Moti Nandi was a sports journalist and worked as a sports editor in Anandabazar Patrika. He was awarded the Lifetime Achievement award (2008) at a glittering ceremony to mark the grand finale of the maiden edition of the Excellence in Journalism Awards.
In his novels, he is noted for his depiction of sporting events and many of his protagonists are sports-persons. His first short story was published in Desh weekly on 1957. His story for Pujabarshiki was in Parichoy Magazine on 1985.
চারদিন আগে আটঘরা থেকে রাত্রে টেলিফোনে খবর এসেছিল অপু ফুটবল খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোছ ভেঙেছে। পরদিন সকালে সত্যশেখর মোটরে করে অপুর মাকে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে গিয়ে তুলে দিয়ে আসে। যাওয়ার সময় রাজশেখর বলে দেন, ''যদি বোঝো ব্যাপারটা গুরুতর, তা হলে অপুকে মোটরে কলকাতায় নিয়ে আসবে। খরচের জন্য চিন্তা করবে না।''
অপুর মা'র অবর্তমানে রান্নার দায়িত্ব নিয়েছে তার রান্নাঘরের সহকারী শকুন্তলা। অপ্রত্যাশিত এই প্রোমোশনে শকুন্তলার কথাবার্তা, চলাফেরা বদলে গেছে। মুরারি তাকে জানিয়েছে, ''ভাল করে রাঁধ, ছোটকত্তার জিভে রুচলে তোর মাইনে দুশো টাকা বাড়িয়ে দিতে বলব।'' তাই শুনে শকুন্তলা বলে, ''মাইনে বাড়লে কী হবে, পারমেন্ট তো করবে না। দেশ থেকে দিদি ফিরলেই তো আবার বাটনা বাটতে হবে।'' কাকা সত্যশেখরের রসনা অপুর মা'র হাতের রান্নার অভাবে বিষণ্ণবোধ করলেও ভাইঝি কলাবতীর রসনাকে তেল ও লঙ্কায় মাখামাখি তেঁতুলের বা কাঁচা আমের আচারে, যা স্কুল গেটের বাইরে বিক্রি হয়, পুলকিত করে তোলার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পঞ্চায়েত প্রধান পটল প্রধান দেখা করতে এসেছেন কলাবতীর দাদু রাজশেখরের সাথে গ্ৰামের বাৎসরিক ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে। গতবার হয়েছিল বকদিঘিতে, এবার হবে আটঘরার মাঠে। সাবেক জমিদার হরিবাবুর মানিকতলার বাড়ি হয়ে পটল প্রধান রাজশেখরের কাছে এসেছেন। হরিশঙ্কর মুখুজ্যে হলেন বকদিঘির প্রাক্তন জমিদার। রাজশেখরের সমবয়সি।
''হরি কী বলল?'' ''বললেন পতু মুখুজ্যে এসে ওর সঙ্গে দেখা করে গেছে। গত বছরের মতো এবারও ওরা আমাদের হারাবে বলে নতুন টিম করছে।'' রাজশেখর বললেন, ''নতুন আবার কী? গতবার যারা খেলেছিল, তারাই তো খেলবে।'' ''না না, ফুটবলের মতো ক্রিকেটার হায়ার করে আনবে কলকাতা থেকে। হরিবাবু বললেন, ইস্টবেঙ্গল থেকে ফাস্ট বোলার খোকন ব্যানার্জি আর মোহনবাগান থেকে ওপেনিং ব্যাট মদন গুহকে আনবেন, কথাবার্তা নাকি চলছে। আমি বললুম, তা কী করে হয়, আমাদের এই বাৎসরিক ম্যাচের তো নিয়ম, যে গ্রামের হয়ে খেলবে সেই গ্রামে পূর্বপুরুষের বসতবাড়ি থাকতে হবে আর ম্যাচের আগে কম করে টানা তেরাত্তির বাস না করলে সে খেলার যোগ্যতা পাবে না।
তাতে উনি বললেন, সে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।'' রাজশেখর অবাক হয়ে বললেন, ''আশ্চর্য! হরিটা এত নীচে নেমে গেছে। এটা কি টুর্নামেন্ট যে, ট্রফি জেতার জন্য প্লেয়ার ভাড়া করতে হবে। এটা তো বাৎসরিক একটা ফেস্টিভ্যাল ম্যাচ, শুধু দুটো গ্রামের মধ্যে খেলা হয়। না না, পটল এসব করলে খেলার মজাটা আর থাকবে না। কত বছর ধরে হয়ে আসছে বল তো এই খেলাটা, শুধু আমাদের দুটো কেন, আশপাশের গ্রামের লোকেরাও মুখিয়ে থাকে, উৎসবের মেজাজে শীতের সারাদিন হইচই করে কাটাবার জন্য ইডেনে টেস্টম্যাচের থেকে কি কম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ গ্রামের লোকের কাছে।''
এরপরের ঘটনা ঘটেছে দুই গ্ৰামের সাবেক জমিদারদের মধ্যে। রাজশেখর হরিশংঙ্করকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসলেন গ্ৰামের লোকজন নিয়েই তিনি বকদিঘিকে হারাবেন। সত্যশেখরের মধ্যেও আমূল পরিবর্তন, কারণ গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও সে খেলবে। এবার শুধু অপেক্ষা আসল ম্যাচের।
------------পাঠ প্রতিক্রিয়া-----------
কলাবতী সিরিজের এই বইটির মাধ্যমে আমার কলাবতী সিরিজ পড়া শেষ হলো। এবং এই বইটি মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার। এখন বইগুলো লিখেছেন একজন সাবেক ক্রিড়া সাংবাদিক তো বলাই বাহুল্য খেলাধুলার ব্যাপার থাকবেই। তবে মতি নন্দীর বড়দের জন্য লেখাগুলো পড়লে আপনি আবার চমকে যাবেন যে ছোটদের লেখাগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। এবং মতি নন্দীর কিশোর উপন্যাস সমগ্রের মোটামুটি দুই একটা বাদে বাকিগুলো ভালোই পড়ে ফেললাম। ইচ্ছা আছে গোটা কিশোর সমগ্র শেষ করে বড়দের লেখাগুলো পড়বো।
কলাবতীদের গ্ৰামের বাড়িতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ম্যাচ দুই গ্ৰামের সাথে। আটঘরা আর বকদিঘির মধ্যে। প্রথম বইয়ে তো দেখেছিলাম আমরা ম্যাচে কলাবতী কী কৌশল করেছিল। এবারের বইটিতে আরেকটি ম্যাচের আয়োজন। কলাবতীর দাদুকে আমার বরাবরই ভালো লাগে। বয়স সত্তর বছর কিন্তু যুবকদের হার মানান ব্যক্তিত্বের জেরে। এবং কলাবতীর কাকা সত্যশেখরের কমিক টাইম দারুন। সবসময় সত্যশেখরের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব এলাহী ব্যাপার ঘটে আবার তারপরও খাওয়া দেখলেই সত্যশেখরের লোভ! মজা পেয়েছিলাম ঝাল আচার খেয়ে সত্যশেখরের অবস্থা দেখে।
সত্যবতী তো এই গল্পের প্রধান চরিত্রে। মেয়েটাকে বেশ ভালো লেগেছে গোটা সিরিজে। জানি না বাস্তবে কলাবতী আছে কী না এমন কেউ তবে বাবা মা ছাড়া দাদু কাকার কাছে মানুষ মেয়েটির কাজকর্ম দেখে বোঝার উপায় নেই মনের ভিতরে কোনো কষ্ট আছে কী না। কলাবতী সবসময় নিজের বয়সী মেয়েদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।
পড়া শেষ মানে এই সুন্দর সিরিজটা আর পড়বো না তা নয়। হয়তোবা কখনো মন চাইলো পড়ে ফেললাম। মতি নন্দীর কিশোরদের জন্য লেখা বইগুলো বেশ ভালো ও মানসম্মত। অনেকেই তার অতিরিক্ত খেলার বর্ণনায় বিরক্ত হয় তবে আমি এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই গ্ৰহন করেছি। ওনার বর্ণনা ভঙ্গি, কিছু কিছু বইয়ে গল্পের প্লট দারুন।
🍂বইয়ের নাম: "কলাবতী ও মিলেনিয়াম ম্যাচ" 🍂 লেখক: মতি নন্দী