পরীক্ষার পর অখন্ড অবসর কাটাতে নিলয় বান্দরবান গেছে বিজুর সাথে। ঘুরে বেড়াতে গিয়ে জানতে পারল, মন্দিরের বুদ্ধমূর্তির কপাল থেকে একটা প্রাচীন রত্নপাথর অনেক আগে ডাকাতি হয়ে গেছে। ওই রাতেই ঝুনো চাচার কাছে শুনতে পেল ব্যর্থ গুপ্তধন উদ্ধারের এক রোমহর্ষক গল্প। নিলয় বিশ্বাস করলেও অন্যরা হেসেই উড়িয়ে দিল। তবে পরদিন সকালেই পাওয়া গেল ঝুনো চাচার লাশ। সারা শরীরে অত্যাচারের অসংখ্য চিহ্ন। ওরা বুঝতে পারল গল্পটা আসলে সত্যি ছিল। খুনীদের বাড়া ভাতে ছাই দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওৱাই বেরিয়ে পড়ল গুপ্তধন উদ্ধারের অভিযানে।
শুরু হল শত্রুপক্ষের আক্রমণ আর একের পর এক বিপদ। তবুও কি ওদের ঠেকিয়ে রাখা গেল? লুকানো গুহার মধ্য দিয়ে ওরা ঠিকই পৌঁছাল ধনরত্ন লুকিয়ে রাখা গোপন চেম্বারে। কিন্তু ওখানে যে হাজারো সাপ কিলবিল করছে। কি করে উদ্ধার করবে রত্নপাথর? আর উদ্ধার করলেই তো হবে না, ফিরতে হবে সেই বিপদসংকুল পথ দিয়ে। ওরা কি পারবে?
কিশোর থ্রিলারের ব্লেন্ডে ট্রেজার হান্ট স্টোরি আমার বরারবই পছন্দের জনরা। বাংলা সাহিত্যে বিমল-কুমারের যকের ধন থেকে শুরু করে চাঁদের পাহাড়ের শঙ্কর সকলেই আমার অতিপ্রিয়। কিশোর থ্রিলারের প্রতি আলাদা ভালোলাগা থেকেই বইটি পড়তে আরম্ভ করি। লেখক মাহবুবুল আলম পলাশের লেখা আগে পড়া হয়নি। এটাই প্রথম। এবং সত্যি বলতে বইটি শেষ করে আমি অভিভূত। চমৎকার এই জার্নির খানিকটা তুলে ধরছি এখানে। বইটিতে সবথেকে যেটা ভালো লেগেছে সেটা হল লেখকের সাবলীল ভাষার ব্যবহার আর উপস্থাপনা কৌশল। পাশাপাশি গল্পের ডিটেইলিংও বেশ ভালো। মোট কথা বইটি পড়তে পড়তে কখন যে গল্পের চরিত্রের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করে ফেলেছি সেই খেয়ালই ছিল না আমার। আর পাঠক যখন গল্পের চরিত্রে ঢুকে যায়, নিজেকে গল্পের অংশীদার ভাবতে আরম্ভ করে তখন অবিলম্বে বলা যায় লেখক পুরোপরি সফল হয়েছেন। গল্পে কোথায় অহেতুক মেদ নেই, পুরো যাত্রাটা এক অদ্ভুত রোমাঞ্চে ঠাসা। লেখকের গল্প বলার ভঙ্গি অত্যন্ত ভালো। একনাগাড়ে পড়তে পেরেছি বইটা। তবে এন্ডিংটা টিপিক্যাল ট্রেজার হান্ট গল্পের মতই লাগলো। অবশ্য কিশোর থ্রিলার হিসেবে এই এন্ডিং ভালোই বলা চলে। মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত টুইস্ট কিশোর থ্রিলারে আশা করাটা উচিতও নয়। যাহোক সব মিলিয়ে বলতে গেলে অনেকদিন পরে দূর্দান্ত, রোমাঞ্চকর একটি কিশোর থ্রিলার রীতিমত গোগ্রাসে উপভোগ করলাম।