনে হবে ওস্তাদই মহিব খানের খুনী। কিন্তু যখন খোঁজ পাবেন যে খুনী আসলে অন্যকেউ তখন খাবেন আরেক ঝটকা— তাহলে আবার ওস্তাদ কে? টুইস্টের উপর টুইস্ট। দারুণ থ্রিল দিবে আপনাকে....
গল্পটা পড়তে পড়তে যখন ডুবে গেছি তখনই দেখি গল্প শেষ! তবে শেষ হয়েও যে শেষ না হওয়ার রেশ থাকে সেই ব্যাপারটা কিন্তু এই গল্পে ঘটে নাই। সুতরাং পড়া শেষে লেখককে সাধুবাদ জানানোই যায়।
লেখক সমসাময়িক বিষয়গুলো গল্পে সহজ-সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সাবলীল বর্ণনাভঙ্গীর কারণে যেকোনো বয়সের পাঠকই পড়ে আরাম পাবেন। তবে এটা গল্প না উপন্যাসিকা সেই কনফিউশান কিন্তু থেকেই যাচ্ছে...
"সব শুরুরই শেষ থাকে। নিয়তিই নির্ধারণ করে দেয় উত্থান-পতন। যে আগুন জ্বলতে পারে, জ্বালাতে পারে, তার নেভাটাও নিশ্চিত; সেটা যখনই হোক।"
বই যদি সাইজে হয় এত্তটুকুন, তবে মনে হয় যেন গল্পটা বোনার আগেই যেন শেষ। ঠিক জমেনা যেন। তবে এবার উল্টো ঘটলো! এত্তটুকুনই একটা বই ভালো ভাবেই মনোযোগ আটকে রেখেছিলো পুরোটা সময়।
"ওস্তাদের মাইর আজ রাতে" বইটা নিয়ে বসেছি গতরাতে। শুরুর দিকে স্বাভাবিক ভাবেই গল্পের বই ভেবে পড়া শুরু করি। হঠাৎ খেয়াল করলাম আরে বইয়ে কিসের যেন একটা ইঙ্গিত আছে। ধরি ধরি করে ঠিক ধরতে পারছি না কেন! পেছনের পেজগুলো উল্টে দেখি আরে এই তো! চরিত্রগুলোই তো টুইস্ট! একা একা হা হা করে হেসেছি কিছুক্ষণ। প্রতিটা চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে আছে যে রহস্য তা মনে হয় পাঠক খেয়াল করলেই ধরে ফেলতে পারবেন এবং মজা পাবেন।
মাত্র ১২৬ পেজের মেদহীন গল্প। শুরু থেকে জমজমাট থ্রিলের সূচনা। গল্পের শুরুতেই খুন হয়ে যান বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মুহিব খান। রেখে গেছেন চারজন উত্তরাধিকার আর বিশাল সম্পদের পাহাড়। আর সেই সম্পদ বন্টনে জুড়েছেন ব্যতিক্রমী একটি শর্ত। এখান থেকেই গল্পটির শুরু।
গল্পটিতে একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া আছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটা আমাদের দেশের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো। কেমন প্রহসন চলে এদেশের প্রতিটি সেক্টরে তার প্রতিফলন উঠে এসেছে গল্পে। যে কোনো সত্যি ঘটনা যখন আপনি মিলিয়ে দেখতে পারবেন তখন দেখবেন যা আছে বইটাতে তা আমাদের আশেপাশেই আছে। পড়তে পড়তে উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
ছোট বই, নোভেলাই বলা যায়। তাই আরো বেশিক্ষণ বইটা পড়তে না পারার আফসোস হচ্ছে। লেখার বুনট এই আকর্ষণের মূল কারন। লেখক বাপ্পী খানের সেখা বরাবরই সাবলীল।
"ওস্তাদ" চরিত্রটাকে নিয়ে যদি ব্যাকস্টোরি আরেকটু বেশি থাকলে পাঠকের সাথে আরো বেশি কানেক্ট হতে পারতো হলে মনে হয়েছে বাকি চরিত্রগুলো তো চেনাই ছিলো, মজা পেয়েছি পড়ে। এই চরিত্রগুলো কারা এটা জানার জন্য হলেও বইটা পড়তে বলবো।
"ওস্তাদের মাইর আজ রাতে" ক্রাউন সাইজের বইটি পাঠক এক বসায় শেষ করে ফেলতে পারবে। সমসাময়িক রাজনৈতিক অবস্থাকে থ্রিলার গল্পের আড়ালে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা স্বার্থক। সময়ের প্রেক্ষাপটে নোভেলাটি রোমাঞ্চকরই লেগেছে।
একদম ছোট পরিসরে লেখা একটা বই, একটানা শেষ করেছি । আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । লেখায় কোনও মেদ নাই, যারা রিডার্স ব্লকে তাদের জন্য এই ধরনের বই বেশ ভালো কাজ করে । নাম বা কাজের মধ্যে বেশ কিছু পরিচিত চরিত্র পেয়েছি, যেগুলো মিলানোর পর হাসি চলে এসেছে । আমার মনে হয় এই বইগুলো আরেকটু বড় পরিসরে লিখলে ভালো হত ।
ওস্তাদের মাইর আজ রাতে শেষ করলাম...ফ্রেশ অ্যান্ড ইউনিক কনসেপ্ট,লেখনী সুন্দর তবে লাগামহীন। রেসের ঘোড়ার মতো কাহিনী দৌড়েছে। এই বইটাকে যেহেতু এয়ারপোর্ট নভেলা বলা যায়,সেই হিসেবে আরকি কাহিনীর গতি ঠিকই আছে। তবে চাইলে আরেকটু বড় করে লেখা যেতো,কাহিনীটা তখন পড়তে আরও মজা লাগতো। বইটা আসলে জ্যাক স্নাইডারের BvS Dawn of Justice এর থিয়েট্রিকাল কাটের মতো হয়ে গেছে,কম কম মনে হচ্ছে সবকিছু। ওভারঅল আমি বইটাকে ৪ রেটিং দিতে যেয়েও দিতে পারলাম না এই কম কম মনে হওয়ার জন্য।
এক বসায় পড়ার মতো চমৎকার বই। ভালো লেগেছে। এয়ারপোর্ট নভেলা হিসেবে গল্পে কোনো মেদ নেই, একটানা বুলেট স্পিডে ছুটে চলে গেছে। এন্ডিং, টুইস্ট মোটামুটি প্রেডিক্টেবল ছিল। তাও ভালোই লেগেছে।
৩/৫ ⭐️ সম্পদের জন্য সবাই করাপটেড…. যদিও ব্যাপারটা কিছুটা হলিউড মুভি সিরিজের মতন লেগেছে আমার কাছে ..! আর এন্ডিং টাও প্রেডিকটিবল ছিলো। তবে ভালো এফোর্ট দিয়েছেন লেখক তাই ৩/৫।