Jump to ratings and reviews
Rate this book

বিবলিও হরর

Rate this book
যারা ভয় পেতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই সাজানো হয়েছে বিবলিও-হরর সংকলন। এই জনরার কিছু জনপ্রিয় লেখকদের পাশাপাশি, এই সংকলনে জায়গা পেয়েছে কিছু নবীন লেখকদের লেখাও। যে গল্পগুলো আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি, সেই মুগ্ধতা পাঠকদেরও স্পর্শ করবে।

গল্প ও লেখক তালিকা:
শকসো-মুহম্মদ জাফর ইকবাল
পাহাড়ি পিশাচ-রুবেল কান্তি নাথ
এরিয়েল-সোনিয়া রহমান
তুমুল -সারা ফাইরুজ
পৌনঃপুনিক-এস এম নিয়াজ মাওলা
কালো বাঘ- সাবাবা মোর্শেদ টুই
নয়ন তোমারে দেখিতে চায়-সামসুদ্দোহা রিফাত
ধুরান-বাপ্পি খান
ভয়ংকর ঘুমঘোর-অরূপ ঘোষ
বিনিময়-ফাইয়াজ ইফতি
অদৃশ্য সাধনা-জিহাদ
ভারা-মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
সানগ্লাস-আমান্না নওশীন
জাদুমণি-রুমানা বৈশাখী
বাগান-বাড়ি-মো, মেহেদি রহমান
কিসমত লোধির অন্তর্ধান-আসজাদ হোসেন খান
মন্টু মিয়া-সালমা সিদ্দিকা
বীজ-আশিক ইলাহী
জানালার ধারে কে?-তাবাসসুম নাজ
প্রেতলোকে-জাবির ফেরদৌস রাফি
অংশহরা-তৌফির হাসান উর রাকিব

263 pages, Hardcover

Published February 1, 2024

26 people want to read

About the author

Toufir Hasan Ur Rakib

73 books28 followers
তৌফির হাসান উর রাকিব (Toufir Hasan Ur Rakib) একজন কথাসাহিত্যিক, কবি এবং অনুবাদক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। পেশায় একজন চিকিৎসক।

রহস্যপত্রিকার তুমুল জনপ্রিয় লেখক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে সাহিত্য অঙ্গনে শুরু হয় তার দৃপ্ত পথচলা। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে তার অতিপ্রাকৃত ঘরানার বইগুলো।

সেবা প্রকাশনীতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় তার ‘ঈশ্বরী’ বইটি। এর পরে মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ এর সাথে যৌথ ভাবে লিখেন আগাথা ক্রিস্টির ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং যৌথ ভাবে আরো দুইটি আগাথা ক্রিস্টির বই ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ (২০১৭) ও ‘গেম ওভার’ (২০১৯) প্রকাশিত হয় তার। তিনি অনুবাদ করেন বিক্ষাত লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর ‘ডক্টর থার্ন’। তার সম্পাদনায় বের হয় বেশ কিছু বই, যার সাথে আছে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল ও আগাথা ক্রিস্টির ‘শার্লক হোমস ভার্সাস এরকুল পোয়ার’, কান্তজীউয়ের পিশাচ, দেবী, নিশিডাকিনী, শাঁখিনী, হাতকাটা তান্ত্রিক। কিছু অতিপ্রাকৃত ও হরর গল্পগুচ্ছ নিয়ে বর করেন ‘অপদেবী ’, ‘ট্যাবু’ সহ সব মিলিয়ে ৬টি বই। এছাড়া তৌফির হাসান উর রাকিব ও মারুফ হোসেন যৌথ ভাবে লিখেন এরিক মারিয়া রেমার্ক এর দুটি বই ‘স্পার্ক অভ লাইফ’ ও ‘হেভেন হ্যায নো ফেভারিট’। ওয়েস্টার্ন সিরিজের ২৯০তম বই ‘ডুয়েল’ এর লেখকও তিনি।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (18%)
4 stars
5 (31%)
3 stars
5 (31%)
2 stars
3 (18%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,108 reviews1,085 followers
May 5, 2024
সংকলনটির অধিকাংশ গল্পগুলো কাঁচা হাতের লেখা। অফুরন্ত সময় ছিল হাতে। তাই সময় নিয়ে একটা দুটো করে শেষ করা লাগছে। তবে কয়েকটা গল্প আছে যেগুলো ৪, ৫ তাঁরা দিয়েছি সেগুলো দুর্দান্ত রকম সুন্দর। কয়েকটা গল্প পড়ে একদম ভালো লাগে নি। উদাহরণস্বরূপ রুবেল কান্তি নাথের ‘পাহাড়ি পিশাচ’র কথাই বলি। গল্প বলতে গেলে সেই গল্পের পরিবেশ তৈরি করাটা যেমন অত্যন্ত জরুরি তেমনি সেই পরিবেশটাকে ধরে রাখাটাও অত্যন্ত জরুরি। গল্পের কথক এমনভাবে গল্পটা উপস্থাপন করেছন, যেন এটা কোন হাসির গল্প। ভয়ের পরিবেশটাই তিনি বারবার নষ্ট করে ফেলেছেন কিছু অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করে। যাইহোক, রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পগুলো আমার কতটুকু ভালো লেগেছে সেটা আলাদা করে তুলে ধরলাম।

১। শকসো / মুহম্মদ জাফর ইকবাল - ৪/৫
২। পাহাড়ি পিশাচ / রুবেল কান্তি নাথ - ১/৫
৩। এরিয়েল / সোনিয়া রহমান - ৪/৫
৪। তুয়ুল / সারা ফাইরুজ - ৩/৫
৫। পৌনঃপুনিক / এস এম নিয়াজ মাওলা - ৩/৫
৬। কালো বাঘ / সাবাবা মোর্শেদ টুই - ২/৫
৭। নয়নে তোমারে দেখিতে চায় / সামসুদ্দোহা রিফাত - ৩/৫
৮। ধুরান / বাপ্পী খান - ৫/৫
৯। ভয়ংকর ঘুমঘোর / অরূপ ঘোষ - ২/৫
১০। বিনিময় / ফাইয়াজ ইফতি - ৪/৫
১১। অদৃশ্য সাধনা / জিহাদ - ২/৫
১২। ভারা / মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর - ৩/৫
১৩। সানগ্লাস / তামান্না নওশীন - ৪/৫
১৪। জাদুমণি / রুমানা বৈশাখী - ২/৫
১৫। বাগান-বাড়ি / মো. মেহেদী রহমান - ২/৫
১৬। কিসমত লোধির অন্তর্ধান / আসজাদ হোসেন খান - ২/৫
১৭। মন্টু মিয়া / সালমা সিদ্দিকা - ৩/৫
১৮। বীজ / আশিক ইলাহী- ৪/৫
১৯। জানালার ধারে কে?/ তাবাসসুম নাজ- ২/৫
২০। প্রেতলোকে / জাবির ফেরদৌস রাফি- ২/৫
২১। অংশহরা / তৌফির হাসান উর রাকিব - ৪/৫
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews218 followers
May 9, 2024
বই: বিবলিও হরর
সম্পাদনা: তৌফির হাসান উর রাকিব
জনরা: হরর
প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম
প্রকাশনী: বিবলিওফাইল
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০/-

প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটা বা কয়টা গল্প কিছুদিন ধরে পড়ে "বিবলিও হরর" শেষ করলাম। রাত হলেই যে ভয় পাবো এমনটা না আসলে অভ্যাসবশতই অধিকাংশ সময় রাতেই পড়েছি। মোট ২১টা গল্প ২১জন লেখকের। ভয় পাওয়া থেকে সুন্দর একটা প্লটের প্রতি আমার ঝোঁক বেশি। তবে কিছু গল্প সুন্দর প্লটের সাথে গা ছমছম করা অনুভূতিও দিয়েছে। আবার কিছু গল্প তেমন ভালোও লাগে নাই। ছোট গল্প পড়া যতটা সহজ ততই কঠিন তার রিভিউ করা। তাই অল্প কথায় সবগুলো গল্পের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।

১। শকসো— মুহম্মদ জাফর ইকবাল~ ৪/৫
পোষা প্রাণীর মতো যদি অতিপ্রাকৃত কোনো সত্ত্বা পালার সুযোগ হয় তো কেমন হবে? এমনই এক অতিপ্রাকৃত জীব শকসো ডাক্তার মাহবুবের বুড়ো আঙুলে বাসা বেঁধেছে! রহস্যময় গল্পটা ভালো লেগেছে তবে শেষে একটা প্রশ্নও পাঠকদের জন্য রেখেছেন লেখক।

২। পাহাড়ি পিশাচ— রুবেল কান্তি নাথ~ ৩/৫
হঠাৎ যদি রাস্তায় দেখা হয়ে যায় ভৌতিক কিছুর সাথে তখন কী করবেন? পিচ্চি গল্পটায় হরর এলিমেন্টের সাথে হিউমারও আছে। হালকা ধাঁচে লেখা মোটামুটি মজার গল্প।

৩। এরিয়েল— সোনিয়া রহমান~ ৪/৫
ক্রিসমাসের ছুটি চলে এসেছে কিন্তু এরিয়েলকে নিতে আসেনি তার আম্মু। কিন্তু কেন? মাদার-মেরি পিচ্চি এরিয়েলকে সাথে নিয়ে আসে বাসায় ও খোঁজ লাগায় নিতে না আসার কারণ। হঠাৎ অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা শুরু করে মাদার-মেরি! একটা শব্দই বলবো "দারুণ"। শেষের টুইস্টটা চমকে দিয়েছে।

৪। তুয়ুল— সারা ফাইরুজ~ ৩/৫
পাহাড়ে বহু রহস্য আছে। সেখানে বসবাস করা মানুষগুলোও রহস্যময়। শুনেছেন কখনও এমন কথা? এই গল্পটা পড়ার সময় হঠাৎ কথাটা মনে পড়লো। গল্পের প্লট ভালো তবে একটা প্রশ্ন আছে। দেবস্মিতার কথা শুনে মনে হচ্ছিল জাদুটোনা তার বিয়ের পর করা হয়েছে। তাই ওসব দেখা শুরু করেছে। তাহলে শৈশবে আগেই কীভাবে তুয়ুলের দেখা পেল?

৫। পৌনঃপুনিক— এস এম নিয়াজ মাওলা~ ২/৫
আগ্রহ থাকা ভালো তবে অতিআগ্রহ বিপদ ডেকে আনে। এমটাই হয়েছে গল্পকথকের সাথে। কিন্তু পরিণতি কী হবে? লেখকের নাম দেখেই আশার পারদ তুঙ্গে উঠে গেছিল কিন্তু হতাশ হয়েছি। ছোট্ট গল্পটা গোলগোল ঘুরে যেন শেষ হয়ে গেল।

৬। কালো বাঘ— সাবাবা মোর্শেদ টুই~ ২/৫
ব্ল্যাক প্যানথার ঢাকায়! দক্ষিণ আমেরিকার জাগুয়ার সুদূর বাংলাদেশে ঘাঁটি কেন গেঁড়েছে? শুরুতে যতটা ইন্টারেস্টিং মনে হয়ছিল সমাপ্তি ততটাই সাদামাটা মনে হয়েছে।

৭। নয়নে তোমারে দেখিতে চায়— সামসুদ্দোহা রিফাত~ ৩/৫
অন্যায়ের মাত্রা ছড়িয়ে গেলে মৃত্যুর ওপার থেকেও ন্যায় করতে কেউ ফিরে আসতে পারে। একজন শিশুকামী ও পাচারকারীর জীবনের গল্প। শেষের টুইস্টটা অনুমেয় তবে হরর এলিমেন্ট ভালোই।

৮। ধুরান— বাপ্পী খান~ ৫/৫
প্রকৃতি নিজের ভেতরে অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। এমনই এক রহস্য ধুরান! প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে লেখক যে গল্প ফেঁদেছেন অসাধারণ। পড়ার সমন যেন হারিয়ে গেছিলাম সবুজে ঘেরা বিপদজনক ধুরানের জগতে।

৯। ভয়ংকর ঘুমঘোর— অরূপ ঘোষ~ ৩/৫
টুম্পা খালা বাংলাদেশ ছেড়ে আসার গল্প বলেন। দেশে যে তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন না! সমাপ্তি নিয়ে যেমনটা আশা করেছিলাম পেলাম না।

১০। বিনিময়— ফাইয়াজ ইফতি~ ৪/৫
প্রথম বইয়েই বাজিমাত আবার পরের বইয়ে চিৎপটাং এমনটাই হয়েছে লেখক মকসুদের সাথে। গল্পের প্লট খুঁজতে যেয়ে নিজেই গল্প হয়ে যাবে না তো? সবচেয়ে ভালো লেগেছে শেষের টুইস্ট।

১১। অদৃশ্য সাধনা— জিহাদ~ ৩/৫
সুব্রত নিত্যদিনের ঝামেলা নিয়ে অতিষ্ঠ। চিন্তা করে "অদৃশ্য সাধনা" করবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। গল্পে বেশি ফোকাস পেয়েছে বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্র ও রীতিনীতি। শেষটা কী হতে পারে আগেই বুঝে গেছিলাম কিন্তু আফসোস হচ্ছে সুব্রতর জন্য।

১২। ভারা— মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর~ ৩/৫
মেদিনীপুরের নায়েব খগেন্দ্র নাথ ভেবেছিলেন অন্যায় করেই রাজার হালে জীবনযাপন করা যাবে। কিন্তু এতোই সহজ? কাহিনী ধীরে এগিয়েছে কিন্তু গল্পের খেই হারিয়ে যায়নি। খগেন্দ্রের পরিণতি সন্তুষ্ট করেছে কিন্তু মদন মোহনের পরিণতি ভালো লাগেনি। অশ্বিনী কুমারের স্ত্রী ও কন্যার কী হলো?

১৩। সানগ্লাস— তামান্না নওশীন~ ৩/৫
সানগ্লাস পরলেই অন্য এক দুনিয়ায় চলে যায় নিধি যেখানে তাকে জম্বিরা তাড়া করে! অ্যালেক্স এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার একটা বুদ্ধি দেয় কিন্তু আদোও কি কাজ হবে? সব অতিপ্রাকৃত জীবের মধ্যে জম্বি জিনিসটা কেন জানি আমার খুবই ভয় লাগে। গল্প মোটামুটি হলেও জম্বিদের বর্ণনা যেভাবে করা হয়েছে কেমন জানি অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল পড়ার সময়।

১৪। জাদুমণি— রুমানা বৈশাখী~ ৩/৫
এক মা নিজের প্রতিশোধের জন্য সন্তানের জীবনের বলি লাগিয়ে দিয়েছে! ছোট প্রতিশোধের গল্পটা বিষাদময়।

১৫। বাগান-বাড়ি— মো. মেহেদী রহমান~ ৩/৫
এক বাগান বাড়িতে আছে প্রচুর সোনা। তা চুরি করতেই অভিযান চালায় ৪জন তরুণ-তরুণী। ওপরের তলায় ওঠার পর কাহিনী যেভাবে মোড় নেয় হিন্দি মুভি "ভুল ভুলাইয়া"- র কথা মনে পড়ে গেছিল। বন্ধ দরজা, তালা, নাঁচ এসব আরকি অনেকটাই মিলে তবে ব্যাকস্টোরি ভিন্ন। মুভির মতো গল্প ওতটা ভালো না লাগলেও তেমন একটা মন্দও লাগেনি।

১৬। কিসমত লোধির অন্তর্ধান— আসজাদ হোসেন খান~ ৩/৫
লোধি সাহেব মায়ায় পড়ে এক অদ্ভুত আয়নার। তারপর হুট করে বদলে যেতে থাকে তার জীবন! গল্পটা প্রাপ্তবয়স্কদের জ���্য। ডায়েরি লেখার মাধ্যমে গল্পটা যেভাবে এগিয়েছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে।

১৭। মন্টু মিয়া— সালমা সিদ্দিকা~ ৩/৫
মন্টু মিয়ার ভাতের হোটেলে ভালো খাবার-দাবারই পাওয়া যায় তবে আরও একটা বিষয়ে আবরার সাহেবের আগ্রহ আছে আর তা হলো গল্প শোনা। মোতালেব প্রায় কয়েকদিন ধরে তাকে হোটেলের নামকরণের অদ্ভুত গল্প শোনাচ্ছে! এই গল্পের নাম দেখে প্রথমেই হুমায়ূন আহমেদের "কুটু মিয়া"- র কথা মাথায় এসেছে। শেষটা যেন শেষ হয়েও হইলো না শেষ।

১৮। বীজ— আশিক ইলাহী~ ২/৫
পাথরের মতো দেখতে অদ্ভুত কিছু বীজ আজব কান্ড ঘটিয়ে চলেছে! বীজের কাহিনী এতো তাড়াতাড়ি আর সহজে শেষ হয়ে যাবে ভাবিনি। শেষটা আরও গোছানো হলে ভালো হতো।

১৯। জানালার ধারে কে— তাবাসসুম নাজ~ ৪/৫
নতুন ফ্লাটে এসে মাহা পেয়ে যায় মিষ্টি প্রতিবেশী দোলা ভাবি ও তার ছেলে পিচ্চি আরিশকে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে একদিন রাতে যখন আরিশকে মাহা বেবিসিট করতে যায়। ক্লাউন ডল কোথা থেকে যেন হাজির হয়! ক্লাউন জিনিসটা আমারও ভয় লাগে তাও যদি হয় ডল। সেই রাতের মাহার অভিজ্ঞতার বর্ণনা বেশ ভালো হয়েছে।

২০। প্রেতলোক— জাবির ফেরদৌস রাফি~ ২/৫
তান্ত্রিকের অনুমতি না নিয়ে চলে আসে রৌদ্র। কিন্তু শক্তিশালী তান্ত্রিকের জঙ্গলে প্রবেশ করে শুরু হয় অদ্ভুত কান্ডকারখানা! এক বুলেটে লাঠা চুকে যাবে এতোই যদি সহজ হয় তো কীসের শক্তিশালী? রৌদ্র খালি দৌড়াদৌড়ি করছে আর বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত জীবদের সাথে মোলাকাত করছে! একবার অবশ্য মনে হয়েছিল হরর কমেডি নয় তো? কিন্তু পড়ে তেমনটাও লাগে না।

২১। অংশহরা— তৌফির হাসান উর রাকিব~ ৫/৫
একজন আত্মনির্ভরশীল-স্বাধীনচেতা মেয়ে বলতে যেমনটা বুঝায় হেনা তেমনি একটা মেয়ে। সাহসী মেয়েটার সাহসে ফাটল তখনই ধরে যখন বাসায় তারই মতো দেখতে এক অশরীরীর দেখা পায়! প্লটটা যেমন ইউনিক তেমনি যথার্থ বর্ণনা করা হয়েছে। শেষের টুইস্টটা সেরা।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
March 7, 2024
বাংলা সাহিত্যে নিয়ে কাজ করে যাওয়া প্রায় প্রতিটি প্রকাশনীর কোনো না কোনো জনরার সংকলন আছে। বিবলিওফাইলও তাদের সাথে কাধ মিলিয়ে ২০২৪ সালে তিনটা সংকলন প্রকাশ পেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে : বিবলিও থ্রিলার,বিবলিও হরর এবং বিবলিও ফ্যান্টাসি।
সংকলন পড়ার একটা সুবিধা হচ্ছে যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিস্থিতিতে চাইলেই আপনি পড়তে পারেন এক দুইটা গল্প সেই বইয়ের। যেমন: আমি সি এন জি তে যাতায়াতের সময় সংকলন বা গল্পগ্রন্থ নিয়ে যাই সাথে, যাতে টুক করে একটা গল্প পড়ে ফেলা যায়। তাছাড়া নতুন নতুন লেখকদের লেখনশৈলী সম্পর্কে জানতেও সংকলন সাহায্য করে। বিবলিও হরর শেষ করলাম অনেক দিনে পড়ে। এখানে ২১জন লেখকের ২১ টি গল্প স্থান পেয়েছে। প্রতিটা গল্ সম্পর্কে কিছু প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো নিচে :

✒️শকসো- মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
এয়ারপোর্ট এ ফ্লাইট দেরী হওয়ার জন্য প্রধান চরিত্র মাহবুব খন্দকার নামে এক ব্যক্তির সাথে দেখা হয় যার বুড়ো আঙ্গুল উনি কে**টে ফেলেছেন। যার পিছনে আছে অদ্ভুত এক গল্প।
জাফর ইকবালের লেখনশৈলী সম্পর্কে আশা করি আলাদা করে বলা লাগবে না। উত্তম পুরুষের জবানীতে দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শকসোর অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা। শেষের সমাপ্তিটা সুন্দর ছিলো।

✒️পাহাড়ি পিশাচ-রুবেল কান্তি নাথ
ধরেন একজন সিএনজি ওয়ালা আপনাকে একটা পাহাড়ি জায়গায় এনে গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে অজুহাত দিয়ে একা রেখে চলে যায়,কেমন লাগবে তখন?
তেমনি পাহাড়ের মাঝে একাকী এক যুবকের আতঙ্কিত অবস্থা নিয়ে গল্প ফেঁদেছেন লেখক এখানে। নীরবতায় বিরাজমান পাহাড়ি পরিবেশে স্নায়ুতে ভয়ের যেরকম বাসা গড়ে উঠে,তা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।

✒️এরিয়েল-সোনিয়া রহমান
মেরি নামের অরফানেজ থেকে বড় হওয়া এক মেয়ের হঠাৎই মা হয়ে উঠার গল্প এটা। মনের গহীন কোণে মা হবার যে সুপ্ত ইচ্ছা আছে তা পূরণ করার জন্য এরিয়েলকে ক্রিসমাসের সময় নিয়ে আসেন মেরি।
গল্পটা বিদেশী পটভূমি আর চরিত্রের উপর লেখা। প্লটোটা কমন হলেও লেখনশৈলী ভালো লেগেছে।

✒️তুয়ুল-সারা ফাইরুজ
এক মহিলা আসেন সাইক্রাইটিস্ট ফিরোজ এতরেনের কাছে তার সমস্যা নিয়ে যেটা উনি বলে তার ভয়টা কাটাতে চান। ছোট বেলায় বাবার চাকরির সুবাদে বান্দরবনে মুরং জাতির সাথে বন্ধুত্ব করে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন তিনি।
বইয়ের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্পের মধ্যে এটা একটা। তুয়ুলের পুজো, মুরং স্বামীর প্রভাব, সাথে এক আকাঙ্ক্ষার মিশ্রণ এই গল্পটা। দারুণ লেগেছে। ভালো মানুষের মুখোশ পড়ার এক উদাহরণ ও বলা যায়।

✒️পৌনঃপুনিক-এস এম নিয়াজ মাওলা
একজন মানুষের আহাজারি, তার উপর সন্দেহ করা এবং সেখান থেকে এক অদ্ভুত মোড় নেওয়া গল্প বলতে গেলে পৌনঃপুনিক। মিথলজি লেখক নিয়াজ মাওলা উত্তম পুরষের মাধ্যমে বলে গেলেন এক অদ্ভুত গল্প যার শেষে এসেও চিন্তায় ফেলে দিবে পাঠককে।

✒️কালো বাঘ-সাবাবা মোর্শেদ টুই
সাভারে দেখা দিয়েছে কালো বাঘ। যে একের পর এক শিকার করেই যাচ্ছে মানুষদের। ব্রাজিলিয়ান এই প্যান্থার কিভাবেই এলো বাংলাদেশে?কী লুকিয়ে আছে এই রহস্যের পিছনে?
সাবাবা মোর্শেদের গল্প রহস্যপত্রিকাতে পড়া হয়েছে। তাই লেখনশৈলী সম্পর্কেও কিছু ধারণা আছে। প্লটটা কমন হলেও উপস্থাপনটা ভালো ছিলো।

✒️নয়নে তোমারে দেখিতে চায়-সামসুদ্দোহা রিফাত
গল্প খানা এই অধমের লেখা। এটা নিয়ে কিছু বলতে গেলে বলব, শুধু ভালোদেরই কেন অতিপ্রাকৃত জিনিস হামলা করবে? খারাপদেরও তো করতে পারে। তাই না? এই গল্পে আমার দেখা একটা স্বপ্নের সিকোয়েন্স যুক্ত করেছি। সেই স্বপ্ন আমি দুইদিন দেখি একটানা। যেখানে গতদিন শেষ হয়েছিলো, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় পরের জায়গা। গল্পটা পড়েন। আশা করি ভালো লাগবে।

✒️ধুরান- বাপ্পী খান
বাপ্পী খান এবার নিয়ে এসেছেন দারুণ এক চরিত্র। যার নাম আছমান হুদ। শিকার করা যার শখ ছিলো যুবক বয়সে। কিন্তু শিকারটা যে প্রাকৃতিক জিনিসের সাথে অতিপ্রাকৃতের ব্যাপারও মিশে যায়।
আছমান হুদ চরিত্রটা আমার শহর সিলেটে বাস করে। এ পর্যন্ত দুইটা গল্প বের হয়েছে এই চরিত্র নিয়ে। প্রথমটা মুদ্রণশিল্প ম্যাগাজিনে আর দ্বিতীয়টা এই বইয়ে। তান্ত্রিক, ধুরান আর আছমান হুদের কৌতুহলে গল্পটা অনেক চমৎকার লাগে।

✒️ভয়ংকর ঘুমঘোর- অরূপ ঘোষ
কানাডায় বাস করা টুম্পা খালার সাথে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা শুনতে চায় সবাই। আস্তে আস্তে উনি তাদের নিয়ে যান ভয়ংকর দিনগুলোতে যেখানে ঘুমঘোররা আক্রমণ করে প্রতিদিন। স্বপ্ন ও বাস্তব দুইটাতেই হানা দেয় ওরা।
অরূপ ঘোষের নাম সবসময়ই চোখে পড়তো। কখনোই উনার লেখা বা অনুবাদ পড়া হয়নি। অপশেষে পড়া হলো। ভালো লেগেছে গল্পটা। স্লিপ প্যারালাইসিস নিয়ে সুন্দর একটা ভৌতিক গল্প ফেঁদেছেন।

✒️বিনিময়-ফাইয়াজ ইফতি
এই সংকলনের আরেকটি দারুণ গল্প বলতে গেলে। এক লেখক এ.এম.স্যাঈড নামে একজন বিখ্যাত লেখক মুখ তুবড়ে পড়েন বই কয়েকবছর পর না চলায়। নতুন প্লটের জন্য আর পরিবেশকে আরো কাছ থেকে জানার জন্য চলে যায় দাদার বানানো বাংলোতে। সেখানে গিয়ে পরিচিত হয় এক পুকুরের পরে কী হয় তা জানতে হলে পড়ে নিন বইটা
ফাইয়াজ ইফতির নাম আমার কাছে পরিচিত। বই কখনো পড়া হয়নি। উনার লেখাও এই প্রথম পড়লাম। উপভোগ্য ছিলো গল্পটা। শেষের দিকে দারুণ একটা টুইস্ট ছিলো।

✒️অদৃশ্য সাধন-জিহাদ
গোবেচারা ধরণের লোক সুব্রত। মেয়েকে যৌতুকের বলে বিয়ে দিয়েছে। তখন অবস্থা ভালো গরু পালনের জন্য। তাই সে আত্মবিশ্বাসী ছিলো যৌতুক দেওয়ার বেলায়। কিছুদিন পরেই ধস নামে জীবনে তার। ক্ষেতে কাজ করে দুমুঠো খেতে পারে। মেয়ে অত্যাচারে এসে বলে টাকা না দিলে ফাঁ***স নিবে সে। কিভাবে টাকা দিবে সুব্রত? তার বই পড়ার জ্ঞান কী কাজে লাগবে?
গল্পটা অল্পবিদ্যা ভয়ংকরের উদাহরণ ও বলা যায়। শেষের দিকে টুইস্ট অপ্রত্যাশিত ছিলো।

✒️ভারা-মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
বইয়ের সবচেয়ে সেরা গল্পের একটা 'ভারা'। ইতিহাসকে আশ্রয় করে হরর লেখার গুন শুধু তৈমূর স্যারেরই আছে। ব্রিটিশ আমলের টাইমলাইনে নায়েবদের নিয়ে ফেঁদেছেন দারুণ এক গ���্প। লোভ, কাম, হিংসা সবমিলিয়ে উপভোগ্য একটা গল্প।

✒️সানগ্লাস-আমান্না নওশীন
সানগ্লাস পরেন আপনি? এ আবার কেমন প্রশ্ন,সবাই তো পরে। কিন্তু সানগ্লাস পরার পর যদি আপনি অন্য কোনো জগতে চলে যান তাহলে কী হবে? সেই গল্পই এখানে আছে। গল্পটা ভালো লাগলেও দাগ কেটে যাওয়ার মতো না। অন্যদের ভালো লাগতে পারে যে কিভাবে একটা ভয় কাটাতে প্রিয় জন সাহায্য করে।

✒️জাদুমণি- রুমানা বৈশাখী
এই গল্পটা আমার আগেও পড়া হয়েছে একটা ইবুকে। সেটাই এখানে স্থান পেয়েছে। প্রতিশোধের জন্য এক অদ্ভুত কান্ড একজন মায়ের যা গায়ে কাটা দেয়।

✒️বাগান বাড়ি-মো.মেহেদি রহমান
বোনের হার্টের সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসা করতে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। আকাশের একটা উপায় ডা**কাতি করা। খুজে পায় এক বৃদ্ধের বাগান বাড়ি। কিন্তু সেখানে পড়ে এক বিপত্ততে যা কল্পনাও করে নি ওর সহযোগীরা।
মেহেদী রহমানের ইবুক পড়েছিলাম আগে। সেই সুবাদে উনার লেখার সাথে পরিচিত। ভালো ছিলো গল্পটা। পৌশাচিক বর্ণনা গুলো পড়ে গা গুলিয়ে উঠে। শেষের দিকে সুন্দর টুইস্ট ছিলো।

✒️কিসমত লোধির অন্তর্ধান-আসজাদ হোসেন খান
আয়না নিয়ে অনেক মানুষের একটা ভয় কাজ করে। অনেকে মনে করে আয়নায় আছে অন্য এক জগৎ। কেউ কেউ রাতে আয়না দেখে না ভয়ে। এই আয়না নিয়েই একটা গল্প বলেছেন লেখক। তার উপর আমি রাতে পড়ছিলাম গল্পটা এবং আমার পাশেই আয়না একটা রাখা। যথেষ্ট ভীতিকর অবস্থা বলতে গেলে।

✒️মন্টু মিয়া-সালমা সিদ্দিকা
আবরার সাহেব আমেরিকা থেকে নিজ গ্রামে পৈতৃক ভিটায় থাকতে এসেছেন সাথে সম্পত্তির বিক্রিরও উদ্দেশ্য আছে। সেখানে মন্টু মিয়া হোটেল নামের এক হোটেল আছে। মালিকের নাম মোতালেব। সে হচ্ছে গল্পের ঠাকুর। মন্টু মিয়া কে আর কেন এই হোটেল তার নামে সেটা নিয়ে অদ্ভুত এক গল্প বলে। ভাত তরকারীর অমৃত স্বাদে হারিয়ে যান গল্পে।
এই গল্পটাও সংকলনের ভালো একটা গল্প বলা যায়। মন্টু মিয়ার অরিজিন খুব ভীতিকর ছিলো। সালমা সিদ্দিকা আপুর লেখনশৈলী ভালো লেগেছে।

✒️বীজ-আশিক ইলাহী
অ্যাজটেক সভ্যতাকে পুঁজি করে লেখা একটা গল্প। নিজের স্বার্থের জন্য কিভাবে চোখ বন্ধ করে মানুষ কাজ করে যায় তাই ফুটে উঠেছে গল্পে।

✒️জানালার ধারে কে-তাবাসসুম নাজ
নতুন ফ্লাটে উঠে মাহারা। দেখা পায় এক মা ছেলের। কী অদ্ভুত রহস্য আছে তাদের মাঝে? চিনা পরিচিত প্লটে লেখা একটা গল্প। উপভোগ্য আরো হতো যদি রহস্য ধোঁয়াশায় না রাখা হতো।

✒️প্রেতলোক-জাবির ফেরদৌস রাফি
মার্সেনারী রৌদ্র প্রবেশ করেছে অংশুমান তান্ত্রিকের বাস করা ভয়ংকর জঙ্গলে। যেখানে প্রবেশ করতেই অদ্ভুত এক অনুমতিপত্র লাগে। অংশুমান তান্ত্রিকেরই বা কাজ কী রৌদ্রকে নিয়ে?
হরর থ্রিলার হিসেবে গল্পটা ভালো ছিলো। রৌদ্রের সাহস আর জঙ্গলের সব ভীতিকর পরিবেশ পড়ে ভালো লেগেছে।

✒️অংশহারা-তৌফির হাসান উর রাকিব
হেনা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেশ ভালো বেতনের চাকরি করে। নিজেকে নিয়ে সে খুবই সন্তুষ্ট। বাধ সাধলো একদিন নিজের ঘরেই হেনা মুখোমুখি হয় তার প্রতিমূর্তির সাথে। সমাধানের জন্য সে যায় আধিভৌতিক রহস্য নিয়ে কাজ করা হাবিব আবসারের কাছে। ধীরে ধীরে রহস্য সমাধান হয় যা এক বিষাদময় অবস্থানে এনে ফেলে। প্রিয়জনের প্রতি যে দুঃখবোধ কাজ করে তা ফুটে উঠে এই গল্পে।

প্রডাকশন: রাউন্ড বাইন্ডিং এ দারুণ প্রডাকশনের কাজ দেখা গিয়েছে এই বইয়ে। যার ফলে আরামসে বইটা খুলে পড়া যায়। গল্পগুলোর টাইটেলের ফন্টটাও সুন্দর লেগেছে।

এইতো, এ পর্যন্তই ছিলো আলোচনা। যারা সংকলন পছন্দ করেন আর হররকে ভালোবাসেন তারা চাইলে একবার হাতে নিয়ে দেখতে পারেন 'বিবলিও হরর'। ধন্যবাদ এতো বড় রিভিউ পড়ার জন্য।
Profile Image for Zabir Rafy.
313 reviews10 followers
Read
November 24, 2024
পক্ষপাত কিংবা অনাচার হতে পারে ভেবে এই গল্প সংকলনটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না এবং রেটিংও দিতে চাই না। এখানে আমার লেখা একটা গল্প আছে, "প্রেতলোকে" নামে ২৩৭ পৃষ্ঠায়। পাঠক গল্পটি পড়ে থাকলে ফিডব্যাক দিতে পারেন।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
277 reviews43 followers
July 6, 2025
বিশ লেখকের বিশটা হরর গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে 'বিবলিও-হরর'। এই সঙ্কলনের কয়েকটা গল্প নিয়ে নিচে আলোচনা করছি।


ধুরান - বাপ্পী খান: গল্পটা বৃদ্ধ শিকারী আছমান হুদের। অনেকদিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের এক গহীন পাহাড় ঘেরা বনাঞ্চলে মুইরা নামক এক আদিবাসীদের গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই দু'জন করে মানুষ গায়েব হয়ে যাচ্ছিলো। আদিবাসীরা ভাবছিলো মানুষখেকো একজোড়া বাঘের শিকারে পরিণত হচ্ছে হতভাগ্যরা। কিন্তু আছমান হুদ এমন কিছু চিহ্ন আবিস্কার করলেন, যা তাঁর বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিলো। 


অনেকদিন পর সুলেখক বাপ্পী খানের কোন লেখা পড়লাম। একদম নির্মেদ ঝরঝরে একটা হরর গল্প 'ধুরান'। বাপ্পী খানের চমৎকার বর্ণনার স্টাইলের কারণে দারুণ একটা ভয়ের আবহ তৈরি করতে পেরেছে গল্পটা। ভালো লেগেছে।


জাদুমণি - রুমানা বৈশাখী: বছর পনেরোর এক গ্রাম্য কিশোরীর বিয়ে হলো এক বয়স্ক লোকের সাথে। মেয়েটার স্বামী পিশাচ প্রকৃতির মানুষ। শরীরী খিদে ছাড়া কিছু বোঝে না সে। দিনের পর দিন স্বামী নামের পশুটার হাতে নিষ্পেষিত হতে হতে মেয়েটা একটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো। যে সিদ্ধান্ত সবকিছুই হয়তো বদলে দেবে। 


প্রিয় লেখিকা রুমানা বৈশাখী তাঁর 'জাদুমণি' গল্পে এমন কিছু ভয়াবহ সত্যের অবতারণা করেছেন যা অতিপ্রাকৃত ভয়ের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর মনে হয়েছে আমার কাছে। বাল্যবিবাহ কতো নোংরা একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা এই গল্পটা আবারও যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। রুমানা বৈশাখীর লেখার ফ্যান আমি অনেক আগে থেকেই। তাঁর এই গল্পটাও চমৎকার লেগেছে।


ভারা - মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর: খগেন্দ্র নাথ ছিলেন বেদবাড়ি-নাটনাপাড়া এলাকার জমিদারের নায়েব। অত্যন্ত লোভী স্বভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। এদিকে তাঁর ছেলে অমরেন্দ্র ছিলেন সাদাসিধে। এক সাধু অমরেন্দ্রর হাতে একদিন তুলে দিলেন লোহার তৈরি একটা ভারা। সাধারণ একটা মাছ ধরার জালে ব্যবহার করা ভারা রাতারাতি অনেক কিছুই বদলে দিলো। কিন্তু একদিন সামনে এসে দাঁড়ালো পুরোনো পাপের হিসেব। তারপর? 


বাংলা হরর সাহিত্যের বরেণ্য লেখক মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের 'ভারা' ব্রিটিশ আমলের জমিদারি প্রথা ও সেই সময়ে নায়েব-গোমস্তাদের করা নানা অনাচার-অবিচারের প্রেক্ষাপটে লেখা একটা অতিপ্রাকৃত গল্প। বরাবরের মতোই লেখক তাঁর এই গল্পেও ইতিহাসের সাথে ভৌতিক এলিমেন্টের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। খুব না হলেও মোটামুটি ভালো লেগেছে আমার কাছে।


মন্টু মিয়া - সালমা সিদ্দিকা: বহুদিন পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন আবরার সাহেব। মন্টু মিয়ার হোটেলের অনেক প্রশংসা শুনে সেখানেই তিনবেলা খাবার খান তিনি। হোটেলের মালিক মোতালেব মিয়াও বেশ অমায়িক ও সজ্জন মানুষ। আবরার সাহেবের সাথে তার একটা চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠলো। আর এই মোতালেব মিয়াই আবরার সাহেবকে এক অদ্ভুত গল্প শোনালো। মন্টু মিয়ার গল্প। 


সালমা সিদ্দিকার লেখা অনেকদিন পর পড়লাম। 'মন্টু মিয়া' আমার অসাধারণ লেগেছে। লেখিকার চমৎকার লেখার গুণে গল্পটা সত্যিই একটা পারফেক্ট হরর গল্প হয়ে উঠেছে। আমার জীবনে পড়া সেরা হরর গল্পগুলোর মধ্যে 'মন্টু মিয়া'-এর নাম যুক্ত হয়ে গেলো।


কিসমত লোধির অন্তর্ধান - আসজাদ হোসেন খান: বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবসা করেন বাবু। বাবু'র সাথে আবার অ্যান্টিক সংগ্রাহক কিসমত লোধির বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। নিয়মিত তার দোকানে আসা-যাওয়া লোধির। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই সে উধাও হয়ে গেলো। খোঁজ নিতে গিয়ে বাবু'র হাতে পড়লো কিসমত লোধির লেখা ডায়েরি। কি লিখেছিলো সে অন্তর্হিত হওয়ার আগে?


গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার। আসজাদ হোসেন খানের লেখা এর আগে পড়েছি বলে মনে পড়ে না। ভালোই লেখেন তিনি। 'কিসমত লোধির অন্তর্ধান' তিনি লিখেছেন দিনলিপি লেখার ভঙ্গিতে। লেখকের আরো লেখা পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে এই গল্পটা পড়ার পর।


ভয়ংকর ঘুমঘোর - অরূপ ঘোষ: পেশায় নার্স টুম্পা একদিন তাঁর হাসপাতালে ভয়াবহ এক ভৌতিক সত্ত্বার অস্তিত্ব অনুভব করলেন। ঠিক এই ঘটনার পর থেকেই তিনি ঘুমের ঘোরে ভয়ঙ্কর কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে থাকলেন। ব্যাপারটা ফ্রিকোয়েন্টলি ঘটে থাকায় তিনি শরণাপন্ন হলেন আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন নানা মানুষের। আতঙ্কজনক সেই ঘুমঘোর থেকে কি নার্স টুম্পা আদৌ বের হতে পেরেছিলেন?


তরুণ লেখক অরূপ ঘোষের 'ভয়ংকর ঘুমঘোর' আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। বিশেষ করে স্লিপ প্যারালাইজড অবস্থায় কানের কাছে কোন অশুভ সত্ত্বার কণ্ঠস্বর শোনার ব্যাপারটা বেশ ভয়ের লেগেছে আমার কাছে। বেশ সাবলীল একটা হরর গল্প এটা।


বীজ - আশিক ইলাহী: কলেজপড়ুয়া তরুণ রনি কিছু অদ্ভুতদর্শন পাথরের মতো বস্তু খুঁজে পেয়েছে একটা পুরোনো আমলের কলসির তলা থেকে। বস্তুগুলো আসলে কি, তা না জানলেও রনি নিজের সাথেই রাখলো সেগুলো। কিন্তু এরপর থেকেই তার সাথে ঘটতে শুরু করলো বেশ কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা যেগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে একটা নাম - জেফ্রিস। 


'বীজ'-এর প্লট বেশ চমৎকার। তবে লেখক আশিক ইলাহীর লেখার মধ্যে বেশ জড়তা আছে। আরো কিছুটা ঘষামাজা করা হলে গল্পটা চমৎকার হয়ে উঠতে পারতো। যতিচিহ্ন ব্যবহার আর বানানেও ছোটখাটো বেশকিছু ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। সময়ের সাথে আশিক ইলাহীর লেখার মান আরো উন্নত হবে আশা করি।


তুয়ুল - সারা ফাইরুজ: শৈশবে বান্দরবানের এক প্রত্যন্ত এলাকার প্রাচীন এক মন্দির প্রাঙ্গনে অদ্ভুত কিছু একটা দেখেছিলেন মিসেস বড়ুয়া। সেই 'কিছু একটা' আর যাই হোক মানুষ বা কোন চেনাজানা প্রাণী ছিলো না। ন্যাড়া গাছের ডালের বুকে যেন একজোড়া জ্বলজ্বলে চোখ তাকিয়ে ছিলো মিসেস বড়ুয়ার দিকে। অনেকদিন পর সেই অশুভ জিনিসটাকে নিজের জানালার বাইরে আবারও দেখলেন মহিলা। এতোদিন পরে কেন? কি চায় ওটা?


আমি এর আগে কখনও সারা ফাইরুজের লেখা পড়িনি। পাহাড়ি এক অপদেবতার কাহিনি 'তুয়ুল'। লেখিকার বর্ণনার ধরণ চমৎকার। মোটামুটি ভালোই লেগেছে গল্পটা।


বাগান-বাড়ি - মো. মেহেদী রহমান: বন্ধুর মরণাপন্ন বড় বোনকে বাঁচাতে অবস্থাপন্ন এক বৃদ্ধের বাগান-বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করলো তিন বন্ধু। তারা জেনেছে ওই বাগান-বাড়ির তিন তলার একটা রুমে রাখা আছে কয়েকশো ভরি স্বর্ণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা যখন সেই বাগান-বাড়িতে পা রাখলো, অলৌকিক এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো তাদেরকে।


'বাগান-বাড়ি' গল্পটা পড়ে বেশ আনন্দ পেয়েছি। মো. মেহেদী রহমান চমৎকার লিখেছেন। গল্পের শেষের টুইস্টটাও ছিলো রোমাঞ্চকর। ছোটখাটো কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। তবে লেখকের চেষ্টাটা প্রশংসনীয়। 


কালো বাঘ - সাবাবা মোর্শেদ টুই: ইদানীং সাভার ও এর আশেপাশের এলাকায় কিছু ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে বাঘ বা এই জাতীয় কোন প্রাণীর আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে হতভাগ্য মানুষগুলোর। এদিকে সাভারের রাস্তায় অনেকেই দেখলো এক বিশাল কালো বাঘকে। সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত এই ব্ল্যাক প্যান্থার সাভারে কি করে?


'কালো বাঘ' গল্পটা আমার বিশেষ ভালো লাগেনি। কাঁচা হাতের লেখা মনে হয়েছে সাবাবা মোর্শেদ টুইয়ের এই গল্পটাকে। কিছুটা প্রেডিক্টেবলও ছিলো। এটাকে আদৌ কোন হরর গল্প বলা যায় কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।


বিনিময় - ফাইয়াজ ইফতি: তরুণ এক লেখক নিজের নতুন উপন্যাসের প্লট খুঁজতে বেছে নিলো নির্জনবাস। জায়গাটা তারই দাদাজানের পুরোনো এক বাংলো বাড়ি। জায়গাটা শুনশান, নীরব। বাংলোর পাশের জঙ্গলটার মধ্যে আছে তার দাদাজানের সময়কার এক ছোট্ট পুকুর। কথিত আছে, ওই পুকুরটা জানের বদলে জান নেয়। জান না হয় নিলো, জান দেয় কিভাবে পুকুরটা?


চমৎকার একটা গল্প 'বিনিময়'। এই সময়ের তরুণ লেখকদের মধ্যে ফাইয়াজ ইফতির নাম অনেকবার শুনেছি। কিন্তু তাঁর লেখা পড়ার সুযোগ হলো এই প্রথম। 'বিনিময়'-এর শেষটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গল্পটাতে অতিপ্রাকৃত আবহের সাথে কিছুটা ডার্ক কমেডির সংমিশ্রণ এটাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে।


অংশহরা - তৌফির হাসান উর রাকিব: হেনা ইদানীং খুব ভয় পায়। একটু অন্ধকার ঘনালেই একটা অশরীরী অস্তিত্ব টের পায় সে। অশরীরীটার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা পৈশাচিক হাসি আর তার জ্বলজ্বলে চোখদুটো হেনাকে সবসময় যেন তটস্থ করে রাখে আতঙ্কে। এই সমস্যার সমাধান পেতে সে যোগাযোগ করে প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর হাবিব আবসারের সাথে। তিনি কি পারবেন হেনাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে?


এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় হরর লেখক তৌফির হাসান উর রাকিবের 'অংশহরা' গল্পটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের শেষটা প্রেডিক্টেবল হলেও এর মধ্যে হিউম্যান সাইকোলজির এমন কিছু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দেখানো হয়েছে যেটা এই গল্পের আবেদন আরো খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। 


এই গল্পগুলো ছাড়াও 'বিবলিও-হরর' সঙ্কলনে ছিলো আরো কিছু হরর গল্প। মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'শকসো', রুবেল কান্তি নাথের 'পাহাড়ি পিশাচ', সোনিয়া রহমানের 'এরিয়েল', এস এম নিয়াজ মাওলার 'পৌনঃপুনিক', সামসুদ্দোহা রিফাতের 'নয়ন তোমারে দেখিতে চায়', জিহাদের 'অদৃশ্য সাধনা', তামান্না নওশীনের 'সানগ্লাস', তাবাসসুম নাজের 'জানালার ধারে কে' ও জাবির ফেরদৌস রাফির 'প্রেতলোকে'। 'শকসো' এর আগেও কোন এক সঙ্কলনে পড়েছি বলে এবার আর পড়িনি। বাকিগুলো পড়েছি। ভালো লাগা বা না লাগা উভয় অনুভূতিই হয়েছে। এই গল্পগুলো নিয়ে আর বিস্তারিত লিখলাম না। রিভিউটা এমনিতেই তিন মাইল লম্বা হয়ে গেছে।


বইটার কপিরাইট পেজে একটা ভুল চোখে পড়েছে। সেখানে ইংরেজিতে সঙ্কলনটার সম্পাদক হিসেবে মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ'র নাম দেয়া আছে, যেখানে এর সম্পাদক তৌফির হাসান উর রাকিব। ভুলটা পরবর্তী এডিশনে শুধরে দেয়া হবে আশা করি। রিয়াজুল ইসলামের করা প্রচ্ছদ মোটামুটি ভালোই লেগেছে।


ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৫/৫


বই: বিবলিও-হরর

সম্পাদক: তৌফির হাসান উর রাকিব 

প্রকাশক: বিবলিওফাইল 

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ঘরানা: হরর গল্প সঙ্কলন

প্রচ্ছদ: রিয়াজুল ইসলাম

পৃষ্ঠা: ২৬৩

মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা

ফরম্যাট: হার্ডকভার


(০৬ জুলাই, ২০২৫; নাটোর)
Profile Image for Mir Sharifuzzaman.
81 reviews3 followers
March 26, 2024
শকসো :- ৪/৫
-----------
মানুষের যেমন পোষা প্রাণী থাকে তেমনি যদি আপনার পোষা অতিপ্রাকৃত প্রাণী থাকে যে মানুষের অসুখ-বিসুখ বা মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে কেমন হবে তাহলে? এমন ই এক হরর গল্প শকসো।

পাহাড়ি পিশাচ :- ৪/৫
-------------------
চট্টগ্রাম থেকে মানিকছড়ি মাসতুতো বোনের বাসায় যাওয়ার পথে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় গল্পকথক। এই গল্পে হররের সাথে সাথে হিউমার গুলা ভালো লেগেছে।

এরিয়েল :- ৫/৫
-----------
খ্রীষ্টমাস এর ছুটিতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে ছোটবেলার বান্ধবীর বাচ্চা এরিয়েল কে পথিমধ্যে স্কুল থেকে নিজের বাসায় নিয়ে আসে নিস্সঙ্গ মেরি। যেহেতু এরিয়েল এর মা তুষারপাতের মধ্যে এরিয়েল কে স্কুলে নিতে আসেনি। কিন্তু মেরির জানা ছিল না কি ঘটতে চলেছে ওর সাথে। চমৎকার একটি গল্প।

তুযুল :- ৪/৫
---------
মুরং উপজাতিদের এক অপদেবতার লোককথন নিয়ে দারুন এক গা ছমছমে ভয়ের ও লোভের গল্প। খুব ভালো লেগেছে।

পৌনঃপুনিক :- ৪/৫
------------------
ছোটবেলায় শোনা বিরান পেত্নীকে নিয়ে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অসাধারণ এক গল্প।

কালো বাঘ :- ৪/৫
----------------
আরিচা সাভার মহাসড়কে আবির্ভাব হয়েছে এক মানুষখেকো বাঘের। নৃশংস ভাবে মৃত্যু হচ্ছে মানুষের। কে বা কি আছে এর অন্তরালে? দারুন একটা গল্প।

নয়ন তোমারে দেখিতে চায় :- ৪/৫
-----------------------------------
এক নৃশংস শিশু পাচারকারীর বিভীষিকাময় পরিণতি নিয়ে এই গল্প। স্টোরিটেলিং ভালো লেগেছে।

ধুৱান:- ৫/৫
-------
অসাধারণ। চট্টগ্রাম -বান্দরবন এর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মুরাই উপজাতিদের গ্রামে শুরু হলো অদ্ভুত হত্যাকান্ড। আসলেই কি বন্য প্রাণী আছে এর পিছনে নাকি কোনো অতিপ্রাকৃত অভিশাপ? বাপ্পি ভাইয়ের সিগনেচার স্টাইল এ অনবদ্দ গল্প।

ভয়ঙ্কর ঘুমঘোর :- ৩/৫
----------------------
সরকারি হাসপাতালের এক নার্সের উপর ভর করে অশুভ শক্তি। তাকে কেন্দ্র করেই এই গল্পের আখ্যান।

বিনিময়:- ৪/৫
-----------
এক জনপ্রিয় লেখকের সাম্প্রতিক উপন্যাসের অসফলতা এবং ব্যর্থতার পর রিহাব থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে নতুন গল্পের আশায়। কিন্তু তার জানা ছিল না কি হতে যাচ্ছে তার সাথে।

অদৃশ্য সাধনা :- ৩/৫
--------------------
মেয়ের শশুর বাড়ির যৌতুক আর ঋণ পরিশোধের জন্য সাধনা শুরু করে কৃষক সুব্রত। কিন্তু এই সাধনার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জানা ছিল না তার।

ভারা:- ৪/৫
-------
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভৌতিক আবহের গল্প রচনায় স্যার যেমন সিদ্ধহস্ত, তেমনি তার লেখার তুলনা হয় না। এবার জমিদারি , নায়েব ,খাজনা নিয়ে যে দুর্দান্ত গল্প তিনি উপস্থাপন করেছেন তা এক কথায় অতুলনীয়।

সানগ্লাস :-২/৫
-------------
নিধি কখনো সানগ্লাস পড়ে না। একদিন বয়ফ্রেন্ড আলেক্স এর কৌতুহলের কাছে হার স্বীকার করে সে জানায়, নিধির দাদার মৃত্যুর পর দাদার একটা সানগ্লাস চোখে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ও জোম্বি টাইপের কিছু মানুষ দেখতে পায়। নিধি কি এর থেকে কোনোদিন মুক্তি পাবে? সংকলনের এই গল্পটি আমার তেমন ভালো লাগেনি।

জাদুমনি :-৪/৫
--------------
বাল্যবিবাহ এবং বংশ রক্ষায় পুত্রসন্তান এই বিষয় দুটিকে উপজীব্য করে গা শিউরে উঠার মতো হরর গল্প। এক কথায় দারুন।

বাগান বাড়ি :-৪/৫
------------------
আকাশের বোনের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ লক্ষ টাকা লাগবে। কিন্তু কোথায় পাবে ও এতো টাকা ? বুদ্ধি বাতলে দেয় বান্ধবী এশা আর সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বন্ধু মিঠুন আর এক বড়ভাই রনি। বসিলা নদীতীরবর্তী এক নির্জন বাগান বাড়িতে সোনা চুরি করতে যেয়ে ওরা মুখোমুখি হয় এক পৈশাচিক শক্তির। এই গল্পে হররের সাথে সাথে শেষে যে টুইস্টিং প্লট আছে তা দারুন লেগেছে।

কিসমত লোধীর অন্তর্ধান :-৪/৫
----------------------------------
বিভিন্ন প্রাচীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করা কিসমত লোধীর শখ। এমনি ভাবে পুরান ঢাকা থেকে সংগ্রহ করলেন কালো কুচকুচে কারুকার্য খচিত আয়না। এর কিছুদিন পর ই বেমালুম চরিত্র বদলায় গেলো উনার আর এর কিছুদিন পর ই লোধি অন্তর্ধান হয়ে গেলেন। কি রহস্য আছে এর পিছে ? সত্যি কি আয়নার কোনো অপার্থিব ক্ষমতা আছে?

মন্টু মিয়া :- ৫/৫
--------------
এক, সালমা আপু আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখিকা আর দুই, ভক্ত পাঠক হিসেবে উনার প্রতি আমার ক্রাশ ! I must say , সংকলনের সেরা গল্প এটি। আবরার সাহেব অনেকদিন পর দেশে এসেছেন একটা কনফারেন্স এ। এই সুযোগে মফস্সলে নিজের ভিটা বাড়ি বিক্রি করে সেই টাকা দান করবেন। যেহেতু মফস্সল ভালো খাবার হোটেল নেই , তাই পাশেই মোতালেব মিয়ার "মন্টু মিয়ার ভাতের হোটেল" এ ডেইলি খাবার বন্দোবস্ত করলেন। সুস্বাদু খাবার আর মোতালেব মিয়ার আন্তরিক ব্যবহারে মুগ্ধ হন আবরার সাহেব। সেই সাথে মোতালেব মিয়ার গল্প বলায় আকৃষ্ট হন তিনি। কিন্তু উনার জানা ছিল না এই গল্প শোনার আগ্রহ কি পরিণতি আন্তে যাচ্ছে উনার। অসাধারণ এবং দুর্দান্ত গল্প।

বীজ :- ২/৫
-------
নিজেদের প্রাচীন ব্রিটিশ আমলের বাড়ি তে হটাৎ করে কলস পেলো রনি। তার ভিতরে কালচে হলুদ কিসের বীজ। যার সাথে জড়িয়ে আছে প্রাচীন অভিশপ্ত সত্তা।

জানালার ধারে কে? :-৪/৫
---------------
শান্তিনগরের ভাড়া বাসায় নতুন এসেছে মাহা তার ছোটো ভাই আর মা কে নিয়ে। পাঁচতালার দোলা ভাবি আর উনার বাচ্চা আরিশ এর সাথে খাতির হয়ে গেল। একদিন দোলা বাইরে গেলে মাহা আরিশকে সঙ্গ দেয়। কিন্তু রাতে জানলার ধারে একটা ক্লাউনফেস দেখে ভয় পায়। আসলে এই পাঁচতালার রহস্য কি? সুন্দর স্টোরিটেলিং।

প্রেতলোকে :-৩/৫
----------
একজন মারসেনারি এক তান্ত্রিককে মারার কন্ট্রাক্ট পায়।

অংশহরা : - ৪/৫
--------
কর্পোরেট জব আর ছিমছাম জীবন নিয়ে ভালই দিন যাচ্ছিল হেনার। কিন্তু হটাৎ করেই একদিন অরি মত একজনকে আয়নায় দেখা থেকে শুরু হয় ওর দুঃস্বপ্ন। শরণাপন্ন হয় বিখ্যাত রহস্যভেদী হাবিব আদসারের । সুন্দর গল্প। — with Samsudduha Rifath and 14 others.
Profile Image for Nusrat Jahan Mimi.
8 reviews
July 8, 2024
বিবলিওফাইল থেকে প্রকাশিত ও তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত বিবলিও হরর বইটি কিছু ছোট গল্পের সমষ্টি। এখানে বিভিন্ন লেখকের মোট ২১ টি ছোটগল্প আছে। কিছু গল্প আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে আবার কিছু গল্প এভারেজ। এই বইটা নিয়েই আমার ব্যক্তিগত মতামত জানাবো আজ।

১. শকসো- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
এই গল্পে লেখকের সাথে এয়ারপোর্টে এক লোকের সাথে পরিচয় হয় যার এক হাতের বুড়ো আঙুল কাটা। কারন তিনি তার বুড়ো আঙুলের মধ্যে পিশাচ পালতেন যে তার শরীরের রক্ত খেয়ে বাচত।
পার্সোনাল রেটিং - ৭.৫/১০

২. পাহাড়ি পিশাচ - রুবেল কান্তি নাথ
লেখক এক পাহাড়ি রাস্তায় অনেক সিএনজি নষ্ট হওয়ায় আটকা পড়েন। এই রাস্তা নিয়ে অনেক ভয়ানক কথা লোকেমুখে প্রচলিত। লেখক উদ্ধার পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাস্তায় ভয়ানক অনেক কিছু দেখতে পান।
পার্সোনাল রেটিং - ৩/১০

৩. এরিয়েল - সোনিয়া রহমান
মেরি ক্রিসমাস ইভে অফিস থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যখন রওনা দেয় তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট অনেক ফাকা আর তুষারপাতে রাস্তা বরফে ঢাকা। ফেরার পথে সে যে অরফানেজে বড় হয়েছে তার সামনেই একটা ছোট বাচ্চাকে কাদতে দেখে কারন তাকে এখনো কেউ বাড়ি থেকে নিতে আস নি। একসময় মেরি জানতে পারে বাচ্চাটি তারই ছোটবেলার বান্ধবির ছেলে। সে বাচ্চাটিকে তার মায়ের না ফেরা অব্দি নিজের কাছেই রাখে। বাচ্চাটার মা কি আদৌ তাকে নিতে আসে? নাকি সে থেকে যায় মেরির কাছেই মেরির ছেলে হয়ে?
পার্সোনাল রেটিং - ৯/১০

৪. তুয়ুল - সারা ফাইরুজ
মিসেস বড়ুয়া এক সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলেন ডা. ফিরোজের কাছে। সমস্যা হচ্ছে উনি প্রায়ই দেখেন অদ্ভুত একটা গাছের মত কিছু তার দিকে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তাকে মূলত কালো জাদু করা হয়েছে। ডা. ফিরোজ কি তাকে এই কালো জাদুর হাত থেকে মুক্ত করতে পারে?
পার্সোনাল রেটিং - ৬.৫/১০

৫. পৌনঃপুনিক - এস এম নিয়াজ মাওলা
লেখক একবার সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাতের বাসে রওনা দেন। কি এক অদ্ভুত কারনে সে নিজের বাসে না উঠে অন্য এক বাসে উঠে যায়। রাস্তায় যাওয়ার পথে এক অতিলৌকিক ঘটনা তার সাথে ঘটতে থাকে এবং একই ঘটনা বার বার ঘটতে থাকে।
পার্সোনাল রেটিং - ৬/১০

৬. কালো বাঘ - সাবাবা মোর্শেদ টুই
সাভার আরিচা রোডে প্রায়ই কিছু দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায় এবং এর আশেপাশে একটা কালো বাঘ দেখা যায়। এই কালো বাঘ হচ্ছে প্যানথার, যেটা ব্রাজিলে বা আমাজনে সাধারণত দেখা যায়। এই বাঘ বাংলাদেশে এল কি করে? আর দুর্ঘটনা গুলোর সাথে বাঘেরই ��া সম্প���্ক কি?
পার্সোনাল রেটিং - ৫/১০
এই গল্পটাকে আমার হরর কম ফ্যান্টাসিই বেশি মনে হয়েছে।

৭. নয়ন তোমারে দেখিতে চায় - সামসুদ্দোহা রিফাত
জাফর নামের এক লোক রাস্তা থেকে বাচ্চাদের ধরে এনে অর্গান বিক্রির ব্যবসা করে। তার ব্যবসা এবং পরিবার নিয়েই ঘটনা।
পার্সোনাল রেটিং - ৭.৫/১০

৮. ধুরান - বাপ্পী খান
আছমান হুদ একজন শিকারী। শিকারের লোভে সে সারাদেশ চষে বেড়িয়েছে। একবার সে বাঘ শিকার করতে যায় কাচলাং পাহাড়ে। সেখানে মুইরা নামের এক আদিবাসীদের গ্রাম পাহাড়ের পাশে। একবার এক চোর মুইরা গ্রামে চুরি করতে আসলে মুইরারা তাকে ধরে নদীর পানিতে খুটিতে বেধে রাখে। সকালে যাওয়ার পরে দেখা যায় খুটিতে শুধু মানুষের কংকাল পড়ে আছে। মাংস নেই। আঙুল থেকে কনুই অব্ধি যেটুকু বাধা ছিল খুটিতে সেটুকুই শুধু বেচে গেছে। বাঘ, ভাল্লুক, অজগর কেউই তো এভাবে খেতে পারবে না। তাহলে কি হলো?
পার্সোনাল রেটিং - ৯.৫/১০

৯. ভয়ংকর ঘুমঘোর - অরুপ ঘোষ
টুম্পা নামের এক নার্স একটা হাসপাতালে কাজ করতো যার একটা ফ্লোরের একটা পাশ পরিত্যক্ত। সেখানেই তার সাথে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং এর পর থেকেই উনি হঠাৎ হঠাৎ ঘুমিয়ে যান এবং অদ্ভুত অদ্ভুত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখতে থাকেন।
পার্সোনাল রেটিং - ৮/১০

১০. বিনিময় - ফাইয়াজ ইফতি
সৈয়দ নামের এক লোক বিদেশ থেকে দেশে ফেরত এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে একদিন চ্যালেঞ্জ করে বসে যে সে একটা বই লিখে ফেলবে এবং লিখেও ফেললো একসময়। প্রথম বই অনেক সফল হওয়ার পরে দ্বিতীয় বই লেখার জন্য উনি শহরতলি পেরিয়ে টিলার উপরে তার দাদাজানের পরিত্যক্ত এক বাংলোয় এসে ওঠেন। এখানেই ঘটতে থাকে নানারকম ঘটনা।
পার্সোনাল রেটিং - ৭/১০

১১. অদৃশ্য সাধনা - জিহাদ
মেয়ের বিয়ের সময় নেয়া ধারের সুদ আর যৌতুক দেওয়ার সামর্থ না থাকায় সুব্রত চিন্তা করে সে অদৃশ্য সাধনা করে ব্যাংক লুট করবে। যেই ভাবা সেই কাজ।
পার্সোনাল রেটিং - ৭.৫/১০

১২. ভারা - মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর
নায়েব খগেন্দ্র নাথ অসদুপায়ে একসময় অনেক ধনসম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন। যার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন তার বিধবা স্ত্রী ও মেয়েকে কৌশলে কাশিতে পাঠান এবং তাদের সাথে জোর করে তার এবং জমিদারের অসৎ উদ্দেশ্য চারিতার্থ করেন। একসময় খগেন্দ্রর পুত্র অমরেন্দ্র তার পিতার কীর্তিকলাপ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
এই গল্পটাকে হরর এর চেয়ে ড্রামা জনরাতেই বেশি মানায়। শুধু শেষ অধ্যায় টুকুতে একটু হরর ভাব আছে। কিন্তু কাহিনি এবং গল্প বলার ধরন বেশ সুন্দর। তাই এটাকে আলাদা ভাবে রেটিং দিতে পারছি না।

১৩. সানগ্লাস - আমান্না নওশীন
নিধি কখনো সানগ্লাস পরে না। কারন তার দাদা মারা যাওয়ার পরে তার শখের নিষিদ্ধ সানগ্লাস চোখে দেওয়ার পরে নিধি চলে যায় অন্য এক জগতে, জম্বির জগত।
পার্সোনাল রেটিং - ৮/১০

১৪. জাদুমনি - রুমানা বৈশাখী
১৫ বছর বয়সে পরীক্ষার আগের রাতে মেয়েটার বিয়ে হয় ৬২ বছর বয়সের এক বৃদ্ধের সাথে। বৃদ্ধ ছিড়েখুঁড়ে খায় মেয়েটার শরীর। মেয়েটা একসময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। জন্ম দেয় এক অভিশপ্ত সন্তানের।
পার্সোনাল রেটিং - ৭/১০

১৫. বাগান বাড়ি - মো. মেহেদি রহমান
আকাশের বোন অসুস্থ। তার অপারেশনের জন্য বিশ লাখ টাকা লাগবে। নাহলে সে মারা যাবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবে আকাশ? তার বন্ধুদের সাথে মিলে সে ঠিক করে এক বাগান বাড়িতে চুরি করবে যেখানের এক কামরায় আছে ভরি ভরি স্বর্ন। তারা কি
সফল ভাবে চুরি করতে পারবে? বাচাতে পারবে আকাশের বোনকে?
পার্সোনাল রেটিং - ৭.৫/১০

১৬. কিসমত লোধীর অন্তর্ধান - আসজাদ হোসেন খান
কিসমত আলীর নেশা হচ্ছে পুরোনো জিনিসপত্র সংগ্রহ করা। একবার সে একটা পুরনো আয়না খুজে পায়। যেটা পরিবর্তন করে দেয় তার জীবন।
পার্সোনাল রেটিং - ৯/১০

১৭. মন্টূ মিয়া - সালমা সিদ্দিকা
আবরার সাহেব দেশে আসেন পুরোনো বাড়ি বিক্রি করার জন্য। তারপরে আবার ফিরে যাবেন বিদেশে। এখানে এসে তিনি মন্টু মিয়ার ভাতের হোটেলের সুস্বাদু খাবারের প্রেমে পড়ে যান। হোটেলের মালিকের নাম মোতালেব। তিনি আবরার সাহেবকে গল্প শোনান যে কেন এই হোটেলের নাম মন্টু মিয়া হলো। কে এই মন্টু মিয়া!
পার্সোনাল রেটিং - ৮.৫/১০

আর লিখতে পারতেছি না, আমি টায়ার্ড 🌚

১৮. বীজ - আশিক ইলাহী
পার্সোনাল রেটিং - ৬/১০

১৯. জানালার ধারে কে? - তাবাসসুম নাজ
পার্সোনাল রেটিং - ৮/১০

২০. প্রেতলোকে - জাবির ফেরদৌস রাফি
পার্সোনাল রেটিং - ৭.৫/১০

২১. অংশহারা - তৌফির হাসান উত রাকিব
পার্সোনাল রেটিং - ৯.৫/১০

পরিশেষে বলবো, এই বৃষ্টির দিনে পড়ার মতো পারফেক্ট একটা বই।
Profile Image for Faria Zebin.
32 reviews1 follower
November 15, 2025
সংকলনের অধিকাংশ গল্প কাঁচা হাতে লেখা। এমনকী সম্পাদনার ঘাটতিও চোখে পড়েছে। গল্প সংকলনের সব গল্প ভালো হবে না স্বাভাবিক, কিন্তু বেশিরভাগ গল্প বিলো এভারেজ হবে এটাও অস্বাভাবিক

শকসো
রেটিং- ৪/৫
এই গল্পটাই একমাত্র গল্প যা পড়ে ভালো লেগেছে। সন্তুষ্ট

পাহাড়ি পিশাচ
রেটিং- ১/৫
লেখকের লেখনশৈলী অত্যন্ত বিরক্তিকর লেগেছে। এভাবে অন্তত হরর গল্প বলা যায় না।

এরিয়েল
রেটিং - ৩/৫
প্লট আহামরি না তবে লেখনশৈলী ভালো

তুয়ুল
রেটিং- ৩/৫
প্লট, লেখনশৈলী দুটোই মোটামুটি ভালো।

পৌনঃপুনিক
রেটিং- ৩/৫
প্রত্যাশা ছিলো বেশি। সে তুলনায় বলতে হবে ভালোও লাগেনি, আবার খারাপ ও না

কালো বাঘ
রেটিং- ২/৫
খুবই কাঁচা হাতের লেখা। বাচ্চাদের গল্প মনে হয়েছে।

নয়ন তোমারে দেখিতে চায়
রেটিং- ২.৫/৫
লেখনশৈলী ভালো কিন্তু গল্পটা জমেও জমেনি। খারাপ মানুষের শাস্তি দিতে আত্মা আসে এ ধরনের গল্প আহটে অনেক দেখা হয়েছে, এই সময়ে এসে পড়তে ভালো লাগে না

ধুরান
রেটিং- ৪/৫
এই গল্পটা বেশ উপভোগ করেছি

ভয়ংকর ঘুমখোর
রেটিং- ৩/৫
প্লট ভালো কিন্তু বর্ণনাশৈলী আরেকটু বেটার করা যেত। আরও উপভোগ্য হতো

বিনিময়
রেটিং- ২.৫/৫
এই গল্পটা কেন যেন জমতে গিয়েও জমেনি। মনে হয়েছে লেখক বলতে চেয়েছেন অনেক কিছুই কিন্তু শেষ মুহূর্তে খেঁই হারিয়ে ফেলেছেন

বিনিময়
রেটিং- ৩/৫
প্লট সাদামাটা তবে উপভোগ করেছি

ভারা
রেটিং- ৪/৫
মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের লেখা আমার বরাবরই ভালো লাগে। এ গল্পটা ওনার অন্য গল্পের তুলনায় দূর্বল মনে হয়েছে, তবুও উপভোগ করেছি।

সানগ্লাস
রেটিং - ২.৫/৫
বিলো এভারেজ প্লটের এভারেজ লেখনশৈলীর গল্প।

জাদুমনি
রেটিং - ৩/৫

বাগানবাড়ি
রেটিং- ৩/৫


বাকিগুলো নিয়ে লেখা আর ধৈর্য্য কুলাচ্ছে না। পরে লিখবো হয়তো
Displaying 1 - 8 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.