মোহনপুরের মায়াজাল, ভূতগ্রহের বিজ্ঞানীরা, সাত্যকি সোমের বন্ধুরা, সবুজ মানুষ অনেকটা গল্পের মতোই মোহনপুর গ্রামে হঠাৎ নানা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। গ্রামে আবির্ভাব হয়েছে দুই রহস্যময় আগন্তুকের। ছোট্ট ছেলে বুবুলের দাদু তাঁর গবেষণাগারে কী আবিষ্কার করেছেন? বুবুল কি পারবে জীবনবিজ্ঞান স্যার জীবনানন্দবাবুর সাহায্যে দাদুর অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করে শেষ পর্যন্ত মোহনপুর গ্রামকে রক্ষা করতে? ভূতগ্রহের বিজ্ঞানীরা কি তাঁদের গ্রহে ফিরতে পারল? শ্যামলবাবুর গায়ের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার কারণ কী? বিজ্ঞানী সাত্যকী সোম কি অবশেষে ব্যর্থ হলেন? তাঁর আসল বন্ধু কারা? হিমাচলের পাহাড়ি রাস্তায় পথ ভুল করে চার বন্ধু কোন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হল?
মোহনপুরের মায়াজাল লেখক : সুদীপ দেব প্রকাশক : বইবন্ধু প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : দেবাশীষ দেব পাতার সংখ্যা : ১৩০ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০/-
অদ্ভুতুড়ে সিরিজ পড়তে ভালো লাগে? তবে, এই বইটি অবশ্যই পড়ুন। কি নেই, মজার ভূত, ভিনগ্রহের প্রাণী, ভুলোমন মাস্টারমশায় এবং আরও অনেক মজার মজার চরিত্র।
বইটিতে মোট ৫টি ছোট বড় মিলিয়ে গল্প আছে।
মোহনপুরের মায়াজাল : এটাই এই বইয়ের বড় গল্প। মোহনপুরের সরকারবাবুদের পুকুরে বহুদিন পরে একটা কুমীর দেখা দিয়েছে। কিছু লোক কুনো ব্যাঙ খুঁজে বেড়াচ্ছে কেন? এইরকম আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে পড়তে হবে গল্পটি।
ভূতগ্রহের বিজ্ঞানীরা : এটি একটি মজার কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক ছোট গল্প। লেখক ট্রেনে যেতে যেতে একটি ক্ষুদ্র মহাকাশযান আবিষ্কার করেন তার বার্থের বালিশের নীচে। তারপর কি হলো?
সাত্যকি সোমের বন্ধুরা : এই গল্পটি রেবন্ত গোস্বামী বাবুর বিখ্যাত চরিত্র সাত্যকি সোমকে নিয়েই লেখা। লেখার কিছু অংশ রেবন্তবাবু লিখে দেন এবং সুদীপদা সেটাকেই সম্পূর্ণ করেছেন খুব সুন্দর ভাবেই। এটি একটি মাঝারি গল্প। একটা মারণ ভাইরাস দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছে, বিজ্ঞানী সাত্যকি সোম একটা পাণ্ডব বর্জিত জায়গায় এর আন্টিডোট আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। তিনি কি সফল হতে পারবেন?
সবুজ মানুষ : শ্যামল বাবু কলকাতা শহরের দক্ষিণদিকে থাকেন নিজের বাড়িতে। সেখানে শহরের কোলাহল একটু কম। কিছুদিন আগেই তার বাড়িতে বজ্রপাত হয়ে তাঁর মায়ের হাতে লাগানো একটা বকুল গাছ নষ্ট হয়ে যায়। তার পড়েই হটাৎ করেই তার মাথা এবং গায়ের রং সবুজ হয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে কিন্তু, কেন? এটিও একটি মাঝারি গল্প।
অনেকটা গল্পের মতোই : এটা একটি ছোট ভূতের গল্প। লেখক এবং তার তিন বন্ধু কিন্নর হিমাচল বেড়াতে আসেন। রাস্তায় বাঁকের মুখে উপরে উঠতে গিয়ে গাড়ি আর এগিয়ে যেতে পারে না। লেখক গাড়ির চাকা পাথর দিয়ে আটকানোর জন্য গাড়ি থেকে নেমে পাথর খুঁজতে খুঁজতে পা হড়কিয়ে নিচে পড়ে যান। তারপরে?
দেবাশীষ বাবুর ছবি গুলি একটা আলাদা প্রাপ্তি গল্প গুলির সাথে।
বইটা কিনে হতাশ হয়েছিলাম। এত ছোট বই। পড়াও হয়ে গিয়েছিল এক নিশ্বাসে। কিন্তু পড়ার পর একটা অনাবিল আনন্দ পেয়েছিলাম। যেটা মনকে ভরিয়ে দিয়েছিল। একটা অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল। প্রতিটা গল্প যেন এক একটা রূপকথা, আধুনিক রূপকথা। যে শিশুরা বাংলা গল্পের বই পড়া শুরু করতে চলেছে। তাদের জন্যে আদর্শ বই হলো এই বইটা।