Moti Nandi was a sports journalist and worked as a sports editor in Anandabazar Patrika. He was awarded the Lifetime Achievement award (2008) at a glittering ceremony to mark the grand finale of the maiden edition of the Excellence in Journalism Awards.
In his novels, he is noted for his depiction of sporting events and many of his protagonists are sports-persons. His first short story was published in Desh weekly on 1957. His story for Pujabarshiki was in Parichoy Magazine on 1985.
Moti Nandi isn't Shirshendu Mukhopadhyay, who can tell downright absurd stories in a way that turns out to be brilliantly hilarious. After a point, the characters seemed outrageous and buffoon-like, and there was little to no sense in the incidents that followed.
গল্পটি শোনা শেষ করেছি অনেক দিন হলো,গুড্রিডসের পড়েছির তালিকায় যোগ করতে মনে নাই। কয়েকমাস যাবত বইটই বিশেষ পড়ছিও না,গুড্রিডস এ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও ওভাবে লিখছি না। বই এর সাথে ভাব না থাকার এই ফেজেও এট্টুক অন্তত বলতে পারি ভূতের বাসায় কলাবতী বইখানা বেশ মিষ্টি। মতি নন্দীর সাথে পরিচয় হলো কলাবতী ওরফে কালুকে দিয়ে। কিশোর উপন্যাস আমার এমনিও পছন্দের,সেখানে গল্পের মূল চরিত্র যদি কলাবতীর মত এমন ক্যুল কিশোরী হয় তাহলে তো কথাই নেই!! আর বেতার রূপান্তরে এমন গল্পের আবেদন কিন্তু দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
কলাবতীর দাদুর পিসতুতো বোন ইচ্ছে দিদা তার নাতনির বিয়ের নিমন্ত্রণ করে গেছেন। রাজশেখরের পায়ে ব্যথা বলে কলাবতী ও কাকা সত্যশেখর দুজনে বিয়েতে যাবে। হাঁটতে হাঁটতে দু'জনে বিয়েবাড়ির সামনে হাজির হল। নানান রঙের নানান চেহারার মোটরগাড়ি এসে ফটকের সামনে দাঁড়াচ্ছে, সাজগোজ করা মেয়ে, পুরুষ ও বাচ্চারা গাড়ি থেকে নামছে। ফুল দিয়ে বাংলায় 'স্বাগতম' আর ইংরেজিতে 'ওয়েলকাম' লেখা ফটকের মাথায়। সামনে দাঁড়ানো কিছু বয়স্ক ও আধা—বয়স্ক ধুতি—পাঞ্জাবি পরা লোক এগিয়ে হাতজোড় করে অভ্যর্থনা জানিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারপর হাত দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ভেতরে ঢুকে ডান দিকের না বাম দিকের কোন পথ ধরে যেতে হবে।
কলাবতী ডান দিকের সিঁড়ি দিয়ে উঠে কনেকে উপহার দিয়েও এলো কিন্তু হঠাৎ করেই সিঁড়িতে দেখা সুশি মানে সুস্মিতার সাথে। সুস্মিতা আর কলাবতী পরস্পরের দিকে সদ্য—ভাজা ছানাবড়া চোখে তাকিয়ে রইল। ওরা দু'জনে কাঁকুড়গাছি উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে একই ক্লাসের ছাত্রী। দু'জনেই এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। সুস্মিতা কলাবতীকে বলল, ''আমার বউদির খুড়তুতো বোনের বিয়ে, শিলিগুড়ি থেকে বর আসবে এখনই। তুই এখানে?'' ''বলছি।'' কলাবতী এখন নিশ্চিত হয়ে বুঝে গেল, বড় রকমের একটা ভুল সে করে ফেলেছে। ভুলটা যেভাবেই হোক ম্যানেজ করতে হবে। ''এ—বাড়িতে কি আর একটা বিয়ে হচ্ছে?'' কলাবতীর গলায় সন্দেহের সুর।
''দ্যাখ না কী যে মুশকিল হচ্ছে। আমাদের লোক ওদিকে চলে যাচ্ছে ওদের লোক আমাদের দিকে চলে আসছে। সেইজন্য তো সদরগেটে লোক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।'' সুশি মে*শিনগানের মতো তড়বড় করে বলল। ''একটা বাড়িতে দুটো বিয়ে, পার্টিশান করে আলাদা করারও ব্যবস্থা নেই। কী আর করা যায় অগত্যা ভাগাভাগি করেই নিতে হল।'' এর পর গলা নামিয়ে সুশি বলল, ''হ্যাঁ রে কালু, তুই ভুল করে এদিকে চলে আসিসনি তো?'' কলাবতী বলল, ''বোধ হয়।''
এরপর যা ভুল হয়েছে শুনে কলাবতীর দাদু রাজশেখর বললেন তিনি ইচ্ছে দিদার নাতনিকে অন্য উপহার পরে দিয়ে দেবেন। এর কয়েকদিন পর সুস্মিতা এলো ওর দাদা বৌদিকে নিয়ে উপহার ফেরত দিতে। কিন্তু রাজশেখর কী আর ফেরত নেন! কথায় কথায় সুস্মিতার দাদা সমীরের সাথে গল্পে রাজশেখর ওদের গ্ৰামের বাড়ি বোলতার কথা শুনলেন। ''আরে, বোলতা আমি চিনব না। হুগলি জেলার প্রায় সব গ্রামেরই নাম আমি জানি। আমাদের আটঘরা থেকে দশ—বারো মাইল বড়জোর। খুব বর্ধিষ্ণু জায়গা বোলতা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়েছে, অনেক সরকারি দপ্তর হয়েছে, টেলিফোন আছে, প্রচুর টিভি সেট, একটা ব্যাঙ্কও আছে, কলেজও নাকি হবে শুনেছি।'' রাজশেখর বললেন।
সুশির দাদা সমীর বলল, "আমরা একটা জমি দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু যারা কলেজ করার জন্য উদ্যোগী হয়ে কমিটি করেছে তারা জমিটা নিতে চায়নি।'' সমীরের স্বরে খেদ ফুটে উঠল। ''কেন? খুব বেশি দাম চেয়েছিলে?'' ''আজ্ঞে না, নিঃশর্ত দান করব বলেছিলুম। প্রায় পাঁচ বিঘে জমি বাস—রাস্তার ওপর। কাছেই পোস্ট অফিস, থানা, জায়গাটা নির্জন। একটা বিশাল দিঘি আছে আমাদেরই বাড়ির পেছনদিকে। কলেজ করার আইডিয়াল জায়গা।'' ''তা হলে?'' ''জমিতে ভূ*ত আছে। ওখানকার লোকদের বিশ্বাস। প্রায় দেড়শো—দুশো বছরের বিশ্বাস। তাই ওই জমিতে কেউ পা পর্যন্ত রাখে না, গোরু—ছাগল পর্যন্ত চরতে দেয় না।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে কলাবতী প্রস্তাব করলো সে সুস্মিতার সাথে বোলতায় গিয়ে ভূ*তের রহস্য উন্মোচন করবেই করবে। তারপর কী হবে? দেখা যাক।
------------পাঠ প্রতিক্রিয়া-----------
মতি নন্দীর লেখা "ভূ*তের বাসায় কলাবতী" ভালো লেগেছে আগের বইটির তুলনায়। সিরিজের আমার আর দুইটি বই বাকি আছে পড়ার তারপর সিরিজ শেষ। কিশোর উপন্যাস হিসেবে সিরিজটি আসলেই বেশ ভালো লাগলো। কিশোর উপন্যাস তো আজকাল অনেক কমে গেছে। এইসব বইগুলোই কিছুটা সম্বল।
ভূ*তের বাসায় কলাবতী অ্যাডভেঞ্চার ভাইব দিলো বেশ। রহস্যটা এখনই বললাম না যে বোলতায় সত্যিই ভূত আছে কী না। তবে পড়তে আসা করছি ভালো লাগবে। আর মতি নন্দীর লেখা মানেই সেখানে খেলাধুলার ব্যাপার থাকবে। সেই ছোঁয়া এখানেও আছে।
মতি নন্দীর লেখা সবসময় ভালো লাগে আমার। কলাবতীকে সব কিছুতে ওর দাদু কাকা যেভাবে সাপোর্ট দেন এইটা ভালো লাগে। নাহলে কলাবতী কী আর বোলতায় যাওয়ার অনুমতি পেত! কলাবতীর সাথে ভূ*তের বাসায় মন্দ লাগলো না বলা যায়।
কি চমৎকার একটা বই পড়লাম! মতি নন্দীর লেখার কথা অনেক শুনলেও আগে কখনো পড়া হয়নি। ক'দিন আগে এই বইটা শুনতে শুরু করেছিলাম মীরের চ্যানেলে। কিন্তু নানা কারণে অল্পখানিক শোনার পর আর শোনা হয়নি। তাই কাল আবার পড়তে শুরু করলাম। মতি নন্দী নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ গল্প বলিয়ে। গল্প বলার ঢঙটা এতটাই স্মুদ যে কোনোরকম এফোর্ট ছাড়াই পাতার পর পাতা পড়ে যাওয়া যায়। খানিক ভৌতিক আবহ, অনেকখানি এ্যাডভেঞ্জার, মাঝে মাঝে থ্রিলারের আনাগোনা আর সরল কিন্তু প্রাণোচ্ছ্বল সব হিউমারের এমন চমৎকার মিশেল এই উপন্যাসে আছে যে, যেকোনো বয়সী পাঠকই পড়ার পর বলতে বাধ্য হবেন যে এমন উপাদেয় জিনিস সহজে পাওয়া যায় না। আমি অন্তত বহুদিন এম��� গল্প পড়িনি, যা এমন করে নিমেষে সব শ্রান্তি-ক্লান্তি ধুয়েমুছে একাকার করে দিয়ে নির্মল আনন্দে মনকে আরাম দিয়েছে, আর ঠিক এখানেই মতি নন্দীর সার্থকতা। ❝ভূতের বাসায় কলাবতী❞ পড়ার পর তাই এই সিরিজ টা টু রিড লিস্টে উঠে গেল।