মধু-কৈটভের আক্রোশ আর মহাদেবের ক্রোধ; দক্ষের মন বিক্ষুব্ধ, ওদিকে শতরূপাও ক্ষুব্ধ। ব্রহ্মা হলেন কুপিত, পুত্র-শাপে হলেন শাপিত। সৃষ্টির ভার নিলেন সপ্তঋষি, দেবতারা মাতলেন আনা লীলায়।
কখনও ইন্দ্রদেব আবার কখনও সূর্যদেব, পিছিয়ে নেই চন্দ্রদেবও; ঠাঁই নিলেন শিবের মাথায়। কেনই বা তাঁর এই পরিণতি? আর কেনই বা বালক ধ্রুব হলো গৃহত্যাগী? একদিকে কেতকী ফুল হলো অভিশপ্ত, অপরদিকে অসুররাজ বল পেল আত্মত্যাগেও অমরত্ব।
এমনই আরও নানা বিচিত্র গাথায় ভরা ‘রুদ্রাক্ষ: সনাতন পুরাণ’-এর পাতায় পাঠক আপনাকে স্বাগতম।
শুভঙ্কর শুভ একজন সমসাময়িক বাংলা লেখক, যিনি মূলত পুরাণভিত্তিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর লেখায় সনাতন পুরাণের জটিলতা, দেবদেবীর চরিত্র এবং মিথলজিকাল থিমগুলো আধুনিক পাঠকের কাছে সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। শুভঙ্কর শুভ মূলত অনুবাদ কাজের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন। তাঁর অনুবাদিত কাজের মধ্যে "রিটার্ন অব রাবণ" সিরিজ উল্লেখযোগ্য। পরে তিনি মৌলিক রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং পুরাণভিত্তিক সাহিত্য রচনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে মিথলজি, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই ও থ্রিলার উল্লেখযোগ্য।
📚 তাঁর উল্লেখযোগ্য বইসমূহ: শিবোহাম শুভঙ্কর শুভর প্রথম মৌলিক উপন্যাস, যা ২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে শিবের অন্তর্নিহিত দর্শন ও সত্ত্বার অনুসন্ধান তুলে ধরা হয়েছে। এটি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং লেখকের মৌলিক রচনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
রুদ্রাক্ষ: সনাতন পুরাণ ২০২৪ সালে প্রকাশিত এই বইটি লেখকের দ্বিতীয় মৌলিক উপন্যাস। এখানে সৃষ্টির আদিকথা, দেবতা ও অসুরদের দ্বন্দ্ব, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিবের বিভিন্ন কাহিনি এবং পুরাণের গভীর দার্শনিক দিকগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগে কাহিনিভিত্তিক উপস্থাপনা, দ্বিতীয় ভাগে দেবদেবীর বর্ণনা। পাঠকদের মতে, এটি সনাতন পুরাণ সম্পর্কে জানার জন্য একটি অনন্য গ্রন্থ।
পদ্মনাভ: সনাতন পুরাণ (দ্বিতীয় পর্ব) এটি "রুদ্রাক্ষ" বইটির ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এখানে আরও গভীরভাবে পুরাণের বিভিন্ন দিক, দেবতাদের কাহিনি এবং দর্শনীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটি পুরাণপ্রেমী পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
পুরাণ আমার কাছে চিরকালই বোরিং লাগে। এখনো তাই। পুরাণ নিয়ে যতগুলো বইতে রেটিং করেছি সবগুলোর বেহাল দশা। তাই কোন পাঠক আমার এই রেটিংকে গুরুত্ব সহকারে নিবেন না আশা করি। বইটি পড়ুন। যথেষ্ট তথ্য সমৃদ্ধ।
দেবদেবীদের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে রচিত রুদ্রাক্ষ: সনাতন পুরাণ বইটি ওয়ান অভ আ কাইন্ড বলা যায়। বইটিতে দুইটি ভাগ, প্রথম ভাগ পুরাণ প্রবেশ, যেখানে গল্প বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে আছে দেবদেবীর বর্ণনা। আমার মনে হয়েছে বর্ণনা অংশটি নতুন বা এই মিথলজির সাথে পূর্ব পরিচিত না তাদের জন্য যুক্ত করেছেন লেখক।
নি:সন্দেহে বইটি লেখকের অদম্য লিখন শৈলীর উদাহরণ। সনাতন পুরাণ সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছু শিখতে উৎসাহিত করেছে। শুভকামনা রইল। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।