আমি ইথারিয়াম। এই রকেটে করে আমাকে বেছে বেছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত যন্ত্রগুলোর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একের পর এক ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে চলছে আমার আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রা। সুদীর্ঘ আলোকবর্ষ আমি পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই দীর্ঘ পথে আমার আর কোনো সঙ্গী নেই। আমি একা। ভয়ঙ্কর রকমের একা। অদ্ভুত যন্ত্রদর্শন বাদে আমার জীবনের আর কোনো উদ্দেশ্য আছে কী না, তা আমার জানা নেই। ব্যাপারটা আমাকে জানানো হয়নি। সেই হিসাবে আমি নিজেও কি খুব অদ্ভুত একটা যন্ত্র নই? যে ছয়টি অদ্ভুত যন্ত্রের গল্প আমি আমার লগবইয়ে লিখে রেখেছি, আমার তো প্রায়ই মনে হয় যে আমার নিজের গল্প আসলে তাদের থেকেও অনেক বেশি অদ্ভুত! কন্ট্রোল ডেকের সামনের জানালাটা দিয়ে গভীর অন্ধকার মহাকাশ দেখা যায়। সেদিকে তাকালে কেন যেন আমি বুঝতে পারি-আমার থেকে অদ্ভুত যন্ত্র মনে হয় না আর কেউ হতে পারে।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্বর্ণযুগের লেখাগুলোর অনুরণন পাওয়া গেলো এ বইতে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে - ফেরা, ট্রেক্ট্রনিক সত্তা ও উপপাদক। পরিচ্ছন্ন কাহিনির সাথে বিষণ্ণ আবহ গল্পগুলোকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। লেখকের অন্যান্য বই পড়ার ইচ্ছা রইলো।
খুবই চমৎকার একটা বই। গতবার কিংবা তার আগের বার রুশদী শামসের বই পড়বার আগ পর্যন্ত উনাকে আমি চিনতাম না। খানিকটা র্যান্ডমলি পড়া। বইটা পড়বার পর লেখকের উপর একটা আস্থা এসেছিল এই ভেবে যে, সায়েন্স ফিকশনটা উনি বেশ ভালোই লিখেন। এবারের কয়েকটি ছোট গল্পের সংকলন 'অদ্ভুত যন্ত্রেরা সব' বইটা পড়ে আস্থাটা আরেকটু পাকাপোক্ত হলো। চমৎকার চমৎকার থিম নিয়ে লেখাগুলো। অদ্ভুত ধরণের যন্ত্র কখনও সাধারণ রোবট কিংবা অতি বুদ্ধিমান প্রযুক্তি হলো গল্পের মূল নায়ক। যেমন, একটা গল্পে টেক্ট্রন নামক একটা যন্ত্র, যার মূল কাজ মহাবিশ্বের প্রতি হুমকি এরকম কিংবা অসঙ্গতিপূর্ণ যে কোন কিছু খুঁজে বের করে তাদের ধ্বংস করা। সেসব কাজে সাহায্য করে অনেকগুলো সাব মডিউল। এরকমই একটা সাবমডিউল টর। খানিকটা আলসে প্রকৃতির। আসছে বৈঠকে টেক্ট্রনের কাছে অবশ্যই কিছু না কিছু রিপোর্ট তার করতেই হবে নয়তো সমূহ বিপদ। খুঁজতে থাকে সে চমকপ্রদ কিছু একটা (হুমকি বা অসঙ্গতি)। কী আছে টরের ভাগ্যে... চমৎকার একটা গল্প। আবার হারবিঞ্জার চক্রে আছে এক পাগলা বিজ্ঞানীর গল্প। যে চায় পৃথিবীর ভালো হোক। কিন্তু পৃথিবীর ভালো রাখার দায়িত্বটা আসলে কার? এইটার এক্সিকিউশনটাও মারাত্মক। আরেকটা জোস গল্প উপপাদক। বিজ্ঞানী ভার্সেস যন্ত্র। বুদ্ধিমত্তার খেলা আর কী। এইটাও অনেক মজা লাগসে। অনেকখানি মানবিক সায়েন্স ফিকশন আর মন ছুঁয়ে যাওয়া দুটো গল্প সম্ভবত ফ্যাক্টরি রিকল আর সর্বশেষ বড় গল্প ফেরা।
কোন রকম প্রত্যাশা ছাড়া শুরু করা বই হাতে নিয়ে চমকিত হতে পারা এবং লেখকের পরবর্তী বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া মানে অবশ্যই লেখকের ক্রেডিট। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
ওয়াও ! একদম হার্ডকোর স্পেকুলেটিভ সাই - ফাই। প্রতিটা গল্পের শেষে নির্ঘন্টে কিছু অপরিচিত শব্দের বা আইডিয়ার কোনটা তাত্ত্বিক আর কোনটা কাল্পনিক বলে না দিলে তো বুঝতামই না । দুর্দান্ত ! লেখকের বাকি বইগুলো পড়ার ইচ্ছে জাগলো।
লেখক Rushdi Shams এর একাধিক বই আমি পড়েছি। সেগুলোর তুলনায় এটা ভিন্ন রকমের। লেখার ভাষায়, আঙিকে এবং অবশ্যই ভাবনার অনেক ক্ষেত্রে। নিজেকে ভেঙে ভেঙে নানান রুপে উপস্থাপন করার ইচ্ছে হয়তো সবারই থাকে কিন্তু সেই প্রজ্ঞা,সাহস আর শক্তি সবসময় থাকেনা। "অদ্ভুত যন্ত্রেরা সব" তুলনামুলক সহজ ভাষায় লেখা। ভাষার সহজবোধ্যতার জন্যই নয় শুধু রুশদি তার লেখার ধরনীও করেছে আকর্ষণীয় এবং চমকপ্রদ সব গল্পের আসর বসিয়েছে সে; আমার ধারনা রুশদির এই বইটি জনপ্রিয়তা পাবে আরো বেশি। যারা তার ইরাইজা মেশিন বা ফিনিক্স প্রটোকল পড়েছে তারা ভিন্ন রকমের রুশদিকে খুজে পাবে।
মানবিক বোধকে বারবার স্পর্শ না করে রুশদী আবেগ কমিয়ে শুধু মাত্র গল্পই বলতে চেয়েছে। শতভাগ সায়েন্স ফিকশন লিখেছে। কিন্তু অদ্ভুত সব যন্ত্রের কথা বলতে বলতে সে কেমন একটা মায়াও তৈরী করেছে তার গল্পের যন্ত্রগুলোর প্রতি। এতো রকমের রোবটদের প্রতি। মাঝে মাঝেই বিস্ময় জেগেছে। একটা যন্ত্রের জন্য যন্ত্রনা হচ্ছে, রোবটের জন্য! লেখকরা কত কিছুই পারেন।
রুশদীর মতো লেখকরা অনেক কিছু পারে দেখেই তৃতীয়বারের মতো তার বই মহাগ্রহে প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন (আপনার বাসায় যদি ১০ টা বইও থাকে একটার গায়ে আকা সময় প্রকাশনের লোগো, আমি নিশ্চিত), রুশদীর বই কলকাতা থেকে প্রকাশ হয়,রুশদীর গল্প আফসার ব্রাদার্স থেকেও প্রকাশিত হচ্ছে।