Jump to ratings and reviews
Rate this book

হিম

Rate this book
পড়তে যাওয়ার আগে
হিম - যে ব‌ইটি এইমাত্র হাতে নিলেন, আমার সম্ভাব্য পাঠক, আপনাকে সবিনয়ে জানাই, পরিকল্পিত ত্রয়ীর প্রথম উপন্যাস হয়তো পড়তে চলেছেন। মামাবাড়ি নোয়াখালিতে জন্মালেও আমার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামেই, ইতিহাসের পেছন দিকে যেতে থাকলে প্রায় বারো শ' বছরের বেশি যাত্রাপথের শহরটিতে চোখ ফুটেছে, দেখতে শিখেছি। প্রথম প্রেম, ব‌ই ও নারীর প্রতি, এখানেই‌। বিপ্লবের স্বপ্ন ও আপাতবিপর্যয়, যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠে ছিন্ন হয়ে পড়া মাতৃগর্ভ থেকে অনিরাপদ পৃথিবীর দোদুল্যমান জীবন যেন। অঝোর চেষ্টা সত্ত্বেও চারপাশ হিম হয়ে আসে আমাদের, নানাবিধ আশঙ্কায়, সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় নানামাত্রিক উৎপীড়নে।
চট্টগ্রাম শহরটা আস্তে আস্তে রং হারাচ্ছে। আমাদের ছেলেবেলায় কতগুলো সিনেমাহল, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ আর জলাশয় ছিলো বলুন তো! এখন সব ইট সিমেন্টের ইউনিফর্ম ছকবাঁধা ম্যাচ বাক্সের মতো অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। কর্ণফুলী নদীতে শুশুক আর খেলা করে না। দূষণ বেড়েছে। সবুজ কমেছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন মানে গাছ কেটে রাস্তা বড় করা নয়। প্রাচীন ভবন ভেঙ্গে ডেভেলপারের কাছে দেয়া নয়। প্রাণ আর রূপের বৈচিত্র্য ফুরিয়ে গিয়ে আস্তে আস্তে দৃষ্টিসীমার অধীন যা, বিয়াল্লিশ বছরের পুরনো চোখে বেদনা আনে‌। এই বিপন্নতা এই উপন্যাসের প্রকৃত নির্মাতা‌।
উপন্যাস লেখক হিসেবে মলাটে একজনের নাম থাকে। এক ধরনের ব্যক্তিগত প্রকল্প, অক্ষর কাগজে ফুটিয়ে তোলা মানুষটির‌। তিনি ইতিহাসকে ধারণ করেন নিজের সীমাবদ্ধতাসহ। লিখছেন যিনি, স্বয়ম্ভু নন, অজস্র শতাব্দীর মানবেতিহাসের ধারাবাহিকতা মাত্র। একেকটি উপন্যাস আমাদের সামনে চারপাশটা সম্পর্কে ভাবনার একটি পরিসরে সম্প্রসারণ ঘটায়। যিনি পড়ছেন তিনিও, কিন্তু যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন এই প্রকল্পে। কেননা, আমরা সহনাগরিক, এক‌ই ইতিহাস ভাগ করে নেয়া এই দুঃখী জনপদের মানুষ।
অতিমারির সময়ে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে, দুই হাজার বিশ সালে আমার জন্মদিন অগাস্টের দুই তারিখ ইরাবতী অনলাইনে আমার প্রথম উপন্যাস হিম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হ‌‌ওয়া শুরু করে। ইরাবতীর সম্পাদক অলকানন্দা রায়ের সাথে আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের সম্পর্ক নয়। এই উপন্যাস যতটা আমার ততটাই তার। ঐ গৃহবন্দী সময়ে এই কাজটি তিনি না হলে হতো না‌। আড়াই বছর পান্ডুলিপিটি পড়ে থাকে। সাহস করে উঠতে পারছিলাম না প্রকাশের। আমাদের শহরের একজন পরিচিত, পরিশ্রমী ও মিতভাষী মুখ কবি ও প্রিন্টপুকুর কর্ণধার জয়ন্ত জিল্লু কয়েক বছর ধরেই উশকে যাচ্ছিলেন উপন্যাস লিখতে। ভালোবাসা বাদে জানাবার কিছু নেই‌।
উৎসর্গপত্রে থাকলো তিনজনের নাম। অলকানন্দা রায়ের কথা আগেই বলেছি‌। জেসমিন মলি, আমার সহোদরপ্রতীম। পেশায় সাংবাদিক হলেও জগৎ ও জীবনের দিকে তিনি চিরন্তন মায়ের দৃষ্টিতে তাকান। এক অলীক ধরনের পূর্ণ মানুষ তিনি। চৈতী আমার একমাত্র ছোট বোন।জ্যোৎস্না দে আর নিরঞ্জন দে'র এই দুই সন্তান। বয়সে ছোটো হলেও সে আমার দিদি। অধিক আর কী বলি!
হিম - এর পৃথিবীতে স্বাগতম, প্রিয় বন্ধু।

176 pages, Hardcover

Published February 1, 2024

8 people want to read

About the author

সৈকত দে

9 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (11%)
4 stars
4 (44%)
3 stars
3 (33%)
2 stars
1 (11%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 4 of 4 reviews
Profile Image for Samiha Anu.
40 reviews22 followers
February 23, 2025
এই উপন্যাস পড়ার শুরুতে আনন্দ পেয়েছিলাম। সৈকত দে'র লেখা এই প্রথমবার মলাটের ভেতর পড়েছি। প্রথম পঞ্চাশ পাতা রুদ্ধশ্বাসে পড়লাম, সুন্দর পোয়েটিক লেখনী। বেশ সারপ্রাইজড হইসিলাম। কারণ খুবই ইফোর্টলেস রাইটিং মনে হচ্ছিল, যেন লেখক জ্যামে আটকা পড়ে সময় কাটাতে লিখছেন গন্তব্যহীন কোনো গল্প। হিম'এর মধ্যে সম্ভাবনা ছিল দুর্দান্ত একটা গল্প হওয়ার।

সমস্যা ফিল করলাম তখন, যখন দেখলাম; এই ধরনের স্টোরিটেলিং একটা গোটা উপন্যাসে একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ঠিকভাবে হয় নাই, প্লট ডিটেইলিং অপর্যাপ্ত। কোথাও গিয়ে শেষ হলো না কিছু। তবে লাভের লাভ হচ্ছে, বেশ কিছু সিনেমা রিকমেন্ডেশন পেয়েছি, কিছু চমৎকার বইবার্তা। চট্টগ্রাম শহরের অলিগলি, মানুষ বা বিপ্লব নিয়ে ফিকশন আগে পড়ি নাই, এটাও উপরিপাওনা ছিল।

প্রিন্টপুকুর প্রকাশনীর এই বইয়ের বাইন্ডিং মোটামুটি ভালো। প্রিন্টিং এর অবহেলা টের পেলাম বিশাল সাইজের ফন্ট দেখে। চশমা ছাড়া পড়া যাচ্ছে, অতএব তেমন কোনো অভিযোগ নাই।
Profile Image for Wasim Mahmud.
362 reviews29 followers
March 3, 2024
'সম্বোধন ছাড়াই লিখি আপাতত। রাতের বেলা যখন সিনেমা দেখতে বসি আপনার কান্না কানে আসে। কিছু করতে পারি না বলে অনুশোচনা হয়। এই পরিপার্শ্ব থেকে বেদনাসমগ্রকে উপড়ে ফেলি এমন শক্তসমর্থ হয়ে তৈরি হতে পারিনি। তবে একটা সঙ্গ, কথা বলার জায়গা হয়তো কিছু উপশম হতে পারে। আমারো কান্না আছে। অবশ্য শব্দহীন। কথা বললে দু'জন বিপন্ন মানুষের ভালো লাগতে পারে তাই কথা বলতে ইচ্ছে করলো। আমি সুধন্য।'

পৃষ্ঠা-৩১

একজন সংবেদনশীল মননের অধিকারি ব্যক্তি সুধন্য যার ডাকনাম রাজু। চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত মিলেনিয়ালস অর্থাৎ ৮০-৯০ দশকে যাদের জন্ম রাজু যেন তাদের এক প্রতিনিধি। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি গভীর অভিনিবেশ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বাম ঘরানার 'হিম'এর প্রোটাগনিস্টের জীবনের সাথে অনেকের জীবন কোন না কোন দিকে কমবেশি প্রাসঙ্গিক‌। অন্যদিকে বর্তমান ইয়াং জেনারেশনের অনেকের কাছে সৈকত দে তুলে ধরেছেন এক বা একাধিক সময়রেখা।

'হিম' সৈকত দে রচিত প্রথম উপন্যাস। এর বাইরে কবিতা-গল্প-অনুবাদ গ্রন্থ মিলিয়ে ব‌ই আছে নয়টি।

সৈকত দের ভাষিক সৌন্দর্যমন্ডিত গদ্য সম্পর্কে তাঁর নিয়মিত পাঠকরা ভালোই অবগত আছেন। লেখকের গদ্যভাষায় আছে পরিমিতিবোধ, গল্প বলায় আছে এক নির্মল স্বতস্ফূর্ততা এবং বানানো গল্প কিংবা আরোপিত লেখালেখি সৈকতের ব‌ইয়ে অন্তত দেখা যায় না। অতিরিক্ত গহনা চড়ানো ভাষায় লিখেন না তিনি। ছোট ছোট বাক্যে কীভাবে যেন প্রায় যথাযথ উপমা মিলিয়ে দেন লেখক। ধীর-স্থির-শান্ত-শুভ্র ভঙ্গিমার সমান্তরালে লিরিকাল ভাষায় লেখক এমন সব কথা বলে ফেলেন যা হয়তো বলতে অনেকের অস্বস্তিবোধ হতে পারে। ঠিক এ কারণেই সৈকতকে পাঠকের মনে হতে পারে অনেক আপন।

একটি স্বচ্ছ কাঁচ যা আবার কোন জাদুবলে বিভিন্ন রঙে রঙিন হয়ে ওঠে একটু পর পর, সেটির উপর দিয়ে কোন এক মাকড়শার দ্রুত হেঁটে যাওয়ার মতো মিহি ভাষায় লিখেন সৈকত।

'পুরীর সমুদ্রতীরের বালি নরম, দু' মুঠোতে ধরলে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে। একাধিক দুপুর ও বিকেলের স্মৃতি। মানুষের বেঁচে থাকা মানে তো অজস্র স্মৃতিকে চাপা দিতে দিতে ভেসে উঠতে না দিয়ে টিকে থাকা‌।'

পৃষ্ঠা - ৪১

মানবমনস্তত্ত্বের প্রায় সবার সাথে প্রাসঙ্গিক উপলব্ধিগুলো এ রকম করেই লিখা হয়েছে ব‌ইজুড়ে। ছোট বাক্যে। সহজ ভাষায়। এক ফিলসফিক্যাল জার্নির মধ্য দিয়ে পাঠক এগুতে থাকবেন 'হিম' পাঠকালে।

যারা প্রচুর ব‌ই পড়েন, চলচ্চিত্র উপভোগ করেন, শিল্পানুরাগী যারা, তাদের অনেকের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে চলার পথেই লব্ধ হতে পারে। জোয়াকিম ফনিক্স অভিনীত জোকার সম্পর্কে,

'বিক্ষত অতীত নিয়ে বিপন্ন কেউ যখন উঠে দাঁড়াতে চাইছে বারবার, ধাক্কা দিতে দিতে তাকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে এলে তখন সে যদি ঘুরে দাড়ায়, তার নাম জোকার।'

পৃষ্ঠা - ৫৬

'হিম'এ কোন কোন ব্যক্তির সাথে এ রকমের কাছাকাছি কিছু হয়েছে কিন্তু স্বীয় সংবেদনশীল মন জোকার হ‌ওয়া থেকে তাদের রক্ষা করেছে।

উক্ত উপন্যাসে সুধন্য ছাড়াও বেশ কিছু চরিত্রের আনাগোনা রয়েছে। যদিও সবগুলোর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এক রকম হয় নি। হ‌ওয়ার কথাও না। কারণ 'হিম' একটি ত্রয়ীর প্রথম অংশ মাত্র। চট্টগ্রাম শহরের কয়েক প্রজন্মের গল্প সংক্ষেপে রচিত হয়েছে এখানে। এই শহরের বাসিন্দা হ‌ওয়ার কারনে আমার নিজেকেও মনে হয়েছে উপন্যাসের অদৃশ্য কোন চরিত্ররূপে।

দারিদ্র, মধ্যবিত্ত জীবনের ঘাঁয়ের পর ঘাঁ খেয়ে যাওয়া। লেখালেখির জগতের বিভিন্ন মলিনতা, বাম রাজনৈতিক পার্টির ভাঙনে অনেকের এতিম হয়ে যাওয়া, ব‌ই, সিনেমা, এসবের ইতিহাস এবং সর্বোপরি ইতিহাসবোধ, সাহিত্যের পারম্পর্য এদিক ওদিক উপন্যাসের প্রয়োজনেই উঁকি দিয়ে গেছে। জিজ্ঞাসু পাঠকের জন্য এটি একটি ভালো রিডিং ট্রিট হতে পারে।

শুভ্রশংকরের মতো বাবা ক'জন পায়? আবার মনোরঞ্জনের মানুষ‌ই বা ক'জন আছেন? পুরো উপন্যাস জুড়ে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও রাজনীতির টানাপোড়েন, মানুষের অন্তর্নিহিত স্ববিরোধিতাময় জীবন প্রাঞ্জল ভাষায় এফর্টলেস ভাবে পাঠকের চোখ দিয়ে মনে প্রবেশ করতে সক্ষম।

তৃষা-মণীষার মতো হৃদয়বান চরিত্ররাও ঘুরে গেছেন পাঠকের মনের অন্দরমহলে। বেশ কিছু ঘটনা সেন্টিমেন্টাল করে দিতে পারে অনেককে। কারন 'হিম' এর অনেক কিছুর সাথেই পাঠক আপনি নিজেকে হয়তো রিলেট করতে পারবেন।

সৈকত দের প্রথম উপন্যাসের সবকিছু কি ভালো লেগেছে আমার? এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, যারা লেখকের বেশিরভাগ কর্মের সাথে পরিচিত এবং ফেসবুকে যুক্ত, তাদের কাছে 'হিম' ধরা দিবে একভাবে। অন্যদিকে সৈকতের 'হিম' দিয়ে যারা শুরু করছেন সৈকত পাঠ তাদের কাছে উপন্যাসটি ভিন্নভাবে ধরা দিতে পারে।

বাংলাদেশে ব‌ই হচ্ছে খুব সম্ভবত সেই শিল্প মাধ্যম যেখানে পুনরাবৃত্তি সবচেয়ে বেশি হয়। লেখকের বেশিরভাগ রচনার সাথে পরিচয় থাকার সুবাদে আমার চোখে কিছু রিপিটেশন চলে এসেছে।

'হিম' এর শেষের দিকে আমার খানিকটা তাড়াহুড়ো হয়েছে মনে হলো।

উপন্যাসটি এক ত্রয়ীর প্রথম পর্ব হ‌ওয়ায় 'হিম' এর দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় আছি।

সৈকত দের কাছ থেকে আমার এক্সপেক্টেশন একটু বেশি। কারন আমার মতে বাংলা সাহিত্যের একজন ভবিষ্যৎ তিনি। এক‌ইসাথে আশা রাখি নিজ রচিত উপন্যাস থেকে কোন এক সময় তিনি নিজেকে 'নাই' করে দিতে পারবেন।

তবে একথাও সত্য যে পাঠককে ধরে রাখার ভালো ক্ষমতার নিদর্শন পেয়েছি 'হিম'এ।

সৈকত দের উপন্যাসে গল্পকথন সুন্দর, তবে খুব অল্প কিছু জায়গায় একটু খাপছাড়া লেগেছে।

লেখকের প্রতি অনেক অনেক শুভকামনা ও শ্রদ্ধা।

শেষ করছি গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইন দিয়ে,

'যখন মানুষ পরস্পরে বিলীন হয়ে যায় তখন অন্য পক্ষের উপস্থিতি খুব একটা জরুরি থাকে না। তুমি আছো এটুকুই যথেষ্ট। পৃথিবীতে তো আছো। কিংবা হয়তো তোমার শরীরটা মৃত কিন্তু স্মৃতি চিরজীবিত। তার মৃত্যু নেই।'

পৃষ্ঠা - ৯১

এই রাষ্ট্রে বহুমাত্রিক উৎপীড়ন কিংবা উৎপীড়নের সম্ভাবনায় আতঙ্কে হিম হয়ে থাকা সংবেদী মানুষজনের এসবের মাঝেও বাচতে তো হয়, আগেও হয়েছে।

হিমের জগতে পাঠক আপনাকে স্বাগতম।

ব‌ই রিভিউ

নাম : হিম
লেখক : সৈকত দে
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রকাশক : প্রিন্টপুকুর
প্রচ্ছদ : তাইফ আদনান
পরিবেশক : বাতিঘর, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন
ধারা : সামাজিক উপন্যাস
রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for Nidra.
28 reviews4 followers
March 21, 2025
বই: হিম

লেখক: সৈকত দে



প্রথম কথা- লেখনী অসম্ভব রকমের সাদামাটা আর সাবলীল। অনেক সময় হয় না(?)- আয়নার সামনে কিংবা একা বসে কোনো গল্প বানিয়ে বানিয়ে নিজেকে শোনাচ্ছি বা হয়তো মা তার বাচ্চাকে বানিয়ে গল্প বলছেন তো বলছেনই; সেই গল্পের আর শেষ হয় না। তবে শুনতে ভালো লাগে-তেমন কিছু। ভূমিকায় পড়লাম লেখকের  পরিকল্পিত ত্রয়ীর এটা প্রথম উপন্যাস। সেক্ষেত্রে আমি পরের দুইটা বইয়ের জন্য মুখিয়ে থাকবো৷ পড়তে গিয়ে অনেক অনেকগুলো নতুন সিনেমার নাম পেলাম, বইয়ের খোঁজ পেলাম। একটা সাবলীল বাস্তব চট্টগ্রামের গল্প পড়লাম। তবে ত্রয়ী বানানোর উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে বলেই হয়তো সব চরিত্রগুলো পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি। বইয়ের দুই-তৃতীয়াংশে এসে পড়েছি তখনও দেখছিলাম নতুন চরিত্র ঢুকে পড়ছে। তখন সত্যিই একটু গুবলেট হয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। উপন্যাসের তৈরি করা সময়টায় আমিও বাস্তব ছিলাম কিছুদিন। আমাদের একটা সময় এসেছিলো যখন আমরা প্রচুর সিনেমা নিয়ে কথা বলতাম, নানা জায়গায় ঢুঁ মারতাম, নতুন কিছুর খোঁজ করতাম আর তাড়া দিয়ে বই পড়তাম। বই, সিনেমা এখনো রয়ে গেছে তবে ঐ যে রাত্রিরে তাড়াহুড়োয় শেষ হওয়ার আর সকালের অপেক্ষাগুলো নেই। একটা নতুন বই কিংবা মুভি দেখে সেটা নিয়ে কথা বলার তাড়া নেই, কখনো হয়তো মানুশও থাকে না। তাই জীবন্ত নিজেকে এবং স্মৃতি হয়ে যাওয়া আশপাশটাকেও কয়েকবার বইয়ের অক্ষরে দেখেছি। Effortless writing বলে যে ব্যাপারটা আছে সেটা পরোখ করেছি এই বই পড়তে পড়তে। প্রথমদিকে একটু ধরতে অসুবিধে হচ্ছিলো। কারণ এই ধরনের লেখা খুব একটা পড়া হয়নি আর বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা দেখে আমি ভেবেছিলাম খুব কম চরিত্রের গল্প করা হবে। লেখকের প্রথম উপন্যাস। পড়ার সময় একবারও মনে হয়নি এটা। 


বইয়ে চেনা চট্টগ্রামের অলিগলিতে গল্পরা জোট বেঁধে ঘুরছে। একাধিক অলিখিত বা নামহীন অনেক সম্পর্কের জটিলতাও আনাচে কানাচে ভরে রেখেছে বইটার। শামস উল মমীন, শ্যামলী, বিমলা এই চরিত্রগুলোর ডিটেইল নেই। অনেককিছু বোঝার বা জানার বাইরে থেকে গেলেও আমার এই বইটাকে ভালো লাগার প্রধান কারণ মনে হয়েছে লেখনী৷ 


এর বাইরে খুব দারুণ একটা কথা পেলাম- “বিয়ের পর কাউকে ভালো লাগলে সেটাতে কি পার্টনারকে ঠকানো হয়?”


বইয়ের প্রকাশনা প্রিন্টপুকুর। এই প্রকাশনার বই আগে একটা পড়েছিলাম। ওদের ছাপার অক্ষর বেশ বড়ো। তাই পড়তে অসুবিধে হয়। 
Profile Image for Tuton Mallick.
100 reviews6 followers
April 1, 2024
হিম
লেখক: সৈকত দে Saikat Dey
প্রকাশনা: প্রিন্টপুকুর
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৭৬
দাম: ৩২০/-
মান: ৪.০/৫.০
ধরন: উপন্যাস (সামাজিক পটভূমি)

অনেকদিন ফিকশন তেমন পড়া হয় না। তার উপর উপন্যাস; তাও আবার গোয়েন্দা বা থ্রিলার নয়। লেখক সম্পর্কে কিছুটা পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে যে উনি ভালো লিখেন। হিম উপন্যাসটি যখন পড়া শুরু করেছিলাম প্রথম ৪০-৫০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আমার ভালো লাগে নাই। কিছুটা অগোছালো মনে হচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল লেখক হয়তো কিছুটা তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিলেন। কিন্তু এরপর বইটি গল্প ও চরিত্র আস্তে আস্তে আমার মনে দাগ কাটতে শুরু করেছে। প্রথম ৪০-৫০ পৃষ্ঠা কি আমার অনেকদিনের উপন্যাস না পড়ার জড়তা নাকি লেখকের দুর্বলতা; ঠিক নিশ্চিত নই।

লেখক বইয়ের কিছু চরিত্র খুব সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন তার অসাধারণ লেখন শৈলী দিয়ে। লেখক চরিত্রায়নে এতটাই দক্ষ যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকে চরিত্রগুলোকে পাশের বাসার বা আশেপাশের অথবা এমনকি নিজের সাথে গল্পের চরিত্রগুলোকে মিলিয়ে ফেলতে পারেন। গল্পের মূল বিষয় ৮০-৯০ এর দশকের চট্টগ্রামের মানুষের সামাজিক পটভূমি। গল্পের চরিত্রগুলোর কেউ লাল বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর আবার কেউবা ভারী ভারী নামের সিনেমা দেখে জীবন অতিবাহিত করছে। সমাজ পরিবর্তনের ধারায় নেমে হয়তো নিজেরই পরিবর্তন হওয়া লাগবে।

ভবিষ্যতে এই উপন্যাসের কোনো খন্ড বের হবে কিনা জানিনা। তবে পরিকল্পনা না থাকলে লেখক পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন। কারণ এখনো অনেক চরিত্রের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাঠক পায় নাই। যেগুলো জানার আগ্রহ পাঠকের রয়ে যাবে। লেখকের চরিত্রায়ন ও পটভূমি ফুটিয়ে তোলার হাত এতই ভালো এই বইয়ের পাঠক সুধন্য, রঞ্জন, রুখসানা ইত্যাদি চরিত্রের আরো ভিতরে যেতে চাইবে। পাঠকের জানার অধিকার আছে সুধন্য কিভাবে সমাজ পরিবর্তনের হাওয়ার সাথে নিজেকে কতটুকু পরিবর্তন করেছে।

ভবিষ্যতে খন্ডের ক্ষেত্রে লেখকের মনে‌ হয় একসাথে এত চরিত্র না এনে চরিত্রগুলোকে আরো সময় দেয়া উচিত। যদি হিম উপন্যাসটির আর কোনো খন্ড বের না হয় তাহলে এখানে কিছু চরিত্র কমানো দরকার ছিল বা চরিত্রগুলোকে আরো ছাপার কালিতে বন্দী করা দরকার ছিল। বইয়ের ফন্ট আর একটু ছোট হলে ভালো হতো। আর প্রকাশনাকে অনুরোধ করবো ভালো লেখাগুলোকে হৃদয় দিয়ে ছাপানোর। আর লেখককে অনুরোধ করবো প্রয়োজন হলে‌ ভবিষ্যতে প্রকাশক পরিবর্তন করবেন। লেখককে ধন্যবাদ। ভালো লেখার জন্য। আরো বেশি বেশি লিখুন। কারণ বর্তমান বাংলাদেশ বাজারে সামাজিক পটভূমির উপন্যাস পাওয়াটা কঠিন হয়ে‌ যাচ্ছে। গোয়েন্দা‌ বা অ্যাকশন নায়ক হওয়াটা দমিয়ে রেখেছেন‌ তার জন্য আবারো ধন্যবাদ।
#ধূসরকল্পনা
Displaying 1 - 4 of 4 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.