নিজ দাদার অতীত জানতে পারছে রফিক শিকদার। বিস্মিত হচ্ছে একের পর এক অদ্ভুত শক্তির কথা জেনে। সিলেট থেকে রাঙামাটি; রহস্যের যেন শেষ নেই। কিন্তু আগারবাবা ছিল, ছিল শরিমান দাদি; তারপরেও দাদা কী করে মারা গেল? নেকড়েটাই বা এত অস্থির হচ্ছে কেন? রফিক শিকদার জানতো না, তার শুধু অতীত বা বর্তমান নয় – খুনালা হানা দিতে যাচ্ছে তার ভবিষ্যতেও। অন্ধকার সিরিজের পঞ্চম আখ্যান ‘ক্রমশ অন্ধকার’, পাঠককে আরেকবার চমকে দিতে সক্ষম হবে।
এবছর যে বইগুলোর জন্য খুব বেশি আগ্রহ নিয়ে বসেছিলাম তার মধ্যে ‘ক্রমশ অন্ধকার’ ছিল অন্যতম। এটা অন্ধকার ট্রিলজির ২য় প্রিকুয়েল। এই ট্রিলজির ১ম প্রিকুয়েলে আমরা রফিক মাহাই শিকদারের শৈশব এবং তিনি কিভাবে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির সাথে যুদ্ধ করে নিজের শক্তি অর্জন করেছেন সেটুকুই জানতে পারি। এই প্রিকুয়েলে পাবেন খুং এর বিরুদ্ধে রফিক সাহেবের একের পর এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান। যেখানে আমরা খুঁজে বেড়াবো রফিক মাহাইকে নিয়ে আগের বইগুলোতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর।
****সামান্য স্পয়লার যুক্ত**** পুরো গল্পটাকে আমি তিনটে সেকশনে ভাগ করেছি (ব্যাক্তিগতভাবে) । প্রথম অংশ রফিক মাহাই শিকদারের বুড়ো আঙুল বিসর্জন দেওয়ার আগ পর্যন্ত। এই অংশটুকু পুরোদস্তুর হরর নৃশংস আর মারকাটারি অ্যাকশনে ভরপুর। কিয়াসুর উত্থান টাও এখান থেকে পাওয়া যায়। ঘটনার ঘনঘটায় কিছুটা হাপিয়ে গেছিলাম। চাচ্ছিলাম একটু রিলিফ।
লেখক মশাই হয়তো পাঠকের এই ব্যাপারটা বুঝে রেখেছিলেন আগেই। তিনি ফিরে গেলেন সেই চিরচেনা পছন্দের ছকে। আমি সবসময়ই গাছপালা, বন্যপ্রানী এদের নিয়ে জমজমাট অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করি। লেখকও এই জিনিসে সিদ্ধহস্ত। ঠিক এই কারণেই এই অংশটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। যে চমকটা তিনি আমাদের জন্য রেখেছিলেন তা কিছুটা ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড’ এর মতো। লেখক যে অ্যাকশন প্রথম অংশে দেখিয়েছিলেন এবার রফিক মাহাইয়ের শেষ লড়াইয়ে কিন্তু তিনি তার ছিটেফোটাও রাখেননি। আমি বরং এতে খুশিই হয়েছি। কেন? সেটা তোলা থাক।
রফিক মাহাইয়ের মৃত্যুর পরে গল্পের বর্তমানে ফিরে আসাটা আমার তৃতীয় অংশ। এটা অন্ধকার ট্রিলজির প্রথম গল্পগুলোর মতো দারুণ কৌতুহল উদ্দীপক। যদিও এটা পরবর্তী বইটার একটা পটভূমিমাত্র। কিন্তু এখানের টুইস্টটা আমার মাথাটাকে একদম হ্যাং করে দিয়েছে। আমি কল্পনাতেও ভাবিনি এমন কিছু লেখক ঘটাতে পারে। বলতেও পারছি না। এতো বড় স্পয়লার পাঠক নিতে পারবে না।
লেখকের আরেকটা সিরিজ ‘বুনো’ প্রেমীদের জন্য এইটুকু বলব (আমিও বুনো প্রেমী) , এই বইয়ের পরতে পরতেও কিন্তু বনের সেই বুনো সোঁদা গন্ধটা আপনি পাবেন। পাবেন এক নির্ভেজাল অ্যাডভেঞ্চার। সবকিছু মিলিয়ে বাংলা হরর ফ্যান্টাসি সাহিত্যে এখন যে জোয়ার চলছে সেখানে অন্ধকার সিরিজের বইগুলো এক একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র।
ফিরে এসেছেন রফিক মাহাই শিকদার ২০২৪ বইমেলায় 'ক্রমশ অন্ধকার ' বইয়ে। এই বছর কোনো বই নিয়ে অপেক্ষায় যদি আমি থাকি তাহলে সেটা হচ্ছে অন্ধকার সিরিজের এই ৫ম বইটার জন্য। এক চমৎকার সময় কাটলো বইটা নিয়ে। অন্ধকার সিরিজের ২য় প্রিক্যুয়েল হচ্ছে এই বই। বইটায় রফিক মাহাই শিকদারের খুং কে পরাজিত করার জন্য রুদ্ধশ্বাস সব অভিযান দেখা গিয়েছে।
একের পর এক জায়গায় গিয়ে ভীতিকর সব ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন রফিক মাহাই। সেগুলো পার করছেন অনে অধ্যবসায়ের জন্য। বাপ্পী ভাই এডভেঞ্জার জিনিসটা দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। যে দেখেছেন এতো এতো অভিযানে পাঠক অন্য কিছু চাচ্ছে তখনই তিয়াস বুড়িতে এনে এর জবরদস্ত রহস্য তুলে ধরেন উনি।
বইটায় কিভাবে রফিক মাহাই উনার বুড়ো আঙ্গুল হারালেন তার পুরো ব্যাখ্যা পেলাম সাথে কিয়াসুর আগমন ও চমকপ্রদ ছিলো। রফিক মাহাই আর খুং এর লড়াইটা কেন ডিটেইলসে তুলে ধরেন নি তা পরে বুঝতে পেরেছি। পিকচার আভি বাকি হে বলতে গেলে।
শেষের দিকে উত্তেজনা অনেক বেশি হয়ে যায় যখন তা পড়ে তৃপ্তি পাই অবশেষে। ( বলতে পারছি না কারণ স্পয়লার হয়ে যাবে) প্রকৃতির বর্ণনা সাথে ভয়ানক সব অতিপ্রাকৃত সত্ত্বার সাথে রফিক মাহাইর যুদ্ধ মিলে দারুণ এক সময় গেলো। বর্তমান সময়ের রফিকের দিকও ছিলো ভালো।
নাফিস নিয়ে আসলো আরেক রহস্য যা সর্বশেষ বইয়ে পাওয়া যাবে।
অন্ধকার সিরিজ যাদের পছন্দের তাদের জন্য অবশ্যই এটা সুখপাঠ্য।
আগের বইটার চেয়ে তুলনামূলক ভালোভাবে আগাতে আগাতে শেষে এসে রফিক মাহাই শিকদার চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির ম্যাসাকার করে ফেললো। বইটার সেরা জায়গা তিয়াস বুড়ির অংশটা, ওইখানটাতেই শুধুমাত্র অন্ধকার সিরিজের শিরশিরে ভয়ের মূল স্বাদটা পেলাম। সবচেয়ে বিরক্তিকর চরিত্র রফিক মাহাই শিকদার।
এ সিরিজটার ফ্যান আমি। বলা উচিত ফ্যান ছিলাম। প্রথম বই হার না মানা অন্ধকার আর ঘীরে থাকা অন্ধকার বইদু'টির ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলাম। কারন বাংলাদেশের বনাঞ্চল আর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে খুব বেশি সুপারন্যাচারাল কাহিনী লেখা হয়নি। যাহোক, সিরিজের প্রথম দু'টি বইও ত্রুটিমুক্ত ছিলনা। ৩য় বইটিতে সাবপ্লটের আড়ালে চাপা পড়েছিল খোদ মেইন প্লটই। তাও সেগুলো একেবারে নির্দয় সমালোচনা করার মত ছিলনা।
কিন্তু এবারের বইটি আসলে, উপন্যাস, নভেলা নাকি ননসেন্স কমেডি, সেটাই বুঝিনি। জোর করেও এর প্রশংসা করতে পারছিনা। কাহিনী ছন্নছাড়া, বিল্ডআপের মাথামুন্ডু নেই। গল্পের মাঝখানে হঠাৎ হঠাৎ অপ্রয়োজনীয় সাবপ্লট আনা হয়েছে যার কোন কারন খুঁজে পাইনি। আগের গল্পগুলিতে আদিবাসীদের জীবনযাত্রার বর্ণনা ছিল, রহস্য ছিল, ভয় ছিল, সাথে আবার সুপারন্যাচারাল মারামারিও ছিল। সেই লড়াইকে সরেস করে তোলার জন্য পাওয়ার স্কেলিং ছিল, শত্রুর ক্ষমতার স্বরূপ জানার পর নায়ক কিভাবে প্রস্তুত হবে তার বর্ণনাও ছিল, যাকে বলা হয় প্রেপ টাইম। এগুলি কাহিনীকে সুখপাঠ্য করে। এবারের বইতে কোনকিছুই ঠিকভাবে দেওয়া নেই। খালি তাড়াহুড়ো।
এবারের গল্পে সব মিলেমিশে একাকার। অতীতকালের গল্প এগোতে এগোতে হঠাতই বর্তমানের আলাপ শুরু হয়েছে। গল্পের লাস্টে দেওয়া হয়েছে এক্কেবারে ক্লিশে এক টুইস্ট, লেখক ভেবেছিলেন যে এন্ডিংয়ে ক্লিফ হ্যাঙ্গার দিয়ে রেখে দিলে মেবি পাঠকেরা পরের বইটির জন্য আগ্রহী হবে, কিন্তু এন্ডিং পড়ে উলটো মেজাজ খারাপ হয়েছে। ৩/৫ স্যরি ভাই, এরচেয়ে বেশি দিতে পারলাম না। লেখক সাহেব এই রিভিউ পড়বেন না জানি। তাও কেউ যদি পড়ে, তার প্রতি ছোট্ট একটা রিকুয়েস্ট, বাপ্পী সাহেবকে কেউ বলিয়েন সিরিজের শেষ বইটা যেন তিনি আরেকটু যত্নের সাথে লেখেন। আর দোহাই লাগে ভাই, গল্পে অযাচিত সাবপ্লট আর দিয়েন না। মহাবিরক্তিকর জিনিস এই ফালতু সাবপ্লটগুলি।
সমস্যাটা হল আগের পর্বের সাথে এই পর্বের চরিত্রের মধ্যে অনেক অমিল পেলাম । আগের বইতে বলা হয়েছিল খুং ছিল নসিমার আরেক নাম । এই পর্বে বলা হয়েছে খুং খুনালার আরেকটা রূপ। পুরো ঘে���টে গেছে ব্যাপারটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
খুনালাকে খুং বলে যাচ্ছে লেখক শুরুতেই এবং তা পুরো বই জুড়েই। পরে খুনালাকেই খুং বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, অথচ আসছে অন্ধকার-এ খুনালা আর খুং ছিল আলাদা অস্তিত্ব।