Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
সময় : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ। সিপাহী বিদ্রোহের আগুনে উত্তপ্ত ভারবর্ষ, এমন এক সময় স্বেচ্ছা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল স্যান্ডার্সকে পুরনো এক বন্ধুর খোঁজে ভারতে ফিরে আসতে হলো অনেকটা বাধ্য হয়েই। তাকে খুঁজে বের করতে হবে এমন একজন মানুষকে যে-পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিদ্রোহী সিপাহী এবং ব্রিটিশ শাসনতন্ত্র উভয়ের হাত থেকে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ভারতে ফিরে হারানো মানুষকে খুঁজে বের করা তো দূরে, নিজেকে সামলাতেই হিমশিম খেতে শুরু করল কর্নেল। কাজ দূরে থাক, জান বাঁনোই দায় তার জন্যে। এর ভেতরেই সে জানতে পারল হারানো মানুষটার সংযোগ রয়েছে শুধু ভারতবর্ষ নয় বরং পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো রহস্যগুলোর একটার সঙ্গে। ঘটনার পরিক্রমায় কর্নেলের সঙ্গে জড়িয়ে গেল তার পুরনো সাথিরা, এক স্থানীয় সৈনিক এবং দুই খুনে গোত্রের প্রতিনিধি।

বর্তমান সময় : ময়মনসিংহ শহরের আর্কিওলজিক্যাল সাইট থেকে অপহৃত হলো আর্কিওলজিস্ট রিফাত মজুমদার। সদ্য মিশন শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক পড়ল ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশারের। নিজের শহরে ফিরে কাজে নেমেই সে বুঝতে পারল যা ভেবেছিল এই কেস তা নয়, এর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে তার সমাধান করা পুরনো কেস, সিলেট ও চট্টগ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার। মাঠে নেমে সে যখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে দিশেহারা এমন সময় জানতে পারল এই ঘটনার শিকড় আরো অনেক গভীরে নিহিত, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এক রহস্য, একাধিক খুনে গোত্র এবং একাধিক অন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠন।

রবিন জামান খানের জনপ্রিয় ইতিহাসআশ্রিত থ্রিলার ‘সময় উপাখ্যান’ সিরিজের পঞ্চম উপন্যাস সিপাহী আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত ও বর্তমানের এমন এক রোমাঞ্চযাত্রায় যেখানে মানুষের মৌলিক টানাপড়েনের সঙ্গে সেতুবন্ধন হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো রহস্যগুলোর একটির।

582 pages, Hardcover

Published February 10, 2024

2 people are currently reading
65 people want to read

About the author

রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (16%)
4 stars
10 (23%)
3 stars
14 (33%)
2 stars
8 (19%)
1 star
3 (7%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,118 reviews1,099 followers
May 15, 2024
এবছরে সংগৃহীত সবচেয়ে বড় বইটি শেষ করে ফেললাম। সিরিজের পূর্ববর্তী বইগুলোর মতো একই ধাঁচে লেখা। একটু স্লো হলেও পড়তে বেশ আরাম লাগে। তবে লেখকের নিজের মত অনুসারে একটা রহস্য জিইয়ে রেখে কাহিনি একের পর এক প্যাঁচানো একটু বিরক্তিকর লাগে বইকি। কিন্তু পাঠক হিসেবে এইটা মানিয়ে নিছি অনেককাল আগেই। তাই সাচ্ছন্দ্যে আয়েশ করে তরতর করে পড়ে ফেলতে পেরেছি, কোন সমস্যা মনে করিনি।

তো কেমন লাগলো এবারের উপাখ্যান। আমার মতে যথেষ্ট ব্রিলিয়ান্ট একটা লেখা। অতীত বর্তমান দুটোকেই ধরে রেখেছেন সমানভাবে। তবে কাহিনীটা খুব ধীরে ধীরে এগিয়েছে। প্রডিজি কিং এর টুইস্ট আমি অনেক আগেই ধরে ফেলেছিলাম। তবে পাশা স্যারের ব্যাপারটা নিয়ে বিরাট কনফিউসনে আছি। গল্পটাকে ঝুলিয়ে রাখবেন সেটা শেষ দশ পাতা থাকতেই অনুমান করে ফেলেছিলাম। আর শেষ করার পর বুঝলাম, পুরো সিরিজটা যদি একটা গল্প হয় তবে ‘সিপাহী’ তার ক্লাইম্যাক্স মাত্র।

১৫ ই মে, ২০২৪
Profile Image for Sakib A. Jami.
346 reviews41 followers
September 26, 2025
▪️এই পৃথিবীর বুকে কতশত রহস্য জমা থাকে, তার অনেক কিছুই আমরা জানি না। একদল মানুষ আছে, যারা প্রতিনিয়ত এই রহস্য খুঁজে বেড়ায়। প্রাচীন অতীতের সেসব রহস্যের সন্ধান পেলে পৃথিবী বদলে গেলেও যেতে পারে। হতে পারে এগুলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কোনো বস্তু। কিংবা এসেছে পৃথিবীর বাইরে কোথাও থেকে। কিন্তু যেখান থেকেই আসুক, সুযোগ সন্ধানী মানুষ অথবা ক্ষমতালোভী — তারা এর পেছনে পড়ে থাকবেই। এই বিশ্বের আপামর ক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে যেন তাদের রাতের ঘুম ঠিকঠাক হবে না।

তেমনই এক ইতিহাস সিগনেট রিং। সিগনেট রিং আসলে কী, তা বলার আগে ইতিহাস ও বর্তমানকে জুড়ে এর গল্প বাঁক নিয়েছে রোমাঞ্চকর কিছু পথে। যেখানে মিশে আছে সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস, আছে ইতিহাসের আড়ালে থাকা কিছু গোত্রের কথা, একই সাথে বর্তমানের ছুটে যাওয়া কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে। যেখানে মানুষের একমাত্র চাওয়া ক্ষমতা! ক্ষমতা ভিন্ন কেউ কিছু ভাবতে পারে না।

▪️উপমহাদেশে যখন সিপাহী বিদ্রোহ হয়েছিল :

তখন ব্রিটিশ শাসনকাল। কোম্পানির শাসনে অতিষ্ট হয়ে দেশের সিপাহীরা প্রতিরোধ করে তোলে। ইতিহাসের অন্যতম বড় বিদ্রোহ এই সিপাহী বিদ্রোহ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতবর্ষে। দুই পক্ষই একে অপরকে কচুকাটা করে। আগুনের উত্তাপ এসে লাগে দিল্লিতে। সেই দিল্লিতে ভিক্টর নামে একজন কিছু একটা ঘোঁট পাকাচ্ছে। তাকে ধরা যাচ্ছে না। তার কাছে এমন এক বস্তু আছে। যা কোম্পানির প্রয়োজন। আর সেই বস্তু উদ্ধার করতে হলে, সুদূর ইংল্যান্ড থেকে এমন একজনকে ডেকে আনতে হবে, যে ভারতবর্ষের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও নিজের জীবনের কঠিন মুহূর্ত পেরিয়ে চলে গিয়েছিল। জীবনেও এই উপমহাদেশে পা রাখবে না প্রতিজ্ঞা করেছিল। কিন্তু তাকে ফিরে আসতেই হবে। নিজের বন্ধুর জন্য, এই ভারতবর্ষের মানুষের জন্য।

কর্নেল স্যান্ডার্স ভারতবর্ষ ছেড়েছিল জীবনের কঠিন এক মুহূর্তের পর। এই উপমহাদেশ তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল। তাই অসময়ে অবসর নিয়ে নিজ দেশে একাকী জীবন কাটানোর সময় বন্ধু জনের ডাকে আবার ভারতবর্ষের মাটিতে পা রাখে। সে সময় দেশ উত্তাল। আগুনের অভ্যন্তরে যেন প্রবেশ করছে সে। একদিকে সিপাহী বিদ্রোহের তেজ, সাদা চামড়ার মানুষেরা এখানে নিরাপদ নয়। অন্যদিকে প্রতিশোধ ও দেশের লাগাম নেওয়ার চেষ্টায় বিদ্রোহীদের পেলেই কচুকাটা করছে কোম্পানি। সব মিলিয়ে যখন চারিদিকে অরাজকতা, তখনি কর্নেল নিজের মিশনের জন্য ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছে।

ভারতে ফিরে এসে কর্নেলের প্রথম লক্ষ্য নিজের দলকে সুগঠিত করা। অনেককাল আগে যারা পাশে ছিল, বিশ্বস্ত সেসব মানুষকে খুঁজে বের করতে না পারলে সফল হওয়া যাবে না। একদিকে নিজের পুরোনো লোকজনকে খুঁজে নেওয়া, অন্যদিকে মিশনের লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। কিন্তু পথ এতটাও মসৃণ না। দুই পক্ষই সমানভাবে বাঁধা সৃষ্টি করছে। সাদা চামড়া দেখলে যেমন বিদ্রোহীদের সামনে মা রা পড়তে হবে, নিজের স্বজাতিও ছেড়ে কথা বলবে না। তাও একটু একটু করে, ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া। এ খেলা বুদ্ধির, ধৈর্যের ও মানসিকতার। কিন্তু কর্নেল কী জানত, তার সামনে কী আছে? যদি জানত, তাহলে হয়তো ফিরে আসত না। সে এসে পড়েছে প্রাচীন এক মিথের সামনে, যা সত্য হিসেবে ধরা দিয়েছে। গোপন এক সত্য সামনে উন্মোচিত। সাথে বিশ্বাসঘাতকতার নীল বিষ! এই বয়সে এসে এতকিছু সামলানোর মতো শক্তি আছে তো কর্নেলের?

ভারতবর্ষের গভীরে অনেকগুলো রহস্য এমনভাবে জড়িয়ে আছে, যার সত্যতা বিচার করা সহজ কাজ নয়। তেমনই এক রহস্যের নাম বিষকানিয়া ও আরোঘী। দুই খু নে সংগঠন। যাদের লক্ষ্য নিজেদের আড়াল রেখে খু ন করা। আর এই লক্ষ্য বিফলে গেলে নিজেদের এর দায় মাথায় নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হবে। এই দুই সংগঠন বা গোত্র, যা-ই বলি না কেন — প্রথম লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার আবারও একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা কি তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে?

একদিকে বিষকানিয়া ও আরোঘীর মতো খু নে গোত্র, অন্যদিকে কর্নেল ও তার দল! দুজনের লক্ষ্য কোথায়? যখন এরা মুখোমুখি হবে, তখন কী হবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে কাজে কর্নেল এসেছে — সেই ভিক্টরকে খুঁজে পাবে তো?

▪️তালগোল পাকিয়ে বর্তমান এখন দিশেহারা :

কিশোরগঞ্জের মিশন শেষ করার পর বাশার যখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার চিন্তায় মগ্ন, তখনই এক দুঃসংবাদ। প্রেমিকা রিফাত মজুমদারকে করা যেন অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। বাশার তখন থেকেই অস্থির। কী ঘটছে বুঝতে পারছে না। প্রথমে ঢাকায় এসে, তারপর যেতে হলো ময়মনসিংহ। সেই ময়মনসিংহ, বাশারের জন্মস্থান। যেখানে টুইন কালীর রহস্য সমাধান করে হইচই ফেলে দিয়েছিল। সেখানেই এখন খুঁজতে হবে রিফাতকে।

পিবিআইয়ের স্পেশাল উইং একসাথে অনেকগুলো মিশন পরিচালনা করছে। একই সাথে তাদের প্রতিটি অভিযানের পরবর্তী সময়ে আক্রমণ হয়। কেননা বিশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গ তাদের হাতে বন্দী। আক্রমণ হয় বাশারদের উপরেও। সেখান থেকে কোনোভাবে ফিরে আসে ওরা। এতে বোঝা যায়, যে কাজে তারা হাত দিয়েছে; সে কাজ সহজ কিছু নয়। হয়তো সরষের মধ্যেই ভূত আছে। তাই বিশ্বস্ত মানুষদের নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

অনেক আগে যে কাজ করেছিল বাশার, তার সহযোগী হিসেবে রমিজ দারোগা ও কনস্টেবল আবদুল্লাহ ছিল। তাদের খুঁজে বের করে একটু দল দাঁড় করিয়েছে। সাথে আছে সহকর্মী সামিরা। এছাড়া ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টমি ও পুলিশ ইন্সপেক্টর রবিউল। বাইরে থেকে সাহায্য করার জন্য তো পিবিআই আছেই। তাছাড়াও একটি ছেলে আছে। রিফাতের সহকর্মী রুশো। আর্কিওলজিতে বিশেষজ্ঞ বলে হয়তো তাকে কাজে লাগলেও লাগতে পারে। তাদের এই অভিযানের শুরুতেই এক অদ্ভুত রিং পাওয়া যায়। রুশো বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে জানায়, একে সিগনেট রিং বলে।

সিগনেট রিং আসলে কী? এক ধরনের মিথ এভাবে বাস্তবে কীভাবে এলো? অবশ্য বাস্তবের উপর ভর করেই তো কিংবদন্তিগুলোর সূচনা হয়। তাই মিথ্যে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। কেউ হয়তো তাদের নির্দেশনা দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে এগিয়ে গেলেই রিফাতকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কিন্তু তদন্তকালে বাশার এমন একজনের সংযোগ পায়, যাকে সে পছন্দ করে না। সেই টুইন কালী কেসে যাকে জেলে পুড়েছিল। জয়া সরকার! আবার তার কাছেই যেতে হবে? না গিয়েও তো উপায় নেই। এই ভয়ংকর এক চক্রের খেলায় যখন ঢুকে পড়তে হয়েছে, খেলতেও হবে নিজের মতো করে।

এই রহস্যের বীজ অনেক আগে থেকে পোতা। তারা যেন কেবল খেলার পুতুল। অনেক বিস্ময়কর তথ্য, অনেকগুলো পুরোনো সংযোগের সাথে চন্দ্রমণি আর হ্যারি পটারের প্রথম বইয়ের সংযোগ কোথায়? যে ছবি ওরা পেয়েছে, অনেক রহস্য উন্মুক্ত হয়েছে। তবুও এমন এক রহস্য এখানে নিহিত, যা চমকে দিয়েছে কেবল। তারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। সরষের মধ্যে সত্যিই ভূত আছে। এত বড় ভূত যদি একবার গ্রাস করে নেয়, তাহলে কারো নিস্তার নেই। ওরা বাঁচবে কীভাবে?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

“সিপাহী” বইতে থাকা একটি সংলাপ দিয়েই পাঠ প্রতিক্রিয়া শুরু করি —

‘মনে করেন আপনি একটা থ্রিলার উপন্যাসের ভিতরে আছেন। আর লেখক একের পর এক কাহিনি প্যাঁচিয়েই যাচ্ছে, মূল জিনিসটা কিছুতেই বলছে না, কেমন মেজাজ খারাপ হবে আপনার। আমার এখন সেইরকম মেজাজ খারাপ হচ্ছে।’

এখানে লেখক যেন নিজেকেই প্রকাশ্যে আনলেন। আর মেজাজ খারাপ হওয়া ব্যক্তিটি আমি। ৫৮০ পৃষ্ঠার একটা বই পড়ার পর যদি মনে হয়, এই বইটি ২৫০ পৃষ্ঠার মধ্যে থাকলে ভালো হতো, তাহলেই বোঝা যায়, লেখক ঘটনা কতটা প্যাঁচেয়েছেন। “সিপাহী” সময় উপাখ্যান সিরিজের পঞ্চম বই। আকারে সবচেয়ে বড় হলেও কলেবরে সীমিত। আমার মনে হয়েছে সিরিজের প্রতিটি বই যতই এগিয়েছে, ততই এর মান নিম্নমুখী হয়েছে।

লেখকের লেখার বাহুল্য কত পরিমাণে ছিল, তার কিছু উদাহরণ দিই —

• এখানে সিগনেট রিং নামের একটি মিথের কথা বলা হয়েছে। যে মিথ সম্পর্কে প্রথমে রুশো নামের ছেলেটি জানায়। কথা প্রসঙ্গে রুশো বলে এ এমন এক মিথ, যা পৃথিবীকে ওলট পালট করে দিতে পারে। কিন্তু কীভাবে? এর সদুত্তর পাওয়া যায়নি। পরে বলব বলে, পুরোটাই ভুলে গিয়েছে যেন লেখক। দুই অধ্যায় জুড়ে এ নিয়ে বিশাল লেকচার দেওয়ার পরও আমি বুঝতে পারলাম না, সিগনেট রিং আসলে কীভাবে গুরুত্বপুর্ণ। আরও স্পষ্টভাবে বললে পুরো বইতেও বুঝতে পারিনি। এটার পেছনে দৌড়ঝাঁপ করছে ঠিকই, কিন্তু এর গুরুত্ব এখনো অজানা। লেখক সাসপেন্স রাখার জন্য পরের বইতে বা তার পরের বইতে খোলাসা করবেন মনে হয়।

• এই সিগনেট রিং নিয়ে জয়া সরকার একসময় রিসার্চ করেছে। ফলে সে অনেক কিছুই জানে। এবং এই জানা নিয়ে সে নিজেও লেকচার দেওয়া শুরু করে। রুশো যা বলে, তার প্রায় একই কথা জয়ার মুখ দিয়েই শোনা যায়। মনে একই ঘটনা দুইজনই বলছে, ভিন্নভাবে। এর কি দরকার ছিল? জয়া আবার আরেক কাঠি উপরে। সে এখানে পুষ্টি, মাতৃত্বের ঘটনা নিয়ে এসে উদাহরণ দিয়েছে। কেন দিয়েছে, মূল ঘটনার সাথে এর সংযোগ কী সেটা শত চেষ্টা করেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

• তৃতীয় যে ঘটনা এখানে নতুন এক চরিত্রের আগমন। আলী আজগর নামের এই চরিত্র এই খেলার প্রধান চরিত্রের একজন। তার কিছু একটা বিপদ হয়েছে। এ নিয়ে জয়া জানতে চাইলে সে অতীত নিয়ে আসে। বিশেষ করে জয়ার ছোটো বেলার ঘটনা এখানে বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। জয়ার ব্যাকস্টোরি আমার দরকার থাকলে অন্যভাবে আনা যেত। কিন্তু যখন রহস্যের শেষ দিকে চলে এসেছে, তখন অপ্রয়োজনীয় কাহিনি এনে গল্পের আকার বাড়ানো কাজের কথা নয়। আলী আজগরের সাথে কী হয়েছে সেটা বলতেই লেখক দুই অধ্যায় খরচ করেছেন। আর আমি ঘুমে ঢুলে পড়ছিলাম বারবার।

• কর্নেল স্যান্ডার্স এর অতীতের এক নির্মম ঘটনা আছে। যে ঘটনা আসলে কী সেটা বলা হয়নি। অনেক প্যাঁচানো হয়েছে। অনেক আবেগ দেখানো হয়েছে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষদের দুঃখবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু যে ঘটনা ঘটেছে সেটাই ব্যাখ্যা করা হয়নি। যদি না-ই হবে, এ ঘটনায় এত গুরুত্ব দেওয়া কেন? আর যদি লেখকের কাছে এটা গুরুত্বহীন মনে হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় মুহূর্তে জয়ার ব্যাকস্টোরিতে গুরুত্ব দেওয়া হলো কেন?

এখন আপনারা বলতে পারেন। বিদেশি বইতেও এমন তথ্যের আধিক্য দিয়ে কাহিনি বর্ধিত করা হয়। তখন তো সমালোচনা হয় না। প্রশ্ন যৌক্তিক। কিন্তু বিদেশী বইয়ে যে ঘটনা দিয়ে কাহিনি শুরু হয়, সেই ঘটনা পর্যন্ত যেতে নিশ্চয়ই ২৫০ পৃষ্ঠা প্রয়োজন হয় না। লেখক বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় আক্রমণের ঘটনা এখানে উল্লেখ করেছেন। যার আসলে প্রয়োজন ছিল না। এই বইয়ের ঘটনার সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা জোর করে করা হয়েছে। যে ঘটনা প্রবাহ পরের বইগুলোর জন্য তুলে রাখা তার আভাস দেওয়া, তাও এই বইয়ের শুরুতে! এতে মূল ঘটনায় যেতে যে সময় লেগেছে, তাতে পাঠকের অসন্তুষ্টির জায়গা আছে। আগ্রহ হারানোর সম্ভাবনা আছে। ফলে যখন মূল ঘটনা শুরু হয়, সেখানে নিজেকে সেই পরিমাণ আগ্রহী হিসেবে পাওয়া যায় না।

বর্তমান সময়ের চেয়ে অতীতের ঘটনা দ্রুত এগিয়েছে। সময় উপাখ্যান সিরিজে ইতিহাসের পাঠ যেভাবে করানো হয়, আমার কাছে এই অংশ ভীষণ ভালো লাগে। যদিও এই বইয়ে ইতিহাসের ঘটনা তেমন আগ্রহ জাগাতে পারেনি। সিপাহী বিদ্রোহ এখানে পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে ছিল। বরং একটি নির্দিষ্ট মিশন আর এর সাথে জড়িয়ে থাকা ঘটনা প্রাধান্য পেয়েছে। তবে সিপাহী বিদ্রোহের সময়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি, এর পরবর্তী বিশৃংখলা, কঠিন সময়ের বন্ধুর পথ, বিষকানিয়া বা আরোঘীর মতো গুপ্ত গোত্র এখানে উঠে এসেছে। ইংরেজদের নিষ্ঠুর মানসিকতা এখানে দৃশ্যমান হয়েছে। সেই সাথে কর্নেলের মতো মানুষের মানবিক গুণাবলীও গুরুত্ব পেয়েছে।

আর বর্তমান সময় পুরোটা ময়মনসিংহ জুড়ে। সমান্তরালে ছুটেছে দুই সময়কাল। এখানে বাশার তার দলবল নিয়ে খুঁজে বেড়িয়েছেন রিফাতকে। একই সাথে সাথে এই রহস্যের মূল। অনেক ছোটো ছোটো রহস্যে ওরা জড়িয়ে পড়েছে। এখানে রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে লেখক আরো রহস্যে জমিয়ে রেখেছেন। লেখকের ইচ্ছা বোধহয় ছিল, আমি কিছুই বলব না। এই বইতে সব জমাবো। পাঠকের মাথা খারাপ করব। আর বলব, সব খোলাসা হবে পরের বইতে। এখন বললে তো স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই রহস্য টেনে নিয়ে যেতে হবে। আমিও বুঝিনি, চরিত্রগুলোও বুঝেনি, ঘটনাপ্রবাহও বোঝেনি — আসলে কী হচ্ছে। তবে পিবিআই স্পেশাল উইংয়ের ভিত্তি লেখক এই বইতে পোক্ত করেছেন। এটা ভালো দিক।

লেখকের লেখনশৈলী সাবলীল। তবে বর্ণনায় বাহুল্য তাকে প্রাঞ্জল বানাতে ব্যর্থ। আমি আগের বইয়ের রিভিউতে বলেছিলাম, লেখকের মধ্যে দায়সারা ভাব রয়েছে। সে কারণে সংলাপ, সম্বোধন, নামের অদলবদল বেশি হয়। তাছাড়া লেখকের বডি শেমিং নিয়ে আমার অভিযোগ পুরোনো। টমির কথা বলতে গিয়ে প্রতিবার ‘ভুঁড়ি দুলিয়ে’ উল্লেখ করা ভালো লাগেনি। টমি একবার জয়াকে আপা, আরেকবার ম্যাডাম বলছে কেন, তাও বুঝলাম না। সবার নামের মূল অংশ লেখক সম্বোধন করলেও জয়ার পুরো নাম সম্বোধনের কারণ বুঝিনি। যেমন, বাশারকে শুধু বাশার, সামিরাকে সামিরা সম্বোধন করলেও জয়াকে প্রায় সব জায়গায় জয়া সরকার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। আলী আজগরকে জয়া বাবার মতন দেখলেও তার নাম ধরে সম্বোধন করাও আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। একইভাবে পিবিআই হয়ে গেল পিবিআইএস। কেন?

আবার অতীত অংশে কর্নেলকে একবার হুজুর, আরেকবার সাহেব বলা যৌক্তিক হলেও কিছু বিষয়ে সমস্যা আছে। কর্নেলের সহযোগী, যারা ওকে মানে তারা ওকে হুজুর বলবে ঠিক আছে। কিন্তু পিটার কেন বলবে? একজন ইংরেজ আরেকজন ইংরেজকে স্যার বলে সম্বোধন করবে। তাছাড়া কায়া একবার সাহেব বলবে, আরেকবার হুজুর বলছে কেন? সাহেব যৌক্তিক। হুজুর বলা মনে আনুগত্য প্রকাশ করা। কিন্তু বিষকানিয়া কারো প্রতি আনুগত্য দেখায় বলে জানা নেই।

সংলাপের ক্ষেত্রে একজন একবার বাঙাল ভাষা, আরেকবার শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে। বিষয়টা গোলমেলে। পাটোয়ারী সাহেবের কথা অবশ্য মেনে নেওয়া যায়। এর ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু অতীতের ক্ষেত্রে একই চরিত্র একবার বাঙাল ভাষা বলছে, আবার শুদ্ধ বলছে। এক শব্দ ভিন্নভাবে উচ্চারণ করছে। এই বিষয়গুলো নজরে না দিয়ে লেখার কারণে বইয়ের মানদণ্ড আরো নিম্নমুখী হয়েছে। তাছাড়া লেখক প্রচুর ইংরেজি শব্দের ব্যবহার করেছেন। পড়তে গিয়ে বেশ প্যারা লেগেছে। সহজ সাবলীল বাংলা পারিভাষিক শব্দ থাকার পরও ইংরেজি শব্দের অধিক ব্যবহার আমার পছন্দ না। আবার অন্যদিকে কিছু অংশে এমন কঠিন বাংলা পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করেছেন যেখানে সহজবোধ্য শব্দ ব্যবহার করা যেত। বিশেষ করে সংলাপে আমার এমন কঠিন শব্দ ব্যবহার করি না।

আর শেষের দিকে তো লেখক সব ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছেন। ৫৮০ পৃষ্ঠার একটা বই পড়ার পর যখন দেখা যায় কাহিনি শেষ হয়নি, তখন রাগ-দুঃখে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করে। তাহলে এত বড় বই লেখার মাজেজা কী? লেখক নিতান্তই দায়ে পড়ে লিখেছেন? এত বিশাল কাহিনি তো ২০০-২৫০ পৃষ্ঠায় শেষ করে দেওয়া যেত যদি পূর্ণাঙ্গ কাহিনি শেষ না হয়। আগের বইগুলোতে বাহুল্য থাকলেও অন্তত কাহিনি শেষ হয়েছিল। এখানে আলী আজগর যে দুইটা সূত্র — চন্দ্রমণি ও হ্যারি পটারের প্রথম বই; উল্লেখ করেছেন তাও খোলাসা করেননি। লেখক সম্ভবত সিন্দুকে ভরে নিজের কাছে লুকিয়ে রাখবেন মনে হয়।

সবচেয়ে বড় কথা, যে মিথ লেখক উল্লেখ করেছেন তাকে আমার বালখিল্য মনে হয়েছে। কিছুতেই এর যৌক্তিকতা, লজিক মেলাতে পারছি না। কিছুতেই না।

▪️চরিত্র :

ইতিহাস ও বর্তমান মিলিয়ে এই বইয়ে অসংখ্য চরিত্রের আবির্ভাব হয়েছে। আমি একটা বিষয় খেয়াল করেছি, সিরিজের প্রতিটি বইতে অতীত ও বর্তমান চরিত্রের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। যেমন অতীতে কর্নেল ও বর্তমানে বাশার, দুইজনই ফিরে এসেছে পিছনে ফেলে আসা স্থানে। দুইজনই নিজেদের মিশন পরিচালনার জন্য খুঁজে নিয়েছে বিশ্বস্ত মানুষদের।

এখানে সামিরার ভূমিকা কেন নেই ঠিক জানি না। প্রথমে তাকে এই মিশনের প্রধান উল্লেখ করা হলেও পুরো কাজ বাশার করেছে। সামিরা কেবল পার্শ্ব চরিত্র।এছাড়া অতীত বর্তমান মিলিয়ে সবগুলো চরিত্র বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু মিত্তি ও কায়ার যে ভালোবাসার কাহিনি, ঐতিহাসিকভাবে এ ঘটনা ভিত্তিহীন। তবে লেখক হয়তো আবেগহীন মানুষের মনে আবেগ দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

অবশেষে শেষে যে সত্য ও চমক এসেছে, তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এই সমাজে ক্ষমতাই সত্য...

▪️বানান, সম্পাদনা ও অন্যান্য :

কোথায় যেন দেখেছিলাম দশ হাজার শব্দের মধ্যে তিনটা বানান ভুল থাকলে তা আমলে নেওয়া যায়। আমি জানি না এক পৃষ্ঠায় কতটা শব্দ থাকে, তবে “সিপাহী” বইয়ের প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠায় একটা করে বানান ভুল, ছাপার ভুল ছিল। সম্পাদনার ঘাটতি লক্ষ্য করেছি অনেক জায়গায়।

বইয়ের বাঁধাই শক্ত। মাঝে দিকে খুলতে বেগ পেতে হয়। প্রচ্ছদ কেন সাদা করা হলো জানি না। যেখানে প্রথম চারটা বইয়ের প্রচ্ছদ একই ধাঁচের। সিরিজের সবগুলো বইয়ের প্রচ্ছদ একই ধরনের হলে আইকনিক ভাব থাকত। অবশ্য লেখক ও প্রকাশকের ভিন্ন ভাবনা থাকতেই পারে।

▪️পরিশেষে, সময় উপাখ্যান সিরিজের প্রতিটি বই পড়া নিজেকে শাস্তি দেওয়ার শামিল। “সপ্তরিপু” মোটামুটি ভালো লেগেছিল। বাকিগুলো যত এগিয়েছে ততই নিম্নমুখী হয়েছে। তবুও এমন জায়গায় ঘটনা শেষ হয়েছে, জানার জন্য হলেও কিংবা নিজেকে শাস্তি দেওয়ার জন্য হলেও “অশ্বারোহী” পড়তে হবে। কিছুই যে করার নেই।

▪️বই : সিপাহী
▪️লেখক : রবিন জামান খান
▪️প্রকাশনী : অন্যধারা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Profile Image for Safwan  Mahmood.
115 reviews5 followers
March 22, 2025
'রাজদ্রোহী'এর বারোভুঁইয়াদের সেই রহস্য সমাধান করে প্রফেসর ইফতেখারকে খুঁজে বের করার পরেই ইন্সপেক্টর আহমেদ বাশারের উপর আসে আরেকটা কেসের ভার। কিন্তু এই কেসটা তার জন্য বিশেষ ও স্পর্শকাতর, কারণ 'সপ্তরিপু'এর ঠগীদের কেসের মাধ্যমে ময়মনসিংহে খুঁজে পাওয়া সেই বিশেষ আর্কিওলজিক্যাল সাইট থেকে অপহরণ করা হয়েছে তার বাগদত্তা, আর্কিওলজিস্ট রিফাত মজুমদারকে। অপহরণকারীদের ব্যাপারে নেই কোনো খোঁজ, তাকে কেন কিডন্যাপ করা হয়েছে সেটাও অজানা।

তদন্তের জন্য বাশারকে আসতে হলো ময়মনসিংহে, সাথে আছে পুলিশ অফিসার সামিরা নাজনীন আর পিবিআইয়ের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ময়মনসিংহ শাখায় থাকা কর্মকর্তা, স্থানীয় পুলিশ। সেইসাথে সেই কেসে আরও আসে বাশারের পুরনো সঙ্গী রমিজ দারোগা আর আবদুল্লাহ। তদন্তে নেমে বাশার বুঝতে পারে, রিফাতের এই কিডন্যাপের ঘটনা মূলত জড়িয়ে এর আগের ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম আর তার পূর্ববর্তী কেসটার সাথে। যেটার সাথে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক অ্যান্টিক চোরাচালান সংস্থা রেলিক আর নেক্রোপলিস।

খুব সুপ্রাচীন এক রহস্যের সাথে মিশে আছে উপমহাদেশের ইতিহাসের বেশকিছু ঘটনা আর বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলো। সেই রহস্যের পেছনেই পড়েছে অপরাধী সংস্থা আর এক রহস্যময় কাল্টের লোকজন। রিফাত মজুমদারকে উদ্ধার করতে হলে বাশারকেও সেই রহস্য সমাধান করতে হবে যা কিনা বদলে দিতে পারে সবকিছু। কিন্তু করাপ্টেড পরিবেশের ভেতর শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কতটুকুই বা পারবে সে? একদিকে শত্রুপক্ষ কেমন, কতটা শক্তিশালী সেই সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই, কিন্তু ভুট্টার ভেতরে থাকা ভূতের কারণে তাদের তদন্তের সবকিছুই জানতে পারছে শত্রুপক্ষ। শেষ পর্যন্ত কি হতে যাচ্ছে?

এই সুপ্রাচীন রহস্যের একটা অংশ জড়িয়ে আছে উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, সিপাহী বিদ্রোহ, ১৮৫৭ সালে। স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া কর্নেল স্যান্ডার্সকে ফিরে আসতে হলো ভারতবর্ষে, অতীতের এক ভয়ংকর ঘটনার পর যে কিনা ভাতরবর্ষ ছেড়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছিল। বন্ধু জনের অনুরোধে ব্রিটিশ সরকারের হয়ে এক বিশেষ মিশনে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে সে। খুঁজে বের করতে হবে তার পুরনো বন্ধু ভিক্টরকে, যে কিনা বিশেষ কোনো কারণে পলাতক হয়ে আছে।

উপমহাদেশের জলন্ত আর ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও এই মিশনে নেমে কর্নেল স্যান্ডার্স বুঝতে পারে ভিক্টরের হাতে এমনকিছু এসেছিল যার জন্য তার পেছনে পড়েছিল নানা পক্ষ। নিজের দল নিয়ে এই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে একের পর এক বিপদের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। একদিকে ইংরেজদের জন্য বিপদজনক পরিস্থিতি অন্যদিকে নানা খুনে গোত্র আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তো আছেই। এরমাঝে এই রহস্যের কতটুকু সমাধান করতে পারবে স্যান্ডার্স আর ভবিষ্যতে এর কি প্রভাব পড়বে? তা জানতেই পড়তে হবে রবিন জামান খানের জনপ্রিয় সময় উপাখ্যান সিরিজের পঞ্চম বই 'সিপাহী'।

আমি থ্রিলার বই পড়া শুরু করি যাদের বই দিয়ে তাদের মধ্যে অন্যতম রবিন জামান খান। তার প্রায় সব বই-ই আমি পড়ে ফেলেছি এবং সেগুলোর প্রায় সবই থ্রিলার হিসেবে আমার কাছে কম বেশী ভালো লেগেছে। বিশেষ করে 'সপ্তরিপু' আমার পড়া অন্যতম সেরা থ্রিলার বই এবং এটা দিয়ে হিস্টোরিকাল থ্রিলার জনরাটার হাতেখড়ি হয়েছে আমার। তাই রবিন জামান খান যে আমার খুব পছন্দের লেখক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার এই 'সময় উপাখ্যান' সিরিজটাও আমার খুব পছন্দের এবং আমার মতে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে সুলিখিত থ্রিলার সিরিজগুলোর একটা।

আমাদের পরিচিত ইতিহাসের সময়কার একটা গল্প আর বর্তমান সময়ের রহস্যগল্পকে সমান্তরালভাবে রোমাঞ্চের সাথে এগিয়ে নিয়ে চলা, অতীতের গল্পের সময়কার দূর্দান্ত ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং, থিমেটিকাল মেসেজ আর কিছু হালকাপাতলা দর্শন, গতিশীল ন্যারেটিভ, কিছু টুইস্ট অ্যান্ড টার্নসের জন্য সিরিজের বইগুলো সবসময়ই বেশ উপভোগ্য। আর যখন টের পেলাম এই বিশাল পরিসরের আলাদা আলাদা কাহিনী লেখক নির্দিষ্ট সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করছেন তখন পরবর্তী গল্পের জন্য আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সিরিজের আগের বই 'রাজদ্রোহী'তে এই কাজটি লেখক বেশ ভালোভাবেই করতে পেরেছিলেন যার কারণে 'সিপাহী' বইটা নিয়ে আমার প্রচুর আগ্রহ ছিল।

এবার আসি এই বই���ার ব্যাপারে, 'সিপাহী' বইটাতে লেখক চেষ্টা করেছেন আগের বইগুলোর অতীত-বর্তমান সময়ের গল্পগুলোর ঐতিহাসিক রহস্যগুলোর অমীমাংসিত অংশগুলোকে একটা নির্দিষ্ট রহস্যের মাধ্যমে এক করার। এইক্ষেত্রে কাজটা বেশ কঠিন, কারণ আগের বইয়ের কাহিনীগুলো অনেক বিস্তৃত পরিসরের , সময়কালগুলোও অনেক আলাদা। তারপরও লেখক যেভাবে বিষয়গুলোকে একটা নির্দিষ্ট মিথের মাধ্যমে এক সূত্রে গেঁথেছেন তা ছিল বেশ। মিথটাও ছিল মোটামুটি ভালো।

এই বইয়ের অতীতের অংশটা খারাপ ছিল না। লেখক বরাবরের মতোই অতীত অংশটার ওয়ার্ল্ড বিল্ডআপ ভালোভাবে করতে পেরেছেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময়কালটাকে লেখক বেশ ভালো আর নিরপেক্ষভাবে দেখিয়েছেন। এই গল্পের প্রোটাগনিস্ট কর্নেল স্যান্ডার্সসহ দুয়েকটা চরিত্রকে লেখক তার গতানুগতিক ছাঁচে বেশ পছন্দসইভাবে গড়ে তুলেছেন। আর বরাবরের মতোই অতীত দুনিয়ায় কিছু অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সও ���ছে। বর্তমান সময়ের কাহিনীতে আগের বইগুলোর সাথে এই বইয়ের গল্পের সম্পর্ক বের করতে আগের বইয়ের কমন চরিত্রগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটা চরিত্রকে বেশ ভালোভাবে নিয়ে এসেছেন লেখক।

ছিল মোটামুটি মানের কিছু রিভিলেশনও। গল্পের শেষে বেশ কয়েকটা টুইস্ট ছিল। কয়েকটা প্রচুর প্রেডিক্টেবল ছিল, কয়েকটা আনপ্রেডিক্টেবল। তবে এর মধ্যে একটা টুইস্ট সিরিজের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছে। শেষের ক্লিফ হ্যাঙ্গারটা দূর্দান্ত হয়েছে, পরবর্তী গল্পের প্রতি আগ্রহ জাগায় অনেক। এই বইয়ে এগুলোই আমার ভালো লেগেছে। তাহলে বইটা পড়ে কি আমি সন্তুষ্ট? উত্তর - একদমই না। কারণগুলো ব্যাখ্যা করছি।

প্রথমত, রবিন জামান খানের বই আমি মূলত পছন্দ করি তার থ্রিলিং ন্যারেটিভের জন্য। তার সব বই-ই বেশ গতিশীল। কিন্তু এই বইটা, প্রথম ২০০-২৫০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত গল্প ছিল অনেক বোরিং। হ্যাঁ, এই সিরিজের বইগুলো শুরুর দিকে বিল্ডআপ হতে কিছুটা সময় নেয়, তারপর বেশ থ্রিলিংভাবে এগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়েও এতো বোর আমি রবিন জামান খানের অন্যকোনো বইয়ে হই নাই। এরপরেও যে অনেক থ্রিল ছিল তা নয়, বরং গল্পটা জাস্ট একটু ইন্টারেস্টিং হয়, তারপরও বেশ স্লো ছিল সেগুলোও। শুধুমাত্র শেষ ১৫০ পৃষ্ঠায় যা একটু থ্রিল পেয়েছিলাম বলতে গেলে।

এধরণের গল্প গতিশীলতার জন্যই উপভোগ্য হয়, কিন্তু এই বইতে তা ছিল না। এমনও না যে, লেখকের খুব প্রয়োজনীয় বিল্ডআপের জন্য গল্প স্লো হয়েছিল। একই কথার বারবার রিপিটেশন, একগাদা বর্ণনার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য দেখানো, সর্বোপরি গল্পকে টেনে লম্বা করার জন্য এমনটা হয়েছে। রবিন জামান খান বেশ বিস্তৃতভাবে গল্প বলেন। অনেক বর্ণনা, চরিত্রদের অতীতের গল্পের মাধ্যমে তার গল্পকথন অনেকের পছন্দ হয় না, তবে আমার বেশ ভালো লাগে। কিন্তু সেগুলো অন্তত গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এখানে সেটাও হয় নি।

লেখকের কাহিনীবিন্যাস প্রচুর দূর্বল এই বইয়ে। লম্বা সময় ধরে গল্প তো এগিয়ে যায় নি, উলটো অপ্রয়োজনীয় সব দৃশ্য আর লেখকের ত্যানা প্যাঁচানিতে শুধু বইয়ের কলেবর বাড়ছিল। একটা উদাহরণ দিই, শেষের চরিত্রভিত্তিক মহা প্রেডিকটেবল দুটো টুইস্টের জন্য লেখক গল্পের শুরুর দিকে সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় বিল্ডআপ দিয়েছিল অনেক বর্ণনার সাথে বিশাল দুটি দৃশ্যের মাধ্যমে, যা শুধুমাত্র পাঠক হিসেবে আমার বিরক্তি বাড়িয়েছিল, আর কোনো কাজে আসে নি। 'সিপাহী'তে লেখকের লেখনী প্রচুর দূর্বল মনে হয়েছে। শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাসের দূর্বলতার জন্য লেখনী হয়েছে অমসৃণ আর হারিয়েছে সাবলীলতা, যা কিনা রবিন জামান খানের কাছ থেকে একদমই প্রত্যাশিত ছিল না।

সেইসাথে ইনভেস্টিগেশন অংশটায় আমার কাছে অনেক লুপহোল আছে বলে মনে হয়েছে। কিছু বিষয় লেখক খুব বাজেভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন। সেইসাথে সিরিজের 'ব্ল্যাকবুদ্ধা' আর 'মগরাজ' গল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপটটাকে নিয়ে লম্বা সময় অপ্রয়োজনীয় টানাটানি করেছেন লেখক। সেইসাথে পিবিআইয়ের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তদন্ত প্রফেসর ইফতেখারের মাধ্যমে রহস্যটা আরও আগে কাহিনীতে এনে গল্পটাকে আরেকটু এগিয়ে নেয় নি তাও একটা কথা। সেই 'রাজদ্রোহী' বইয়ের শুরুতে সিরিজের মূল রহস্যটা যে অবস্থায় ছিল, এখনো বলতে গেলে ঠিক অবস্থাতেই আছে, যেটা অনেক বিরক্তিকর। আর অতীতের গল্পটাকে যদি সিরিজের পূর্ববর্তী বইগুলোর অতীত অংশের সাথে তুলনা করি, তাহলে 'এটা সবদিক থেকেই অনেক, অনেক পিছিয়ে থাকবে।

সর্বোপরি আমার মনে হয়েছে, এই বইয়ের গল্পে পোটেনশিয়াল ছিল। যদি লেখক আরেকটু সময় আর যত্ন নিয়ে লিখতেন, ভালোমতো সম্পাদনা করা হতো, তাহলে ভালো কিছু পেলেও পেতে পারতাম। এখন প্রশ্ন, পরবর্তী গল্প কেমন হতে পারে? লেখক এই বইটা যেই জায়গায় শেষ করেছে তা অবশ্যই পরের বইটার জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে, তবে গল্পের লুপহোলগুলোকে কাটিয়ে সবকিছুকে এক করা মিথটাকে লেখক কীভাবে এগিয়ে নিয়ে শেষ করবেন তাই দেখার বিষয়। সিরিজের পরের বইগুলো লেখা এইজন্য লেখকের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আশা করব এবার সময় নিয়ে ভালোভাবে লিখবেন তিনি। বর্তমান গল্পকে বিল্ডআপের নামে আর ত্যানা প্যাঁচাবেন না, যেখানে যেভাবে শেষ হয়েছে সেভাবেই গল্প শুরু হবে। আর যেন পরবর্তীতে রহস্যকে আবার আগের বইয়ের মতো অবস্থায় নিয়ে টানাটানি না করেন তিনি। সবমিলিয়ে বইটা পড়ে বেশ হতাশই হলাম বলা চলে। কারণ বইটা সবদিক থেকে সিরিজের অন্যসব বই থেকেই অনেক পিছিয়ে আছে।

📚 বইয়ের নাম : সিপাহী

📚 লেখক : রবিন জামান খান

📚 বইয়ের ধরণ : হিস্টোরিকাল থ্রিলার, মিস্ট্রি থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার

📚 ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Profile Image for Alvi Rahman Shovon.
476 reviews16 followers
September 27, 2024
সময় উপাখ্যান সিরিজের বইগুলো নিঃসন্দেহে পছন্দের সিরিজ। তাই তো অপেক্ষায় থাকি কবে নতুন বই আসবে আর গোগ্রাসে গিলতে পারবো। এবছরে প্রকাশিত সিরিজের সিপাহী বইখানা পড়লাম। আগের বইগুলোর তুলনায় সিপাহী বেশ ধীর গতির লেগেছে। কাহিনীতেও থ্রিল কম ছিলো। অহেতুক কাহিনী টেনেও লম্বা করা হয়েছে। সিরিজের পরের বই অশ্বারোহীর অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Mahrufa Mery.
207 reviews117 followers
April 26, 2024
বইয়ের শুরুতে যতটা এক্সাইটেড ছিলাম, বই শেষে ততটাই হতাশ। প্রচন্ড খেটে লেখা একটা বই শুধু মাত্র বইয়ের পাতায় কাহিনী বিন্যাস সাজানোর একটা গুফ আপের কারনে তেমন উপভোগ্য ছিলনা। বইয়ের শেষের দুটা টুইস্ট এর একটা মোটামুটি বইয়ের শুরুর দিকে বোঝা যায়। কাহিনী বিন্যাসের সমস্যা যেটা বলছিলাম সেটা হল- পাস্ট স্টোরি আর প্রেজেন্ট স্টোরি মাত্র ১/২/৩ পৃষ্ঠা পর পর আগ পিছ করা হয়েছে । অর্থাৎ - পাস্ট স্টোরি ২/৩ পৃষ্ঠা তারপর প্রেজেন্ট স্টোরি ২/৩ পৃষ্ঠা তারপর পাস্ট স্টোরি ২/৩ পৃষ্ঠা এভাবে ৫০০+ পৃষ্ঠার বইয়ের পুরোটা এগোয়। এত বেশি ব্যাক অ্যান্ড ফোর্থ করার জন্য যেকোন একটা স্পেসিফিক টাইমলাইম (পাস্ট অথবা প্রেজেন্ট) এর গল্প উপভোগ করা যায়না। এক পর্যায়ে আমার মনে হচ্ছিলো ব্রেইনের উপর চাপ পরে যাচ্ছে। মানে, পাস্টের একটা ঘটনা চলছে যেখানে কোন পট পরিবর্তন হচ্ছে না, একই ফ্ল্যাট লাইনের গল্পটা ২/৩ পৃষ্ঠা পর পর মাঝে প্রেজেন্ট স্টোরি ঢুকিয়ে ৪/৫ ভাগে শেষ করা হয়েছে। প্রেজেন্ট স্টোরির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। একটা উদাহরণ দেই- ধরা যাক, প্রেজেন্ট টাইমে একটা রুমে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সেখানে শুধু কথাই হচ্ছে, কোন পট পরিবর্ন হচ্ছে না, কথাবার্তা চালাচালি বা তথ্য আদানপ্রদান চলছে। কেউ রুম থেকে বেরিয়ে যায়নি, নতুন কেউ রুমে ঢোকেনি, অর্থাৎ সিচুয়েশনের কোন চেঞ্জ নেই। এই জিজ্ঞাসাবাদের পরো ঘটনাটা ২ পৃষ্ঠা করে করে ৪ থেকে ৫ বারে মাঝে খান দিয়ে পাস্টের অন্য কোন ফ্ল্যাট সিচুয়েশনের কাহিনী পড়ার ফাকে ফাকে পড়ে শেষ হবে। এতে গল্প উপভোগের মজাটা নষ্ট হয়ে যায়। না প্রেজেন্ট স্টোরিতে মন বসে, না পাস্ট। এর চেয়ে একটা সিঙ্গেল সিচুয়েশনের ঘটনাটা পুরাটা একটা চ্যাপ্টারে শেষ করে তারপর অন্য টাইমলাইনের অন্য সিচুয়েশনের ঘটনা পুরো একটা চ্যাপ্টারে শেষ করলে পাঠকের ( বা আমার) গল্পটা উপভোগ করতে সুবিধা হত। এটা মোটামুটি এই বই নিয়ে আমার অভিযোগ বলা যায়। আমি এই সিরিজ পড়া শুরু করি সপ্তরিপু বইটা দিয়ে। সিপাহী পড়ে মনে হচ্ছে যাস্ট কিছু থিওরি আর মিথ দিয়ে একটা গল্প সাজানো হয়েছে কিন্তু সেটাও বইয়ের খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একটু পর পর পাস্ট প্রেজেন্ট টাইম চেঞ্জ এর কারনে উপভোগ করা যায় না। আর মিথ টাও তেমন জমেনাই। অর্থাৎ সব মিলে সিরিজের পরের বইগুলো পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছি কারন ব্রেইনের উপর চাপ নেয়ার ইচ্ছা নেই। এছাড়া অনেক বানান ভুলের সমস্যা রয়েছে। ৩ তারা দিয়েছি কারন বইটা পড়ে মনে হয় অনেক খেটেখুটে লেখা। আসল রেটিং ২ তারা।
Profile Image for MD Maruf Ali.
18 reviews
May 7, 2024
এই সিরিজের বাকি সবগুলো বই আমার পড়া আছে……
কিন্তু এই বইটা পড়ে রীতিমতো বিরক্তিবোধ করলাম। শুধু শুধু বইটা লম্বা করা হয়েছে অযাচিত কথাবার্তা দিয়ে। দয়া করে বই বড় করে বেশী দামে বিক্রি করার এই লোক ঠকানো ব্যাবসা বন্ধ করুন, এই বইটা ৩০০ পৃষ্ঠার মধ্যেই শেষ করা যেতো। শুধু শুধু প্যাচাল লিখে বই বড় করা হয়েছে, লেখক গল্পের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে যেই পরিশ্রম করেছেন তা বরবাদ হয়েছে এই অযাচিত আলোচনার জন্য। তাঁই দয়া করে বই লিখার সময় এইসব বিষয় খেয়াল রাখবেন।

বইয়ের মধ্যে প্রচুর পরিমানে বানান ভূলের মহামারি লক্ষ করা গেছে, সেদিকেও লক্ষ রাখা উচিৎ।

আশা করি লেখক যদি এই সিরিজের পরবর্তি কোনো বই লিখে থাকেন, দয়া করে অযাচিত আলোচনা বাদ দিয়ে গল্পের দিকে ফোকাস দিবেন।
Profile Image for Rehnuma.
449 reviews26 followers
Read
May 28, 2025
❛If ত্যানা প্যাঁচানো had a book,
That must be ❛সিপাহী!❜❜

❛আমাদের এই এশিয়া মহাদেশ বিপুল রহস্যের ভান্ডার। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে আছে আশ্চর্য করা সব ইতিহাস, সম্পদ আর রহস্য। তাইতো এই ভূখন্ড শোষণ হয়েছে, শাসিত হয়েছে সেইসাথে লুণ্ঠন হয়েছে এই উপমহাদেশের বিপুল রহস্যের ভান্ডার। এখন যা আছে তাকে শুধু খাঁচা বলা যায় কি? নানা শাসন, শেষে ব্রিটিশ রাজের অ ত্যাচার, দেশভাগ এবং শেষে মুক্তিযু দ্ধ হয়ে বিশাল উপমহাদেশ তিনটি ভাগে ভাগ হলো। তবে রহস্য এখনো অনেক!❜

পিবিআই স্পেশাল উইংয়ের অফিসার বাশার বারো ভূঁইয়াদের কেস সমাধা করে নিঃশ্বাস না নিতেই তার সামনে হাজির বিশাল চ্যালেঞ্জ। তার পিও মানুষ রিফাত মজুমদার ময়মনসিংহে তার কর্মস্থান আর্কিওলজি সাইট থেকে অপহৃত হয়েছে। এই খবর শুনে প্রেমিক মন উতলা হবেই। সেও হয়েছে। স্পেশাল উইং প্রধান পাশা তাকে কেসের ডিটেল বলেছেন। এবং স্বাভাবিকভাবেই এই কেস সম্মুখ থেকে তদারক করবে বাশার। সাথে আছে সামিরা আর টেক এক্সপার্ট টমি।
রিফাতের সাইটে তার সাথে ছিল তরুণ একজন আর্কিওলজিস্ট। যে অপহরণ না হলেও একেবারে কানের পাশে দিয়ে গু লি গেছে। আপাতত সে হাসপাতালে আছে। বাশার সামিরা মিলে রওনা হচ্ছে ময়মনসিংহে। যেখানে থেকে শুরু হবে রিফাতকে খোঁজার কাজ।

১৮৫৭ সালের উত্তাল ভারতবর্ষ। সিপাহী বি দ্রোহে জ্ব লছে দিল্লি সহ আশপাশের সব এলাকা। এরইমধ্যে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত অফিসার কর্ণেল স্যান্ডার্সের কাছে এলো তার বন্ধু জন। এমন এক দায়িত্ব দিল তাকে যা সে না করতে পারে না। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল আর কোনোদিন ভারতবর্ষে পা রাখবে না। কিন্তু এখন যা শুনলো তাকে আরেকবার যেতেই হবে সেখানে। খুঁজে বের করতে হবে তাকে এবং কাজ হাসিল করতে হবে।
জ্বলন্ত আগ্নে য়গিরির মতো ভয়ানক দশা দিল্লির। বি দ্রোহ প্রথমে ঠিক দিকে গেলেও বেহাত হয়ে যায় সঠিক নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খলার অভাবে। ব্রিটিশ বাহিনী সব আবার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। এদিকে তারা খুঁজে চলেছে এমন একজনকে, যে তাদের মতে দিনকে দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তার কাছে এমন কিছু আছে যা ভয়ানক কিংবা বিপুল এক রহস্যের ভান্ডার।

স্যান্ডার্স ভারতবর্ষে এসেই সব হারিয়ে ফেলে নদীতে। বিধ্বস্ত অবস্থায় সে সাহায্য পায় স্থানীয় ফটিকের যে তার জীবন বাঁচায়। এরপর পায় তার ফেলে আসা জীবনের সঙ্গীর পুত্রকে। এগিয়ে যেতে থাকে কাজে। কিন্তু দিল্লি তখনো বহুদূরে।

সময় পেরিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম এবং সিলেটে ধরা পড়া মিস্টার জেড আর ইউকে স্থানান্তর করা হবে যার দায়িত্ব পেয়েছে দুই চৌকস আর্মি অফিসার। তবে সেখানেও হাম লা। সবকিছু কেমন যেন এক সুতোয় গাঁথা।

ময়মনসিংহে পা দিয়েই বাশার আর সামিরা আক্রম ণের শিকার হয়েছিল। উদ্ধার হলেও ধকল গেছে বেশ। এদিকে তাদের হাতে কোনো সূত্র নেই যা ধরে এগোবে। সবই ধোঁয়াশা। অপহরণ করার পর শত্রুপক্ষ থেকে কোনো সাড়া নেই। কীভাবে সব হবে?

বাশার থেমে যাবার পাত্র নয়। জেনেছে ভেতরেই আছে কোনো সরষের ভূত। কাউকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই নিজের দল গঠন করে ফেলছে। দলে আছে ঠগি কেসের আবদুল্লাহ আর অবসর নেয়া রমিজ দারোগা। প্রথম কাজ রিফাতের সাথে থাকা তরুণ আর্কিওলজিস্ট রুশোর সাথে কথা বলা।

অতীতে কর্ণেল স্যান্ডার্সও নিজের বিশ্বস্ত লোকদের নিয়ে দল গঠন করেছে। এগিয়ে যাচ্ছে নিজের লক্ষ্যের দিকে। জানতে পারছে অবাস্তব, অবিশ্বাস্য সব তথ্য। মুখোমুখি হচ্ছে শত্রুর। ভুলে যাওয়া বা ফেলে আসা সৈন্যের তেজ ফিরিয়ে আনছে আর মোকাবিলা করছে বিপদের। সূত্র পেয়েছে সে। এখন সেই মতো এগিয়ে যেতে হবে। যেতে হবে এখন ভারতবর্ষের সবথেকে উত্তপ্ত জায়গায়। সফল হবে কি?
ওদিকে অনুসরণ করছে দুজন জাত খু নি। দুটো ভিন্ন গোত্রের লোক। আছে অনেক রহস্য। সামনে যা আসবে সেগুলো কর্ণেল এবং তার দল হজম করবে কী করে? উদ্দেশ্য তাদের ভিন্ন কিন্তু লক্ষ্য এক।

রুশোকে নিয়ে কিছুটা কাহিনি হওয়ার পর বাশার তার সঙ্গে কাজে নিয়ে নেয় তাকে। তার জ্ঞান কাজে লাগবে। আঁধারে অল্প আলোর নিশানা হিসেবে একটু সূত্র পায় যা আসলে বিশ্বাস করতে হলে নিজেকে অনেক বুঝ দিতে হবে। মিথগুলো আসলেই সত্যি?
এই মিথের রহস্যের সাথেই বেরিয়ে আসে আরেকজনের নাম। যাকে বাশার চিনে ময়মনসিংহে আগের কেসে। সে আর কেউ নয়। সে আমাদের বেডি আক্তার ব্যাডা! চিনলেন না?
বলছি, তার নাম জয়া সরকার ওরফে এক কালের বিজয় আচার্য।
সব একই সূত্রে গাঁথা এবং সুতোর এক প্রান্ত টান দিলে অন্যগুলোও টান খাচ্ছে। সবকিছুর শুরুই সেই টুইন কালী কেস থেকে কিংবা আরো আগে।
যাই হোক, সবাই মিলে কাজে লেগে পড়ে আর সামনে আসতে থাকে সিপাহী বিদ্রো হের ঘটনা, কাল্ট, দুর্ধর্ষ কিছু দল এবং ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা। পুরো সিস্টেম যেখানে কলুষিত সেখানে এই কয়জন মানুষ সত্যের নাগাল পাবে কী করে?
কারণ কাহিনি তো এখনো শেষ হয়নি। ইতিহাস তার ছাপ রেখেছিল ১৮৫৭ পেরিয়ে দেশভাগ এবং একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামেও।
এই রহস্য সমাধান করতে পাজলের সবগুলো টুকরো একত্রে হতে হবে। কিন্তু এত প্রতিকূলতায় সেটা কী করে সম্ভব?

পাটোয়ারী এবং আমাদের বেডি আক্তার ব্যাডা পেয়েছে এমন এক তথ্য যা নাড়া দিয়ে দিয়েছে তাদের। চিন্তামণি, হ্যারি পটারের প্রথম বই সব কিছু কেমন গুবলেট পাকিয়ে গেলেও সত্য অনেকটাই সামনে কিন্তু জানানোর পথ রুদ্ধ!

অতীতের সিপাহীরা লড়ছে নিজেদের কাজ সমাধান করতে। বর্তমানের সিপাহীরা ছুটছে ফেলে আসে অতীতের রহস্য সমাধায়। সমাধান আর কত দূর?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝সিপাহী❞ রবিন জামান খানের ❛সময় উপাখ্যান❜ নামক সাত সিজনের সিরিজের পঞ্চম সিরিজ।

ঐতিহাসিক থ্রিলারের উপর আগ্রহ বরাবরই আমার বেশি। সেই আগ্রহ থেকেই এই সিরিজ পড়া শুরু করেছিলাম এবং আমি ফাইসা গেছি মা ইনকার চিপায়!

সিরিজের সবথেকে টলারেবল বই ❛সপ্তরিপু❜। বইটা আমার শুরুতে অনেক স্লো বার্ন লাগলেও ২১ দিনের ব্লক কাটিয়ে দেড় মাসে বইটা শেষ করেছিলাম। ওটাই আমার শেষ ব্লক আছিলো। সি��িজের প���ঁচটা বইকে সিরিয়াল করতে হলে প্রথম বইটাই আগে থাকবে। এবং ওটাই সেরা (অবস্থাটা এমন, খুশি কাপুর আর সাইফ আলীর পোলার অভিনয় দেখে লোকে যেমন অনন্যা পান্ডের কাছে ক্ষমা চাইছিল ওমন। যদিও সপ্তরিপু এর থেকে অনেক ভালো ছিল।)।
এরপর বেশ একটা গ্যাপ দিয়ে পড়েছিলাম পরের বই এবং ওটা অখাদ্য ছিল। এরপরের দুটো আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য পাঁচদিনে শেষ করছি (নিজের উপর কী অমানুষিক নির্যা তন হইছে কচ্ছপের থেকেও ধীর গতির বই শেষ করতে এই দুঃখ একমাত্র আমি জানি!)। পাঁচ নং বই এক বছর আগে কিনলেও আবার নিজেকে সাজা দিবো এই ভয়ে ধরিনি। তবে ভয়কে জয় করে অবশেষে ১২ দিনের প্রচেষ্টায় শেষ করছি।

বলতেই পারেন এত জ্বালা তো পড়িস ক্যা?
উত্তর, কোনো কিছুর শেষ না দেখে আমি ছাড়ি না। অর্থাৎ পরের দুইটা বইও আমি পড়বো।

আজাইরা প্যাঁচাল শেষ এখন সিপাহীতে আসি।

এখানেও মূল ঘটনা ময়মনসিংহের। গত বইয়ের মতোই এখানে আছে বাশার এবং বইয়ের বর্তমান সময়ের মূল বাশারই। রিফাতকে অ পহরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইতিহাসের আরেক অজানা এবং সবথেকে ভয়ানক এক রহস্যের।
বর্তমান এবং অতীত এখানে সমান্তরালে এগিয়েছে। অতীতে কর্ণেল যেমন দল নিয়ে ছুটছিলেন নিজের কাজ সফল করতে, তেমনি বর্তমানে বাশার দল নিয়ে রহস্যের কিনার খুঁজছে।

ঐতিহাসিক উপন্যাসে আমার কাছে বরাবরই অতীত বেশ দারুণ লাগে। এই উপন্যাসেও তাই। অতীত ছিল বর্তমানের তুলনায় আলোকজ্জ্বল। উত্তপ্ত ভারত উপমহাদেশ, সিপাহী বি দ্রোহের পরবর্তী বিশৃঙ্খলা এবং এরই মাঝে এক রহস্যের সন্ধানে ছুটে চলা কিছু মানুষ। যেখানে আছে পদে পদে মৃ ত্যুর সম্ভাবনা। দুইটি গোপন কিন্তু ভয়ানক খু নে দল এবং তাদের প্রতিশোধস্পৃহা।

অতীতের ঘটনাগুলো স্লো এবং বলা ভালো খুবই স্লো হলেও পড়তে ভালো লেগেছে। লেখক অনেক বেশি রহস্যের কপচানি করেছেন কিন্তু আসল পয়েন্টে আসেন নাই। এটা বেশ বিরক্ত লেগেছে।

তবে অতীতে বি ষকানিয়ার যে প্রেমের কথা বলেছেন আমি একটু সন্দিহান এতে। বি ষকানিয়া বা বি ষকন্যারা পুরোটাই বি ষের আঁধার। এই নিয়ে ❛কঙ্কাবতী❜ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম। সেখানে তাদের যেমন উপস্থাপন হয়েছে সে অনুযায়ী প্রেমের বিষয়টা একটু বেমিল। যাইহোক ফিকশন তো ফিকশনই!

বর্তমানে খালি রহস্য আর রহস্য, বিশাল বিপুল রহস্য, একেবারে দুনিয়া কাঁপানো রহস্য কিন্তু সেটা কী তার কোনো আঁচই একেবারে শেষ দিকে না আসার পযর্ন্ত ছিল না। গল্প শুরুর আগে, এবং গল্প শেষের আগে ছাড়া আরো তিনটা পর্বে মোট চুরাশি অধ্যায়ে লেখক মূল রহস্যের কিনারা করতে না করতেই আরেক রহস্য হাজির। সিরিজ যেহেতু সেটা ঠিক আছে। অতীত যতটা দ্যুতিময় এবং উপভোগ্য ছিল বর্তমান ছিল ততটাই বিরক্তির। সিরিজ যেহেতু আগের কথা আসবে, পুনরাবৃত্তি হবে এটা খুব স্বাভাবিক। তাই বলে এতবার?

আমাদের বেডি আক্তার ব্যাডার কাহিনি যখন আসলো তখন আগে থেকেই ঠগি কেস কয়বার যে পুনরাবৃত্তি হয়েছে আল্লাহ মালুম। যেটা এতবার না করলে স্রেফ (!) পৃষ্ঠাই কমতো। আর কোনো সমস্যা হতো না।

অতীত এবং বর্তমান দুইদিকেই বেশ ভালো অ্যাকশন দৃশ্য ছিল এবং বলাই বাহুল্য অতীতের মা রপিট অনেক বেশি উপভোগ্য ছিল। বিশেষ করে মিত্তি এবং কায়ার দৃশ্যগুলি আমার অসাধারণ লেগেছে। তবে অতীতে যাকে নিয়ে এত কাহিনি তার উপস্থিতি এবং তার কর্ম শুধু মুখেই শোনা গেছে। প্রতিফলন ছিল কম।

বর্তমানে অনেক রহস্য আসলেও কেন জানি অনেকগুলো ব্যাপার খুব বেশি অনুমেয় ছিল এবং যেটাকে প্রায় বো মা ফাটানোর মতো টুইস্ট হিসেবে বলা হয়েছে সেটা আগেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। তবে শেষে এসে জট খোলার বদলে আরো পেঁচগি লেগে গেছে। অবশ্যই এই পেঁচগি খুলতে হলে দেশভাগের কাহিনি নিয়ে ❛অশ্বারোহী❜ এবং একাত্তর নিয়ে ❛মুক্তি❜ পড়তে হবে, যা এখনো প্রকাশ হয়নি।

ধীর গতির উপন্যাস পড়তে খারাপ লাগেনা প্লট, গল্পের ধরন এবং বর্ণনা আকর্ষণীয় হলে। এই জায়গায় আমার মনে হয় আরও নজর দেয়া উচিত। একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি, এক কথাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এক প্যারা বানানো এসব না করলে বইটা ৫৮৪ পৃষ্ঠা না হয়ে আরো শ❜দুই পৃষ্ঠা কম হতে পারতো মনে হয়!

এরপর আগেও বলছি এই সিরিজকে ❛সময় উপাখ্যান❜ না বলে ❛স্রেফ❜ সিরিজ বলা উচিত! ৫৮৪ পৃষ্ঠার বইতে ❛স্রেফ❜ শব্দের ব্যবহার হয়েছে মনে হয় ১০৮৪ বার! গড়ে প্রতি পৃষ্ঠায় স্রেফ (কয়েক পৃষ্ঠায় না থাকলে পরে এক পৃষ্ঠায় অনেকবার স্রেফ বলে ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে)। স্রেফ এইটা, স্রেফ ঐটা। অতীত, বর্তমান সবখানে স্রেফের মেলা।

কিছু ব্যাপার আমার দৃষ্টিকটু লেগেছে। তুলে ধরছি,

** আমি জানিনা এটা স্বাভাবিক কি না, তবে আগের বইতেও খেয়াল করেছি কেমন একটা বডি শেমিং করার প্রবণতা আছে।
টমি মোটা বলে বারবার সে কিছু করছে সে ব্যাপারকে ❛তার ভুঁড়ি দুলিয়ে/নাচিয়ে❜ করছে এই তকমা ব্যবহার ভালো লাগেনি। এক দুইবার ঠিক আছে তাই বলে এত? একই কথা আমাদের জয়া সরকারের জন্যেও। একবার না হয় বলছে তার ❛সাগর কলার মতো আঙুল❜, কিন্তু একাধিকবার এর প্রয়োগ খুবই বিরক্তির।
** এখানে বর্তমান বলতে লেখক আসলে কোন সময় আছে আমি একটু সন্দিহান। প্রথম উপন্যাসের সাথে বাকি দুটো উপন্যাসের ঘটনা অনেকটা কাছাকাছি এবং চতুর্থটা একটু সময়ের ব্যবধানে হলে পঞ্চম ঘটনার সাথে উপন্যাসে কিছু বর্ণনা পড়ে ব্যবধান অনেক বেশি লাগে।
** ভাষার ব্যবহার ছিল অদ্ভুত। কর্ণেল বিদেশী সে ভাঙ্গা বাংলা বলে। কিন্তু হুটহাট তার ভাষা কখনো শুদ্ধ আবার কখনো আঞ্চলিক ছিল যেটা সামঞ্জস্য লাগছিল না। অনেক জায়গাতেই ভাষার এমন গড়মিল নজরে এসেছে।
** দেশী লোক সাদা চামড়ার অফিসারকে হুজুর বলছে। পিটার সাদা চামড়া সে তো কর্ণেলকে স্যার ডাকবে। আবেগে তায় নিজেও কেন হুজুর ডাকে?
** বাশারের মাথায় এত বুদ্ধি কিন্তু সে কিছু জায়গায় এমন বে ক্কল কাজ করে হিহি করে কেন হাসছিল বুঝলাম না। হুট করে নেয়া সিদ্ধান্তকে ব্রিলিয়ান্ট বললেও সেটা ব্রিলিয়ান্ট লাগে নি।
** পিবিআই থেকে এই গল্পে এসে হুট করে পিবিআইএস কেমনে হয়ে গেল বুঝলাম না।

সিরিজটা স্লো বার্ন, বাড়তি আলাপ আর টুকিটাকি এসব ব্যাপার বাদ দিলে উপভোগ্য। তবে একত্রে এতগুলো ব্যাপার বাদ দেয়া কঠিন। আশা করি সামনে বইগুলোর স্বাস্থ্য একটু কম হবে ( দুরাশা যদিও!)।
ইতিহাসের অলিগলি পেরিয়ে রহস্য, অবিশ্বাস্য সব গোত্র, কাল্টের ঘটনা এবং বর্তমানে এর প্রভাব সবই লেখক একসুতোতে এনেছেন। যেটা করা কঠিন এবং ধৈর্য্যের ব্যাপার।

রহস্য এখনো শেষ হয়নি সামনে আরো অনেক কিছু উন্মোচন হবে। ইতিহাস তার ছাপ রেখে যাবে আর সেই ছাপ ধরেই বর্তমানের কুশীলবরা এগিয়ে যাবে।


চরিত্র:

বাশারকে আমার অন্য দুটো বইয়ের মূল চরিত্র তানভীর আর শারিয়ার থেকে ভালো লাগে ব্যক্তিত্বের সাধারতার কারণে। তবে এখানে কেন জানি সে খুব একটা নিজেকে প্রকাশ করতে পারেনি বা লেখায় সে সেরকম প্রকাশ হয়নি।
জয়া সরকারকে এখানে দারুণ স্পেস দেয়া হয়েছে। তার চরিত্রের ইউনিক দিক ছিল। কিছুক্ষেত্রে বিরক্তির হলেও এখানে তাকে আমার বেশ ভালো লেগেছে।
সামিরাকে ভালো লেগেছে। রাফ এন্ড টাফ অফিসার এবং প্রফেশনাল দিক ভালো ছিল।
অতীতের স্যান্ডার্স অবশ্যই দারুণ। তার পুরো দলই দারুণ।
তবে পালোয়ান তার বাহাদুর নামক কুকুরকে সাথে নিয়েছিল যেটুক মনে পড়ে। শেষে এসে হুট করে বাতেন কেমনে হইলো বুঝিনি।
কায়া এবং মিত্তির উপস্থিতি যতটুক ছিল তারা দারুণ করেছে।


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

প্রচ্ছদ ভালো হয়েছে। সাথে পুস্তানিটা বইয়ের ঘটনাকে কল্পনা করতে বেশ সহায়ক ছিল।

আগেও বলেছি অন্যধারার সম্পাদনা বা প্রুফ রিডিংয়ের মান শেষের দিকে একদম প্রথম বলা যায়। বিশেষ করে এই সিরিজের ক্ষে��্রে। একটার থেকে আরেকটা বইতে বানান ভুল, উল্টাপাল্টা বাক্যের প্রয়োগ বেশি। একটা জোক ছিল না, বিমানে তিন দেশের প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছিল। একজন প্লেন থেকে খাবার (সঠিক মনে নাই) ফেলছে কারণ তার দেশে অঢেল খাওন, আরেকজন টাকা ফেলছে কারণ তার দেশে মেলা ট্যাকা আর বাংলাদেশের জন মানুষ ফেলে দিচ্ছিলেন কারণ এই দেশে অনেক মানুষ। মানে কেউ কারও থেকে কম না। এখানেও তেমন। সম্পাদনার অভাবে এক বই আরেক বই থেকে বেশি।
যেখানে হ্যাঁ হবে সেখানে না লেখা, আবার না কে হ্যাঁ। যে অনুমেয় হবে সেটাকে অনুমেয় নয় লেখা। সবথেকে দুঃখের ভুল হ্যারি পটারের প্রথম বইয়ের নাম লিখছে ❛হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসরা'স স্টোন!❜ (বুঝেন এবার!)। এমন অনেক ভুল ছিল যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না।


❛সিপাহীর খেলা শেষ। এবার যাত্রা করবে অশ্বারোহী। দেখা যাক কবে মেলে এই রহস্যের থেকে মুক্তি!❜



Profile Image for Auntika.
1 review
September 24, 2024
এই সিরিজের সবচেয়ে ফালতু বই নিঃসন্দেহে। থ্রিলার কাহিনী। মিথ-বাস্তবতা মিলিয়ে লেখা। কিন্তু এই বই বুঝতে হলে অবশ্যই সিরিজের অন্য বইগুলো পড়তে হবে। নাহলে কিছুই বোঝা যায়না। এবং কাহিনী সমাপ্ত হয়নি অর্থাৎ কী হলো জানতে পরের বইটিও পড়তে হবে। এ জাতীয় বই আমার ভালো লাগেনা।

অকারণে সিরিজের পুরাতন কাহিনী নিয়ে টানাটানি করে কলেবরে বিশাল একটি কঠিনপাঠ্য বই বানিয়েছেন লেখক। বাশার চরিত্র আর জয়া সরকার চরিত্র যা তাও লেগেছে, ওয়েস্টার্নের আদলে বানানো ওভারস্মার্ট সামিরার ক্যারেক্টারটা শেষ পর্যন্ত বিরক্তিকর লেগেছে। ফাঁপা ক্যারেক্টর।

কয়েকটা জায়গায় উপমা একেবারেই অপ্রযোজ্য লেগেছে। একটা উদাহরণ দেই- জয়া জেলে থাকা অবস্থায় দীর্ঘদিন পর ভালো সিগারেট পেয়ে সেটার প্যাকেট খোলা ও সিগারেট টানাকে শারিরীক সম্পর্কের আগে কাপড় খোলা ও অর্গাজমের সাথে তুলনা দেওয়া হয়েছে! 🤮 এরকম আজব বর্ণনার কোনো দরকার ছিল না।

ইতিহাস নিয়ে প্রচুর নাড়াচাড়া করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ইনফো ডাম্পিং মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হযবরল অবস্থা।
ময়মনসিংহ আমার শৈশব কৈশোরের শহর। এই শহরের প্রেক্ষাপটের থ্রিলার এমনিই সহজে হজম হওয়ার কথা না। তবুও সিরিজের প্রথম বই সপ্তরিপু পড়তে গিয়ে খানিকটা ভালো লেগেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় বাকিগুলোও পড়ি আর ফাইনালি এটায় আমি হতাশ।
দাম অনেক বেশি, বই বিশাল বড়।

আপনার যদি অনেক বাজেট, অনেক সময়, অনেক ধৈর্য থাকে তো পড়ে দেখতে পারেন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for কৌশিক.
29 reviews2 followers
June 2, 2024
সম্ভবত লেখকের লেখা সবচেয়ে বিরক্তিকর বই এটা। একই লেখা বিভিন্ন ভাবে বারবার লিখে বইয়ের কলেবর বাড়ানোর কোন প্রয়োজনই ছিল না। একটা সুন্দর সিরিজকে কেন জানি মনে হচ্ছে বাণিজ্যিক কারণে বা অতি তারাহুড়া করে লেখক নিজেই বরবাদ করে দিচ্ছেন।

বানান ভুল এবং যতিচিহ্নের ব্যবহার না করা যে কতটা দৃষ্টিকটূ হতে পারে, তার জ্বলজ্যন্ত উদাহরণ এই বই। আশা করা যায় যে পরবর্তী সংস্করণে এই ভুলগুলো ঠিক করা হবে।

সামগ্রিক বিবেচনায় এই বই (লেখকের অন্যান্য বইয়ের সাথে তুলনা করে) ১* পাবারও উপযুক্ত না। পুরোপুরি হতাশ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
3 reviews4 followers
May 13, 2024
ওপার বাংলার থ্রিলার লেখকদের মধ্যে রবিন জামান খান আমার সবথেকে প্রিয় লেখক। এই সিরিজের অন্যান্য বইগুলির মত এই বইও খুবই উপভোগ্য।
বইয়ের প্রচ্ছদ এবং পেজ কোয়ালিটিও খুব সুন্দর।
তবে আফসোস একটাই। প্রচুর বানান ভুল রয়েছে।
আশা করব প্রকাশক এ ব্যাপারে নজর দেবেন। এত ভালো একটা বই শুধুমাত্র বানান ভুলের কারনে মার খেলে সেটা ভালো দেখায় না।
2 reviews
April 15, 2024
রবিন জামান খানের লেখা বইগুলোর মধ্যে এই বইটির গল্প সবচেয়ে গভীর এবং সুখপাঠ্য। অকপটে বইটি পড়ার আহ্বান জানাবো সবাইকে। আকারে বড় হলেও এক সেকেন্ডের জন্য বোর ফিল হয় নাই আমার।
Profile Image for Saikat Chandra Sarker.
9 reviews1 follower
November 13, 2025
রবিন জামান খান ২৫শে মার্চের মত উপন্যাস লিখেছেন। শুধু তাই না, এই সিরিজের অন্য বইগুলোও পড়েছি। তার কাছ থেকে প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি। আশা করি ভবিষ্যতে তিনি আরও দারুণ কিছু আমাদের উপহার দেবেন।
Profile Image for Sadi.
6 reviews
December 21, 2025
একটু বড়, একটু প্যাঁচানো, একটু চুইংগাম টাইপ। অহেতুক টেনে লম্বা করা।
একদম ভালো লাগেনি।
Displaying 1 - 15 of 15 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.