ইমাম মাহদি আসবেন। এই কথা দিয়ে যুগের পর যুগ মুসলিমরা আশাবাদ রাখছেন। কিন্তু, মজার ব্যপার, শুধু ইসলামে না, মাহদির কথা আছে অন্য ধর্মেও। তবে তা মাহদি নামে অবশ্য না, অন্য কোনো নামে। তো পুরো বিষয়টা আসলে একটা তত্ত্ব। একজন উদ্ধারকর্তা আসবেন। তিনি হতে পারেন মাহাদি, হতে পারেন কল্কি, বামন, মৈত্রেয়। অবতার, মাসিহা বা ইমাম। সেই মাসিহা ও মাসিহার তত্ত্ব নিয়ে আহমেদ দীন রুমির বই 'মাহাদিয়াত'।
গত সপ্তাহে মুক্তি পায় ডুন টু। সিনেমাটাকে অনেকেই বলছেন সিনেমাটিক মাস্টারপিস, টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য। আবার অনেকে মজা করে বলছেন, ইমাম মাহদির জীবনী। রুমি ডুন দেখছে কিনা আমি জানি না তবে দেখলে বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে 'সিনেমায় মাহদিয়াত' নামে একটা অধ্যায় যুক্ত করতে পারে। যদিও করবে বলে মনে হয় না কেননা বইটা একাডেমিক ধারায় লেখা। প্রেফেসর সাহেবদের মতো না হলেও ঠিক আম পাঠকের পড়ার মতো না।
বইটা নিয়ে ওই একটা বিষয়েই আমার সমালোচনা, যে সবার পাঠের জন্য না। মূলত লেখক রুমি একটা একাডেমিক অ্যাপ্রোচেই মাহাদিয়াত লিখেছেন কেননা তিনি চান বিষয়টা নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের পাথেয় হতে পারবে। বলতে হয় সেই কাজে সফল রুমি। কেননা বইটাতে নানা ধর্মে মাহদি বা মাসিহার তত্ত্ব, নানা সময়ে আসা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে সেই মাহদিবাদের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন রুমি। তথ্য উপস্থাপন করেছেন, ঘটনা বর্ণনা করেছেন কিন্তু কোনো মত দেননি।
তাই যারা জানতে চান, তাদের জন্য ভালো একটা কাজ। মাহদি, মাহাদিয়াত ছাড়াও নানা বিচিত্র ধর্ম ও ধর্মমতের খোঁজ পাওয়া যাবে। মাসিহার আগমনের সঙ্গে জড়িত মানুষের বিশ্বাস, সম্পর্কিত অনেক ঘটনা ও বৈশ্বিক রাজনীতির চিত্রও আছে। অর্থাৎ মাহদি কেবল একজন পৌরাণিক পুরুষ নন, তিনি সামাজিক নানা রাজনৈতিক অনুঘটকও বটে।
এই বইমেলায় আসা বইগুলোর মধ্যে সাজেস্ট করার মতো একটা বই। তবে অবশ্যই, যারা এই টপিকে আগ্রহী, তাদের জন্য।