Jump to ratings and reviews
Rate this book

মহাজাগতিক

Rate this book
এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে
তানজীম রহমান
ভবিষ্যৎ থেকে পাঠানো হয়েছে বেশ বিস্তৃত এক বার্তা৷ তবে সেখানে প্রেরক দিয়েছেন এক ভয়াবহ স্বীকারোক্তি৷ ফিলসফিক্যাল এক যাত্রায়, গল্পের গভীরতায় লেখক আরেকবার মুগ্ধ করবেন আপনাকে৷
.
আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
মানুষ আবিষ্কার করেছে ঘুমের মাঝেও স্বপ্নে কাজ করবার অভিনব প্রযুক্তি৷ নয়টা-পাঁচটা চাকরি ছাড়াও এখন ঘুমের মাঝেও করা যাচ্ছে চাকরি৷ তবে এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোন ষড়যন্ত্র? সিমুলেশনের অদ্ভুত জগতে স্বাগত৷
.
সিসিফাসের দুই হাত
মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম
পৃথিবীর কোরের ঘূর্ণন যেদিকে থাকার কথা তা না হয়ে ঘুরছ উলটো দিকে৷ এর সাথে কী সম্পর্ক হাজার আলোকবর্ষ দূরের গ্রহটার সাথে? রোমাঞ্চকর মহাকাশ যাত্রাটা কি শেষতক পরিণত হতে যাচ্ছে ভয়ানক অন্ধকারে?
.
ঘটনার ঘনঘটায়
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার
এক চড় খেয়েই রহিমার মায়ের ভবলীলা সাঙ্গ৷ এই দুর্ঘটনাবশত করা খুন থেকে বাঁচতে দ্বারস্থ হলাম বিজ্ঞানী ঝামেলা ভাবির কাছে৷ এরপর পদে পদে ঝঞ্ঝাট, মেলানকলি আর সমান্তরাল মহাবিশ্বের পথে অনন্য এক যাত্রা৷

224 pages, Hardcover

Published February 1, 2024

2 people are currently reading
64 people want to read

About the author

তানজীম রহমান

34 books760 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (11%)
4 stars
15 (57%)
3 stars
7 (26%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,114 reviews1,090 followers
March 26, 2024
এবছর সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে আর সবচেয়ে চেয়ে বেশি দাম দিয়ে (২২৪ পৃষ্ঠা, মুদ্রিত মূল্য ৬০০) কিনেছি এই বইটা। ফেসবুকে যতটুকু প্রচারণা চোখে পড়েছে তাতে প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই এই বইটার উপর ছিল তুমুল লোভ। আর থাকবে নাই বা কেন? চার চারজন পছন্দের লেখকের চারটা নভেলা একটা বইয়ে পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ব্যাপার। তো চলুন দেখি গল্পগুলো আমার কেমন লাগলো।

প্রথম গল্প 'আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী'- লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী। এই সংকলনের সেরা গল্পের তকমা আমি এইটাকেই দিব। মাত্র ৩৯ পৃষ্ঠার মধ্যে মেদহীন দুর্দান্ত এক গল্প উপহার দিয়েছেন লেখক। ইউনিক তো অবশ্যই সাথে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো উপাদান গল্পে আছে। এতো সুন্দর একটা প্লটে পরিপূর্ণ উপন্যাস না পাওয়ার একটা আফসোসও কিন্তু তৈরি হয়ছে। রেটিং ৪.৫/৫

২য় গল্প 'সিসিফাসের দুই হাত' - লেখক মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম। সংকলনের সবচেয়ে বড় আর দুর্বল লেখা এইটা। ব্যাক্তিগতভাবে সাইফূলের লেখা ভীষণ পছন্দের। সংকলনে তার নাম দেখে তাই আগ্রহ একটু বেশি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এটা আমাকে হতাশ করেছে। সিসিফাস নাম দেখেই আচ করা যায় গ্রিক মিথোলজির একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু সেই মিথোলজিকে সত্যি করতে এমন উদ্ভট সায়েন্স ফিকশন প্রথম দেখলাম। যে রহস্য বা সাসপেন্স তৈরি করা হয়েছে গল্পটিতে সেটার ও কোন ভূমিকা নেই। কেমন যেন জোর করে একপেশে ধরনের হয়ে গেছে লেখাটা। রেটিং ২.৫/৫

তৃতীয় গল্প 'ঘটনার ঘনঘটায়' - লেখক প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার। সায়েন্স ফিকশন আর রম্য যেখানে মিলেমিশে একাকার। তবে গল্পের ব্যাপ্তি অনেক ছোট হওয়ায় আসল মজাটা পুরোপুরি পাই নাই। রেটিং ৩/৫

চতুর্থ আর শেষ গল্প 'এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে' - লেখক তানজীম রহমান। গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন এটাকে কোনভাবেই বলা যায় না। দর্শনের কচকচানি পড়তে পড়তেই খেয়াল করলাম পৃষ্ঠা বাকি আর মাত্র ৬। তানজীমের লেখার ঘরনাটাই আলাদা। অনেকর ভীষণ পছন্দ। আমারও পছন্দ। কিন্তু এতো ছোট্ট একটা গল্পকে অন্য কোন গল্পসংকলনেই মানায়। রেটিং এটাও ৩/৫

সবকিছু মিলিয়ে গতানুগতিকের বাইরে তেমন কিছু মনে হয়নি আমার কাছে। আরেকটা ব্যাপার, প্রচ্ছদটাও আমার ভালো লাগেনি। প্রচ্ছদের ছবিটা সংকলনের কোন গল্পের সাথে প্রাসঙ্গিক এবং কেন এই ব্যাপারটা এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক উপলব্ধি করতে পারে নাই। আপনারা কেউ পারলে প্লিজ কমেন্টে জানাবেন।

২২শে মার্চ, ২০২৪।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
May 17, 2024
থ্রিলার-ফ্যান্টাসির পূর্ণ দৌড় ও হাঁটি হাঁটি পা-তে যে জঁরাটা মধ্যবিত্তের মতো আড়ালে রয়ে যায় তা হলো কল্পবিজ্ঞান। অথচ আপনি যখন দেশিয় সাহিত্য ঘেঁটে দেখা শুরু করবেন, তখন সেখানে সমৃদ্ধশালী বিস্তর সাই-ফাই গল্প ফাঁকফোকরে খুঁজে পাবেন লুকানো অবস্থায়। পাঠক সেগুলো পড়ে, ইচ্ছা হলে দুয়েকটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে তারপর অন্য কিছু নিয়ে মেতে থাকে নিজের মতো। এখানে পাঠকদের দোষারোপ করার কিচ্ছু নেই। কল্পবিজ্ঞান তারা পড়ে মূলত নিজের কল্পনাকে উদ্ভট সব চিন্তায় ভ্রমণ করানোর জন্য। বাস্তবতা এখানে মৃতপ্রায়। অস্তিত্ব নিয়ে এখানে আলাদা কোনো কাব্য রচনা করা হয় না। হুমায়ূন আহমেদ থেকে জাফর ইকবাল, তার পরবর্তীতে যেসব লেখক টুকটাক সাই-ফাই লেখা চালিয়ে গিয়েছেন, প্রথম দু’জনের মতো বাকিরা লাইমলাইটে খুব একটা আসতে পারেননি। পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে আনতে যাব না। সাহিত্যের দেশভাগ না থাকলে এখানে একটা সূক্ষ্ম গর্বময় রেখা ঠিকই টানা আছে। আমাদের সাহিত্য, তাদের সাহিত্য ভাগাভাগি। কারা কতটা উন্নত সেই আলাপ আসবে বহু পরে।

তা কীভাবে দেশিয় সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞানের আরেকটি উত্থিত ধ্বজা আজ স্বগর্বে উড়ে চলেছে সেই নিয়ে উক্ত লেখাখানা। আলোচনার বিষয়বস্তু হলো ‘প্রজেক্ট টেট্রা: মহাজাগতিক’। মহাজাগতিককে ইংরেজিতে কী বলে জানেন তো? কসমিক। বহির্বিশ্বে এ জঁরার কাজের অভাব নেই। অকল্পনীয় সব সাফল্যগাথা পূর্ণ করে রেখেছে তাদের ঝুলিকে। আমরাও যে এক্ষেত্রে খুব একটা পিছিয়ে রয়েছি তা বলা যাবে না। কিন্তু এখনও হেঁটে পাড়ি জমাতে হবে বহুদূর, যতদূর সেই হাওয়ার স্পর্শ আমাদের বয়ে নিয়ে যেতে পারে। সবে তো নতুন কিছুর সূচনা হচ্ছে ধীরে ধীরে। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্ট, ডিস্টোপিয়ান জঁরাগুলো কল্পবিজ্ঞানের সাথে মিশে উক্ত জঁরাকে করেছে পূর্বের চেয়ে দিগুণ শক্তিশালী। শুধুমাত্র হার্ডকোর সাই-ফাই, অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ কিংবা এলিয়েন হামলা এখন আর কল্পবিজ্ঞানের মূল সীমানায় ঘোরাঘুরি করে না। ওটা দখল করেছে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। কারণ বিশ্ব জানে, জানে বিশ্ব তথা আমাদের দেশিয় লেখকরাও যে, ভবিষ্যৎ ঠিক কীসের ওপর নির্ভর হতে চলেছে। রোবট ও AI... এ দুইয়ের সন্ধি আগামীতে সুবিধার পাশাপাশি যে কতটা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তার জন্য ‘ব্ল্যাক মিরর’ টিভি সিরিজ এবং ‘লাভ ডেথ + রোবটস’-এর মতো সিরিজ দেখলে অনেকটুকু আন্দাজ করা যায়।

কল্পবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা অল্পতে শেষ হওয়ার না। এর সাথে একবার যে জড়ায়─সে ফেঁসে যায়। অনেকটা না, পুরোপুরি কৃষ্ণগহ্বরে বিলীন হওয়ার মতোই। মহাজাগতিক প্রজেক্টটির উদ্যোক্তা ঋদ্ধ প্রকাশন এক অসাধ্য সাধন করার প্রয়াস করেছে। সেটা হলো চার জন কল্পবিজ্ঞানে পাকাপোক্ত লেখককে একসাথে বেঁধে-ধরে গল্প লিখিয়ে নিয়েছে একটি বইতে। তাঁরা ইতঃপূর্বে নিজ নিজ জায়গায় এমন কিছু দুর্দান্ত কাজ উপহার দিয়েছেন, যার কারণে প্রজেক্ট টেট্রায় ঠাঁই পেতে বাধ্য।

গতানুগতিক আলোচনায় যাব না। ওটা সবসময় করতে ইচ্ছা করে না। যে-কোনো একটা গল্প সিলেক্ট করে লেখাটা চালিয়ে যাওয়া সমীচিন মনে করি। প্রথমত উক্ত প্রজেক্টটি সফল একটি হার্ডকোর সাই-ফাই গল্পের কারণে। সেটি হলো: ‘সিসিফাসের দুই হাত’। লিখেছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ভদ্রলোক একজন দক্ষ কল্পবিজ্ঞান লেখক। যাহোক, এর পূর্বে উক্ত প্রজেক্ট নিয়ে যতগুলো প্রতিক্রিয়া অনলাইনে পড়েছি, সবগুলোর কমন ব্লেইমিং ছিল সিসিফাসের দুই হাত নিয়ে। সিসিফাস, গ্রিক মিথ আবার পৃথিবীর কোরের সাথে হাজার আলোকবর্ষ দূরের অর্ধ-কোরের কী সম্পর্ক; সেই নিয়ে লেখক পুরো কাহিনিটি লিখেছেন। এ গল্পের পুরো জার্নিটি ছিল অ্যাডভেঞ্চারে ঠাসা। একেবারে মূল পৃথিবী থেকে মহাকাশ অবধি। তার ওপর লেখক যেভাবে পুরো গল্পের ওয়ার্ল্ড বিল্ড করেছেন তার জন্য সাধুবাদ না জানানোটা বরং অপরাধের সামিল। গল্পের নায়ক ইন্দ্রিমের সাথে যে অনন্য যাত্রার সঙ্গী হতে পেরেছি, তা দ্রুত ভুলে যাওয়ার নয়। বিশেষ করে স্পেস স্টেশনের কাঠামোটি বেশ মনে ধরেছে। ওখানে চলমান কাজকর্মের বর্ণনা এবং মহাকাশে কীভাবে স্পাই কিংবা শত্রু শিপ থেকে বেঁচে ফিরতে হয়, তা নিয়ে যে মাইন্ড গেম বা ধারণা দিয়েছেন তা প্রশংসনীয় বটে। এবং এ গল্পের সবচেয়ে বড়ো প্লাস পয়েন্ট হলো সংকট। অনেকটা অ্যাপোক্যালিপ্ট ঘেঁষা, তবে পুরোপুরি নয়।

এতকিছুর মাঝে লেখক কেন সিসিফাস আর গ্রিক মিথকে ঢুকাতে গেলেন এ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতে দেখেছি। এখানে লেখকের বুদ্ধির ও ভাবনার তারিফ করতে হয়। সায়েন্টিফিক একটা গল্পকে কীভাবে দর্শনের সাথে মিক্স করে সমাপ্তি দিলেন, তা অনেকটা ভাবনায় ফেলে দেওয়ার মতোই। তবে এটা কল্পবিজ্ঞানে নতুন কিছু না। ধর্মের সাথে যেমন দর্শনের নিবিড় সম্পর্ক, তেমনই বিজ্ঞানের সাথেও। কিন্ত�� কল্পবিজ্ঞানে দর্শন বিষয়টা ঠিক খাপ খাওয়ার মতো বিষয় না। কারণ সেটা মিলেমিশে উদ্ভট এক লজিকে পরিণিত হবে তখন। এটাকে ফিক্স করতে জরুরি স্যাক্রিফাইসের মতো মহান বিষয়। আর লেখক ঠিক এখানেই নিজের শেষ খেলটুকু দেখিয়েছেন। কীভাবে সেটা আর বলছি না। নিজ দায়িত্বে জেনে নিতে পারলে বেশ ভালো হয়। ভাবনার অনেক কিছু রয়েছে এখানে। ব্রেক ডাউন করে বা নিজস্ব চিন্তা ব্যক্ত করে আগ্রহটাকে মিইয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। তবে শেষ অবধি, মহাজাগতিক মূল স্তম্ভ হিসেবে যে গল্পটি সর্বপ্রথমে থাকবে ওটা হলো─সিসিফাসের দুই হাত। ও হ্যাঁ, প্রজেক্টের সবচেয়ে বড়ো গল্প কিন্তু এটিই।

এরপরে আসা যাক ঠিক একই কাতারে পড়া কিন্তু কিছুটা এন্টি-ডিস্টোপিয়ান ঘরনায় লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা ‘আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী’। লেখকের এর পূর্বে দুয়েকটা নভেলা পড়ার সুযোগ আমার হয়েছে। তিনি খুব মেদহীন সাই-ফাই গল্প লিখতে পছন্দ করেন অত্যন্ত সহজ টার্ম মেনে। এখানে এর ব্যতিক্রম হয়নি। উক্ত কাহিনিতে তিনি সিমুলেশন জগৎ নিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কাজ করেছেন। যেখানে একজন ব্যক্তি দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম। অর্থাৎ ঘুমের সময়ে আপনাকে পাঠানো হবে এক সিমুলেশন জগতে, সেখানে রাতভর কাজ করে সকালে আপনাকে ফেরত পাঠাবে নিজের চেনাপরিচিত দুনিয়ায়। সেখানে ফিরেই আবার আপনি যে গতানুগতিক নয়টা-পাঁচটা বা তারও অধিক ডিউটি করেন, ওটা করতে পারবেন। কেবল প্যায়সা হি প্যায়সা। কিন্তু কথাই আছে লোভ মানুষকে অন্ধ করে। কতটা অন্ধ আসলে করে সেটা হয়তো বর্তমান দুনিয়ায় হলে নিজ বুদ্ধিতে যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু এমন এক জগতে আপনার বিচরণ, যেখানে আসল আর নকল কোনটা আপনি বুঝতেই পারেন না, তখন ফা ক ড আপ হওয়ার চান্স শত পার্সেন্ট। এরপর আপনি জানলেন যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা... তখন কোন রাস্তাটি বেছে নিবেন সেই নিয়ে উক্ত গল্পখানা। এক কথায় দারুণ। পড়বেন আর চিন্তায় খানিক ডুবে যাবেন। কোনো ধরা-বাঁধা নেই।

বইয়ের তৃতীয় গল্পটি নিয়ে আলোচনা করার সময় হয়েছে। লেখক প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার-এর এই প্রথম কোনো লেখা পড়া। পূর্বে ওনার বহু লেখা নিয়ে টুকটাক প্রতিক্রিয়া চোখে পড়লেও ‘শত্রু সন্ধান’ নামক একটি ওয়েস্টার্ন ঘরনার বই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল বটে। কারণ আমি নিজে একজন ওয়েস্টার্ন লাভার। কিন্তু কোনো এক কারণে সেই বইটি আর পড়া হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে শুনেছি একটা উপায় হয়। সেই উপায়টা বোধ হয় প্রজেক্ট টেট্রা বইটি নিয়ে এসেছে ‘ঘটনার ঘনঘটায়’ নামক ছোট্ট একখানা স্যাটায়ার সাই-ফাই ফ্যান্টাসির মাধ্যমে।

গল্পটা আমাদের চারপাশে জমে থাকা স্বাভাবিক গল্পের মতোই। যেমনটা আমাদের দৈনন্দিক জীবন শুরু হয় ঠিক তেমন। একটি বাসায়, কাজের বুয়াকে চড় দিয়ে তাকে মৃত্যুর দুয়ারে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য এক কাজ করে বসে গল্পের মূল প্রোটাগনিস্ট। তিনি একজন মহিলা। পারতপক্ষে গৃহিণী মহিলাদের ফিলোসফি বেশ উইয়ার্ড হয়ে থাকে। সাংসারিক ঝামেলা মিটিয়ে রাখতে যেখানে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেখানে উলটো এমন এক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলায় মহাবিপদে পড়ে প্রোটাগনিস্ট ছুটে যায় আরেক প্রোটাগনিস্টের কাছে। তিনিও একজন মহিলা। পেশায় বিজ্ঞানী। পাড়াপড়শি ডাকে তাকে ঝামেলা ভাবি নামে। মহাবিপদ এইবার মহামুশকিলে ফেলে তাদের। কীভাবে দুই মহিলা মিলে এই জটিল খু ন রহস্যের সমাধান করে সেটা জানতে হলে গল্পটি পড়া আবশ্যক। এখানে লেখক প্যারালাল ইউনিভার্সের কনসেপ্ট ধার করেছেন। বাকি কিছু আশা করি বলে দিতে হবে না। তবে পুরো গল্পটিতে আলাদা এক খোশমেজাজ বজায় ছিল। হার্ডকোর সাই-ফাই পড়তে পড়তে যদি আপনি হাঁপিয়ে ওঠেন তবে এই গল্পটি আপনাকে কিছুটা প্রশান্তি এনে দিবে। দুয়েকবার অজান্তে হয়তো হেসেও উঠতে পারেন। অসুবিধা নেই, লেখাটা হয়েছে তেমনই।

কল্পবিজ্ঞান গল্পগুলোতে আলাদাভাবে লজিক খুঁজতে গিয়ে লাভ নেই। কেবল অ্যানালাইসিস করা সম্ভব। লেখক দস্তিদারের গল্পটি তেমন। এটি লেখা হয়েছে শুধুমাত্র পাঠককে বিনোদন দানের উদ্দেশ্যে। এতএব, গল্পটি নিজ জায়গা থেকে সুন্দর।

এখন আসা যাক প্রজেক্টের শেষ গল্পে। সবচেয়ে ছোটো কিন্তু ওজনে ছাড়িয়ে গিয়েছে পূর্বের তিনটিকে। লিখেছেন তানজীম রহমান। গল্পের নাম: ‘এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে’। কেমন ছিল গল্পটি ব্যক্ত করার পূর্বে কিছু বিষয় খোলাসা করা জরুরি। উক্ত গল্পখানা সব টাইপের পাঠকের জন্য নয়। যারা বিশেষ করে কোনো কিছু নিয়ে খুব একটা ভাবতে পছন্দ করে না, দর্শনে যাদের আগ্রহ নেই, ধর্মীয় আলাপনের বাইরে কিছু ঘটলে চুলকানি হিসেবে দেখে─তাদের জন্য তো নয়-ই।

অতএব, গল্পটি চাইলে পড়তে পারেন কিন্তু নিজ মস্তিষ্কে কতটুকু ধারণ করতে পারবেন সেটা ভিন্ন কথা। যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে থাকে তবে ভালো। প্রথমত লেখককে নিয়ে আলাদা করে বলতে হয়। উনি বাস্তব ও অবাস্তব জীবনে একজন নিভৃতচারী। গুডরিডস ছাড়া ওনাকে আর কোথায় তেমন একটা খুঁজে পাবেন না, ফেসবুকে কেবল কিছু পোস্ট ব্যতীত। যাহোক, ওদিকে না যাই। কিন্তু দীর্ঘদিন লেখকের প্রোফাইল ঘেঁটে যা বুঝলাম তিনি ফিলোসফির প্রতি পুরোপুরি ঝুঁকে গিয়েছেন। ওনার শেষ উপন্যাস পড়েছিলাম ‘বিরূপকথা’। ওটা লিটারারি ফিকশনে লেখা। জাদুবাস্তবতার হালকা একটা ছাপ রয়েছে, আছে কিছুটা মিশ্র জঁরার ছোঁয়া। ওই বইটা প্রাথমিক কোনো রিডার শুরুর দিকে পড়লে নিশ্চয় গালাগাল দিয়ে বসবে লেখককে। মনে মনে বিরক্ত হবে বেশ। সত্যি বলতে লেখক এখানে অপারগ। কারণ লেখকদের কাজ সাহিত্য রচনা। এখন সেটাকে কতভাবে প্রকাশ করা সম্ভব ওটাই তাঁদের মাথায় একমাত্র চিন্তুা হিসেবে ঘুরপাক খায়। জাগতিক অন্য কোনোকিছু নিয়ে তাঁরা ভাবে না।

‘বিরূপকথা’ উপন্যাসে লেখক যে কাজটি করেছেন, ঠিক একই কাজ প্রজেক্টের এ ছোট্ট গল্পটির ক্ষেত্রে করেছেন। শুনেছি তাঁর ‘অক্টারিন: জগৎ সবুজ’ ফিলোসফিক্যাল টার্মে লেখা। তাই অনেকের সেটা ভালো লাগেনি এবং হতাশ হতে দেখেছি গুটি কয়েকজনকে। আমি যেহেতু পড়িনি, তাই কোনো মতামত জানাতে পারছি না। ’২৪ বইমেলায় লেখকের দুটো মৌলিকের পাশাপাশি যে অনুবাদটি প্রকাশ পেয়েছে সেটি হলো আলবেয়ার কাম্যুর লেখা ‘দ্য মিথ অফ সিসিফাস’। যেটা আবার পুরোপুরি অ্যাবসার্ডিটির মোড়কে মোড়ানো। লেখক প্রজেক্টের গল্পের ওই অস্তিত্ববাদের পাশাপাশি দর্শনের যত ডালপালা ছড়িয়ে থাকা সম্ভব, সবগুলোকে জড়ো করে এমন এক মহিরুহে রূপদান করতে চেয়েছেন তা অনবদ্য। বিশেষ করে ওনার ভাবনা অথবা আইডিয়া। এ-ই ‘আইডিয়া’-কে পুঁজি করে আস্ত একটা কল্পবিজ্ঞান লেখা কি আদৌ সম্ভব কি না, সেটা উক্ত গল্পটি না পড়লে জানাই হয়তো যেত না।

এখানে লেখক নানান বিষয় নিয়ে নিজস্ব মতামত রেখেছেন। টেনে এনেছেন সক্রেটিস, প্লেটো, লাও জে, অ্যালান মুর, নিচাহ্, কির্কেগার্ড এবং মার্কস অরেলিয়াস মতো-সহ অনেক মহান দার্শনিকদের। যাদের আইডিয়া কিংবা উক্তি নিয়ে তিনি নিজ ঢঙে এক লম্বা আলাপ চালিয়ে গিয়েছেন শেষ পর্যন্ত। যেসব পাঠক ধৈর্যহারা, দর্শনে আগ্রহ নেই... তাঁরা নির্দ্বিধায় বিরক্ত হবেন। তার ওপর উদ্ভট ধারণার উত্থাপন দেখে হেসে কুটিকুটি হয়ে যেতে পারেন, বলা যায় না। খুব ছোট্ট একটি উদাহরণ টেনে এনে বিষয়টিকে আরেকটু পোক্ত করার লোভ সামলাতে পারলাম না। লেখক মনুষ্য আর আইডিয়ার মধ্যে মতবেদ তৈরি করতে যে লেখাটি লিখেছেন:

‘রক্তমাংস বা যন্ত্রে অমরত্ব নেই। পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের মহাবিশ্বের একমাত্র সত্য। এবং মানুষের শরীর ও মগজ খুব বেশি পরিবর্তন সইতে পারে না। সময় তাকে খুবলে খায়। কিন্তু শক্তিশালী আইডিয়া বহমান যুগের সাথে সাথে দুর���বল হয় না, আরও শক্তিশালী হয়।’

লেখক এখানে মানুষকে অমর বানানোর পরিবর্তে বানিয়েছেন আইডিয়াকে। যেমনটা আমরা দেখি পূর্বের অনেক উক্তি বর্তমানেও ধারাবাহিকভাবে প্রচার হচ্ছে। অনেকে সেটা বেদবাক্য মেনে নিজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস করছে। তিনি কেবল আইডিয়া দিয়ে কোনো দার্শনিক উক্তি বোঝাতে চাননি, ধর্মীয় অনেক বিষয়কে সূক্ষ্ম খোঁচা কিংবা পরিহাসও যে করেননি তা বলা যাবে না। এর পিছনে বিরাট যুক্তিও অবশ্য রয়েছে। সেটা জানতে যেতে হবে গল্পের শেষ অবধি। এবং এর সমাপ্তি তৃপ্তিদায়ক। কারণ, যুক্তি─সবই ছিল মনঃপূত।

লেখক, লেখকদের নিয়েও বেশকিছু আলোচনা করেছেন। এই যেমন গল্পের একটা পর্যায়ে লিখেছেন: ‘সাহিত্যিকদের মধ্যে অমর হওয়ার ইচ্ছা সবথেকে প্রবল। আগের আইডিয়ার পিঠে তারা নতুন এক আইডিয়া বসিয়ে দেন’। তাছাড়া সাহিত্যের অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কম আলোচনা উঠে আসেনি ছোট্ট একখানা গল্পে। আদতে এটাকে ঠিক গল্প বলাটা যুক্তিযুক্ত হবে কি না─এ নিয়ে কিছুটা সন্ধিহান। শুরুটা হয়েছে প্রাবন্ধিক স্টাইলে... যদিও গল্পটা পড়তে গিয়ে খেয়াল হবে পাঠক একের পর এক বিষয়ের জ্ঞানালাপ আর উত্থান ও পতনের দিকের সাথে পরিচয় হচ্ছে। বিষয়টা ফিলোসফিক্যাল জার্নির মতো। যে উপভোগ করার, সে ঠিকই করবে। এড়িয়ে যে যেতে চাইবে, সে যাবেই, কোনোভাবে আটকে রাখা যাবে না। দুনিয়াটা এমন। সব বিষয়ে সবার আগ্রহ থাকবে না খুব স্বাভাবিক। আর জানার চিন্তা তো বহুদূর। লাভ ব্যতীত তারা অন্য কিছুতে সময় ইনভেস্ট করা একদমই পছন্দ করে না।

আরও অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আলাপটা ইতোমধ্যে দীর্ঘায়িত হয়েছে। বহুদিন এমন লম্বা আলাপ করা হয় না। আজ হলো। তার ক্রেডিট প্রাপ্র্য অবশ্যই ঋদ্ধ প্রকাশন। কৃতজ্ঞতা লেখকদের। ধন্যবাদ বাদবাদি সবাইকে। যে বা যিনি সময় খরচ করে লেখাটি পড়েছেন। সবশেষে এমন যাত্রা চলমান থাকুক। আগামীতে আরও ভালো ভালো লেখা আসুক প্রজেক্ট টেট্রার হাত ধরে। তবে কাজগুলো যেমন সময়সাপেক্ষ... তার ওপর কল্পবিজ্ঞানের পাঠক এখনও পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি। হলে একটা সময় প্রজেক্ট অবশ্যই হিট করবে বলে বিশ্বাস।

প্রজেক্ট টেট্রা মহাজাগতিক | ঋদ্ধ প্রকাশন
Profile Image for musarboijatra  .
288 reviews362 followers
March 12, 2024
২০২৪ বইমেলায় বেশ কয়েকটা ভালো সাইফাই সংকলন হাতে আসার পর, আত্মপ্রকাশ করলো মহাজাগতিক
কেনার দরকার আছে? চলুন দেখি।

'মহাজাগতিক' সংকলনে ৪ জন লেখকের ৪টা গল্প/উপন্যাসিকা আছে। ঋদ্ধ প্রকাশনা এই উদ্যোগের নাম রেখেছে 'প্রজেক্ট টেট্রা'। ৪টা মিলে আকার দাঁড়িয়েছে ২২৫ পৃষ্ঠা। গল্পগুলোর ব্যাপ্তি ভালোই বড়, বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই।

যে ৪জন লেখককে বেছে নিয়েছে ঋদ্ধ, তাঁরাও খুব ভিন্নধর্মী। এবং চারজনে নিজেদের স্বকীয় স্বাদ নিয়ে এসেছেন এক মলাটে।
তানজীম রহমান, বেশিরভাগ লেখা হরর আর সায়েন্স ফিকশন ধাঁচের হলেও লেখককে জঁরার ট্যাগে বাঁধা যায় না। ঝুলিতে আছে সমাজ বাস্তবতা নিয়ে 'বিরূপকথা'-র মতো ট্রিপি উপন্যাস লেখার অর্জন। তাঁর 'মহাশূণ্যতায়' উপন্যাস সায়েন্স ফিকশন প্লটে শুরু হলেও, হরর আর মিথলজি ছুঁয়ে মনস্তাত্ত্বিক দিক-টাই প্রধান হয়েছে।
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী, ভ্রম সমীকরণ নামক সাইফাই উপন্যাসে আত্মপ্রকাশ করে একে একে দেখিয়ে যাচ্ছেন লেখকের কল্পনার দৌড় কতদূর হতে পারে।
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার, ওয়েস্টার্ন-থ্রিলার-শিশুতোষ-হরর সবেতে বিচরণ করে গেছেন। প্রান্তদা'র উপন্যাসের চেয়ে গল্প বেশি পড়া হয়েছে আমার।
আর ৪ জনের মাঝে সাইফূল ইসলাম-এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় এই বইয়ে, যিনি সাইফাই লেখক হিসেবে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন এর মাঝে।

লেখকেরা নিজেদের কোন স্বকীয়তা-টা নিয়ে এলেন মহাজাগতিক-এ?
এই বৈচিত্র পড়তে কেমন লাগলো?

১।আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী ~ মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী : কল্পনার দৌড়, কতদূর?!

ভবিষ্যতের টাইমলাইনে তৈরী হয়েছে আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী। নতুন আবিষ্কৃত প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ ঘুমের মাঝেও কাজ করতে পারে, তাই কর্মঘন্টা বেড়েছে মানুষের। ঘুমের মাঝে সিমুলেশনের দুনিয়ায় অফিস করবে মানুষ, আর সে কাজের ফল আসবে সত্যিকারের দুনিয়ায়। কিন্তু যাকে সিমুলেশন ভাবছেন, সেটা কি সত্যিই কাল্পনিক? নাকি ঘুমিয়ে যে জগতে ঢুকছেন, সেটাই আসল দুনিয়া, আর ঘুমটাই আপনার 'জেগে ওঠা'?
এখান থেকেই, সাইফাই ওয়ার্ল্ড বিল্ডিঙের সাথে এন্টি-অদরিটোরিয়ান ডিস্টোপিয়ান ফিকশন গড়ে তুলেছেন লেখক। এবং লেখক যেমন দুর্ধর্ষ সব আইডিয়ার অবতরণ করেন, এই গল্পে তেমন আইডিয়ার রোলারকোস্টার রাইড করিয়েছেন পাঠককে। যতক্ষণে একটা চমক হজম করছেন, লেখকের কল্পনা আপনাকে অবাক করবে ততোধিক।

২। সিসিফাসের দুই হাত ~ সাইফূল ইসলাম: হার্ড সাই-ফাই, ইন্টার-গ্যালাক্টিক এক্সপিডিশন।

বইয়ের সবথেকে বড় পরিসরের গল্পটা লিখেছেন সাইফূল ইসলাম, তাঁর স্টাইলে। লম্বা গল্প, সরলরৈখিক স্টোরিটেলিং, ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো।
মহাকাশের প্রান্তসীমায় দেখা দিয়েছে নতুন গ্রহ, একই সাথে ভূ-কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে গন্ডগোল। দুটা কি কোনোভাবে সম্পৃক্ত? সময়ের আবর্তনে বাংলাদেশ এখন মহাকাশ গবেষণায় প্রথম সারির দেশগুলোর একটা, মহাকাশে সামরিক শক্তি বিস্তারের আলাদা শাখা-ই রয়েছে তাঁদের, 'স্পেসফোর্স'। এই বাহিনীর এক কমান্ডার, নিজের মৃত্যু সাজিয়ে রওনা দেন মহাজাগতিক অনুসন্ধানে, আর বুঝতে পারেন তাঁর ওপর নজর রাখছে অন্যান্য দেশ-ও। সায়েন্স ফিকশনের সাথে গ্রিক মিথ আর গ্রিক দর্শনের একটা যোগ টানার চেষ্টা করেছেন লেখক, নাম দেখে যেটা অনুমান করতে পারবেন।
যেসব পাঠক সরল সায়েন্স ফিকশন গল্প পছন্দ করে, এবং খুঁটিনাটি গায়ে নেন না, তাদের পড়তে ভালোই লাগবে সাইফূল ইসলামের এই লেখাটা। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের ঘটনা রিয়েলটাইম দেখা কীভাবে সম্ভব (আলোর চেয়ে দ্রুত), অথবা ভিনদেশি গুপ্তচরের সূতো গুরুত্বের সাথে দেখিয়ে পরে কেন ভুলে যাওয়া হলো, এসব যেমন আমি উপেক্ষা করে গেছি গল্পকে উপভোগ করার জন্য। তবে লেখকের দৃষ্টি উপেক্ষা করতে পারিনি—যে কয়টা নারী চরিত্র এসেছিল, প্রত্যেকটাকে অবজেক্টিফাই করতে ছাড়েনি লেখকের আলাদা-আলাদা পুরুষ চরিত্রের নজর। একজন বাদ পড়েছিল, যাকে কিনা "মেয়ে বলে বুঝতেই পারেনি" লেখকের চরিত্র।

৩। ঘটনার ঘনঘটায় ~ প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার: রিক এন্ড মর্টি—সব সম্ভব!
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের একটা উপন্যাসই পড়েছিলাম আগে, মাস্টার প্ল্যান। লেখকের একোয়টা সিগনেচার এলিমেন্ট দেখেছিলাম সেখানে, ওনার গল্পের সব চরিত্র কিঞ্চিৎ ননসেন্স। দুনিয়ার সবাই। এই গল্পে সেটা ফিরে এসেছে। এবং গল্পে দারুণ রস সঞ্চার করেছে সেটা। না পড়লে বুঝতে পারবেন না, ব্যাপারটা কীভাবে কাজ করেছে গল্পে।
গল্পের কথক এবং মূল চরিত্র, একটা দুর্ঘটনায় ফেঁসে যান। সাহায্য চাইতে ছোটেন প্রতিবেশী 'ঝামেলা ভাবী'র কাছে। ঝামেলা ভাবী আবার পুরোদস্তুর বিজ্ঞানী, ঘরের মধ্যে এমন সব গবেষণা করেন যা পৃথিবীতে আর কেউ করছে না এই মুহূর্তে। আর সব ঝামেলার সমাধান, এবং অভিনব সব প্রযুক্তি তাঁর হাতের মুঠোয় (এই জন্যেই রিক এন্ড মর্টি'র কথা বললাম শ���রুতে)। তো, ঝামেলা ভাবী, কথককে পাঠাতে চান প্যারালাল ইউনিভার্সে। যেখান থেকে কিডন্যাপ করতে হবে একজনকে।
প্যারালাল ইউনিভার্সে পা দেওয়া থেকে শুরু করে সব ব্যাপার এত ডালভাত করে দেখানো হয়েছে (লেখকের নিজস্ব স্টাইলে), পড়তে পড়তে আপনি বুঝে যাবেন, আর সব সায়েন্স ফিকশনের মতো, প্রতিবন্ধকতার বৈজ্ঞানিক সমাধান মোটেও এই গল্পের মূল বিষয় না। বরং সায়েন্স ফিকশনের মোড়কে লেখক যে গল্প সাজিয়েছেন তা কিঞ্চিৎ রম্য, সহজে উপভোগ্য, আর 'ঘনঘটায়' ভরা।
গল্পের পাশাপাশি একটা সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড তৈরী করেছেন লেখক। গল্পের ছোট পরিসর হওয়া সত্ত্বেও বেশ সার্থকভাবেই করতে পেরেছেন। কিছুটা ভবিষ্যৎধর্মী ঢাকা শহর, যেখানে যানব্যবস্থা উড়াল-নির্ভর। রোবটদের আচরণ, অংশগ্রহণ মানবিক। তাদের অধিকারবোধ-ও প্রবল, এমনকি রোবটের অধিকার ক্ষুন্ন হলে বিরোধী দল আন্দোলন শুরু করতে পারে! সমাজ কাঠামো-ও অনেক সাম্যবাদী, অন্তত সরকারপ্রধানের এইটুকু পরোয়া আছে, তৎপর না থাকলে গদি থাকবে না।
কিছু জায়গায় ভাষা এবং সংলাপের ব্যবহার খাপছাড়া লেগেছে। এছাড়া, একবার মানিয়ে যাবার পর বেশ মজা-ই লেগেছে পুরো গল্পটা।

৪। এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে আসছে ~ তানজীম রহমান: When author becomes Prophet.

ভবিষ্যত থেকে একটা বার্তা পৌঁছেছে। প্রেরক জানেন না কোন সময়ে গিয়ে পৌঁছুবে সেটা, কার হাতে পড়বে। গ্রহীতা যদি প্রেরক নিজেই হয়, তো ভাল। নয়তো গ্রহীতার প্রতি তার অনুরোধ, বার্তাটুকু সংরক্ষণ করা হোক পরবর্তী সময়ের মানুষের জন্য। কাগজে বা ডিজিটালি না, পাথরে খোদাই করে রাখলে সবথেকে ভাল। কারণ এই বার্তায় আছে মানব সভ্যতার পরিণতির উপাখ্যান, এবং ক্রমে সেই ভবিষ্যতের দিকে উৎকর্ষের বর্ণনা।


ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে গল্প ভাবতে গেলে আমাদের সাধারণ চিন্তা থাকে, এখন যা আছে, সেগুলোই, আরেকটু উন্নত। অথচ সময়ের সাথে উৎকর্ষের পেছনের সবথেকে দরকারি প্রশ্নটা করতে ভুলে যাই : "কেন?" কেন নারীরা ভোট দিতে পারবেন না? ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম কেন গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে? এমন সব প্রশ্নগুলো আমাদের চেনা পৃথিবীকে পালটে দিয়েছে, পালটে যাচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা, তার সাথে প্রযুক্তি-ও। একটা আপাত (রিলেটিভ) অতীতে বসে, ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যখন দেখছেন আপনি, তখন দুই সময়কালের যোগসূত্র-টা বাস্তব হওয়া দরকারি, যে সুতো ধরে চেনা পৃথিবী পালটে গেছে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে। (যদি আপনার চেনা পৃথিবীর/ইউনিভার্সের প্রেক্ষাপটেই গল্পটা হয় আরকি)। এবং সেই যোগসূত্র নৃতাত্ত্বিক, দার্শনিক, সমাজ বৈজ্ঞানিক, রাজনৈতিক।

তানজীম রহমান, এই মূলসূত্রটা নিয়ে কাজ করেছেন এই গল্পে। ভবিষ্যৎ থেকে আসা সেই বার্তায় আমরা দেখতে পাবো কেমন করে আমাদের চেনাজানা সমাজ এগিয়ে গেছে একটা যুগান্তকারী আইডিয়াকে ঘিরে। এবং সে আইডিয়া উৎসারিত হয়েছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সব দার্শনিকদের চিন্তার ফলশ্রুতিতে।
'এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে আসছে' মূলত দর্শনের সায়েন্স ফিকশন। মানুষের ইতিহাসে কী কী গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা জন্ম নিয়েছে, এবং সেসব ভাবনার উত্তরসূরী কী হতে পারে, মানব সমাজ কীভাবে পালটে যেতে পারে, তা-ই ভাবতে চেষ্টা করেছেন লেখক। এমন একটা গল্প, যেটা সাইফাই পাঠকদের চেয়ে ভালো লাগবে তাদের যারা দর্শন পছন্দ করেন।

গল্পলেখক তানজীম রহমান, ঔপন্যাসিক তানজীম রহমানের থেকে যে জায়গায় ভিন্ন—গল্পে তিনি নিজের চিন্তা নিয়ে হাত ছেড়ে খেলতে পারেন যেটা উপন্যাসের ক্ষেত্রে কিছুটা কম চোখে পড়েছে। লেখকের ভাষাশৈলীর সাথে এই গল্পে অলঙ্কার যোগ করেছে তাঁর চিন্তার উপস্থাপন। এই বইয়ের সবথেকে স্বতন্ত্র কাজ, এই গল্পটা।
Profile Image for Wasim Mahmud.
357 reviews29 followers
October 27, 2024
ঋদ্ধ প্রকাশের 'প্রজেক্ট টেট্রা'র প্রথমটি পড়া হল। এই প্রকল্পের এরকম নাম দেখেই বুঝা যায় প্রতিবার চারজন লেখককে নিয়ে কোন নির্দিষ্ট ধারার গল্প কিংবা উপন্যাসিকা নিয়ে কাজ করবে ঋদ্ধ প্রকাশ।

প্রথম বারের আয়োজন বিজ্ঞান কল্পগল্প নিয়ে। প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার ছাড়া বাকি তিনজনের সায়েন্স ফিকশন রচনার সাথে আমার পূর্বপরিচয় আছে। তাই 'মহাজাগতিক'এর ব্যাপারে বরাবরের মতোই আগ্রহী ছিলাম।

প্রথমেই একটু সমালোচনা করি। ঋদ্ধ প্রকাশ তাদের প্রজেক্ট টেট্রা নিয়ে কিছু বলতে পারতো এ ব‌ইয়ে। অনলাইনে হয়তো তাঁরা বলেছেন তবে একটা ভূমিকা থাকলে ভালো হতো।

১) আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী।

লেখকের 'শূন্যবিন্দু' ও 'ভ্রম সমীকরণ' আগে পড়া থাকায়, সিমুলেশন এবং সময় পরিভ্রমণের এক যাত্রায় নেমে পড়তে হবে তা মনে হচ্ছিলো। বাপ্পী এ ধরনের লিখালিখি ভালোই করেন। মানুষের মস্তিষ্ক যে ঘুমের সময়‌ও সচল থাকে তা শিক্ষিত মানুষ মাত্র‌ই জানেন। এই ঘুমের মধ্যে কেউ যদি সিমুলেশনের এক জগতে চাকরি করতে যান তাহলে কেমন হবে? হারুতো নামের জাপানি যুবকের কোন জগতটি সত্য? জাগ্রত না ঘুমন্ত? শেষের চমকটা খানিকটা বুঝতে পেরেছিলাম তবে সব মিলিয়ে বাপ্পীর সাবলীল লেখনি গল্পে পাঠককে গ্রিপ করে রাখার ক্ষমতা রাখে।

২) সিসিফাসের দুই হাত - মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম।

হার্ডকোর সায়েন্স ফিকশনে লেখকের হাত শুধু ভালো নয় অন্যতম সেরা। তাঁর 'লোলার জগৎ' ও 'পার্পেচুয়াল আতঙ্ক' পড়ে এরকম‌ই মনে হয়েছে আমার। পৃথিবীর কোরের ঘূর্ণন অস্বাভাবিক রূপ নেয়ায় ক্যাপ্টেন ইদ্রিম বেরিয়ে পড়েন এক অগ্যস্ত যাত্রায়। ইগোর-টলস্কি সীমার মাঝে নতুন এক গ্রহের আগমন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। এই নভেলায় সাইফূল বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-তথ্য যেভাবে সংযোজিত করেছেন এবং সেই সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের গ্রাফিক যে বর্ণনা দিয়েছেন, যেকোন হার্ডকোর সাই-ফাই পাঠকের খুব ভালো লাগতে পারে। মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম এ জনরায় রাজত্ব শুরু করে দিয়েছেন।

৩) ঘটনার ঘনঘটায় - প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার

প্রান্তের সায়েন্স ফিকশন গল্পটি এ প্রকল্পে দারুণ কমিক রিলিফ দিয়েছে। বিজ্ঞান কল্পগল্পের সাথে রম্যরচনার মিথষ্ক্রিয়া আসলেই অদ্ভুত এক ক্যাওটিক উপায়ে করতে পেরেছেন লেখক। লিখালিখির জগতে এভাবে এগুতে থাকলে তাঁর ভালো ফিউচার দেখি আমি।

৪) এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে - তানজীম রহমান

'মহাশূন্যতায়' পড়েছি আগে, তাই যা ভেবেছিলাম সেদিকেই গেছেন তানজীম। সায়েন্স ফিকশনের মোড়কে ফিলসফির এক সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল জার্নিতে পাঠক চলে যাবেন এ গল্পের মাধ্যমে। তানজীম রহমানের কল্পনাশক্তির প্রশংসা প্রতিবার‌ই করতে হয়। গল্পটির শুরু হয় ভবিষ্যৎ থেকে আসা একজনের ভয়ংকর বার্তা থেকে। সবচেয়ে ইন্ট্যারেস্টিং বিষয় হলো এ গল্পের সাথে প্রায় সব পাঠক নিজেকে রিলেট করতে পারেন, অথবা নিজের কোন অংশের সাথে।

প্রজেক্ট টেট্রার আগামী ইনস্টলমেন্টের অপেক্ষায় র‌ইলাম।

ব‌ই রিভিউ

নাম : মহাজাগতিক
লেখক : মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী, মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম, প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার ও তানজীম রহমান
প্রথম প্রকাশ : ব‌ইমেলা ২০২৪
প্রকাশক : ঋদ্ধ প্রকাশ
প্রুফরিডিং : সালেহ আহমেদ মুবিন, কৌশিক দেবনাথ
প্রচ্ছদ : মুগ্ধ রায়
জনরা : সায়েন্স ফিকশন
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews220 followers
April 9, 2024
বই: মহাজাগতিক
লেখক: তানজীম রহমান, মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম, মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী, প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার
জনরা: সায়েন্স ফিকশন
প্রচ্ছদ: মুগ্ধ রায়
প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
মুদ্রিত মূল্য: ৬০০/-

ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভাবনা, আশা-আশংকা আছে। ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হবে এই নিয়ে তো জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই আমাদের। স্কুলে থাকতে সায়েন্স ফিকশনের প্রতি ব্যাপক ঝোঁক ছিল৷ একসময় তো নেশার মতো হয়ে গেছিল। জেএসসির শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে আম্মুর সাথে নিউমার্কেটে (রাজশাহী) যেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশন কিনে এনেছিলাম। ক্লাস ৬-১০ আমার জন্য সায়েন্স ফিকশন পড়ার গোল্ডেন টাইম (প্রায় ৪০+ সায়েন্স ফিকশন পড়েছি) বলতে গেলে। তারপর ধীরে ধীরে আগ্রহ কমতে থাকে। আসলে প্রায় সায়েন্স ফিকশনে দেখা যেতো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে বা যাচ্ছে নয়তো মানুষ প্রযুক্তি বা রোবটদের হাতের পুতুল। সেইম কনসেপ্ট আর কতো ভালো লাগে? তবে অল্পস্বল্প সাইফাই প্রায়ই পড়ি। ২০২৪ বইমেলায় সাইফাইয়ের "প্রজেক্ট টেট্রা" দেখে "মহাজাগতিক" নিয়ে এক্সপেকটেশন ��নেক বেড়ে গেছিল।

১. আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী— মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী

হারুতো তাকাশি, জাপানের কেন্দ্রীয় শহরে থাকে। শৈশবে ইচ্ছে ছিল ফুড ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু হয়ে গেছে ট্রাবলশুটিং বিশেষজ্ঞ। নিজের পেশা নিয়ে কোনো অভিযোগ তার কখনোই ছিল না কিন্তু শৈশবের ইচ্ছেটা মাঝেমধ্যে মনে হানা দেয়। ধরাবাঁধা জীবন কোনোভাবে চলে যাচ্ছিল হঠাৎ ডিডব্লিউ প্রোজেক্টে জব পেয়ে যায়। ড্রিম ওয়ার্কপ্লেসে মানুষ তখনই যুক্ত হতে পারে যখন সে ঘুমায়। সিমুলেটেড দুনিয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কাজ করে কৃত্রিম পরিচয়ে। হারুতো দিনে কাজ করে নিজ দেশ জাপানে আর রাতে ডিডব্লিউতে কাজ করে বাংলাদেশে কিন্তু তার দেহ থাকে জাপানেই। ঘুমের মধ্যে সে চলে যায় বাংলাদেশে নতুন এক দেহে! কিন্তু হারুতোর মনে হতে থাকে এই সিমুলেটেড দুনিয়ার অস্তিত্ব কি সত্যিই আছে? দেহটা কোনো অ্যাভাটার নাকি জীবিত কারো আদলে তৈরি!

সিমুলেটেড দুনিয়া নিয়ে লেখক দারুণ এক গল্প বলেছেন। একজনের দুটো পরিচয় দু'দুনিয়ায়। বাস্তব ও সিমুলেটেড দুনিয়ার পার্থক্য করার জন্য সিমুলেটেড দুনিয়ার ভিন্ন এক দেহ পায়। এই অংশে "অ্যাভাটার" মুভির কথা মনে পড়ে গেছিল। কিন্তু মুভি ও বইয়ের প্লট ভিন্ন। একের পর এক রহস্য, শেষের টুইস্টে চমকে গেছি! মানুষের পরিচয় আসলে কীসে বলুন তো? কেউ যদি তার স্মৃতি ভুলে যায় তো পরিচয়ও কি হারিয়ে যায় না? স্মৃতি, সিমুলেশন, ভবিষ্যৎ পৃথিবী, শ্রেনিবিভাজন, অস্তিত্বের কনসেপ্টে লেখা এই গল্পটা আমার কাছে বইয়ের সেরা গল্প। তবে শেষ অংশতে কিছুটা তারাহুরোর ছাপ আছে মনে হয়েছে।

২. সিসিফাসের দুই হাত— মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম

পৃথিবীর দিকে ঘনিয়ে আসছে ঘোর বিপদ যার প্রথম আঘাত বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দেশের বিশিষ্ট ক্ষমতাধর ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি দল যারা গোপন একটা মিশন চালাবে। মিশনের দায়িত্ব পড়ে কমান্ডার ইদ্রিমের কাঁধে। পৃথিবীবাসীর চোখের আড়াল করতে সাজানো হয় মিথ্যে মৃত্যুর নাটক! কেন এতো গোপনীয়তা? মিশনের জন্য কমান্ডার ইদ্রিম রওনা দেয় ইগোর-টলোস্কি সীমা থেকে বের হওয়া এক রহস্যময় গ্রহে। কিন্তু বদলে যেতে থাকে ইদ্রিমসহ পৃথিবীবাসীর ভবিষ্যৎ!!!

শুরু যেভাবে হয়েছিল ভেবেছিলাম এডভেঞ্চার, একশন, থ্রিল, মিস্ট্রি সবের স্বাদ পাবো কিন্তু...!!! হতাশ হয়েছি। সমুদ্রের তলে গোপন বেইজে পৌঁছানো অংশটা সবচেয়ে বেশি এনজয় করেছি। একের পর এক ট্যান্সপোর্ট বদলানো আর কেরামতি, সেরা। গ্রহের রহস্য অন্তত মাথাঘোরানোর মতো হবে ভেবেছিলাম কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাথার আশপাশ দিয়ে চলে গেছে। সায়েন্স ফিকশনের সাথে গ্রিক মিথলজি নিয়ে জটিল এক গল্প। বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প কিন্তু মূল গল্প জাস্ট শেষের কয়েক পেইজ মনে হয়েছে। সায়েন্সের বিভিন্ন থিওরি, মেজারমেন্ট, ক্যালকুলেশনের আলোচনা ঢালাওভাবে করা হয়েছে যে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। গ্রহে ইদ্রিমকে পাঠানোর লজিকও দূর্বল। আর এতো বড় বিপদ কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়া বাকিসব দেশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে! সায়েন্স ফিকশন থেকে আবার সাইকোলজির মধ্যে চলে গেছে ইদ্রিমের ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে নিয়ে এসে।

৩. ঘটনার ঘনঘটায়— প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার

এক থাপ্পড়ে অক্কা! এমনটাই হয়েছে রহিমার মার সাথে। বিপদ থেকে বাঁচতে বিল্ডিংয়ের ভাবির কাছে সাহায্যের জন্য দৌড় দেয় বিলুর মা। ভাবি অদ্ভুত গবেষণা দিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পড়েন বলে "ঝামেলা ভাবি" বলেই এখন পরিচিতি পেয়ে গেছেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় খুন হয়ে গেছে এখন উপায়? ঝামেলা ভাবির মতে অন্য দুনিয়া অর্থাৎ প্যারালাল ইউনিভার্সে যেয়ে কিডন্যাপ করে আনতে হবে সে দুনিয়ার রহিমার মাকে কিন্তু হতোই সহজ নাকি? অগত্যা তাই করার অভিযানে নামতে হয়...

মাথা খাটানো সায়েন্স ফিকশন না বরং হাসতে হাসতে পড়তে হবে এমন এক গল্প। গল্পটা মুহম্মদ জাফর ইকবালের "বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার", "বিজ্ঞানী অনিল লুম্বা", "সায়রা সায়েন্টিস্ট" উপন্যাসগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। মজার মজার আবিষ্কার সাথে আজব সব কর্মকান্ড। বিলুর মার জবানিতে পাঠক জানতে পারবে অন্য জগতের ঢাকায় যেয়ে কীভাবে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। সাবলীল লেখনশৈলীর মজার সাইফাই মোটামুটি ভালোই লেগেছে।

৪. এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে— তানজীম রহমান

আজকের এই পৃথিবীর আছে বহু অতীত, রহস্য, সিদ্ধান্ত, বিশ্বাস, চাওয়া। অতীতের পৃথিবীরও ছিল, ভবিষ্যৎ পৃথিবীরও থাকবে। আর এইসব চাওয়া-পাওয়ার হিসাবের ওপরেই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। ভবিষ্যৎ থেকে পাঠানো হচ্ছে এমনিই কিছু তথ্য। কে পাঠাচ্ছে? কেন পাঠাচ্ছে?

বাকি তিন গল্পের তুলনায় আকারে ছোট হলেও ভাবার অনেক কিছু রয়েছে। ফিলসফির সাথে সায়েন্স ফিকশন তবে ফিলসফির অংশই বেশি। একবারে যদি পড়ে যান বা ফিলসফি ভালো না লাগে তো গল্পটা আপনার নাও ভালো লাগতে পারে। এমন বেশ কয়েকবার হয়েছে যে একবার পড়ে বুঝি নাই লেখক কি বুঝাতে চাচ্ছেন। শেষের টুইস্টটা ভালো লেগেছে। ব্যক্তিগতভাবে ফিলসফি আমার পছন্দের মধ্যে পড়ে না তাই ওভারঅল তেমন ভালো লাগেনি।

বইয়ের প্রুফ রিডিং যথেষ্ট ভালো হয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটা বানান ভুল শুধু চোখে পড়েছে। প্রোডাকশনও বেশ ভালো। ইলাস্ট্রেশনগুলো সুন্দর কিন্তু প্রচ্ছদ দেখে কনফিউজড যে কোন গল্পের আদলে বানানো হয়েছে।
Profile Image for অন্বয় আকিব.
Author 1 book140 followers
March 17, 2024
আমার জীবনে প্রথম পড়া সাইন্স ফিকশন এইচ জি ওয়েলসের বিখ্যাত বই দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস এর সেবা প্রকাশনীর রূপান্তর মঙ্গল থেকে অমঙ্গল। তখন ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ি সম্ভবত। ওই বয়সে এই ধরনের গল্প ভালো না লেগে উপায় নেই। সেই যে সাইন্স ফিকশনের প্রেমে পড়লাম, বাসায় থাকা অদৃশ্য মানব, দ্য টাইম মেশিন সহ যত সাই ফাই ছিল সেবা প্রকাশনীর সব পড়ে ফেলেছিলাম। তারপর মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বইগুলো পড়ে ভালো লাগত। আস্তে-ধীরে আর্থার সি ক্লার্ক, আইজ্যাক আসিমভ পড়লাম। কিন্তু তারপর হঠাৎ করেই সাইফাই পড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের দেশে সাই ফাই ততটা জনপ্রিয় না হওয়া ভালো বই কম এসেছে। তাই পড়ার সুযোগও হয়েছে কম। তবে ঋদ্ধ প্রকাশের হাত ধরে এবার 'মহাজাগতিক' বইটা সাইফাই জনরায় বেশ ভালো সংযোজন হয়েছে।

মহাজাগতিকে গল্প রয়েছে চারখানা। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সম্ভবত আগেও বেশ কিছু সাইফাই লিখেছেন। অবাক হয়েছি তানজিম রহমান ভাইয়ের লেখা দেখে। উনার লেখার হাত দুর্দান্ত, এই বইয়ের সেরা গল্পটাও উনার হাত ধরে এসেছে। আর দুটো গল্প লিখেছেন মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী এবং প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার।

'এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে' মহাজাগতিক বইয়ের শেষ গল্প, পৃষ্ঠা অনুযায়ী সবচেয়ে ছোট গল্পও বটে। তবে বইয়ের সবচেয়ে দুর্দান্ত গল্প এটা। ওই যে কথায় বলে না ছোট মরিচের ঝাল বেশি? প্রিয় গল্প তাই আলোচনার প্রথমে এটাকে রাখলাম। সাইফাই পড়তে গেলে কঠিন কঠিন সব শব্দের জন্যে কিছু কিছু লাইন দুই চারবার পড়ে বুঝতে হয়। এই গল্পে বেশ কিছু লাইন বার বার পড়তে হবে। কঠিন শব্দের কারণে নয়, বিশেষ কিছু কথাবার্তা নিয়ে ভাবনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্যে। যতটা সাইফাই, ততটাই ফিলোসফিক্যাল গল্প 'এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে।' তানজিম ভাইয়ের কাছে আবেদন রইলো নিয়মিত এমন গল্প লেখার জন্য। মাত্র ২৭ পৃষ্ঠার গল্প, সুতরাং গল্প নিয়ে আলোচনা করে পড়ার আনন্দ কমিয়ে দিতে চাচ্ছি না।

'আমাদের শেষটা স্বপ্ন��ুরী' মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর লেখা অনবদ্য গল্প। বেশ ভালো লেগেছে। স্বল্প পরিসরে এমন চমৎকার সাইফাই অধিকাংশ মানুষের ভালো লাগবে৷ জেগে থেকে আর কতই বা কাজ করা যায়, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জটিল কিছু কাজ করে ফেলতে পারলে তো জীবন যুদ্ধে এগিয়ে থাকা যায় তাই না? ঘুমিয়ে কাজ করার জন্য আবার বেতনও পাওয়া যাচ্ছে। শুনে মনে হতে পারে এ তো স্বপ্ন! কিন্তু এত আনন্দ তো জীবনে থাকার কথা না। ভেজাল কোথাও না কোথাও লুকিয়ে থাকেই। কোথায় ভেজাল বেঁধেছে জানতে হলে পড়তে হবে আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী। এই ধরনের গল্প আমাদের মতো সাধারণ আমজনতাকে সাইফাই পড়তে আগ্রহী করে তুলবে নিঃসন্দেহে। এবং অত্যন্ত সহজবোধ্য করে চমৎকার প্লটে সাইন্স ফিকশন লেখার জন্য মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পি সাধুবাদ পেতেই পারেন।

'ঘটনার ঘনঘটায়' প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের লেখা রম্য সাইন্স ফিকশন গল্প। কাজের বেটি রহিমাকে থাপ্পড় মেরে ভবলীলা সাঙ্গ করে দেয়ার পর আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রধান চরিত্র দ্বারস্থ হন একই বিল্ডিংয়ের আধপাগল বৈজ্ঞানিক ভাবি অলিভার নিকট। সেই বৈজ্ঞানিক মহিলা কি পারবেন এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে? না-কি ভেজাল আরো বাড়তে বাড়তে সীমার বাইরে চলে যাবে?
ঘটনার ঘনঘটায় পড়তে গিয়ে কৈশোরের কথা মনে হয়ে গেল। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বেশ কিছু বইয়ে এমন রম্য সাইফাইয়ের দেখা পাওয়া যেত। চমৎকার প্লট, কঠিন সাইফাই পড়তে যাদের বিরক্ত লাগে তাদের এটা বেশ ভালো লাগবে। দুয়েক জায়গায় খুক খুক করে হেসেও নিতে পারেন। না-কি শব্দটার অতিরিক্ত ব্যবহার বেশ চোখে লেগেছে। তবে সবমিলিয়ে হালকা ধাঁচের রম্য সাইফাই গল্প বেশ উপভোগ্য লাগবে পড়তে।

বইয়ের সবচেয়ে বড়ো গল্প মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের লেখা 'সিসিফাসের দুই হাত।' বইয়ের প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করে রেখেছে এই হার্ডকোর সাইফাই গল্পটা। উপরের তিনটে গল্প পড়ে যারা ভাবছেন সাই ফাই বইয়ের কঠিন কঠিন সব বিষয়বস্তু কোথায়, তাদের জন্যেই স্পেশালি এই গল্প। কঠিন কঠিন বৈজ্ঞানিক শব্দ রয়েছে, রয়েছে দুঃসাহসিক অভিযান, রয়েছে সাস্পেন্সের ঝলক। কমান্ডার ইদ্রিমের রোমাঞ্চকর মহাকাশ যাত্রার শেষটা কী ফলাফল বয়ে আনবে? গল্পটা ভালো, তবে কেন যেন অন্যগুলোর মত অতটা ভালো লাগেনি। ভারী ভারী শব্দের কারণে অথবা লিখনশৈলীর কারণেই হোক, মাঝেমধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলেছি। এমনও হতে পারে দীর্ঘদিন হার্ডকোর সাইফাই থেকে দূরে থাকার কুফল। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম এই জনরায় ভবিষ্যতে বেশ সুনাম কামাবেন।

বইমেলায় বের হওয়া গল্প সংকলনগুলোর মধ্যে 'মহাজাগতিক' বাদে দুয়েকটা পড়ার সুযোগ হয়েছে। ভিন্ন ধরনের সংকলন হিসেবে 'মহাজাগতিক' ভালো লাগার লিস্টে উঠে গেল। সামনে এরকম আরো ভালো ভালো সাইফাই আসুক দেশের বিভিন্ন লেখকের হাত ধরে। দামের ব্যাপারে আসলে প্রকাশকই ভালো বুঝবেন, তবে এই বইটা আমার হাতে দেখে দুইজন নিতে চেয়েও দাম বেশি জন্যে নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। দামের দিকে সম্ভব হলে একটু নজর দিলে অনেক ছাত্রছাত্রী সহজে সংগ্রহ করতে পারবে ঋদ্ধ প্রকাশের বইয়ের সিলেকশন চমৎকার। আশা করি সামনেও তাদের হাত ধরে ভিন্নধর্মী সব বই পাওয়া যাবে।

মহাজাগতিক

তানজিম রহমান মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম

প্রকাশনা: ঋদ্ধ প্রকাশ - Wriddho Prokash
মূদ্রিত মূল্য: ৬০০ টাকা
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books282 followers
March 14, 2024
বড় হবার পর জানিনা কেন যেন সায়েন্স ফিকশন থেকে দূরে সরে গেলাম। মানে অনেক টাইপ বই পড়া হলেও সাই ফাই কেন যেন খুব একটা পড়া হতো না। এর কারণ কি তবে জাফর ইকবালের ঐ টাইপ বইয়ের অভাব (আমি আবার জাফর ইকবালের কিশোর সাই ফাই উপন্যাসের বিশাল ফ্যান ছিলাম) নাকি ব্যস্ত জীবনে সাই ফাই বইতে মাথা খাটানোর ব্যাপারে অনীহা? সে যাই হোক, গত বছর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সচেতনভাবে সাই ফাই পড়বো। খেয়াল করে দেখলাম, এই জনরাটাতে মানসম্পন্ন কাজ খুব বেশি হচ্ছে না (কিংবা হলেও আমার চোখে পড়ছে না)। তাই খুঁজে খুঁজে পড়লাম মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী, মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম, তানজিরুল ইসলাম; এনাদের লেখা। ওনাদের লেখা পড়েই বুঝলাম, ওনারা বেশ শক্তিশালী লেখক তবে সেই সাথে এটা ভেবেও আফসোস লাগলো, যতটা এক্সপোজার ওনারা ডিজার্ভ করেন ততটা ওনারা পান না। তাই যখনি শুনলাম 'ঋদ্ধ প্রকাশ' থেকে একটা সায়েন্স ফিকশন সংকলন আসছে, যেখানে ৪ জন লেখকের সাই ফাই বড় গল্প/উপন্যাসিকা থাকছে, যার মধ্যে দুজন ওপরে ১ম এ নাম নেয়া লেখকদের লেখা থাকছে, আমি খুবই এক্সাইটেড হয়ে বইটার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তাই 'মহাজাগতিক' যখন হাতে পেলাম দেরী না করে পড়তে বসে গেলাম। ও হ্যাঁ, বাকি দুজন রাইটার হিসেবে এখানে আছেন তানজীম রহমান আর প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার। সব মিলিয়ে বইটা যে একটা দারুণ প্যাকেজ হতে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না।

১. এক্সপেক্টেশন পূরণের যাত্রা শুরু হলো বইয়ের ১ম গল্প, মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর 'আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী' দিয়েই। আমরা তো সবাই দিনের বেলা কাজ করি, আর রাতে ঘুমাই। ঘুমের সময় তো আমাদের ব্রেইন কার্যত কোন কাজ করে না। কিন্তু কেমন হতো যদি ঘুমের মধ্যেও আপাত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করা যেত? আবার সেটার জন্য বেতনও পাওয়া যেত? দারুণ না? এরকম একটা কনসেপ্ট থেকেই গড়ে ওঠে সিমুলেশনের এক দুনিয়া। খানিকটা অ্যাভাটার মুভির অ্যাভাটারের মতো। এপাশ থেকে একজন ঘুমিয়ে পড়ে আর ওপাশ থেকে একজন জেগে ওঠে। দুপাশে দুজনের চরিত্র দু'রকম। কিন্তু এই যে ঘুমাও, ঘুমিয়ে টাকা কামাও, ব্যাপারটা কি এত সহজ? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোন দুরভীসন্ধি? এই দুরভীসন্ধি কি এতোটাই নিখুঁত যে সেটা জানতে পারলে পুরো দুনিয়া উল্টেপাল্টে যাবে? আচ্ছা, তার থেকেও বড় কথা দুনিয়া কোনটা আসলে?
আমার বেশ ভালো লেগেছে এই গল্পটা। মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ব্যাপারে আমার একটা অভিযোগ আছে, সেটা হচ্ছে উনি খুব কম্প্যাক্ট লেখেন। লেখায় মেদ আমি পছন্দ করি না, কিন্তু তিনি বড়ই মেদহীন লেখেন। এইটা একটা সমস্যা লাগে আমার কাছে। তবে এটাও যে একটা শক্তি সেটা প্রমাণ পেলাম এই উপন্যাসিকাটা পড়ে। অল্প পরিসরে তিনি দারুণ লিখেছেন।

২. পরের গল্পটা মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের। 'সিসিফাসের দুই হাত' গল্পের প্লটটা ভীষণ শক্তিশালী একটা হার্ডকোর সায়েন্স ফিকশন। উনি বরাবরই হার্ডকোর সায়েন্স ফিকশন লেখেন আর ওনার প্লটগুলো খুবই ইউনিক হয়। এই বইটার প্লট হচ্ছে, লক্ষাধিক আলোকবর্ষ দূরে একটা ঘটনা ঘটছে যেটার জের ধরে পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের দারগোড়ায়। এমতাবস্থায় সেই ঘটনাকে বোঝার জন্য আর তার সমাধান করার জন্য বাংলাদেশের স্পেসফোর্স থেকে পাঠানো হয় একজন অভিযাত্রীকে। শেষ পর্যন্ত তার অভিযানের কী হয় সেটা নাহয় বই পড়েই জেনে নিলেন।
যেমনটা বলেছি, এই গল্পটা হার্ডকোর সায়েন্স ফিকশন আর সে কারণেই আমার মনে হয়েছে এটার ব্যাপ্তি আরো কিছুটা বড় হলে আমি সম্ভবত আরো বেশি উপভোগ করতে পারতাম। সবকিছু যেন চোখের পলকে হয়ে যাচ্ছিলো। আর সে কারণে এটার কিছু কিছু জায়গা মেলাতে পারিনি। যেমন লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের ঘটনা কীভাবে রিয়েল টাইমে দেখা যায় এটা আমার মাথায় ধরেনি। এটার কোনো ব্যাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি ব্যাখ্যা জেনে থাকেন তাহলে এটা এই বইয়ের সেরা সাই ফাই বলে মনে হতে পারে। এ গল্পের শেষটা ভীষণ ভালো লেগেছে আমার। তবে গ্রীক মিথ থেকে নেয়া গল্পের নামটা যদি আগে থেকে জানেন তবে শেষটা কী হতে পারে, সেটার একটা প্রচ্ছন্ন হ���ন্ট আগেই পেয়ে যাবেন।

৩. তৃতীয় গল্পটা প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের লেখা, নাম 'ঘটনার ঘনঘটায়'। এই লেখাটা খুবই হালকা ধাঁচের সাই ফাই। এখানে সাই ফাই ম্যাটেরিয়ালের চাইতে দৈনন্দিন জীবনে ঘটনা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। গল্পের প্লট হচ্ছে, সাধারণ এক নারী একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় পড়ে সাহায্য চাইতে যান পাশের বাসার এক ভাবীর কাছে যিনি আবার পরিচিত 'ঝামেলা ভাবী' নামে। সে ভাবী আবার একজন সায়েন্টিস্ট, যার কাজই হচ্ছে উদ্ভট উদ্ভট আবিষ্কার করা। তো গল্পকথক সে নারীকে ঝামেলা থেকে নিরসনের উপায় খুঁজে পান ঝামেলা ভাবী। উপায়টা হলো, একজনকে অপহরণ করতে হবে। তাও আবার সে অপহরণ কোনো সাধারণ জায়গা থেকে না, করতে হবে প্যারালাল ইউনিভার্সের মধ্য দিয়ে, যেতে হবে ঐ গল্পকথক নারীকে একাই। শুরু হয় প্যারালাল ইউনিভার্সে জার্নি। প্যারালাল ইউনিভার্সে গিয়ে ঝামেলা কি সমাধান হয় নাকি আরো পাকিয়ে যায় সেটা জানতে হলে লেখাটা পড়তে হবে।
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের লেখা আগে পড়েছি বলতে শুধু 'মাস্টারপ্ল্যান' পড়েছি। স্মৃতি হাতড়ে স্রেফ এটাই মনে পড়ছে ওনার লেখায় দারুণ হিউমার থাকলেও প্লটটা খুব বেশি ভালো লাগেনি। এটার প্লটটা ইউনিক না হলেও ভালো লেগেছে। সেই সাথে ওনার দারুণ হিউমারে লেখা গল্পটা বারবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার' এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো। প্লট বিচারে গল্পটা এক্সক্লুসিভ না লাগলেও লেখার বিচারে চমৎকার লেগেছে আমার, যদিও ক্যারেক্টারাইজেশনে মার খেয়ে গেছে এই গল্পটা। তবে আমি চাই, এরকম লেখা আরো আসুক।

৪. 'ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে', এ কথাকে আবারও প্রমাণ করে এই সংকলনের সেরা গল্পটা এসেছে বইয়ের শেষে। গল্পের নাম 'এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে আসছে', লিখেছেন None other than তানজীম রহমান। তানজীম রহমান যে বর্তমান সময়ের সেরা লেখকদের একজন সেটা আবারো প্রমাণ হলো, এই গল্পটাতে। এই গল্পটাতে সাই ফাই এলিমেন্টের পাশাপাশি প্রাধান্য পেয়েছে ফিলোসফি। কোনো উদ্ধৃতিবাক্য ছাড়া এই গল্পটা লেখা হয়েছে গল্পকথকের বয়ানে। এখানে গল্পকথক ভবিষ্যৎ এর একজন মানুষ, যে কিনা দিচ্ছে এক ভয়ানক স্বীকারোক্তি। ব্যস, এ গল্প নিয়ে এটুকুই বলবো। কারণ বাকি একটুও বলে দিলে পাঠক হিসেবে আপনি পূর্ণ উপভোগ করতে পারবেন না বলে মনে হয়েছে আমার। তবে যারা একটু ভাবতে চান, তাদের জন্য অসংখ্য খোরাক রেখে গেছে এই গল্পটা। স্রেফ এ গল্পটা ছাড়াছাড়া ভাবে ৩-৪ বার পড়েছি আমি। কারণ মনে হচ্ছিলো এটা তরতর করে পড়ে যাওয়ার জিনিস না। এক লাইন পড়ে ২-৩ মিনিট ভাবার মতো অসংখ্য দর্শন আছে এ বইতে। এই লেখাটা নিয়ে একটাই কথা, এটা না পড়লে একটা বিশাল জিনিস মিস করবেন।

তো এই ছিলো সবমিলিয়ে ২২৪ পৃষ্ঠার বই মহাজাগতিক নিয়ে আলাপ। এতক্ষণ লেখা নিয়ে কথা বললেও, এবার একটু বলতে চাই প্রকাশনা নিয়ে। এই বইটা প্রকাশ করেছে ঋদ্ধ প্রকাশ। ঋদ্ধ প্রকাশের এ যাবৎ কালের ৪টা বই পড়েছি এবং ৪টাই ভালো লেগেছে। এ ৪টা বইয়ের ব্যাপারে একটা জিনিস কমন দেখেছি, ঋদ্ধ প্রকাশ লেখার মানের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রকাশক যারা আছেন তাদের পক্ষে বইয়ের মান ধরে রেখে বাজারে টিকে থাকা খুবই কঠিন কাজ৷ আর সে কঠিন কাজটাই ঋদ্ধ করছে, তাই আমি সবসময় ঋদ্ধর সাথে আছি, যেভাবেই পারি। মানের সাথে সাথে তারা সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিং এও বেশ মনোযোগ দেয়। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, এই বইটাতে বেশ কিছু বানান ভুল আছে। কিছু বানান আবার পুরো বই জুড়েই ভুল (সেইটা হয়ে গেছে 'সোঁই')। সম্ভবত বইমেলার তাড়াহুড়োতে এই কাজ হয়েছে। খুব বেশি চোখে লাগার মতো না যদিও, তবুও ঋদ্ধর স্ট্যান্ডার্ড না এটা। বইমেলার তাড়াহুড়োতেও এই জিনিস না আসুক।

বইয়ের দাম টাম নিয়ে আমি সাধারণত ভালো মন্দ কিছুই বলি না। কারণ বই একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, এটার দাম তো আসলে নির্দিষ্ট করা সম্ভব না। তবে এই বইটার দাম একটা ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দিতে পারে পাঠকদের কাছে (মুদ্রিত মূল্য ৬০০ টাকা)। তবে সেই সাথে এটাও মাথায় রাখবেন সবাই যে, ৪০-৫০% ছাড়ে পেলে এই বইটা ৩০০-৩৫০ এর মাঝে কেনা সম্ভব। এই বইয়ের লেখা হিসেবে বইয়ের দামটা আসলে অতো বেশিও না।

রেকমেন্ডেশন: থ্রিলার, সাই-ফাই যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য এ উপন্যাসিকা সংকলনটা সেরা একটা বই হবে। যারা নিজের মগজটাকে খাটাতে চান ফিলোসফি, আইডিয়া দিয়ে তাদের জন্য তো অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews24 followers
March 20, 2024
#Book_Mortem 159

#মহাজাগতিক

এ সময়ের চারজন জনপ্রিয় লেখকের ৪টি আলাদা সাইফাই গল্প নিয়ে প্রকাশিত এই বইটির ব্যাপারে প্রকাশনী থেকে বলা হচ্ছে, এক মলাটে চারটি বই পড়ার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন পাঠকেরা। বইটি শেষ করার পর তাদের এই দাবীকে মোটেও অমূলক মনে হচ্ছে না। আসলেই এক মলাটে ৪টি একেবারেই ভিন্ন স্বাদের গল্প পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে ঋদ্ধ প্রকাশ। সবগুলো গল্প পড়ার পর কোনোভাবেই এটাকে অন্যান্য গল্প সংকলনের তালিকায় ফেলা যাবে না। বইয়ের ৪টি গল্প নিয়ে বরং আলাদা আলাদাভাবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করছি। পাশে প্রতিটা গল্পের আলাদা ব্যক্তিগত রেটিং।

আমাদের শেষটা স্বপ্নপূরী: মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী 4️⃣.5️⃣/5️⃣

গল্পের প্লটটা এমন এক সময়ের, যে সময়ে মানুষ যে শুধু জেগে জেগে কাজ করতে পারে তাই নয়, এমনকি ঘুমের মাঝে স্বপ্নের মাধ্যমেও কাজ করার উপায় আবিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। এর জন্যে তৈরী করা হয়েছে একটা আলাদা সিমুলেটেড জগৎ। যে জগতে মানুষ রাতে ঘুমের মাঝে প্রবেশ করে কাজকর্ম করে আবার সকালে বিন্দাস ফ্রেশ মুডে ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজকর্ম করতে পারে। কিন্তু এই স্বপ্ন জগতের সবকিছুতে এতো রাখঢাক কেন? আড়ালে কি আরো ভয়াবহ কিছু চলছে?

মোহাইমিনুল বাপ্পীর ঝরঝরে লিখনশৈলীর সাথে আগেই পরিচয় হয়েছে আমার। এই বইটাতে আরো একবার দূর্দান্ত লিখনশৈলীর ছাপ রেখেছেন তিনি। প্লটটা একেবারে ইউনিক কিছু না হলেও, এক্সিকিউশানের দরুণ পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। নভেলা হিসাবে বাহুল্যবর্জিত কিন্তু প্রয়োজনীয় বর্ণনায়নের কারনে গল্প শুরু থেকেই বেশ গতিশীল মনে হবে। টুকটাক সায়েন্টিফিক টার্মস থাকলেও সেগুলো খুব সহজবোধ্য এবং যৌক্তিকতার সাথে লিখা হয়েছে। তাই কারো পড়তে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। শেষটাও আমার ভালো লেগেছে। এক ধরণের ওপেন এন্ডিং রেখে দিয়ে গল্প শেষ হয়েছে।

সিসিফাসের দুই হাত: মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম 3️⃣.5️⃣/5️⃣

বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প, এবং বেশ ভিন্ন কনসেপ্টের গল্প। মানবজাতি মহাবিশ্ব জয় করে ফেলেছে। কিন্তু অবাক হয়ে আবিষ্কার করলো একটা নির্দিষ্ট সীমার বাইরে তারা যেতে পারছে না। সীমার ওপারে গ্রহ নক্ষত্র নজরে এলেও, সেখানে পাঠানো সকল স্পেসশীপ গায়েব হয়ে যাচ্ছে। একদিন বাংলাদেশী এক বিজ্ঞানী আবিষ্কার করলেন, সেই সীমার বাইরে থেকে একটি গ্রহ ক্রমশ বের হয়ে ভিতরের দিকে আসছে। এদিকে একই সময়ে পৃথিবীর কোরের ঘূর্ণনের গতিপথ উলটে গিয়েছে। যে কারনে পৃথিবী সম্মুখীন হচ্ছে ভয়াবহ সব প্রাকৃতিক দূর্যোগের। কি সম্পর্ক ওই গ্রহের সাথে পৃথিবীর কোরের এই ঘূর্ণন পরিবর্তনের?

এই গল্পটা কিছুটা হার্ডকোর সাইফাই টাইপ। কঠিন কিছু বৈজ্ঞানিক টার্মস এনেছেন লেখক গল্পে। তবে সবগুলোই অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। একটু ধীরে সুস্থে পড়লে কারোই বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মূল যে গল্পটা তা অবশ্য প্লট হিসাবে অতোটাও চমকপ্রদভাবে ফুঁটে উঠেনি। প্লটটা আসলেই বেশ ইউনিক ছিল। মূল চরিত্র কম���ন্ডার ইদ্রিমের মিশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটা বেশ ভালোভাবে এগিয়েও যাচ্ছিল। কিন্তু এরপরেই কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে গল্পের গতিপথ। এক ধরণের সাসপেন্স তৈরী করতে চেয়ে লেখক আবার সেটাকে কেন যেন পাশ কাটিয়ে ইদ্রিমের ব্যক্তিগত লাইফের দিকে চলে যান। লেখকের লিখনশৈলী কিছু জায়গায় খাপছাড়া মনে হয়েছে। এছাড়াও অপার রহস্যময় ইগোর টলোস্কির সীমার বাইরে একটা গ্রহ আবিষ্কার করার পর, বাংলাদেশ থেকে মিশনে যাওয়ার পিছনে লেখক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা ঠিক মনঃপুত হয়নি। এটা নিয়ে তো পুরো বিশ্বেই তোলপাড় শুরু হওয়া উচিত ছিল! গ্রীক মিথোলজির একটু অংশ টেনে এনে দেয়া বইয়ের এন্ডিংটা লেখক বুঝাতে পারলেও, আমার ব্রেইন সেটাকে ঠিকভাবে প্রসেস করতে পারেনি সম্ভবত। মোটকথা প্লট এবং সেটিংস অনুসারে আমার যে প্রত্যাশা তৈরী হয়েছিল তার পুরোটা না মিটলেও, গল্পটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছি বেশ আগ্রহ নিয়েই।

ঘটনার ঘনঘটায়: প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার 4️⃣/5️⃣

কৈশোরে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিজ্ঞানী সফদর আলীর গল্প পড়ে ব্যাপক বিনোদিত হয়েছিলাম। অনেকগুলো বছর পর এই গল্পের মাধ্যমে প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার আবারও আমাকে সেই সময়ে ফিরিয়ে নিয়েছেন। গল্পের শুরুটাই উদ্ভট। এক থাপ্পরে কাজের মহিলাকে মেরে ফেলেছে গল্প কথক! কি করবে তা বুঝতে না পেরে তিনি চলে গেলেন, একই বিল্ডিং এ থাকা বৈজ্ঞানিক ভাবী তথা ঝামেলা ভাবীর কাছে। শুরু হলো মাল্টিভার্সের দুনিয়ার অদ্ভুত এক ভ্রমণের।

আগের তূলনামূলক কিছুটা কঠিন ধরণের গল্প থেকে বের হয়েই এরকম একটা হালকা ধরণের হিউমার সমৃদ্ধ সাইফাই গল্প যেন একটা পিউর রিফ্রেশমেন্ট হয়ে এসেছিল আমার কাছে। আমি কখনো ভাবিনি এই সময়ে কেউ এমন লাইট টোনের একটা সাইফাই গল্প লিখে ফেলবে! সে কারনেই কি না গল্পটা আমি প্রচন্ড উপভোগ করেছি। গল্প পড়তে পড়তে ঠিক অট্রহাসি না দিলেও, কিছু মজাদার কথোপকথনে বেশ হাসিই পেয়েছে। মাল্টিভার্স কনসেপ্টটা নিয়ে এই সময়ে মার্ভেলের মুভির কল্যানে সবাই কমবেশী জানেন। সেটাকেই লেখক হাস্যরসাত্মক ভাবে গল্পে এনেছেন। রহিমার মাকে মেরে ফেলা, স্মৃতি প্রতিস্থাপনের জন্য অন্য জগতে গিয়ে আরেকজন রহিমার মা খুঁজে আনার মিশন, সেই জগতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, নিজের জগতের সাথে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কিছু ভিন্নতা সব মিলিয়ে পুরোটা গল্পই ছিল বেশ আগ্রহোদ্দীপক। এই গল্পের শেষটাও ওপেন এন্ডিং দিয়ে হওয়ায়, মনে হচ্ছিল আরো কিছু পর্ব বের হলে মন্দ হতো না।

এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে: তানজীম রহমান 4️⃣.5️⃣/5️⃣

কিছু লেখা থাকে না যেগুলা পড়লে মানুষ ভাবতে বাধ্য হয়, তাদের চিন্তা চেতনায় একটা ঝড় উঠে যায়। এটা সেরকমই এক লেখা। আর তাই বইয়ের সবচেয়ে ছোট গল্প হওয়া সত্ত্বেও, এই গল্পটা পড়তে আমার বেশ কিছুটা সময় লেগেছে।

সমাজ, দেশ, ধর্মের সকল নিয়মনীতিকে ভেঙেচুরে ভিন্ন একটা যুগে ভিন্ন একটা সমাজ ব্যবস্থা তৈরী করা নিয়ে লিখেছেন লেখক। এখানে উঠে এসেছে শিল্প, সংস্কৃতি, কবিতা, গল্প, আইডিয়া, কর্মজীবন সহ অনেক অনেকগুলো বিষয়। বুঝে বুঝে পড়তে গেলে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যেতে হবে। কারন প্রথাগতভাবে আমরা যেমনটা দেখে, বুঝে বা জেনে এসেছি তার সবকিছুকেই এভাবে উলটে দিলে তা ব্রেইনে প্রসেস করতে সময় নিবে বৈকি! এরপর শেষে এসে একটা ছোট্র টুইস্ট দিয়ে শেষ করেন গল্পটা। তানজীম রহমানের লেখা এর আগে পড়লেও, এটার লিখনশৈলী বেশ অন্যরকম মনে হয়েছে এবং সেটা আমার ভালোই লেগেছে। সব মিলিয়ে গল্প শেষ করে ভালো লাগার পরিমাণটাই বেশী আমার। একটাই আফসোস, ফিকশন হিসেবে প্রয়োজনীয় নাটকীয়তার অভাব মনে হয়েছে। এই গল্পটা নিয়ে লিখার তেমন কিছু নেই আসলে, এটা না পড়লে বুঝা কষ্টদায়ক।

পুনশ্চ: তানজীম রহমানের গল্পটা কারো কারো কাছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত টাইপ মনে হতে পারে। কিন্তু গল্প শেষ করলে আসলে বুঝবেন অতো পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত ভালো কিছুই বয়ে আনেনি। আর তাই এটাকে পজেটিভ ওয়েতে দেখতে পারেন।

পুরো বইয়ের ওভারঅল রেটিং: ৮.৫/১০ (একটা বই, চারটি গল্প। চারটি গল্পই এমন যে প্রতিটা গল্প শেষে একটা ভালো বই শেষ করার তৃপ্তি চলে আসে মনে। আর সে কারনেই ৪টা গল্প ৪টি আলাদা বই হিসেবে পাঠকের মনে জায়গা করে নিবে)

প্রোডাকশন: ঋদ্ধ প্রকাশের প্রোডাকশন বেশ ভালো হয়েছে। পেজ কোয়ালিটি, বাঁধাই ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটাও আমার ভালোই লেগেছে। তবে বইয়ে বেশকিছু মূদ্রণ প্রমাদ ছিল, কিছু বানান ভেঙ্গে গিয়েছে। আর বইটার দাম তূলনামূলক কিছুটা বেশী মনে হলেও, এরকম একেকটা নভেলা নিয়েই অনেক প্রকাশনী একটা আলাদা ক্রাউন সাইজের বই বের করে ফেলে! সেই হিসাবে কন্টেন্ট অনুসারে ছাড়ের পর দামটা বেশ সহনীয়ই মনে হবে।

🪤 লেখক: মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী, মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম, প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার, তানজীম রহমান
🪤 প্রচ্ছদ: মুগ্ধ রায়
🪤 প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
🪤 পৃষ্টা সংখ্যা: ২২৪
🪤 বর্তমান মূদ্রিত মূল্য: ৬০০ টাকা
Profile Image for Nabila Progya.
48 reviews20 followers
June 17, 2025
২০২৪-এর বইমেলায় বের হওয়া সাই-ফাই বই এটি। বইয়ের নাম শুনে বুঝা যায় চারখানা গল্প আছে। চার লেখকের চারটি গল্প, জনরা অভিন্ন হলেও তাদের একেকজনের লিখনশৈলী দিয়ে একেক গল্প পাঠককে একেকরকমভাবে আর্কষিত করবে। ৪টি গল্পের কথায় আসা যাক।
আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
আমাদের কাছে প্রায়ই মনে হয় যে ২৪ঘন্টা আমাদের জন্য এনাফ না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম মিলিয়ে আরো কম মনে হয় মাঝেমধ্যে। মাঝেমাঝেই মনে হয় ইস!দিনটা আরেকটু বড় হতো। ঠিক এমনই সাই-ফাই জনরা দিয়ে এ গল্প আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী। ভবিষ্যতে হয়তো এমন প্রযুক্তি আসবে যা দিয়ে মানুষ ঘুমিয়েও কাজ করতে পারবে। এই গল্পে তাই দেখায়। ঘুমের মধ্যেও অন্য এক জগতে গিয়ে কাজ করে যার কাজ জমা হয় বাস্তব দুনিয়ায়। ঘুমের মধ্যে যেই জগতে গিয়ে কাজ করে তা হচ্ছে সিমুলেশন করা একটি জগৎ। কিন্তু যেটা সিমুলেশন করা জগৎ সেটা কি সত্যি কাল্পনিক? নাকি ঘুমিয়ে যে জগতে ঢুকছেন তাই বাস্তব দুনিয়া?
লেখকের সাথে এই গল্প দিয়ে প্রথম পরিচয় আর এই গল্পে চমকে থাকার মতো অভিজ্ঞতা দিয়েছেন।
সিসিফাসের দুই হাত- সাইফুল ইসলাম
বইয়ের ৪টা গল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিসরের গল্প হচ্ছে 'সিসিফাসের দুই হাত'। সিসিফাস নাম শুনলে বুঝা যায় গ্রিক মিথোলজির ব্যাপার আছে। কিন্তু গ্রিক মিথোলজির সাথে সায়েন্স ফিকশনের এমন কম্বিনেশন সেটা হয়তো না পড়লে কেউ বুঝতে পারবে না। দর্শনের সাথে সাইন্সের যে মিক্স করে সমাপ্তি তা নিয়ে লেখকের প্রশংসা করতেই হয়।
কিন্তু আমার মনে হয় লেখক এ দুটোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে ভালো হতো। মাঝে দিয়ে কমান্ডার ইদ্রিমের ব্যাক্তিগত জীবনে ঢুকে সাইকোলজির একটা ব্যাপারও দেখা যায়। যারা সায়েন্স ফিকশন পড়তে পছন্দ করে তাদের কাছে এ গল্পটা ভালো লাগার মতোই। মহাকাশ, পৃথিবীর মতোই নতুন আরেক গ্রহ, স্পেসশীপ সবকিছু মিলে গল্পটা সুন্দর।
ঘটনার ঘনঘটায়- প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার
স্যাটায়ার সাই-ফাই ফ্যান্টাসি ধরনের গল্প খুঁজতেছেন তো এই সেই গল্প। গল্পের শুরু হয় খুবই প্রচলিত এক দৈনন্দিন জীবনে ঘটে এমন এক ঘটনার মাধ্যমে। 'এক থাপ্পড়ে অক্কা!' কাজের বুয়াকে এক থাপ্পড় দিয়ে পরপারে পাঠিয়ে দেয় গল্পের মূল চরিত্র। তিনি একজন মহিলা। এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে ছুটে যান পাশের বাসার প্রতিবেশীর কাছে, তিনিও একজন মহিলা। পেশায় বলা যায় কিনা বুঝতেছি না কিন্তু তিনি একজন বিজ্ঞানী। যতোধরনের উইয়া���্ড বৈজ্ঞানিক কাজ করা যায় তিনি সেইসব করেন, এই কারণে সবাই তাকে ডাকে ঝামেলা ভাবি। এখন দুইজন মিলে এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে পড়ে যায় আরেক মহা ক্যাচালে। কিন্তু কীভাবে এই মহাবিপদের রহস্য সমাধান করে তা জানতে হলে গল্পটি পড়তে হবে। লেখক প্যারালাল ইউনিভার্সের কনসেপ্ট তুলে ধরে। এ গল্পে সবকিছু লজিক দিয়ে ভাবতে বসলে আবার হবে না, কিছু জিনিস অ্যানালাইসিসের উপর ছেড়ে দিতে হয়। আবার এই গল্প পড়তে গিয়ে হেসে দিতে পারেন কারন গল্পটা এমন ধাঁচেরই। পাঠককে বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে গল্পটি লিখা এবং ঐ জায়গা থেকে গল্পটি সুন্দর।
এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে আসছে- তানজীম রহমান
এই বইয়ের সবচেয়ে ছোটগল্প বোধহয় এটাই। উক্ত গল্পটি সব রকম পাঠকের জন্য নয় সেটা আমি মনে করি। উক্ত গল্প সবরকমের পাঠক কতটুকু তাদের মস্তিষ্কে গ্রহন করতে পারবে সেটাও একটা কথা। যাদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে থাকে তাহলে ভালো।
এ গল্পে অব্যশই ফিলোসোফিক্যাল কথাবার্তা বেশি। রাজনীতি, ধর্ম, ইতিহাস সবকিছু নিয়ে লেখক উনার চিন্তাভাবনা বা নিজস্ব মতামত লিখেছে। সক্রেটিস,প্লেটো, লাও জে, মার্কস অরেলিয়াস এর মতো মহান মহান দার্শনিকদের।
যেহেতু গল্পে ফিলোসোফি বেশি তাই যাদের ফিলোসোফি ভালো লাগে না তাদের ভালো নাই লাগতে পারে। আমারও যেহেতু এমন ধরনের লিখ প্রথমবার পড়া তাই প্রথমে একটু বুঝতে কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু কিছু কথা লেখক রিয়েলিটি চেক দিয়ে বসে।
যারা সাই-ফাই পছন্দ করে তাদের জন্য এ বই এটি অব্যশই রেকমেন্ডড। বইয়ের দাম নিয়ে বলবো ভেবেও বলছি না। কিন্তু পার্সোনালি বইয়ের দামটা একটু বেশি মনে হয়েছে। বাকিটা প্রকাশক ভালো বুঝবেন।
Profile Image for Elin Ranjan Das.
88 reviews6 followers
August 2, 2024
আমাদের শেষটা স্বপ্নপুরী
ম্যাট্রিক্স ধাঁচের গল্প। ঘুমের ভেতর এক জগত, বাইরে আরেক। কোনটা সত্যি? তবে আপাত সরল এই গল্পের শেষের টুইস্ট আপনাকে বাস্তবতা এবং চেতনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

সিসিফাসের দুই হাত
সুদূর অতীতের গল্প, যখন পৃথিবীতে নেই কোনো দেশসীমা। মহাজাগতিক যাত্রা এখানে সুলভ। এরই মধ্যে পৃথিবীর কোরের প্রথাবিরোধী ঘূর্ণন আর হাজার আলোকবর্ষ দূরের রহস্যময় গ্রহের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এক বাংলাদেশী মিলিটারি এজেন্ট। সে কি পেরেছিলো রহস্যের সমাধান করতে?
বইয়ের সবচেয়ে ভালো গল্প এটা। কনসেপ্টটা খুবই ভিন্নধর্মী এবং ইউনিক। প্রথাগত সাইফাই কনসেপ্ট নিয়ে কাজ না করে নতুন কিছু ভেবেছেন আর কানেক্ট করেছেন। এর সাথে সার্থকভাবে জুড়ে গিয়েছে দর্শন আর মিথোলজি! তবে লেখকের লেখনী এখনও কিছুটা কাঁচা লেগেছে। গল্পের সমাপ্তির আগেই কমপক্ষে তিনবার প্রটাগনিস্টের পরিণতি জানান দেয়া পরিপক্বতার লক্ষণ না। এছাড়াও "ইগর-টলস্কি সীমা" গল্পের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলেও প্রথম পাতায় কমপক্ষে তিনবার এই নামের উল্লেখ দিয়ে "এই জিনিস কিন্তু গল্পে অতীব গুরুত্বপূর্ণ" জোর করে বুঝানোর কোনো দরকার ছিলো না। সীমার নাম নিয়েও আমার আপত্তি আছে, বিজ্ঞানের দুনিয়ায় কখনো বিজ্ঞানীদের ফার্স্ট নেম ইউজ করতে দেখি নাই টার্মিনোলজি বানাতে। সবসময়ে সারনেম (আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ, গ্ল্যাশো-ভীনবার্গ-সালাম তত্ত্ব) ব্যবহৃত হয়। যদিও এটা খুব মাইনর একটা জিনিস, তবুও ইগর-টলস্কি দুইটাই ফার্স্ট নেম হওয়াটা চোখে লেগেছে। এসব খুঁতখুঁতানি বাদ দিলে গল্পটা উপভোগ্য।

ঘটনার ঘনঘটায়
পাগলা বিজ্ঞানীরা কি শুধুই পুরুষ হন? আমাদের আশেপাশে থাকা পরিচিত নারীরা কি হতে পারেন না? ভিন্নধর্মী চরিত্রায়ন আর পুরোপরি রম্যরচনা হলেও সাদামাটা সাইফাই নয় এটি, বিজ্ঞানের পরিচিত সূত্রগুলোকে ঠিকঠাক খুঁজে পাবেন এখানে।

এই কথাগুলো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে
পুরোপুরি দার্শনিকতা দিয়ে লেখা হয়েছে এই গল্প। মানব সভ্যতার ভবিষ্যত কেমন হতে পারে, তার একটা ব্যতিক্রমী মনস্তাত্বিক-সামাজিক-আদর্শিক রূপায়ন এখানে দেখতে পাই আমরা। সমাপ্তিটাও অপ্রত্যাশিত। এ যেন লাভ, ডেথ ও রোবটসের কোনো এপিসোড একদম।
Profile Image for Rana Khan.
106 reviews
December 10, 2025
ভালো বই। ৪টা গল্প ৪ধরণের।
তবে তানজীম ভাইয়েরটা অসাধারণ। তবে এটা পড়ে অনেকেরই মাথার উপর দিয়ে যাবে। অনেকে আমার মতো পড়তে পড়তে বার বার ঘুমিয়েও যাবেন।

তবে ৩নম্বর গল্পটা ছাড়া বাকিগুলো দূর্দান্ত।
বইটা কিনেছিলাম মেইনলি সাইফূল ভাইয়ের লেখা পড়ার জন্য। পড়েছি। সাথে পেয়েছি আরো ভালো দুইটা লেখা।

তবে ৩নং ঝামেলা ভাবীর লেখক চাইলে আরো ভালো লিখতে পারেন সেটা বোঝা গেছে।
Profile Image for Tanjirul Islam.
Author 14 books132 followers
March 17, 2024
এই বইটাকে কি পাঁচতারা দেয়া যায়? জানি না। তবে নিঃসন্দেহে চার তারা দেওয়া যায়। দুটি নভেলা এখনও বাকি। ওগুলো শেষ করলেও বই ভালো লাগা বাড়বে বৈ কমবে না।
Profile Image for Parvez Alam.
308 reviews12 followers
September 6, 2024
৩ স্টার শুধু সাইফুল ভাইয়ের লেখার জন্য, বাকি গুলার জন্য ১ স্টার
Displaying 1 - 13 of 13 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.